কম সময়ে স্টাইল -

কম সময়ে স্টাইল

ফ্যাশন এক্সপার্ট শিল্পী ভাম্বানি,লরা মায়ে মার্টিনের টিপস।

সকালের সময়টা যেন দৌড়ের উপর দৌড়। অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর থেকেই একদিকে সংসার, অন্যদিকে অফিস—সব সামলে নিজেকে গুছিয়ে বেরোনোই যেন দিনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। এই ব্যস্ততার মধ্যেই অনেক সময় মনে হয়, “আজ আর ঠিকমতো সাজা হলো না!” অথচ একটু পরিকল্পনা আর কিছু স্মার্ট স্টাইলিং অভ্যাস থাকলেই সকালের মূল্যবান ২০–৩০ মিনিট অনায়াসে বাঁচানো সম্ভব, তাও আবার স্টাইলের সঙ্গে কোনও আপস না করেই।

নিচে রইল এমন কিছু প্র্যাক্টিক্যাল স্টাইল টিপস –

১) আগের রাতেই পরের দিনের পোশাক ঠিক করে রাখুন

সকালের সময় নষ্ট হয় মূলত “আজ কী পরব?” এই প্রশ্নে।

সমাধান:

আগের রাতে অফিস ক্যালেন্ডার দেখে নিন-মিটিং না ফিল্ডওয়ার্ক?

সম্পূর্ণ সেট (পোশাক, ওড়না/শাল, জুতো) একসঙ্গে সাজিয়ে রাখুন।

হ্যাঙ্গারে পুরো লুক ঝুলিয়ে রাখলে সকালে সিদ্ধান্ত নিতে হবে না

এতে প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট বাঁচে।

২) কম কিন্তু স্মার্ট ওয়ার্ডরোব

ওয়ার্ডরোব ভর্তি জামা থাকলেও ‘পরার মতো কিছু নেই’এই সমস্যা খুব পরিচিত।

কী করবেন:

৮–১০টি নিউট্রাল রঙের কুর্তা/টপ ।

৩–৪টি ভালো ফিটিং প্যান্ট/পালাজো।

২টি শাড়ি যেগুলো অফিস-ফ্রেন্ডলি।

১টি ব্লেজার বা লং জ্যাকেট ।

এই বেসিকগুলোর সঙ্গে আলাদা ওড়না বা অ্যাকসেসরিজ বদলালেই নতুন লুক।

৩) সকালে ইস্ত্রি নয়, স্মার্ট ফ্যাব্রিক বেছে নিন

সকালের ইস্ত্রির লাইনে দাঁড়ানো মানেই সময় নষ্ট।

ফ্যাব্রিক টিপস:

কটন ব্লেন্ড

ভিসকস

রেয়ন

ক্রেপ

এগুলো কম কুঁচকোয় এবং দিনভর আরাম দেয়।

শাড়ির ক্ষেত্রে সফট কটন বা লাইট সিল্ক ভালো বিকল্প।

৪) মিনিটের হেয়ারস্টাইল

চুলের জন্যই অনেক সময় সকালটা এলোমেলো হয়ে যায়।

সহজ হেয়ার আইডিয়া:

লো বান (অফিস ক্লাসিক)

হাফ পনিটেল + ক্লিপ

স্লিক পনিটেল

খোলা চুল + হালকা হেয়ার সিরাম

সপ্তাহান্তে উইকেন্ডে ২–৩টি স্টাইল প্র্যাকটিস করে রাখলে সকালে ভাবতে হবে না।

৫) মেকআপ মানেই ভারী নয়

অফিস যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ফুল মেকআপ জরুরি নয়।

৫ মিনিটের অফিস মেকআপ কিট:

ময়েশ্চারাইজার বা BB ক্রিম

কাজল

লিপস্টিক বা টিন্ট

হালকা কমপ্যাক্ট

সব মিলিয়ে মুখ ফ্রেশ, আত্মবিশ্বাসী—আর সময়ও বাঁচবে।

৬) অ্যাকসেসরিজ আগেই ঠিক করুন

সকালে ম্যাচিং কানের দুল খুঁজতে গিয়ে সময় উধাও হয়ে যায়।

টিপস:

সপ্তাহের শুরুতেই ৫ দিনের অ্যাকসেসরিজ সেট বানিয়ে রাখুন।

ছোট ট্রেতে দুল–ঘড়ি–ব্রেসলেট সাজিয়ে রাখুন।

অফিসের জন্য মিনিমাল জুয়েলারিই যথেষ্ট।

৭) জুতো ব্যাগ: কম কিন্তু নির্ভরযোগ্য

প্রতিদিন আলাদা জুতো মানেই বাড়তি ঝামেলা।

রাখুন:

১ জোড়া আরামদায়ক ফ্ল্যাট

১ জোড়া ব্লক হিল

১টি নিউট্রাল অফিস ব্যাগ

সবকিছু পোশাকের সঙ্গে মানানসই হলে সকালে ভাবতে হবে না।

৮) নিজের জন্য একটি সিগনেচার স্টাইল বানান

যে স্টাইল আপনাকে মানায়, সেটাকেই নিজের করে নিন।

হতে পারে—

শাড়ি + ঘড়ি

কুর্তা + বড় দুল

মনোক্রোম লুক

এতে প্রতিদিন নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ কমে যায়।

শেষ কথা

সকাল মানেই দৌড়ঝাঁপ, কিন্তু তাই বলে নিজের যত্ন বা স্টাইলকে অবহেলা করার দরকার নেই। স্টাইল আসলে সময়ের শত্রু নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সময়ের সঙ্গী।

আগের রাতের ছোট প্রস্তুতি, স্মার্ট পোশাক নির্বাচন আর নিজের উপর আস্থা—এই তিনেই সকালটা হবে সহজ, সুন্দর এবং আত্মবিশ্বাসে ভরা।

কারণ, দিনের শুরুটা নির্ঝঞ্ঝাট  হলে দিনটাও ভালো যায়।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *