বেশিরভাগ ক্যাটালগ আপনাকে কেবল একটি ফিনিশ বা টেকশ্চার বেছে নিতে বলে। কিন্তু সেঞ্চুরি ল্যামিনেটস লুক বুক ২০২৬ -২৭ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রশ্ন করে: আপনি আসলে কেমন পরিবেশে বসবাস করতে চান?
এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ল্যামিনেট নির্বাচন করা মানে কেবল একটি মেটেরিয়াল বেছে নেওয়া নয়। এটি এমন একটি কিচেন তৈরি করা যেখানে অনেকটা সময় কাটাতে ইচ্ছা করবে, এমন একটি শোওয়ার ঘর যা দেখতে ঠিক আপনার কল্পনার মতো হবে, অথবা এমন একটি কাজের জায়গা যা সাধারণ কোনো ওয়েটিং রুমের মতো ম্যাড়মেড়ে মনে হবে না। এই লুকবুকটি ঠিক সেই ভাবনা থেকেই তৈরি করা হয়েছে। এটি এমন এক ডিজাইনিং টুল যা নিজের বাড়ির জন্য সিদ্ধান্ত নিতে চাওয়া বাড়ির মালিক, বড় পরিসরে কাজ করা আর্কিটেক্ট এবং বর্তমান ও আগামীর ট্রেন্ড খুঁজছেন এমন ডিজাইনার,সবার প্রয়োজন মেটায়।
এই বছরের থিম হলো দ্য ট্রেন্ডজ এডিট ২০২৬-২৭ , যা সেঞ্চুরি ল্যামিনেটসকে কেবল একটি সারফেস ব্র্যান্ড হিসেবে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ডিজাইনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে তার এক নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশক হিসেবে উপস্থাপন করে।
সংখ্যায় নতুন কী কী আছে?
মোট ৭০৫টি ডিজাইন। যার মধ্যে ২৩৫টিই একদম নতুন।৫টি নতুন টেকশ্চার।২টি নতুন সারফেস ইনোভেশন।একটি নতুন ১০×৪ ফুট ল্যামিনেট ফরম্যাট।এবং ক্যাটালগের সাথেই থাকছে একটি আলাদা কম্বিনেশন বুকলেট ।এটি কেবল পুরোনো সংগ্রহের নবায়ন নয়; বরং এটি শুরু থেকে পুরো কালেকশনটিকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বড় উদ্যোগ।
বড় কিছু সূচনা
ক্যাটালগটি দেখার সময় আপনি যে বিষয়গুলো দেখতে পাবেন:
১০×৪ ফুট ল্যামিনেট: কম জয়েন্ট, আরও পরিচ্ছন্ন জায়গা
ল্যামিনেট সারফেসে প্রতিটি জয়েন্ট বা জোড়া মূলত ডিজাইনের ধারাবাহিকতায় একটি দৃশ্যমান বাধা। সাধারণ মাপের ল্যামিনেট মানেই বেশি জয়েন্ট, প্যাটার্নে বারবার ছেদ পড়া, ইনস্টলেশনে বাড়তি সময় এবং বেশি অপচয়। বড় সারফেসের ক্ষেত্রে এই নতুন ১০×৪ ফুট ফরম্যাট সেই সমস্যার সমাধান করে।
এগুলো মূলত বড় দরজা, রান্নাঘরের শাটার, ওয়ারড্রোব, হোটেলের লবি, বাণিজ্যিক দেয়াল প্যানেলিং এবং কনফারেন্স রুমের জন্য তৈরি করা হয়েছে,যেখানে একটি নিরবিচ্ছিন্ন ও অখন্ড সারফেস পুরো জায়গার চেহারাই বদলে দিতে পারে। উঁচু সিলিং এবং ওপেন ফরম্যাটের আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনে অনেকদিন ধরেই এর প্রয়োজন ছিল। এখন তা হাতের নাগালে।
অল প্রোটেক : যে সারফেস নিজের যত্ন নিজেই নেয়
ইন্ডাস্ট্রিতে অল প্রোটেকই প্রথম ল্যামিনেট যা ইলেকট্রন বিম-কিউরড সারফেস প্রযুক্তি ব্যবহার করে। আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারে এর সুবিধাগুলো আসলে কী, তা নিচে দেওয়া হলো:
সেলফ-হিলিং : সারফেসের ছোটখাটো স্ক্র্যাচ বা আঁচড় তাপের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব, অর্থাৎ এই সারফেস নিজেই নিজেকে সারিয়ে তোলে।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেজিস্ট্যান্স: এর ফিনপ্রোটেক লেয়ার আঙুলের ছাপ প্রতিরোধ করে। রান্নাঘরের শাটার বা নিয়মিত ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থায়িত্ব: এটি গৃহস্থালির রাসায়নিক দ্রব্য এবং গভীর আঁচড় প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
ডেড ম্যাট ফিনিশ: এর ম্যাট ফিনিশ আসবাবকে কোনো বাড়তি পরিশ্রম ছাড়াই সবসময় পরিচ্ছন্ন ও নতুন দেখায়।
এটি ১.২৫ মিমি পুরুত্বে মোট ৯টি ডিজাইনে উপলব্ধ। এটি মূলত এমন সব জায়গার জন্য তৈরি করা হয়েছে যেখানে নিয়মিত ও অধিক ব্যবহার হয়।
ল্যুভর ট্রেন্ডজ : গভীরতা বাড়াতে লিনিয়ার রেখা
ল্যুভর-অনুপ্রাণিত সারফেসগুলো জনপ্রিয় কারণ এগুলো একটি সমতল প্যানেলে গতির ছন্দ নিয়ে আসে। এর লিনিয়ার খাঁজগুলোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া আলোছায়ার খেলা এক ধরণের শান্ত স্থাপত্যসুলভ নাটকীয়তা তৈরি করে, যা সাধারণ সলিড কালার বা প্যাটার্নযুক্ত সারফেসে পাওয়া অসম্ভব।
এই বছর দুটি নতুন টেকশ্চার যুক্ত করা হয়েছে:
ল্যুভর ব্লাইন্ডস : এতে রয়েছে গভীর এবং শক্তিশালী ল্যুভার রেখা, যা সলিড কালার, উডগ্রেইন এবং পাথুরে ডিজাইনের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ১.৫০ মিমি পুরুত্বে এর ১০টি ডিজাইন রয়েছে।
ল্যুভর কার্টেনস : একই ধরণের ফিনিশের ওপর এতে আরও পরিমার্জিত এবং উঁচু মানের ল্যুভার রেখা ব্যবহার করা হয়েছে। ১.৫০ মিমি পুরুত্বে এর ৮টি ডিজাইন পাওয়া যাচ্ছে।
এই দুটি বিকল্পই টিভি ক্যাবিনেট, ফিচার ফার্ণিচার এবং অ্যাকসেন্ট সারফেসের জন্য অত্যন্ত কার্যকর, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত জাঁকজমক ছাড়াই একটি কাঠামোগত আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলা।
জিরো ম্যাট : শান্ত স্নিগ্ধতাই আধুনিক বিলাসিতা
বর্তমানে ইন্টেরিয়র ডিজাইনে এমন সব সারফেসের দিকে ঝোঁক বাড়ছে যা খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ নয়। জিরো ম্যাট ঠিক সেই জায়গাতেই নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। এটি এমন একটি ফিনিশ যা আলো শোষণ করে নেয় , এটি অনুজ্জ্বল, অ্যান্টি-গ্লেয়ার এবং অত্যন্ত মার্জিত। এটি একঘেয়ে বা ফ্যাকাশে নয়, বরং এটি একটি শান্ত ও পরিমিত অনুভূতি তৈরি করে।
মোট ৮টি ডিজাইনে এটি পাওয়া যাচ্ছে। অফিস, বেডরুম এবং এমন যে কোনো জায়গার জন্য এটি উপযুক্ত যেখানে মূল লক্ষ্য হলো একটি ধীরস্থির এবং সমসাময়িক আবহ তৈরি করা, যেখানে কোনো সারফেসই অতিরিক্ত দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় নামে না।
স্টোন ট্রেন্ডজ : মেন্টেনেন্সের ঝামেলা ছাড়াই পাথরের আসল আভিজাত্য
ডিজাইনের ক্ষেত্রে পাথর সবসময়ই একটি দামী পছন্দ হিসেবে বিবেচিত,সেটি এর উচ্চমূল্য, জটিল ইনস্টলেশন পদ্ধতি কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলার কারণেই হোক না কেন। স্টোন-লুক ল্যামিনেটগুলো এই সমস্যার চমৎকার সমাধান নিয়ে এসেছে এবং এই বছরের দুটি নতুন ফিনিশ একে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
আর্কি কংক্রিট সেরা মানের ইতালীয় পাথরের আদলে তৈরি, যা দেখতে উজ্জ্বল, গভীর এবং আভিজাত্যে ভরপুর। অন্যদিকে, এক্সপোজড কংক্রিট ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত, যার মাঝে রয়েছে কিছুটা পুরোনো ও টেকশ্চারযুক্ত ভাব, যা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে এক অন্যরকম গভীরতা যোগ করে। প্রতিটি ফিনিশে ৮টি করে ডিজাইন রয়েছে। এই দুটি বিকল্পেই আপনাকে প্রাকৃতিক পাথরের দৃশ্যমান আভিজাত্য বা গাম্ভীর্য দেয়, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ও বাস্তবসম্মত।
ভিনিয়ের ট্রেন্ডজ : কাঠের স্পর্শ যেমন হওয়া উচিত
এমন দুটি ফিনিশ যা ল্যামিনেট এবং আসল কাঠের মধ্যকার পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়-কেবল দেখার দিক থেকেই নয়, স্পর্শের অনুভূতির দিক থেকেও।
সিঙ্ক্রো সিরিজ : এই প্রযুক্তিতে ল্যামিনেটের সারফেসের টেকশ্চারকে নিচের কাঠের গ্রেনের প্যাটার্নের সাথে নিখুঁতভাবে মেলানো হয়। ফলে আপনি যে গ্রেনগুলো চোখে দেখেন, স্পর্শেও ঠিক সেই টেকশ্চারই অনুভব করেন। এটি ক্রাউন নট্স, স্ট্রেট লাইন এবং গ্র্যানুলার ম্যাট এই তিন ধরণে পাওয়া যাচ্ছে।
উইলো উড : এটি এই বছরের একটি নতুন সংযোজন। ওক কাঠ থেকে অনুপ্রাণিত এই ফিনিশটিতে রয়েছে গভীরভাবে খোদাই করা সূক্ষ্ম রেখা যা যেকোনো আসবাব বা দেওয়ালে একটি প্রাকৃতিক ও শান্ত ভাব নিয়ে আসে।
ব্যবহার: এগুলো মূলত ওয়ারড্রোব, টিভি ইউনিট, রান্নাঘরের শাটার এবং এমন সব ফার্ণিচারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী যেখানে মূল লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিক উষ্ণতা ও সজীবতা ফুটিয়ে তোলা।
ডিজাইন ট্রেন্ডজ : যখন ল্যামিনেটই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ
এই অংশটি মূলত এমন সব জায়গার জন্য যেখানে ল্যামিনেট সারফেসটি নিজেই একটি ডিজাইন হিসেবে কাজ করে। এটি কেবল কোনো ব্যাকড্রপ বা পটভূমি নয়, বরং এটিই ঘরের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
দ্য ওয়ালপেপার কালেকশন : এটি ফ্লোরাল, মেটালিক, অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং জিওমেট্রিক মোটিফ নিয়ে আসে, যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় রুচিশীলতার ছোঁয়া।
দ্য নয়্যার কালেকশন : এটি গভীর ও গাঢ় কালো এবং ক্লাসিক টোনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা যেকোনো জায়গায় একটি শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করে।
প্যাটার্নস : এর মধ্যে রয়েছে শেভরন ,হেরিংবোন ,থ্রিডি ল্যুভারস এবং উডেন প্লাঙ্ক ডিজাইন-যার প্রতিটিই একটি রুমের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট।
টেক্সটাইল : এটি মিলানের ফ্যাব্রিক হেরিটেজ থেকে অনুপ্রাণিত। এর বোনা বা ওভেন সারফেস ডিজাইনগুলো আসবাবে উষ্ণতা এবং স্পর্শানুভূতি যোগ করে।
কেইন : ঐতিহ্যবাহী বেতের বুনন শৈলীকে এটি আধুনিক আসবাবপত্রে ফিরিয়ে আনে, যা আভিজাত্য এবং সমসাময়িক ডিজাইনের এক মেলবন্ধন।
এগুলো কেবল ঘর সাজানোর জন্য বেছে নেওয়া কোনো সাধারণ উপকরণ নয়; এগুলো হলো আপনার রুচির বহিঃপ্রকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজাইন সিদ্ধান্ত।
সলিড ট্রেন্ডজ : আপনার পছন্দমতো সঠিক রঙ খুঁজে নেওয়া
এই বছর সলিড কালার বিভাগটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। গতানুগতিক কালার হুইলের পরিবর্তে এটি একটি ‘স্পেশিয়াল ম্যাপ’ বা স্থানিক মানচিত্রের মতো কাজ করে; যেখানে রঙের পরিবারগুলোকে ভার্টিকাল কলামসে সাজানো হয়েছে। এর ফলে আপনি রঙের তাত্ত্বিক ব্যাকরণ না বুঝলেও, রঙগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত সেই অনুভবের ভিত্তিতে সহজেই বেছে নিতে পারবেন।
পুরো সংগ্রহটি সফ্ট নিউট্রাল থেকে শুরু করে মাটির কাছাকাছি টোন, প্রাণবন্ত কোরাল এবং প্রকৃতির স্নিগ্ধ সবুজের মতো সাতটি ভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত। এই বছরের নতুন লঞ্চগুলো মূলত সবুজ, বেইজ এবং উষ্ণ গোলাপি রঙকে কেন্দ্র করে তৈরি। এর পেছনের যুক্তিটি খুব সহজ: আপনার ঘরের মেজাজের সাথে মানানসই রঙের অঞ্চলটি খুঁজে নিন, এরপর সেই তালিকার প্রতিটি শেড পরখ করে দেখুন। সলিড কালারগুলো উডগ্রেইন এবং স্টোনের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায় এবং ক্যাটালগ জুড়ে এই ধরণের চমৎকার সব কম্বিনেশন দেখানো হয়েছে।
লুকবুকটি যেভাবে কাজ করে
এই লুকবুকটির গঠন অত্যন্ত সুচিন্তিত। এর প্রতিটি ‘সেকশন ব্রেকার’ বা বিভাগগুলো কিচেন, বেডরুম, লিভিং রুম এবং কর্পোরেট অফিসের মতো নির্দিষ্ট জায়গার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং সেই জায়গার উপযোগী ট্রেন্ডগুলো সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। তাই আপনি যদি একটি বেডরুম ডিজাইন করেন, তবে সরাসরি সেই বিভাগে গিয়ে দেখে নিতে পারবেন বর্তমানে কোন ট্রেন্ডগুলো জনপ্রিয়, কোন কম্বিনেশনগুলো ভালো কাজ করে এবং সেই পরিবেশের জন্য কোন ফিনিশটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
বইটির ভেতরের পাতাগুলোতে একটি ‘গ্রেডিয়েন্ট গ্রিড’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ডিজাইনগুলোকে রঙের টোনালিটি বা উজ্জ্বলতা অনুযায়ী সাজিয়ে রাখে। ফলে আপনাকে আলাদাভাবে ক্যাটাগরি খুঁজতে হবে না ; বরং আপনার ঘরের মেজাজ বা ‘মুড’ অনুযায়ী আপনি ডিজাইনগুলো দেখে নিতে পারবেন। পুরো ক্যাটালগ জুড়ে ল্যামিনেটের ছোট টুকরো দেখানোর পরিবর্তে বাস্তব ইন্টেরিয়র এবং সারফেসের সমন্বিত রূপ দেখানো হয়েছে, যাতে আপনি বুঝতে পারেন বাস্তবে সেগুলো কেমন দেখাবে।
এর প্রচ্ছদটি অত্যন্ত সাধারণ এবং মার্জিত রাখা হয়েছে, যাতে প্রথম পাতা থেকেই ল্যামিনেট সারফেসগুলোই মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
কম্বিনেশন এবং স্পেস বেসড ট্রেন্ডজ
এটি আপনাকে আগে থেকে নির্বাচন করা বিভিন্ন পেয়ারিং উপস্থাপন করে: যেমন উডগ্রেইনের সাথে সলিড কালার, স্টোনের সাথে সলিড কালার, স্টোনের সাথে উডগ্রেইন এবং লেয়ারড ফিনিশ কম্বিনেশন। এই বিষয়ের বিস্তারিত জানতে ক্যাটালগের সাথে একটি আলাদা কম্বিনেশন বুকলেট দেওয়া হয়েছে। যারা কোনো ডিজাইনারের সাহায্য ছাড়াই নিজে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদের জন্য এটি পুরো ক্যাটালগের সবচেয়ে দরকারী অংশ। এটি রঙ বা ডিজাইনের সঠিক মেলবন্ধন খুঁজে পাওয়ার অনিশ্চয়তা দূর করে, যা অন্যথায় বেশ বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে।
স্পেস-বেসড ট্রেন্ডজ : এটি নির্দিষ্ট ডিজাইনের ল্যামিনেট এবং ফিনিশগুলোকে নির্দিষ্ট ঘরের জন্য নির্ধারণ করে দেয়, যেমন লিভিং রুম, কিচেন, বেডরুম, বাথরুম, দরজা, কর্পোরেট অফিস এবং এক্সক্লুসিভ জোন। ক্যাটালগের প্রতিটি স্পেসের জন্য আলাদা ‘সেকশন ব্রেকার’ রয়েছে, যা সেখানে কোন ট্রেন্ডটি কেন ভালো কাজ করবে তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়। এটি কেবল কোনো কাল্পনিক পরামর্শ নয়, বরং বাস্তবসম্মত জায়গার জন্য কার্যকর সমাধান।
জরুরি প্রশ্নোত্তর
১) এটি কি কেবল ডিজাইনের ছোঁয়া দেওয়া একটি সাধারণ প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ?
না, এটি আপনাকে কেবল পণ্য দেখায় না, বরং সক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে আগে থেকে নির্বাচন করে রাখা চমৎকার সব কম্বিনেশন , নির্দিষ্ট জায়গার উপযোগী ট্রেন্ড সেকশন এবং বাস্তব ইন্টেরিয়রের ছবি-যা দেখায় যে বিভিন্ন ধরণের ফিনিশ বাস্তবে একসাথে কেমন দেখাবে।
২) অল প্রোটেক অন্যান্য ল্যামিনেট সারফেস থেকে আলাদা কেন?
এটি ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র ল্যামিনেট যাতে ইলেকট্রন বিম-কিউরড সারফেস ব্যবহার করা হয়েছে। এর মানে হলো, এটি তাপের মাধ্যমে ছোটখাটো আঁচড় বা স্ক্র্যাচ নিজে নিজেই সারিয়ে তুলতে পারে । এছাড়া এটি আঙুলের ছাপ , রাসায়নিক দ্রব্য এবং ঘর্ষণজনিত ক্ষয় এমনভাবে প্রতিরোধ করে যা সাধারণ ল্যামিনেট করতে পারে না।
৩) ১০×৪ ফুট ল্যামিনেটগুলো কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী?
যেকোনো জায়গায় যেখানে জোড়া ছাড়া একটি নিরবিচ্ছিন্ন সারফেস সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে, সেখানেই এগুলো সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষ করে বড় দরজার ক্ষেত্রে, রান্নাঘরের লম্বা শাটার, ওয়ারড্রোব, হোটেলের লবি এবং উঁচু সিলিং বিশিষ্ট বাণিজ্যিক স্পেসগুলোর জন্য এটি আদর্শ সমাধান।
৪)কম্বিনেশন বুকলেটটি কাদের জন্য?
যারা কোনো আর্কিটেক্ট বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সাহায্য ছাড়াই নিজের পছন্দমতো ডিজাইন বেছে নিচ্ছেন, এটি মূলত তাদের জন্য। এতে আগে থেকে যাচাইকৃত এবং সুনির্ধারিত সব কম্বিনেশন বা জোড়া উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ল্যামিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরণের দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা দূর করে।
৫) দৈনন্দিন জীবনে সেঞ্চুরি ল্যামিনেট সারফেসের মেন্টেনেন্স আমি কীভাবে করব?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি ভেজা কাপড় দিয়েই এটি পরিষ্কার করা সম্ভব। তবে জেদি দাগের জন্য মাইল্ড ডিটারজেন্ট এবং একটি নরম ব্রাশ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পরিষ্কার করার সময় অ্যাসিডিক ক্লিনার বা ঘষামাজা করার শক্ত, রুক্ষ প্যাড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এছাড়া, গরম কোনো বস্তু সরাসরি ল্যামিনেট সারফেসের ওপর রাখা এড়িয়ে চলুন।
শেয়ার করুন :





