<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Bengali culture -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/tag/bengali-culture/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sat, 05 Apr 2025 07:59:08 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Bengali culture -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>পৌষ সংক্রান্তি  কথা </title>
		<link>https://sukanyadigital.com/history-of-poush-sankranti-and-poush-mela-festival/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/history-of-poush-sankranti-and-poush-mela-festival/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 07 Jan 2025 06:11:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Sanskriti Sambad]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali festival]]></category>
		<category><![CDATA[Poush Mela]]></category>
		<category><![CDATA[Poush Sankranti]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=8207</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-poush-sankranti-and-poush-mela-festival/">পৌষ সংক্রান্তি  কথা </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পৌষ সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উৎসব। এই দিনটি সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশের মাধ্যমে শীত ঋতুর শেষে বসন্তের আগমনের সূচনা করে। পৌষ সংক্রান্তি বাংলার কৃষিজীবী সমাজে মূলত ফসল তোলার আনন্দে উদযাপিত একটি উৎসব। প্রাচীন কাল থেকে এটি বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>



<p><strong>পৌষ</strong><strong> </strong><strong>সংক্রান্তির</strong><strong> </strong><strong>ঐতিহাসিক</strong><strong> </strong><strong>প্রেক্ষাপট</strong><strong></strong></p>



<p>পৌষ সংক্রান্তির উৎপত্তি মূলত প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে। সূর্য যখন মকর রাশিতে প্রবেশ করে, তখন এটি খারিফ ফসল কাটার ঋতুর সমাপ্তি এবং রবি ফসল বপনের সূচনা নির্দেশ করে। কৃষি-নির্ভর বাংলার মানুষের কাছে এটি নতুন বছর শুরুর মতো। ভৌগোলিকভাবে, এই সময়ে দিন বড় হতে শুরু করে এবং প্রকৃতিতে আলোর আধিক্য বাড়ে।</p>



<p>প্রাচীন আর্য যুগে সূর্য পূজার মাধ্যমে এই উৎসব উদযাপিত হতো। হিন্দু ধর্মে সূর্যের গুরুত্ব স্বীকৃত, এবং পৌষ সংক্রান্তি এই ঐতিহ্যেরই একটি অংশ। মধ্যযুগে বাংলার গ্রামীণ জনপদে নবান্ন উৎসব এবং পৌষ সংক্রান্তি একত্রে পালিত হত।</p>



<p><strong>আচার</strong><strong>&#8211;</strong><strong>অনুষ্ঠান</strong><strong> </strong><strong>ও</strong><strong> </strong><strong>বৈচিত্র্য</strong><strong></strong></p>



<p>পৌষ সংক্রান্তি বাংলার গ্রামীণ জীবনে বিশেষ আনন্দময়। উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পিঠে-পুলির অনুষ্ঠান। নতুন চাল, নারকেল এবং খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের পিঠে, যেমন পাটিসাপটা, দুধপুলি, স্নানপুলি।</p>



<p>ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, এই দিন গঙ্গাস্নান এবং পুণ্যলাভের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই উৎসবের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা যায়, যেমন উত্তর ভারতে এটি মাঘী, দক্ষিণে পঙ্গাল এবং মহারাষ্ট্রে তিলগুড় উৎসব নামে পরিচিত।</p>



<p><strong>পৌষ</strong><strong> </strong><strong>মেলা</strong></p>



<p>মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৮ সালের ৮ই মার্চ (১২৯৪ বঙ্গাব্দের ২৬ ফাল্গুন)শান্তিনিকেতন আশ্রমের জন্য প্রণীত করা &#8216;ট্রাস্ট ডিড&#8217; বা অছিপত্রে শান্তিনিকেতনে একটি মেলা বসাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।তাতে লেখা হয় :</p>



<p>&#8216;নিরাকার এক ব্রহ্মের উপাসনা ব্যতিত কোন সম্প্রদায় বিশেষের অভীষ্ট দেবতা বা পশু,পক্ষী ,মনুষ্যের বা মূর্তির বা চিত্রের বা কোন চিহ্নের পূজা বা হোম যজ্ঞাদি ঐ শান্তিনিকেতনে হইবে না।&#8212;ধর্মভাব উদ্দীপনের জন্য ট্রাস্টিগণ বর্ষে বর্ষে একটি মেলা বসিবার চেষ্টা ও উদ্যোগ করিবেন।এই মেলাতে সকল ধর্ম &#8211; বিচার ও ধর্মালাপ করিতে পারিবেন।&#8230;.&#8217;</p>



<p>এই ডিড অনুসারে এবং মহর্ষির ইচ্ছার প্রতি সন্মান জ্ঞাপন করে শান্তিনিকেতন ট্রাস্টি ১৮৯৪ সাল থেকে এই মেলা করে আসছে।একদম শুরুর দিকে তখনকার আদিবাসী সাঁওতালরা কতৃপক্ষকে অনুরোধ করে এই মেলা প্রাঙ্গনে তাদের হস্তশিল্প বিক্রি করতে দেওয়ার,তখন থেকে পৌষ মেলায় স্থানীয় শিল্প সামগ্রী কেনা বেচার শুরু।১৮৯৪ সাল থেকে এই মেলার শুরু ,যা ১৯৪৩ সালে মন্বন্তর এবং ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক হানাহানির কারণে আর এই হাল আমলে ২০১৯ থেকে মেলা বন্ধ থাকার পর এই বছর থেকে আবার সাড়ম্বরে পৌষ মেলা শুরু হয়েছে যা অত্যন্ত আনন্দের।কিন্তু ২০১৮ র হিসেবে অনুযায়ী ১৪০০ স্টল বসেছিল যার অধিকাংশই ভোগ্যপণ্যের আর আমোদ প্রমোদের যার ফলে পৌষ মেলার সাবেকি ঐতিহ্য ও চরিত্র বহুলাংশে ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আশ্রমিকদের অভিযোগ,মেলার মূল চরিত্র ছাতিমতলায় ৭ই পৌষের উপাসনা,পরলোকগত আশ্রমিকদের স্মৃতিবাসর,পাঠভবন শিক্ষাসত্রের সমাবর্তন, ঐতিহ্যশালী বাউলের আখড়া,&nbsp; এবং মেলায় গ্রামীণ হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের দুস্থ শিল্পীদের বিক্রিবাট্টার সুযোগ এই বিষয়গুলি যেন আমোদ প্রমোদের আড়ালে গৌণ না হয় সেটি নিশ্চিত করা উচিত।তবে এ বছর থেকে যে আবার পূর্ণ কলেবরে পোষ মেলা সুসম্পন্ন হল এটি খুব স্বস্তির।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>পরিশেষে</strong><strong></strong></p>



<p>পৌষ সংক্রান্তি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়; এটি বাংলার সংস্কৃতি, কৃষিজীবী মানুষের আত্মপরিচয় এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি নতুন ফসলের আনন্দে মানুষের মেলবন্ধন ঘটায়। হাজার বছরের ঐতিহ্যের এই উৎসব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এর প্রাসঙ্গিকতা অমলিন থাকবে।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-poush-sankranti-and-poush-mela-festival/">পৌষ সংক্রান্তি  কথা </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/history-of-poush-sankranti-and-poush-mela-festival/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>জামাই ষষ্ঠী কলকাতার প্রথা ?</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/history-of-jamai-shasthi-bengali-ritual-and-tradition/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/history-of-jamai-shasthi-bengali-ritual-and-tradition/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Jun 2024 10:27:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[bengali rituals]]></category>
		<category><![CDATA[bengali traditions]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7544</guid>

					<description><![CDATA[<p>হিন্দু বর্ষপঞ্জীতে জ্যৈষ্ঠ মাসে অরণ্যষষ্ঠী থেকে জামাই ষষ্ঠীর উৎপত্তি....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-jamai-shasthi-bengali-ritual-and-tradition/">জামাই ষষ্ঠী কলকাতার প্রথা ?</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আবহমান কাল ধরে জামাই ষষ্ঠী বাঙালির অন্যতম পার্বণ যার মহিমা এবং রীতি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আজকের যুগেও জনপ্রিয়।সময় বদলেছে ,আগেকার মতন শ্বশুর শ্বাশুড়ি বাজারহাট ,রান্না বান্নার পাট কিছুটা (নাকি অনেকটা?) বদলে জামাইকে পেটপূজোর জন্য বাঙালি রেস্তোঁরাতে মা ঠাকুমার রান্নার স্বাদগ্রহণ করতে যেতে হচ্ছে ।জামাই ষষ্ঠী কাজের দিনে হলে সেই উইকেন্ডে খাওয়া দাওয়ার সুবিধে করে নিচ্ছে আজকের প্রজন্ম।</p>



<p>কিন্তু জানেন কি&nbsp; এই জামাই ষষ্ঠী প্রথার উৎপত্তি কলকাতা কেন্দ্রিক ? তার আগে সনাতন ষষ্ঠী পুজোর সংক্ষেপ বৃত্তান্ত।বাংলার সামাজিক ইতিহাস আর ধর্মীয় বৃত্তান্ত ,পুরাণ কথা ,লোকসংস্কৃতি চর্চায় মা ষষ্ঠী শুধু বাংলার দেবী নন,ভারতের নানা অঞ্চলে নানারূপে পূজিত হন।</p>



<p>হিন্দু বর্ষপঞ্জীতে জ্যৈষ্ঠ মাসে অরণ্যষষ্ঠী থেকে জামাই ষষ্ঠীর উৎপত্তি।আগেকার দিনে শ্বশুরবাড়িতে মেয়েদের লাঞ্ছনা ,গঞ্জনা সহ্য করতে হত (এখনও এই কুপ্রভাব পুরোপুরি যায়নি) এবং সেকালে এরকম প্রথার কথাও শোনা যায় যে বিয়ের পর সন্তান সন্ততি না হলে মেয়ের বাবা মায়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।এর সঙ্গে মনে রাখতে হবে ভয়ঙ্কর সতীদাহ&nbsp; এবং বহুবিবাহের মতন নির্মম প্রথার কথা যেখানে মেয়ের বাবা মা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন না।এর সঙ্গে মনে রাখতে হবে সেকালে খুব কম বয়সে বিয়ে হওয়ার পর এবং অনেক ক্ষেত্রে বিয়ের পর স্বামী কার্যোপলক্ষে দূরদেশে থাকা।এইসবের হাত ধরে কলকাতার বাবু কালচারে জামাই ষষ্ঠীর অনুপ্রবেশ যা ধীরে ধীরে বাংলার গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে।আঠারো উনিশ শতকে বাংলার স্বচ্ছল শ্রেণীর মধ্যে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের প্রচলন ছিল,সেই প্রাদুর্ভাব নিজের মেয়ে এবং জামাইয়ের মঙ্গলকামনায় মেয়ের বাপের বাড়ি আসার এবং প্রধানত জামাই বাবাজিকে তুষ্ট রাখতে যাতে তার বাড়িতে মেয়ে সুখে থাকে এই মনোস্কামনায় কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজ থেকে এই জামাই ষষ্ঠী অনুষ্ঠানের সূত্রপাত।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ইতিহাসে লোককথায় বার বার দেখা গেছে যখনই কোনো সঙ্কট এসেছে সেই যুগের প্রয়োজনে বাঙালির পুজো আচ্চা,রীতি নীতির কিছু বদল হয়েছে ,এক্ষেত্রে সন্তানের কল্যাণের জন্য একটি ব্রতকে মেয়ের বর্তমান এবং&nbsp; ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা মায়েরা অরণ্যষষ্ঠীকে কিছুটা বদলে জামাই ষষ্ঠীতে জামাইয়ের জন্য পেটপুজো আর উপহারের আয়োজন করেছেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ঋণ : জহর সরকার,বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতি কোষ &#8211; (ডঃ বরুণ কুমার সরকার সম্পাদিত)।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-jamai-shasthi-bengali-ritual-and-tradition/">জামাই ষষ্ঠী কলকাতার প্রথা ?</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/history-of-jamai-shasthi-bengali-ritual-and-tradition/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাঙালির বৈরিভাব</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 18:07:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Iswar chandra Vidyasagar]]></category>
		<category><![CDATA[Kazi Najrul Isalm]]></category>
		<category><![CDATA[Michael Madhusudan Dutta]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[Rabindranath Tagore]]></category>
		<category><![CDATA[Swami Vivekananda]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7322</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাঙালির আত্মজনে বিশ্বাস নেই। হেয় করাতেই তার আনন্দ। আর তর্ক, সে অভ্যাসও আমরা ছেড়েছি বহুদিন।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/">বাঙালির বৈরিভাব</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>অর্ক দেব </strong><strong></strong></p>



<p>বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। কিন্তু বাঙালির আত্মজনে বিশ্বাস নেই। হেয় করাতেই তার আনন্দ। আর তর্ক, সে অভ্যাসও আমরা ছেড়েছি বহুদিন। সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েই কথা বলি আমরা। ফলে বহুদূর আর যাওয়া হয় না। স্বখাতসলিলে ডুবে-মজে থাকি। আজ যখন ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্রে দেখছি বাঙালিই বাঙালিকে টেনে নামাচ্ছে, ভাবতে চাইছি, এই অবিশ্বাসের শুরুটা কোথায়?</p>



<p>ধরা যাক, মির্জা মহম্মদ সিরাজদৌল্লার কথা। বাঙালি তাঁকে অর্বাচীন,&nbsp;নির্দয়,লোভী উচ্চাকাঙ্খী&nbsp; ভেবে এসছে। এই ইতিহাসের ঠিক-ভুল যাচাইয়ে বাঙালি কখনও মন দেয়নি। পাঠ্যবইয়েও বিষয়টা ধোঁয়াশার মতো হয়ে থাকে। অথচ এই বিষয় সম্পর্কে স্পষ্টধারণা জাতিগত অস্মিতার প্রথম বিন্দু হতে পারত। ঠিক যেমন অস্মিতা শিবাজীকে ঘিরে মারাঠা জাতির গড়ে উঠেছে। কিন্তু তথ্যে আমাদের মন নেই। কেউই এগিয়ে এসে জনতার সামনে তথ্য তুলে ধরেন না৷&nbsp; চেনাজনের মধ্যে কারও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাই না, স্রেফ কিন্তু সিদ্ধান্তের কথা শুনি। যেমন, সিরাজ হঠকারী যুদ্ধোন্মাদ ছিলেন৷ অথচ এক বাঙালি, সুশীল চৌধুরী তাঁর লেখায়(১) তথ্য তুলে দেখিয়েছেন সিরাজ সম্পর্কে এই বক্তব্যগুলির প্রবক্তা যারা তারা সকলেই কোনো না কোনো ভাবে সিরাজকে প্রত্যক্ষ শত্রু মনে করতেন। কাশিমবাজারের ফরাসি কুঠির প্রধান জাঁ ল, সিয়র গ্রন্থটির প্রণেতা গোলাম হোসেন, রিয়াজ উস সালাতিনের লেখক গোলাম হোসেন সালিম বা রিফ্লেকশনস গ্রন্থের লেখক লিউক ক্র&#x200d;্যাফটন- প্রত্যেকে সিরাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ শত্রুতায় জড়িত ছিলেন। গোলাম হোসেন খান বা গোলাম হোসেন সালিমরা ছিলেন ইংরেজ-অনুরক্ত। ক্রাফটন সরাসরি পলাশি ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাহলে তাদের লেখা থেকে ছড়ানো জনশ্রুতিকে আমরা মেনে নিলাম কেন? কেন একজন বাঙালির চেয়ে ব্রিটিশকে এগিয়ে রাখা হলো? কেন আমরা সুশীল চৌধুরীদের লেখা সেভাবে পড়লামই না? উত্তর একটাই, বাঙালি নিজেকে, স্বজাতির কাউকে সেভাবে বিশ্বাস করে না। প্রয়োজনে টেনে নামাতে সে পরের সাহায্য নেয়। যেমনটা হয়েছিল সিরাজের ক্ষেত্রে। এরই উত্তরাধিকার, অবিশ্বাসের গ্লানি, অপমানজর্জর জীবন বইতে হয়েছে মণীষীদের। যে-ই একটু উঠেছে, বাঙালি পিছনে টেনে ধরেছে।</p>



<p>&#8216;মাইকেলের যথেচ্ছ-যতির উর্মিলতা&#8217; বিহ্বল করেছিল বুদ্ধদেব বসুকে। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি ন্যূনতম সম্মান পাননি। ঘরে বাইরে একঘরে হয়েছেন। হিন্দুসমাজ দূরে ঠেলে দিয়েছে, খ্রিস্টীয় সমাজের চোখেও ছিলেন বহিরাগত। এমন দানবিক প্রতিভাধর মানুষ যে দারিদ্র&#x200d; যে সহ্য করেছেন, তা অকল্পনীয়। বিদ্যাসাগর-মহাশয় বাদ দিয়ে প্রায় কেউই এগিয়ে আসেনি। ‘আমার দুর্ভাগ্য এই দেশে জন্মেছি! যদি বিদেশে জন্মাতাম, আমার মতো মানুষকে ওরা মাথায় করে রাখত&#8217;, মাইকেলের এই মনস্তাপের আড়ালে আছে বাঙালির অসূয়া, চোরামার।</p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/bangalir-rasanabilas-thr-scaled.jpg" />&#8216;মজার মিলন&#8217; থেকে &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;- বাঙালির রসনাবিলাস</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bangalir-panjika-article-by-kamalendu-sarkar/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-04-08-at-11.28.45-AM-scaled.jpeg" />বাঙালির পঞ্জিকা, বটতলা এবং পঞ্জিকা পড়া</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>এই চোরামার থেকে বিদ্যাসাগর নিজেও নিস্তার পাননি। ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব&#8217; বইটি সামনে আসতেই অপমানের বন্যা বইতে শুরু করে। সংবাদ প্রভাকরে একের পর এক অশালীন লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। আইন পাশ হতে শুরু হলো&nbsp; তাকে একঘরে করা। ইন্দ্রমিত্র-র লেখা থেকে জানা যায়। খুনের হুমকিও পেতেন বিদ্যাসাগর। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরসিংহ থেকে লেঠেল শ্রীমন্তকে বিদ্যাসাগরের কাছে&nbsp; পাঠিয়েছিলেন। বঙ্গসমাজের অসূয়ায় তিতিবিরক্ত বিদ্যাসাগর জীবনের শেষপর্ব কাটিয়েছেন কার্মাটোরে। নিজের গ্রামে যাননি ১৯ বছর। শুধু কর্তব্যে অবিচল থেকেছেন।</p>



<p>১৮৮৬ তে প্রকাশিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের কড়ি ও কোমল। দু&#8217;বছরের মধ্যে আসরে নামছেন কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ। রাহু ছদ্মনামে তিনি কড়ি ও কোমলের প্যারডি লিখলেন। কড়ি ও কোমলকে অশ্লীল দাগিয়ে দিলেন। সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। লিখেছেন, &#8216;যদি স্পষ্ট করিয়া না লিখিতে পারেন সে আপনার অক্ষমতা।&#8217; চিত্রাঙ্গদার জন্য মুণ্ডপাত করে লিখেছেন, &#8216;একজন যে কোনো ভদ্রসন্তান এরূপ করিলে তাহাকে আমরা একাসনে বসিতে দিতে চাহিতাম না।&#8217; এই দ্বিজেন্দ্রলালের পুত্রের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাক্যালাপ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এতটুকু অসূয়া দেখাননি কখনও।</p>



<p>১৯১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম গাওয়া হয় জনগণমন। পরদিন এই গান সম্পর্কে ইংলিশম্যান লেখে, &#8220;The proceedings opened with a song of welcome to the King Emperor, specially composed for the occasion by Babu Rabindranath Tagore…&#8221; দেশের একাংশ সেদিন থেকে এ মতের সমর্থক।রবীন্দ্রনাথের কানেও গিয়েছিল সে কথা। ২৯ মার্চ ১৯৩৯ সালে রবীন্দ্রনাথ সুধারাণী দেবীকে দুঃখের সঙ্গে লেখেন, “শাশ্বত মানব-ইতিহাসের যুগযুগধাবিত পথিকদের রথযাত্রায় চিরসারথি বলে আমি চতুর্থ বা পঞ্চম জর্জের স্তব করতে পারি, এরকম অপরিমিত মূঢ়তা আমার সম্বন্ধে যাঁরা সন্দেহ করতে পারেন তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আত্মাবমাননা।”</p>



<p>অবশ্য এর চেয়েও&nbsp; ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে নজরুলের।&nbsp; সমসাময়িক সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদার তাঁকে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁকে কবিত্বপ্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসুর দু&#8217;টি (২), (৩) লেখায় এসেছে। যথা, নজরুল ইসলাম (১৯৪৪) এবং&nbsp; রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক (১৯৫২)। তাঁর কাব্যজীবন সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর পর্যবেক্ষণ ছিল:</p>



<p>১. নজরুল চড়া গলার কবি, তাঁর কাব্যে হৈচৈ অত্যন্ত বেশি।&#8230; স্বতঃস্ফূর্তা নজরুলের রচনার প্রধান গুণ এবং প্রধান দোষ।</p>



<p>২. কাঁচা, কড়া, উদ্দাম শক্তি, সেই চিন্তাহীন অনর্গলতা।&#8230; রুচির স্খলন।</p>



<p>৩. জীবনদর্শনের গভীরতা তাঁর কাব্যকে রূপান্তরিত করে না।</p>



<p>&nbsp;&nbsp; ৪.&nbsp; ‘বিদ্রোহী’ কবি, ‘সাম্যবাদী’ কবি কিংবা ‘সর্বহারা’র কবি হিশেবে মহাকাল তাঁকে মনে রাখবে কিনা জানিনে . . .।</p>



<p>৫. নজরুলের কবিতা অসংযত, অসংবৃত, প্রগলভ ; তাতে পরিণতির দিকে প্রবণতা নেই; আগাগোড়াই তিনি প্রতিভাবান বালকের মতো লিখে গেছেন…।</p>



<p>৬. তাঁর কবিতায় যে পরিমাণ উত্তেজনা ছিল সে পরিমাণ পুষ্টি ছিল না…।</p>



<p>বুদ্ধদেবের সিদ্ধান্তই অধিকাংশ বাঙালি মেনে নিয়েছে। নজরুল প্রসঙ্গে নানাসময়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে তাঁর পক্ষে কিছু লোককে পাওয়া যায়। কিন্তু বিশ্বভারতীর স্টোরে যেমন রবীন্দ্রনাথের নানা ক্ষুদ্রকায় বই পাওয়া যায়, তেমন ভাঙার গান, সর্বহারা কাব্যগ্রন্থগুলি আলাদা করে চাইলে কোথায় পাব কি? পাব না। কারণ বাঙালি বুদ্ধদেবের পর্যবেক্ষণ থেকে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়েছে। বুদ্ধদেবের মানসলোকের গঠন, তাতে ইওরোপের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করতে চায়নি, প্রাগাধুনিক কাব্যবীজ, আরবি ফারসির গন্ধে তাঁর মন মজেনি। এত নজরুল গবেষক এসেছেন, গিয়েছেন, স্বাধীনোত্তর দেশে নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নতুন করে প্রকাশের উদ্যম চোখে পড়েনি।কাব্যের যে অভিঘাতকে বুদ্ধদেবরা ছোট করে দেখেছেন, তাৎক্ষণিক শব্দটি ব্যবহার করছেন,&nbsp; সেই অভিঘাতের জন্যেই ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দরবিশ সারা বিশ্বের শরণার্থী মানুষের নয়নের মণি। অথচ একজন স্বাধীনতার জন্য জেলখাটা কবিকে কী হেনস্থাই না হতে হলো আজীবন।&nbsp; কেউ প্রশ্ন করল না, ১৯২২ থেকে ১৯৩১ পাঁচটি বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে নজরুলের। সারা দেশে আর কোন কবির এতগুলি কাব্যগ্রন্থ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে?</p>



<p>শনিবারের চিঠিতে বিদ্রোহীর প্যারোডি প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক সজনীকান্ত দাশ নিজেই ভবকুমার প্রধান ছদ্মনামে এই কাব্যের বিদ্রুপ রচনা করেছেন। মোহিতলাল মজুমদার ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে, নীরদ সি চৌধুরী ‘বলাহক নন্দী’ ছদ্মনামে একের পর এক লেখা লিখেছেন নজরুলকে ছোট করে। নীরব নজরুলের  ছবি দেখে মনে হয় দুঃখ পেতে পেতে দুঃখের সাকার স্বরূপ হয়ে উঠেছেন তিনি। ১৯২৭ সালের শেষের দিকে ইব্রাহিম খাঁকে দেওয়া চিঠিতে নজরুল লেখেন-</p>



<p>&#8220;লোকে বললেও আমি মনে করতে ব্যথা পাই যে, তাঁরা আমার শত্রু। কারণ একদিন তাঁরাই আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আজ যদি তাঁরা সত্যি সত্যিই আমার মৃত্যু কামনা করেন, তবে তা আমার মঙ্গলের জন্যই, এ আমি আমার সকল হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি। আমি আজও মানুষের প্রতি আস্থা হারাইনি – তাদের হাতের আঘাত যত বড়ো এবং যত বেশিই পাই।&#8221;</p>



<p>কায়স্থ সন্ন্যাসী, এই &#8216;অপরাধে&#8217; আজীবন যে পরিমাণ লাঞ্ছনা বিবেকানন্দকে সহ্য করতে হয়েছে তা-ও কহতব্য নয়। তাকে খুন করতে লোক গিয়েছে বরানগর মঠে। প্রাণে বাঁচিয়েছেন নিরঞ্জন মহারাজ। শিকাগোর সাফল্যে বাঙালি খুশি হবে ভেবেছিলেন বিনেকানন্দ। পরে তাঁকেই লিখতে হয়, &#8220;এক বৎসরের ভিতর ভারত থেকে কেউ আমার জন্য একটা টু শব্দ পর্যন্ত করলো না–আর এখানে সকলে আমার বিপক্ষে।” শিকাগোয় উপস্থিত ছিলেন আরেক বাঙালি, ব্রাক্ষ্ম প্রতাপচন্দ্র মজুমদার। মহেন্দ্রনাথ দত্তের লেখায় পাই, &#8220;প্রতাপচন্দ্র মজুমদার মহাশয় ফিরিয়া আসিয়া বলিতে লাগিলেন, নরেন, সেই ছোঁড়াটা, যে ভ্যাগাবন্ডের মত পথে পথে ঘুরে বেড়াত, সে এক লম্বা জামা পরে মাথায় পাগড়ি বেঁধে চিকাগো পার্লামেন্টে তো গিয়ে হাজির। সে আবার লেকচার করতে উঠলে, আবার বেদান্তর উপর কথা কয়, মায়াবাদ–সে সব অযৌক্তিক কথা, আর পৌত্তলিক ধর্ম সমর্থন করে। এসব জিনিস কি এযুগে আর চলে। যত সব বাজে জিনিস। ছোঁড়া এমনি অসভ্য রমণীদের সম্মুখে বসিয়াই চুরুট টানিতে লাগিল। আর কি লেকচার করে তার মাথামুণ্ডু কিছুই নেই, হাউড়ের মতন যত সব আবোল তাবোল বকে।”</p>



<p>নজরুলের অভিমানী চিঠিটির কথা লিখেছি পূর্বেই। একটি পত্রের কথা লিখে সাঙ্গ করি। বিবেকানন্দ প্রতাপ মজুমদারদের রটনার কথা শুনে লিখছেন, “আমার বুড়ি মা এখনও বেঁচে আছেন, সারাজীবন তিনি অসীম কষ্ট পেয়েছেন, সেসব সত্ত্বেও মানুষ আর ভগবানের সেবায় আমাকে উৎসর্গ করার বেদনা তিনি সহ্য করেছেন। কিন্তু তার সবচেয়ে ভালবাসা যে ছেলেটিকে তিনি দান করেছেন, সে দূরদেশে গিয়ে–কলকাতার মজুমদার যেমন রটাচ্ছে–জঘন্য নোংরা জীবনযাপন করছে, এ সংবাদ তাকে একেবারে শেষ করে দেবে।”</p>



<p>বিবেকানন্দর যদি এই পরিণতি হয়, তবে লাঞ্ছনা&nbsp; থেকে কে বাঁচবে? বাঙালি সহমানুষের সঙ্গে ঈর্ষা, ঘৃণা, ল্যাং মারা, টেনে নামানো বাদে আর কোনো সম্পর্কে কখনও আগ্রহী ছিল কি? যখন দেখি উপরে ওঠার নেশায় এক বাঙালিই অন্য বাঙালিদের হেয় করছে, নেতাজি সুভাষকে তোজোর কুকুর বলা মনে করি। ছোটখাটো অপমান, লাঞ্ছনা, আঘাত, মাড়িয়ে যাওয়া, স্বীকৃতির প্রশ্নে অসূয়া তাই আর গায়ে মাখি না। জানি, বাঙালি মারবেই।</p>



<p>তথ্যঋণ:</p>



<p>১. পলাশির অজানা কাহিনি: সুশীল চৌধুরী, আনন্দ পাবলিশার্স, ২০০৪</p>



<p>&nbsp;&nbsp; ২.&nbsp; বুদ্ধদেব বসু : নজরুল&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ইসলাম, প্রবন্ধসংকলন, দে’জ পাবলিশিং, ১৯৮২</p>



<p>৩. বুদ্ধদেব বসু : রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক, প্রবন্ধসংকলন, দে’জ পাবলিশিং, ১৯৮২</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/">বাঙালির বৈরিভাব</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 12:54:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali group theatre]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bibhas Chakraborty]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7262</guid>

					<description><![CDATA[<p>এখনও নাটক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারি।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/">বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাংলা গ্রুপ থিয়েটারের কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বললেন কমলেন্দু সরকার।</strong></p>



<p>হোয়াটসঅ্যাপে একটা অনুরোধ পাঠালাম&#8211; বিভাসদা, একবার ফোন করা যাবে? কমলেন্দু।</p>



<p>তেমনভাবে অপেক্ষা না-করে সরাসরি ফোনই&nbsp; করলাম। আমার মোবাইল নাম্বার বিভাসদার কাছে ছিলই। উনি বললেন, &#8220;আমিই ফোন করতে যাচ্ছিলাম।&#8221; বললাম, আপনার সঙ্গে একটু কথা বলব, কয়েকটি প্রশ্ন করব। প্রশ্নগুলো আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ করছি। আধঘণ্টা পর বিভাসদার একটা হোয়াটসঅ্যাপ ঢুকল, &#8216;খুব ভালো প্রশ্ন, কবে আসবে, কাল বলি ?&#8217;</p>



<p>আমি আর দেরি করিনি। পরদিন বিকেল পাঁচটায় বিভাস চক্রবর্তীর গলফ গ্রিনের ফ্ল্যাটে হাজির। চিরনবীন বিভাস চক্রবর্তী দরজা খুলে দিয়ে বললেন, &#8220;এসো, এসো। অনেকদিন পর।&#8221;</p>



<p>ফ্ল্যাটে ঢুকেই বাঁহাতে বিভাসদার ঘর। বইয়ের সমুদ্রে বাস। বেশিরভাগটাই নাটকের। অবাক হলাম একটা মানুষ নাটক সম্পর্কে নিজেকে ওয়াকিবহাল রাখার জন্য এখনো কত পড়াশোনা করেন! আপনার বয়স কত হল বিভাসদা? &#8220;৮৭ হল। ১৯৩৭ থেকে ২০২৪, ৬৩+২৪=৮৭-ই হয়।&#8221;</p>



<p>কে বলবে বিভাস চক্রবর্তী ৮৭! আগেও কোনওদিন বোঝা যায়নি। ৮৭-তেও পৌঁছেও বুঝলাম না। এখনও কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হন। যদিও বেশি উত্তেজনা বোধহয় তাঁর কাছে ঠিক নয়। কারণ, ইতিমধ্যে তাঁর হৃদয় সামান্য নাড়া দিয়ে গেছে। যাইহোক, বিভাসদা বললেন, বয়স তাঁর ৮৭। আচ্ছা একজন সৃজনশীল মানুষের কাছে বয়স কোনও ব্যাপার নয়। তবে হৃদয়ের সমস্যা হলে জীবন তো নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। তবুও মানুষটা তো বিভাস চক্রবর্তী, <strong>তাই বলেই ফেললাম, এই বয়সে নতুন কিছু করতে ইচ্ছা জাগে বা হয়? &#8220;আগের মতো স্কেলে কাজ করতে হয়তো আর পারব না, তবে অন্যরকমভাবে করতে পারি। ক্রিয়েটিভ কাজ অল্প শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে হয়তো করতে পারব। নতুন ফর্ম নিয়ে মাঝেমধ্যে ভাবি না, তা নয়, ভাবি। এখন অবশ্য অরগানাইজেশনাল কাজ নিয়েই বেশি ভাবি। এখন তো বহু মানুষ থিয়েটার নিয়ে আছেন, ভাবছেন। সবমিলিয়ে বলতে পারি, অনেক মানুষ নিয়ে যেখানে থিয়েটার দাঁড়িয়ে আছে। বলা যেতেই পারে থিয়েটারের পরিস্থিতি অনুকূল। এমনকী সাধারণ রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠা করার কথা ভাবা যেতে পারে। আমার তা যাবেও। আমার ধারণা, লোকে টাকাও দেবে। এবং তা চালানোর পক্ষেও সময় এবং পরিস্থিতি উভয়ই অনুকূল,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী জানালেন।</strong></p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/New-Project.jpg" />বাঙালির বৈরিভাব</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/bangalir-rasanabilas-thr-scaled.jpg" />&#8216;মজার মিলন&#8217; থেকে &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;- বাঙালির রসনাবিলাস</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>৮৭ বছরের যুবক বিভাস চক্রবর্তীর ভাবনা এইমুহূর্তে একেবারে থিয়েটার কেন্দ্রিকই। তাই উসখুস করতে করতে প্রশ্নটা করেই ফেললাম। &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217; এবং &#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; নাটকে গ্রুপ থিয়েটারের বিন্যাস মধ্যে দাঁড়িয়ে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার যে বাণিজ্যিক ভাবনা ছিল, আমি কিন্তু বাণিজ্যিককরণের কথা বলছি না একেবারেই। পরবর্তী সময়ে বা কালে আপনার এই ধারা বা ভাবনা নিয়ে অন্য গ্রুপ থিয়েটারগুলো এগোলো না কেন? কারণ কি মনে হয়? বিভাস চক্রবর্তী বললেন, &#8220;গণ্ডগোলের ব্যাপার। সংগঠনের কাঠামোয় যে-নাটক করতাম ভাবনাটাই ছিল আসল। একজন পরিচালকের ভাবনা থাকে আমার নাটকটি নিয়ে পৌঁছতে হবে দর্শকের কাছে। নাটকটি নিয়ে কখনওই বাণিজ্যিক ভাবনা থাকে না। আমি একটা ব্যাপার ভেবেই কাজ করি, করেছি, দর্শকদের&nbsp; নানাভাবে ভাল লাগানোর। পরিচালকের ভাবনা কখনও লেগে যায়, কখনও লাগে না। আগে থেকে বাণিজ্যিক ভাবনা থাকে তা নয় কিন্তু। দর্শকের ভাল লেগেছিল &#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; আর &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217;। আসলে কাজটা জাস্টিস দিয়ে করতে হয়।&#8221;</p>



<p>কথায় পেয়েছিল ওই সন্ধ্যায় বিভাস চক্রবর্তীর। নিজের নাটক তো বটেই, অন্য নাটক নিয়েও কথা হচ্ছিল। তবে সেইসব কথার অনেকটা ছিল না-লেখার কড়ারে। কথার ফাঁকে ছুড়ে দিলাম, আগে যে-যুগান্তকারী পালাবদল ঘটিয়েছিলেন বাংলা গ্রুপ থিয়েটার মঞ্চে, এখনও কি ইচ্ছে জাগে তেমন কিছু করতে? &#8220;অর্থ এবং শরীরে যদি কুলোয় তাহলে চেষ্টা করব। আগেও অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের &#8216;বিসর্জন&#8217; করেছিলাম। কোনও সেট ছিল না। মঞ্চ ফাঁকা। কেবলমাত্র খালেদদা (চৌধুরী) তিনটি স্ক্রল ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। মন্দিরটা দর্শকাসন। দেবতাকে প্রণাম করা দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বা তাঁদেরই উদ্দেশে। কিন্তু নিল না দর্শক। ব্রেখটের&#8217;   গুড পার্সন ইন সেচুয়ান&#8217; নিয়ে করেছিলাম &#8216;সাধু ও শয়তান&#8217;। একজনকে দিয়ে নাটকটা লিখিয়েছিলাম। এ-নাটকটাও সেভাবে চলল না। কেন চলেনি বুঝতে পারিনি তখন। <strong>এখনও নাটক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারি যদি শরীর দেয় আর অর্থ, শরীর আর অর্থ এই দুটোই খুব জরুরি,&#8221; বললেন বিভাসদা।</strong></p>



<p>আবার আর একটি পুরনো নাটক &#8216;জোছনাকুমারী&#8217; প্রসঙ্গে আসি। এই নাটকে যে-খেলা বা ম্যাজিক, দিগন্তকারী ভাবনা এবং প্রয়োগ ছিল, তা কিন্তু দর্শক সেভাবে নেননি, কেন? &#8220;সুনীলদা (গঙ্গোপাধ্যায়)-র লেখায় একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল। একটি মেয়ে তার কোনও দেশ নেই। মেয়েটি না ও বাংলার, না এ বাংলার! সুনীলদারও এমন একটা বেদনা ছিল। নিজের জন্মভূমি ছেড়ে চলে আসার বেদনা। ঋত্বিক ঘটকের যে-বেদনা ছিল। আমিও তো জন্মেছি ওই দেশে। আমার জীবনের সঙ্গে তো জড়িয়ে আছে ওই দেশের মাটি, হাওয়া-বাতাস, জল ইত্যাদি। আমি আমার ওই জায়গা ছেড়ে কেন আসব! এই বেদনা, কষ্ট তো আমারও হয়, আছেও। সুনীলদার লেখার মেয়েটির কষ্ট, বেদনা তো তাই। সে কোন দেশের! আমার মনে হয়, নিজের ভিটে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা, বেদনা, কষ্ট আর সেভাবে কাজ করেনি বাঙালির মনে। সেইসময় ইংরেজদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বাঙালির একটা জাগরণ ঘটেছিল। ক্রমশ বাঙালির প্রাণের স্পন্দন কমে একটা হেরো জাতে পরিণত হতে চলেছে,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী বেশ উত্তেজিত হয়েছিলেন কথাগুলো বলার সময়।</p>



<p>আচ্ছা, এখন একটা নাটক দেখতে গেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। একজন সাধারণ দর্শকের কাছে এত টাকা খরচ করা সম্ভব! আমার নিজের পক্ষেও তো সম্ভব নয়। কিছু টিকিট কি ৫০-৬০ টাকা রাখা যায় না? এ-ব্যাপারে বিভাস চক্রবর্তী অনেকটাই টিকিটের দাম বৃদ্ধির পক্ষ নিলেন। বললেন,<strong> &#8220;সেকালে আমরা যখন নান্দীকার থেকে বেরিয়ে এসে &#8216;চাক ভাঙা মধু&#8217; করেছিলাম, তখন খরচ হয়েছিল মাত্র আড়াই হাজার টাকা। এখন একটা নতুন নাটক প্রোডাকশন করতে গেলে কম করে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়।&#8221;</strong> বিভাসদাকে একটু থামিয়ে বললাম, সেইসময় ২৫০০ টাকা কিন্তু খুব কম টাকা ছিল না। এইসময়ে আড়াই না হোক দেড়-দু&#8217;লক্ষ টাকা তো বটেই। বিভাস চক্রবর্তী বললেন, &#8220;আগে আমরা নাটক করতাম নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করতাম। বিকেলে অফিস ছুটির পর বা কাজ-শেষে সবাই মিলে এক জায়গায় মিলিত হয়ে নাটকের রিহার্সাল দিতাম, নাটকের কথা ভাবতাম। এখন যাঁরা নাটক করেন তাঁদের অধিকাংশই তো আর কিছু করেন না। অভিনয়ই তাঁদের রোজগারের মাধ্যম। তাঁদের টাকা দিতেই হবে। ফলে, খরচ অনেক বেড়ে যায়, বেড়ে গেছেও। এখন যেমন একজন নামী অভিনেতাকেও টাকা দিতে হয়, তেমনই পাশাপাশি একজন অনামী অভিনেতাকে টাকা দিতে হয়। আমাদের সেইসময় তো এইব্যাপারটা ছিল না। প্রায় সকলেরই এখন অভিনয়ই পেশা। তবে তোমার কথার প্রসঙ্গে বলি, আমেরিকায় স্কোয়ার ইন দ্যা সার্কেলে দেখেছি, দিনের দিন কাটলে অনেকটাই কম দামে টিকিট পাওয়া যায়, যদি টিকিট থাকে। এমন একটা সিস্টেম চালু করা যেতেই পারে। তবে আমাদের একা করলে তো হবে না সকলকে মিলে করতে হবে।&#8221;</p>



<p>এবার বিভাস চক্রবর্তীর কাছে কিছুটা অন্যরকম প্রশ্ন রাখি। এখন তো বাণিজ্যিক নাটক নেই বললেই চলে, বিক্ষিপ্তভাবে দু&#8217;একটা হয়। তাহলে গ্রুপ থিয়েটার দলগুলো ওই জায়গাটি নিতে পারছে না কেন? এক শ্রেণির দর্শক তো নাটক দেখতে চান। খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলেন বিভাস চক্রবর্তী, &#8220;আমরা যে-নাটকটা করি তা মাইনরিটির জন্য। বাণিজ্যিক নাটক একটা বিশাল গেম। একেবারে&nbsp;ব্যবসার নিয়মেই ল্যান্ড,লেবার,ক্যাপিটালের প্রয়োজন। যিনি টাকা ইনভেষ্ট করবেন তাঁকে তো মুনাফা করতে হবে নইলে তিনি টাকা ঢালবেন কেন নাটকের পিছনে! সেটা কখনওই একটা দলের পক্ষে সম্ভব নয়।ল্যান্ড,লেবার,ক্যাপিটাল যদি পাওয়া তাহলে হতেই পারে। নিজের কথা বলতে পারি, আমি যদি এসবগুলো পাই তাহলে সেরিব্রাল নাটক করব।&#8221;</p>



<p>ইতিমধ্যে চা এলো। চিনি ছাড়া লিকার চা। চা-পানের ফাঁকে কিছু কথা হল আবার সেই না-লেখার জন্য। চা-পান শেষ হলে, প্রশ্ন রাখি, আমি যদি আপনার <strong>&#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; বা &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217; কে ল্যান্ডমার্ক নাটক ধরি বাংলা গ্রুপ থিয়েটারে, সেখান থেকে কতটা এগিয়েছে? &#8220;এখন কয়েকজন পরিচালক হঠাৎ হঠাৎ ভাল কাজ করছেন৷ ধারাবাহিকভাবে খুব যে ভাল কাজ হচ্ছে তা নয়। আগে শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ পরিচালক সবাই ধারাবাহিক ভাল কাজ করতেন, করেছেন। বলতে পারি, এখন বরং মফসসলে কিছু গ্রুপ ভাল কাজ করছে, ভাল কাজ হচ্ছে। ওরা আগের মতো ভাল কাজ করে। এখানে ভাল অভিনেতা, ভাল পরিচালক আছে কিন্তু কন্সট্রাক্টিভ ভাবে এগোনোর কোনও পথ নেই। এখন তো গ্রুপের সংগঠনটাই নেই,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী জানালেন তাঁর কথা।</strong></p>



<p>এবারের প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে কি গ্রুপ থিয়েটারের জনপ্রিয়তা কমেছে? নইলে এখন আর সেইভাবে আর আলোচনা শুনি না কেন! উনি বললেন, &#8220;এখন সেভাবে আর আলোচনা শোনা যায় না ঠিক কথা। কিন্তু কিছু নাটক আসে আলোচনার কেন্দ্রে। গ্রুপ থিয়েটার জনপ্রিয়তা নেই নয়, আছে। যে-নাটকটা করব সেই নাটকটি দর্শকদের তো ভাল লাগাতে হবে। লোকে বা দর্শকেরা টাকা দিতে প্রস্তুতও আছে যদি নাটকটি দর্শকের ভাল লাগে।&#8221;</p>



<p>এই মুহূর্তে কি আরও একবার &#8216;অদ্ভুত আঁধার&#8217; করার কথা ভাবছেন বা ভাববেন? &#8220;অদ্ভুত আঁধার&#8217; নাটকটির আবার করার কথা অনেকেই বলেছেন তখন একটা পলিটিকাল ক্রাইসিস ছিল। এখন এসব নিয়ে ভাববার জায়গা নেই। যদিও প্রচুর সমস্যা, প্রচুর ক্রাইসিস আছে,&#8221; জানালেন বিভাস চক্রবর্তী। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বহু কথা হয়েছিল বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে। কিন্তু সেসব কথা লেখা যাচ্ছে না, তাঁর বারণে।</p>



<p><strong>আর ক&#8217;দিন বাদেই বাংলা নববর্ষ। বাংলা নাটকের দর্শকদের কি বার্তা দেবেন? &#8220;এখন তো বাঙালির প্রথাগুলো প্রায় বন্ধ হয়েই গেছে। তবে বাংলা নতুন বছর যদি পালন করেন, তাহলে তিনি বা তাঁরা বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী এই বার্তাটি দিলেন প্রতিটি বাঙালিকে।</strong></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/">বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>১লা বৈশাখ,হালখাতা,বইপাড়ার গল্প</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Apr 2023 07:47:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Most Popular]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bidyasagar]]></category>
		<category><![CDATA[Dakshineswar Temple]]></category>
		<category><![CDATA[Halkhata]]></category>
		<category><![CDATA[Kalighat Temple]]></category>
		<category><![CDATA[Sandesh Patrika]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=5818</guid>

					<description><![CDATA[<p>বর্ণপরিচয়,বঙ্গদর্শন,সন্দেশ পত্রিকা, পুণ্যাহ উৎসব,লোকসংস্কৃতি...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/">১লা বৈশাখ,হালখাতা,বইপাড়ার গল্প</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অনিরুদ্ধ সরকার&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১।।</p>



<p>প্রথমেই একটা চমকে দেওয়ার মত তথ্য দিয়ে শুরু করি, বাঙালির হাতেখড়ি হয় যে বই দিয়ে সেই বর্ণপরিচয় কবে প্রকাশিত হয়েছিল জানেন? পয়লা বৈশাখের দিনে। বিদ্যাসাগরমশাই এই পয়লা বৈশাখকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন তাই বাঙালির হাতেখড়িরর বর্ণপরিচয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটান এই দিনেই। আর এই পয়লা বৈশাখে বর্ণপরিচয়ই নয় আরও বেশ কিছু গ্রন্থ এবং পত্রিকারও আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল এই পয়লা বৈশাখেই। যেমন ধরুন&nbsp; বঙ্কিমবাবুর ‘বঙ্গদর্শন’ কিংবা সুরেশচন্দ্র সমাজপতির ‘সাহিত্য’ পত্রিকা। আবার রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের ‘প্রবাসী’ থেকে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ‘সন্দেশ’ পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়েছিল এই পয়লা বৈশাখেই।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/halkhata-thr.jpg" alt="" class="wp-image-5822" width="296" height="193" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/halkhata-thr.jpg 359w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/halkhata-thr-300x196.jpg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/halkhata-thr-320x209.jpg 320w" sizes="(max-width: 296px) 100vw, 296px" /><figcaption>ছবি &#8211; গেটি ইমেজেস</figcaption></figure>



<p>চলে আসি হালখাতার প্রসঙ্গে। ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই &#8216;হালখাতা&#8217; শব্দটি। কীভাবে পয়লা বৈশাখের সঙ্গে এর যোগ হল? ইতিহাস কি বলছে? আসুন জেনে নিই। এই পয়লা বৈশাখ পালনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি এদিন হালখাতার বিশেষ রেওয়াজও পালন করে আসছে সেই মহারাজা শশাঙ্ক কিংবা তারও আগে থেকে।</p>



<p>সহজ কথায় হাল চালানো বা হাল দেওয়া থেকে &#8216;হাল&#8217; শব্দটির আবির্ভাব এবং সেই হাল চালানোর হিসেব যে খাতায় রাখা হত সেই &#8216;খাতা&#8217; থেকে রেওয়াজটির নাম হয়েছে &#8216;হালখাতা&#8217;।  অতএব সেই হাল চালানোর সময় এবং হিসেব রাখার সময় থেকেই হালখাতার রেওয়াজ পালিত হচ্ছে। আরও ভেঙে বলতে গেলে, মানুষ যখন লাঙলের ব্যবহার শিখল তখন তারা এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করল এবং তখন চাষ করা দ্রব্যের বিনিময় প্রথা শুরু হল। এই হালের দ্রব্য বিনিময়ের হিসেবের জন্য একটি খাতায় নিজেদের মতো করে তারা তা লিখে রাখতে শুরু করেছিল। সেই সময়কার ভাষায় তা লিপিবদ্ধ করা হত। সেই লিপিবদ্ধ করা খাতাটিরই নাম ছিল &#8216;হালখাতা।&#8221; হাল শব্দটি সংস্কৃত এবং ফারসি, দু&#8217;টি থেকেই এসেছে বলে দাবি করা হয়। সংস্কৃত হলে তার মানে &#8216;লাঙল&#8217;। আর ফারসি হলে হাল-এর মানে নতুন। তাই এই দু&#8217;টি শব্দই হালখাতার ক্ষেত্রে যথাযোগ্য।</p>



<p>আরও পড়ুন:</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/shubha-mohurat-article-updated-pic-scaled.jpg" />শুভ মহরৎ</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Featurerd, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/lost-delicious-bengali-fish-recipe/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2022/08/chingri-am-kasundi-thr-co-scaled.jpg" />১০টি পুরোনো সুস্বাদু মাছের রান্না</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Featurerd, Ma thakuma, Recipe</div></li></ul></div>



<p>মুষ্টিমেয় একশ্রেণির বাঙালি মনে করেন- খাজনা আদায়ের জন্য পয়লা বৈশাখে চালু হয় এই &#8216;হালখাতা&#8217;। বিভিন্ন রাজ্য তথা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষ।&nbsp; হালখাতাও কখনও হয় রামনবমীতে, কখনও দেওয়ালিতে। ভেবে দেখুন, আমাদের এখানে অক্ষয় তৃতীয়াতেও কিন্তু হয় হালখাতা।</p>



<p>২||</p>



<p>আকবরের&nbsp; আমল থেকেই যে এই পয়লা বৈশাখ পালিত হচ্ছে তাতে একশ্রেণির বাঙালি বেশ আত্মহারা। কয়েকজন ঐতিহাসিক এবং গবেষক তো ঘরে বসে দায়িত্ব নিয়ে এই তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। যাই হোক এনিয়ে বিতর্ক থাক্তেই পারে কিন্তু কেন বিতর্ক তা একটু জেনে নিলে মন্দ হয় না। আসুন জেনে নিই- আকবরের আমলে ১ বৈশাখের দিন জমিদারদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার জন্য নববর্ষের দিন হালখাতার সূচনা&nbsp; হয়েছিল। খুব ভালো কথা। শুধু তাই নয়, বঙ্গাব্দের প্রচলনও না-কি আকবরের হাত ধরে। সত্যিই কি তাই! আকবের আগে তো বাংলায় মল্লরাজারা মল্লাব্দের প্রচলন করে ফেলেছিলেন তাহলে? আর&nbsp; শকাব্দ, গুপ্তাব্দ, বিক্রমাব্দ এসবও তো ছিল তাহলে!!!&nbsp; এবিষয়ে একশ্রেণির ঐতিহাসিক জোর গলায় বলছেন, বঙ্গাব্দের প্রচলন হয়েছিল মহারাজ শশাঙ্কের রাজত্বকালে।</p>



<p>এবার গবেষক সুকুমার সেনের কথায় আসি। উনি লিখছেন, &#8220;নতুন খাতার (নতুন খাতার আসল নাম হালখাতা)&nbsp; একটু ইতিহাস আছে। বাংলাদেশ অধিকার করে আকবর এখানে রাজস্ব সংগ্রহ ও রাজ্য শাসনের জন্যে হিজরিকে বর্ষ রূপে চালিয়েছিলেন। তিনি যে নতুন বছর করলেন তার নাম দিলেন ‘ফসলি’। ’ (এই ‘ফসলি’ এখন আমাদের বাংলা সাল। তবে এর বর্ষারম্ভ ১ বৈশাখ)। অর্থাৎ ফসল তোলার কাল। হিজরি পুরোপুরি গ্রহণ করার পক্ষে একটা বিশেষ বাধা ছিল। হিজরি বছর ৩৫৪ দিন। সুতারাং হিজরিতে&nbsp; নববর্ষ বছর এগার দিন পিছিয়ে যাবে। এই অসুবিধা দূর করার জন্যই আকবর হিজরি সালকে নিয়ে তা করলেন ৩৬৫ দিনের।&nbsp; এইটিই হল ‘ফসলি’ সাল। এই ফসলি সাল ধরে জমিদারদের খাজনা দিতে হতো। জমিদাররা নিজেদের খাজনা আদায়ের সুবিধের জন্যে ফসলি সালে&nbsp; নববর্ষের দিন ঠিক করতেন। পণ্ডিতেরা এই দিনের নাম দিয়েছিলেন ‘পুন্যাহ’ অর্থাৎ (পুন্য দিন)।&#8221;খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন।&#8221;</p>



<p>৩||</p>



<p>এবার অতীতের জমিদারি প্রথার অন্দরে একটু খোঁজ নিয়ে দেখা যাক কি ইতিহাস মেলে। অতীতের কিছু পুরোনো দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে জানা যায়- একসময় জমিদাররা পয়লা বৈশাখ অথবা বছরের প্রথম দিকে পুণ্যাহ বলে একটা উৎসব পালন করতেন। সেদিন কাছারিবাড়িটা সাজানো হতো। তার সামনে থাকত নানা বাদ্যযন্ত্রের ব্যান্ড। দেশি আর বিলিতি বাদ্যযন্ত্রের সমাহারে জমিদারদের বাড়িতে এক সুরের আবহ তৈরি হত। যাতে থাকত সানাই, ক্লারিওনেটের মত বাদ্য। তবে সব ছাপিয়ে থাকত ঢাকের বাদ্যি। বাড়ির বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা ঢাকের তালে কোমর দোলাতো। কোনো কোনো জমিদারদের নিজস্ব ব্যান্ড থাকত। বাজনাদারেরা আসতেন সারাবছরের বায়না নিতে। কেউ বা আসত বিভিন্ন পুজোর বায়না নিতে। প্রজারা চলে যেত কাছারির ভেতর। সেখানেই চলত আদান-প্রদান। সহজ কথা এই পুণ্যাহ বিষয়টা ছিল অনেকটা হালখাতার মতো। এই দুয়ের পার্থক্যটা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন- আসলে ‘হালখাতা’ ছিল ক্রেতার সঙ্গে দোকানদারের দেনা-পাওনাসংক্রান্ত একটি বিষয় ; আর ‘পুণ্যাহ’ ছিল প্রজাদের সঙ্গে জমিদারের দেনা-পাওনার বিষয়।</p>



<p>ঐতিহাসিকদের মতকে আরও সহজভাবে বলতে গেলে, &#8220;দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর আদায়ের জন্য আকবরের অর্থমন্ত্রী তোডরমল জোর দিয়েছিলেন আঞ্চলিক সুবিধার উপরেই। রবি শস্যের ফসল ওঠার পরে লোকের হাতে অর্থ, সম্পদ থাকত। তাই পয়লা বৈশাখের মধ্যে কর জমা দিতে হত।&#8221;</p>



<p>৪||</p>



<p>এক ঐতিহাসিক আকবরের সময়কালে পালিত এই উৎসবের বিষয়টি নিয়ে লিখছেন-&nbsp; পহেলা বৈশাখ এক আনন্দের দিন। ভোরের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে এই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। প্রত্যেক প্রজাকে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সমস্ত খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এই উৎসবের রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বইকেই বোঝানো হয়। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হাল-নগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকেন। মোঘল আমলে স্বর্ণশিল্পীরা নিজেদের দোকানে এই রেওয়াজ পালন করতেন।&#8221;</p>



<p>তাহলে প্রশ্ন জাগে আজকের এই আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের রীতিটি এল কবে থেকে? ঐতিহাসিক এবং গবেষকদের মতে, ১৯১৭ সালে না-কি প্রথম নববর্ষ পালিত হয়। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর &#8216;পহেলা বৈশাখে&#8217; হোম-যজ্ঞ, কীর্ত্তণ এবং পূজনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওযা যায়।</p>



<p>৫||</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/aniruddha-charak-pic.jpg" alt="" class="wp-image-5821" width="321" height="213" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/aniruddha-charak-pic.jpg 640w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/aniruddha-charak-pic-300x200.jpg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/aniruddha-charak-pic-360x240.jpg 360w" sizes="(max-width: 321px) 100vw, 321px" /><figcaption>ছবি -অ্যাপজি ফটো</figcaption></figure>



<p>এবার একটু গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতিতে ফেরা যাক। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুবসংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়কপূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হয় চড়ক মেলা। এই মেলায় অংশগ্রহণকারীগণ বিভিন্ন শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে মানুষের মনোরঞ্জন করে থাকে। এছাড়া বহু পরিবারে বর্ষশেষের দিন টক এবং তিতা ব্যঞ্জন ভক্ষণ করে সম্পর্কের সকল তিক্ততা ও অম্লতা বর্জন করে। এই প্রতীকী প্রথা একবিংশ শতাব্দীতেও বিদ্যমান। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ একটি নতুন বছরের সূচনা হয়। গ্রাম লাগোয়া নদী কিংবা পুকুরে প্রতিটি পরিবার ভোরে স্নান সেরে প্রাচীন মন্দিরে পুজো দেন। তারপর বাড়ির বয়ঃজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করে মঙ্গলকামনা করে থাকেন। বিভিন্ন লোক উৎসব পালিত হয়। ধর্মীয় বিভিন্ন রীতি-রেওয়াজ ও প্রথা মেনে চলে পুজো। বাড়িতে বাড়িতে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলে মিষ্টান্ন ভোজন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অধিকাংশই এদিন থেকে তাদের ব্যবসায়িক হিসেবের নতুন খাতার উদ্বোধন করে, যার পোশাকি নাম হালখাতা। গ্রামাঞ্চলে এবং কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে এই পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয় বৈশাখী মেলা।</p>



<p>৬||</p>



<p>আসুন এবার এই পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ নিয়ে আমাদের বাঙালি কবিদের কার কি ধারণা একটু দেখে নিই।</p>



<p>কবি ইশ্বচন্দ্র গুপ্ত ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে লিখছেন, &#8220;খৃস্ট মতে নববর্ষ অতি মনোহর। প্রেমাননন্দে পরিপূর্ণ যত শ্বেত নর।/ চারু পরিচ্ছদযুক্ত রম্য কলেবর। নানা দ্রব্যে সুশোভিত অট্টালিকা ঘর।&#8221;</p>



<p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘নববর্ষ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘অহোরাত্রান্যার্ধমাসা মাসা ঋতবঃ সম্বৎসরা ইতি বিধৃতাস্তিষ্ঠন্তি’ অর্থাৎ ‘যে অক্ষর পুরুষকে আশ্রয় করিয়া দিন ও রাত্রি, পক্ষ ও মাস, ঋতু ও সংবৎসর বিধৃত হইয়া অবস্থিতি করিতেছে, তিনি অদ্য নববর্ষের প্রথম প্রাতঃ সূর্যকিরণে আমাদিগকে স্পর্শ করিলেন৷ এই স্পর্শের দ্বারা তিনি তাঁহার জ্যোতির্লোকে তাঁহার আনন্দলোকে আমাদিগকে নববর্ষের আহ্বান প্রেরণ করিলেন৷’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নববর্ষের আবাহন মন্ত্র উচ্চারণ করেছেন এই প্রবন্ধে। তিনি উদাত্ত কণ্ঠে গেয়েছেন ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’</p>



<p>কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখছেন,</p>



<p>‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর,</p>



<p>তোর সব জয়ধ্বনি কর</p>



<p>ওই নূতনের কেতন ওড়ে,</p>



<p>কালবৈশাখী ঝড়</p>



<p>তোর সব জয়ধ্বনি কর’।</p>



<p>৭||</p>



<p>এবার বাঙালি নববর্ষে দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার একটা বেশ ধুম দেখা যায়। এই হিড়িক কিন্তু আজকের নয়। যুগপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণের দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে অবস্থান করা থেকেই এই পরম্পরা চলে আসছে। আর এই ঐতিহ্যকে আজও জাগ্রত করে রেখেছে আবেগপ্রবণ বাঙালি তাই হালখাতা পুজোর জন্য চৈত্র সংক্রান্তির রাত থেকেই লম্বা লাইন পড়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের বাইরে। ভোর চারটেয় মঙ্গলারতি হওয়ার পর থেকে রাত পর্যন্ত চলে পুজো। কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় জমে। কোনো কোনো বছর পুজো দেওয়ার লাইন পৌঁছে যায় বালি খাল পর্যন্ত। দিনে পাঁচ-ছ’কেজি পেঁড়া রাখা হয় দোকানে। নববর্ষের দিনে যা রাখা হয় ১২ থেকে ১৫ কেজি। ভাবা যায়! নববর্ষের দিন সকালে লক্ষ্মী-গনেশের পুজো দেন বাঙালি, কারও হাতে পেতলের লক্ষ্মী-গনেশ, তো কারও হাতে থাকে মাটির লক্ষ্মী-গনেশ।বছরের শুরুতেই হালখাতা মা ভবতারিণীয়ের পায়ে ছুঁইয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের আশির্বাদ নেন ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। একসময় দক্ষিণেশ্বরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। মনে পড়ে ঠাকুর যখন নরেনকে একবার দক্ষিণেশ্বরে আসার জন্য পীড়াপীড়ি করছে তখন নরেনের সাফ উত্তর, &#8220;এতদূর রোজরোজ আসা যায় না। তার ওপরে খরচ আছে।&#8221; উত্তরে ঠাকুর মুচকি হেসে নরেনকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যেখানে দক্ষিণা থাকে সেই জায়গাটি।বলেছিলেন, &#8220;প্রয়োজন পড়লে ওখান থেকে নিয়ে নিস।&#8221; আজ দক্ষিণেশ্বর যাত্রাপথ সহজ হয়েছে।জলপথ, সড়কপথ, রেলব্যবস্থা সবই রয়েছে। মন্দির অবধি মেট্রো চালু হয়ে যাওয়ায় সহজেই মানুষ পৌঁছে যাচ্ছেন। স্কাইওয়াক নিয়ে যাচ্ছে একেবারে মন্দিরের প্রধান দরজার সামনে। ফলে মানুষ ফুল–মিষ্টি নিয়ে পুজো দিতে পারছেন। হাজারো গরমকে উপেক্ষা করে নববর্ষে মানুষ পুজো দেন দক্ষিণেশ্বরে।জিনিসপত্র,ঠাকুরের ছবি, এটা সেটা কেনেন।আর পুজো শেষে উপোস ভঙ্গ করেন হিঙের কচুরি আর মিষ্টি খেয়ে।কেউ বা খান লস্যি।</p>



<p>একইভাবে পয়লা বৈশাখের দিন উল্লেখযোগ্য ভিড় চোখে পড়ে কলকাতার বিখ্যাত কালীঘাট মন্দিরে। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভোর থেকে প্রতীক্ষা করে থাকেন দেবীকে পূজা নিবেদন করে হালখাতা আরম্ভ করার জন্য। ব্যবসায়ী ছাড়াও বহু গৃহস্থও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে কালীঘাটে গিয়ে থাকেন। মন্দির এলাকার ৪০০-৪৫০ পেঁড়ার দোকান ঘিরে কেনাবেচা থাকে চোখে পড়ার মতো। কালী টেম্পল রোডের পেঁড়ার দোকানগুলিতে থাকেন শয়ে শয়ে পাণ্ডা। সবমিলিয়ে কালীঘাট জমজমাট । নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৬টায় খোলে কালীঘাট মন্দিরের দরজা। আর বন্ধ হয় রাত ১২টা নাগাদ।</p>



<p>৮||</p>



<p>এইদিন আবেগপ্রবণ বাঙালির তার বাঙালিয়ানা জাহির করে। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবি এবং শাড়ি পরে রাস্তায় বের হন।</p>



<p>নববর্ষ উদযাপিত হয় প্রভাতফেরি, গণেশ পুজোর মধ্য দিয়ে। পয়লা বৈশাখ মানেই বাড়িতে সকলে মিলে একটা গোটা দিন একসঙ্গে কাটানোর একটা আবদার। নতুন কেনা পোশাক, মায়ের হাতের রান্না, নতুন বই, নতুন গান, নতুন সিনেমা– সব মিলিয়ে একটা নতুন বছর যেন অনেকগুলো নতুনের মালা গেঁথে নিয়ে আসে।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Poyla-college-street-thr.jpg" alt="" class="wp-image-5820" width="316" height="207" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Poyla-college-street-thr.jpg 511w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Poyla-college-street-thr-300x196.jpg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Poyla-college-street-thr-320x209.jpg 320w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Poyla-college-street-thr-360x235.jpg 360w" sizes="(max-width: 316px) 100vw, 316px" /></figure>



<p>বাঙালি কলেজস্ট্রিট বইপাড়ায় এলেই আজীবন কেমন একটা নস্টালজিক হয়ে পড়ে।আর তা যদি নববর্ষের দিন হয় তাহলে তো কথাই নেই। বাঙালি খোঁজে অতীতের হারিয়ে যাওয়া খেরোর খাতা, জমিদারি পালকি, ঘোড়ার গাড়ি, ঢাকের আওয়াজ, ডাবের জল, জমাটি আড্ডা, নতুন গল্প, নতুন বই কিংবা পয়লা বৈশাখে প্রকাশিত প্রিয় লেখকের প্রথম পাতায় স্বাক্ষর!</p>



<p>সবকিছুর সংমিশ্রণে নববর্ষের প্রথম দিনটায় বইপাড়া থাকে জমজমাট। অজস্র স্মৃতি ভিড় করে কবি-সাহিত্যিকদের মনে। প্রকাশক-লেখক-পাঠকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য ছবি ফুটে উঠে আজও। চলুন এবার আমরাও একটু নস্টালজিক হয়ে পড়ি। ফিরে যায় অতীতের সেই কলেজস্ট্রিটে। যে কলেজস্ট্রিটে একসময় রাজত্ব করেছেন বিদ্যাসাগর, রামমোহন। পয়লা বৈশাখ প্রকাশকদের স্টলে উঁকি দিলেই দেখা যেত বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, প্রবোধকুমার সান্যালদের কিম্বা যে কলেজস্ট্রিটে পরে দেখা যেত সমরেশ, সুনীল কিম্বা শক্তিকে। সেসময় আজ অতীত। এখন বাঙালি &#8216;সোশ্যাল লাইক&#8217; আর &#8216;অযাচিত দেখনদারিতে&#8217; ব্যস্ত। কিন্তু একটা সময় এমনও ছিল যখন প্রথিতযশা সাহিত্যিক থেকে নবাগত লেখক, একবার হলেও এই দিনটায় ঢুঁ দিতেন বইপাড়ায়।</p>



<p>৯||</p>



<p>অতীত কাহিনির অনুসন্ধান করতে করতে জানা যায়, নববর্ষ উপলক্ষে বইপাড়ায় প্রকাশনা সংস্থা, বইয়ের দোকানে পরিষ্কার পর্ব চলত বেশ কয়েকদিন আগে থেকে। তারপর হত রং। আর পয়লা বৈশাখের দিন থাকত বিশেষ পুজো। তারপর সকলে মিলে এক অনাবিল আড্ডায় মেতে উঠতেন আট থেকে আশি। ঢাক বাজত। বাড়ি জুড়ে থাকত একটা পুজো পুজো ভাব। ট্রাম লাইনের উপর সেযুগে পালকি চলত। আর বাঙালির সঙ্গে বাঙালিয়ানা থাকত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে।</p>



<p>বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির অনন্য ছবিটাও ওই দিন ধরা পড়ত পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, লেখকদের আড্ডা জমে উঠত।ধীরে-ধীরে কৌলীন্য হারিয়েছে নববর্ষের আড্ডার। সবাই আড্ডার জায়গায় টিভিতে মুখ দেখাতে ব্যস্ত। সেলফি-যুগ যখন আসেনি তখন লেখকের সই-ই তখন নববর্ষে পাঠকের সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করা হত। কিন্তু সে রেওয়াজ আর নেই। কলেজ স্ট্রিট বদলেছে। বদলেছে নববর্ষের আড্ডার সেই চিরায়ত ট্রাডিশন ।</p>



<p>একটু আগেই বলছিলাম, একটা সময় লেখকের অটোগ্রাফেই সন্তুষ্ট থাকতে হত পাঠকদেরকে। বইয়ের প্রথম পাতায় লেখকের অটোগ্রাফ ছিল পাঠকদের কাছে প্রাপ্তি। দিন বদলালো। &#8221;অটোগ্রাফ থেকে এল &#8216;ফটোগ্রাফ&#8217; সংস্কৃতি। আর তা বদলে এল সেলফি। সঙ্গে সেলফ প্রমোশন। একটা সময় নববর্ষের দিন মানেই ছিল বিশেষ&nbsp; ছাড়।আজ সারাবছর ছাড় থাকে বইপাড়ায়। কলেজ স্ট্রিটেরও অনেক বদল হয়েছে। শুধু কলেজ স্ট্রিটই নয়, ধীরে-ধীরে কৌলীন্য হারিয়েছে নববর্ষের আড্ডা। সেলফি-যুগ যখন আসেনি তখন লেখকের সই-ই তখন নববর্ষে পাঠকের সেরা প্রাপ্তি।কলেজ স্ট্রিট হয়তো বদলেছে। কিন্তু নববর্ষের আড্ডার সেই চিরায়ত ট্রাডিশন আজও বদলায়নি।</p>



<p>আজও মাছে ভাতে বাঙালি নববর্ষে কিংবা হালখাতায় নিজের ঐতিহ্য খোঁজে। নস্টালজিয়ায় ডুব দেয়। তুলে আনে অতীতের হাজারো স্মৃতি।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/">১লা বৈশাখ,হালখাতা,বইপাড়ার গল্প</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
