এই সময়ে ডায়েটে তেতো আছে তো ?

চিকেন পক্সে,আ্যলার্জি প্রতিরোধে, ব্রণ,ব্লাড সুগার রুখতে,চোখ ভাল রাখতে,পেটের রোগে…..

বাঙালির সাবেক ব্যঞ্জনে তেতো খাওয়ার প্রথা সুপ্রাচীন।কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী খুল্লনার রান্নার বিবরণে লিখেছেন শুক্তো রান্নার পদ্ধতি— ‘বেগুন কুমড়া কড়া, কাঁচকলা দিয়া শাড়া/ বেশন পিটালী ঘন কাঠি।/ ঘৃতে সন্তলিল তথি, হিঙ্গু জীরা দিয়া মেথী/ শুক্তা রন্ধন পরিপাটী।‘ এই তেতোর মধ্যে নিম, উচ্ছে বা করলারই দাপট সবচেয়ে বেশি। এই বসন্তকালে চিকেন পক্স ও অন্যান্য অসুখের প্রাদুর্ভাবে ডায়েটে তেতো থাকা খুব জরুরী।

নিমপাতা

চিকেন পক্সে :প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে চিকেন পক্সকে ‘লঘু মাসুরিকা’বলা হত আর এর প্রতিরোধ আর শুশ্রূষায় নিমপাতা খাওয়া,নিমপাতার বেছানো শয্যা,নিমের পাতাগুচ্ছ সহ ডাল দিয়ে শরীরে বোলানো এমন অনেক নিরাময়ের কথা বলা আছে।

আ্যলার্জি প্রতিরোধ :নিমপাতার রস,নিম বেগুন,নিমপাতা সেদ্ধ করে সেই জলে স্নান করলে আ্যলার্জি প্রতিরোধ করে।

কৃমি :বাচ্চাদের পেটে কৃমি নির্মূল করতে নিমপাতার জুড়ি নেই।

ব্রণ:ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগালে নির্মূল হবে।

ব্লাড সুগার :ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিম খুব উপকারী।নিমের পাতা সুগার লেভেল কমানো আর রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন উন্নত করে। সকালে খালি পেটে ৫টি গোলমরিচ ও ১০টি নিম পাতা বেটে খেলে তা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

উচ্ছে,করলা 

প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ১৭ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৩.৭০ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, ফাইবার ২.৮০ গ্রাম, ফোলেট ৭২ মাইক্রো গ্রাম, নিয়াসিন ০.৪০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৪৭১ আইইউ, ভিটামিন সি ৮৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৯৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে:করলায়  ক্যারোটিন বলে এক ধরণের উপকারী উপাদান থাকে যা রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ফলে রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ব্লাড পিউরিফায়ার :শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকার জন্য রক্ত পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি।করলার রোষে ব্লাড পিউরিফাইং এলিমেন্টস থাকায় করলার রস খেলে রক্ত পরিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।

পেটের বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধে : করলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি নানাবিধ স্টমাক ডিজঅর্ডারের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর ফাইবার শরীরে প্রবেশ করা মাত্র গ্যাস্ট্রিক জুসের ক্ষরণ বেড়ে যায় যার ফলে একাধিক পেটের রোগের লক্ষণ কমতে শুরু করে।            

চোখ ভাল রাখতে: করলার রসে থাকে প্রচুর পরিমানে বিটা-ক্যারোটিন, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই চোখ ভালো রাখতে তারা নিয়মিত করলা খাওয়ার পাশাপাশি করলার রস উপকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *