কেন ইন্টেরিয়রে প্রথম পছন্দ ল্যামিনেটস ? -

কেন ইন্টেরিয়রে প্রথম পছন্দ ল্যামিনেটস ?

অসংখ্য ডিজাইন,আকর্ষণীয় ও নান্দনিক রূপ,সাশ্রয়ী,এছাড়া…

আপনি কি আপনার ঘরের ইন্টেরিয়র দেখে একঘেয়ে অনুভব করছেন? বাড়িকে কি দিতে চান নতুন ও নান্দনিক রূপ? তাহলে আধুনিক হোম ডিজাইনের ট্রেন্ডে থাকা ল্যামিনেট সম্পর্কে জানা আপনার জন্য ভীষণ জরুরি। ল্যামিনেট ব্যবহার করা যেমন সহজ, তেমনই এটি সারফেসে বসালে দেয় মসৃণ ও পরিমিত ফিনিশ। এই বহুমুখী উপকরণটি ঘরের যেকোনো অংশে ব্যবহার করে সহজেই আভিজাত্যপূর্ণ সৌন্দর্যসৃষ্টি করা যায়। তাই বাড়ির নতুন নির্মাণ বা সংস্কারের কথা ভাবলে ল্যামিনেট হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ যেখানে রয়েছে অসংখ্য ডিজাইন ও বিকল্প। ল্যামিনেটের এই বৈচিত্রময় জগৎকে চিনে নিতে রইল একটি বিস্তারিত আলোচনা।

ল্যামিনেট শিটস

ল্যামিনেট শিট হলো একটি সাশ্রয়ী ও সহজে বসানো যায় এমন সারফেস ফিনিশিং উপকরণ, যা আপনার বাড়িকে দেয় আকর্ষণীয় ও নান্দনিক রূপ। এটি মূলত কাউন্টার, টেবিল, আসবাবপত্র, র‍্যাক, ক্যাবিনেট, মেঝে সহ এমন সব জায়গায় ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভালো ফিনিশ বজায় রাখা বেশ কঠিন।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ল্যামিনেট শিট গৃহস্বামীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও এনে দেয়।

ল্যামিনেট কীভাবে তৈরি হয়?

ল্যামিনেট তৈরির প্রক্রিয়া মূলত পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এই ধাপগুলোর মাধ্যমে সাধারণ কাগজ ধীরে ধীরে শক্ত, টেকসই ও আকর্ষণীয় ল্যামিনেটে রূপান্তরিত হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই ধাপগুলি-

১) ক্রাফট পেপার প্রস্তুতকরণ:প্রথম ধাপে ক্রাফট পেপার পরিষ্কার করে ফিনলযুক্ত রেজিনের দ্রবণে ভিজিয়ে নেওয়া হয়। এতে কাগজ শক্ত ও প্রক্রিয়াজাত হয়ে ওঠে যা ল্যামিনেট তৈরির জন্য উপযুক্ত করে তোলে।

২) শুকানো ও শিট তৈরি:এরপর এই রেজিন-ভেজানো কাগজ শুকানো হয়। রেজিন কয়েক সেকেন্ডেই শুকিয়ে যায় এবং পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে কাগজগুলোকে শিট আকারে প্রস্তুত করা হয়।

৩) স্ট্যাকিং বা স্তর বসানো:ল্যামিনেটকে আকর্ষণীয় ও ডেকরেটিভ লেয়ার তৈরি করতে ক্রাফট পেপারের ওপর ডেকরেটিভ লেয়ার বসানো হয়। এই প্রক্রিয়াকে স্ট্যাকিং বলা হয়। বিভিন্ন স্তরের মাঝে টেকশ্চারযুক্ত প্লেট রাখা হয় যাতে কাগজগুলো একে অপরের সঙ্গে লেগে না যায়।

৪) থার্মোসেটিং প্রক্রিয়া:এরপর এই স্তরগুলোকে অত্যন্ত উচ্চ তাপ ও চাপের মধ্যে দিয়ে পাঠানো হয়, যাতে সব স্তর স্থায়ীভাবে একত্রে যুক্ত হয়ে একটি মজবুত শিটে পরিণত হয়।

৫)কাটিং ও ফিনিশিং:শেষ ধাপে অতিরিক্ত কাগজ কেটে ফেলা হয়। এর পরেই তৈরি হয় সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও ব্যবহারযোগ্য ডেকোরেটিভ ল্যামিনেট।

ল্যামিনেটের উপকারিতা

ল্যামিনেট শিটের অসংখ্য গুণ রয়েছে, যার জন্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের মধ্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাড়ি তৈরি বা সংস্কারের ক্ষেত্রে এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনই দেখতে দেয় আসল কাঠের মতো আভিজাত্যপূর্ণ অনুভূতি। ল্যামিনেট বসানো খুবই সহজ এবং কারিগর-বান্ধব, ফলে কাজ দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সম্পন্ন হয়।

ল্যামিনেট অত্যন্ত টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী, পাশাপাশি এর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও খুব কম। ভেজা কাপড় দিয়ে একবার মুছে দিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। এটি জল, আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে ভাবের প্রতিরোধী হওয়ায় রান্নাঘর, বাথরুমের বাইরের অংশ বা আর্দ্র পরিবেশেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া ল্যামিনেট পরিবেশবান্ধব, কারণ এটি প্ল্যান্টেশন কাঠ দিয়ে তৈরি, অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত প্ল্যান্টেশন কাঠ ব্যবহৃত হয়, প্রাকৃতিক বনভূমির গাছ নয়।

সেঞ্চুরি ল্যামিনেটসের ল্যামিনেট শিটে আরও একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। তাদের ল্যামিনেটের উপরের স্তরে ব্যবহৃত ভাইরাকিল প্রযুক্তি  যা ৯৯% ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস ও ক্ষতিকর অণুজীব ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এছাড়াও সেঞ্চুরি ল্যামিনেটস নানা ধরনের ডিজাইন, টেকশ্চার, রং ও প্যাটার্নে ল্যামিনেট সরবরাহ করে, ফলে আপনার ঘরের ডেকর থিম বা ব্যক্তিগত রুচি অনুযায়ী সহজেই পছন্দ করা যায়।

সবচেয়ে বড় কথা, ল্যামিনেট একটি অত্যন্ত বহুমুখী উপকরণ ,ক্যাবিনেট থেকে শুরু করে মেঝে পর্যন্ত সর্বত্র ব্যবহার করা যায়। এই সব সুবিধাই ল্যামিনেটকে একটি বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগে পরিণত করে এবং যারা নিজেদের বাড়িতে আভিজাত্য ও উষ্ণতার ছোঁয়া আনতে চান, তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে।

ল্যামিনেটের ধরণ:

ল্যামিনেট নানা ধরনের হয়ে থাকে। কিছু ল্যামিনেটের কোর বেশি পুরু, আবার কিছু ল্যামিনেট ময়েশ্চার প্রতিরোধে বেশি কার্যকর। এই বিষয়গুলোই বাড়ি বা অফিসের জন্য ল্যামিনেট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। চলুন দেখে নেওয়া যাক ল্যামিনেটের বিভিন্ন ধরণ –

১) ল্যামিনেট কোর:এই ধরনের ল্যামিনেট পার্টিকেল বোর্ড বা প্লাইবোর্ড দিয়ে তৈরি হয় এবং তার উপর মেলামাইন ভিনিয়ের লাগানো থাকে। এগুলি অন্যান্য ল্যামিনেটের তুলনায় সবচেয়ে সস্তা। তবে গঠনের কারণে এগুলি খুব বেশি টেকসই হয় না।

২) ল্যামিনেট ভিনাইল:১০০% বিশুদ্ধ ভিনাইল দিয়ে তৈরি এই ল্যামিনেটগুলি রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং অত্যন্ত টেকসই। নানা রং ও প্যাটার্নে পাওয়া যায়, যা আপনার ঘরের ডেকর থিমের সঙ্গে মানানসই করে বেছে নেওয়া যায়।

৩) প্লাস্টিক ল্যামিনেট:এই ধরনের ল্যামিনেট বাজেটের মধ্যে ভালো স্থায়িত্ব দেয়, তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। দেখতে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় এবং ঠিকভাবে যত্ন না নিলে সহজেই আঁচড় পড়ে যেতে পারে। তবে এগুলি রিসাইকেলযোগ্য হওয়ায় পরিবেশবান্ধব।

৪) ইঞ্জিনিয়ার্ড ল্যামিনেট:এই ল্যামিনেটগুলোর পুরুত্ব সমান হওয়ায় বসানোর সময় কাটা বা ছাঁটার ঝামেলা থাকে না। নানা ধরনের ডিজাইনে পাওয়া যায়, তবে প্রাকৃতিক কাঠের উষ্ণ অনুভূতি দেয় না।

৫) ফিক্সড ল্যামিনেট:এই ধরনের ল্যামিনেট আঠা ও পেরেকের সাহায্যে সাবফ্লোরের সঙ্গে আটকানো থাকে। তাই হাঁটার সময় নড়াচড়া করে না এবং অন্য ল্যামিনেটের তুলনায় বেশি স্থিতিশীলতা দেয়।

৬) ল্যামিনেট হার্ডউড:এগুলিকে ‘ফ্লোটিং ফ্লোর’ নামেও ডাকা হয় এবং দেখতে প্রাকৃতিক হার্ডউডের মতো লাগে। তবে এগুলি আসল কাঠের তুলনায় অনেক সস্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ, কারণ এতে প্রাকৃতিক কাঠের মতো গর্ত বা খাঁজ থাকে না।

৭) ফ্লোটিং ল্যামিনেট:নাম থেকেই বোঝা যায়, এই ধরনের ল্যামিনেট মেঝের উপর ভাসমান অবস্থায় বসানো হয়। এর জন্য নিচে আলাদা কোনো সাপোর্টের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনে এগুলি সহজেই খুলে ফেলা যায়, ফলে সাবফ্লোরে কাজ করতে সুবিধা হয়।

ল্যামিনেটসের মেন্টেনেন্স

আগেই বলা হয়েছে, ল্যামিনেটের যত্ন নেওয়া খুবই সহজ, কারণ এতে খুব কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এর উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে নিয়মিত ভেজা বা হালকা স্যাঁতসেঁতে কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই যথেষ্ট। যদি কোনো দাগ পড়ে যায়, তাহলে হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে তা পরিষ্কার করা যায়। পরিষ্কারের পর পরিষ্কার জল দিয়ে মুছে নিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

তবে শক্ত ক্লিনার বা খসখসে ব্রাশ ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়, কারণ এতে ল্যামিনেটের ওপর আঁচড় পড়ে যেতে পারে এবং ফিনিশ নষ্ট হতে পারে। জেদি দাগ তুলতে চাইলে ভিনিগারের হালকা দ্রবণও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ল্যামিনেটকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তীব্র রোদে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে রঙ ও ফিনিশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতি ছয় মাস অন্তর ওয়াক্স বা পলিশ লাগালে ল্যামিনেটের ঔজ্জ্বল্য বজায় থাকে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি থেকেও এটি সুরক্ষিত থাকে।

সারসংক্ষেপ

ল্যামিনেট শিট কেনার সময় অবশ্যই প্রিমিয়াম মানের পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। সেঞ্চুরি ল্যামিনেটেস  তাদের প্রতিটি ল্যামিনেট সতর্কভাবে নির্বাচন ও প্রস্তুত করে, তাই গ্রাহকদের জন্য তারা সর্বোচ্চ মানের ল্যামিনেট শিট সরবরাহ করে। বাড়ি নির্মাণের উপকরণ ও ডিজাইন সম্পর্কে সামান্য ধারণা ও সচেতনতা থাকলেই আপনি নিজের ঘরকে আপনার পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী সুন্দরভাবে সাজাতে পারবেন।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *