ডুমস্ক্রলিং (Doomscrolling) হল এমন একটি অভ্যাস, যেখানে একজন মানুষ মোবাইল বা কম্পিউটারে একের পর এক নেতিবাচক, উদ্বেগজনক বা ভয়াবহ খবর, ভিডিও কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পড়তে বা দেখতে থাকেন, যদিও তা তাঁর মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ, থামতে চাইলেও তিনি স্ক্রল করে চলেন।
এই শব্দটি দুটি ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে তৈরি—Doom = অমঙ্গল, বিপর্যয় বা সর্বনাশের আশঙ্কা এবং
Scrolling = পর্দায় আঙুল দিয়ে একের পর এক বিষয় দেখা
কেন হয়?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য বিপদের খবরের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। একে বলা হয় Negativity Bias। তাই যুদ্ধ, দুর্ঘটনা, অর্থনৈতিক সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অপরাধের খবর আমাদের মনোযোগ বেশি টানে। আমরা ভাবি, “আরেকটা খবর দেখে নিই”, কিন্তু সেই “আরেকটা” চলতেই থাকে।
ডুমস্ক্রলিংয়ের লক্ষণ
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ধরে খারাপ খবর পড়া।
একই ধরনের নেতিবাচক খবর বারবার দেখা।
স্ক্রল বন্ধ করতে চাইলেও না পারা।
খবর পড়ার পরও নিজেকে অস্থির, উদ্বিগ্ন বা হতাশ লাগা।
সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করার পরও সেই খবর নিয়ে বারবার ভাবতে থাকা।
এর প্রভাব কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ডুমস্ক্রলিংয়ের অভ্যাস থাকলে—
উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনোযোগ কমে যেতে পারে।
কাজের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে পারে।
সারাক্ষণ পৃথিবীকে বিপজ্জনক বা হতাশাজনক বলে মনে হতে পারে।
তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, ডুমস্ক্রলিং নিজে কোনও মানসিক রোগ নয়। এটি একটি আচরণগত অভ্যাস, যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কীভাবে কমাবেন?
দিনে নির্দিষ্ট ২–৩ বার খবর পড়ুন; সারাক্ষণ নয়।
শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সংবাদ বা সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলুন।
নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে খবর নিন, অ্যালগরিদমের ভাসমান ফিডে নয়।
টানা ১৫–২০ মিনিটের বেশি নিউজ ফিড স্ক্রল না করার জন্য টাইমার ব্যবহার করুন।
নেতিবাচক খবরের পাশাপাশি ইতিবাচক বা গঠনমূলক বিষয়ও পড়ুন।
মনে রাখবেন: তথ্য জানা জরুরি, কিন্তু সারাক্ষণ তথ্যের বন্যায় ডুবে থাকা জরুরি নয়। সচেতনভাবে খবর পড়াই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
শেয়ার করুন :





