ছবি-সানডে ম্যাগাজিন, হিন্দু

লকডাউনে ফ্যামিলি অ্যাংজাইটি,স্ট্রেস এড়াতে সাইকোলজিস্ট টিপস

ইয়াং জেন বাড়িতে ফ্রাস্ট্রেটেড,স্বামী স্ত্রীর মি টাইম আক্রান্ত,পেশাগত অনিশ্চয়তা,লকডাউনে দুশ্চিন্তা,স্ট্রেস কী করে দূরে রাখবেন?

আবার লকডাউন আর মৃত্যুমিছিলে,পরিচিত মানুষদের চলে যাওয়া,পরিবারের সবার সঙ্গে আবার গৃহবন্দী অবস্থায় আমাদের মনের মধ্যে স্বভাবতই নৈরাশ্য,হতাশা,ক্ষোভ দুঃখ আরো গভীরভাবে বাসা বাঁধে।এখন ঘরবন্দি বাড়িতে ছোটখাট ঝামেলা,অশান্তি বড় হয়ে উঠে পারস্পরিক সম্পর্কে অশান্তি আর জটিলতা বাড়িয়ে তুলছে।ইয়াং জেন বেরোতে পারছেনা বলে ফ্রাস্ট্রেটেড,স্বামী স্ত্রীর মি টাইম বলে কিছু থাকছে না,একে অন্যের প্রাইভেট স্পেসে ঢুকে পড়ছে,প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী/স্ত্রী পরের মাসে স্যালারি কমবে না সময়ে আসবে কিনা এই নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা,স্ট্রেস আমাদের অজান্তে ক্ষতি করছে আমাদের শরীরকে। আর তাই নিয়ে সামান্য কারণে বাড়ছে ঝগড়াঝাঁটি।এই বিশ্রী পরিবেশ কারোর কাম্য নয় সে কারণেই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিজেরদের মেন্টাল স্ট্রেস এড়ানোর বিশেষজ্ঞ সাইকোলজিস্ট টিপস –

১)রুটিন মেনে চলুন-অ্যাসোশিয়েট প্রফেসর অফ সাইকিয়াট্রি ডঃ এলাকা সুব্রামানিয়াম বলছেন এই সময়ে ফ্যামিলির সবার একটা রুটিন বা শিডিউল মেনে চলার,যাতে প্রত্যেকে একে অন্যের শিডিউল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন তাতে ব্যক্তিগত প্রেফারেন্সের দিকে নজর থাকে কিন্তু ব্রেকফাস্ট,লাঞ্চ আর ডিনার সময়মত করে নেওয়া জরুরি।এই শিডিউল বিগড়ে গেলে কিন্তু অশান্তি,ঝামেলা হতে পারে।

২)একে অন্যের কাজের প্রতি সহানুভূতিশীল -এই লকডাউনে বাড়িতে শুধু নিজের কাজ,কমফোর্ট নিয়ে অন্যের প্রতি উদাসীন থাকা নয়।সাইকোথেরাপিস্ট অংশুমা ক্ষেত্রপালের সাজেশন যেখানে সবাই একটা শেয়ার্ড স্পেস ভাগ করে নিচ্ছেন সেখানে যতটা সম্ভব একে অন্যের ইন্ডিভিজুয়াল স্পেসের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।যেমন দরজা নক করে মে আই কাম ইন বলা,কোনও ডিসিশন ডিক্টেট না করে এমন করলে কেমন হয় সবার সঙ্গে আলোচনা এমন। এর সুবিধে হল পরিবারের একজন যদি দেখে তার নিজস্ব স্পেস কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তাহলে স্বভাবত সেও পরিবারের বাকিদের স্পেস,প্রাধান্যকে গুরুত্ব দেবে।

৩)সীমিত করোনা টাইম -কাগজে,টিভিতে,সোশ্যাল মিডিয়াতে শুধু আপডেট আর যেটুকু জরুরি খবর সেটা ছাড়া করোনা নিয়ে কোনও হতাশা,নৈরাশ্যের আলোচনা একদম নয়,দিনরাত ফোনে আত্মীয়স্বজন,বন্ধুবান্ধবদের করোনা আলোচনায় আপনি উৎসাহী নন সেটা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিন।এখন ডাক্তার,বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন সেটাতেই কান দিন।অযথা আতঙ্ক ,হতাশার ফোনালাপ বন্ধ করা উচিত।

৪)বাচ্চাদের মন বুঝুন,শুধু শাসন নয়-যাদের স্বভাব হুটোপাটি,খেলাধুলো গত এক বছর ধরে বাড়িবন্দি জীবনে সবচেয়ে বিরক্ত বাচ্চারা।এর থেকে মুক্তি পেতে এদের একমাত্র আশ্রয় ফোন।এই ফোন টাইম রেগুলেট খুব সন্তর্পনে,খেয়াল রেখে করতে হবে।পুরো ছেড়ে দিলেও ক্ষতি আবার কড়া শাসনেও ক্ষতি,তাই একটা ডেলি ফোন টাইম নির্দিষ্ট করে এদের অন্য কিছুতে উৎসাহী করে তুলতে হবে।ওদের ছবি আঁকতে নির্দেশ না দিয়ে ওদের সঙ্গে আপনিও ছবি আঁকতে বসুন,ওদের পছন্দের টিভি শোর সময় ওদের সঙ্গে বসে দেখুন দেখবেন ওরাও আপনার কথা শুনছে কারণ বাচ্চারা শুনে কম, দেখে বেশি শেখে।আপনি ওদের ফোন টাইমে কড়াকড়ি করে নিজের ফোন টাইম সংযত না করলে কিন্তু অশান্তি বাড়বে।

৫)নিজেকে সৃষ্টিশীল রাখুন-এখন সারাক্ষণ কন্টেন্টের পেছনে না দৌড়ে নিজে ক্রিয়েটিভ কন্টেন্ট তৈরী করুন,ছবি আঁকুন,গান করুন,লেখালেখি করুন,কবিতা লিখুন,নতুন ভাষা শিখুন,গাছের যত্ন নিন এমন যা কিছু সৃষ্টিশীল এমন কাজে সময় দিন।

৬)সঠিক বন্ধু-এই সময়ে সহানুভূতিশীল,কাছের বন্ধু,আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান আর পরশ্রীকাতর,পরনিন্দা,হতাশা,দুশ্চিন্তা,দুঃখবিলাসকারী বন্ধুদের সোজা কোথায় এড়িয়ে যান আর পরিবারের সবাইকে এদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। আনহেলথি রিলেশনশিপ কাটানোর চেষ্টা করুন। 

৭)অন্যের কথার গুরুত্ব দিন– এটা হতে পারেনা সব বিষয়ে সব ডিসিশনে আপনার মতকেই প্রাধান্য পেতে হবে নইলে অশান্তি হবে।অন্যের মতামত সেটা আপনার বিরুদ্ধমত হলেও পরিবারের সকলের শান্তির জন্য যদি সেই মত মেনে চলতে হয় তাই করতে হবে তবে সেটা অন্যায় নয়।ধৈর্য্য ধরে শোনা প্র্যাকটিস করুন।বিশেষত বাড়ির বয়স্ক আর বাচ্চাদের বিহেভেরিয়াল আর ইমোশনাল মুড্ সুইঙের প্রতি সহানুভূতি নিয়ে নজর দিন।

৮)ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স -বাচ্চাদের সামনে কুৎসিত চিৎকার আর ঝগড়াঝাঁটি কখনই নয়।এতে ওদের মেন্টাল স্ট্রেস ভয়ঙ্কর বেড়ে যায়।ছোটোখাটো ঝামেলা,অশান্তি সব বাড়িতেই অল্প স্বল্প হয় কিন্তু অশান্তিকে কে একদম বাড়তে দেওয়া যাবে না।এতে প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।

৯) ইন্ডোর গেম্স্– অনলাইনে পাবজি বাবাজি নয়া অবতারে ফিরতে চলেছেন অনেক নতুন রেস্ট্রিকশন নিয়ে।তাও অনলাইনে না থেকে নিজেরা অফলাইনে ইন্ডোর গেম্স্ খেলতে পারেন সেটা খুব ভালো স্ট্রেস বাস্টারের কাজ করবে।লুডো,তাস,উনো,চেস,ক্যারম,মনোপলি,স্ক্র্যাবল,মেমরি গেম্স্ এমন খেলা যেখানে পরিবারের সবাই মিলে খেলা যায়।

১০) স্নেহ,ভালোবাসার প্রকাশ – এই সময়ে ছেলে মেয়েদের অকারণ আদর ওদের মন ভাল রাখবে।স্নেহ,ভালোবাসার প্রকাশে একটা সদর্থক,খুশির অনুভূতি মন প্রাণ কোমল,তাজা রাখে।         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *