ছবি-পিক্সবে

বর্ণে গন্ধে সত্যিই হৃদয়ে দোলা ?

রিসার্চে প্রমাণিত সুগন্ধ আমাদের উদ্বেগ,দুশ্চিন্তা,হতাশামুক্ত করে মনকে প্রফুল্ল রাখে।

এই দুঃসহ অতিমারিতে যখনই আপনার মন উদ্বেগ,আশঙ্কা,দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন তখন সুগন্ধি পারফিউমের নিযার্স আপনার সব হতাশা দূর করে দিতে পারে?আজ্ঞে হ্যাঁ,এর প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে।

এই প্যানডেমিকে শুধু আমাদের শরীরের প্রতি সাবধানতা,যত্ন নয় মনকে তাজা এবং প্রসন্ন রাখাও একটা বেশ বড় চ্যালেঞ্জ এবং আক্রান্ত হলে এর প্রভাব শরীরের ওপর বেশি করে পড়ে এটাও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।করোনা হলে স্বাদ গন্ধ চলে যায় এটা জানা কিন্তু অনেকেরই অজানা যে সুগন্ধর সঙ্গে আমাদের ভালো থাকার সম্পর্ক বেশ প্রাচীন। রিসার্চে  প্রমাণিত আমাদের ব্রেনের টেম্পোরাল লোবে লিম্বিক সিস্টেম বলে একটি বস্তু আছে আর তার মধ্যে আছে অলফ্যাক্টরি কর্টেক্স যা আমাদের সমস্ত গন্ধ সংক্রান্ত বিষয়কে অর্থাৎ সেন্সরি ইনপুটসকে প্রসেস করে যা আমাদের আবেগ,অনুভূতি,স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে।

ফেলুদার বাক্স রহস্য মনে পড়ে?ফেলুদা মিস্টার পাকড়াশীকে সন্দেহ বা খটকার কারণ হিসেবে তোপসেকে বলেছিল,’একটা গন্ধ, যেটা আমি আর এক জায়গায় ও পেয়েছি,সেখানে কি করে গেল?’আসলে দীননাথ লাহিড়ীর চাইনিজ বাক্সের ভেতরে অনেকদিন থাকা ম্যানুস্ক্রিপ্টেও ওই গন্ধ মিস্টার পাকড়াশীর বাড়িতে পেয়েছিল।

উইজডম ফ্র্যাগ্র্যান্সের শীতল দেশাই ব্যাখ্যা করে বলেছেন গন্ধ সাইকোলজিকাল এবং ফিজিওলজিক্যাল  রেসপন্স তৈরী করে।অ্যারোমার  সাইকোলজিকাল বিশেষত্ব নিয়ে এক ধরণের চর্চা আছে যাকে অ্যারোমাকলোজি বলা হয় যেখানে দেখা গেছে গন্ধের সাইকোলজিকাল এফেক্ট।এটা কিন্তু মোটেই অ্যারোমাথেরাপি নয়।অ্যারোমাকলোজি লক্ষ্য করে বিভিন্ন গন্ধে আমাদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া।এই সেন্ট মেমোরি আমাদের কোনও বিশেষ মানুষের,অকেশনের অথবা মুডের কথা মনে করায়।যেমন বাবার শরীরের গন্ধের সঙ্গে একটা সিকিউরিটির আশ্বাস।বাড়িতে বানানো ফ্রেশ কুকিজের সঙ্গে একটা মনকাড়া ভাল লাগা,মায়ের শাড়ির গন্ধের সঙ্গে শান্তি,কেয়ারের সম্পর্ক।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যরা তাদের প্রিয়তমার সুরভিত সেন্টেড রুমাল দীর্ঘদিন রেখে দিতেন ঐ যুদ্ধক্ষেত্রে তার সান্নিধ্যের ছোঁয়ার স্মৃতি।

এই সেন্টের আশ্চর্য চরিত্র মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু কিছু গন্ধের একটা সর্বাঙ্গীন সার্বজনীন প্রতিক্রিয়া আছে যেমন সাইট্রাস বেসড সেন্টের সঙ্গে ফ্রেশনেসের একটা সম্পর্ক আছে।লিরিলের বিজ্ঞাপন মনে আছে তো?এক্ষেত্রে খাবার গন্ধের সঙ্গে একটা সার্বজনীন ভালোবাসার সম্পর্ক আছে।রোববারের দুপুরের পাঁঠার মাংস রান্নার গন্ধ,ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধে আমাদের মন প্রাণ ব্যাকুল হয়না,হয়নি,বৃষ্টির পর মাটি ভেজা সোঁদা গন্ধ,বিকেলে ছাতিম ফুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা হয়নি একথা অস্বীকার করবেন কি করে?’আরও কাছাকাছি,আরও কাছে এলে’ প্রিয়জনের সিগনেচার পারফিউমে আমাদের মনে উষ্ণতা জাগায় না?

তাই হতাশা,উদ্বেগ,দুশ্চিন্তা মনের কোণে এলেই সুরভিত গন্ধের সুবাসে মন মেজাজ তরতাজা করে নিতে দেরি করবেন না।হাতের কাছেই রাখুন নিজের পছন্দের পারফিউম আর ভাল মন্দ রান্নার সময় উঁকি দিন কিচেনে।    

শচীনকর্তার সেই অমর গান লেখার সময়ে স্ত্রী মীরা দেব বর্মন কি ভেবেছিলেন এই গানের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা যা সত্যি বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হৃদয়ে দোলা দেয় ?                           

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *