ছবি সৌজন্য: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় মেডিক্যাল এক্সপার্টরা কী বলছেন ?

করোনা সংক্রমণ বাড়ায় পুজোর আগে WHO, AIMS, CDC ভাইরলোজিস্ট জরুরি পরামর্শ।

সম্প্রতি কেরালায় ওনাম উৎসবের পর,মহারাষ্ট্রে গণেশ চতুর্থীর পর সেখানে সংক্রমণ ভীষণ বেড়ে গেছে। তার জন্য পুরো কেরালা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।আসন্ন নবরাত্রি তে ঐতিহ্যশালী গরবা নাচ বন্ধ গুজরাট,মহারাষ্ট্র আর মধ্যপ্রদেশে।এই বাংলায় এই বিপর্যয়ের মধ্যে ঈদ মহরমে সংযম দেখিয়েছে।সম্প্রতি ৫টি চিকিৎসক সংগঠন আসন্ন পুজোয় মুখ্যমন্ত্রীকে সতর্কতা সংক্রান্ত পদক্ষেপের আর্জি জানালেন।

তাদের বক্তব্য শুধু পুজোর দিন ঠাকুর দেখা নয় তার আগেই সেফটি প্রিকশন,ফিজিকাল ডিস্টেনসের তোয়াক্কা না করে কেনাকাটার লাগামছাড়া ভিড়েই বেড়ে যাচ্ছে সংক্রমণ।আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে আর সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে বেড পাওয়া মুস্কিল হলে এতদিনের ডাক্তার,নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের অমানুষিক পরিশ্রম,সরকারের সব শুভ উদ্যোগ নষ্ট হবার আশঙ্কা থাকছে।

বিশেষজ্ঞ ভাইরলোজিস্ট ,ডাক্তারদের পরামর্শ :

১) CDC (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল) বলছেন বদ্ধ ইন্ডোর এড়িয়ে চলুন।কারণ করোনা শুধু ড্রপলেট বোর্ন নয় এয়ার বোর্নও।ক্লোজড জায়গায় কোভিড ড্রপলেট ঘন্টা খানেক ভেসে ৬ ফুটের দূরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।আপনার অজান্তে আশে পাশে সেখানে কতজন কোভিড আ্যসিম্পটম্যাটিক ঘুরে বেড়াচ্ছে সেটা কি করে জানবেন ?

২) অসতর্ক ,অবুঝ,বেয়াড়া মাস্ক না পরা ভিড় তোয়াক্কা না করা আ্যসিম্পটম্যাটিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ডেঞ্জারাস।এনারা অফিসের কফি শপে,পাড়ার চায়ের দোকানে,রকের আড্ডায় ড্রপলেট ছড়াচ্ছেন।পুলিশ প্রশাসন কি গুলি চালাবে মাস্ক না পরলে, ভিড় বাড়ানো এড়াতে ?

৩) WHOর আ্যডভাইস হল  ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, শপিং মলে প্রপার প্রিকশন ও ফাঁকা আছে কিনা দেখে তবেই যাওয়া উচিত নইলে এখন এড়িয়ে যাওয়াই নিজের আর পরিবারের পক্ষে ভাল।

৪) হিউস্টনের ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন আর মলিকিউলার ভাইরোলজি প্রফেসর ,ভারতে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডঃ পিটার হটেজ বলেছেন,’এই প্যান্ডেমিককে ৬ সপ্তাহ বিনা বাধায় ছেড়ে দিলে তার কি ফল হয় তা আমরা নিউ ইয়র্কে আর ভারতের কিছু শহরে প্রত্যক্ষ্য করেছি।স্বীকার করতে কোনও দ্বিধা নেই যে ভারতে এত বেশি জনসংখ্যা সত্বেও নিউ ইয়র্ক এবং আমেরিকার চেয়ে বেশি প্রিকশন নিয়ে ভাল ফল পেয়েছে কিন্তু এতে আত্মতুষ্টির কো ন ও কারণ নেই।এখন যখন আবার সংক্রমণ বাড়ছে তখন জনসাধারণের,প্রশাসনের সর্তক সাবধানতার ভীষণ প্রয়োজন নইলে পরিস্থিতি কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে।

৫)ভিড়ে বাজারের রিস্কে না গিয়ে কেনাকাটা করতে ই কমার্স অনলাইন শপিং এ ভরসা রাখুন।অজস্র ব্র্যান্ড,দারুণ ডিসকাউন্ট, প্রচুর ভ্যারাইটি।পছন্দের ব্রান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও অনলাইন শপিংয়ের সুবিধে আছে।

৬) মাস্ক,স্যানিটাইজার,স্প্রে,ফেস শিল্ড,৬ ফুট দূরত্ব,বাইরে গেলে ফিরে মিনিমাম ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া আর বাইরে থেকে আসা জুতো পরিষ্কার মাস্ট।

৭)AIMS সাজেস্ট করছেন বাচ্চা আর বৃদ্ধদের একদম এই ভিড়ের ধারেকাছে নিয়ে যাবেন না।

৮) WHO গাইডলাইন্স বলছেন বাইরে কখনও চোখে,নাকে,মুখে ভুলেও হাত দেবেন না ,আর খুব দরকার না হলে বাইরে বেরোবেন না।

৯) করোনা থেকে সুস্থ্য হয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকার পরেই উদ্বাহু হয়ে একদম পুজোর বাজার করতে বেরোবেন না।সিডিসির আ্যডভাইস এটা আপনার ও পরিবারের পক্ষে প্রাণঘাতী হতে পারে।

১০) আপনি বেঁচে থাকলে ফ্যামিলি,বন্ধুদের নিয়ে নতুন জামা,জুতো কেনাকাটা, ঠাকুর দেখা,খানা পিনা,বেড়াতে যাওয়া সব হবে।আমার আপনার চেনা পরিচিত কত বন্ধু,আত্মীয়,আমাদের সুরক্ষার জন্য নিরলস কাজ করে চলা ডাক্তার,পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী,সমাজসেবী,শিল্পী চলে গেলেন,তাই এই বছরটা খুব খুব সাবধানে থাকা কি খুব কঠিন ?


পড়ুন: করোনা আবহে আপনার হার্ট কি করে ভাল রাখবেন ?


মনে রাখবেন কিছু মাস আগেই সরকারি,বেসরকারি হাসপাতালে বেড,ভেন্টিলেটর অপ্রতুল থাকায় করোনা আর কোমর্বিডিটির কারণে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।পুজোর বাজার আর ঠাকুর দেখতে গিয়ে সব সেফটি প্রিকশন না নিয়ে বছরের পার্বণের আনন্দে মেতে উঠতে গিয়ে নিজের আর পরিবারের জীবন বিপন্ন করবেন না।

বিশেষ ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা আর সহায়তা পাওয়া যাবে।এছাড়া থাকছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর: 1800 323 444 222 • 03323412600। টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: 033-23576001।কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: 033-40902929।কন্ট্রোল রুম:033 2357 1075/1083/3636     

ঋণ : WHO, AIMS, CDC, TOI, Hindu

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *