গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস -

গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস

গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপ …

মে মাস মানেই তীব্র গরম, স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বাইরে কাজ করা হোক বা ঘর সামলানো ,এই সময়টায় নারীর দায়িত্ব যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলেন “ডাবল বার্ডেন” বা দ্বৈত দায়—একদিকে পেশাগত কাজ, অন্যদিকে ঘর ও পরিবারের দায়িত্ব।

ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যার কাজে। একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গড়ে ভারতীয় নারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৯২ মিনিট এই ধরনের কাজ করেন, যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি।

গবেষক নেহা ব্যাস তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, “নারীরা একই সঙ্গে বেতনভুক্ত ও অবৈতনিক কাজের ভার বহন করেন, যা তাদের কাজের পরিবেশকে কঠিন করে তোলে।”

গ্রীষ্মের ছুটির সময় এই চাপ আরও বাড়ে। বাচ্চারা সারাদিন বাড়িতে থাকায় তাদের খাওয়ানো, সময় কাটানো, পড়াশোনা করানো—সবকিছুই মায়ের উপর এসে পড়ে। কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে ফিরে আবার “দ্বিতীয় শিফট” শুরু হয়, যা মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিচ্ছেন, যা এই সময়টাকে কিছুটা সহজ করতে পারে।

১) দায়িত্ব ভাগ করে নিন -মনোবিজ্ঞানী ড. অনন্যা সেনের মতে, “পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সব দায়িত্ব একা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে।”স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই চাপ অনেকটাই কমাতে পারে।

২) রুটিন তৈরি করুন -শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাচ্চাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দৈনিক রুটিন তৈরি করলে মা ও সন্তানের দুজনেরই সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। খেলা, পড়াশোনা ও বিশ্রামের সময় আলাদা করে দিলে অযথা চাপ কমে।

৩) ‘মি-টাইম’ জরুরি- কাউন্সেলরদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। বই পড়া, গান শোনা বা হালকা ব্যায়াম ,যে কোনো কিছুই হতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের শক্তি ফিরে আসে।

৪) পারফেকশন নয়, প্রাধান্য দিন প্রয়োজনকে – বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব কিছু নিখুঁত করতে যাওয়ার চাপ নিজেকেই ক্লান্ত করে তোলে। প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে করুন, বাকিগুলো পরে করলেও চলবে—এই মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।

৫) সাহায্য চাইতে দ্বিধা নয় – অনেক নারী সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে গৃহকর্মীর সাহায্য নেওয়া বা পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভর করা একেবারেই স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।

৬) বাচ্চাদের স্বনির্ভর করে তুলুন – ছোট ছোট কাজ যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা বা জল খাওয়া—এই অভ্যাসগুলো বাচ্চাদের শেখালে মায়ের কাজ কিছুটা কমে এবং শিশুরাও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।

সমাজের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। গৃহস্থালির কাজকে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই “নারীর দায়িত্ব” হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পরিবারে সমান দায়িত্ববণ্টন এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই পারে এই চাপ কমাতে।

শেষ কথা, মে মাসের গরম যেমন সাময়িক, তেমনই এই বাড়তি চাপও সামলানো সম্ভব ,যদি সচেতন পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। নারীর এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে সহায়তা করা এটাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *