ছবি-শাটারস্টক

হাঁটুর সমস্যায় ২০ঘরোয়া সমাধান

বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ডাক্তার, ডায়েটিশিয়ান,ফিটনেস এক্সপার্ট পরামর্শ।

এই সময়ে যখন  বেশিরভাগ সময়েই বাড়িতে থাকার কারণে ফিট থাকা জরুরি যাতে হাঁটুর যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ,নিয়মিত ব্যায়াম  ছোটোখাটো এমনকি মাঝারি হাঁটুর সমস্যায় ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ডাক্তার, ডায়েটিশিয়ান, ফিটনেস এক্সপার্ট পরামর্শ-  

হাঁটু ফিট ব্যায়াম

সাইড সুইং-প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডান পা যতটুকু সম্ভব সামনে নিন।তারপর ডান দিকে উঁচু করে তুলুন।একইভাবে বাঁ পায়ে একই ব্যায়াম করুন।১০ বার দু পা মিলিয়ে,২০ বার।

ফ্রন্ট কিক-সোজা দাঁড়িয়ে ডান পা একবার সামনের দিকে নিন।আবার পেছনের দিকে আনুন।পা যখন সামনে পেছনে নেবেন তখন যেন ডিস্টেন্স অন্য পায়ের থেকে এক ফুট থাকে।ডান ও বাঁ পা মিলিয়ে ২০ বার করুন।

সিটেড রোটেটর-একটা চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন।তারপর বাঁ পা ঠিক রেখে ডান পা ক্রস স্টাইলে সামনে আনুন এমনভাবে যেন দু পায়ের হাঁটু একসঙ্গে লেগে থাকে।১২ ইঞ্চি দূরত্ব রেখে এক পা থেকে অন্য পা সামনে নিন।একইভাবে বাঁ পায়েও এমন ব্যায়াম করুন।

হাড়ের ডায়েট

বাদাম– বাদামে নানা ধরণের মিনারেলস থাকে যেমন ক্যালশিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম,ম্যাঙ্গানিজ আর ফসফরাস যা হাড়কে হেলদি রাখে।

খেজুর- প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ,তামা,ক্যালশিয়াম থাকে যা হাড়কে ভাল রাখে আর অস্টিওপোরোসিসের হাত থেকে বাঁচায়।

ফল– কমলালেবু,আঙ্গুর,লেবু,স্ট্রবেরি জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন সি যা হাড়কে শক্ত করে।

সব্জি-বাঁধাকপি,ফুলকপি,বিট গাজর খাওয়া হাড়ের পক্ষে খুব উপকারী।

ডিম-আমরা ৬ শতাংশ ভিটামিন ডি পাই ডিম থেকে যা হাড়কে সুস্থ রাখে।

মিল্ক প্রোডাক্ট -যে কোনও দুগ্ধজাত খাবারই ক্যালসিয়ামের ভাল সোর্স তাই হার মজবুত রাখতে রোজকার ডায়েটে মিল্ক প্রোডাক্ট জরুরি।

মাছ-বাত,আর্থ্রাইটিসের মতো হাড়ের সমস্যায় ভাল কাজ করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা প্রধানত মাছে থাকে তাই রোজকার ডায়েটে মাছ রাখুন।

সিরিয়াল– যে কোনও সিরিয়ালে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকে যেমন কর্নফ্লেক্স, ওট্স যা হাড়ের পক্ষে উপকারী।            

হাঁটুর ব্যাথা মুক্তির ঘরোয়া উপায়

আইস প্যাক-ব্যাথা হলে ৩/৪ টুকরো আইস কিউব টাওয়েলে জড়িয়ে নিন।এরপর ব্যাথার জায়গায় ৫/১০ মিনিট রেখে দিন,তার বেশি নয়।

মাসাজ থেরাপি- ৩/৪ চামচ অলিভ অয়েল গরম করে ব্যাথার জায়গায় আলতো করে ১০/১৫ মিনিট মালিশ করুন।প্রয়োজনে দিনে দু বার।

হিট থেরাপি– আপনার হাঁটু গরম জলের মধ্যে ১০/১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন অথবা হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।দিনে দুবার করতে পারেন।

দুধ না খেলে -না ভাল ছেলে না হলেও এতে কাজ হবে।২ কাপ দুধের সঙ্গে এক চামচ বাদাম,আখরোট গুঁড়ো ও এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো ভালো ভাবে ফুটিয়ে খেতে হবে।

আদা-প্রতিদিন আদা চা খেলে উপকার পাবেন।

চলাফেরা– হাঁটুর ব্যাথায় কঠিন ব্যায়াম যেমন নয় তেমন রেগুলার চলাফেরাও জরুরি।

প্রতিদিনের খাবারে– শাকসব্জি ফলমূল রাখতে হবে।           

জরুরি তথ্য

  • বয়েসের ক্ষয়জনিত কারণে হাঁটুর ব্যাথা হতে পারে।
  • যাদের ওজন যত বেশি তারাই  আক্রান্তর সম্ভাবনা বেশি তাই ওজন যাতে না বাড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।
  • এর লক্ষণ পেতে বেশ সময় লাগে।একটু হাঁটলেই হাঁটুতে ব্যাথা,সিঁড়িতে উঠেতে গেলে ব্যাথা,হাঁটু মুড়ে   বসতে ব্যাথা এর পূর্বলক্ষণ।
  • অস্টিও আর্থ্রাইটিসে উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা -ম্যানিপুলেশন থেরাপি,আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি,শর্ট ওয়েব ডায়াথার্মি,ইন্টারফ্যারেনশিয়াল থেরাপি,লেজার থেরাপি,থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, স্ট্যাটিক সাইক্লিং ইত্যাদি।                      

বিশেষজ্ঞ প্যানেল- ডঃ পি,কে ব্যানার্জি-MBBS,MS,Mch,FRCS (Edin)FRCS (Glasgow), ডঃ বুদ্ধ, ডি চ্যাটার্জি-D,Orth,MS,Mch,Orth,FRCS-Ed,Jt Replacement Fellow,NY (USA), ডঃ রঞ্জন কামিল্যা-MS Oth,FRCS(Glasgow,MSc Trauma Surg-UK,ডঃ তথাগত দাস-Mch (Orth) UK,MS,Orth,Cal,MAMS (Vienna),FICS (USA),ডায়েটিশিয়ান অদিতি নেভাটিয়া,ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফিটনেস।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *