রস-কুঞ্জ -

ছবি- শুভেন্দু সরকার

রস-কুঞ্জ

আমাদের বাড়িতে বর্ষবরণ মানে কী খাব, এবং কতটা খাব।

সুমন্ত্র মুখোপাধ্যায়

কাগজি লেবু

– ‘দাদাভাই ঠাকুরকে বলিস, কাগজি লেবু গুলো যেন আড়াআড়ি কেটে, তারপর সাদা অংশ আর বীজ বার করে যেন ডেচকি দেয় দেয়।’

– ‘পাতাগুলো যেন চায়ের সঙ্গে ফুটিয়ে দেয়, তাতে টেস্ট বাড়বে।’

– ‘চিনি দেওয়ার দরকার নেই। শুধু লবঙ্গ আর একটু ছোট এলাচ দিতে বলবি। উফ তোফা খেতে হবে।’

বাইরের দালান থেকে ঘড়িতে ঘণ্টার পড়ার শব্দ পেলাম। পাশ ফিরে হাত ঘড়িতে দেখলাম, ভোর সাড়ে চারটে বাজে। বাইরের ঘরের লম্বা বিছানা থেকে ততক্ষণে নতুন বছর বরণের তোড়জোর শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের বাড়িতে বর্ষবরণ মানে কী খাব, এবং কতটা খাব। তাই আমার তিন পিসতুতো ভাই-বোনদের চা বানানোর পরিকল্পনা শুনে খানিকটা থমকে গেলেন আমার ছোট কাকা। ‘ভাগ্যিস এদের হাতে দেশ চলে না। দেশ চললে এরা দেশটাকেই গিলে খেত।’ বক্তা আমার বামপন্থী ছোটকা। যিনি অবাক তাঁর তিন ভাগ্নে-ভাগ্নি যারা ভোর হওয়ার আগে থেকে কাগজি লেবু দিয়ে স্পেশাল চা বানানোর পরিকল্পনা গুছিয়ে ফেলেছে।

‘আচ্ছা ছোটকা কে এই বাড়ির নাম রস-কুঞ্জ দিয়েছিল, বলতে পারবে ?’ আমি প্রশ্ন করি। ‘আহা বাবি কী করবে, এই বাড়ির নাম তো দিয়েছিলেন টেলর সাহেব।’ উত্তর দিলেন, আমাদের সবার পিসি দিদা। আমি আবার জিগেস করি, ‘আচ্ছা তোমাদের কারুর মনে হয়নি, এই নামের পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন –

— ‘কেন খারাপটা কী আছে ? কী সুন্দর। মামার বাড়ি এলেই মনে হয় কত রান্নার বাহার। একাল, সেকাল মিলিয়ে রান্না। সাবেকি-আধুনিক রান্না। একই হেঁসেলে ভেটকির পাথুরি হচ্ছে, আবার গালৌটি কাবাব তৈরি হচ্ছে। একই জায়গা যেমন মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল হয়, তেমন-ই মটন পসিন্দাও সৃষ্টি হয়। না দাদাভাই এই বাড়ির নামে কোনও ভুল নেই।’ সমস্বরে প্রতিবাদ আমার তিন ভাই-বোনের। আমাকে ছোটকা বললেন, ‘ঘুমিয়ে পড়, হাতে আর দেড় ঘণ্টা পাবি।’ আমার মনে হল যেন মাধ্যমিকে আবার অঙ্ক পরীক্ষা দিতে বসেছি।

দরজায় ঠক ঠক

———————

— ‘উঠে পড় পিকলু সোনা। আজ তোমায় সব নতুন জামা পড়তে হবে।’ উত্তর কলকাতার গোলক দত্ত লেনের আমাদের বাড়িতে পিকলু আমার ভবিষ্যৎ। দেড় বছর আগে তার আর্বিভাব। আর এই বাড়িতে আসা ইস্তক, ঠাকুমা এবং ঠাকুরদাদের চরম আদরে তার ব্যপ্তি এখন থেকেই অসীম। ঠাকুরদাদের চোখে তাদের পিকলু ওরফে সৌম্যজ্যোতি মুখোপাধ্যায় তার সৌম্য এবং জ্যোতি দিয়ে সমাজে রাজ করবে। তবে ছোটকার ইচ্ছা, পিকলুকে চে-র মতো করে মানুষ করা। ঠাকুমারা চান পিকলু হয় বিধান রায় হবে, না হলে বিরাট কোহলি হবে। আর এসবের মধ্যেই আমাদের ছেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমাকে এবং আমার বউকে সময় চাইতে হয়। যাইহোক দরজায় খট খট শুনে সদর খুলতেই দেখলাম, নিজের ঠাকুর্দার কোলে আহিরিটোলায় এক চক্কর মেরে এল আমার ছেলে। উপরের মাড়িতে তিনটি আর নীচের মাড়িতে দুটি দাঁতের সমাহার নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। ভাবলাম, যাক বাপ যে চিনতে পেরেছিস, এই অনেক।

—- ‘আজ কী তোর অফিস আছে ?’ প্রশ্ন কর্তা আমার বাবা। বউমার যে নেই, সেটা গতকাল তাঁরা কনর্ফাম করে ফেলেছেন।  সকাল হতেই রস-কুঞ্জের ব্যস্ততা শুরু। সরকারদা এসে কাগজ দিয়ে গিয়েছেন। অমল এসে বাড়ির পুজোর ফুল দিয়ে গিয়েছেন। রামলোচন তাঁর গিন্নি মা-দের তেলেভাজার প্যাকেট দিয়ে গিয়েছেন।

—- ‘মা জননী, আজ জলখাবারে কী করব ?’ এই বাড়ির এখনও পর্যন্ত শেষ কথা আমার সাতাশি বছরের ঠাকুমাকে প্রশ্নটা করলেন আমাদের বাড়ির প্রায় ৫০ বছরের ঠাকুর পুরুষোত্তম। ‘শোন পুরু ময়দার ময়ানটা এমন ভাবে দেবে, যাতে সাদা লুচির উপরটা প্রায় আড়াই ইঞ্চি ফুলে থাকে।’ উত্তর দিলেন আমার ছোট দাদু। পাশ থেকে বাবার সংযোজন, ‘আজ আর ঘ্যাঁট তৈরি করো না। বরং সাদা আলুর তরকারি কর, আর কাঁচালঙ্কা চিড়ে দিও। যাতে আলুর সঙ্গে লেপটে থাকে।’ পিসিদের আবদার, একটু হালুয়া হলে হয় না। এরমধ্যে এক রাউন্ড কাগজি লেবুর স্পেশাল চা হয়ে গিয়েছে। কেমন হল সেটা বড় কথা নয়। আসলে এই বাড়ির নতুন প্রজন্মের দাবির স্বীকৃতি সকালে কাগজি লেবুর চা। ফলে তারা একটা কোটা হারাল বলেও অনেকের সন্দেহ। কারণ, এরপর দুপুরের রসনায় তাদের বিরায়ারি, কাবাব কতটা জায়গা পাবে, তা বলা মুশকিল।

— ‘বড় বৌদি আজ বাজার কী করব ?’ প্রশ্ন কর্তা আমাদের রস-কুঞ্জের অন্যতম চরিত্র। আমার সেজ দাদু। যিনি আহিরিটোলা বাজারের বাইশগজের একমাত্র প্রাণভ্রমরা। তাঁর কনভয় বাজারে ঢুকলে বাজারের চেহারাটাই বদলে যায়। সেই আমার সেজ দাদুই আজ আমাদের বাড়ির মধ্যমণি। কারণ, তাঁর বাজারের উপরেই খেলা হবে। ইতিমধ্যে তাঁর তিন সারথী রাম, কৃষ্ণ এবং দেব সদরে দাঁড়িয়ে আছেন। এরমধ্যে রাম এবং কৃষ্ণ ফিরবেন সদরে। আর দেব ঢুকবেন খিড়কি দিয়ে। কারণ, আমাদের বাড়ির আমিশ আসে খিড়কি দিয়ে, এটাই দস্তুর।

– ‘সেজ দা ভেটকির ফিলেটা সমান সাইজের আনবি।’

– ‘ভাল কাতলা কাটা পেলে আনবেন সেজদা ভাই।’

– ‘দাদাই বেশি করে লেগ পিস নিয়ে আসবে।’

– ‘সন্তু পান দু রকমের আসবে। সাদা পাতা এবং মিঠা পাতা।’

এছাড়াও আরও দাবি সনদ তালিকাবদ্ধ করে তিনি বেরিয়ে গেলেন। যাওয়ার আগে অবশ্য ফুলকো লুচির সঙ্গে সাদা আলুর তরকারি আর শেষ পাতে চিত্তরঞ্জনের রসগোল্লা আর নবীন ময়রার জলভরা পেটে চালান করে দিয়েছেন। আমার সেজ দাদুর দর্শন, পেট ভরাট থাকলেই বাজারে মন আসে।

দালানে জরুরি বৈঠক

————————–

সকাল থেকেই সদর হাট। কখনও কেষ্টদা এসে চেয়ার টেবল উঠোনে রেখে গেলেন। কখনও গোয়ালা পরিতোষ এসে দুধ দিয়ে গেলেন। আবার কখন পাড়ার মুদির দোকান থেকে মাথায় ঝুড়ি করে মাল দিয়ে গেল। বুঝলাম ফর্দ আগেই পৌঁচ্ছে গিয়েছিল। এরমধ্যে ভূতো মামার প্রবেশ। এই ভদ্রলোক আমাদের বাড়ির শঙ্কর-জয়কিষাণ থেকে অরিজিৎ সিং। আদতে আমার ছোট দাদুর ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু তিনি সঙ্গীতের শিক্ষক। আমার পিসিদের শুরু করে আমরা, এমনকী, আমার পিসতুতো ভাই-বোন সবাই ভূতো মামার কাছেই তালিম নিয়েছে।

—– ‘বাবা যদু তো দেখছি, রোভার্স কাপ মাথায় তুলে গোষ্ঠ পালের মতো ঘুরে বেরাচ্ছে।’ ভূতো মামার কথা শুনে দেখলাম, দালানে ছোট দাদুর কাঁধে পিকলু। আর ছোট দাদুর পরনে সাদা দড়ি বাঁধা আন্ডারওয়ার আর গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি।

বাইরে ঘরে এল আমাদের বাড়ির চার দশকের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের সাক্ষী আমাদের চাকর পল্টু। ‘পল্টুদা এককাপ চা খাওয়াবে।’

— ‘তা খাওয়াব। কিন্তু গিন্নি মা সবাইকে দালানে ডেকেছেন। বলল, কী যেন জরুরি কথা আছে।’ পল্টুর কথা শুনে আমি, ছোটকা এবং ভূতো মামা তিন জনের তিন জনের দিকে তাকালাম। এরমধ্যে শুনতে পেলাম বাজার থেকে কনভয় নিয়ে ফিরলেন আমার সেজ দাদু।

বাইরের ঘর থেকে বেরিয়েই আমাদের দালান। দালান বেয়ে আমাদের উপরের ঘরের সিঁড়ি চলে গিয়েছে। সিঁড়ির প্রথম ধাপে বসে আমার ঠাকুমা। যিনি এই সভার প্রধান বক্তা। তার উপরের থাকে তাঁর দুই সারাক্ষণের সঙ্গী আমার মেজ-ঠাকুমা আর নানা। উনি বাবার বড় পিসিমা। এই বাড়িতে তাঁর ভূমিকা অনেকটা অজিত ডোভালের মতো।

—– ‘হ্যাঁ এবার তোমরা বল, আজকের কী কী পদ হবে ?’ এই কথা বলে বলটা এবার আমাদের কোর্টে ঠেলে দিলেন ঠাকুমা। আমরা যাঁরা অভিজ্ঞ, তাঁরা চুপ করেই থাকলাম। হঠাৎ করে দেখলাম আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের তালিকা পেশ করছে।

—- ‘ঠাম্মি, প্রথমে আসবে ফিস ব্যাটার ফ্রাই। তারপর গালৌটি কাবাব। এর পর চিকেন বিরিয়ানি। তারসঙ্গে মটন কোরমা। আর শেষ পাতে আমপানার সরবত।’ আমি ছোটকার দিকে তাকালাম। আর তাকালাম সেজ দাদুর দিকে। দেখলাম সেজদাদু যেন আবার বাজারে যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই হচ্ছেন। কারণ, এই বাড়ির নাতি-নাতিনা যে পদের প্রস্তাব করেছে, তাতে তার কোনও বাজার নেই।

আর ছোটকা পিছন থেকে ফিস ফিস করে বলল, ‘প্রথম বলেই মনে হচ্ছে এরা আউট হয়ে গেল।’ তবে সেটা হল না। আমার ঠাকুমা সেজদাদুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সন্তু নতুন করে বাজারে গিয়ে কী এই পদ রান্নার সামগ্রী কেনা সম্ভব ?’ সেজ দাদু কিছু বলার আগেই সেজ মা বলে উঠলেন, ‘এখনই ১১টা বাজে বড় বৌদি, কখন গিয়ে কখন বাজার আসবে, তারপর রান্না হবে, খেতে খেতে বেলা গড়িয়ে যাবে। আর আমাদের বাড়ির রীতি তো ১টায় প্রথম ব্যাচ শুরু করে দেওয়ার।’

ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে স্পষ্ট বার্তা, তোমাদের প্রস্তাবে কোনও ভুল নেই। কিন্তু পরিকাঠামোয় তা সম্ভব নয়। ফলে আসছে বছর আগাম এই প্রস্তাব ফেলতে হবে। এরমধ্যে হরি ঘোষ স্ট্রিট থেকে ১০ কিলো ননীর সাদা দই নিয়ে হাজির আমার দিদি। আমি বললাম, ‘চুপটি করে আমার পাশে দাঁড়া ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করিস না।’

১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত আমাদের বাড়ির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সবার থেকেই মতামত চাওয়া হল। তারপর যা ঠিক হল, সেটা  নানা পড়ে শোনালেন। দেখলাম আগে থেকেই চিরকুট তৈরি ছিল। ছোটকা বলল, বড় পিসিমা তো আগেই রেডি ছিলেন। যাইহোক, নতুন বছরে প্রথম দিনে আমাদের রস-কুঞ্জের মেন্যু ঠিক হল। শুরুতে মল্লিক ফটকের নফরের দইয়ের ঘোল। যে দই এনেছেন বাবার আরেক পিসিমা বদু মা। এরপর বাসমতি চালের ভাত, পাঁচ রকম ভাজা, শুকতো, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল। ভেটকি মাছের পাথুরি। সঙ্গে পটল ও চিংড়ি মাছ দিয়ে দোলমা। এরপর আসবে বাসন্তী পোলাও। সঙ্গে মটন কষা। যাঁরা মটন খাবেন না, তাঁদের জন্য বরাদ্দ রুইয়ের কালিয়া। খেজুর আমসত্ত্ব দিয়ে চাটনি। সাবুর পাঁপড়। আর শেষ পাতে গাঙ্গুরামের জলভরা আর ননীর সাদা দই।

পাত পড়ল

—————

দালানের একটা টুলের উপর বসে আমি দৃশ্যটা দেখছি। আমাদের মাঝ উঠোন তখন ডেকরেটার্স কেষ্ট বাবুর ছেলেদের দখলে। ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করে একটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বাড়ির সঙ্গে যাঁদের বারো মাসের সম্পর্ক তাঁরা প্রথম ব্যাচ। এরপর পাড়ার লোকেরা। তারপর বাড়ির ছেলেরা, মানে বড়রা। এরপর মেয়েরা। আর শেষ পাতে আমি, ছোটকা এবং বাকি বউমারা। আর এই পুরো ম্যানেজমেন্ট বাড়ির প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ আমার ঠাকুমার হাতে।

—– ‘সেটিংটা দেখলি ?’ ছোটকা প্রশ্ন করল।

—– ‘হ্যাঁ দেখলাম।’ আমি উত্তর দিলাম।

—– ছোটকার মন থেকে খচখচানি তবু যাচ্ছে না। ‘আচ্ছা বৈঠকটা হল কোথায় ? ভাঁড়ার ঘরে নাকি তিনতলার ছাদের ঘরে। না তিনতলার ছাদের ঘরে তো বড় আর মেজো জ্যাঠাইমা উঠতে পারবেন না।’ এরমধ্যে ভূতো মামা পিকলুকে নিয়ে আমাদের পাশে বসল। ‘গতবার দুটি মেন্যু ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তাই কী এবার বাড়তি সতর্কতা।’ ভূতো মামার এই কথায় আমি আর ছোটকা দু জনেই একে অপরের দিকে তাকালাম। ভূতো মামা বলল, ‘মনে হয় ভোম্বল, চমক আরও আছে।’

আসলে ভূতো মামার কথায় কোনও ভুল নেই। এই বছর যা যা পদ ঠিক হয়েছে, আমাদের বাড়ির বউরা, তাঁরা নিজ নিজ জায়গায় পারদর্শী। যেমন শুক্তো করবেন সেজ মা। মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল ছোট দিদা। পটলের দোলমা, স্বয়ং আমার ঠাকুমা। ভেটকি পাথুরি, আমার বউ। চাটনি, আমার মা। কিন্তু উঠনো নেমে অথিতি অ্যাপায়ন করতে গিয়ে আমার আর ছোটকার চোখ কপালে উঠল। কারণ, শুকতো নেই। তার জায়গায় ছানার ডানলা। আর সেই পার্শ্বে সরষে। এই দুটি মেন্যু গতবার ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। আমি ছোটকার দিকে তাকিয়ে রইলাম। দেখলাম, ছোটকার চোখ বেশ বিস্ফোরিত। ‘এতো গুগলি রে…’, আমি বললাম, ‘আমার ঠাকুমা ক্যারাম বল করেছেন।’কারণ, ক্য়াপ্টেন নিজের পটলের দোলমাকে সরিয়ে টক দই দিয়ে পার্শ্বে সরষের রান্নায় সদ্য পটু হয়েছে আমার পিসতুসো বোন শ্রুতির রান্নাকে এবার সামনে এনেছেন।

ছোটকা বলল, ‘বড় জ্যাঠাইমা ফলস নাইন খেলছেন।’

আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, খাওয়াই যদি জীবনের ফাইনাল হয়, তা-হলে আমাদের রস-কুঞ্জ ঠিক লুসাইল স্টেডিয়াম। কারণ, খাবার পাতে না পড়া পর্যন্ত বুঝতেই পারবেন না আপনার রসনায় কী থাকবে ?’

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *