নিউ ইয়ার ডায়েট রিজলিউশন -

নিউ ইয়ার ডায়েট রিজলিউশন

সহজ,বাস্তবসম্মত কী খাবেন, কীভাবে খাবেন।

নতুন বছরের ডায়েট রেজোলিউশন: ফল–সবজি–ননভেজের সঠিক বাছাইয়ে সুস্থতার প্রতিজ্ঞা

নতুন বছর মানেই নতুন পরিকল্পনা, নতুন লক্ষ্য। অনেকের তালিকায় সবার উপরে থাকে ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুস্থ থাকা, এনার্জি বাড়ানো। কিন্তু কঠোর ডায়েট চার্ট বা একঘেয়ে খাবার বেশিদিন মানা যায় না। তাই এই নতুন বছরে ডায়েট রেজোলিউশন হোক সহজ, বাস্তবসম্মত এবং খাবারকেন্দ্রিক। কী খাবেন, কীভাবে খাবেন সেই বোধটাই আসল।

১) ‘কম খাবো নয়, ‘বুঝে খাবো” এই রেজোলিউশন নিন

ডায়েট মানেই উপোস নয়। বরং শরীরের প্রয়োজন বুঝে খাবার বেছে নেওয়াই সঠিক পথ।

সবজি: লাউ, ঝিঙে, পটল, পালং শাক, ব্রকলি, বিনস।

ফল: আপেল, পেয়ারা, পেঁপে, কমলা।

ননভেজ: ডিম, মাছ (রুই, কাতলা, ইলিশ পরিমিত), মুরগির সেদ্ধ বা গ্রিলড মাংস

তেলেভাজা, অতিরিক্ত চিনি ও প্যাকেটজাত খাবার যতটা সম্ভব কমান। প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।

২) সকালের পাওয়ার ব্রেকফাস্ট

ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে শরীর ক্লান্ত হয় এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

ডিম সেদ্ধ + ফল,ওটস বা চিঁড়ে + সবজি,দই + ফল, অল্প তেলে অমলেট  + ব্রাউন ব্রেড

প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে সারাদিন খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে।বিট,গাজর,বিন্স,স্প্রাউট।ময়দার পাঁউরুটি ছেড়ে মাল্টিগ্রেন ব্রেড। 

৩) প্লেট হোক রঙিন

একঘেয়ে খাবার মানেই পুষ্টির ঘাটতি। যত বেশি রঙ, তত বেশি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

সবজি: গাজর, বিট, টমেটো, কুমড়ো, ক্যাপসিকাম

ফল: ডালিম, বেরি, আঙুর, কলা (পরিমিত)

প্রতিদিনের একবেলার খাবারে অন্তত ৩ রকম রঙ রাখার চেষ্টা করুন।

৪) জল তরলের দিকে নজর দিন

অনেক সময় আমরা তৃষ্ণাকেই খিদে ভেবে ফেলি।দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন।

এর সঙ্গে রাখতে পারেন ডাবের জল,লেবু জল (চিনি ছাড়া),গ্রিন টি বা ভেষজ চা

এগুলি হজম ভালো রাখে এবং শরীর ডিটক্স হতে সাহায্য করে।

৫) চিট ডে নয়, স্মার্ট চয়েস

ডায়েট মানতে গিয়ে নিজের প্রিয় খাবার পুরো বাদ দিলে মানসিক চাপ বাড়ে।

তাই সপ্তাহে এক–দু’দিন অল্প পরিমাণে খান—অল্প ভাতএক টুকরো মিষ্টি

হোমমেড বিরিয়ানি বা মাছ ভাজা (পরিমিত)।এই ব্যালান্সটাই ডায়েটকে দীর্ঘস্থায়ী করে।

৬.)রাতের খাবার হালকা রাখুন

রাতের খাবার যত হালকা হবে, ঘুম তত ভালো হবে।সবজি/চিকেন স্যুপ,ডাল + সবজি,গ্রিলড মাছ বা চিকেন,অল্প ভাত বা রুটি।রাতে অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

৭)মন ভালো না থাকলে ডায়েট টেকে না

স্ট্রেস, একাকীত্ব বা ক্লান্তি থেকে অনেক সময় অকারণে খাওয়া হয়ে যায়।খুব চাপ অথবা মন খারাপে এক প্লেট বিরিয়ানি মোটেই ঠিক নয়।তাই ডায়েট রেজোলিউশনে মানসিক সুস্থতাও জরুরি।হাঁটা, যোগা, মেডিটেশন, গান শোনা বা বই পড়া—এগুলো ইমোশনাল ইটিং কমাতে সাহায্য করে।

৮) শরীরে ভিটামিন ডি ইনটেক বাড়াতে হবে

দিনে অন্তত ১৫/২০ মিনিট সূর্যের আলো গায়ে মাখতে হবে।বছরে ২ বার ভিটামিন ডি টেস্ট করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টস খেতে হবে কারণ অজান্তে অত্যন্ত ক্লান্ত,পরিশ্রম বিমুখ হয়ে যাওয়ার আসল কারণ এই ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সি।ডাক্তারবাবু বলেছেন এই শহরে টেস্ট করলে দেখা যাবে ৮০% মানুষ অজান্তে অসতর্ক হয়ে এই অসুখে ভুগছেন। 

শেষ কথা

নতুন বছরের ডায়েট রেজোলিউশন মানে নিজেকে কষ্ট দেওয়া নয়, বরং নিজের শরীরকে বোঝা। ফল, সবজি ও ননভেজ—সবই থাকতে পারে, যদি বেছে নেওয়া হয় সঠিকভাবে ও পরিমিতভাবে। আজ একটু ভালো খেলাম, কাল একটু সচেতন হলাম—এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। এই নতুন বছরে সুস্থ থাকাটা হোক আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেজোলিউশন।আর শুধু ডায়েট করলে হবে না ,সঙ্গে এক্সসারসাইজ জরুরি।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *