লকডাউনে ১০ ইন্ডোর গেমস

এই সময় সবাই একসঙ্গে বসে ইন্ডোর গেম্স্ খেলাকে মনস্তত্ত্ববিদ,ডাক্তাররা খুব উৎসাহ দিচ্ছেন।

এই লকডাউনে পুরো ফ্যামিলির একমাত্র বিনোদন,স্ট্রেস রিলিফের সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন আর টিভি ।এতে চোখের,নার্ভের ক্ষতি ছাড়াও মানসিক ক্ষতি হল একাকীত্ব।এই সময় সবাই একসঙ্গে বসে ইন্ডোর গেম্স্ খেলাকে মনস্তত্ত্ববিদ,ডাক্তাররা খুব উৎসাহ দিচ্ছেন,কারণ এতে অশান্তি,হতাশা এড়িয়ে সবাই মিলে বেশ ভাল সময় কাটানো যায়। জানা অজানা ইন্ডোর গেমসের হদিস-

১)আকাশ –মাটি- জল-ফেলুদার রয়েল বেঙ্গল রহস্যে রাজারাপ্পার পিকনিকের গেম্স্ মনে আছে? খুব সোজা।আপনার চোখের দিকে স্থির তাকিয়ে হঠাৎ আকাশ/মাটি/জল বলেই ১০ গুনবে,আর তার মধ্যে আপনাকে আকাশের,মাটির,জলের যে কোনও একটা প্রাণীর নাম বলতে হবে।লালমোহনবাবু বেঙুর বলেছিলেন মনে আছে?

২)উনো -দুটো সেটে পাওয়া যায়।৪ রঙের কার্ড,রিভার্স,জোকার,প্লাস ফোর এমন অনেক রুদ্ধশ্বাস মজার উপকরণে ঠাসা সবার পছন্দের ইন্ডোর গেম্স্ আর নিয়ম ও বেশ সোজা।খেলনার দোকানে অনলাইনে পাওয়া যায়।

৩)মেমরি মেথড গেম– একটা কাগজে ইচ্ছেমতো ওপর নিচ ১০ টা শব্দ লিখতে হবে।যেমন ক্লাউন,ঘোড়া,গাছ….। এর পরে সেটা সবাই একে অন্যকে দিয়ে ১০ মিনিট যে কোনও অন্য কাজ করতে হবে।১০ মিনিট পর আবার মনে করে বলতে/ লিখতে হবে যা লেখা হয়েছিল।এটা শর্ট টার্ম মেমোরি লস এবং ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে এবং ব্রেনের ফ্রন্টাল লোবের জন্য খুব উপকারী গেমস।     

৪) স্ক্র্যাবল/আপ ওয়ার্ড  -ওয়ার্ড পাওয়ারের নতুন ওয়ার্ড শেখার দারুন গেম্স্।আপ ওয়ার্ডসের এক্সট্রা সুবিধে একটা লেটারের ওপরে আর একটা লেটার বসানো যায়,যেমন পি ও টি পটের পির ওপর সি বসালেই কট।

৫) মনোপলি-সবাই জানে।ব্যাঙ্কারের কাজ দায়িত্বশীল কাউকে দিলে ভালো আর সুবিধে হলো অনন্তকাল ধরে খেললেও বিরক্তি আসেনা বরং কিছুক্ষন খেলার পর এ ওর কেনা জায়গায় গিয়ে ট্যাক্স দেওয়া নেওয়া.জেল,চেস্টের কি আদেশ এই সব মিলিয়ে জমজমাট খেলা।

৬) টাম্বোলা /হাউজি -এটাও কমবেশি প্রায় সবারই জানা এবং সব বয়েসের জন্য মানানসই।এর মধ্যে লাক ফ্যাক্টর কাজ করে বেশি।নাম্বার স্লিপ নিয়ে সেই নাম্বার হাঁক হলে তাতে দাগ দিয়ে কেটে একটা লাইন কমপ্লিট করা আর পুরো হয়ে গেলেই ফুল হাউস।এই গেমস অ্যাটেন্টিভ হতে শেখায় কেননা যদি নাম্বার শোনা মিস করলেই হেরে যেতে হবে।       

৭)ডাম্ব শ্যারাডস -কলেজে,স্কুলে প্রায় সবাই খেলেছে।একজন আর একজনকে বিষয় এবং শব্দসংখ্যা ঠিক করে আকারে ইঙ্গিতে ভঙ্গিমায় বোঝাতে হবে।ঠিক উত্তর দিলেই পয়েন্ট।বিশদে জানতে যে কারুর কাছ থেকে জেনে নেওয়া যায়।

৮) আনস্ক্র্যাম্বল- বাংলা ইংরেজি যে কোনও ভাষাতে খেলা যায়।যে কোনও চেনা গল্পের,সিনেমার নামঅক্ষর গুলো উল্টে পাল্টে দিয়ে ঠিক নাম বের করা।          

৯) মেমোরি গেম- ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবির বিখ্যাত দৃশ্য মনে আছে?যে কোনও একটা বিষয় ধরে নামের পর নাম মনে করে বলার খেলা।এতে স্মৃতিশক্তির ব্যায়ামের জন্য খুব ভালো।

১০)বাড়ির ম্যাগাজিন-একে ঠিক ইন্ডোর গেম্স্ বলা যায় কিনা তাতে বিতর্ক থাকলেও বিষয়টা আকর্ষক।একটা বড় খাতায় বাড়ির প্রত্যেককে কিছু করতে হবে।গল্প,কবিতা লিখতে পারে,আঁকতে পারে।নিজের জীবনের সুখস্মৃতির কথা লিখতে পারে।একজনের হয়ে গেলে অন্যজন এমন কিন্তু শর্ত কেউ অন্যের লেখা পড়বেনা যতক্ষণ না পুরো ম্যাগাজিন কমপ্লিট হচ্ছে।এতে সৃষ্টিশীলতা বাড়বে,ফোন অ্যাডিকশন কমবে আর সাইকোলজিস্টরা যে বলছেন এখন কন্টেন্ট না দেখে,পড়ে (যার অনেকটাই নয় আতঙ্ক,হতাশা সৃষ্টিকারী আর নয় ফেক) কন্টেন্ট তৈরী করতে হবে সেটা সকলের মন তাজা রাখার পক্ষে খুব ভাল।

 লুডো,দাবা,তাস,চাইনিজ চেকার,ক্যারম ইচ্ছে করে বাদ রাখা হলেও এগুলিতেও সবার মন ভাল থাকে।     আর উল্লেখিত  অনেকগুলো হয়ত জানা,কিন্তু ভুলে গিয়েছিলেন।এখন আবার শুরু করে দেখবেন সবার মন প্রাণ ভাল হয়ে উঠছে।         

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *