দ্য লাস্ট সাপার নাটক

মাত্র এক বছর আগে সৃষ্টি হয় দেবান্তরা আর্টসের । দেবাশিস আর অন্তরা চ্যাটার্জি।উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যশালী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা নাট্যমোদী দম্পতি। অন্তরার প্রয়াত পিতা প্রখ্যাত তবলিয়া ও বাচিক শিল্পী শ্রী অমিয় মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্ট ‘কাব্যকলা মনন’ আর দেবান্তরা আর্টস এর নিবেদন ‘দ্য লাস্ট সাপার’ নাটক।

এক বছর আগে শুরু হয়েছিল খলেইদ হোসেইনির বিখ্যাত ‘দ্য কাইট রানার’ নাটক দিয়ে। অকালে সদ্য প্রয়াত বিস্ময়কর প্রতিভাশালী নাট্যমহলে বিশাল জনপ্রিয়  নির্দেশক ও অভিনেতা প্রসেনজিৎ বর্ধন এবং সুমিত রায় ও দারুণ সুনিপুণ  দলের অভিনীত ‘কাইট রানার’ আবির্ভাবেই জিতে নেয় বাংলার নাট্যমোদীর হৃদয়, পত্র পত্রিকায় প্রশংসার ভিড়।

বিনামেঘে বজ্রপাতের মত এল করোনাকাল আর এই এত সৃষ্টিধর্মী প্রচেষ্টার শুরুতেই প্রবল আঘাত।শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত সকলেই এই নিদারুণ অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও বিদ্ধস্ত।

এর মধ্যে সবে যখন সব ধীরে ধীরে নিউ নর্মাল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাওয়া শুরু করেছে তখন এনারা মঞ্চে নিয়ে এলেন একটি ইংরেজি নাটক, ‘দ্য লাস্ট সাপার’ যা সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল ২৭ শে নভেম্বরে সল্ট লেকের ন্যাশানাল মাইম  ইনস্টিটিউটে।  

বিখ্যাত ঔপন্যাসিক,লেখক রোয়াল্ড ডালের সাসপেন্স রহস্য কাহিনী ‘ল্যাম্ব ফর স্লটার’ এর সুচারু সুন্দর নাট্যরূপ অন্তরা চ্যাটার্জির। নির্দেশনায় –সুমিত- প্রসেনজিৎ।

কাহিনির শুরুতে দেখা যায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা,যার স্বামী পুলিশের ইন্টেলিজেন্স বিভাগে কর্মরত তার প্রতীক্ষায় সেদিন বাইরে না গিয়ে বাড়িতে ডিনার করবে বলে কাছের সুপার মার্কেট থেকে একটা বড় ল্যাম্বের পিস আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এনে বাড়িতে আবিষ্কার করে তার স্বামী মৃত।খুন হয়েছেন,মাথার পেছনে ভারি আঘাত। এই ভয়ঙ্কর অভিঘাতে শোকে আকুল হয়ে সে তার স্বামীর ইন্টেলিজেন্স পুলিশ  কলিগদের ডাকে।শুরু হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়।

একবার ফ্ল্যাশব্যাক আর ফিরে আসা ফাস্ট ফরোয়ার্ড রিওয়াইন্ডের অসামান্য সুনিপুণ মাইমের মাধ্যমে এই রহস্যের জট খুলতে থাকে আর শেষে অপেক্ষা করে আর আশ্চর্য ক্লাইম্যাক্সের মোচড়।

বিদেশী গল্পর ইংরেজি নাট্যরূপ দেওয়া বেশ কঠিন আর সেটা এই করোনাকালে মঞ্চস্থ করা আরও কঠিন। বজ্রপাতের ওপর সম্প্রতি প্রসেনজিৎ বর্ধনের আকস্মিক চলে যাওয়ার আঘাত ও সুতীব্র বেদনা নিয়ে এই নাটক মঞ্চস্থ করা অভিনয় করার জন্য ওদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন জানাতে হয়।

মৃত প্যাট্রিকের চরিত্রে সুমিতের অভিনয় তার অপূর্ব দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।স্ত্রী মেরির চরিত্রে হুসনে শবনম চরিত্রের আতঙ্ক,দুঃখ,দ্বিধা দোলাচলের নানা স্তরে ও ভঙ্গিমায় দর্শকদের মন কেড়ে নেন।জ্যাকের ভূমিকায় ভাস্কর মুখার্জি,ডাক্তারের ভূমিকায় দীপ্তজিৎ রায়চৌধুরী,ফটোগ্রাফার পল্লব মিশ্রর সহজ, সাবলীল,স্বাভাবিক অভিনয় জিতে নেয় দর্শকদের মন।নাটকের অভিমুখ অন্তরা চ্যাটার্জির অভিনয় চিত্তাকর্ষক।

সেনোগ্রাফিকার সুচারু সেট ডিজাইন,প্রচারে সৌম্য ভট্টাচার্য,অনুষঙ্গে কৃষ্ণেন্দু মাইতি ও ভাস্কর মুখার্জির পোস্টার ডিজাইন যথাযথ ও নজরকাড়া।এই উপস্থাপনার অন্ত্রেপ্রেনিওর দেবাশিস চ্যাটার্জি।  

অকালে আকস্মিক চলে যাওয়া নির্দেশক,আভিনেতা প্রসেনজিৎ বর্ধন আত্মিকভাবে ওদের সঙ্গে পরবর্তী সব উপস্থাপনায় থাকবেন,সারাজীবন।  

‘কাইট রানার’, ‘দ্য লাস্ট সাপার’ আমন্ত্রিত অনুষ্ঠানের জন্য যোগাযোগঃ শ্রীদেবাশিস চ্যাটার্জি -9830192139 .

  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *