কুরাতুলান হায়দার -

কুরাতুলান হায়দার

২০ জানুয়ারি ১৯২৭ -২১ অগাস্ট ২০০৭

পদ্মভূষণ ২০০৫ । সাহিত্য একাডেমি  ফেলোশিপ সর্বোচ্চ পুরস্কার  ১৯৯৪,’আখিরে শব কে হামসফর’রচনার জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ১৯৮৯,’পতঝর কি আওয়াজ’ গল্পগুচ্ছর জন্য সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ১৯৬৭ ।      

উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক,সাংবাদিক ।তাঁর নামের অর্থ  চোখের সান্ত্বনা।উনি সেই সময় উর্দু গদ্যর একটি নতুন ধারার প্রবর্তক যখন উর্দু ভাষায় মূলত শের ও শায়রীর প্রাধান্য ছিল।

দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজে এবং লাখনৌ এর ইসাবেলা থোবার্ন কলেজে পড়াশোনার পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানে চলে যান আর কিছুদিন ইংল্যান্ডে থাকার পর ভারতে ফিরে তৎকালীন বোম্বে শহরে ২০ বছর বসবাস করে শেষ জীবনে দিল্লিস্থিত নয়ডায় শেষ জীবন অতিবাহিত করেন ।

১৯৫৯ সালে প্রকাশিত ‘আগ কা দারিয়া’ বইটির জন্য পাকিস্তানে প্রবল  বিতর্ক ও বিরোধের জন্য পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে আসেন । সাংবাদিক রূপে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি (ইমপ্রিন্ট পত্রিকার ম্যানেজিং এডিটর ১৯৬৪-৬৮ এবং ইলাস্ট্রেটেড উইকলির সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত) নিয়মিত ছোটগল্প,উপন্যাস ও অনুবাদের সৃষ্টিশীল কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন ।

ওনার ‘আগ কা দরিয়া’ একটি ব্যতিক্রমী উজ্বল সৃষ্টি,সময় এবং ইতিহাসের একটি কালজয়ী রচনা যার সময়কাল  খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত ও পাকিস্তান যেখানে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তে এই দেশভাগের দুখজ্বালা যন্ত্রণার অভিঘাত বর্ণিত হয়েছে । টাইমস লিটারারি সাপ্লিমেন্ট এই  বইটির সঙ্গে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সর্বজন বিখ্যাত  ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিচিউড’ এর তুলনা করেছে  এবং ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস এ এই বইটির আলোচনায় অদিতি শ্রীরাম বলেছেন ‘এই বই আশ্চর্য ভাবে  ২০১৯ সালে ততটাই প্রাসঙ্গিক যা ১৯৫৯ সালে ছিল ।  

এই বিদগ্ধ দীপ্তিময়ী ক্যালিফোর্নিয়া,চিকাগো,উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপক ,আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর এবং জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস এর আসন অলংকৃত করেছেন ।       

দীর্ঘদিনের ফুসফুসের অসুস্থতার পর ২০০৭ সালের ২১ অগাস্ট নয়ডার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ।ওনার মৃত্যুতে রাষ্টপতি,প্রধানমন্ত্রী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শোকজ্ঞাপন করেন ।     

ঋণ:’Remembering Aine Apa  ‘  Aaj  

        Quarratulain Hyder -Library of Congress 

        Wikipedia    

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *