বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক টান ও স্থিতিস্থাপকতা কমে আসা খুবই স্বাভাবিক। এর পিছনে রয়েছে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের পরিবর্তন, ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে দীর্ঘদিনের সূর্যালোকের ক্ষতি। তাই শুধু কোনও একটি ঘরোয়া টোটকায় ত্বক আবার আগের মতো টানটান হয়ে যাবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। তবে কিছু উদ্ভিদজাত উপাদান ত্বককে আর্দ্র, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণাতেও কিছু বোটানিক্যাল প্রিপারেশনের ক্ষেত্রে ত্বকের হাইড্রেশন ও সামগ্রিক ইলাস্টিসিটিতে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্ক্রাব ও ময়েশ্চারাইজার যেমন ত্বক সুস্থ রাখার হাতিয়ার তেমনিই প্রয়োজন টোনিং।জেনে নিন কিছু ঘরোয়া টোনার।
১. ২টেবিল চামচ চাল ভালো করে ধুয়ে জলে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এই জল পরিষ্কার মুখে স্প্রে করে শুকোতে দিন। একইভাবে দ্বিতীয়বার স্প্রে করে শুকিয়ে নিন ।দারুণ টোনার কারণ চালে থাকা খনিজ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
২ ফোটানো জলে ১চা চামচ নুন ও কয়েকটি তুলসীপাতা মিশিয়ে স্প্রে বোতলে রাখুন।
দিনে কয়েকবার পরিষ্কার শুকনো মুখে স্প্রে করুন ।তবে চোখ বাঁচিয়ে ।
৩ দুমুঠো টাটকা পুদিনা ১লিটার জলে ফোটান ।জল অর্ধেক হলে ছেঁকে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন। প্রতিদিন ২-৩ফোঁটা লাগালেই যথেষ্ট ।
৪ বাঁধাকপি ফোটানো জল ছেঁকে কর্পূর মিশিয়ে নিন ।
৫ গ্রিন টি-অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের প্রাকৃতিক উৎস।গ্রিন টি-তে রয়েছে পলিফেনল, বিশেষত ক্যাটেচিন , যা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। উদ্ভিদজাত উপাদানের ত্বকের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণায় গ্রীন-টি সহ কয়েকটি উদ্ভিদজাত উপাদানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যদিও প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে শক্তিশালী ক্লিনিক্যাল এভিডেন্সের প্রয়োজন আছে।কীভাবে ব্যবহার করবেন:গ্রিন টি বানিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে তুলোয় নিয়ে মুখে আলতো করে লাগাতে পারেন। ১০ মিনিট পরে পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।মনে রাখবেন: এটি কোনও ইনস্ট্যান্ট টাইটেনিং ট্রিটমেন্ট নয়। বরং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্কিনকেয়ারের একটি সহায়ক উপায় হিসেবে ভাবুন।
৬ মেথি-লোকজ রূপচর্চার পরিচিত উপাদান-মেথি বহুদিন ধরে ভারতীয় ঘরোয়া রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মেথির বীজ ভিজিয়ে তৈরি পেস্ট ত্বককে সাময়িকভাবে মসৃণ অনুভব করাতে পারে।রাতে এক চা-চামচ মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে ভালো করে বেটে মিহি পেস্ট তৈরি করুন। মুখে পাতলা করে লাগিয়ে ১০ মিনিটের বেশি রাখবেন না। তারপর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান।সতর্কতা: সংবেদনশীল ত্বকে মেথি জ্বালা বা অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। প্রথমে প্যাচ টেস্ট করুন।
৭. গোলাপজল-ত্বককে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে-গোলাপজলকে সরাসরি কোলাজেন বা ইলাস্টিন বাড়ানোর উপাদান বলা যায় না। কিন্তু ত্বকের পরিচর্যায় এটি একটি কোমল বোটানিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি, কারণ ময়েশ্চারাইজেশন ত্বককে সাময়িকভাবে আরও মসৃণ ও তরতাজা দেখাতে পারে। অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি ও অ্যান্টি এজিং স্কিনকেয়ারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ময়েশ্চার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।
অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ফ্রাগ্র্যান্স যুক্ত পণ্য এড়িয়ে বিশুদ্ধ গোলাপ জল ব্যবহার করুন। মুখ পরিষ্কার করার পরে তুলোয় নিয়ে আলতো করে লাগিয়ে তার উপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
৮. হলুদ-অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পরিচর্যার ঐতিহ্য-কীভাবে ব্যবহার করবেন:এক চিমটি বিশুদ্ধ হলুদ অল্প দই বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খুব পাতলা করে মুখে লাগাতে পারেন। ৫–১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
আসল ‘স্কিন-টাইটেনিং’রহস্য কিন্তু অন্যত্র।ভেষজ টোটকা ব্যবহার করলেও ত্বকের বয়েস ঠেকানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সূর্যের ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা।অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজির মতে, প্রতিদিন ব্রড স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রিম্যাচিউর স্কিন এজিং কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সূর্যের ইউভি রশ্মি দীর্ঘমেয়াদে রিঙ্কলস ,এজ স্পট এবং লুজ স্কিনের সঙ্গে যুক্ত।
শেয়ার করুন :





