Amazon Adventureঅ্যামাজন অ্যাডভেঞ্চার

শিম্পাঞ্জির হাত ধরে, ১৬ ফিট কুমির,পিরানহা, হিংস্র ব্ল্যাক কেইম্যানের চোখ,বিষাক্ত ব্যাঙ,পায়ে হেঁটে জঙ্গল,অ্যানাকন্ডা…

সুমিত মজুমদার

চাকরী সূত্রে গত এক বছর কলম্বিয়ায় আছি। কলম্বিয়ার একদিকে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে অন্য দিকে প্যাসিফিক মহাসাগর, আগ্নেয়গিরি থেকে শুরু করে পিঙ্ক সি,মরুভূমি আর অন্য দিকে শ্বেতশুভ্র বরফে ঢাকা পাহাড়।এখানে এসে অনেক দর্শনীয় জায়গা আমার ঘোরা হয়ে গেছে কিন্তু গত এক বছর যে জায়গার নাম মনে এলেই শরীরের এন্ডরফিন্স  হর্মোনের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল তা হল ভয়ঙ্কর সুন্দর অ্যামাজন রেইন ফরেস্ট।Amazon Rain Forest. অ্যামাজন রেইন ফরেস্ট এত  কাছে এসে যদি স্বচক্ষে না দেখতে পারি তাহলে জীবনই বৃথা।খ্রিষ্টমাস ও নিউ ইয়ারের সময় ছুটিছাটার কারণে কাজের চাপ হাল্কা থাকে তাই চার বন্ধু মিলে ফাইনাল করে ফেললাম অ্যামাজন ট্রিপ। অ্যামাজন মানেই সবাই ব্রাজিল ভাবলেও ব্রাজিল ছাড়াও অ্যামাজন ফরেস্ট Amazon Rain Forest eco system আরও ৯টা দেশে ছড়িয়ে আছে যার মধ্যে আছে Peru পেরু আরColumbia কলম্বিয়া।প্ল্যান করে ফেললাম ৪ রাত ৫ দিনের লাইফটাইম অ্যামাজন অ্যাডভেঞ্চার সফর। প্রথম দিন সকাল ৯.৩০ টার ফ্লাইটে বোগটা শহর থেকে পৌঁছে গেলাম Leticiaলেটিসিয়া শহরে যেটা কলম্বিয়ার শেষ গ্রাম আর আর এখান থেকেই শুরু গভীর গহীন  অ্যামাজন নদী আর জঙ্গল। এয়ারপোর্টে  নেমেই দেখলাম একটা লোকাল ডান্স ট্রপ সাম্বা নাচছে। সেখানেই আমাদের গাইড জনি উপস্থিত ছিল।

 বেলা ১২টা নাগাদ আমরা বিমানবন্দর থেকে গেলাম সুন্দর সাজানো রিসোর্ট মাদ্রেসেলভা হোটেল লেটিসিয়া তে।সেখানে একটু ফ্রেশ হওয়ার পরেই আমরা বেরিয়ে পড়ি আমার প্রথম দিনের ট্যুরে। প্রথম দিন আমাদের ট্যুর প্ল্যানে ছিল লেটিসিয়া আর তাবাটিঙ্গা Brazil(ব্রাজিল) সিটি ট্যুর। লেটিসিয়া আর তাবাটিঙ্গা দুটোই খুব ছোট সুন্দর আমাদের মফস্বল বলা যায়।আমাদের হোটেল থেকে তাবাটিঙ্গা পায়ে হেঁটে চলে যাওয়া যায়,দুটো পাশাপাশি শহর কিন্তু দুটো আলাদা দেশে।লেটিসিয়া হোলো কলম্বিয়ার সীমান্ত শহর আর তাবাটিঙ্গা ব্রাজিলের।

আমাদের গাইড জনি প্রথমেই নিয়ে গেল লেটিসিয়া পোর্টে,এখান থেকেই আমরা অ্যামাজন নদী আর রেন ফরেস্টে ঢুকবো।এখানেই প্রথম দেখলাম  অবিস্মরণীয় অ্যামাজন নদী।বিভিন্ন দেশে এক এক নামে পরিচিত।কলম্বিয়াতে এর নাম Rio Amazonas রিও অ্যামাজোনাস।এই পোর্টের পাশেই একটা ছোট রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম লেটিসিয়া সিটি ট্যুরে।এখানেই আমরা প্রথম অ্যামাজন নদীর সুস্বাদু Pirarucu পিরারুকু মাছ খেলাম।

বলতে দ্বিধা নেই ব্যাক্তিগত ভাবে মিউজিয়াম ট্যুর আমার একটু বোরিং লাগে কিন্তু যেহেতু এই মিউজিয়াম অ্যামাজন নদীর আর জঙ্গলের আর উপজাতিদের বস্তুর সমাহার দিয়ে সাজানো তাই বেশ ভালো লাগল।মিউজিয়ামটা ছোট হলেও অ্যামাজন নদী আর জঙ্গলকে কেন্দ্র করে নানা গল্প,ইতিহাস,ছবি দিয়ে দারুণ সাজানো। মিউজিয়াম ঘোরার পর আমরা বেরিয়ে পড়লাম তাবাতিঙ্গার পথে,এখানে বর্ডারে কলম্বিয়ান পেসো বদলে ব্রাজিলিয়ান মুদ্রা রিয়েলে।এর পর আমরা সরাসরি ঢুকে পড়লাম তাবাটিঙে।মনের মধ্যে একটা রোমাঞ্চ আর আনন্দ হচ্ছিল যে এখন আমি ফুটবলের মক্কা ব্রেজিলে।পেলে,রোনাল্ডো, কার্লোস থেকে আমাদের ক্লাবে খেলে যাওয়া ব্যারেটো।তাবাটিঙে তেমন কিছু দেখার নেই তাই ব্রাজিলে বসে বিকালের কফি আর স্ন্যাকস খেয়ে আমরা আবার ফিরে গেলাম লেটিসিয়াতে।

তখন প্রায় বিকেল ৫টা।আমরা একটা ছোট ‘পার্ক স্যান্টান্ডারে’ গিয়ে বসেছি।দিনের শেষে ঘোরাঘুরিতে ক্লান্ত হলেও গোধূলির সময়ে এই পার্কের অনন্য রূপ প্রত্যক্ষ করলাম।হাজার হাজার পাখি এই পার্কের গাছে,সন্ধ্যেবেলায় তাদের বাসায় ফিরে আসে এই সময়।কলকাতায় পার্কে সন্ধ্যে হওয়ার সময় পাখিদের বাসায় ফেরার ডাকের সঙ্গে এর তফাৎ হল এই পাখিদের কলকাকলিতে গাড়িঘোড়ার আওয়াজ ঢেকে পাশে বসা বন্ধুর সঙ্গেও চেঁচিয়ে কথা বলতে হচ্ছিল।লেটিসিয়া শহরের প্রধান আকর্ষণ এই পার্ক।এই হাজারে হাজারে প্যারাকিটদের যাকে স্থানীয়রা পেরিকাও বলে ডাকে।প্যারাকিট ছাড়াও ম্যাকাও আর কাকাতুয়াও আসে কিন্তু আমাদের দর্শন হয়নি।এর পর হোটেল ফিরে ডিনার করে নিলাম।পরের দিন সকাল ৭টায় লেটিসিয়া পোর্টে যেতে হবে কিন্তু রাতে মুষলধারে বৃষ্টি নামল/ভাবতে লাগলাম এই বৃষ্টির কারণে কি আগামীকালের ট্যুর ক্যানসেল হবে,কিন্তু আবার এটাও ভাবলাম অ্যামাজন রেন ফরেস্টে বৃষ্টি হচ্ছে বলে কমপ্লেন করলে চলবে কেন?পরের দিন  অ্যামাজন নদীতে ভেসে বেড়ানোর উত্তেজনায় রাতে ভালো ঘুম হলনা।      

দ্বিতীয়দিন সকালে উঠে দেখি বৃষ্টি কমে গেছে।সকাল সাতটার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম লেটিসিয়া পোর্টে।এখন থেকেই শুরু হবে অ্যামাজন অভিযান।আজকের জন্য জনি আমাদের সঙ্গ দেবেনা।সঙ্গে থাকবে অন্য গাইড।যে নৌকো করে আমরা আজকের অভিযানে যাব তাতে জনা ১২ লোক ধরে।আমরা অতঃপর বেরিয়ে পড়লাম আমাদের জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ট্রিপে।আমরা যেখান থেকে শুরু করলাম সেখানে নদি যদিও তেমন চওড়া নয় কিন্তু মিনিট ১৫র পরেই এর আসল রূপ দেখতে পেলাম।এত বিস্তীর্ণ যে যেখানে অ্যামাজন আটলান্টিকে মিশেছে তার ২০০ কিলোমিটার অবধি মিষ্টি জল।কালকের বৃষ্টির জন্য স্নিগ্ধ আবহাওয়া।  

এই সেই অ্যামাজন নদী।কত অজানা রহস্য,কত অজানা জীবজন্তু আর  ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বয়ে চলেছে হাজার হাজার বছর ধরে।আধ ঘন্টা চলার পর আমাদের বোট নদীর মাঝে একটা জায়গায় দাঁড়ালো।কলম্বিয়াতে থাকার সুবাদে যেটুকু স্প্যানিশ বুঝি তাতে বুঝলাম গাইড জানাল নদীর এইখানে তিন দেশের সংযোগস্থল,এক পাশে পেরু,অন্যদিকে কলম্বিয়া আর ওপাশে ব্রাজিল।তিন দিকেই গভীর জঙ্গল আর মধ্যে অল্প জনবসতি।এগিয়ে চললাম পরের গন্তব্যে।এবারে আমরা গেলাম যেখানে Dolphin ডলফিন দেখা যায়।ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নাকি এখানকার বিখ্যাত পিঙ্ক ডলফিনের দেখা পাওয়া যেতে পারে।গাইড সাঙ্কেতিক সিটি  মারতে থাকল আর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।একটা নয়,বেশ কয়েকটা ডলফিনের দেখা পেলেও পিঙ্ক ডলফিনের দেখা না পেলেও কোনও দুঃখ হলোনা।বেশ কিছুক্ষন সেখানে থাকার পর আবার বোটের  ইঞ্জিন চালু হল।দু ধারে গভীর অরণ্যের মাঝ দিয়ে অ্যামাজনের বুক চিরে চলল আমাদের তরী।পরের গন্তব্যে যেতে আরও দু ঘন্টা সময় লাগবে।অ্যামাজনের অপূর্ব জঙ্গল আর নদীর রূপ দেখতে দেখতে চোখে পড়ল একদল Macao ম্যাকাও নদীর এপার থেকে ওপার উড়ে যাচ্ছে।কাছ থেকে চোখের সামনে লাল নীল হলদে সবুজের ছটার বিচ্ছুরণে মন প্রাণ ভরে উঠলো। দুদিকের প্রকৃতিক অপরূপ শোভা দেখতে  দেখতে আমাদের নৌকা হঠাৎ বনের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় এসে থামল।সেখানে একটা মাত্র ছোট্ট  কাঠের বাড়ি আর সেখানেই  আমার দুপুরের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা কিন্তু এখন শুধু রিফ্রেশমেন্ট আর টয়লেটের জন্য ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করলাম।এবার আমরা প্রধান নদী থেকে সরে একটা খাঁড়িতে ঢুকলাম।গা ছমছম করে উঠলো কারণ এখন জঙ্গল আরও কাছে।মনে পড়ল অ্যানাকন্ডা সিনেমার কথা।একটু পরেই আমাদের বোট এসে থামল যেখানে তার নাম Sacambu সাকাম্বু।জঙ্গলের মধ্যে ছোট্ট কাঠের বাড়ি।ঠিক বুঝতে পারছিলামনা এখানে কতক্ষণ আর কী কী দেখব ঠিক সেই সময়ে একজন ভদ্রলোক এসে আমাদের হাত ধরে বোট থেকে নামিয়ে কটেজে নিয়ে গেল।ভদ্রলোক আর কেউ না একটা শিম্পাঞ্জি।Chimpanzee

এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় সবার বাড়িতেই নানারকম পোষ্যআছে।শিম্পাঞ্জি,Marmoset মারম্যাসেট,Slothশ্লথ। এদের সবার উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা আশ্চর্য পুলকিত।বাড়ির কর্তা আমাদের নাম না জানা কিছু ফল সবার হাতে ধরিয়ে দিলেন আর সেই ফল খাবার জন্য নানা জাতের বাঁদর,শিম্পাঞ্জি আমাদের ঘাড়ে হাতে উঠে বসে আমাদের হাত থেকে ফল খেতে লাগলো যেটা একটা আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। ওনাদের বাড়ির পুকুরে দেখলাম পিরারুকু মাছ।এই মাছ নাকি  আয়তনে ৩/৪ মিটার অবধি বড় হয় আর আশ্চর্য হল এদের খাদ্য হিংস্র Piranha পিরানহা মাছ আর এরা স্বভাবেও খুব হিংস্র।বেশ কিছুক্ষণ পরে এই অসাধারণ আশ্চর্য প্রাণীদের সঙ্গে থাকার পর এবার আমাদের ফেরার পালা।দারুণ স্মৃতি নিয়ে ফিরে সেই আগের নির্জন জায়গায় লাঞ্চের জন্য এসে পড়লাম।দুপুরের ভুরিভোজে পিরারুকু মাছ আর বন মুরগীর ঝোল।খাওয়া শেষ হতে ৩টে বেজে গিয়েছিল।এর পর আমরা হাতে টানা নৌকোতে মাছ ধরার অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়লাম।এবার আমাদের কান্ডারি বছর ১৫র এক কিশোর।আমাদের ছোট্ট নৌকা চলল খাঁড়ির একদম শেষ প্রান্তে যেখানে জল জঙ্গলে মিশেছে।গা ছমছমে জায়গা।বড় বড় অনেক অজানা গাছের মধ্যে দিয়ে আমরা আরও গহীন জঙ্গলের মধ্যে নদীতে ঢুকছি,গাইডের নির্দেশ মেনে দুদিকের জঙ্গলের দিকে চোখ কান খোলা রেখে চলেছি.মনে অজানা বিপদের আশঙ্কায় রোমাঞ্চের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।এখানে অনেক জায়গায় দেখলাম সূর্যের আলো ঢুকতে পাচ্ছে না।আলো আঁধারির মধ্যে যে কোনও সময় বিপদের সামনে পড়তে পারি।কিন্তু বাস্তবে যেটা আমাদের সত্যিকারের বিপদে ফেলল সেটা হল আমাজনের কুখ্যাত মশার দল।শুনতে মজার লাগলেও আমরা ১০ মিনিটও ফিশিং করতে পারিনি এই উপদ্রবে।এই জায়গায় অনেক মাছ থাকলেও বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হল।এবার আমাদের ফেরার পালা।সন্ধ্যে নামার আগেই আমরা ফিরে এলাম লেটিসিয়া পোর্টে।আজকের নিশিযাপন ওই একই হোটেলে।দিনটা ২৫শে ডিসেম্বর ছিল তাই আমরা একটু পার্টি করতে গেলাম ব্রাজিলের টাবাতিঙ্গাতে।একটা পাবে পার্টি করে রাত ১২টা পার করে হোটেলে ফিরে এলাম।পরের দিনে আবার সকাল ৭টায় লেটিসিয়া পোর্টে যাওয়ার শিডিউল। 

সকালে উঠে কে ভাবতে পেরেছিল যে আজকের দিনটা আমাদের জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।আজ আমাদের যাচ্ছি মারাশা পেরুতে।ব্রাজিলের পরেই অ্যামাজনের সবচেয়ে বেশি অংশ পেরুতে।হোটেল থেকে চেক আউট করে পৌঁছলাম জেটিতে।আজ রাত্রি যাপন Marasa মারাসাতে।আজকের বোটের সাইজ আগের দিনের চেয়ে বড়।যাত্রা শুরু হল।ঘন্টাখানেক যাওয়ার পর লঞ্চ নদী পথ ছেড়ে খাঁড়ির পথে ঢুকল।এই খাঁড়িপথের দু পাশে বিশাল বড় বড় গাছ যাদের বয়েস হয়তো একশো বছরের বেশি,তার সঙ্গে অচেনা পশু পাখিদের ডাক।জলের দিকে চোখ রাখছিলাম যদি কুখ্যাত ভয়ঙ্কর Anaconda অ্যানাকন্ডা,Black Caiman ব্ল্যাক কেইম্যান কুমিরের দেখা পাই আর ডাঙ্গায় জঙ্গলের রাজা Jaguar জাগুয়ারের সন্ধানে। খাঁড়ি পেরিয়ে আবার বড় নদীতে আর একটু পরে লঞ্চ নোঙ্গর ফেলল মারাসাতে।ছোট্ট কাঠের জেটি।অ্যামাজনে কোথাও বড় জেটি নেই,যা আছে তা আমাদের পুকুরপাড়ের ঘাটের মতন।লঞ্চ থেকে নেমে মাটির সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসতে হয়।এখান থেকে আমাদের কটেজে যাবার দুটো রাস্তা আছে।একটা পায়ে হেঁটে আর আর একটা ছোট নৌকায়।আগের দিন বৃষ্টি হওয়ায় আমরা নৌকোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।কিন্তু এবার যে খাঁড়িপথ দিয়ে যাচ্ছি তা সঙ্কীর্ণ থেকে সঙ্কীর্ণতম হয়ে যাচ্ছে।নৌকোতে ৬জনের বেশি বসার জায়গা নেই আর এক একসময় হাতেই পারে গাছের ডালপালা ধরা যাচ্ছে তাই যে কোনও জন্তু অনায়াসে আমাদের নৌকোয় লাফ দিয়ে চলে আসতে পারে।এখানে জলের রং কালো।

প্রায় এক ঘন্টা যাওয়ার পর আমরা আবার একটা বড় জলাভূমিতে এসে পড়লাম।এটা কিন্তু অ্যামাজনের নদী নয় বরং নদীর মধ্যে ঢুকে আসা একটি বড় লেক।সম্পূর্ণ লেকটাই জঙ্গলে ঘেরা যার একদিক অ্যামাজনের সঙ্গে যুক্ত।এই লেকের মধ্যেই কাঠের খুঁটির ওপরে আমাদের কর্টেজ ,হ্যাঁ কটেজ নয় কর্টেজ।এই কর্টেজের জেটিতে আমাদের নৌকা ভেড়ার আগেই যা দেখলাম তাতে এখন আমার সমস্ত রোমকূপ খাড়া হয়ে শিরদাঁড়া হিম হয়ে উঠল।ঐ লেকে নৌকার একদম কাছেই প্রায় ১৬ ফুট আকারের এক দৈত্যাকার কুমির যার ল্যাজের এক ঘায়ে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে উল্টে পড়তে পারে আমাদের ছোট্ট নৌকো

আতঙ্ক সামলে যখন লক্ষ্য করলাম যে কুমিরটা নৌকোর কাছে এসেও যাকে বলে নট নড়ন চড়ণ তখন বুঝলাম এই পোষা,ঠিক যেমন সাকাম্বুতে পোষা প্রাণী দেখেছিলাম।কিন্তু পোষা শিম্পাঞ্জি,মার্মসেট আর পোষা কুমির তো এক নয় তাই সামলে উঠতে একটু সময় লেগেছিল। কিন্তু কটেজে আসার পর ওখানকার স্থানীয় লোকেদের কাছে যা জানলাম তাতে আবার হাড় হিম হয়ে গেল।ভদ্রলোক মোটেই পোষা নয়।দিনের এই সময়ে ওখানকার স্থানীয়রা আমাদের মাছের বাজারে বেড়ালদের মত বড় বড় মাছের ছাল অনেকে খেতে দেয় তেমন সেই খাবার লোভেই ইনি রোজ হানা দেন।আজও আমাদের বোধহয়  ক্লোজ আপে নিরীক্ষণ করছিলেন এই ভেবে যে আজ মাছের ছাল না পেলে আমাদেরই ছাল ছাড়িয়ে লাঞ্চ করবেন।এই কটেজে পৌঁছে এটাও জানলাম এর ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কোনও জনবসতি নেই।শুধু ভয়াল নিবিড় জঙ্গল। 

কটেজে আমরা ছাড়াও কিছু ট্যুরিস্ট আগে থেকেই ছিল যদিও সংখ্যায় কম।আমাদের সঙ্গে তারাও খুব উৎসাহ আর উত্তেজনা নিয়ে সেই কুমির দেখছিল।এখানে লোকেরা মুখে একটা সাঙ্কেতিক শব্দ করে ডাকলে কুমিরটা সেই শব্দ শুনে আসে আগেকার পাড়াগাঁয়ের পুকুরে হাঁসের দলের মত।আমরাও ওদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ডাকলাম,জীবনে কখনও ভেবেছি যে কোনওদিন অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে কুমিরকে ডাকতে গলা ছাড়ব। দুপুরের খাওয়ার পরেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম জঙ্গল ভ্রমণে।এবারে কিন্তু পায়ে হেঁটে।গাইডের নির্দেশমতো ফুল স্লিভ জামা আর আমাদের জন্য ছিল হাঁটু পর্যন্ত লম্বা জুতো।লোকাল গাইডের হাতে একটা বড় ছুরি যেটাকে চপার বলা যায় সেটা নিয়ে এগিয়ে চলল কটেজের পাশে একটা সরু রাস্তা দিয়ে যদিও সেটাকে ঠিক রাস্তা বলা যায় না,এই ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে দিয়েই জঙ্গলে ঢুকতে হবে।আমরাও তাকে অনুসরণ করলাম আর ঢুকে পড়লাম বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর ভয়ঙ্কর জঙ্গলের মধ্যে।আসে পাশে বিশাল বিশাল সব গাছ না জানি কত যুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছে ,তাদের শাখা প্রশাখা দিয়ে যেন নিচের গাছগুলোকে অভিভাবকের মত আগলে রেখেছে।এমন জঙ্গলের কথা বইতে পড়েছি,সিনেমায় দেখেছি যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না আর আমরা এখন সেই জঙ্গলের মধ্যে এটা ভাবতেই একটা থ্রিল হচ্ছিল।নিচের স্যাঁতস্যাঁতে কাদা মাটির পথ ধরে আমরা এগিয়ে চললাম।আর চোখ কান খুলে আসে পাশের প্রাণী বৈচিত্র দেখতে লাগলাম।কোথাও একদল বিচিত্র আকৃতির বাঁদর,কোথাও নানা রঙের ব্যাঙ আর মাকড়সা,এতো রঙের যে ব্যাঙ থাকতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করলাম না ,ভয়ে ভয়ে এটাও জানলাম যে এরা অনেকেই খুব বিষাক্ত।Amazon Green Frog

সারি সারি পিঁপড়ের দল গাছের পাতা নিয়ে লাইন করে যাচ্ছে,বিশাল উইয়ের ঢিপি আর কানে অজানা জন্তু জানোয়ার আর পাখির ডাক সে অনুভূতি,রোমাঞ্চ শিহরণ ভাষায় প্রকাশ করা দুস্কর।  

এই ঘন জঙ্গলের মধ্যে বিভূতিভূষণকে স্মরণ করছিলাম।চাঁদের পাহাড়ের শঙ্কর,আরণ্যক।আমরা কোনও চিতাবাঘ বা অ্যানাকন্ডার সম্মুখীন হয়নি আর সেটা একেবারেই কাম্য নয় কারণ ওনাদের দেখা পেলে তো ঠিক সেলফি তোলা যাবেনা ওনাদের পেটে যেতে হবে সেটা আর কে চায়।হাঁটতে হাঁটতে একটা জায়গায় এসে পৌঁছলাম যেখানে জঙ্গল একটু পরিষ্কার করা হয়েছে।এখানেই একটা বিশাল গাছ দেখলাম ,যার গুঁড়ি চল্লিশজন মানুষ ঘিরলেও ধরা যাবেনা আর উচ্চতা যেন আকাশ ছুঁয়েছে।এখানে কিছুক্ষণ থেকে ফিরে যাওয়ার পালা কটেজে।মাঝে মাঝে একটু পথ হারালেও শেষে কটেজে ফিরে এলাম।           

দুপুরে লাঞ্চে এখানকার ট্র্যাডিশনাল মেনু ভাত,বিফ কারি,দেশি মুরগির ঝোল আর কাঁচকলা ভাজা।বিফ খাইনা বলে পিরারুকু মাছ।খাওয়া দাওয়া সেরে কটেজের দোলনা হ্যামকে কিছুক্ষণ জিরিয়ে হালকা বৃষ্টির পর এবার আমাদের নদীতে কায়াকিং করার পালা।বন্ধুরা দুজন করে এবার চড়ে বসলাম কায়াকিংয়ের নৌকোয়।আগে কায়াকিং না করা থাকলেও একটু পরেই সড়গড় হয়ে গেলাম।পেছন থেকে এক কায়াকিং করে নজর রাখছিল আমাদের গাইড।জলে ভাসতে ভাসতে গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম কুমির ছাড়া আর কি আছে এই জলে,যা বলল শুনে আতঙ্কে গা শিউরে উঠল,পিরানহা আর Anaconda অ্যানাকন্ডা। তখন সন্ধ্যে প্রায় হয়ে আসছে।গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো লুকোচুরি খেলছে অ্যামাজনের যদি আর জঙ্গলের মধ্যে এই সূর্যাস্তর অপূর্ব রূপ মনে রয়ে যাবে। 

আমরা যখন আবার কটেজে ফিরি তখন গোধূলির আলো কিছুটা রয়ে গেছে।হঠাৎ মনে পড়লো আমাদের তো নদীতে মাছ ধরার কথা।গাইডের স্মরণাপন্ন হতেই সব ব্যবস্থা রেডি।সঙ্গে মাছ ধরার ছিপ আর চারের জন্য মাছের চর্বি।যেহেতু আমাদের কটেজ নদীর ওপর ভাসমান তাই বেরিয়ে পড়তে দেরি হলোনা আর সন্ধ্যে হলেও একটু পরেই বন্ধুর ছিপে উঠল পিরানহা মাছ তাই নিয়ে আমাদের উৎসাহ দেখে কে ? সেটা হাতে নিয়ে ছবি তোলার পর আবার জলে ছেড়ে দেওয়া হল।

সন্ধ্যে ৭টার মধ্যে ডিনার করে নিতে হল কারণ এখানে রাতে ৪ ঘন্টার জন্য  জেনারেটরে আলো জ্বালানো হয় তাই,মোবাইলে নেটওয়ার্কের তো প্রশ্নই নেই কিন্তু রাতে যে সামান্য আলো থাকবেনা এটা জানা ছিল না।ভাগ্যিস আলো ছিলনা কারণ রাতের অন্ধকারে অ্যামাজন জঙ্গলের অনির্বচনীয় রূপ উপভোগই করতে পারতাম না।রোমাঞ্চের এখনই শেষ নয় কারণ এই নিশুতি রাতে আমরা আবার নৌকো করে মাছ ধরতে যাব।                

চার বন্ধু একটা ছোট্ট নৌকোতে লোকাল গাইডের সঙ্গে উঠে পড়লাম।হাতে টানা নৌকো।মনে হল চারিদিকের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার যেন আমাদের নৌকোকে গ্রাস করে নেবে।আলো বলতে আমাদের গাইডের মাথায় লাগানো একটা সেফটি লাইট।মনে হচ্ছিল যেখানে আমরা এরই মধ্যে জানি যে এই নদীতে পিরানহা,ব্ল্যাক কেইম্যান,আর অ্যানাকন্ডার আবাসস্থল সেখানে ওই একটু আলো আর একটা ছুরিতে কি বিপদের মোকাবিলা হবে কিন্তু এই  রোমহর্ষক জীবদ্দশায় অভিজ্ঞতার স্বাদই  আলাদা।

ঘন অন্ধকারে অ্যামাজন নদী আর জঙ্গলের সৌন্দর্য্যের মুগ্ধতা,রোমাঞ্চ,শিহরণ অনির্বচনীয়।চোখে এখন অন্ধকার সয়ে গেছে,আমরা দুপাশের জঙ্গলের মোহময়ী রূপ উপভোগ করছি।নদীতে এদিকে সেদিকে বেশ বড় পদ্মপাতার মতো পাতা ছড়িয়ে আছে আর তাতে আশ্চর্য আলো বেরোচ্ছে।গাইডের কাছে জানলাম এখানে কিছু পোকার লার্ভা থেকে জোনাকির মতো এই আলো জ্বলে।জঙ্গলে থেকে নাম না জানা পশুপাখির ডাক ভেসে আসছে।বিশ্বাস করতে পারছিলাম না শহুরে কলকতার বাগুইহাটির বাঙালি এখন বিপদসন্কুল রাতে অ্যামাজন জঙ্গলের মধ্যে।হঠাৎ কিছুতে আটকে পড়ে আমাদের নৌকো থেমে যেতেই এক মুহূর্তে গাইড জলে নেমে পড়ল।এখনো ভাবতে গেলে গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়।তখন ভাবছি যদি কোনও বিপদ হয়।কিন্তু একটু পরেই যেমন নেমেছিল তেমনি উঠে এসে নির্বিকার চিত্তে বোট নিয়ে ফিরতে লাগল।মাথার ওপর নির্মল আকাশে অজস্র তারা ঝকমক করছে আর নিচে অ্যামাজন নদীর কালো জল।চোখে পড়ল নদীর জলে ছোট আগুনের বল জ্বলজ্বল করছে।গাইডকে জিজ্ঞেস করতে বলল ব্ল্যাক কেইম্যানের চোখ।শুনে ইলেকট্রিক শক খাওয়ার মত অবস্থায় ভাবছি বলে কি?এই সেই অ্যামাজনের কুখ্যাত ভয়াল ভয়ঙ্কর কেইম্যান কুমির?আমরা আতঙ্কে অবশ হয়ে বোকার মত গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম,’এখানে তো একটাই নিয়ে সেমি পোষ মানা কুমির আছে,যেটা মাছ খেতে আসে?গাইড নির্লিপ্তস্বরে বলল,’একটা কেন হবে এখানে প্রচুর ব্ল্যাক কেইম্যান কুমির আছে আর ও নিজের চোখে একসঙ্গে ১৫টা কুমির দেখেছে।শুনে আমরা ভয়ে আতঙ্কে শিহরিত যে এই কেইম্যানের ঝাঁক পেরিয়ে ফিরব কি করে ?কিন্তু আমাদের আস্বস্ত করে,আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার অবসান করে গাইড নিরাপদে আমাদের কটেজে ফিরিয়ে আনল।এর পরে প্রায় সারারাত আমাদের কটেজের নিচে,কাছের জলে আওয়াজ শুনে গাইডকে জিজ্ঞেস করতে বলেছে কেইম্যান শিকার ধরছে এ তারই আওয়াজ।     

কটেজের নিচে হিংস্র কেইম্যানের শিকার ধরার আওয়াজের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার পরের দিন সকাল ৭টার মধ্যে পৌঁছতে হবে মারাসা পোর্টে,গন্তব্য ‘পুয়ের্তো নারিনো,স্প্যানিশ ভাষায় পুয়ের্তো মানে পোর্ট।পাড়ি দিলাম মারাসা পোর্টের উদ্দেশ্যে।আমাদের পোর্টে পৌঁছতে হতো ৭টায় কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা ৭.১০ পৌঁছে দেখলাম বোট ছেড়ে চলে গেছে,আর পরের লঞ্চ সকাল ১০.৩০টায়।এত ছোট্ট নির্জন জেটিতে এত সময় কাটানো বেশ চাপের।আমরা নিজেরদের মতন আসে পাশের জঙ্গলে ঘুরতে লাগলাম।গাছের ওপর বসে থাকা অজানা পাখি,শ্লথ থেকে সময় কেটে গেল।পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে খাওয়ার সময় একটু ভয় লাগছিল কেউ তেড়ে আসে কিনা কিন্তু কেউই আসেনি। ১০.৩০শে আমরা লেটিশিয়া থেকে পুয়ের্তো নারিনোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।এই যাত্রাপথে  ২২টা জনগোষ্ঠীর গ্রামের পাশ দিয়ে বোট যাওয়াতে আমরা ওখানকার গ্রামবাসীদের দেখছিলাম কিন্তু সিনেমার মতো কেউই গাছের ছাল,পাতা,জন্তু জানোয়ারের চামড়া পরা বিচিত্র সাজে কাউকে দেখলাম না।শুনলাম বীরভূম ,শান্তিনিকেতনের মত কোনো উৎসব বা ফাংশন হলে তবে ওদের কেউ কেউ ওদের র্যাডিশনাল পোশাক পরে আসে আর এর আধিক্য ব্রাজিলের দিকের অ্যামাজনে।অতঃপর এসে পৌঁছলাম পুয়ের্তো নারিনাতে।

কিন্তু এই জায়গা দেখে একটু হতাশ হলাম কারণ এখনকার সভ্যতার সব নিদর্শনই এখানে বর্তমান।ইলেকট্রিক,মোবাইল নেটওয়ার্ক,দোকানপাট অনেক কিছুই আছে।এমনিতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছে আমরা হোটেলে লাঞ্চ করে গাইডকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম।নদীর পার থেকে গ্রামের পথে যেতে লক্ষ্য করলাম খুবই ছোট গ্রাম আর হাতে গোনা ঘরবাড়ি।প্রায় ঘন্টাখানেক জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে  হাঁটার পর আমরা এসে পৌঁছলাম একটা ফার্ম হাউসে।নাম উচিন রিজার্ভ।সামনে গরু চরে বেড়াচ্ছে আর একটা বেশ বড় পুকুর।এই পুকুরে আবার দেখলাম সেই বিশাল বিশাল গোলাকার পাতা আর জানলাম এই পাতা নাকি পূর্ণবয়স্ক মানুষের ভার বহনে সক্ষম,দেখলে পদ্মপাতার মত হলেও এর নাম Victoria Leaf ভিক্টরিয়া লিফ।এবার সেই ছোট বাড়ির কর্তা এসে উপস্থিত,দেখলাম আমাদের গাইডের সঙ্গে যথেষ্ট পরিচয় আছে আর উনি হাতে বেশ কিছু ছোট মাছ নিয়ে পুকুরের পারে এসে দাঁড়ালেন আর সঙ্গে আমরাও।পুকুরের ধারে একটা ছোট ওয়াচ টাওয়ার আছে আমরা সেখানে গিয়ে উঠলাম আর জলের দিকে চোখ রাখলাম।উনি একটা ছোট মাছ জলে ছুঁড়তেই চমকে উঠে লক্ষ্য করলাম এক দৈত্যাকৃতি পিরারুকু মাছ জল তোলপাড় করে এসে ওই ছোট মাছটা খেয়ে নিল।ওই বিশাল মাছটার আকার একটা কুমিরের থেকে কম নয়।এতো বড় মাছ সামনে থেকে আগে দেখিনি।এই একই জলে আমরা কুমিরও দেখেছি কিন্তু উনি এই পিরারুকুর কাছে আসেন নি।এর পর আমরা ওই জঙ্গলের পথে পেরিয়ে ফিরে চললাম নদী পারের দিকে।Amazon Rain Forest Eco System. 

সেখানে আগে থেকেই আমাদের জন্য নৌকা ভাড়া করা ছিল।এবার যাচ্ছি ডলফিন দেখতে।এবারেও নদি থেকে খাঁড়ি পথে ঢুকলো নৌকো।দুধারের গভীর জঙ্গলের ছায়া পড়েছে নদীর জলে।একটা জায়গায় এসে বন্ধ হল ইঞ্জিন।এবারে নৌকো হাতে টানা।এবার কিন্তু আমাদের নিরাশ হতে হল না।কালো ডলফিনের পাশে অবশেষে দেখা পেলাম অ্যামাজনের বিখ্যাত Pink Dolphin পিঙ্ক ডলফিনের।বন্ধুরা যদিও নদীতে কিছুক্ষণ সাঁতার কাটলো কিন্তু আমার ঠিক অতটা সাহস হলো না।সন্ধ্যেবেলায় আবার আমরা ফিরে এলাম পুয়ের্তো নারিনোতে।পরের দিন আবার দু ঘন্টার নদীপথের যাত্রার পর ফিরে এলাম লেটিশিয়াতে।  

আজ আমাদের বোগটা যাওয়ার ফ্লাইট ছিল রাত ৮টায়।তার আগে আমরা চলে  গেলাম লেটিশিয়া শহরের রিজার্ভ তানিমবোকা ফরেস্টে যার প্রধান আকর্ষণ ট্রি হাউস।জঙ্গলের মধ্যে বিশাল গাছগুলোর মধ্যে এই অপূর্ব ট্রি হাউস।

দারুণ এই ট্রিহাউসে কিছুক্ষণ কাটানোর পর লাঞ্চ করে আমরা ফিরে এলাম সেই পার্ক স্যান্তানডারে।সেই সন্ধ্যেবেলায় ঘরে ফেরা পাখির ডাকে মনে হল আমাদেরও এবার ফেরার পালা।ফেরার সময় সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি সারাজীবনের অ্যামাজন জঙ্গল ভ্রমণ অভিজ্ঞতার অমূল্য স্মৃতি যার টানে ১৬০০০ কিলোমিটার দূরের কলকাতার এক বাঙালি চাঁদের পাহাড়ের শঙ্করের মত অ্যামাজনের অমোঘ টানে এখানে এসেছিল।

ছবি-গাইড জনি

পুনশ্চ:অ্যানাকন্ডা আর জাগুয়ারের সম্মুখীন না হলেও আমাদের বোট হাউসের পাশে আমাদের যাওয়ার আগের দিন অ্যানাকন্ডা বাবাজি এসেছিলেন।এই ওনার ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *