কম গ্যাসে ৫টি সুস্বাদু রান্না -

কম গ্যাসে ৫টি সুস্বাদু রান্না

রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে শক্তির অপচয় রোধ করা এবং রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। বুদ্ধিমানের মতো কিছু রান্নার কৌশল এবং সঠিক রেসিপি বেছে নিলে গ্যাসের খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব।এখানে এমন ৫টি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ভারতীয়/বাঙালি রেসিপি দেওয়া হলো, যা অত্যন্ত কম গ্যাসে এবং অল্প সময়েই তৈরি করে ফেলা যায়:

ছবি- দ্য হোল থার্টি ডট কম

) ওয়ানপট খিচুড়ি (সবজি ডাল দিয়ে)

খিচুড়ি হলো পুষ্টিগুণে ভরপুর এমন একটি খাবার যা একটিমাত্র পাত্রেই  রান্না করা যায়। আলাদাভাবে চাল-ডাল ভাজা বা মশলা কষানোর প্রয়োজন না থাকায় এতে গ্যাস খুব কম খরচ হয়।

সাশ্রয়ী কৌশল: চাল, ডাল এবং সবজি রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখুন। এতে এগুলো দ্রুত সেদ্ধ হবে।

পদ্ধতি: প্রেসার কুকারে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে জিরে ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। এবার আদা বাটা, হলুদ, জিরে গুঁড়ো এবং পছন্দমতো সবজি (আলু, গাজর, পেঁপে) দিয়ে হালকা নাড়ুন। ভিজিয়ে রাখা চাল ও ডাল জলসহ কুকারে দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন-চিনি দিয়ে কুকারের ঢাকনা বন্ধ করুন। মাত্র ২টি সিটি পড়লেই গ্যাস বন্ধ করে দিন এবং কুকারের ভেতরের বাষ্প নিজে থেকে বের হতে দিন। ব্যাস, তৈরি গরম গরম পুষ্টিকর খিচুড়ি!

ছবি – স্লার্প ডট কম

) ভাপা সর্ষে রুই/ইলিশ (ভাপে রান্না)

বাঙালি রান্নায় ‘ভাপা’ পদ্ধতিটি গ্যাস বাঁচানোর জন্য অতুলনীয়। যখন ভাতে ভাত বা ডাল সেদ্ধ হচ্ছে, ঠিক সেই পাত্রের ভেতরেই টিফিন বক্সে করে এই রান্নাটি করে নেওয়া যায়। অর্থাৎ, একই গ্যাসে দুটি রান্না!

সাশ্রয়ী কৌশল: ডবল কুকিং বা ভাপানোর পদ্ধতি ব্যবহার করা।

পদ্ধতি: একটি স্টিলের টিফিন বক্সে মাছের টুকরো, সর্ষে বাটা, পোস্ত বাটা, কাঁচা লঙ্কা, নুন, হলুদ এবং সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। এবার যখন আপনি হাড়িতে ভাত বা ডাল রান্না করছেন, তখন চাল বা ডাল ফুটে ওঠার পর টিফিন বক্সটি ওই ফুটন্ত জলের ভেতর সাবধানে বসিয়ে দিন (খেয়াল রাখবেন জল যেন বক্সের ভেতরে না ঢোকে)। ভাত বা ডাল সেদ্ধ হতে হতে ভাপের সাহায্যেই মাছের এই সুস্বাদু পদটি তৈরি হয়ে যাবে। আলাদা করে কোনো গ্যাস খরচ হবে না।

ছবি- মৌনিকা গোবর্ধন

) ডিমের ডালনা (প্রেসার কুকার পদ্ধতি)

ডিম সেদ্ধ করা এবং তারপর ঝোল রান্না করায় আলাদাভাবে অনেক গ্যাস অপচয় হয়। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালে পুরো রান্নাটি একসাথেই করা সম্ভব।

সাশ্রয়ী কৌশল: ডিম আলাদা সেদ্ধ না করে মশলার সাথেই সেদ্ধ ও রান্না করা।

পদ্ধতি: কুকারে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, টমেটো এবং গুঁড়ো মশলা দিয়ে সামান্য কষিয়ে নিন। এবার ঝোলের জন্য পরিমাণমতো জল এবং আলুর টুকরো দিন। এবার কাঁচা ডিমগুলো সাবধানে ভেঙে সরাসরি ফুটন্ত ঝোলের আলাদা আলাদা জায়গায় ছেড়ে দিন (ডিম যেন ভেঙে মিশে না যায়)। কুকারের ঢাকনা আটকে ১টি বা ২ট সিটি দিন। কুকারের গ্যাস নিজে থেকে বের হলে ঢাকনা খুলুন; দেখবেন ডিমের পোচগুলো ঝোলের মধ্যে সুন্দরভাবে জমে গেছে এবং আলুও সেদ্ধ হয়ে গেছে।

ছবি – পাইপিং হট কারি ডট কম

) সুজি সবজির উপমা

প্রাতরাশ বা বিকালের নাস্তার জন্য উপমা একটি দারুণ পদ, যা মাত্র ৫-৭ মিনিটে তৈরি হয়ে যায়। সুজি খুব দ্রুত সেদ্ধ হয়, তাই এতে গ্যাসের ব্যবহার নগণ্য।

সাশ্রয়ী কৌশল: সবজিগুলো খুব ঝিরিঝিরি করে কাটা, যাতে দ্রুত সেদ্ধ হয়।

পদ্ধতি: শুকনো কড়াইতে সুজি হালকা ১ মিনিট ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইতে সামান্য তেল দিয়ে সর্ষে, কারিপাতা এবং চিনেবাদাম ফোড়ন দিন। এতে মিহি করে কাটা গাজর, বিন্স ও মটরশুঁটি দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। সবজি নরম হয়ে এলে ভাজা সুজি এবং পরিমাণমতো জল (সুজির দ্বিগুণ) ও নুন দিন। জল শুকিয়ে ঝরঝরে হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। ৫ মিনিটের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু উপমা।

ছবি- ইট রিড অ্যান্ড কুক

) দই আলু

আলু সেদ্ধ হতে সাধারণত সময় বেশি লাগে, কিন্তু দইয়ের অম্লতা এবং ছোট টুকরো করে কাটলে এই রান্নাটি দ্রুত শেষ হয়।

সাশ্রয়ী কৌশল: আলুর খোসা ছাড়িয়ে খুব ছোট ছোট কিউব আকারে কাটা।

পদ্ধতি: কড়াইতে তেল গরম করে জিরে ও হিং ফোড়ন দিন। ছোট করে কাটা আলুগুলো দিয়ে সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন (ধীমে আঁচে ঢাকা দিলে আলু নিজের ভাপেই দ্রুত সেদ্ধ হয়)। আলু নরম হয়ে এলে গ্যাস একদম কমিয়ে ফেটানো টক দই, ধনে গুঁড়ো ও লঙ্কা গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। অল্প আঁচে ১-২ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে নিন। রুটি বা পরোটার সাথে এটি অসাধারণ জমে যায়।

গ্যাস সাশ্রয় করার আরও ৩টি সাধারণ এক্সপার্ট টিপস:

সবসময় ঢাকা দিয়ে রান্না করুন: পাত্র খোলা রেখে রান্না করলে তাপ বাইরে বেরিয়ে যায়, ফলে দ্বিগুণ গ্যাস খরচ হয়।

সঠিক মাপের বার্নার ব্যবহার করুন: ছোট পাত্র বড় বার্নারে বসালে চারপাশ দিয়ে তাপ নষ্ট হয়। পাত্রের তলার মাপ অনুযায়ী বার্নার বেছে নিন।

ফ্রিজের খাবার সরাসরি গ্যাসে দেবেন না: ফ্রিজ থেকে তরকারি বা দুধ বের করে অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে রাখুন, যাতে সেটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায়  আসে। ঠান্ডা খাবার গরম করতে অনেক বেশি গ্যাস লাগে।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *