সনাতনের গুপ্তধন -

সনাতনের গুপ্তধন

ঝিলের তলায় নাকি লুকিয়ে আছে সোনা- দানা,হিরে -মানিক।পাহারা দেয় অতৃপ্ত আত্মারা।

সুমন্ত্র মিত্র

এ কাহিনীর সময়কাল সত্তরের দশকের শেষের দিকের গ্রামবাংলা।শেয়ালদা থেকে  টাকি লাইনে নির্জনে পড়ে থাকা মালতীপুর এই বাংলার অন্যান্য অনেক নাম না জানা গ্রামের মতোই যেখানে  শীত এলে বাতাসে একটা আলাদা গন্ধ ভাসত খড়ের গাদা, শুকনো পাতা, জ্বালানির কাঠ আর দূরের কুয়াশামাখা জলের সোঁদা গন্ধ। নদী না হলেও গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে আমটোনা রোডের পাশে বেশ কিছুটা পায়ে চলা রাস্তার মধ্যে দিয়ে গিয়ে যে বড় ঝিলটা ছিল, তার জল শীতে আরও গাঢ়, আরও রহস্যময় হয়ে উঠত,ওই বড় ঝিলের একদিকের  সে অর্থে ব্যাকওয়াটার একটি ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ি নিয়েই এই কাহিনী।

ঝিলটার ঠিক পাশেই ছিল এক পুরোনো ভগ্নপ্রায় বাড়ি লোকমুখে যার নাম সনাতন বাবুর জমিদার বাড়ি।প্রায় ১০০ বছর আগে জমিদারবাড়ি হলেও এখন তালপুকুরে ঘটি ডোবে না।

এই বাড়ি আর তার ইতিহাস সম্পর্কে দু’চার কথা বলা প্রয়োজন। সনাতন বাবুর প্রপিতামহ রামরতন সরকার ইংরেজদের দপ্তরে সামান্য কর্মচারী থেকে কী করে এতো বড়োলোক হলেন  সেই নিয়ে গ্রামের লোকেদের নানা ফুসফাস কালের গভীরে অন্তর্হিত হলেও আদতে বনগ্রামের বাসিন্দা হয়েও কেন এই নির্জন অখ্যাত মালতীপুরে একটি ছোট হলেও জমিদারবাড়ি বানিয়েছিলেন সেই নিয়ে সরেস কুখ্যাতি আছে ,শোনা যায় ওনার বিলাসিনী নামে এক ইয়ের জন্য এখানে এই বড় বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন এবং শেষের দিকে কলকাতার সব কিছু ছেড়ে এখানে থাকতে শুরু করেছিলেন।ওনার ছেলে কালীচরণ কলকাতায় বাবার টাকায় ব্যবসা করে আরও সম্পদশালী হওয়ার পরে বোধহয় বাবার মতো লাম্পট্য আর অতিরিক্ত মদ্যপানের কুপ্রভাবে মাত্র ৫২ বছর বয়েসে ইহকাল ত্যাগ করলে পুত্র পঞ্চাননকে কঠোর শাসনে মানুষ করেন মা তরুবালা।

ধনী পরিবারে জন্মালেও পঞ্চাননকে প্রথমে পাঠশালা ও পরে মেট্রোপলিটান স্কুলে ভর্তি করে দেন।এরপর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষে গডফ্রে ফিলিপস কোম্পানিতে হেড ক্লার্ক ও পরে ম্যানেজারের পদে সুনামের সঙ্গে কাজ করে অবসরের পর আধ্যাত্মিক জগতের প্রতি আসক্ত হন এবং বৈষয়িক এবং আমোদ প্রমোদ প্রায় সব পরিত্যাগ করে বৈরাগ্যের,নির্জনে ধ্যান ও লোকালয় থেকে দূরে এই মালতীপুরের বাড়িতে বেশি করে থাকতে শুরু করেন।মাঝে মাঝে কলকাতায় আসতেন আবার যখন ফিরতেন তখন সঙ্গে থাকতো একটা ছোট বাক্স।বাবার  প্রভাবে কিনা বলা শক্ত তবে অনেকে মনে করেন যে সনাতন ছোট থেকেই একটু বেশি চুপচাপ ,একা থাকতে ভালোবাসতো।পড়াশোনায় মধ্যমানের কিন্তু বই পড়া ছাড়া আর অন্যদিকে তেমন ঝোঁক ছিলোনা,মিশুকেও নয়।কলেজের পড়া শেষ করার পর বাবার অফিসে চাকরিতে ঢুকে বছর দশেক চাকরি করার পর চাকরি ছেড়ে মালতীপুরের বাড়িতে একা থাকা স্থির করে।মায়ের শত অনুরোধে বিয়ে করা তো দূর কারুর সঙ্গে মেলামেশা প্রায় করেনা বললেই চলে। শখ কেবল দুটো,প্রচুর বই পড়া আর নতুন টেকনোলজির দিকে।   

বাড়িটা আসলে বাড়ি নয়, যেন সময়ে ফেলে রাখা একখানা স্মৃতি। দেওয়ালের চুন উঠে গেছে, ছাদে শ্যাওলা, জানালার পাল্লা আধখানা ভাঙা। বাড়িটাকে ঘিরে ছিল বিশাল বিশাল আম, জাম, লিচু, বট আর বাঁশের জঙ্গল। শীতে পাতাঝরা ডালে ডালে বসত অচেনা পাখি, আর সন্ধ্যা নামলেই সেই বাড়ির ছায়া ঝিলের জলে এমনভাবে পড়ত, যেন জলেও কেউ দাঁড়িয়ে আছে।

এই বাড়িতেই থাকেন  সনাতন বাবু , বয়স আশি ছুঁইছুঁই। রোগা, লম্বা, কুঁজো হয়ে যাওয়া শরীর, কিন্তু চোখদুটো আশ্চর্য রকম উজ্জ্বল।এখনকার প্রজন্মের  গ্রামের কেউ জানেনা, তিনি একসময় কী ছিলেন।  বয়স্কদের কাছে অবাক ও আশ্চর্যের বিষয় এত ধনী একজন মানুষ কেন এই পোড়ো ভূতের বাড়িতে একা থাকেন এবং যে ধন সম্পত্তির কোনও চিহ্ন দেখা যায় না।

সনাতন বাবুর সঙ্গে থাকেন তাঁর একমাত্র সঙ্গী গদাই। চল্লিশ বছরের বিশ্বস্ত ভৃত্য। চুলে পাক ধরেছে, হাতে শক্তি কমেছে, কিন্তু সনাতন বাবুর প্রতি তাঁর আনুগত্যে কোনওদিন ভাঁটা পড়েনি।গদাই রাঁধুনি,বাজার সরকার ,সনাতন বাবুর দেখভাল ফাই ফরমাশের একমাত্র সম্বল।

শীতের সকালে গদাই উনুনে আগুন ধরাতেন, খড়কুটো জ্বালিয়ে। সনাতন বাবু লেপ মুড়ি দিয়ে বসে থাকতেন, ঝিলের দিকে তাকিয়ে। অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর হঠাৎ বলতেন,

“গদাই, ঝিলটার জল আজ বড় শান্ত, তাই না?”

গদাই মাথা নাড়ত, “হ্যাঁ বাবু। শীতে জল বুঝি কথাও কম বলে।”

গ্রামে প্রচলিত গল্প  ছিল এই ঝিলের তলায় লুকিয়ে আছে গুপ্তধন। ব্রিটিশ আমলের ধন, না জমিদারদের সোনা দানা কেউ জানত না। তবে সবাই জানত, সেই ধন পাহারা দেয় অতৃপ্ত আত্মারা। রাতের বেলা নাকি ঝিলের ধারে অনেকে দূর থেকে ছায়াময় অশরীরীদের স্বচক্ষে দেখেছে এবং কান পাতলে শোনা যায় চেনা ভাষায় অচেনা ডাক। আগে যারা তাঁদের দেখেছে তারা আর ওই তল্লাটে সন্ধ্যের পর যাওয়ার কথা কল্পনাও করেনা ,আর এই কিছুদিন আগে ট্রেনের তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে রাত ১১টার সময় কলকাতার সমবায় দপ্তরের সুপারভাইজার শশাঙ্ক সাহা দেরি হয়ে গেছে বলে স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরতে শর্টকাট করতে ঝিলের ধার দিয়ে যাওয়ার সময় দূরে অস্পষ্ট সাদা প্রেতচ্ছায়া দেখে অজ্ঞান হতে হতে সামলে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফেরার পর তুমুল জ্বরে পড়েছিলেন।

এই সব শুনে বড় হয়েছে গ্রামের তিন দুঃসাহসী ছেলে বাপন, লালু আর নিতাই। বয়স চোদ্দ -পনেরো। স্কুলের চেয়ে সাহসের গল্পে তাদের আগ্রহ বেশি। শীতের সন্ধ্যায় খেলাধুলোর পর মাঠের ধারে গাছের ডাল আর পাতা পুড়িয়ে আগুন পোয়াতে ওরা প্রায়ই বলাবলি করত যে  এ সবই ভয় দেখানো। গুপ্তধন থাকলে কেউ তো পাবে!নিতাই চোখ বড় করে বলত, চল, আমরা চেষ্টা করি।

এমন কিছুদিন কথাবার্তা তর্ক বিতর্কের পর ওরা ঠিক করল যে ব্যাপারটার শেষ দেখে ছাড়তে হবে কিন্তু যেন কাকপক্ষীতে টের না পে ,বিশেষ করে যার যার বাড়িতে কারণ এই দুঃসাহসিক অ্যাডভেঞ্চারে কারুর বাড়ির বাবা মা বা পাড়ার কোনো সিনিয়র সম্মতি তো  দেবেই না বরং বাগড়া দেবেই।

কথা ফাইনাল হয়ে গেল যে আগামী ২০ তারিখ ডিসেম্বরের বড়দিনের ছুটি পড়ার দিনেই অভিযান চালানো হবে কারণ ওই দিন স্কুল শেষের পর ছুটি পড়ে যাওয়ার জন্য বড়োরা ছেলেদের ফিরতে একটু দেরি হলেও সেটা প্রশ্রয়ের চোখে দেখেন।

সেদিন  সন্ধ্যায়, কুয়াশা যখন ঝিলের ওপর সাদা চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে, তিনজন সনাতন বাবুর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল,ওরা তিনজনেই ভালো করে সর্ষের তেল মেখে এসেছিল  আর তিনজনের সঙ্গে ছিল বড় তোয়ালে দড়ি শাবল আর টর্চ । বাড়ির ভেতর আলো জ্বলছে ম্লান কেরোসিনের আলো।

বাপন ফিসফিস করে বলল, “সনাতন দাদু আর গদাই জেঠু নাকি সব জানে।”

লালু বলল ‘এখন কথা বলে সময় নষ্ট করা যাবে না।আমি জামাকাপড় ছেড়ে জলে নামছি টর্চ আর দড়ি নিয়ে ,কিন্তু ডুব সাঁতার হলেও বেশি নিচে নামতে পারবো না আর এই অন্ধকারে জলের তলায় টর্চের আলো কাজ করবে কিনা জানি না,কিন্তু চেষ্টা তো করতে হবে।’

বাপন বলল ,’কুছ পরোয়া নেহি,তুই না পেলে অন্য দিকে আমি,আর তার পর আরো অন্য দিকে নিতাই ট্রাই করবে।আর আজ না পেলে আবার পরে অন্য প্ল্যান করতে হবে।

লালু একবুক  দম নিয়ে আস্তে করে জলে  নেমে গেল।বাপন আর নিতাইয়ের বেশ ভয় করলেও কেউ কারুর সঙ্গে কথা বলছিল না।একটু পরে লালু উঠে এসে বলল, ‘না,পেলাম না কিন্তু টর্চের আলোয় ঝিলের ওই ধারে সিঁড়ির মতো কিছু একটা দেখেছি জলের নিচে।’

এবার বাপন বলল,’ আমি নামছি’।এবারে বাড়ির অন্য দিকে যেখানে জঙ্গল বেশি ঘন সেখানে গিয়ে দেখল সত্যি প্রায় চোখে না পড়ার মতো মাটিতে মিশে যাওয়ার মতো ভাঙা সিঁড়ি জলে নেমে গেছে।

বাপন ‘জয় মা’বলে একটা শক্ত দড়ি কোমরে জড়িয়ে  জলে নেমে প্রথমে কিচ্ছু দেখতে পেল না,সব কুচকুচে কালো,কিন্তু একটু পর ওই ঘন কালো অন্ধকারে চোখ সয়ে জোর পর টর্চ জ্বেলে দেখলো খুব অস্পষ্ট হলেও সিঁড়ির নিচে কিছু একটা আছে ,এদিকে ওই মারাত্মক শীতে কাঁপতে কাঁপতে সাহস এবং সংকল্পের শেষটুকু সম্বল করে মরীয়া হয়ে জলের আরো গভীরে নামার পর হাতে শক্ত কিছু ঠেকতে বুঝতে পারল এটাই সেই কাঙ্খিত সিন্দুক। এর পর কোমরের দড়ি দিয়ে সেই সিন্দুক কোনোরকমে বেঁধে খুব কষ্ট করে কারণ ওর মনে হচ্ছিল আর কিছু পরেই ওর দম শেষ হয়ে যাবে   ওপরে উঠে মুখ হাঁ করে অনেকটা প্রস্বাস নিয়ে বিজয়ীর মতো দড়ির প্রান্ত নিয়ে লালু আর নিতাইয়ের হাতে দেওয়ার পর আস্তে আস্তে একটু একটু করে যেমন ছিপে বড় মাছ ধরা পড়লে তুলতে হয় তেমন করে কিছুক্ষণ পর সিন্দুক পাড়ে তুলে আনলো।

কিন্তু ওরা টের পায়নি কখন ওদের পেছনে এসে নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছেন সনাতনবাবু এবং গদাই আর ওদের দুজনেরই হাতে বড় তেলমাখানো বাঁশের লাঠি।

‘গুপ্তধন উদ্ধার হলো ?’

বাপন লালু আর নিতাইয়ের পেছন থেকে এই শান্ত গম্ভীর অথচ কঠিন গলায় এই কণ্ঠস্বর শুনে প্রচন্ড  ভয় আর আতঙ্কে  ওদের শিরদাঁড়া হিম হয়ে গেল।পেছনে  ফিরে সনাতনবাবু আর গদাইকে দেখে ওদের মনে হল আজই ওদের পৃথিবীতে শেষ দিন।

কিন্তু ওদের অবাক করে শান্ত গলায় সনাতন বাবু বললেন, ‘ভেতরে এসো।এই  শীতে ভেজা শরীরে  বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে নিউমোনিয়া হবেই।’

ওরা ধীরে ধীরে সনাতনবাবুর বাড়িতে ঢোকার পর সনাতনবাবু গদাইকে বলায় লালু আর বাপনের জন্য দুটো বড় গামছা এল সঙ্গে দুটো গেঞ্জি আর ধুতি। ভিজে পোশাক পরিবর্তন করে ওদের হাতে গরম দুধের গেলাস তুলে দিয়ে বললেন,’আজ তোমাদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এতক্ষণে তাদের মাথার খুলি ফেটে যেত।কিন্তু এবার বলতো তোমাদের এত সাহস হলো কি করে ?এই অসাধ্যসাধন করলে কি করে আর সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন তোমরা এখন কি করবে অথবা তোমাদের নিয়ে আমি কী করব ?’

শেষের এই প্রশ্নের কি উত্তর হবে ওরা বুঝে উঠতে পারলো না কিন্তু বাপন বলল ,’দেখুন সনাদাদু আপনি আমাদের পুলিশে দেবেন না বাবা মার কাছে ধরিয়ে দেবেন এটা আমরা জানিনা এবং এটাও জানিনা আপনি বিশ্বাস করবেন কি না যে এই গুপ্তধন চুরি করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না আমরা শুধু অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আর এতদিন লোকমুখে চলে আসা কথা পরীক্ষা করার জন্য এই কাজ করেছি।’

এর পর প্রায় ২০/২৫ মিনিট সনাতন বাবু চুপ করে ওদের দিকে পর্যায়ক্রমে শুধু দেখে গেলেন,ওদের মনে হচ্ছে প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেছে আর ওরাও চুপ করে বিচারের প্রতীক্ষায়।

এবারে সনাতন বাবু বললেন,’আমি তোমাদের একটা পরীক্ষা নিতে চাই।এবং এই পরীক্ষা তোমাদের তিনজনকে সারা জীবন দিয়ে যেতে হবে।তোমরা কি জান যে সিন্দুকে এই বিপুল ধনরত্ন আমি নিজে এই ঝিলের তলায় লুকিয়ে রেখেছি আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে থেকে।আমি জানিনা তোমরা আমাদের বংশ সম্পর্কে কি জান,কিন্তু অর্থলোভ এবং ভোগেচ্ছা মানুষকে তার মনুষ্যত্ব ভুলিয়ে কত নিচে নামাতে পারে আমি দেখেছি।আর লোভ আর ভোগ করার ইচ্ছে জয় করে আমি এখানে এই ভাঙা বাড়িতে পড়ে আছি , লোকজনকে ভয় পাওয়াতে ওসব ভূত প্রেত সব আমার সৃষ্টি,ওগুলো লেজার দিয়ে তৈরি ভূত তাই বর্ষাকালে ওদের দেখা যায়না কারণ বৃষ্টিতে এবং জোরে হাওয়া দিলে লেজারের কারিকুরি তৈরি হয় না তখন ঝোপের মধ্যে লোকানো সাউন্ড বক্স দিয়ে ওই আওয়াজ বাজানো হয়।  

কিন্তু ওসব কথা যাক ,তোমাদের পরীক্ষা হবে এই গুপ্তধন আবার যেখান থেকে তুলেছো ওখানে রেখে আসবে ,এই বিষয়ে মন্ত্রগুপ্তি শপথ নিতে হবে যে এর কথা কাউকে বলবে না।আমি ,গদাই চলে যাওয়ার পর তোমরা একটা ট্রাস্ট অথবা এনজিও  তৈরি করবে,এই মালতীপুরের দুস্থ গরিব বাচ্চাদের পড়াশোনা ,এবং একটা হাসপাতাল করবে ,তোমরা বড় হলে আশাকরি তোমরাও জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং এই কাজে তোমরাও টাকা পয়সা দেবে।এই হলো তোমাদের পরীক্ষা এবং আমারও পরীক্ষা।তোমাদের পরীক্ষা তোমরা লোভ জয় করার, মন্ত্রগুপ্তি শপথ ধরে রাখার,আর আমার পরীক্ষা তোমাদের ওপর এতটা বিশ্বাস করার পরীক্ষা।‘ 

৩০ বছর পর

এখন বাপন অর্থাৎ সায়ন্তন বোস আমেরিকার জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেসর।লালু অর্থাৎ ললিত দাস  মানিপাল গ্রূপ অফ হস্পিটালসের রেকর্ডস ম্যানেজার আর নিতাই অর্থাৎ নিতিন    বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলের বাংলার শিক্ষক।সনাতনবাবু,গদাই কেউ এখন আর নেই।সনাতনবাবু উইল করে তার স্থাবর অস্থাবর সব কিছু পরিবারের নামে দিলেও এই বাড়ি আর জমি ওদের তিনজনের নামে দিয়ে গেছেন।এখন মালতীপুরে একটি উন্নতমানের প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র এবং একটি মাধ্যমিক স্কুল হয়েছে।ওই গুপ্তধনের কিছু আর ওদের এনজিও মিলে তৈরি করেছে।বছরে একবার করে ওরা মালতীপুরে আসে।ঝিলের ধারে দাঁড়ায়। জলে তাকিয়ে তাদের মনে পড়ে সনাতনবাবুর কথা,যিনি ওদের লোভ জয় করতে শিখিয়েছিলেন আর বাপনের একটা কথা ওদের মনে গেঁথে গেছে।বাপন বলেছিল ,’দেখ এটা গুপ্তধন খোঁজার এবং পাওয়ার রোমাঞ্চ,সনাতনদাদুর জায়গায় অন্য কেউ হলে আমাদের মারধর,পুলিশ,বাবা মায়ের সন্মান এসবের অনেক ওপরে থেকে যাবে একজন মানুষ তাঁর আশ্চর্য বিবেচনায় তিনজন কিশোরের জীবন বদলে দিয়েছিলেন এবং যার ফলে কতজন সাধারণ ,দুস্থ,অভাবী মানুষের ,মেধাবী ছেলেমেয়েদের উপকার হচ্ছে সেটাই আসল।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *