৫টি ফিটনেস মন্ত্র -

৫টি ফিটনেস মন্ত্র

ভারত তথা পৃথিবীখ্যাত ফিটনেস এক্সপার্ট টিপস ।

ফিটনেস মানেই শুধু ওজন কমানো নয়। রোজকার জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই পারে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে। ভারতের বিশিষ্ট ফিটনেস ও ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে বাঙালির চেনা জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই পাঁচটি সহজ ফিটনেস টিপস রইল।

১. হাঁটুন, তবে হাঁটাই শেষ কথা নয় -বাঙালির অনেকেরই সকালে বা সন্ধ্যায় হাঁটার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু শুধু হাঁটলেই শরীরের সব ধরনের পেশির যথাযথ ব্যায়াম হয় না। পুষ্টিবিদ ও ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞ রুজুতা দিওয়েকর-এর মতে, একটি পরিপূর্ণ ব্যায়ামসূচিতে থাকা দরকার চারটি বিষয় ,স্ট্রেংথ স্ট্যামিনা স্ট্রেচিং আর স্টেবিলিটি । তাই প্রতিদিনের হাঁটার পাশাপাশি যোগব্যায়াম, হালকা স্ট্রেচিং এবং পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও অভ্যাস করুন।

২. ভাতকে ভয় নয়, খাবারে আনুন ভারসাম্য – ওজন কমানোর জন্য অনেকেই বাঙালির প্রিয় ভাতকে একেবারে বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু প্রয়োজন সুষম খাবার, অকারণে কোনও একটি খাদ্য উপাদানকে বাদ দেওয়া নয়। রুজুতা দিওয়েকর বরাবরই স্থানীয় ও ঘরোয়া খাবারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই পাতে থাকুক পরিমিত ভাত, ডাল, মরশুমি শাকসবজি, মাছ, ডিম কিংবা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। অতিরিক্ত তেল-মশলা, ভাজাভুজি এবং প্যাকেটজাত খাবার কমান।

৩. বয়স বাড়লেও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম জরুরি – অনেকের ধারণা, ওজন নিয়ে ব্যায়াম শুধু তরুণদের জন্য। এই ধারণা ঠিক নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ধরে রাখতে স্ট্রেংথ ট্রেনিং  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে দু-তিন দিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ওজন তোলা, চেয়ার স্কোয়াট বা প্রশিক্ষকের পরামর্শে অন্যান্য ব্যায়াম করতে পারেন। বিশেষ করে মহিলাদের জন্যও এই ধরনের ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।

৪. ঘুম ও মানসিক সুস্থতাকে অবহেলা নয় – শুধু ডায়েট আর ব্যায়াম করলেই ফিটনেস সম্পূর্ণ হয় না। ভারতের পরিচিত হোলিস্টিক ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞ লুক কুটিনহো সুস্থ থাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের কথা বলেছেন-সুষম পুষ্টি, পর্যাপ্ত শরীরচর্চা, ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান, অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের চেষ্টা করুন। ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। প্রয়োজনে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

৫. শরীরকে সচল রাখুন সারাদিন – এক ঘণ্টা জিমে গিয়ে বাকি সময়টা চেয়ারে বসে কাটালে ফিটনেসের লক্ষ্য পূরণ হবে না। ইয়াসমিন করাচিওয়ালার পরামর্শ, প্রতিদিনের জীবনেই শরীরচর্চার ছোট ছোট সুযোগ তৈরি করতে হবে। যেমন লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাছাকাছি দূরত্বে হেঁটে যাওয়া, ফোনে কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করা। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে একটু হাঁটুন। মনে রাখবেন, নিয়মিত শরীর সচল রাখাই সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

শেষ কথা: ফিটনেস কোনও সাত দিনের চ্যালেঞ্জ নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস। তাই হঠাৎ কঠিন ডায়েট বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা নয়, নিজের বয়স ও শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে সুস্থ জীবনযাত্রা গড়ে তুলুন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যা থাকলে নতুন ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: রুজুতা দিওয়েকর , দ্য ট্রিবিউন , ইয়াসমিন করাচিওয়ালা , লুক কুটিনহো।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *