‘ওরে পলাশ ওরে পলাশ রাঙা রঙের শিখায় শিখায় দিকে দিকে আগুন জ্বলাস’ – বসন্তের এই রঙিন সময়ে এই বাংলায় দিকে দিকে আগুনরঙা পলাশের সমারোহ ।এবারে আমরা ঘুরে দেখব পশ্চিমবঙ্গের এমন কিছু মনোরম ঠিকানা, যেখানে এই সময় প্রকৃতি রাঙিয়ে ওঠে পলাশের রঙে।শহরের কোলাহল ছেড়ে একদিনের সফরেই মিলবে রাঙা বনপথ, পাহাড় আর বসন্তের নির্মল আনন্দ।

১) গড়পঞ্চকোট (পুরুলিয়া) – পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট বসন্তকালে যেন আগুনরাঙা পলাশে ঢেকে যায়,লাল ফুলে পাহাড় আর জঙ্গল হয়ে ওঠে অপূর্ব রঙিন।পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ ঘেরা অঞ্চলটি ফেব্রুয়ারি–মার্চে সবচেয়ে সুন্দর লাগে।সবুজ জঙ্গল, প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ আর লাল পলাশের মেলবন্ধন প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য স্বর্গসম।শান্ত পরিবেশে একদিনের ছোট্ট ট্রিপ বা উইকেন্ড গেটওয়ের জন্য গড়পঞ্চকোট একেবারে আদর্শ জায়গা।
কলকাতা থেকে: ২৮০ কিমি (৬–৭ ঘণ্টা গাড়িতে),পাহাড়ের পেছনে পলাশে লাল হয়ে থাকা পুরো এলাকা ধ্বংসাবশেষ + প্রকৃতি + ফটোজেনিক স্পট,মার্চের শুরু থেকে মাঝামাঝি পলাশ সবচেয়ে ভালো থাকে।খুব ভোরে (৪.৩০–৫টা) বেরোলে রাত ১০টার মধ্যে ফেরা সম্ভব।
২) বাঘমুন্ডি ও অযোধ্যা পাহাড়।কলকাতা থেকে: ৩০০ কিমি ।রাস্তার দু’পাশে পলাশের সারি,পাহাড়ি রাস্তা,বামনি ফলস ঝর্ণা, লং ড্রাইভের জন্য দারুণ।ড্রাইভ করতে ভালোবাসলে এটা বেশি উপভোগ করবেন।

৩) জয়চণ্ডী পাহাড়– কলকাতা থেকে: ২৫০ কিমি ,কম ট্রেক, সহজ ওঠা যায়।বসন্ত এলে পুরুলিয়ার জয়চণ্ডী পাহাড় লাল-কমলা পলাশে রাঙা হয়ে ওঠে। পাথুরে ঢাল আর নীল আকাশের পটভূমিতে আগুনরঙা পলাশ এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে। ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে এখানে এলে পাহাড়ের গায়ে ফুটে থাকা পলাশ যেন প্রকৃতির রঙিন উৎসবের আমন্ত্রণ জানায়। শান্ত, নির্জন পরিবেশে এই রাঙা বসন্ত মন ভরে উপভোগ করার জন্য জয়চণ্ডী পাহাড় এক আদর্শ ঠিকানা।পাহাড়ের পাদদেশে: নিচের সমতল ও ঝোপঝাড়ের পাশে ছড়িয়ে থাকা পলাশগাছ।সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পথে: উপরে উঠতে উঠতে দুই পাশে লাল-কমলা ফুলে ভরা ডাল নজর কাড়ে।পাহাড়ের ঢাল ও পাথুরে অংশে: শুষ্ক পাথরের গায়ে আগুনরঙা পলাশ দারুণ কনট্রাস্ট তৈরি করে।চূড়ার কাছাকাছি খোলা জায়গায়: দূরে বিস্তীর্ণ প্রান্তরের মাঝে ছড়িয়ে থাকা পলাশ চোখে পড়ে।

৪) শান্তিনিকেতন– বসন্ত এলেই লাল-কমলা আগুনরঙা পলাশে রাঙা হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতন। এই সময়টায় চারপাশ যেন এক বিশাল রঙের ক্যানভাস,মাটির রাস্তা, কাঁকরের পথ, খোলা মাঠ আর শাল-পিয়ালের ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা পলাশের দল। ‘বসন্তের আগুন’ নামে পরিচিত এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম বুটেয়া মনসাপেবমা বাংলায় পলাশ, আবার অনেকে বলেন ‘কেসু’ বা ‘ফ্লেম অব দ্য ফরেস্ট’।বসন্ত ও পলাশের মেলবন্ধন-শান্তিনিকেতনের বসন্ত মানেই পলাশ। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চ এই সময়টায় গাছভরা লাল-কমলা ফুল যেন নতুন ঋতুর বার্তা দেয়। শুষ্ক ডালে পাতা ঝরে গিয়ে যখন শুধু ফুলই ফুটে থাকে, তখন পুরো গাছটিই মনে হয় জ্বলন্ত অগ্নিশিখা।
বিশ্বভারতীতে পালিত বসন্ত উৎসব পলাশ ছাড়া ভাবাই যায় না। আবিরের রঙ, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য আর হলুদ-গেরুয়া পোশাকের সঙ্গে পলাশের রাঙা আভা মিলেমিশে এক অপূর্ব দৃশ্য রচনা করে। বহু পর্যটক এই সময়টাতেই আসেন শুধু পলাশ-রাঙা শান্তিনিকেতনকে চোখে ভরিয়ে নিতে।বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতনের পথে গ্রামাঞ্চলের রাস্তার ধারে,খোয়াই এলাকার আশপাশে,শ্রীনিকেতন অঞ্চলে, কাঁকড়াবনের রাস্তা লাল হয়ে থাকে ,সঙ্গে কোপাই নদী, সোনাঝুরি হাট।
শেয়ার করুন :





