৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি দিনের উদযাপন নয় বরং আত্মসমীক্ষা,মেয়েদের আগেকার এবং এখনকার জীবনে আলো ফেলার দিন।পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের আপন অধিকার অর্জন দুরহ ,দুঃসাধ্য হলেও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের দুর্দমনীয় সংগ্রামের পথ চলায় এসেছে বাধা এবং সেই বাধা কাটিয়ে সাফল্যের কাহিনী।আজ আমরা আলো ফেলব এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক খবরে।
আসুন পরিচয় করিয়ে দিই শাহীন মালিকের সঙ্গে।শাহীন একজন অ্যাসিড অ্যাটাকে আক্রান্ত মৃত্যুঞ্জয়ী এবং প্রতিবন্ধী আন্দোলনকারী মহিলা।শাহীন সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দাখিল করেছে এই অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েদের জন্য,যেখানে রুমানের জন্যও ন্যায়বিচার চাইছে,রুমানের স্বামী রুমানকে ভয়ঙ্কর অত্যাচার করে অ্যাসিড খেতে বাধ্য করায় রুমানের কণ্ঠনালী নষ্ট হওয়ায় প্রচুর চিকিৎসার পরেও ২৮ বছরের রুমানের ওজন মাত্র ২১ কেজি।শাহীনের জানিয়েছেন,’ অ্যাসিড জোর করে খাওয়ানো হয়েছে এমন আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিকৃতি শরীরের ভেতরে হয়, তাই তা চোখে পড়ে না। কিন্তু তাঁদের জীবন ভীষণ কষ্টকর হয়ে ওঠে, কারণ অসংখ্য অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও তাঁদের শ্বাস নিতে, কথা বলতে এবং খাবার গিলতে মারাত্মক অসুবিধা হয়।’
৪২ বছর বয়সী শাহীন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যাসিড আক্রমণের শিকার মানুষদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে চলেছেন। একজন আক্রান্ত হিসেবে নিজের যে কঠিন লড়াইগুলো তিনি পেরিয়ে এসেছেন, সেখান থেকেই অন্যদের সাহায্য করার এই অদম্য সংকল্পের জন্ম হয়েছে।
২০০৯ সালে উত্তর হরিয়ানায় নিজের কর্মস্থলের বাইরে তাঁর ওপর অ্যাসিড হামলা হয়। তখন মালিকের বয়স ছিল কুড়ির কোঠায় এবং তিনি একজন ছাত্র-পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতেন। এই হামলার পর তিনি ২৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
১৬ বছর ধরে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য। তবে গত ডিসেম্বর একটি ট্রায়াল কোর্ট তাঁদের খালাস দিলে মালিক ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন। তবু তিনি পরাজিত নন ,রায়ের বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।আমাদের প্রার্থনা আর শুভেচ্ছা শাহীনের সঙ্গে আছে।
২০২৫ সালে ন্যাসকম ফাউন্ডেশন আর এইচএসবিসি ৪০০০ এর বেশি নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ব্যবসার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে।যার ফলে গ্রমাঞ্চলের মহিলারা এখন অনলাইনে তাদের সামগ্রী বিক্রি করতে পারছেন,কিউ আর কোডে পেমেন্ট পাচ্ছেন,সমাজ মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি কোরতে পারছেন।এখানে উল্লেখযোগ্য পশ্চিমবঙ্গে এমএসএমই রেজিস্ট্রেশনের সূত্র অনুযায়ী ৬২% মাইক্রো উদ্যোগ এখন নারী নেতৃত্বাধীন।
সূত্র অনুযায়ী জনপ্রিয় লক্ষীর ভান্ডারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক নারীর হাতে টাকা আসার সুবাদে মেয়েদের পড়াশোনা চলছে,স্বাস্থ্যব্যয় হচ্ছে,কেউ কেউ ছোট ব্যবসাও শুরু করছেন।অর্থনীতিবিদরা বলেন যে পরিবারে নারী নগদ অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেন, সেখানে পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তিনটিই বাড়ে।
গত বছরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারতের থিম ছিল – বিকশিত ভারত নারী শক্তি।এই উদ্যোগে
মহিলা বিজ্ঞানী,উদ্যোক্তা,পুলিশ,কৃষক,স্টার্ট-আপ লিডারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘চেঞ্জ দ্যা সোচ- কন্যাকুমারী -কাশ্মীর’ ভারতের ২০টির বেশি শহরে নারীদের,সঞ্চয়,বিনিয়োগ,বিমা,অবসর পরিকল্পনা শিখিয়েছে।এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি কারণ
ভারতে ৭৫% নারী আজও নিজের নামে বিনিয়োগ করেন না।এই কর্মসূচি সেই মানসিক দেয়াল ভাঙছে।
তথ্যসূত্র -বিবিসি উওমেন,ন্যাসকম ফাউন্ডেশন,ভারতের নারী শিশু উন্নয়ন মন্ত্ৰক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, অর্থ ও নারী উন্নয়ন দপ্তর।
শেয়ার করুন :





