১২ নিউ ইয়ার হাউস পার্টি টিপস

বাইরে ভিড়ের ঝুঁকি এড়িয়ে পারফেক্ট হাউস পার্টির থিম,মেনু,ডিজে,সেলফি কর্নার আরও অনেক প্রয়োজনীয় পরামর্শ।

এই ২০২০ তে করোনা আমাদের জীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত,বিদ্ধস্ত করে শেষের পথে।স্বজন,পরিজন আর অসংখ্য মানুষের জীবন,চাকরি,অর্থনৈতিক বিপর্যয়,শিশু,কিশোর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা,খেলাধুলা,আনন্দ কে এই করোনাকাল সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।এই কালান্তক বছর শেষে তাই সবাই সুদিনের আকুল আশা ,আকাঙ্খ্যা নিয়ে তাকিয়ে আসন্ন ২০২১ এর দিকে।এখন বাইরে ভিড়ে বেরিয়ে পার্টি করার ঝুঁকির চেয়ে বাড়িতে কাছের লোকেদের নিয়ে হাউস পার্টির টিপস :

১)ইনভিটেশন :একটা স্টাইলিশ ডিজিটাল ইনভিটেশন কার্ড  করে তাতে সব ডিটেলস দিয়ে হোয়াটস অ্যাপে পাঠিয়ে ইন্ডিভিজুয়াল কল করে নেওয়া।

২)এটা অনেকদিনের প্রথা যে পার্টির পুরো খরচ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যাতে এই বাজারে কারুর ওপর চাপ না পড়ে।

৩) থিম:পার্টির একটা থিম করে নিলে ভাল আর একটা কালার ড্রেস কোড হলে পার্টির ফ্লেভারটা জমে যায়।বন্ধুদের একটা পার্টি থিম কালার আগে থেকে বলে দিন কিন্তু দেখবেন তার মধ্যে ব্ল্যাক যেন থাকে।

৪) ডিজে মিউজিকের পাশাপাশি একটা কি বোর্ড আর কারাওকের সঙ্গে স্পিকার থাকলে পার্টি জমে যায় কারণ সাধারণত আমাদের যে কোনও আড্ডাতে সকন্ঠী গায়ক গায়িকার অভাব নেই।

৫) কিছু মজার গেম্স্ পার্টিকে প্রাণবন্ত করে তোলে,অন্তাক্ষরী,ডাম্ব শ্যারেডস,স্ট্যান্ড আপ কমেডি এমন কিছু এন্টারটেইনার।

৬)কিডস আর সেলফি কর্নারঃএকটা আলাদা ঘর বা স্পেসের প্রয়োজন পার্টিতে আসা বাচ্চাদের জন্য সেখানে যেন গেমসের ফেসিলিটি থাকে আর একটা সেলফি কর্নার  কারণ এখন ছবি তোলা মাস্ট।

৭)পার্সোনাল টাচ:যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত খেয়াল রাখা,তাদের প্রেফারেন্স মনে করে ড্রিকংস,স্ন্যাক্স,ডিনার মেনু সিলেকশন খুব জরুরি।পার্টি চলাকালীন লক্ষ্য রাখা কেউ লোনলি ফিল করছে কিনা,মাঝে মাঝে আলাদা করে জিজ্ঞাসা করা ‘আর ইউ কম্ফোর্টেবল?’এতে হোস্ট হিসেবে আপনার পার্টির মাহাত্ম্য বেড়ে যাবে।

৮)একটু সমাজ সচেতন হয়ে একটা ডোনেশন বক্স রাখুন আর সবাইকে রিকোয়েস্ট করুন সাধ্যমত কিছু ডোনেট করতে।পরের দিন পাড়ার কাছে দুস্থ্য ছেলেমেয়েদের সান্টা হতে খুব ভাল লাগবে।                                   

৯)সমান গুরুত্ব:একটা পার্টিতে সবার ইকনমিক স্টেটাস এক নাও থাকতে পারে কিন্ত তাতে যদি তার  পার্টিতে গুরুত্ব কমে বাড়ে তার চেয়ে খারাপ রুচি আর কিছুতেই নেই।দু পাত্তর পেতে পড়লে রাজা উজির মারা এক আর অন্যকে ছোট করা আরেক।একান্ত ভাবে নজর রাখতে হবে এই বিষয়ে আর ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডল করাই আসল আর্ট।একটা দারুন প্রাণবন্ত পার্টি মুহূর্তে ঝগড়া ঝাঁটির কুরুক্ষেত্র হয়ে যাওয়ার নিদর্শন প্রচুর আছে আর এর জেরে বহু বছরের সম্পর্ক ছেদের কারণও ঘটেছে ,তাই কেয়ারফুল থাকা জরুরি।

১০) টিপসি:খাও খাও বুঁদ হয়ে ডুবে যাও,দেখো চোখে সর্ষে ফুল,করুক মাথা ঝিম ঝিম।বেতাল মাতাল হয়ে পার্টি পন্ডের অজস্র নজির আছে সুতরাং এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখা জরুরি।সুবিধে আর অসুবিধে হল ক্ষেত্র বিশেষে মাতালকে কিছু সহজে বোঝানো একইসঙ্গে খুব সহজ আর খুব কঠিন।সবচেয়ে সহজ অজুহাত ‘আর নেই’।

১১)স্ন্যাক্স-ডিনার ব্যালেন্স :খুব প্রয়োজনীয়।প্রচুর স্ন্যাকসের পর আর সাধের  ডিনার করার সাধ্য নেই অথবা অপর্যাপ্ত স্ন্যাক্স এই দুটোই বেশ গোলমালের তাই দুটোর সঠিক ব্যালেন্স জরুরি।

১২) স্পেস আর গেস্ট সংখ্যার ভারসাম্য:অনেকেই খেয়াল করেন না কতটা জায়গায় কতজন গেস্ট কমফর্টেবলি আনন্দ করতে পারবে।এক্ষত্রে যদি হও স্বজন নীতি অতিথিদের স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে তাই স্পেস অনুযায়ী গেস্ট সংখ্যা ঠিক করতে হবে।

মনে রাখতে হবেঃপার্টিতে আমন্ত্রিত সবাই যেন নীরোগ,সুস্থ্য থাকে,ন্যূনতম সর্দি কাশি উপেক্ষা করাও ভয়ঙ্কর হতে পারে।আপনার আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধে না হয়।আশে পাশে বয়স্ক,অসুস্থ্য থাকলে সাউন্ড ভলিউম কম করা আর পার্টির পর সবাই ঠিকঠাক বাড়ি পৌঁছেছে কিনা ফোনে খবর নেওয়া আপনার রুচি আর আভিজাত্যের পরিচয়।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *