প্যানিক না করে এই কোভিড ব্রেকিং নিউজ পড়তেই হবে

অ্যাপোলো হসপিটালসের রেস্পিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডঃ সুশীল আগরওয়ালের (MBBS,MD,CCT,MRCP) এক্সপার্ট ওপিনিয়ন।

এখনকার ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত সময়ে অগণিত সাধারণ পাঠকের নানা সংশয় আর উদ্বেগ নিয়ে পূর্ব ভারতের একমাত্র আন্তর্জাতিক JCI স্বীকৃতিপ্রাপ্ত Apollo Multispeciality Hospitals অ্যাপলো মাল্টিস্পেশালিটি হস্পিটালসের Pulmonology & Respiratory Medicine Specialist পালমনোলোজি আর রেসপিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট Dr Sushil Agarwal ডক্টর সুশীল আগরওয়ালের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার-

Omicron ওমিক্রন যেমন ভয়ঙ্কর তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু Delta ডেল্টার তুলনায় খুব দুর্বল বলে অনেকের মধ্যে একটা কিচ্ছু হবেনা,পাত্তা দেবনা মনোভাব নিয়ে কি বলবেন?

এই কেয়ারলেস ভাবনা ছেড়ে প্রচন্ড সতর্ক আর সাবধান  থাকা উচিত কারণ মনে রাখতে হবে এটা সাধারণ জ্বর নয় কোভিড ১৯ ইনফেকশন।যদিও সাউথ আফ্রিকার স্পেশালিস্টরা ডেল্টার তুলনায় এর তীব্রতা কম বলেছেন কিন্তু এতে সংক্রমিত হলে কিছু হবে না এ ধারণা ঠিক নয় কারণ ওমিক্রন আক্রান্তের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।এটাও মনে রাখতে হবে এখন যারা কোভিড আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অনেকেরই একটা অথবা দুটো ডোজ ভ্যাকসিন নেওয়া আছে তাই অনেক ক্ষেত্রেই এর তীব্রতা কম হচ্ছে।

যারা একবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আবার ওমিক্রন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ?

-না এখনও পর্যন্ত এমন কোনো স্টাডি বা রিসার্চ রিপোর্টে কোনও তথ্য নেই কিন্তু মাস্ক না পরলে আর বেশি বাইরে ভিড়ে নিয়মিত ঘুরলে আক্রান্ত হচ্ছে এটা প্রমাণিত।

Isolation Period আইসোলেশন পিরিয়ড নিয়ে রোজ নতুন নির্দেশিকা আসছে আর বিদেশেও এক এক দেশে এক একরকম,আমেরিকায় এখন ৫ দিন আইসোলেশন থাকার পর টেস্ট করে নেগেটিভ হলে মাস্ক,গ্লাভস পরে বেরোতে বলছে আবার ব্রিটেনে ১০ দিনের আইসোলেশন।এ বিষয়ে আপনার মতামত

যদিও ICMR এখন ৭ দিনের আইসোলেশন পিরিওড গাইডলাইন দিয়েছে কিন্তু যে ভাবে এতো সংক্রমণ হচ্ছে আমি CDC র ১০ দিনের আইসোলেশন গাইডলাইন মেনে চলার পক্ষপাতী তার কারণ আগের কেস হিস্ট্রিতে লক্ষ্য করেছি অনেক রুগী ৭ দিনের মাথায় গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন  তাই ৫/৭ দিনের ব্ল্যাঙ্কেট রুলে অনেক কিন্তু,যদির অবকাশ আছে।

কোভিড আক্রান্তদের বাড়ি কতদিন বাদে যাওয়া নিরাপদ?অনেকেই এ নিয়ে সন্দিহান কারণ সামাজিক স্তরে এই আসা যাওয়া নিয়ে স্পর্শকাতরতা আছে এবং সামাজিকতায়, সম্পর্কে এর থেকে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে যায়

-একজন ডাক্তার হিসেবে আর যে হারে বিশাল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে মনে করি এখন যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত কারণ সামাজিক মেলামেশায় সর্বস্তরে মেলামেশায় বিধিনিষেধ Covid 19 Social Distancing Protocol আছে,অত্যন্ত প্রয়োজনীয় না হলে এখন একদম বেরোনো উচিত নয় বিশেষত শিশু আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিন্তু অন্যদিকে যেখানে ১০ দিন পরে আক্রান্ত নিজেই সুস্থ হয়ে বেরোতে পারেন সেখানে তার বাড়িতে যেতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয় কিন্তু এড়াতে পারা শ্রেয়।

একজন Respiratory Medicine Specialist রেস্পিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট হিসেবে আপনি কোনও Preventive Medicine প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বা আক্রান্ত হওয়ার পরে লাংস ভালো রাখতে কোনও পরামর্শ দিতে পারেন?

-এখনও অবধি লাংস ভালো রাখার কোনও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন আবিষ্কার হয়নি তাই আমি দৃঢ় ভাবে ডাবল ভ্যাক্সিনেশন রেকমেন্ড করবো এবং তার পরে এলিজিবল হলে বুস্টার ডোজ।আক্রান্তদের জন্য Delta Variant ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আর Omicron Variant ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করতে হবে কারণ কিছু ট্রিটমেন্ট আছে যা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী কিন্তু ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে কম, এছাড়া যাকে emerging medicine এমার্জিং মেডিসিন বলে তাও আবিষ্কৃত হচ্ছে।এছাড়া সম্প্রতি ফ্রান্সে নতুন মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব হয়েছে সেটা ভাইরাসের ক্যারেক্টারাইটিসের চেঞ্জ হয়ে কি হবে তা এখনই বলা মুস্কিল তাই স্পেসিফিক মেডিসিন এই মুহূর্তে তেমন কিছু নেই।সামাজিক দূরত্ব,কঠোর ভাবে কাপড় নয় N95 মাস্ক পরা,বাইরে থেকে এসে হাত মুখ ধোওয়া এগুলো কঠোরভাবে মানতেই হবে।আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যাদের মাইল্ড অথবা মডারেট সিম্পটম তারা সিম্পল Paracetamol প্যারাসিটামল আর ডাক্তারের প্রেসক্রাইবড গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা করাবেন,যারা মডারেট থেকে সিভিয়ার তারা নিজেদের ডাক্তারের নির্দেশ মত রেমসিডিভির,টসিলিজুমাব,মনোক্লোনাল ট্রিটমেন্ট করাবেন আর চারদিকের খবরে আতঙ্কিত হবেন না,প্যানিক করবেন না।         

 বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উত্তরে AstraZeneca অ্যাসট্রজেনকার অন্যতম আবিস্কারক ডক্টর এ্যান্ড্র পোলার্ড বলেছেন প্রথমে একটা তারপর দুটো তারপর বুস্টার এভাবে সারা বিশ্বের জনগণকে প্রতি ৬ মাস অন্তর  ভ্যাকসিন দিয়েই যাওয়া দীর্ঘদিনের পক্ষে কোনও দেশ বা জনগণের পক্ষে  সহনীয় আর সাশ্রয়ী নয়।আপনার অভিমত-

একমাত্র সময়ই এর উত্তর দিতে পারে কারণ ভাইরাস তার ক্যারেক্টারাইটিস চেঞ্জ করে যাচ্ছে আর তার সঙ্গে ট্রিটমেন্টের,ওষুধের গতিপথও।আমরা গত দু বছরে লক্ষ্য করেছি সময়মত ফার্স্ট এবং সেকন্ড ডোজের ভ্যাক্সিনেশনের জন্য এর প্রাণঘাতী মৃত্যুহার অনেকটাই আয়ত্বের মধ্যে আনা গেছে কারণ এক বছর দু বছর আগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার এখনকার তুলনায় বহুলাংশে বেশি ছিল।কিন্তু এটা এখন সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারবেনা যে ডাবল ভ্যাকসিনেশন আর তারপর সময় হলে বুস্টার ডোজের পর আর কোনও ওষুধের প্রয়োজন হবে না কারণ ভাইরাস তার চরিত্র বদলেই যাচ্ছে।আমি ডক্টর পোলার্ডের সঙ্গে একমত যে কোনও দেশ আর বিশাল সংখ্যক মানুষের পক্ষে প্রতি ৬ মাস অন্তর ভ্যাক্সিনেশনের আর্থিক দায়ভার সহনীয় নয় কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের আগামীদিনের গতিবিধির ওপর নজর রাখা আর কঠোরভাবে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা ছাড়া কোনও উপায় নেই।           

 Dr Sushil Agarwal. Pulmonology & Respiratory Medicine Specialist (MD,CCT,MRCP,FRCP)Consultancy: Apollo Multispeciality Hospitals.58 Canal Circular Road.Kolkata.Ph:4420 2122

   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *