পাহাড়ের কোলে মেঘের আনাগোনা, ঘন জঙ্গলের নিঝুম হাতছানি, বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাচীন মনাস্ট্রির শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ, গুপ্তযুগের গড় । উত্তরবঙ্গের এমনই কিছু তুলনায় অপরিচিত ঠিকানা অপেক্ষা করে আছে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের জন্য। চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে চলুন অচেনা উত্তরবঙ্গের পথে- যেখানে প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে রয়েছে নতুন বিস্ময়, নতুন অভিজ্ঞতা।

তিনচুলে – পাহাড়, চা-বাগান, পাইন বন আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য। তিনটি পাহাড়ের চূড়া উনুনের মতো দেখতে বলে জায়গাটির নাম তিনচুলে।
ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য: নব্বইয়ের দশকে ডাবলু ডাবলু এফ এর সহায়তায় এখানে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও গ্রামভিত্তিক হোমস্টে উদ্যোগ গড়ে ওঠে।
কী দেখবেন: গুম্বাদারা ভিউ পয়েন্ট, স্থানীয় মনাস্ট্রি, চা-বাগান, তাকদা ও লামাহাটা।
কোথায় থাকবেন: স্থানীয় হোমস্টে, ছোট রিসর্ট ও পাহাড়ি কটেজ।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে এনজেপি , সেখান থেকে গাড়িতে প্রায় ৭৫ কিমি। বাগডোগরা থেকেও গাড়ি পাওয়া যায়।

ছটকপুর– প্রায় ৭,৮০০ ফুট উচ্চতায় বনঘেরা ছোট পাহাড়ি গ্রাম। শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা।
ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য: সেনচল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভিতরে গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব গ্রাম। স্থানীয় মানুষের হোমস্টে-নির্ভর পর্যটন এখানকার বিশেষ আকর্ষণ।
কী দেখবেন: কাঞ্চনজঙ্ঘার সূর্যোদয়, ওয়াচ টাওয়ার, পাহাড়ি বন, পাখি ও গ্রামের পথঘাট।
কোথায় থাকবেন: স্থানীয় হোমস্টে এবং বন দপ্তরের ইকো হাট।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে এনজেপি, সেখান থেকে প্রায় ৬৫ কিমি গাড়িতে। সোনাদা হয়ে যেতে হয়।

চিলাপাতা – ঘন শালবন, বন্যপ্রাণী, নদী এবং জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে থাকা প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ।
ইতিহাস: জঙ্গলের গভীরে রয়েছে নলরাজার গড়। স্থানীয় ঐতিহাসিক সূত্রে এর নির্মাণকাল গুপ্তযুগ, অর্থাৎ চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতক বলে উল্লেখ করা হয়।
কী দেখবেন: নলরাজার গড়, মেন্দাবাড়ি ওয়াচ টাওয়ার, জিপ/হাতি সাফারি, হাতি ও নানা প্রজাতির পাখি দেখার সুযোগ।
কোথায় থাকবেন: মেন্দাবাড়ি জঙ্গল লজ, মালাঙ্গি লজ এবং বন দপ্তরের পর্যটন আবাস। মাদারিহাটেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে হাসিমারা বা নিউ আলিপুরদুয়ার। সেখান থেকে গাড়িতে প্রায় ১০-২৮ কিমি।
শেয়ার করুন :





