১০টি সুস্থ ও সতেজ থাকার এক্সপার্ট টিপস -

ছবি- আই স্টক

১০টি সুস্থ ও সতেজ থাকার এক্সপার্ট টিপস

হার্ভার্ড মেডিকেল,মেয়ো ক্লিনিক,ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পরামর্শ।

আজকের ব্যস্ত জীবনে মেয়ে হিসেবে নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয় এটি দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।কিন্তু রোগা থাকতে এবং মোটা না হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে অনেকেই সম্পূর্ণ ভুল,শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ডায়েট ,পেটের সমস্যা,বুলিমিয়া,ইটিং ডিসঅর্ডার এমন অসুখে ভোগে এবং সমীক্ষায় দেখা গেছে এই স্লিম ট্রিম হওয়ার উন্মাদনায় প্রতি ৫জনের মধ্যে ১জনের মৃত্যু হতে পারে এই অপুষ্টিজনিত জটিলতার কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল  মেয়ো ক্লিনিকের, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস আমাদের শরীর ও মনের শক্তি বহুগুণ বাড়াতে পারে।

১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন- হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের পরামর্শ  দ্রুত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। লিফট নয়, সিঁড়ি ব্যবহার করুন,এই ছোট সিদ্ধান্তগুলো বড় পরিবর্তন আনে।

২. প্লেট ভরান রঙিন খাবারে- নিউট্রিশনিস্ট ডঃ ওয়াল্টার উইলেট (হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ ) বলেন শাকসবজি, ফল, বাদাম ও শস্য এই চার রঙের খাবার শরীরকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরিয়ে দেয়।

৩. প্রোটিন বাদ দেবেন না-মেয়ো ক্লিনিকের পরামর্শ, প্রোটিন পেশি শক্তিশালী রাখে ও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ডাল, ডিম, মাছ, দই বা ছোলা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন।

৪. দিনে অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম- স্লিপ এক্সপার্ট ডঃ ম্যাথু ওয়াকার (ইউসি,বার্কলে ) বলেছেন, কম ঘুম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ও ওজন বাড়ায়। মোবাইল বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোনোর অভ্যাস গড়ুন।

৫. নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং- আমেরিকান কলেজ অফ স্পোর্টস মেডিসিন জানাচ্ছে সপ্তাহে অন্তত ২ দিন ওজন বা শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম করলে হাড় শক্ত থাকে এবং বয়সজনিত দুর্বলতা কমে।

৬. স্ট্রেস কমাতে শ্বাস ব্যায়াম- ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের পরামর্শ  ৫ মিনিট গভীর শ্বাস নিলে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমে যায়। দিনে কয়েকবার চোখ বন্ধ করে ধীরে শ্বাস নিন।

৭. পর্যাপ্ত জল পান-ডঃ হাওয়ার্ড মুরাদ (ডার্মাটোলজিস্ট ও ওয়েলনেস এক্সপার্ট  বলেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা ও শরীরের ডিটক্সের জন্য দিনে অন্তত ২-৩ লিটার জল অপরিহার্য।

৮. চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান- WHO সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত চিনি হৃদরোগ ও স্থূলতার প্রধান কারণ। সফট ড্রিঙ্ক ও প্যাকেট খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৯. প্রতিদিন ১০ মিনিট নিজের জন্য- সাইকোলজিস্ট ডঃ জন কাবাট জিন বলছেন ধ্যান বা নীরব সময় মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

১০. শরীরের কথা শুনুন-মেয়ো ক্লিনিকের পরামর্শ  ক্লান্তি, ব্যথা বা অনিদ্রা, স্ট্রেস শরীরে এই সংকেতগুলো উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এখনই এই কু অভ্যেসগুলি জীবন থেকে বাদ দিন –

১)ওজন ও ক্যালোরি নিয়ে দুশ্চিন্তা,বার বার নিজেকে আয়নায় দেখা ও ওজন পরীক্ষা।

২)খিদে নেই বা খেয়ে নিয়েছি বলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে না খাওয়া।

৩)নিজের ওজন নিয়ে খিটখিটে হয়ে সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।

৪)অতিরিক্ত ব্যায়াম আর ভুল ডায়েটিংয়ে ওজন কমাবার চেষ্টা।

ডায়েট – পুষ্টিকর খাবার,ম্যাগনেশিয়াম,পটাশিয়াম,কপার,সেলেনিয়াম,ক্যালসিয়াম,আয়রন ,বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার।মাংস ও মাছে ফ্যাট ,প্রোটিন,ফাইবার,ক্যালোরি আছে।ডিমের সাদা অংশে প্রচুর প্রোটিন,ক্যালসিয়াম,জিঙ্ক,আয়রনের মতো খনিজ পদার্থ।নিয়মিত দুধ খান

সুস্থতা ও সতেজ থাকা কোনও ডায়েট ট্রেন্ড নয় এটি একটি জীবনধারা।

এই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অভ্যাস আপনার শরীরকে শুধু সুস্থই রাখবে না, আপনাকে ভিতর থেকে দীপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে যেমন একজন আধুনিক নারীর হওয়া উচিত।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *