৫টি মনকাড়া মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিস্ট স্পট -

৫টি মনকাড়া মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিস্ট স্পট

সবুজ জঙ্গল, ঝর্ণা,প্রাচীন মন্দির, রাজপ্রাসাদ,বাঘ,ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট…

মধ্যপ্রদেশ-ভারতের হৃদয়ে অবস্থিত এক অপরূপ ভূমি, যেখানে প্রকৃতি আর ইতিহাস হাত ধরাধরি করে চলে।ঘন অরণ্য, পাহাড়, নদী আর জলপ্রপাতের মধ্যে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন।প্রাচীন মন্দির, রাজপ্রাসাদ ও বিশ্ব ঐতিহ্য স্থাপত্যের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বন্যপ্রাণে ভরা ন্যাশনাল পার্ক।প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এই অনন্য মেলবন্ধনই মধ্যপ্রদেশকে করে তুলেছে এক স্বপ্নের পর্যটন রাজ্য।বাছাই করা ৫টি নৈসর্গিক দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিস্ট স্পটের হদিশ –

পাঁচমারি  -সতপুরা পাহাড়ের কোলে অবস্থিত পাঁচমারি মধ্যপ্রদেশের একমাত্র হিল স্টেশন।সবুজ জঙ্গল, ঝর্ণা আর মেঘে ঢাকা উপত্যকা একে স্বর্গীয় করে তোলে।দর্শনীয় স্থান: পাণ্ডব গুহা, জটাশঙ্কর গুহা, ধূপগড় (সূর্যাস্ত দেখার জন্য), পাণ্ডব গুহা, এবং সিলভার ফলস জলপ্রপাত প্রধান দর্শনীয় স্থান।শীতল আবহাওয়া ও শান্ত পরিবেশ শহুরে ক্লান্তি দূর করে।প্রকৃতিপ্রেমী ও হানিমুন কাপলদের কাছে এটি ভীষণ জনপ্রিয়।

কীভাবে যাবেন – ভোপাল থেকে সড়কপথে বাসে বা গাড়িতে,পিপারিয়া থেকে ৪৭ কিমি ,জবলপুর থেকে ২ ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন – এমপিটি হাইল্যান্ডস ,পাঁচমারি,এমপি ট্যুরিজম -+91-07578-252099

ছবি- স্বপ্নিল মোদক -আনস্প্ল্যাশ

খজুরাহো বিশ্ববিখ্যাত তার অসাধারণ মন্দির স্থাপত্যের জন্য।এখানে বিশাল খেজুর বাগান ছিল। আর এই খেজুর গাছের নামেই স্থানটির নামকরণ হয়েছিল খাজুরাহো।চন্দেল যুগের এই মন্দিরগুলো শিল্প, প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন।প্রতিটি মূর্তিতে ফুটে উঠেছে মানব জীবনের গভীর অনুভূতি।ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হওয়ায় এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটক আসেন।ইতিহাস ও শিল্পপ্রেমীদের কাছে খজুরাহো এক স্বপ্নের গন্তব্য।

কীভাবে যাবেন – জবলপুর থেকে কাছে।খাজুরাহো -হাজরাত -নিজামুদ্দিন এক্সপ্রেস,গোয়ালিয়র থেকে ২৮০ কিমি,দিল্লি থেকে প্লেনে।

কোথায় থাকবেন : এমপিটি ঝংকার –  9424796839,এমপিটি পায়েল-07686297364

ওরছা– বেতওয়া নদীর ধারে প্রাচীন রাজকীয় স্থাপত্যে ও দৃষ্টিনন্দন নৈসর্গিক ওরছা জাহাঙ্গীর মহল,শীষ মহল ,রাজা মহলের মতো ঐতিহাসিক প্রাসাদ,ছত্রি ও রাম রাজা মন্দিরের  জন্য বিখ্যাত।এটি ভারতের একমাত্র মন্দির যেখানে ভগবান রামকে রাজা হিসেবে পুজো করা হয়।বেতওয়া নদীতে রিভার রাফটিং: অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকরা বেতওয়া নদীর স্রোতে রিভার রাফটিং করতে পারেন।

কীভাবে যাবেন গোয়ালিয়র থেকে ১৩০ কিমি,ঝাঁসি থেকে ৯৭কিমি।

কোথায় থাকবেন -এমপিটি বেতওয়া রিট্রিট,ওরছা এমপি ট্যুরিজমের পরিষেবায় হোটেল ও টেন্ট ক্যাম্প। (07680)-252618 / 8349102398 | betwa@mpstdc.com

কানহা ন্যাশনাল পার্ক -মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডলা ও বালাঘাট জেলার বিস্তীর্ণ জঙ্গলে অবস্থিত কানহা ন্যাশনাল পার্ক ভারতের অন্যতম সুন্দর ও সুপরিচালিত টাইগার রিজার্ভ।সবুজ শাল ও বাঁশবনের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, বারাসিংহা, চিতাবাঘ ও নানা রঙের পাখি এই অরণ্যকে করে তুলেছে জীবন্ত এক প্রকৃতির রাজ্য।রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের বিখ্যাত  দ্য জাঙ্গল বুক অনুপ্রেরণাও এসেছে এই কানহার অরণ্য থেকে।

কানহা জাতীয় উদ্যান, বিপন্ন শক্ত মাটির বড়সিংহ (“কান্নার রত্ন”), বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, ঢোল এবং স্লথ ভাল্লুকের জন্য বিখ্যাত। ৩০০ টিরও বেশি পাখির প্রজাতি এবং ২৬+ সরীসৃপ প্রজাতির সাথে, এটি ভারতীয় অজগর, কোবরা, ক্রেস্টেড সর্পেন্ট ঈগল এবং মালাবার পাইড হর্নবিলসহ সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য প্রদান করে ।  বেঙ্গল টাইগার, ভারতীয় চিতাবাঘ, শক্ত মাটির বড়সিংহ (জলাভূমির হরিণ), গৌড় (ভারতীয় বাইসন), ঢোল (ভারতীয় বন্য কুকুর), স্লথ বিয়ার, চিতল (দাগযুক্ত হরিণ), সাম্বার হরিণ, বার্কিং হরিণ, নীলগাই, কৃষ্ণসার হরিণ, ভারতীয় শিয়াল, শিয়াল, বন্য শূকর এবং ল্যাঙ্গুর।সরীসৃপ: ইন্ডিয়ান রক পাইথন, স্পেকটেকল্ড কোবরা, রাসেলস ভাইপার, ইন্ডিয়ান ক্রেইট, কমন র‍্যাট স্নেক, ইন্ডিয়ান মনিটর লিজার্ড, ফ্যান-থ্রোটেড লিজার্ড এবং ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাপশেল টার্টল।পাখি: এই পার্কে ৩০০ টিরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রেস্টেড সার্পেন্ট ঈগল, ইন্ডিয়ান রোলার, মালাবার পাইড হর্নবিল, গোল্ডেন ওরিওল, স্কারলেট মিনিভেট, ব্লসম-হেডেড প্যারাকিট, হোয়াইট-থ্রোটেড কিংফিশার, বিভিন্ন পেঁচা এবং ময়ূর এবং তিতিরের মতো স্থল পাখি। সকালের জিপ সাফারি কিংবা সূর্যাস্তের সময় জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ,প্রতিটি মুহূর্তই এখানে রোমাঞ্চ ও সৌন্দর্যে ভরা। সাফারি বুকিং আগে থেকে অনলাইনে করে নেবেন।

কীভাবে যাবেন জবলপুর থেকে কাছে।জবলপুর ও কানহা আইটিনারিতে একসঙ্গে রাখবেন।

কোথায় থাকবেন – এমপিটি কিপলিং কোর্ট, পেঞ্চ- (07695)-232830  / 232850

ছবি- ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

উজ্জয়িনী -শিপ্রা নদীর তীরে ভারতের অন্যতম প্রাচীন শহর।খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীর চারিদিক ঘিরে থাকার হদিশ পাওয়া গেছে।দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের এই রাজধানী জ্যোতিষ চর্চার কেন্দ্র ছিল।মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ,কালভৈরব,হরসিদ্ধি মন্দির,রাম ঘাট,যন্তর মন্তর,ভারতিহারি গুহা,কালিদাস অ্যাকাডেমি মিস করবেন না।

কীভাবে যাবেন – ইন্দোর থেকে ৫২ কিমি।

কোথায় থাকবেন এমপিটিডিসি শিপ্রা রেসিডেন্সি 07342551496   ,এমপিটি সম্রাট বিক্রমাদিত্য,এমপিটি অবন্তিকা।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *