ওয়াইএমসিএ মেরিনার্স মোহনবাগান দিবস -

ওয়াইএমসিএ মেরিনার্স মোহনবাগান দিবস

ওয়াইএমসিএ কলেজ ব্রাঞ্চ মেরিনার্স মোহনবাগান দিবস উদযাপন।

২৯শে জুলাই, মোহনবাগান দিবস মানেই  আপামর মোহনবাগান প্রেমীদের আবেগ উচ্ছাস বাঁধভাঙা দিন ।১৩৭ বছরের ঐতিহ্যশালী মোহনবাগান দিবস পালন করা হল ওয়াইএমসিএ কলেজ ব্রাঞ্চের মোহনবাগান মেরিনার্সের পক্ষ থেকে এই ২৯শে জুলাই ।উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল ওয়াইএমসিএ কলকাতার সেক্রেটারি শ্রী নীলাদ্রি রাহা,কলেজ ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান রাইট রেভারেন্ড প্রবাল কান্ত দত্ত মেম্বার শ্রী শুভ্র বিশ্বাস অফিশিয়েটিং  সেক্রেটারি শ্রী সুরজিৎ স্যাম্পসন বর্ষীয়ান সদস্য শ্রী শরৎ কুমার চন্দ্র শ্রী প্রদীপ ভঞ্জ এবং গৌরবোজ্জ্বল ২তারকা ফুটবলারের বর্ণিল উপস্থিতি।   

বিকেল ৪টে তে খুদে ফুটবলারদের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা হল।এরপর শ্রী সুরজিৎ স্যাম্পসনের  প্রারম্ভিক ভাষণ তারপর রাইট রেভারেন্ড প্রবাল কান্ত দত্তর সংক্ষিপ্ত অথচ মূল্যবান বক্তব্যে ওয়াইএমসিএ ও মোহনবাগান ক্লাবের গরিমা মর্যাদা আর এই দিনের মাহাত্ম।

এর পর শুরু হয় আকর্ষণীয় মোহনবাগান কুইজ, ঠিক ভুল উত্তরে সরগরম পুরো সভাস্থল।

এর পরেই এই দিনের মুখ্য আকর্ষণ মোহনবাগানের দুই বিখ্যাত ফুটবলার শ্রী মিহির বোস এবং শ্রী বিশ্বজিৎ ঘোষের প্রধান অতিথি রূপে বরণ এবং তাদের মূল্যবান বক্তব্য শোনা এদিনের বড় পাওনা।

বিশ্বজিৎ ঘোষ ৮৪-৮৫ এবং ৮৮-৮৯ সালে মহামেডান স্পোর্টিং ৮৬-৮৭সালে মোহনবাগান ৮৯-৯০সালে ইস্টবেঙ্গলে চুটিয়ে খেলেছেন এছাড়া আদা খান ট্রফি এবং প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ ঢাকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।ওনার সংক্ষিপ্ত ভাষণে আমরা বড় ম্যাচের প্লেয়ারদের উত্তেজনা, প্রেশার নেওয়ার ক্ষমতার কথা জানা গেল।

এবং মিহির বোস

১৯৭৭সালে মোহনবাগান  মাঠে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২গোল তার দৃপ্ত আবির্ভাবের স্বাক্ষর।তিনি ৭৮-৭৯সালের ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করেন ১৯৮০সালে মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার পর ফেডারেশন কাপে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে  গোল করেন এবং দুই দল যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়।শীর্ষ ৩দলের হয়ে ২৪টি ট্রফি, ইস্টবেঙ্গলের  হয়ে ৬৪টি মোহনবাগানের হয়ে ১৯টি এবং মহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে ৯টি গোল করার দুর্লভ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

ওনার কথায়,’ আমি ঘটি বাড়ির ছেলে তাই ইস্টবেঙ্গলে সই করার ব্যাপারটা বেশ কিছুটা অস্বাভাবিক ছিল, আমি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে বসিরহাটে বাড়ি ফেরার পর আমার ছোট ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল আবার আমি চলে আসার পর ঢুকেছিল। আমাকে নিয়ে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল দুই ক্লাবের সমর্থকরা ছড়া বেঁধেছিল ইস্টবেঙ্গলের ছড়া-

‘হাবিব নাচে উলগা নাচে পিকে বজায় ঢোল/ দেখবি যদি আয়রে তোরা মিহির বোসের গোল / তোরা ধীরেন দে কে বল/খোল কত্তাল নিয়ে এবার বৃন্দাবনে চল /ওরে ফুটো ঘটির দল।’

এটা জানার উপায় নেই যে প্রবাদ প্রতিম  ধীরেন দে এই ছড়া শুনেছিলেন কিনা কিন্তু যখন মোহনবাগানে সই করার সময় ডেকে বলেছিলেন ,’ তুমি তো বাঙালদের টিমে খেলে এসেছ ঘটি বাড়ির ছেলে হয়ে, যায় গঙ্গাস্নান করে তারপর ক্লাবে প্র্যাকটিসে আসবে ।’ এই শুনে এটাকে সত্যি ভেবে বেঁকে বসে বলেছিলেন আমি গঙ্গাস্নান করে ক্লাবে ঢুকতে পারবো না পরে জেনেছিলেন এটা রসিকতা করে বলা। কিন্তু এবারে তাঁকে নিয়ে তৈরি হল  মোহনবাগানের ছড়া-

মিহির মিহির মিহির করে মোহনবাগান/ আসল কাজটা তিনি করে ঘুমন্ত দর্শক  জাগান / ২১নম্বর জার্সি পরলে তাকেই শোভা পায়/ আমাদের মিহিরদা যেন কোনোদিন মোহনবাগান ছেড়ে না যায়।       

 একজন ফুটবলারকে নিয়ে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল দুই দলের সমর্থক ছড়া বেঁধেছেন এই দৃষ্টান্ত ময়দানে সম্ভবত বিরল।মিহিরবাবুর বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের মনের কথা বললেন যে ভালো প্রতিভাবান বাঙালি ফুটবলার উঠে আসার প্রয়াসের খামতি আছে আজকাল টাউট বা এজেন্ট ধরে ফুটবলার আনার পদ্ধতির কড়া সমালোচনা শোনা গেল ওনার কথায়। ওনার এবং বিশ্বজিৎবাবুর উপস্থিতিতে মোহনবাগান দিবস পালনের এই আনন্দ  অনুষ্ঠানের দীপ্তি বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

এর পর দরাজ সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে মাতিয়ে দিলেন নবীন শিল্পী শ্রী কিশোর মুখার্জি ।

সপ্রতিভ, সাবলীল সঞ্চালনায় ছিলেন কোর অ্যাক্টিভিটি কমিটির সেক্রেটারি শ্রী শুভ্র রঞ্জন মল্লিক এবং বহুদিনের সভ্য শ্রী  জয়ন্ত আচার্য।বিশেষ ধন্যবাদ শ্রী ভূপাল বোস। আসছে বছর আবার হবে ।জয় মোহনবাগান।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *