শরৎচন্দ্রে উত্তমকুমার -

শরৎচন্দ্রে উত্তমকুমার

শরৎসাহিত্যে নিয়ে বাংলা সিনেমার চরিত্রগুলোতে উত্তমকুমার এক অনন্য অভিনেতা।

কমলেন্দু সরকার

বাঙালির সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর ১৫০ এবং বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তমকুমারের ১০০। শরৎসাহিত্যে নিয়ে বাংলা সিনেমার চরিত্রগুলোতে উত্তমকুমার এক অনন্য অভিনেতা। আমরা অর্থাৎ দর্শককুল দেখে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি  পুরুষচরিত্রগুলিতে উত্তমকুমারের নির্বাচন একেবারেই ঠিক। মনে হয়, লেখক যেন উত্তমকুমারের জন্যই তাঁর কাহিনির পুরুষ চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেছিলেন। অবশ্যই উত্তমকুমার শরৎসাহিত্যের যেসব কাহিনি নিয়ে ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন।

আমরা দেখি, উত্তমকুমার কখনও জমিদার পরিবারের শিক্ষিত, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন যুবক; কখনও ভবঘুরে, জীবনদ্রষ্টা শ্রীকান্ত; কখনও দ্বিধাগ্রস্ত অথচ নীতিনিষ্ঠ মহিম; আবার কখনও একেবারে মাটির কাছাকাছি থাকা এক মানুষ— শরৎচন্দ্রের পুরুষ চরিত্রগুলির মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত উত্তমকুমারের অভিনয়ের নানান। সঙ্গে সঙ্গে বলতেই হয়, শরৎসাহিত্য তখনও বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভাণ্ডার, এখনও তাই। নির্বাক থেকে সবাক, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে লেখকের গল্প-উপন্যাস নিয়ে অসংখ্য ছবি হয়েছে। কোনও কোনও কাহিনি একাধিকবার পর্দায় ফিরে এসেছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘দেবদাস’ হল তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ‘দেবদাস’ নিয়ে একাধিক ভারতীয় ভাষায় সিনেমা হয়েছে। অথচ ‘দেবদাস’ নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিজের মনেই আশঙ্কা ছিল, এ লেখা নেবে না পাঠক! ১৬ বছর দেরাজ-বন্দি হয়েছিল ‘দেবদাস’। একদিন দেরাজ খুলে ধুলোমাখা পাণ্ডুলিপিটি ঝেড়েঝুড়ে প্রকাশকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন লেখক! বই হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার প্রায় সঙ্গেসঙ্গেই পাঠক সমাদৃত হয়। জানা যায়,  উপন্যাসটি ১৯০১ সালে রচিত হলেও দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৯১৭ সালের ৩০ জুন এটি প্রথম বই হিসেবে প্রকাশিত হয়।

১৯১৭-র ঠিক ১১ বছর পর ১৯২৮ সালে প্রথম চলচ্চিত্রায়িত হয়েছিল। করেছিলেন পরিচালক-অভিনেতা নরেশচন্দ্র মিত্র। ক্যামেরা করেছিলেন নীতিন বসু। কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্বাক যুগের ‘দেবদাস’-এর কোনও কিছুই আজ অমিল। তবে তৎকালীন সংবাদপত্রে প্রভূত প্রশংসা আদায় করেছিল পরিচালক নরেশচন্দ্র মিত্র পরিচালিত-অভিনীত ‘দেবদাস’। ঠিক এর ১৮ বছর পর ১৯৩৫-এ আবার বাংলা সিনেমায় দেখা গেল ‘দেবদাস’। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের কিংবদন্তি প্রযোজক ‘নিউ থিয়েটার্স-এর ব্যানারে তৈরি হয়েছিল ‘দেবদাস’। সিনেমা তখন টকি অর্থাৎ সবাক। পরিচালক এবং দেবদাস ছিলেন প্রমথেশ বড়ুয়া। ছিলেন যমুনা বড়ুয়া, চন্দ্রাবতী দেবী, অন্ধ গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে, অমর মল্লিক, পাহাড়ি সান্যাল প্রমুখ। হিন্দি ‘দেবদাস’ হয়েছিল নিউ থিয়েটার্স-এর ব্যানারে পরের বছরই ১৯৩৬-এ। তবে এবার প্রমথেশ বড়ুয়া নন, দেবদাস ছিলেন কুন্দনলাল সায়গল।

এর ৪৩ বছর পর ১৯৭৯-তে উত্তমকুমারকে দেখি ‘দেবদাস’-এ। না, উনি দেবদাস চরিত্রে নন, করেছিলেন চুনিলাল। দেবদাস ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন সুপ্রিয়া,  সুমিত্রা। পরিচালক দিলীপ রায়।

পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৮০-তে পরিচালক দিলীপ রায় শরৎকাহিনি ‘দর্পচূর্ণ’ নিয়ে ছবি করেছিলেন। এই ছবিতেও দেখা গিয়েছিল অভিনেতা হিসেবে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। উত্তমকুমার ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র নরেন-এর ভূমিকায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয় সমালোচক এবং দর্শকধন্য হয়েছিল।

শরৎ-কাহিনি নিয়ে উত্তমকুমার অভিনীত প্রথম ছবি ছিল ‘বড়দিদি’। সেইসময় উত্তমকুমার অভিনয় করছেন সন্ধ্যারানির বিপরীতে। যত সহজে বলা যায়, তত সহজ কিন্তু ছিল না ব্যাপারটা। তার কারণ, ইতিমধ্যেই উত্তমকুমার ৪৮টি ছবির নায়ক হয়ে গেছেন। উত্তম-সুচিত্রা জুটি দর্শকের নয়নের মণি। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ১৪টি ছবি হয়ে গেছে। দু’একটি ছাড়া প্রতিটি হিট। আর উত্তমকুমার মানেই বক্স-অফিস সাফল্য। সেইসময় উত্তমকুমার নন-রোম্যান্টিক চরিত্র করতে রাজি হলেন পরিচালক অজয় কর-এর কথায়। ছবির বক্স-অফিস সাফল্য তেমন ছিল না। কিন্তু তাঁর লুক এবং অভিনয় প্রভূত প্রশংসিত হয়। ষাটের দশকে প্রায় গোড়াতেই ‘বড়দিদি’ কাহিনিটি নিয়ে দক্ষিণে হয়েছিল ‘বাতাসারি’। উত্তমকুমার অভিনীত সুরেন চরিত্রটি করেছিলেন তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেতা নাগেশ্বর রাও। শোনা যায়, তিনি কলকাতা থেকে ‘বড়দিদি’র প্রিন্ট নিয়ে গিয়ে দেখেন। এবং মুগ্ধ হয়েছিলেন উত্তমকুমারের অভিনয়ে।

১৯৫৭-এর গোড়াতেই অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি পরিচালক অজয় করের ‘বড়দিদি’ বক্স-অফিস সাফল্য না-পেলেও, ব্লকবাস্টার হিট প্রায় বছরের শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত (১৫ নভেম্বর, ১৯৫৭) ছবি পরিচালক কার্তিক চট্টোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’। সেইসময় রোম্যান্টিক জুটি বলতেই ছিল উত্তম-সুচিত্রা। কিন্তু ‘চন্দ্রনাথ’ মোটেও সেই অর্থে প্রেমের ছবি ছিল না। পূর্বেই বলেছ, অদ্ভুতভাবে ছবিটি ব্যাপক বক্স-অফিস  আনুকূল্য লাভ করে দর্শকের।

তবে কথা অন্য জায়গায়। সেইসময় ‘মেট্রো’ সিনেমা মানেই ছিল বিদেশি ছবি। সেই মেট্রো সিনেমায় ‘চন্দ্রনাথ’ রিলিজ করে। এবং আশাতীত সাফল্য পায় ছবি। শোনা যায়, মেট্রো কর্তৃপক্ষ মাত্র দু’সপ্তাহের জন্য ‘চন্দ্রনাথ’ রিলিজ করিয়েছিলেন প্রেক্ষাগৃহে। দর্শকের সাড়ায় ‘চন্দ্রনাথ’ নাকি রজতজয়ন্তী সপ্তাহ পালন করেছিল মেট্রো প্রেক্ষাগৃহে! টিকিট ঘরের লাইন নাকি পৌঁছে যেত ‘এলিট’ সিনেমা হল-এ !

‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ ছবিতে উত্তমকুমার ছিলেন শ্রীকান্ত। বাংলা সিনেমার নির্বাক যুগে প্রথম শ্রীকান্ত-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতা কান্তিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাক যুগের প্রথম শ্রীকান্ত উত্তমকুমার। শ্রীকান্ত ছিল লেখকের দ্বিতীয় সত্তা ।শ্রীকান্ত ছিল ভবঘুরে যুবক। ১৯৫৮-এর ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ সম্ভবত শরৎচন্দ্র-উত্তমকুমার সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।কারণ এখানে উত্তমকুমারকে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘নায়ক’ ইমেজের বাইরে গিয়ে অভিনয় করতে হয় এমন একটি চরিত্রে, যার সবচেয়ে বড় পরিচয়- সে বাঁধনহীন।

শ্রীকান্ত কোনও প্রচলিত নায়ক নয়। সে পর্যবেক্ষক। সে পথিক। সে মানুষের জীবনের ভিতর দিয়ে হাঁটে, দেখে, অনুভব করে, কিন্তু সবসময় নিজেকে সেই জীবনের কেন্দ্রে স্থাপন করে না।

শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত তাই বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য পুরুষ চরিত্র। আর উত্তমকুমারের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল-তিনি শ্রীকান্তকে ‘হিরো’ বানাননি।

কানন দেবীর প্রযোজনায় হরিদাস ভট্টাচার্যের পরিচালনায় ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ মুক্তি পায় ১৯৫৮ সালে। সুচিত্রা সেন অভিনয় করেন রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় এবং উত্তমকুমার শ্রীকান্ত।

এই ছবিতে উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়ে শরীরী ভাষা এবং সংলাপ উচ্চারণে বদল আনেন। তাঁর মধ্যে পাওয়া যায় রোম্যান্টিক নায়কের পরিবর্তে এক ধরনের পথিকের উদাসীনতা। এবং এটাই ছিল উত্তমকুমারের কাছে শরৎচন্দ্রকে পর্দায় ধরার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত মিনার, বিজলী ও ছবিঘরে মুক্তি  পায় ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮। শোনা যায়, ছবিটি দীর্ঘদিন হাউসফুল দিয়েছে বক্স-অফিসে। এবং টানা বেশ কয়েক সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে দাপটের সঙ্গে চলে।

এরপর ন’বছর পর ১৯৬৭-তে শরৎ-কাহিনি নিয়ে উত্তমকুমারের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল ‘গৃহদাহ’। উত্তম-সুচিত্রা-সাবিত্রী ছিলেন। ছিলেন প্রদীপকুমারও। এ-প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতেই হয়। সেখানে প্রকাশিত হয় মানুষ উত্তমকুমারের মহত্ত্ব। ১৯৪৮-৪৯-এর কোনও একটা সময়। উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়জীবনের দ্বিতীয় ছবি, নায়ক হিসেবে প্রথম ছবি। বিপরীতে নায়িকা ছবি রায়। উত্তমকুমার শুনলেন, পাশের ফ্লোরেই শুটিং করছেন। প্রদীপকুমার  তখন নামী নায়ক। নাটক করার সুবাদে প্রদীপকুমারকে চিনতেন। তিনি পরিচিত ছিলেন শীতলদা নামে। ছবি রায়কে বলে উত্তমকুমার পাশের ফ্লোরে দেখা করতে গেলেন প্রদীপকুমারের সঙ্গে। উত্তমকুমার বললেন, “শীতলদা কেমন আছেন?” প্রদীপকুমার ভ্রু কুঁচকে বললেন, “তোমাকে ঠিক চিনতে পারলাম না!” লজ্জিত উত্তমকুমার চলে এলেন। এসে ঘটনাটি বললেন, ছবি রায়কে। ছবি রায় সান্ত্বনা দিয়ে, “ওসবে কিছু মনে করতে নেই। মানুষ বড় হয়ে গেলে ওরকম হয়ে যায়।” সেদিন ছবি রায়ের কথায় উত্তমকুমার সব ভুলে গিয়েছিলেন, কিছুই মনে রাখেননি। নইলে ১৮ বছর পর তাঁর প্রযোজিত ছবি ‘গৃহদাহ’ ছবিতে প্রদীপকুমারকে অভিনয়ের জন্য নেন!

‘গৃহদাহ’ ছিল উত্তমকুমারের কাছে সবচেয়ে কঠিন শরৎ-কাহিনি। যদি উত্তমকুমারের শরৎ-কাহিনি নিয়ে অভিনয়ের মধ্যে একটি ছবি বেছে নিতে হয়, তাহলে বলা যেতে পারে, ‘গৃহদাহ’ সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। ১৯৬৭ সালে সুবোধ মিত্র পরিচালিত এই ছবিতে উত্তমকুমার মহিম, সুচিত্রা সেন অচলা এবং প্রদীপকুমার সুরেশ-এর চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘গৃহদাহ’ মুক্তি পেয়েছিল ৫ মে ১৯৬৭। বক্স-অফিস সাফল্য ছিল প্রভূত। সম্ভবত টানা ১৩ সপ্তাহ চলেছিল রূপবাণী, অরুণা, ভারতী প্রেক্ষাগৃহে।

সমালোচক এবং দর্শকদের মতে উত্তমকুমারের অভিনয়জীবনে সেরা অভিনয়ের একটি ‘গৃহদাহ’-এর মহিম।

১১ বছর পর উত্তমকুমার ফিরে এলেন শ্রীকান্ত চরিত্রে। পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্তের ছবি ‘কমললতা’য়।

কমললতা: আবার শ্রীকান্তর ভূমিকায় এলেন উত্তমকুমার। সময়টা ষাটের দশকের শেষ এবং সত্তরের শুরুর সন্ধিক্ষণে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের তৃতীয়-চতুর্থ খণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই চিত্রনাট্য লিখেছিলেন পরিচালক হরিসাধন দাশগুপ্ত। সুচিত্রা সেন কমললতা আর উত্তমকুমার শ্রীকান্ত।

রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত-এর শ্রীকান্ত আর কমললতা-র শ্রীকান্তের মধ্যে সময়ের ব্যবধান আছে, কিন্তু অভিনেতার কাছে চ্যালেঞ্জটা একই থেকে যায়।কীভাবে একজন ভবঘুরে মানুষের ভিতরে থাকা আবেগ, স্মৃতি, আকর্ষণ এবং বিচ্ছিন্নতাকে অভিনয়ে ধরা যায়। এখানেই উত্তমকুমারের অভিনয়-ক্ষমতা। বোঝা যায়, কেন তিনি উত্তমকুমার!

তিনি চরিত্রকে নিজের মতো করে নেননি; বরং অভিনয়ধারা চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলেছিলেন।

শরৎ-কাহিনির চরিত্রদের মধ্যে ভালবাসা আছে, কখনও কখনও দেখা যায় তাদের সাহসের অভাব আছে। আত্মমর্যাদা আছে, কিন্তু অহংও আছে। নৈতিকতা আছে, কিন্তু দ্বিধাও আছে। তারা সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়, আবার সমাজের নিয়মের কাছেও পরাজিত হয়।এই অসম্পূর্ণ মানুষগুলিই শরৎচন্দ্রের শক্তি। আর উত্তমকুমারের অভিনয় ক্ষমতা হল অসম্পূর্ণ মানুষকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। তাঁর হাসি যেমন দর্শককে মুগ্ধ করত, তেমনই তাঁর নীরবতাও চরিত্রের ভিতরের কথা বলে দিতে পারত। তাই শরৎ-কাহিনি অবলম্বনে চরিত্রগুলিতে  উত্তমকুমারকে দেখলে অদ্ভুত লাগে তিনি মহানায়ক বা স্টার অভিনেতা হয়েও কখনও চরিত্রগুলিকে নিজের ভাবমূর্তির মধ্যে জাহির করেননি। বরং চরিত্রের ভিতরে ঢুকে নিজের তারকাখ্যাতিকে আড়াল করেছেন।

নিউ থিয়েটার্স-এর ‘দেবদাস’ দেখে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিচালক-অভিনেতা প্রমথেশ বড়ুয়াকে  বলেছিলেন, “আপনার জন্যই যেন ‘দেবদাস’ চরিত্রটির সৃষ্টি। উত্তমকুমার অভিনীত শরৎ-কাহিনি নিয়ে ছবিগুলো দেখলে লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কি বলতেন, তা সহজেই অনুমেয়। উত্তমকুমার অভিনীত প্রতিটি  শরৎ-কাহিনি নিয়ে ছবিগুলো দেখলে মনে হয়, বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে উঠে এসেছে চরিত্রগুলো! লেখক বেঁচে থাকলে হয়তো উত্তমকুমারকেও একই কথা বলতেন, আপনার জন্যই চরিত্রগুলো সৃষ্টি হয়েছিল।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *