গরমের দাবদাহে যখন শহর হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই পাহাড়, জঙ্গল কিংবা নদীর ধারে কয়েকটা দিন কাটানোর ইচ্ছে জাগে। আর বর্ষা এলেই প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজে। এই দুই ঋতুর সন্ধিক্ষণে এমন তিনটি গন্তব্যের খোঁজ রইল, যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস আর লোককথা মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য আবহ।

তাবাকোশি, দার্জিলিং – রঙ্গীতের ধারে এক সবুজ স্বপ্ন – দার্জিলিংয়ের ভিড় থেকে খানিক দূরে, রঙ্গীত নদীর ধারে ছোট্ট গ্রাম তাবাকোশ। গ্রীষ্মে এখানে আবহাওয়া মনোরম, আর বর্ষায় পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা যেন জলরঙের ছবি।
স্থানীয় গল্প -স্থানীয়দের বিশ্বাস, বহু বছর আগে এই অঞ্চলের পাহাড়ি ঝরনাগুলিকে ঘিরে বনদেবীর বাস ছিল। বর্ষার রাতে নদীর গর্জনের মধ্যে নাকি তাঁর উপস্থিতি টের পাওয়া যেত। আজও প্রবীণ গ্রামবাসীরা সেই গল্প শোনান পর্যটকদের।
কী দেখবেন– রঙ্গীত নদীর তীর , কমলালেবুর বাগান,চা-বাগানের পথ,ঝুলন্ত সেতু, কাছেই লামাহাটা ও তাকদা।
কোথায় থাকবেন – রিভার ভিউ হোমস্টে , অরেঞ্জ ভিলা হোমস্টে , রাংভাং হোমস্টে।
হোমস্টেগুলির বারান্দা থেকেই নদী ও পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।
কী খাবেন – নেপালি থালি ,গরম গরম মোমো, থুকপা, স্থানীয় কমলালেবুর আচার
কীভাবে যাবেন – কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। সেখান থেকে গাড়িতে প্রায় ৩ ঘণ্টায় তাবাকোশ। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকেও সরাসরি গাড়ি পাওয়া যায়।

লেপচাজগৎ, দার্জিলিং – মেঘের রাজ্যে নির্জনতার ঠিকানা – দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লেপচাজগৎ। ঘন পাইন, ওক ও রডোডেনড্রনের জঙ্গলে ঘেরা এই পাহাড়ি গ্রামটি এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই মুক্ত। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা সাধারণত ১২ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, আর বর্ষায় মেঘ এসে ঘরের জানালায় ধাক্কা দেয়।
স্থানীয় কিংবদন্তি – লেপচা সম্প্রদায়ের প্রবীণদের মতে, কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধুমাত্র একটি পর্বত নয়, বরং দেবতাদের আবাস। বহু লেপচা পরিবার আজও পাহাড়কে জীবন্ত দেবতা হিসেবে শ্রদ্ধা করে। ভোরের প্রথম আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখে সেই বিশ্বাসের উৎস সহজেই বোঝা যায়।
কী দেখবেন – জোড়পোখরি , সুখিয়াপোখরি, ঘুম মনাস্ট্রি, কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন,পাইন বনভ্রমণ।
কোথায় থাকবেন – ডাব্লিউবিএফডিসি লেপচাজগৎ ট্যুরিস্ট লজ , পাইন ফরেস্ট হোমস্টে , লেপ্চা হেরিটেজ হোমস্টে।
কোথায় খাবেন-স্থানীয় নেপালি থালি,গুণ্ড্রুক স্যুপ,মোমো ও থুকপা,পাহাড়ি অর্গানিক চা।
কলকাতা থেকে যাতায়াত – কলকাতা থেকে এনজেপি বা বাগডোগরা। সেখান থেকে ৩ ঘণ্টার গাড়ি যাত্রায় লেপচাজগৎ।

সিলেরিগাঁও, কালিম্পং – পূর্ব হিমালয়ের “নিউ দার্জিলিং” – কালিম্পং জেলার ছোট্ট গ্রাম সিলেরিগাঁও প্রায় ৬,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। চারদিকে পাইন বন, মেঘ আর পাহাড়ের অসাধারণ মেলবন্ধন। গ্রীষ্মে আবহাওয়া মনোরম এবং বর্ষায় গোটা গ্রাম যেন মেঘের মধ্যে ভেসে যায়।
স্থানীয় গল্প -স্থানীয়রা বলেন, ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চল ছিল সিঞ্চোনা চাষের কেন্দ্র। ম্যালেরিয়ার ওষুধ কুইনাইন তৈরির জন্য এখানকার সিঞ্চোনা গাছের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখনও পুরনো সিঞ্চোনা বাগানের কিছু অংশ দেখা যায়।
কী দেখবেন – রামিতে দারা ভিউ পয়েন্ট,ডামসাং দুর্গের ধ্বংসাবশেষ,সিঞ্চোনা বাগান,তিস্তা উপত্যকার দৃশ্য,সূর্যোদয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা
কোথায় থাকবেন – সিলারি গাওঁ হোমস্টে ক্লাস্টার , সিলারি ভ্যালি হোমস্টে , রামিতে ভিউ হোমস্টে।
কী খাবেন – স্থানীয় নেপালি রান্না,পাহাড়ি মুরগির ঝোল,সেল রুটি,ঘরে তৈরি আচার।
কলকাতা থেকে যাতায়াত – এনজেপি থেকে লাভা-আলগাড়া রুট ধরে প্রায় ৩.৫ ঘণ্টার পথ। শেয়ার গাড়ি বা রিজার্ভ গাড়ি সহজেই পাওয়া যায়।
শেয়ার করুন :




