<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Women Power -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/tag/women-power/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Mon, 09 Mar 2026 07:30:35 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Women Power -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উপার্জনেও পরাধীন</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 07:30:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<category><![CDATA[women's rights]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10416</guid>

					<description><![CDATA[<p>উদয়াস্ত পরিশ্রমের টাকা নিজের ইচ্ছেমতো খরচের স্বাধীনতা নেই।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গত শতাব্দীর তুলনায় এখন অনেক বেশি নারী উপার্জনশীল এবং এই বিষয়টি নারী স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।কিন্তু দেখা গেছে যে সেই উপার্জিত অর্থের ওপর সেই নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং উদয়াস্ত পরিশ্রম করার পরেও সেই ঘাম রক্ত ঝরানো অর্থ বাধ্য হয়ে নিজের স্বামী বা পরিবারের জন্য নিয়মমাফিক দিয়ে দিতে হয়। কাজ করে আয় করা অনেক নারী আজ ঘরে বাইরে উভয় জায়গায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র আয় করা কি মানে তার স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা পাওয়া? অর্থ উপার্জনের পরও সেই টাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক মেয়ের হাতেই নেই।</p>



<p>মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের ১৩টি ফোকাস গ্রূপের মহিলাদের নিয়ে স্টেইনার্ট ২০২৩&nbsp; সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০,০০০+ শ্রমজীবী নারীর মধ্যে প্রায় ৯০% সদস্য তাদের আয়ের বড় অংশ ঘর-সংসারে সরাসরি খরচ করেন। তাও হয়েছিল, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের খরচ ও অন্যান্য জরুরি খরচে।কিন্তু প্রায় ৬৭% নীচের ক্ষেত্রেও তারা নিজেই আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বরং স্বামী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যের অনুমতি বা সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেন।এই বাস্তবতা শুধু অনুভূতিই নয়, গবেষণাও বারংবারই প্রমাণ করেছে&nbsp; নারীর উপার্জন থাকলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত-ক্ষমতা তার নিজের হাতে থাকা খুব কমই ঘটে।ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে -৫ রিপোর্টে প্রকাশ সার্ভেতে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে ৪৪% মহিলা যারা তাদের উপার্জন থেকে যা সঞ্চয় করেছেন তাতে তাদের অধিকার নেই।অল্পশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে ৫০% মহিলাদের নিজস্ব উপার্জনের ওপর কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>এই অসাম্য,অন্যায় অবিচারের পাশে অনুল্লেখিত থাকে বিয়ের সময় মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে দেওয়া গয়না শ্বশুরবাড়িতে কেড়ে নেওয়া অথবা বাধ্য হয়ে মেয়েদের দিয়ে দেওয়ার কথা।</p>



<p>জীবন থেকেই গল্প ।বাংলা গল্প উপন্যাসে মেয়েদের বিয়ের সময় নিজের গয়না শ্বশুরবাড়ি, স্বামী,শাশুড়ির হাতে নিদারুণ লাঞ্ছনার কথা আমাদের অজানা নয়।রবীন্দ্রনাথের &#8216;দেনা পাওনা&#8217; গল্পে উনি তুলে ধরেছেন পণ প্রথার কুফল ও বাঙালি জীবনের বিষময় বেদনার রুদ্ধ ইতিহাসকে।সমাজ সংসারের নির্মমতায় যৌতুকের দায়ে নিরুপমার মৃত্যুর কথা।হৈমন্তী গল্পে হৈমন্তীর বয়স নিয়ে শাশুড়ির ভর্ৎসনায় হৈমন্তীর সুতীক্ষ্ণ প্রতিবাদ ,&#8217;আমার বাবা তো কখনোই মিথ্যা বলেন না ।&#8217;এই একটি মাত্র বাক্যের মধ্যে দিয়ে সুশিক্ষা,রুচিবোধ ও স্নিগ্ধ মনোভাবসম্পন্ন হৈমন্তীর প্রতিবাদী সত্তা প্রকাশ পায়।</p>



<p>শরৎচন্দ্রের গল্প-উপন্যাসে রক্ষণশীল সমাজে নারীদের ওপর চলা চরম অন্যায়, অবমাননা ও শোষণের চিত্র ফুটে ওঠে। বিধবা নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, সতীত্বের কঠোর মাপকাঠি এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট নারীদের কথা তিনি সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন। তাঁর নারী চরিত্ররা প্রায়শই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে প্রতিবাদী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। &#8216;নারীর মূল্য&#8217; প্রবন্ধে বলেছেন ,&#8217;মণি-মাণিক্য মহামূল্য বস্তু, কেন না, তাহা দুষ্প্রাপ্য। এই হিসাবে নারীর মূল্য বেশী নয়, কারণ, সংসারে ইনি দুষ্প্রাপ্য নহেন। জল জিনিসটা নিত্য-প্রয়োজনীয়, অথচ ইহার দাম নাই। কিন্তু যদি কখন ঐটির একান্ত অভাব হয়, তখন রাজাধিরাজও বোধ করি একফোঁটার জন্য মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্নটি খুলিয়া দিতে ইতস্ততঃ করেন না। তেমনি—ঈশ্বর না করুন, যদি কোনদিন সংসারে নারী বিরল হইয়া উঠেন, সেই দিনই ইঁহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে আজ নহে। আজ ইনি সুলভ।&#8217;</p>



<p>সাম্প্রতিক গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, যা ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা পরিচালিত এক অভিনব গবেষণা-ভারতের নাগরিক আচরণ, জননিরাপত্তা, লিঙ্গ-মানসিকতা, বৈচিত্র্য ও বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এই সমীক্ষা দেশের নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।</p>



<p>সারা দেশ থেকে ৯,০০০-এরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬৯% মানুষ মনে করেন নারীরা তাঁদের উপার্জিত অর্থ নিজেরাই পরিচালনা করতে সক্ষম হওয়া উচিত। তবে উদ্বেগজনকভাবে ৩১% মানুষের বিশ্বাস, আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের পরিবারের অনুমতি প্রয়োজন। আঞ্চলিক বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো, কেরালাতে ৯১% মানুষ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন, অথচ ওড়িশাতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৭%-এ।</p>



<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি,নারী অর্থ উপার্জন করলেই যে সেই অর্থ ব্যয়ের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তা নয়। সমীক্ষার এই পরস্পরবিরোধী তথ্য সমাজের এক গভীর দ্বন্দ্বকে সামনে আনে—নারীদের কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হলেও, অনেকের ধারণা তাঁদের উপার্জন পরিবারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত। গভীরভাবে প্রোথিত লিঙ্গ-ধারণা, সামাজিক প্রত্যাশা, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ভূমিকা এবং পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা নারীদের আর্থিক স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। ফলে পরিবারে আর্থিক অবদান রাখার পরও অনেক নারী প্রকৃত অর্থে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল অবস্থাতেই থেকে যান।&nbsp;</p>



<p>পরম পরিতাপের বিষয় আগেকার কঠোর সামাজিক অনুশাসনে মেয়েদেরকে পর্দানশীন এবং অশিক্ষিত করে রাখা হওয়ার সময় থেকে আজকের পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে মেয়েদের আত্মমর্যাদা এবং আত্মউপার্জনের পথ খুলে গিয়েও সেই বাড়ির ও বাইরের যুদ্ধ সামলানোর পরেও যদি মেয়েদের নিজের উপার্জিত অর্থ নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে প্রকৃত নারী স্বাধীনতা,নারীশক্তির উন্মীল প্রকাশ হয় না। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তথ্যসূত্র- স্টেইনার্ট সমীক্ষা ২০২৩,ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ ডাটা সার্ভে (NHFS -5 ),ওয়র্ক রিলেটেড ডিসিশন মেকিং ,ম্যারেড উওমেন ইন্ডিয়া-দ্য ইকোনোমিক অ্যান্ড লেবার রিলেশনস রিভিউ), গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, ইন্ডিয়া টুডে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বানু মুস্তাকের যুদ্ধজয়ী বুকার</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/banu-mushtaq-booker-prize-for-heart-lamp/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/banu-mushtaq-booker-prize-for-heart-lamp/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 10 Jun 2025 13:23:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Ekal]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Prerona]]></category>
		<category><![CDATA[Banu Mushtaq]]></category>
		<category><![CDATA[Booker Prize]]></category>
		<category><![CDATA[women empowerment]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=8895</guid>

					<description><![CDATA[<p>প্রতিবাদের সাহিত্য, সামাজিক গোঁড়ামি, পিতৃতান্ত্রিকতা,গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রতিবাদ...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/banu-mushtaq-booker-prize-for-heart-lamp/">বানু মুস্তাকের যুদ্ধজয়ী বুকার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>৭৭ বর্ষী কন্নড় কথাসাহিত্যিক,সমাজকর্মী,আইনজীবী শ্রীমতী বানু মুস্তাক তাঁর &#8216;হার্ট ল্যাম্প&#8217; গল্পগুচ্ছের জন্য ,যা ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন শ্রীমতী দীপা ভাস্তি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুকার প্রাইজ পেয়েছেন যা দ্বিগ্বিজয়ী,যুগান্তকারী সাফল্য।বুকার প্রাইজে সবচেয়ে বয়স্কা,এই প্রথম কন্নড় ভাষার বই বুকার প্রাইজ পাওয়া,বুকার প্রাইজের ইতিহাসে প্রথম গল্পগুচ্ছের পুরস্কার এমন অনেক অসামান্য অনন্য কৃতিত্বের অধিকারিণী শ্রীমতী বানু মুস্তাক।</p>



<p>কর্ণাটকের হাসান জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মজলিম সমাজের রীতি ৮বছর বয়স হয়ে গেলে বিয়ে দিতে হয় ,কিন্তু এই নিম্নবিত্ত পরিবারে বানু মুস্তাকের বাবা এই মেয়েকে সেই অনিশ্চিয়তা,অল্প বয়সে নিজের অমতে বিয়ে হওয়ার যন্ত্রণা আর গ্লানি থেকে অন্য আলোর দিকে নিয়ে যেতে কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন।যেখানে কন্নড় আর ইংরেজি ভাষা শিখবেন।সম্ভবত ঐদিন আবার জন্ম হয়েছিল এই দীপ্তিময়ীর।</p>



<p>কন্নড় ভাষার শেখার কয়েক মাসের মধ্যে কবিতা লিখেছিলেন আর স্নাতক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির খবর শুনে আত্মীয় পরিজনরা ওঁর বাবাকে বলেছিল এই মেয়ের জন্য সমাজে তোমার নাক কাটা যাবে।</p>



<p>বানু মুস্তাকের গল্পের সূত্রর গভীরে তাঁর আইনজীবী কর্মজীবন আর সমাজকর্মী জীবনের প্রত্যক্ষ্য  অভিজ্ঞতা,বান্দায়া সাহিত্য আন্দোলন যা প্রতিবাদের সাহিত্য হিসেবে স্বীকৃত,যেখানে সামাজিক গোঁড়ামির প্রতিবাদ,পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধাচরণ,গার্হস্থ্য হিংসা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রতিবাদ তাঁর লেখায়,গল্পে উঠে এসেছে।</p>



<p>আরও পড়ুন :</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/women-power-wing-commander-vyomika-singh-and-colonel-sofiya-qureshi/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/05/Vyomika-Sing-Sofiya-Quereshi-thr.jpg" />নারীশক্তি জাগরণী</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Ekal, Featurerd, Prerona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/scenic-beauty-of-palash-flowers-in-summers-of-kolkata-by-kamalendu-sarkar/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/05/Kolkata-Polash-ful-thr.jpg" />রুদ্রতেজে রঙিন গ্রীষ্ম</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Featurerd, Rochona</div></li></ul></div>



<p>প্রথম গল্প &#8216;শায়েস্তা মহলের পাথর&#8217;।নামকরণের শ্লেষ উল্লেখযোগ্য কারণ মনে পড়ে তাজমহল স্মৃতিসৌধ।শায়েস্তার স্বামীর ছদ্ম প্রণয়ভাষ আর শায়েস্তা মারা যাওয়ার পরেই আবার বিয়ে করার ভণ্ডামি।&#8217;অগ্নিবর্ষা&#8217; আর &#8216;কালো গোখরো&#8217;,অগ্নিবর্ষা গল্পে&nbsp; অশুভ রূপকদের কথা বলে,সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।&#8217;কালো গোখরো&#8217; তে মুত্তাওয়ালির (ওয়াকফ- প্রধান)বৌয়ের সন্তাননিরোধক অপারেশনে করার ইচ্ছাপ্রকাশ।এমন মর্মস্পর্শী ১২টি গল্পগুচ্ছ হার্ট ল্যাম্প।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ভালোবেসে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে এসে শুনলেন এইসব লেখালেখি চলবেনা ,বোরখা পরতে হবে,ঘরের কাজ করতে হবে । ২৯ বছর বয়সে এই অসহনীয় বন্দিদশা সহ্য করতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেশলাই জ্বালার সময় স্বামী পায়ে ছেলেকে রেখে মিনতি করে আমাদের ছেড়ে যেও না।এর পর আর ফায়ার তাকাননি বানু।পেয়েছেন কর্ণাটক সাহিত্য পুরস্কার,দানা পুরস্কার।১৯৯০ থেকে ২০২৩ এই ৩৩ বছর ধরে বানু লিখেছেন সেইসব অচেনা অজানা লাঞ্ছিত,দুঃসহ দুরবস্থায় পড়া সে দক্ষিণ ভারতে নিপীড়িত মুসলিম মেয়েদের কথা।</p>



<p>ওয়েব সিরিজের গল্প নয়, সত্যি ঘটনা যে এই বানু মুস্তাক যখন লঙ্কেশ পত্রিকায় কাজ করতেন (মনে পড়ছে ?গৌরী লঙ্কেশ?)তখন তাঁকে ছুরি মেরে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু তাতে ভীত হননি এই অগ্নিকন্যা।তাঁর লক্ষ্য ছিল এইসব পিছিয়ে পড়া অত্যাচারিত মেয়েদের যুদ্ধের কথা বলতে,তাঁর &#8216;কালকেউটে&#8217; গল্পের আমিনার কথা যার শরীর ক্রমাগত ভেঙে যাচ্ছে একটার পর একটা সন্তান জন্ম দিতে ,শেষে একক দুর্দমনীয় সাহসী সিদ্ধান্তে বাড়িতে থেকে একা বেরিয়ে ব্লক হাসপাতালে যায় টিউবেকটমি অপারেশন করাতে কারণ সে মনে করেছিল এই জীবন আমার,তাই এই শরীরের অধিকারও আমার।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>গার্ডিয়ান পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বানু বলেছেন,&#8217;আমার্ গল্পগুলি সেই মেয়েদের নিয়ে যাদের ধর্ম,সমাজ,রাজনীতি প্রশ্নহীন আনুগত্য দাবি করে আর অমানুষিক নৃশংস অত্যাচার করে চলে সম্পূর্ণ পরাধীন করে রেখে।&#8217;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১২টি ছোট গল্পের সংকলন &#8216;হার্ট ল্যাম্প&#8217;এ লিঙ্গবৈষম্য,গোঁড়া /অন্ধ বিশ্বাস আর সামাজিক চাহিদা আর নিপীড়িত অসহায় মুসলিম মেয়েদের জীবন সংগ্রামের কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে।বানু মুস্তাক আজীবন বিশ্বাস করেছেন এইসব দলিত ও মুসলিম মেয়েদের সংগ্রামের পাশে তাঁকে দাঁড়াতে হবে,এদের যুদ্ধগুলি সাধারণের চোখে মামুলি হলেও তাদের যুদ্ধগুলি সামান্য নয়।</p>



<p>৭৭ বছরের এই অনুপমা দীপ্তিময়ী বানু মুস্তাক শুধু সাহিত্যজগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুকার প্রাইজই পেলেন না তিনি হয়ে উঠলেন নিরন্তর সংগ্রাম আর যুদ্ধজয়ের নাম।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/banu-mushtaq-booker-prize-for-heart-lamp/">বানু মুস্তাকের যুদ্ধজয়ী বুকার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/banu-mushtaq-booker-prize-for-heart-lamp/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দেবী নহি,নহি আমি সামান্যা রমণী</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/womens-day-article-by-anindita-para/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/womens-day-article-by-anindita-para/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 Mar 2024 18:36:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[women empowerment]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<category><![CDATA[women's day]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7202</guid>

					<description><![CDATA[<p>নারীকে দিতে হবে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক ও যথাযথ মর্যাদা।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/womens-day-article-by-anindita-para/">দেবী নহি,নহি আমি সামান্যা রমণী</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>অনিন্দিতা</strong><strong> </strong><strong>পাত্র</strong><strong></strong></p>



<p>৮ই মার্চ একটি বিশেষ দিন। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি প্রতি বছর নারী দিবস হিসাবে পালিত হয়। নারী স্বাধীনতা এই মুহূর্তে পৃথিবীর একটি বহুল চর্চিত বিষয়। শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই নারীর স্বাধীনতা, নারীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে মানুষ। তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বিশ্ব জুড়ে নারী দিবসের উদযাপন যে ধুমধাম করেই হবে, এ তো বলাই বাহুল্য। এই দিনটি পালনের মূল বিষয় যদিও নারী, কিন্তু দেখা গেছে দেশ-অঞ্চলের ভিত্তিতে দিবসটি পালনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তো কোথাও নারীর প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা রক্ষাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে, উদযাপন করা হয়েছে এই দিনটিকে।</p>



<p>এখন কথা হল, পৃথিবীর আদি যুগ থেকে তো এই দিনটি নারী দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসেনি। পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে নারীর মর্যাদা সম্পর্কিত ধারনাটিও জনমানস ও বৃহত্তর সমাজে ক্রমবিবর্তিত হয়েছে। আমরা দেখেছি যুগে যুগে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে নানান অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছে! তাই নারীর জন্যে একটি বিশেষ দিনের উদযাপন শুরু হল কবে থেকে বা নারী দিবসের উৎপত্তি হল কিভাবে, সেটা দেখে নেওয়া যাক। জেনে নেওয়া যাক নারী দিবসের ইতিহাস।</p>



<p>&nbsp;১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের এক সূঁচ কারখানায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, কম বেতনে বেশি সময় কাজ করার অভিযোগ এনে, মহিলা শ্রমিকরা প্রতিবাদ মিছিল বের করে। শান্তিপূর্ণ সেই মিছিলে পুলিশ ওই মহিলাদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং বহু মহিলাকে আটক করে। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে স্মরণে রেখে ১৮৬০ সালের ৮মার্চ, নিউ ইয়র্কের সূঁচ শ্রমিকেরা, মহিলা শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করে।</p>



<p>এইভাবে সংঘবদ্ধ হতে থাকে মহিলা শ্রমিকদের আন্দোলন। এরপর ১৯০৮ সালে জার্মান সমাজ নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে, জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন! নারীদের ভোটাধিকার, কর্মঘন্টা, ন্যায্য মজুরি নিয়ে আলোচনা হয় এই সম্মেলনে। এর দু’বছর পর ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ১৯১০ সালে, দ্বিতীয় নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছিল এই সম্মেলনে এবং সেখানেই প্রথম ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৯১১ সালের ৮ মার্চ, প্রথম বার দিবসটি পালিত হয়। তবে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতে দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হওয়া শুরু করে ১৯১৪ সাল থেকে। আর জাতিসংঘ দিবসটি পালন করতে শুরু করে ১৯৭৫ সাল থেকে। তবে ১৯৭৭ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিবসটি পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এবং দিবসটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘ, সকল সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। এর ফলে অধিকার বঞ্চিত নারী সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির পথ সুগম হয়। নারীর অধিকার রক্ষা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।</p>



<p>আমরা আজকে নারী দিবস পালন করছি। নারী আন্দোলনের কথা বলছি। মেয়েদের আন্দোলন করার অধিকার কিন্তু অত সহজে আসেনি। সমাজের নানা বাধা এবং পুরুষের ক্রুদ্ধ ভ্রুকুটি, দারিদ্র্য, জীবনের সর্বস্তরের অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই করে তবেই নারী এই অধিকার অর্জন করেছে। অনেক নিষ্ঠুর ইতিহাস বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এই নারী দিবস। বিশ্ব আজ একবিংশ শতাব্দীতে পা রেখেছে, পা রেখেছে নতুন সহস্রাব্দে।</p>



<p>আমরা যখন নতুন শতাব্দীর প্রথম নারী দিবস পালন করছি তখনও বিশ্ব নারী সমাজের অবস্থা কিন্তু কন্টকমুক্ত নয়। গত তিন দশকে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, পশ্চিম এবং দক্ষিণ এশিয়ার নারী সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটলেও, পুরুষের সাথে ঘটা অগ্রগতির তুলনায় তা কিছুই নয়। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীসমাজের অবস্থা তো এখনো রীতিমতো আশঙ্কাজনক! উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আজও দারিদ্রসীমার নিচে রয়ে গেছে প্রায় ৬০ কোটি নারী। অপরদিকে উন্নত দেশগুলোতে দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা নারীর সংখ্যাও কিছু কম নয়। ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ের মত উন্নত দেশেও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ নারী দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অশিক্ষিত জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ নারী এবং দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ৭০ শতাংশই নারী।&nbsp;</p>



<p>আজকে এই সমতার যুগে, নারী পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসছে। শিক্ষায়, রাজনীতিতে, সমাজের আরো নানা ক্ষেত্রে নারী নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে এসেছে সামনে। জায়গা করে নিয়েছে পুরুষের মাঝে। নারী এখন শুধু চার দেওয়ালে আটকে নেই। বিশ্বের দরবারে জ্ঞান-বিজ্ঞান-গবেষণা, তথ্য প্রযুক্তি, শিল্প সাহিত্য, সবেতেই নারীর অবদান লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তার পরেও নারী, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশ বিদেশ জুড়ে আজও নারীকে সমাজ, দ্বিতীয় শ্রেনীর বাসিন্দা বানিয়ে রাখতে চায়। বর্তমানের গালভরা গণতান্ত্রিক-সমতার যুগে, পথেঘাটে কর্মস্থলে নারীকে যৌন হয়রানি, লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় হামেশাই। এমনকি যেসব পরিবারে শিক্ষার আলো তেমনভাবে পৌঁছায়নি, পরিবারেরই আপনজন কর্তৃক নির্যাতন ঠেকানো আজও সম্ভব হয়নি। এছাড়া আমাদের দেশে নারী ভ্রূণহত্যা বা পণ প্রথার মতো নারী অবমাননার জ্বলন্ত উদাহরণ তো আছেই! নারী দিবস উদযাপনের মধ্যে দিয়েও এসব অবাঞ্ছিত অবস্থাকে মূল থেকে উৎপাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নারী নির্যাতনের পরিমান আগের থেকে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্যে সুস্থ পরিবেশ, মজুরি, কর্মঘন্টা, প্রয়োজন মত ছুটির আবেদন অনেকাংশে নিশ্চিত করা গেছে। তবে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো বহ বাধা থেকে গেছে। দেশ কাল নির্বিশেষে সেই বাধাগুলি মোটামুটি এরকম-</p>



<p><img src="https://s.w.org/images/core/emoji/14.0.0/72x72/25aa.png" alt="▪" class="wp-smiley" style="height: 1em; max-height: 1em;" />কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ কখনোই নারীর অগ্রগতিকে মেনে নিতে পারে না। তারা প্রতি পদে নারীর স্বাধীনতার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।</p>



<p><img src="https://s.w.org/images/core/emoji/14.0.0/72x72/25aa.png" alt="▪" class="wp-smiley" style="height: 1em; max-height: 1em;" />নারীর ক্ষমতায়ন না হওয়া।নারী তার কাজে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলে, কখনোই নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে না।</p>



<p><img src="https://s.w.org/images/core/emoji/14.0.0/72x72/25aa.png" alt="▪" class="wp-smiley" style="height: 1em; max-height: 1em;" />নারী যদি শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সে কোনদিন তার অধিকার নিয়ে সচেতন হতে পারে না। সমাজ তাকে ঠকিয়ে নেয়। তার আয়বৃদ্ধি হয় না। ফলে তাকে অর্থের ব্যাপারে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।</p>



<p><img src="https://s.w.org/images/core/emoji/14.0.0/72x72/25aa.png" alt="▪" class="wp-smiley" style="height: 1em; max-height: 1em;" />সবশেষে বলব নারীর উন্নয়নের প্রধান বাধার কথা- যা হলো পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি! পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই পুরুষতান্ত্রিকতায় বিশ্বাসী&nbsp; মানুষ নারীকে পুরুষের অধীন এবং ছোট করে দেখতে ভালবাসে।</p>



<p>নানান বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও সারাবিশ্বে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীতে অল্প হলেও যেটুকু পরিবর্তন এসেছে, তাতে এই দিবসটি পালনের যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই। নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ক্ষমতায়নের মাধ্যমে যে নারীর উন্নয়ন সম্ভব, একথা আজ সমগ্র পৃথিবীতে স্বীকৃত। নারীর উন্নয়ন বলতে- নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং তার কাজের যথাযথ মূল্যায়নকে বোঝাচ্ছে। আর সমাজ এবং রাষ্ট্র যদি এক হয়ে কাজ করে তবেই নারীর উন্নয়ন সম্ভব। এক্ষেত্রে সবার আগে দরকার নারী শিক্ষার। নারীমুক্তির প্রধান শক্তিই হলো শিক্ষা। শিক্ষাই পারে নারীকে আলো দেখাতে। শিক্ষা নারীর আত্মবিশ্বাস, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে মজবুত করবে। তাই নারীর উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত নারী শিক্ষার বিস্তার। এছাড়াও দরকার নারী পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা। যুগ যুগ ধরে যে বৈষম্য চলে আসছে, আজ নারী নিজ যোগ্যতায় সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তাই আজ তার স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়ার সময় এসেছে। নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। তবেই এগিয়ে যাবে নারী। এছাড়া নারীর সামাজিক, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিকেও রাষ্ট্রের নজর রাখা উচিত। যে সুযোগ সুবিধা এতদিন শুধু পুরুষ ভোগ করে এসেছে, এখন তাতে নারীরও যাতে অধিকার কায়েম হয়, সে আশ্বাস রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। অর্থাৎ নারীর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়ক সেবা ও আইনি সহযোগিতার মাধ্যমে, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উচিত নারীর পাশে থাকা।&nbsp;</p>



<p>আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের ফলস্বরূপ বিশ্ব সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, একথা মাথায় রেখেও বলবো- আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস এখনো পর্যন্ত অনেকাংশে সভা, সমিতি, সিম্পোজিয়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। বাস্তবে নারীর অবস্থানে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। বস্তুত উন্নত, অনুন্নত, উন্নয়নশীল নির্বিশেষে সকল দেশেই নারীরা কমবেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে আজও। বস্তুত নারীর মর্যাদা ও অবস্থান দেখেই বোঝা যায় একটি দেশ কতখানি সভ্য ও উন্নত। তাই নারীকে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা দেওয়ার জন্যে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, পেশা-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের গণতান্ত্রিক সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারীকে দিতে হবে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক ও যথাযথ মর্যাদা। তবেই নারী দিবস পালন সার্থক হবে।</p>



<p>লেখক পরিচিতি &#8211; অনিন্দিতা পাত্র সমাজমাধ্যমে দাপুটে সোজা সাপটা ব্লগার এবং সম্প্রতি প্রকাশিত নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে&nbsp;জনপ্রিয় দুটি গল্পগুচ্ছ ‘ উত্তরণ’ আর &#8216;৩ এক্কে ৩&#8217;।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/womens-day-article-by-anindita-para/">দেবী নহি,নহি আমি সামান্যা রমণী</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/womens-day-article-by-anindita-para/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>তাহাদের কথা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/unsung-womens-tales-in-international-womens-day/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/unsung-womens-tales-in-international-womens-day/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 Mar 2024 03:31:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[international women's day]]></category>
		<category><![CDATA[Women achiever]]></category>
		<category><![CDATA[women empowerment]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<category><![CDATA[women's day]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7191</guid>

					<description><![CDATA[<p>নারীদিবস কবে ওরা জানেনা ,কিন্তু রুখে দাঁড়ায়।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/unsung-womens-tales-in-international-womens-day/">তাহাদের কথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>অদিতি মজুমদার</strong></p>



<p><em>&#8220;প্রতিবারই যখন একজন মহিলা নিজের পক্ষে দাঁড়ান, সম্ভবত না জেনেই, দাবি না করেই, তিনি সমস্ত মহিলাদের পক্ষে দাঁড়ান।&#8221; &#8211; মায়া অ্যাঞ্জেলোউ&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</em>&nbsp;&nbsp;</p>



<p>কোহিনূরের সঙ্গে আমার আলাপ হয় বউবাজারে, কোহিনূরের তখন বয়েস প্রায় পঞ্চাশ। রোগা গড়ন, কিন্তু সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা , তার চেহারায় সব থেকে উজ্জ্বল তার দুটো চোখ! কোহিনূর একজন নাবালিকাকে রাত বিরেতে যৌন পল্লী তে নিয়ে আসতে দেখতে পায়! আর তারপর থেকে সারারাত সে ওই বাড়ির পাহারায় ছিল … আমি তখন একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রিসার্চের কাজ করি … খবর পেয়ে আমিও ছুটে গিয়েছিলাম বৌবাজারে … গিয়ে দেখলাম কোহিনূর &nbsp;ততক্ষণে লোক জড়ো করে ফেলেছে … বলছে একটা বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এসেছে &nbsp;… আমি ছাড়বো নাকি? আমার সামনে দিয়ে কোন বাচ্চাকে এইখানে নিয়ে আসা যাবেনা … আমি যা ভোগ করেছি … আমি কাউকে ভোগ করতে দেবনা! আমি কোহিনূরের তেজ দেখে এক মুহূর্ত বিস্মিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম! &nbsp;&nbsp;</p>



<p>কোহিনূরের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয় আরো পরে, কিন্তু সেদিনের কোহিনূরের দাপট আমার চোখে এখন লেগে আছে! কোহিনূর এর বাড়ি ছিল কোচবিহারে … ছিল মানে এখনও হয়তো আছে! কিন্তু কোহিনূর&nbsp; ষোল বছর বয়েসে বাড়ি ছেড়ে এসেছিল । আর কোনোদিন ফিরে যায়নি! কারণ সে জানতো সে ফিরে গেলে তাকে কেউ আর বাড়িতে &nbsp;ঢুকতে দেবেনা! বাবা ছোট&nbsp; বেলায় মারা যান, অভাবের সংসার,&nbsp; গেঞ্জির কারখানায় কাজ দেবে বলে গ্রামেরই একজন তাকে কলকাতায় নিয়ে এসে চেতলার যৌন পল্লীতে বিক্রি করে দেয়! সেই থেকে কোহিনূর কলকাতাতেই আছে! চেতলা থেকে চলে এসেছে বউবাজারে! তার যখন বছর আঠেরো বয়েস তখন তার একজন লোকের সঙ্গে সম্পর্কও তৈরি হয় … &nbsp;সেই সম্পর্ক থেকে তার পুত্রের জন্ম! যদিও সেই লোকটি ছেলের যখন বছর দুয়েক বয়েস তখন থেকেই আর কোহিনূরের কাছে আসেনি! অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলাম … জানো সে কোথায় আছে? কোহিনূরের সোজা সাপটা উত্তর … কে জানে বেঁচে আছে কিনা! আর ছেলে? কোহিনূর ম্লান হেসে বলে সেও বড় হয়ে মায়ের এমন কাজ মেনে নিতে পারেনি … অন্য জায়গায় থাকে , ভদ্র সমাজে …! যাকে গতর খাটিয়ে মানুষ করলাম সেই আর আমাকে … এক মুহূর্তের জন্য চোখ টা যেন ঝাপসা হয় তার … পরক্ষণেই সামলে নিয়ে বলে … ভালই হয়েছে … ! আমি নিজের মত ভাল আছি! এত জবাবদিহি করতে পারবনা দিদি!</p>



<p>কোহিনূর পড়াশোনা জানেনা … কিন্তু তার জীবন বোধ আমাকে বিস্মিত করে, নিজের শরীরের ওপর তার নিজেরই অধিকার আর কারোর না … আমি শরীর বিক্রি করেছি … তার মানে এই না আমার ওপর অত্যাচার করা যাবে! … কোহিনূর আমাকে বলেছিলো … এখানে কত রকমের লোক আসে … কার কোন ধর্ম কেউ জানতে চায়না … কিন্তু বাইরে দেখো তো&nbsp; জাত পাত ধর্ম নিয়ে কত বাছ বিচার! … আমি বলি কোহিনূর … এখানে এসে মার খেয়েছ? কোহিনূর &nbsp;বলে খেয়েছি … প্রথম দু একবার … তারপর নিজের রক্ষা নিজেই করতে শিখে গেছি … ! আর এখন অন্যদের রক্ষা করার চেষ্টা করি … সব যে পারি এমন না … যতদিন এই খানে থাকব … চেষ্টা আমি করেই যাবো! বাড়ি যেতে ইচ্ছে করেনা? কোহিনূর হাসে … কে আছে আমার ওখানে যে ইচ্ছে করবে?</p>



<p>কোহিনূর ক্লারা জেটকিন্স জানেনা … কোহিনূর জানেনা ন্যায্য শ্রমের মূল্যের জন্য আন্দোলনের কথা … কিন্তু সে জানে তাকে লড়ে নিতে হবে নিজের অধিকার! সারা জীবন সে লড়েই যাবে …! এই নারী &nbsp;দিবস কোহিনূরের … আর কোহিনূরের মত মালা, শিখা, আয়েশা, পিংকিদেরও!</p>



<p>পুতুল হঠাৎ করেই চুপি চুপি দেখা করতে এল , পুতুল এসেই বললো আমাকে একটা জিনিস জোগাড় করে দেবে? … খেয়াল করলাম পুতুলের চোখের নিচে কালশিটে … পুতুল ভয়ে ভয়ে এও বললো আমি যে তোমার কাছে এসেছি কেউ যেন জানতে না পারে! পুতুল কে আমি দেখছি গত পনেরো বছর ধরে … বাড়ি বাড়ি ঠিকে কাজ করে … বাঙালি … কিন্তু বিয়ে করেছে অবাঙালি ট্যাক্সি ড্রাইভার কে … দুই ছেলে … ! আমি জানি পুতুলের বর রাজেশ তাকে খুবই মারধোর করে … অনেক বার পুতুল কে বলেওছি ব্যাবস্থা নিতে …! কিন্তু পুতুল ভাবতেও পারেনা নিজের স্বামির বিরুদ্ধে পুলিশে যাওয়া যায় … যাওয়া উচিত! জানতে চাইলাম কি জোগাড় করে দিতে বলছিস? পুতুল বললো শুনেছি মদ ছাড়ানোর ওষুধ হয়? রাস্তায় লেখা থাকে দেওয়ালে … আমাকে জোগাড় করে দেবে দিদি? আবার মার খেয়েছিস? … পুতুল চুপ … আমি হতাশ গলায় বললাম সারাদিন এত পরিশ্রম করে বাড়ি গিয়ে মার খেতে ভাল লাগে তোর? … পুতুল খুব উৎসাহ নিয়ে বললো … দিদি মানুষ টা খারাপ না … শুধু একটু পেটে পড়লেই … কেমন হয়ে যায়! পেটে না পড়লে তোকে মারবেনা আর? পুতুল বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে&nbsp; … তা জানিনা … কিন্তু আমি আর কি করব বলো? তুমি দিদি যে ভাবে হোক ওষুধটা আমায় জোগাড় করে দাও … যদি বলিস আমি পুলিশ কে জানাব … পুতুল হাত জোড় করে না দিদি … ছেলে দুটো র কি হবে? কি হবে মানে? রোজগার করিস তুই … রাজেশ তো শুধু নামেই বাবা … পুতুল বোঝেনা … বুঝতে চায়না! সে লেখাপড়া জানে সামান্যই …&nbsp; সে যা শিখেছে তা এত সহজে কিভাবে বদলে ফেলবে? পুতুল চলে যায় … আমি ভাবি … পুতুল কে দোষ দিয়ে লাভ কী? কত মেয়েই তো সহ্য করে যায় এত কিছু … তাদেরও তো এসব সামলে চলতেই</p>



<p>শেখানো হয়েছে! মানিয়ে নিতে বলা হয়েছে! এখন ঘরে ঘরে মেয়েদের সেই শিক্ষাই তো দেওয়া হয়! পুতুলের কাছে নারী দিবসের মূল্য কী আমার জানা নেই … পুতুল শুধু চায় শান্তিতে থাকতে … এই নারী দিবস কি পুতুলের নয়?</p>



<p>আমার বাড়িতে থাকেন শুভা দি … শুভা হালদার … ধর্মে খ্রিস্টান …! কবর ডাঙ্গায় বাড়ি … ! আমার ছেলেদের দেখাশনা করার জন্য এসেছিলেন দশ বছর আগে … তারপর বাড়ির একজন হয়ে গেছেন! শুভাদির গল্প আবার অন্য রকম … খুব কম বয়েসে এক পাদরীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সম্বন্ধ করে, বয়েসে ফারাক ছিলো&nbsp; আঠেরো বছরের । শুভা দি ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছেন … তারপর আর পড়াশনা করা হয়নি …! বিয়ের এক বছরের মধ্যে মেয়ের জন্ম আর পাঁচ বছর পরে স্বামী মারা যান! সে সময় পাশে কেউ ছিল না … শুভা দি আয়ার কাজ শুরু করেন , এখন শুভা দির বয়েস আটান্ন, এখন কাজ করে যাচ্ছেন , যতদিন সুস্থ থাকবেন কাজ করবেন। শুভা দির শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছিল … শুভাদি কোর্ট পর্যন্ত করেছেন একার চেষ্টায়! শুভা দির দার্ঢ্য আমাকে মুগ্ধ করে! শুভা দি নিজেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন … এমন মেয়েরা নারী দিবসের প্রধান মুখ হয়ে উঠুক!</p>



<p>আমার মা ছিলেন বরিশালের মেয়ে … এই পশ্চিম বঙ্গে এসে আর পাঁচ টা উদ্বাস্তু পরিবারের মতই ছিল আমার মামার বাড়ির জীবন … শুধু একটাই জোর ছিল তাদের … ভাই বোনেরা সবাই পড়াশোনায় খুব ভাল! আমার মা সেই যুগে ইকনমিক্স পড়েছেন বেথুন কলেজে … মা এর নাম এখনো কৃতী ছাত্রী হিসেবে লেখা আছে বেথুন কলেজের দেওয়ালে! মা বাড়ির সম্বন্ধ ফিরিয়ে দিয়ে বিয়ে করেছিলেন আমার বাবা কে …! বাড়ির অমতে এক বস্ত্রে চলে এসেছিলেন এক ঘটি পরিবারে! মা কলেজে পড়াতেন … পরে স্কুলে বাবা হাওড়ার স্কুল শিক্ষক! অভাবের সংসার … তার মধ্যেই মা একটু একটু করে বদলে দিয়েছিল আমাদের বাড়ি টাকে! মার অবসর যাপন ছিল বই পড়া … সারাদিন সারাক্ষণ বই এ মুখ গুজে কেন থাক মা? … সেকি … আমি তো শেষ দিন অব্দি পড়ে যেতে চাই … কত কি ই তো পড়া জানা বাকি রয়ে গেল! মা জানতেন অসহায় মেয়েদের পাশে কিভাবে দাড়াতে হয় … বিশ্বাস করতেন সব মেয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। কখন আমাকে আর দাদা কে আলাদা করে দেখেন নি … ব্যবহারে কখনো কোনও ডিস্ক্রিমিনেশন টের পাইনি কোনোদিন!</p>



<p>এতজনের কথা লিখলাম শুধু নারী দের কথা লিখতে নয়! সামনেই আটই মার্চ … এক ঐতিহাসিক দিন! ১৮৫৭ থেকেই হয়তো একটু একটু করে সেকেন্ড সেক্স এর এম্পাওয়ারমেন্ট ঘটতে শুরু করেছে! ১৯০৯ এ হয়েছিল প্রথম নারী সম্মেলন! তারপর কেটে গেছে অনেক বছর, &nbsp;কিন্তু এখনো খামতি থেকে গেছে বলেই আমার বিশ্বাস! আমি বা আমরা যে শ্রেণির মানুষ সেখানে হয়তো আর আলাদা করে দেখা হয়না কন্যা বা পুত্র সন্তান কে … সেখানে আমরা মেয়েদের অলিম্পিকে সোনা পাওয়া … চন্দ্রযানের সাফল্যে মেয়েদের অবদান উদযাপন করি ! কিন্তু এখনো সন্ধে ছটা থেকে দশ টা টিভি খুললেই মেয়েদের দশভূজা হয়ে ওঠার উপাখ্যান … যেন ঘর বাড়ি স্বামী সংসার সব সামলাতে পারলেই সে আদর্শ নারী হয়ে উঠতে পারবে! ওদিকে গুগল বলছে প্রতি সতেরো মিনিটে ভারতে একটি ধর্ষণ এর ঘটনা ঘটে! চোখের সামনে নিজের সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে দেখেছি নামী নার্সিং হোমে তৃতীয় বার কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বাড়ির বউটির হেনস্থা! আরণ্যক এ পড়েছিলাম ভানুমতী কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ভারতবর্ষের নাম শুনেছে কিনা&nbsp; … ভানুমতী বলেছিলো সে শোনে নি !</p>



<p>আমি স্বপ্ন দেখি একটা বিশাল মিছিলের, যার সামনে থাকবে প্রান্তে থাকা মেয়েরা, তারাই পথ দেখাবে … আমরা যারা সুবিধা ভোগী শ্রেনি … যারা মনে করি আমরা অনেক এগিয়েছি … তারা হাঁটবো পেছনে … এভাবেই পালিত হোক আগামীর নারী দিবস! &nbsp;</p>



<p>লেখক পরিচিতি- অদিতি মজুমদার সাহিত্যিক,চিত্রনাট্যকার (&#8216;এক আকাশের নিচে&#8217; ,&#8217;জিও কাকা&#8217; ) ও গবেষক। </p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/unsung-womens-tales-in-international-womens-day/">তাহাদের কথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/unsung-womens-tales-in-international-womens-day/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নারীমনে  নববর্ষ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 Apr 2023 09:45:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=5786</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাবু-কালচারের এই জীবন্ত দলিলে বিবিদের কথা কোথায়?</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/">নারীমনে  নববর্ষ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;ঝুমুর দত্তগুপ্ত</p>



<p>ইংরেজরা নিউইয়ারের বড় আদর করেন। আগামীকে দাঁড়াগুয়া পান দিয়ে বরণ করে ন্যান-নেশার খোঁয়ারির সঙ্গে পুরাণকে বিদায় দেন।</p>



<p>হুতোমের নকসার প্রথমভাগে এমনভাবেই বর্ণনা রয়েছে বাংলা নববর্ষের। সেখানে কিন্তু চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক আর গাজন উতসব অনেকটাই জুড়ে রয়েছে। কিন্তু কলকাতা ও তার বাবু-কালচারের এই জীবন্ত দলিলে বিবিদের কথা কোথায়?</p>



<p><strong>কাট ওয়ান&nbsp;</strong></p>



<p>মোবাইলের অ্যালার্মের একঘেয়ে শব্দে প্রতিদিনের মতই ঘুম ভেঙে গেল পুপুর। ব্যাঙ্গালুরুতে বৃষ্টিভেজা আরও একটা সকালের শুরু। ঘুম চোখেই মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ। সকাল সাতটায় কলকাতা থেকে মায়ের চারটে মিসড কল।কেন? ভাবতে ভাবতেই হোয়াটস অ্যাপে নজর। হ্যাপি বাংলা নববর্ষের একগাদা মেসেজ। ওহ! আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির নতুন বছর। তাই বোধহয় বং কালচারের এত উদ্দীপনা। ভাষা-রায়ট। ঝুপঝুপ করে একগাদা স্মৃতি ভিড় করে এল। বছর পয়লা উপলক্ষে পাড়ার গানের ইস্কুলে সান্ধ্য অনুষ্ঠান। মায়ের পুরাতনী আর দিম্মার আবৃত্তি। কিন্তু সকাল থেকে বড় ব্যস্ততা। কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে শাশুড়ি-বউমা জুটি। একজন সামলাচ্ছেন পুজো, অন্যজন হেঁসেল। আজ তো বছর পয়লা। দিনটা অন্যরকম হয়েও আলাদা নয়।</p>



<p>ছোটবেলার সেইসব কথা ভাবতে ভাবতেই উঠে পড়ল পুপু। টুক করে বাড়ির দুই মহিয়সীকে পাঠিয়ে দিল ই-পেন্নাম। অফিসের কন-কল সেরে না হয় পরে ফোন করা যাবে।  </p>



<p>আরও পড়ুন:</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/shubha-mohurat-article-updated-pic-scaled.jpg" />শুভ মহরৎ</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Featurerd, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%87%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/Dakshineswar-Kali-temple-thr-scaled.jpg" />১লা বৈশাখ,হালখাতা,বইপাড়ার গল্প</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Most Popular, Rochona</div></li></ul></div>



<p> </p>



<p><strong>জাম্প কাট</strong></p>



<p>সাত সকালে জোরকদমে প্যাডেল করে স্টেশনে পৌঁছেছিল বীথি। সঙ্গে ক্লাস থ্রিতে পড়া ছেলে। এই ট্রেনটা মিস করলে আবার মিনিট পয়তাল্লিশ অপেক্ষা করতে হত। এখন লেডিস কম্পার্টমেন্টের দরজায় দাঁড়িয়ে ও। পয়লা বোশেখ হলে কী হবে টেরেনে বেশ ভিড়। নতুন জামা-জুতো পরে সবাই বেরিয়ে পড়েছে। গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে অবাক হয়ে সেটাই দেখছে। বীথির মাথায় নানা চিন্তুা ঘুরছে। খোলা পাবে তো দোকানটা। মণিদি বলেছিল কোভিডের পর হাতিবাগানে ভাইয়ের ফুটপাথের দোকানে দারুন বিক্কিরি হয়েছে এবার। সেল লেগেছে। রাত এগারোটা পর্যন্ত বিকিকিনি। গত কয়েকদিন মেন লাইনে টেরেনে খুব গোলমাল। বরের চাকরিটা মাস কয়েক হল পেয়েছে বীথি। তাই একটু আগেভাগে বেরোনের কথা কোনওদিনই বলতে পারেনি ও। পয়লা বোশেখে আজ ছুটি। সকাল সকাল ছেলেকে নিয়ে তাই ছুট। শেষবেলায় সেলের বাজার করতে। হাঁটু ফাটা জিনি প্যান্টের বায়না করেছে ছেলে। কথা দিয়েছিল চৈত্রসেলে দেবে। একবার নিজের পায়ের দিকে নজর পড়ল ওর। সিকিউরিট গার্ডের চাকরিতে কালো বন্ধ জুতো খুব জরুরি। এই কমাস ধার করা জুতো দিয়ে চালাচ্ছে। সেলে একটা জুতো কিনবে ভেবেছিল। হবে কিনা কে জানে। আসার সময় বিধবা ভাতার টাকা থেকে দুশো টাকা দিয়েছে মা। কাতলা মাছ কেনার জন্য। আজ তো ভালো -মন্দ খাওয়া-দাওয়ার দিন। হাবজি-গাবজি এসব ভাবতে ভাবতে আকাশের দিকে চোখ গেল বীথির। মনে মনে বলল ঠাকুর এবছর যেন ভালো যায়। ছেলে আর বুড়ি মাকে নিযে যেন ভেসে থাকতে পারি।</p>



<p><strong>প্যারালাল কাট</strong></p>



<p>কোকোর মনটা খিঁচড়ে উঠল একেবারে। সকাল সকাল দরজা নক করে হামলা গ্র্যানির। মায়ের কলটা ধরিয়ে দিয়েছে। বস্টনে একটা বিজনেস কনফারেন্স গিয়েছিল মা। ফিরছে। দিল্লি এয়ারপোর্টে লে-ওভার। সেখানে থেকে ফোনে স্ট্রিক্ট ইনস্ট্রাকশন। আজ নো হট-প্যান্ট, নো ক্রপ টপ। আজ শুধু কুর্তি। আর লাঞ্চে থাকাটা কম্পালসারি। গুড লর্ড। কিন্তু কেন? মায়ের কাজিন, আর বিজনস স্কুলের বন্ধুরা আসবে বলে কেন কোকোর অ্যাটেনডেন্স কম্পালসারি। আজ কী? রাগে গরগর করতে করতে দরজা ঠেলে ঘর থেকে বেরোতেই পুরো ফ্রিজ হয়ে গেল সে। সেই চেনা অ্যারোমা। ওকে প্রায় ঘিরে ধরেছে। ডাব চিংড়ি। তার-মানে আজ বেঙ্গলি নিউ-ইয়ার। প্রতি বছর এই মেনুটা বাড়িতে হবেই। বাড়ি ভরতি থাকে মায়ের বন্ধু-বান্ধবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা রবীন্দ্রসংগীত। বছরকার এই দিনটা ঢিপ-টিপ করে এল্ডার্সদের প্রণাম করার দিন। ভালোই লাগে কোকোর। হেভি লাঞ্চের দিন ন্যাচারাল বেলি এক্সারসাইজ। হঠাত রাগটা পড়ে গেল ওর।</p>



<p>বেঙ্গলি নিউ-ইয়ার বলেই কী রাতের জ্যামিং সেশনের জন্য বাংলা গানের লিঙ্ক পাঠিয়েছে মুদ্রা? আজ কী পরবে মুদ্রা?&nbsp; ট্রান্সপারেন্ট লাল-সাদা কটন শাড়ি পরলে ওকে দারুন মানাত। ঠিক যেমন মা এদিন পরে। সঙ্গে লাল টিপ। বিকেলে ভাবছে একটা সাদা মালা কিনে নিয়ে যাবে। মুদ্রার খোপার জন্য। এসব ভাবতে ভাবতে মোবাইলে গুগল কিবোর্ড ডাউনলোড করে ফেলল কোকো। আজ তো ওকে প্রথমবার বলা যেতেই পারে আমি তোকে ভালবাসি। আজ যে বছর-পয়লা। মুদ্রাকে বাংলায় মেসেজ পাঠাল কোকো।&nbsp;</p>



<p><strong>মন্তাজ&nbsp;&nbsp;</strong></p>



<p>আজ হিন্দুস্তান পার্কের এই বাড়িতে শেষ পয়লা বৈশাখ। তাই গুহ পরিবারের যে যেখানে রয়েছে সবাই এসে জমা হয়েছে। আজ পয়লা বৈশাখের দিন। প্রমোটারের সঙ্গে বাড়ি বিক্রির শেষ ডিল সই। সঙ্গে বছরকার উতসব। তাই কুচোকাচারা লালমাটির মেঝেতে, সিড়িতে আলপনা দিচ্ছে। প্রবল উতসাহে জিঙ্ক-অক্সাইডে তুলো ডুবিয়ে চলছে সেই পর্ব। বাড়ির অল্প বয়সী বউরা চলে এসেছে তিনতলার চিলেকোঠায়। ট্রাঙ্ক থেকে নামিয়ে কাসার বাসন-পত্র ধোয়া-মোছা চলছে। সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা। রান্না ঘরে আজ মা-কাকিমাদের দারুণ ব্যস্ততা। এই বাড়িতে শেষ পয়লা বৈশাখ বলে কথা। তাই ফর্দ বেশ বড়। তেতোহীন ভাঙাচোরার শুকতো, বেগুনি, ছানার ডালনা, কুচো মাছ, ইলিশ মাছের মাথার মুড়ি ঘণ্ট, দই কাতলা, তেল কই, চিংড়ি কিছুই প্রায় বাদ যায়নি। অনেকদিন পর এক হেঁসেলে রান্না। একতালার বড় রান্নাঘরে তাই দক্ষযজ্ঞ চলছে। হালকা ঝাড়পোছ করছে বাড়ির মেয়েরা। বৈঠকখানায় ফুলদানিতে ফুল। কাচের সেন্টার টেবলের ওপর পুরনো ক্রশের কাজ করা টেবিল ক্লথ। সন্ধেবেলা ভাই-বোনেরা মিলে গানবাাজনা করবে। তাই অনেকদিন পর নেমেছে হারমোনিয়াম। তবলা পাওয়া গেলও বাঁয়ার খোঁজ চলছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>উঠোনের ধারের খোলা বারান্দায় বসে এসবই লক্ষ্য করছেন নব্বই ছুইঁছুঁই বাড়ির কর্ত্রী প্রীতিলতা। মুখে হাসি। শান্ত চোখে দেখছেন ওদের। জীবনে একটা জিনিস তিনি মানেন। পুরনোকে আঁকড়ে বসে থাকলে চলে না। নতুনকে জায়গা দিতে হয়। পাঁচকাঠা জমির ওপর এই বাড়ির কোণায় কোণায় মায়া জড়িয়ে রয়েছে তাঁর। সামনের কয়েক বছরে এখানেই উঠবে কুড়ি তলার এক বহুতল। প্রোমোটার বড়খোকার বন্ধু। টাকা পয়সার ব্যাপারে ছেলে-মেয়েরা কথা বলেছে। তার শুধু একটাই দাবি। বাড়ির নাম বদলানো যাবে না। আশ্রয়। রাজি হয়েছে প্রোমোটার। তাঁর স্বামীর দেওয়া সাধের এই নাম যেন কেউ ভুলে না যায়। নাতি-পুতির মাধ্যমে বেঁচে থাকার এক প্রবল ইচ্ছে। পয়লা বৈশাখে এটাই কামনা।</p>



<p><strong>ডাচ অ্যাঙ্গেল</strong></p>



<p>এই কদিন খুব চাপ গেছে চন্দ্রার। ঘর পরিষ্কার, ধুয়ো-মোছা। শুধু তো বাড়ি নয়, সঙ্গে দোকানও। স্বামীর সঙ্গে হাতেহাত লাগিয়ে দোকান ঘর রঙও করেছে। তারপর বাড়িতে দুদিনের নিরামিষ রান্নার পর্ব। উচ্ছের রস, নিশ্চিন্দা পাতার রস। বাজারে ভিড় ঠেলে গণেশ ঠাকুর কেনা। বছর পয়লার দিন খদ্দের টানতে প্রতিবছর প্যাকেট করতে হয়। কাল প্রায় সারারাত প্যাকেট গুছোতে হয়েছে। এবার প্রায় দেড়শোখানা প্যাকেট। একটা করে শুকনো লাড্ডু, দুটো করে গুজিয়া আর ছোট প্যাকেট চানাচুর। এই করতেই পুজিতে টান ধরে গেছে। সকাল থেকে পুজোর প্রস্তুতি। পুঁটি মাছ ছেড়ে ঘট বসানো। সঙ্গে খদ্দের সামলানো। দুপুরে কোনওরকমে নাকে মুখে গুজে বাসে চেপে পড়ছে চন্দ্রা। যাচ্ছে বউবাজারে সোনার দোকানে। ঝাঁ চকচকে শোরুম। গোল্ড স্কিম চলছে ওখানে। এগারো মাসের টাকা দিলে বারো মাসের টাকা পাওয়া যাবে। তারওপর গয়নার মজুরিতে পাওয়া যাবে ২০ শতাংশ ছাড়। দোকান করতে গিয়ে সব সোনা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এমনকি বরের দেওয়া আঙটিটাও। এবারের স্কিমে এরকমই একটা আঙটি কিনবে ও। আজ তো পয়লা বৈশাখ। শুভ দিন।</p>



<p>&nbsp;<strong>ক্রশ ডিসলভ</strong></p>



<p>প্যারিসের দিনগুলোর থেকে সিঙ্গাপুর একদম অন্যরকম। তবে এখান এসে বেশ ভালোই লাগছে আফসানার। অনেক বন্ধু হয়েছে ওর। ভারতীয়, সিংহলি, পাকিস্তানি। বাংলাদেশি তো আছেই। একটা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলে পড়ায় ও। বাংলা টিচার। সিঙ্গাপুরে ব্রাঞ্চ খুলেছে নতুন। তাই একটা সেমেস্টারের জন্য ট্রান্সফার। এই মাসে গ্যাব্রিয়েল আসতে পারেনি। ওর ল্যাবে খুব চাপ। এবার উইক এন্ডেই পয়লা বৈশাখ পড়েছে। নতুন কলিগদের নেমন্তন্ন করেছে আফসানা। সব বাঙালি পদ। মোচার ঘণ্ট। এখান মোচা পাওয়া যায় না। ব্যাঙ্ককের একটা রিটেল শপ থেকে অর্ডার করিয়ে সাত খানা মোচা আনিয়েছিল। কেটেকুটে রান্না করেছে কাল সারা রাত। এখন ছাতুর লাড্ডু গড়ছে। ডেসার্ট। কতদিন আম্মুর হাতের ছাতুর লাড্ডু খায় না। টকের তরকারি। নতুন বছরের প্রথমদিন চিটাগাঙের বাড়িতে এগুলো হতই। ভাবতে ভাবতে চোখে পানি চলে এল। বিদেশে চাকরি, তারওপর সাদা চামড়ার জামাই। মানতে পারেননি বাবা। ঢাকাতে থাকা দাদার মারফত এই কবছরে মাত্র দুবার আম্মুর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। কিন্তু বাবা একবগ্গা। ভাবছে আজ একটা চিঠি পাঠাবে ওনাকে।&nbsp;</p>



<p>প্রেরক হবে তার আট বছরের ছেলে আবীর গ্যাব্রিয়েল ডুরান্ড। চিঠির গতও ভাবা হয়ে গেছে। পহেলার সালাম নেবেন দাদাজান। আমরা ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন। আপানার সঙ্গে দেখা করতে চাই।</p>



<p>নতুন বছরে কাউকে ফেরাতে নেই। বাবাই বলত। আশাকরি ছোট্ট আবীরের এই আব্দার রাখবে তার স্কুল মাস্টার রাশভারি বাবা। নতুন বছরে যেন সব আশা পূর্ণ হয়।&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/">নারীমনে  নববর্ষ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
