কন্ট্রাস্টিং ল্যামিনেটসের সাহায্যে ইন্টেরিয়রে কী করে দৃষ্টিবিভ্রমের মায়া তৈরি করা যায় জানেন ? -

কন্ট্রাস্টিং ল্যামিনেটসের সাহায্যে ইন্টেরিয়রে কী করে দৃষ্টিবিভ্রমের মায়া তৈরি করা যায় জানেন ?

ভারতবিখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার পরামর্শ।

ইন্টেরিয়র ডেকর সম্পর্কে অনভিজ্ঞ কারুর ঘরের,ডাইনিং,ফার্ণিচারের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সঠিক ল্যামিনেটস নির্বাচন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আপনার লিভিং স্পেস আপনাকে আর আপনার পরিবারকে একটা একাত্মবোধ, বসতির অনুভূতি,রুচির নিজস্বতা আর নিবিড় সংযোগের অনুভব সৃষ্টি করবে এটা প্রত্যাশিত।

সুতরাং আপনার নতুন অথবা পুরোনো বাড়ির অন্দরসাজের জন্য সম্পূর্ণ মনোযোগ আর তত্ত্বানুসন্ধান করে এমন সমস্ত কিছু কিনে সাজানো  উচিত যা আপনার রুচি আর মূল্যবোধের পরিচয় দেয়।বাড়ি সাজানোর সময় সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া একধরণের আত্মবিশ্বাস ,স্বনির্ভরতা এবং জীবনের একটি উদ্দীপনার,উৎসাহের সময় আর আপনি এই বিষয়ে নিশ্চয় নিখুঁত হতে চাইবেন।

ল্যামিনেটস কাকে বলে ?

হাউস ফার্নিশিংয়ে নতুন কেউ জিজ্ঞেস করতেই পারেন যে ল্যামিনেটস কাকে বলে। সহজে বলতে গেলে এটি প্লাইউডের জন্য একটি ফার্নিশিং লেয়ার,পার্টিকলবোর্ড অথবা যে কোনো উডেন ফার্ণিচার আর ফ্লোরিংয়ে ব্যবহার করা হয়।সাধারণত একটি পাতলা লেয়ারে ফ্ল্যাট পেপার আর রেসিন একসঙ্গে জুড়ে কম্পোজিট আর্টিফিসিয়াল মেটিরিয়াল তৈরি করা হয়।সৌন্দর্যবৃদ্ধির কারণে এর আপার লেয়ারকে সুদৃশ্য করা হয়।  

এটি অতুলনীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করতে হয় কারণ একবার পছন্দ করার পর যাতে আপনার কোনো অনুশোচনা না হয়।কিছু ক্ষেত্রে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলি জল,স্ক্র্যাচ প্রতিরোধের জন্য একধরণের স্পেশাল রেসিন ব্যবহার করে।ল্যামিনেটসের নির্বাচনে মনে রাখতে হবে যেন এর অভিজাত স্টাইলের সেটি সর্বগুণ সম্পন্ন হয় কারণ মার্জিত রুচি আর লাবণ্যের কোনো বয়স হয় না। 

এটি ব্যবহার করলে বাথরুম,কিচেন আর অন্যান্য ফার্ণিচারে নতুন জৌলুশ আনে।টেকশ্চার্ড অথবা ভালো কন্ট্রাস্টেড কভারিং সমৃদ্ধ ল্যামিনেটস রূপমাধুর্যে অন্য মাত্রা বাড়ায়।পার্টিশন করতে এর দারুণ কার্যকারিতা এবং নান্দনিক সৌন্দর্য রূপলাবণ্য বাড়িয়ে তোলে।  

ল্যামিনেটস নির্বাচন সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের ল্যামিনেটস ম্যানুফাকচারার্স কাছ থেকে করা শ্রেয়। 

ল্যামিনেটসের উপকারিতা

  • যে কোনো উড সারফেসে সহজে ইনস্টলেশন।
  • তুলনামূলকভাবে কম দামি।
  • প্লেন সারফেস হওয়ার কারণে সহজে মেন্টেন করা যায়। 
  • হাই প্রেশারের সাহায্যে এর টেকশ্চারকে নানা ভাবে উন্নত করা যায়।
  • দাগ প্রতিরোধে সুদৃঢ় আর দীর্ঘদিন টেকসই ।
  • কিছু ক্ষেত্রে ল্যামিনেটসের ক্ষতি হলে তা মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • বেশি জনবসতিপূর্ণ জায়গার জন্য ভালো নয় এবং দীর্ঘদিন নাও চলতে পারে।
  • ওয়াটার রেজিস্টেন্ট হওয়ার কারণে খুব পিছল হয় যা বিপজ্জনক হতে পারে।
  • কাঠ অথবা কংক্রিটের মতন দীর্ঘস্থায়ী নয়।
  • প্রাকৃতিক নয়।       

অসুবিধে

  • কিছু ক্ষেত্রে ল্যামিনেটসের ক্ষতি হলে তা মেরামত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • বেশি জনবসতিপূর্ণ জায়গার জন্য ভালো নয় এবং দীর্ঘদিন নাও চলতে পারে।
  • ওয়াটার রেজিস্টেন্ট হওয়ার কারণে খুব পিছল হয় যা বিপজ্জনক হতে পারে।
  • কাঠ অথবা কংক্রিটের মতন দীর্ঘস্থায়ী নয়।
  • প্রাকৃতিক নয়। 

ডেকরেটিভ ল্যামিনেটস-আগে উল্লেখিত ল্যামিনেটসের শ্রেণীবিন্যাস তাদের আকর্ষণ,টেকশ্চার,প্যাটার্নের ওপর নির্ভর করে। এদের ফিনিশ আর প্রটেকটিভ অ্যাডভান্টেজের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে  ডেকরেটিভ ল্যামিনেটসের অসীম জনপ্রিয়তা।এই ল্যামিনেটসের সবচাইতে আকর্ষণীয় বিষয় হল টেকনোলজি আর ডিজাইন এই দুই দিক দিয়েই সমান নান্দনিক এবং দক্ষ। 

অন্যান্য ডেকরের থেকে নিম্নলিখি সুবিধার কারণে ল্যামিনেটস কেন জনপ্রিয় পরখ করে নিন :

  • আয়তন আর মাপে নির্ভুল।
  • সৌন্দর্যের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
  • স্টেন ফ্রি আর সুরক্ষার যুগলবন্দী।
  • ক্ষয়ক্ষতি থেকে টেকসই ।

কন্ট্রাস্টিং ল্যামিনেটসের কল্যাণে মনোরম মায়াবী দৃষ্টিবিভ্রম

বাড়ির মত এক জায়গায় একরকম ভাবে দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে একঘেয়ে আর বিরক্তি হতে পারে।কন্ট্রাস্ট হল দুই বা তার বেশি বিপরীত রঙের সমারোহ যার দৌলতে মনোরম দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়।এটি খুব সহজে দৃষ্টিগোচর হয় যখন একই চরিত্রের একটি মনোক্রোমাটিক রঙের কারণে একটি জায়গাকে নিষ্প্রভ দেখতে লাগে।কিন্তু ওয়াল পেন্ট বা ল্যামিনেটসের কন্ট্রাস্টিং রঙের সৌজন্যে সেই জায়গাকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।ল্যামিনেটস নির্বাচন করার সময় যদি দুটি কন্ট্রাস্টিং ল্যামিনেটস অথবা টেকশ্চার পছন্দ করি তাহলে আপনার বাড়ি বা কাজের জায়গাকে আরো বড় দেখতে লাগে।    

আমরা জানি হালকা রঙ প্রতিফলনের কারণে আমাদের ঘরকে হাওয়া বাতাস খেলে এমন আর বড় দেখতে লাগে তাই এই দৃষ্টিবিভ্রমের কারণে উজ্বল আর প্রশস্ত দেখায়। কিন্তু এর বিপরীতে ঘন রঙের জন্য আলো শুষে নেয় আর একই ঘরকে  দেখতে ছোট আর ঘিঞ্জি দেখতে লাগে।সেই কারণে ল্যামিনেটস ব্যবহার করার সময় মনে রাখা দরকার কন্ট্রাস্টিং রঙের দৌলতে অনেক ধরণের স্পেশাল এফেক্ট সৃষ্টি করা যায় যা দেখতে বড় এবং চোখের পক্ষে আরামদায়ক।এর রিফ্লেক্টিভ বৈচিত্রের জন্য সারফেসে এর রঙকে অন্যরকম দেখায়। 

  যেহেতু সারফেসে রঙের প্রবলতার কারণে আলোর বিচ্ছুরণ এক এক রকম হওয়ার কারণে তাতে দৃশ্যমাধুর্য আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।ফ্লোরে একরকম  রং আর দেওয়ালে বা ফার্ণিচারে অন্য রং আলোর প্রতিফলন বাড়িয়ে তোলে আর এই কন্ট্রাস্টের সৌজন্যে সৃষ্টি হয় এক মনোরম দৃষ্টিবিভ্রম।  

ভুল রঙ নির্বাচনের কারণে একঘেয়ে খারাপ ইন্টেরিয়র ডেকোর যে কারণে ঘরকে নিস্তেজ আর ঘিঞ্জি দেখতে লাগে তাকে বদলাতে এই সুযোগ ছাড়বেন কেন যেখানে কম খরচে এই দৃষ্টিনন্দন অন্দরসাজে জায়গাকে বড় আর প্রাণবন্ত দেখায়? এই কন্ট্রাস্টিং রঙের সৌজন্যে ঘর সাজানোর ধ্যান ধারণা অনেক উন্নত করা যায়।একথা এখানে বলা দরকার যে রঙ পছন্দ কিন্তু নিজস্ব রুচি আর আধুনিক ট্রেন্ড অনুযায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

পরিশেষে

কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে অদ্ভুত চমৎকার রেঞ্জের ল্যামিনেটস রয়েছে যা বিনিয়োগের পক্ষে অতি উত্তম।তাই এর গুণমান আর কদরের সঙ্গে কোনোরকম আপস করা উচিত নয় বিশেষত যখন এত বিশেষ যত্ন আর কারিগরি উৎকর্ষ আর দক্ষতায় তৈরি করা হয়।এই কারণে যে কোনো জায়গাকে দুর্দান্ত দৃষ্টিনন্দন ,প্রাণোচ্ছল করে সাজিয়ে তোলে।ইন্টেরিয়র ডিজাইনে  গুরুত্বপূর্ণ আর নিশ্চিত সাফল্যের জন্য সঠিক ল্যামিনেটস পছন্দ সবচেয়ে জরুরি।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *