<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Rochona -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/category/bongodarpan/rochona/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Tue, 14 Apr 2026 04:51:27 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Rochona -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>এসো হে বৈশাখ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:37:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10588</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা.....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>নৃসিংহ</strong><strong> </strong><strong>প্রসাদ</strong><strong> </strong><strong>ভাদুড়ী</strong><strong></strong></p>



<p>বাংলার নতুন বৎসর আসলে একেবারেই মোগলাই ব্যাপার। এখনকার দিনের পয়লা বৈশাখে বাঙালির যে বর্ষারম্ভ হয় ,তা আমাদের আত্মীকৃত, সাধারণীকৃত সংস্করণ। অথচ বাঙালির ঘরে আমাদের হিন্দু ভাবনায় যা হতে পারত ,তাও আমাদের ঘটেনি।কেননা তা সম্ভবই ছিল না । আসলে জৈন &#8211; বৌদ্ধ কিংবা মুসলমান-খ্রিস্টানের আগে থেকেই সনাতন ব্রাহ্মণ্য সংস্কার যেটা বঙ্গদেশে চালু ছিল ,সেখানে তো পরিবর্তন হয়েছে বার বার। অর্থাৎ কিনা ,অতি- প্রাচীন ভারতবর্ষে তিথি- নক্ষত্রের যোগ নিয়ে অনেক ভাবনা থাকলেও বর্ষারম্ভ নিয়ে একটা শক্তপোক্ত মত গড়ে ওঠেনি কিছু । পন্ডিতেরা বৈদিকদের ঋতু &#8211;সনাথ ,আশা- আকাঙ্খা -আশীর্বাদ ব্যাপারটাকে একটা চিহ্ন হিসেবে ধরে বলেছেন যে ,আর্যরা অতিশীতল দেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে ঢোকার পরও পুরোনো অভ্যেস বদলাতে পারেনি বলে &#8216;একশো শীত &#8216; বেঁচে থাকার আশা করতেন ,অথবা একশো শীত বেঁচে থাকার আশীর্বাদও করতেন। ঋগ্বেদে রুদ্রদেবতার কাছে একটি মন্ত্রে ঋষি বলছেন &#8211; আমরা যেন তোমার দেওয়া ওষধি লাভ করে একশো হিম ( শীতকাল ) বেঁচে থাকি &#8211; শতং হিমা অশীয় ভেষজেভিঃ।বেদের পংক্তিতে শতং হিম মানে একশো বছর।পন্ডিতেরা বলেছিলেন সেকালে ভারী শীতের দেশ থেকে এসে আর্যদের এই শতবার্ষিকী জীবন পরিকল্পনার কারণ সম্ভবত আর্যরা বছর গণনা করতেন শীতকাল থেকে।</p>



<p>আবার যখন যুধিষ্ঠির জিজ্ঞেস করলেন কোন মাসের উপবাসে ফল হয় সবচেয়ে বেশি তখন ভীষ্ম পিতামহ উপবাসের তালিকা আরম্ভ করলেন অগ্রহায়ণ মাস থেকে ।কেননা সেকালে বর্ষারম্ভের মাস এটাই আর নামের মধ্যেই সেই মিল দেওয়া আছে,কারণ বৎসরের অগ্রে যে প্রথম মাস সেই অগ্রহায়ণ ।ভগবতগীতার আর এক টীকাকার বেঙ্কটনাথ বলেছেন বৎসরের এই প্রথম মাসের অধিষ্ঠাত দেবতা হলেন কেশব তাই &#8216;প্রথমস্য কেশবস্য মাসত্বাং&#8230; বর্ষ গৰ্ভধান ..কালত্বাৎ।</p>



<p>সন্দেহের আর দ্বিতীয় কারণ থাকে না যে, শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা যে কেমন করে টি এস এলিয়টের&nbsp; ক্রুুয়েলেস্ট মান্থ এপ্রিলে&nbsp; বর্ষবরণ আরম্ভ করলাম তার সৌজন্য সহায়তায় আছেন মহামতি আকবর,মুঘল সম্রাট আকবর।এমনিতে হৃদয়বান মানুষ হলেও কী করবেন ,রাজকোষে অর্থ না থাকলে ,রাজকর&nbsp; জমা না হলে তিনি প্রশাসন চালাবেন কী করে ?রাজকোষে অর্থ জমা পড়ার সবচেয়ে অসুবিধে দাঁড়াল ক্যালেন্ডার।আকবরের অনেক আগে থেকেই বঙ্গদেশে প্রশাসন চলছিল হিজরি সন অনুযায়ী ।কিন্তু হিজরি সন</p>



<p>চান্দ্রমাস অনুযায়ী চলে বলে বাংলার মতো কৃষিপ্রধান দেশের ফসলি সন প্রতিবছর হিজরি সনের সঙ্গে শুধুমাত্র মেলে না বলেই মিলত না।ফলে কৃষকদের সমূহ অসুবিধে আরম্ভ হল ! কারণ ফসল বস্তুটাই যাদের রাজকর হিসেবে দিতে হয় ,তারা চান্দ্রমাসের গতিতে এক এক সময়ে রাজকর দেবে কী করে !ফসল ওঠার নির্দিষ্ট সময়েই যদি অবস্থা বুঝে রাজকর দেওয়া সম্ভব হয় ,তবেই কৃষকদের সুবিধে ।</p>



<p>মহামতি আকবর আমির ফতেউল্লা শিবাজি নামে এক বিদ্বান পন্ডিতকে ভার দিলেন হিজরি চাঁদ এবং ভারতীয় ফসলি সনের সূর্যকে একত্র মেলাতে।শিবাজির পরিশ্রম কম হয়নি -হিজরির চান্দ্রায়ণী গতি আর হিন্দুদের সূর্যসিদ্ধান্ত অনেক মিলিয়ে তিনি নিজের সমকাল বাদ দিয়ে বাদশাহ আকবরের সিংহাসন বসার অভিষেক -বর্ষ থেকে একটা শতাব্দী সূচনা করার চেষ্টা করলেন।কেননা যখন বঙ্গাব্দ প্রচলনের এই চেষ্টা চলছে তখন আকবরের রাজত্বকালের ২৮ বছর চলে গিয়েছে ,তাঁর সমসাময়িক হিজরি সন তখন ৯১৮।শিবাজি তখন আকবরের সিংহাসন লাভের বছর ধরে হিজরি সনের ৯৬৩ সনে বঙ্গাব্দ চালু করে দিলেন।বঙ্গাব্দ বৃদ্ধ হয়েই জন্মাল।</p>



<p>তাই এটা বরং মেনে নেওয়া ভাল যে বঙ্গাব্দের সূচনায় বাঙালির কোনও কারিগরি নেই কিংবা নেই পরম্পরা চালিত কোনও ভাগবত সন্দর্ভ।যা আছে ,তা হল চরম জাতীয় সংহতির প্রমাণ ।তবে বাংলার একটা পৃথক সত্তা অবশ্যই তৈরি হয়েছে &#8211; আমাদের নিজস্ব বর্ষ গণনার পদ্ধতি আছে ,যা সারা ভারতবর্ষ মেনে নিয়েছে ।জাতীয় সংহতির এই আব্দিক পূরণ বঙ্গাব্দের বৈশিষ্ট বলেই আমাদের দেবতা গণেশ।গণেশ তাঁর হস্তীমূখের মৃদু হাসিটি নিয়ে নেমে এসেছেন আমাদের হালখাতায় ; কালীঘাটে মহাকালী দন্তবিকশিত আশীর্বাদ করছেন আমাদের, বাঙালির পয়লা বৈশাখ উৎসবের গতিতে বসে পড়েছে শুধু কৃষকদের কল্যাণে ,তাদের ফসলি সনের পূর্ববাহিকতায়,এই নতুন বঙ্গাব্দে তাই কৃষকদের প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকুক। এমন কোনও দেশ আছে এই পৃথিবীতে যেখানে একটা নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি&nbsp; হয়েছে শুধু কৃষকদের প্রয়োজনে।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত, নলেন গুড় কিংবা বিয়ের ধুতির মধ্যে যদিও বাঙালির বাঙালিত্ব প্রমান করার দায় থাকে কিছু পয়লা বৈশাখের নববর্ষে সেই দায় আছে বলে মনে হয় না!আমাদের এই বঙ্গদেশে বঙ্গাব্দের ইতিহাস জানেন এমন মানুষের সংখ্যা পাঁচ শতাংশও নয়।যে অসংখ্য মানুষ এখন আছে, যাঁদের শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় বঙ্গাব্দের বর্তমান সংখ্যা জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারবেন না।এমনকী আমাকেও কারণান্তর বশত বঙ্গাব্দের সংখ্যা স্মরণ করতে হয় মাঝেমধ্যে, কিন্তু হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলে আমি থতমত খাব।তার কারণ অনভ্যাস।এমনকী বর্ষশেষের আলোয় রাঙা এই চৈত্র মাসে কোনও আধুনিক আধুনিক প্রেমিক- প্রেমিকার&nbsp; চোখে &#8216;সর্বনাশ &#8216; পর্যন্ত ধরা পড়ে না । আর যে ছেলেটা সদ্য -রাবীন্দ্রিক রোমাঞ্চে চোখ ঢুলু ঢুলু করে -&#8216;বর্ষশেষের আলোয় রাঙা &#8216; উচ্চারণ করেছিল এবং নিপুণভাবে লক্ষ্য করেছিল অভি- দন্ডায়মান তরুণীর চোখ দুটিতে প্রেমময়ী দীর্ঘছায়া ঘনিয়ে আসে কিনা -তরুণী উত্তর দিয়েছিল &#8211; কী সব চৈত্র &#8211; ফৈত্র বলছিস আর তোর সর্বনাশটাই&nbsp; বা কী করলাম আমি ?দ্যাখ এইসব কবিতা- ফবিতা নিয়ে একদম আমাকে &#8216;হেকল&#8217; করার চেষ্টা করিস না ।এই মর্মান্তিক &#8216;সেমান্টিক &#8216; বিপর্য্যাস শুনেই আমি বুঝেছিলাম &#8211; আর বাংলা ক্যালেন্ডার থাকার কোনও মানেই হয় না।</p>



<p>অথচ দেখুন প্রতি বছর বঙ্গাব্দ আসে আমরা বর্ষবরণ করি যথাসাধ্য যথামতি।এমনকী সকাল এবং সন্ধ্যায় মহোৎসাহ দেখা যায় এক বিশেষ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে &#8211; যারা আমাদের অন্ন- ব্যঞ্জন বেশ- বাসের ব্যবস্থা করেন ।সকালে তাদের গুন্ঠিত ধুতিতে জাবদা খাতা আর সিদ্ধিদাতা গণেশের মূর্তি নিয়ে কালীমন্দিরে যেতে দেখি কেননা বঙ্গদেশে পুজোর প্রথমাংশ সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এদেশ গণেশ চতুর্থীর দেশ নয়, আমরা মাথা বিকিয়ে আছি জগন্মাতার কাছে আর ভোলানাথ শঙ্করের কাছে &#8211; মাতা মে পার্বতী দেবী পিতা দেবো মহেশ্বরঃ।আমরা ধামায় করে সিদ্ধিদাতা গণেশকে নিয়ে জনক -জননীর আদর খাইয়ে আনি কালিমাতার থানে তারপর জাবদা&nbsp; খাতায় হিসাব আরম্ভ করি শুভলাভ লিখে।&nbsp; &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তবে এটা মানতে হবে যে বাঙালি আর বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা তফাৎ আছে বই কি!বাঙালি বলতে তার ভৌগোলিক সংস্থানটুকুর সঙ্গে তার নদ-নদী জল-হওয়া ধুতি-চাদর মৌরলা-ইলিশ শাক-শুক্তোর পাত আর নদী -জলের কাদামাখা মাখো মাখো আবেগ -এসব ঠিক আছে ।কিন্তু বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা দেখনদারী আছে এগজিবিশনিজম আছে, বাঙালিত্বের একটা বাহ্য আরোপন আছে ।সময় বুঝে ধুতি পাঞ্জাবি পরা নির্দিষ্ট দিনে বড় রেস্তোরাঁয় শাক-শুক্তোর খালি গিলে আহা-উহু করা এবং সাময়িক রবীন্দ্রসংগীত -এসব আমার কাছে কোনও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় এমনকী অশ্রদ্ধেয় কোথাও কিছু নয়। কী করবে বাঙালি ঠাকুমা-দিদিমারা নেই চলার মধ্যে সময় নেই, অকারণে আনন্দ নেই কী করবে বাঙালি? ফলত নতুন বছরটাও কিন্তু বাঙালিয়ানার একটা অন্যতম দিন হয়ে উঠেছে ।এটা ভেবে আনন্দ পাওয়ায় ভাল যে আজকে যে দিনটা পালিত হতে হতে ইতিহাস হয়ে উঠেছে সেখানে যদি উৎসমুখে বাঙালির কোনও আত্মচিহ্ন না-ও থাকে তাহলেও পালন-পোষণের মাহাত্ম্য এতটাই যে তা বাঙালির ইতিহাস তৈরি করে দেয়।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গাজন থেকে হালখাতা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 08:45:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10570</guid>

					<description><![CDATA[<p>চড়কপুজো কিন্তু বহু প্রাচীন। সেই তুলনায় গাজন কিন্তু নবীন। ধর্মরাজের উৎসব থেকে গাজনের শুরু।..</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/">গাজন থেকে হালখাতা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কমলেন্দু সরকার</strong></p>



<p>চৈত্রের শুরু বাংলা পঞ্জিকায় উৎসবের শেষ। শুরু পাড়ায় হেঁকে চলা &#8216;জয়বাবা তারকনাথের চরণের সেবা লাগে মহাদেব।&#8217; চটে যাওয়া গেরুয়া খেটে ধুতি আর হাতাওয়ালা দাদু গেঞ্জি পরিহিত একদল চৈত্রের সন্ন্যাসী পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে অন্ন-ভিক্ষা করতেন। এখনও হয়তো করেন। বাড়ির গিন্নিমায়েরা খিড়কির দরজা খুলে একবাটি চাল, কিছুটা ডাল, দুটি আলু, একটি কাঁচকলা সন্ন্যাসীদের ঝুলিতে দিতেন। বাল্যকালে দেখতাম ওই সন্ন্যাসীরা টাকা-পয়সা নিতেন না। কারণটা বুঝতাম না! পরে জেনেছিলাম চৈত্রের শুরু থেকে শেষ, এই একমাস ওঁরা কৃচ্ছ্রসাধন করতেন। টাকাপয়সা ছুঁতেন না। দিনশেষে ভিক্ষার চাল, ডাল, আলু, কাঁচকলা- সব একসঙ্গে মাটির মালসায় রান্না করার পর খেতেন। এমনকী রান্নার নুনও ব্যবহার করতেন না, করতেন সৈন্ধব লবণ। তারপর মাটিতে গায়ের উড়নি বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। এই সময় এঁদের কোনও যৌন উত্তেজনা বা শারীরিক মিলনও ছিল নিষিদ্ধ। এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার কারণ অনেক স্বামী-স্ত্রীকেও একসঙ্গে সন্ন্যাস নিতেও দেখা যেত, এখনও হয়তো দেখা যেতে পারে! স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী ছাড়াও বহু মহিলাও থাকতেন। সন্ন্যাসীদের মধ্যে প্রান্তিক মানুষের আধিক্য থাকলেও একাধিক ধনী বা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মানুষও থাকতেন, থাকেনও। আসলে চৈত্র-সন্ন্যাস নেওয়ার পিছনে একটা কারণ থাকে৷ সেই কারণ হতে পারে মানসসিদ্ধি অর্থাৎ দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে কিছু চাওয়া বা আশাপূরণ হয়ে যাওয়ার পর মহাদেবের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা সন্ন্যাস নিয়ে। এই চৈত্র-সন্ন্যাসীরা হলেন সবাই শিবের চেলা। লোকবিশ্বাস, গাজনের দিন শিবের বিয়ে হয় দেবী হরকালীর সঙ্গে। এই বিয়েতে সন্ন্যাসীরাই হলেন বরযাত্রী। হয়তো যার জন্য তাঁদের মুখে একটিই মন্ত্র&#8212; &#8216;জয়বাবা তারকনাথের চরণের সেবা লাগে মহাদেব।&#8217; এই মন্ত্রের অদ্ভুত একটা সুর। যে-সুরে মিশে থাকে লোকাচার। এই সুর অন্যকোথাও শুনবেন না।</p>



<p>কলকাতার সেকাল থেকেই চলে আসছে চৈত্রসংক্রান্তির গাজন ও চড়ক উৎসব। এই গাজন আর চড়ক উৎসব জড়িয়ে আছে নীলপুজোর অর্থাৎ শিবের সঙ্গে। চড়কপুজোর মাধ্যমে উৎসবের শেষ। উত্তর কলকাতার ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে কলকাতার গাজন উৎসব দেখার মতো! এদিন বেরোয় জেলেপাড়ার সঙ। পুরনো কলকাতায় এর কদর ছিল। বহুদিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়। পুরনো উত্তর কলকাতায় বাবু সংস্কৃতিতে গাজন নিয়ে প্রভূত উত্তেজনা উন্মাদনা ছিল। চৈত্র সংক্রান্তির বিকেলে সন্ন্যাসীরা চড়ক গাছে উঠে পিঠে বাণ ফুঁড়ে ঘোরেন! আবার একাধিক সন্ন্যাসী আবার জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে</p>



<p>শহুরে ব্যস্ততার মাঝেও কলকাতার কিছু এলাকায় এই লোকঐতিহ্য আজও সগৌরবে পালিত হয়।</p>



<p>চড়ক বা গাজন উৎসব নিয়ে সবিস্তারে আলোচনায় আসা যাক। ভয়ংকর কষ্টকর জীবন কাটাতে হয় চৈত্রের চড়ক-সন্ন্যাসীদের। আরও ভয়ংকর হয় চৈত্র সংক্রান্তির বিকালে বা সন্ধ্যায়। সারাদিনের পর চড়কের ঝাঁপ হয় মহাদেবের সামনে। দু&#8217;তিনতলা বাড়ি সমান বাঁশের ভারার ওপর থেকে ঝাঁপ দেন সন্ন্যাসীরা। তাঁদের ঝাঁপ দিতে হয় বটি, কাটারি ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র কিংবা আগুনের ওপর। আবার অনেকে জ্বলন্ত কোনও কিছুর ওপর দিয়ে হাঁটেন। কোথাও তৈরি হয় দশতলা সমান চড়ক গাছ তার ওপর চড়ক-সন্ন্যাসীরা পিঠে বাণ বিঁধিয়ে বনবন করে ঘোরেন। চড়ক পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে পরিষ্কার করা হয়। জলভরা একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ রাখা হয়। এই&nbsp; শিবলিঙ্গটির পরিচয় বুড়ো শিব। আজও এই দৃশ্য কলকাতা শহরে দৃশ্যমান ছাতুবাবুর বাজারের চড়কপুজোয়। কলেজ স্কোয়ারের মেলা এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে।</p>



<p>চড়কপুজোর প্রচলন নিয়ে নানারকম কথা শোনা যায়। তবে চড়ক হল মূলত বাংলার এক অন্যতম সেরা লোকউৎসব। চৈত্রসংক্রান্তির দিন দুই বাংলাতেই হয়ে থাকে চড়কপুজো। চৈত্র মাসে শিবভক্তেরা মহাদেবের উপাসনা করে থাকেন। গ্রামগঞ্জে চালু আছে এক লোককথা, বাণরাজা ছিলেন প্রচণ্ড শিবভক্ত। তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ হয় দ্বারকা অধিপতি কৃষ্ণের। যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাণরাজা অমরত্ব লাভের আশায় চৈত্রসংক্রান্তির দিন অনেক লোকজন নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। উৎসবে আত্মহারা বাণরাজা নিজের শরীরের রক্তপাত করেন শিবের উদ্দেশে। এইদিনটির স্মরণে প্রতি বছরই চড়ক উৎসব পালন করা শুরু হয়।</p>



<p>অনেকেই মনে করেন, পাশুপত সম্প্রদায় এই উৎসব পালন করত প্রাচীনকালে। পাশুপত শৈবধর্ম হল প্রাচীনতম প্রধান শৈব হিন্দু বিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি। মনে করা হয়, খ্রিস্টীয় প্রথমশতক থেকেই বিদ্যমান ছিল। আবার অন্য মতে, পনেরো শতকের প্রায় শেষলগ্নে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামে এক রাজা চড়কপুজোর প্রচলন করেন। তবে, চড়কপুজো&nbsp; কোনওমতেইই রাজা, জমিদার, ধনীব্যক্তিদের উৎসব নয়। মনে করা হয়, হিন্দু সমাজের প্রান্তিক মানুষেরাই এটি পালন করেন। সেইকারণে চড়কপুজোয় পুরোহিত বা ব্রাহ্মণদের কোনও ভূমিকা থাকে না।</p>



<p>চড়ক পুজোর কিছু প্রচলিত লোকসংস্কৃতির রীতি আছে, যা পূর্বে একটা ধারণা দিয়েছি। ভয়ংকর সে রীতি। যা রীতিমতো শিহরন জাগায়। কুমিরের পুজো, জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটা, কাঁটা, বর্শার ফলা&nbsp; বা ধারালো কোনও অস্ত্রের ওপর লাফানো, শিবের বিয়ে, অগ্নিনৃত্য বা শবদেহ নিয়ে নৃত্য ইত্যাদি চড়কপুজোর বিশেষ অঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। তবে,&nbsp; বর্তমানে এইসব রীতির অনেকটাই এখন নেই। ইংরেজ আমল থেকেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।</p>



<p>গ্রামবাংলায় চড়কপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসে থাকে ভূতপ্রেত বা পুনর্জন্ম। চড়কপুজোর সন্ন্যাসীরা মনে করেন, নানাবিধ শারীরিক যন্ত্রণা হল ধর্মের অঙ্গবিশেষ। সবচেয়ে ভয়ংকর হল চড়ক-সন্ন্যাসীরা যখন পিঠে লোহার শলাকা বা বাণ বিঁধিয়ে চড়কগাছের সঙ্গে ঘোরেন! অনেকে আবার পিঠে, হাতে, পায়ে, কানে, জিভে এফোঁড়-ওফোঁড় করে শরীরের লোহার শলাকা গেঁথে ঝাঁপ দেন কিংবা নৃত্য করেন!</p>



<p>চড়কপুজোর বীভৎসতা ১৮৬৫-তে ব্রিটিশ সরকার আইন করে বন্ধ করে দেয়। তবে আজও গ্রামবাংলার বহু জায়গায় এইভাবে চড়ক পুজো পালিত হয়ে থাকে। চড়কপুজো মূলত দেখা যায় বা পালিত হয়&nbsp; কৃষিপ্রধান অঞ্চলে। কলকাতা শহরেও দেখা গেছে এমন চড়কপুজো।</p>



<p>সারা বাংলা জুড়েই পালিত হয় চড়কপুজো। হাওড়া জেলার বালিগ্রামের কল্যাণেশ্বরতলায় বহুকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে চড়কপুজো বা চড়কের ঝাঁপ। কল্যাণেশ্বর শিবমন্দির বহু পুরনো। শোনা যায়, এই মন্দিরে নাকি পুজো করতে আসতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব। এছাড়া কাছেই পঞ্চাননতলায় বাবা পঞ্চাননমন্দিরের সামনে চড়কের ঝাঁপ আজও সাড়ম্বরে পালিত হয়। নদীয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবের গাজন উপলক্ষে মেলা বসে। সেই মেলা শতাধিক বছরের পুরনো। তারকেশ্বর ধামেও গাজনের মেলা বসে। বাঁকুড়ার খামারবেড়ে অঞ্চলে শিবের গাজন এবং মেলা হয়। হুগলির চণ্ডীপুর গ্রাম ছাড়াও আরও বেশকিছু জায়গায়  শিবের গাজন উপলক্ষে চড়কপুজোর মেলা বসে। প্রচুর লোক সমাগমও হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="660" height="443" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM.jpeg" alt="" class="wp-image-10625" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM.jpeg 660w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM-300x200.jpeg 300w" sizes="(max-width: 660px) 100vw, 660px" /><figcaption class="wp-element-caption">বিদেশি শিল্পীর চোখে উনিশ শতকের কলকাতার চড়ক</figcaption></figure>



<p>চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন বাড়ির মহিলারা সংসার এবং সন্তানের মঙ্গলকামনায় পালন করেন নীলষষ্ঠী। এটি বাঙালি গৃহিণীদের ব্রত। নীল বা নীলকণ্ঠ হল শিবের আর এক নাম। কোথাও কোথাও&nbsp; নীলসন্ন্যাসী এবং শিব-দুর্গার সঙ সেজে নীলের মূর্তি নিয়ে গান গাইতে গাইতে তাঁরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘোরেন। গ্রামের মানুষেরা তাঁদের ভিক্ষা দান করেন।</p>



<p>কিছু কিছু জায়গায় চৈত্রসংক্রান্তির দিন চড়কপুজো বা উৎসব হলেও তা চলে বৈশাখ মাসের প্রথম কয়েক দিনও। প্রকাণ্ড একটি গাছের কাণ্ডকে ‘চড়ক গাছ’ বলে অভিহিত করা হয়। চড়ক গাছটি সারাবছর জলে ডোবানো থাকে। চৈত্রসংক্রান্তির দিন গান গেয়ে বাজনা বাজিয়ে শিবের নাম জয়ধ্বনি দিয়ে জল থেকে তোলা হয় গাছটি।। কিছু জায়গায় তোলা হয় আগের দিন। চড়ক গাছ পুজো করে মাটিতে সোজা করে পুঁতে দেওয়া হয়। আগায় বাঁধা হয় কাঠ। গাছটি হল শিবের লিঙ্গের প্রতীক, আর পার্বতীর প্রতীক জমি। অর্থাৎ গাছটি হল শিবের লিঙ্গ, আর জমি হল পার্বতীর যোনি। চড়ক হল শিব-পার্বতীর মিলনের উৎসব। জমির উর্বরতা বৃদ্ধির কামনা নিয়ে কৃষকেরা মাতেন চড়ক উৎসবে। বোঝাই যাচ্ছে, চড়কপুজো হল কৃষিকাজের উন্নয়নের উৎসব।</p>



<p>এ-প্রসঙ্গে লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, লেখক, গ্রন্থকার স্বপন ঠাকুর বললেন, &#8220;সারাদেশের থেকে বাংলায় দেব-দেবীদের নিয়ে আলাদা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেমন, দেবাদিদেব মহাদেবকে কৃষিকাজের দেবতা হিসেবে মানা হয়। এ আমরা দেখেছি &#8216;শিবায়ণ কাব্য&#8217;-এ। গৌরীকে বিয়ে করে শিব গৃহস্থ হয়েছেন। সন্তানও হয়েছে। তখন গৌরী বললেন, &#8216;তুমি এবার কৃষিকাজ শুরু করো মর্তে।&#8217; তখন শিব বলেন, &#8216;চাষবাস করতে গেলে তো বীজ দরকার। বীজ কোথায় পাওয়া যাবে।&#8217; তখন শিব এবং গৌরীর মধ্যে কামোত্তেজনা দেখা গেল। শিবের বীর্যপাত থেকে ধানের বীজ সৃষ্টি হল। মর্তে শুরু হল ধান চাষ। এই ধানের নাম কামোদ। কাম থেকে সৃষ্টি তাই কামোদ। এই নামের ধান আমরা পেয়েছি।</p>



<p>স্বপন ঠাকুর আরও জানান, &#8220;চড়কপুজো কিন্তু বহু প্রাচীন। সেই তুলনায় গাজন কিন্তু নবীন। ধর্মরাজের উৎসব থেকে গাজনের শুরু।&#8221;</p>



<p>মানুষ তো প্রথম থেকেই চাষবাসের কাজে লাঙল ধরা বা ব্যবহার করতে শেখেনি। সেই প্রাচীনকালে মানুষ যখন থেকে লাঙলের ব্যবহার শিখল তখন চাষের উপযোগী জায়গা বাছাই করে স্থায়ীভাবে বাস করতে শেখে এবং শুরু করে। এবং শিখেছিল বিনিময়প্রথা। চালের বদলে ডাল, ডালের বদলে আনাজপাতি ইত্যাদি ইত্যাদি পেতে লাগে।</p>



<p>দেখা গেল, সবাই মিলে যে যার মতো বিনিময়প্রথা চালাতে গেলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। তাই কোনও একজনকে দায়িত্ব হল। তার কাছে সবাই এসে তাদের চাষের বাড়তি সব দিয়ে যেত বদলে যা প্রয়োজন নিয়ে যেত। এই প্রথা বা system চলতে চলতে দোকান তৈরির ভাবনা মাথায় আসে সেকালের মানুষদের। এর হিসাবপত্র রাখার জন্য খাতা তৈরি হল। হালজাত উৎপাদিত জিনিসপত্রের হিসাব রাখা হত বলে খাতাটিও নাম দেওয়া হয়েছিল &#8216;হালখাতা&#8217;। পুরনো হিসাবপত্রের খাতা বন্ধ করে খোলা হত নতুন খাতা। তাই দিনটি পরিচিত হল হালখাতা নামেই।</p>



<p>পুরনোকালের হালখাতা মাথায় রেখে মুঘল সম্রাট আকবর জমিদারদের বাকি খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান &#8216;পুণ্যাহ&#8217; চালু করেছিলেন পয়লা বৈশাখ। তাই অনেকেই বলেন, পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ চালু করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। আদৌ তা নয়। জমিদারদের ওপর নবাবি কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে পয়লা বৈশাখ &#8216;পুণ্যাহ&#8217; প্রথা চালু করেছিলেন নবাব মুর্শিদকুলি খান। সেসব ছিল এলাহি ব্যাপার!</p>



<p>তবে বলে রাখা প্রয়োজন হালখাতার সঙ্গে বাংলা নতুন বছর উদযাপনের কোনও সম্পর্ক নেই।</p>



<p>একসময় ছিল শারদোৎসব নতুন বছর শুরুর উৎসব। দুর্গাপুজোর অষ্টমী- নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোর সময় ছিল বাংলা নতুন বছরের শুরু। এইসময় ১০৮ প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়েই দেবীর কাছে প্রার্থনা জানানো হত নতুন বছর যেন আলোকোজ্জ্বল হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="745" height="561" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw.png" alt="" class="wp-image-10575" style="aspect-ratio:1.3279857397504455;width:525px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw.png 745w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw-300x226.png 300w" sizes="(max-width: 745px) 100vw, 745px" /></figure>



<p>এসব আদ্যিকালের কথা। আগেই বলেছি হালখাতা আর বাংলা নববর্ষ পালন এক নয়। বাংলা নতুন বছরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সকলের বাড়িতে যেতেন। মিষ্টিমুখ করতেন। আর একটি চমৎকার ব্যাপার ছিল সেইসময়। শহরে চাকরি করতে যাওয়া বাঙালিবাবুরা চৈত্রসংক্রান্তির দিন অফিসের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরতেন। গ্রামের বাড়ির সবাই অপেক্ষায় থাকতেন নতুন কিছু পাওয়ার আশায়। মিষ্টি, নতুন বছরের জামাকাপড় তো থাকতই। আর একটি জিনিস থাকত, সেটি হল নতুন পঞ্জিকা। বাড়ির বিধবারা একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা দেখে নিতেন। এছাড়াও কেউ কোনও শুভকাজে যাওয়ার আগে বাড়ি থেকে বেরোবার শুভসময়টি দেখে নিতেন। বিশেষ করে যাঁরা মামলামকদ্দমার জন্য আদালতে যেতেন তাঁরা। এই নতুন পঞ্জিকা পড়া চলত কিন্তু হিন্দু-মুসলমান সবাইয়ের বাড়িতেই। পঞ্জিকা পড়া শেষে মিষ্টিমুখ হত। বহু বাড়িতেই বাড়ির গিন্নিরা মিষ্টি বানাতেন। বহুরকম মিষ্টি বানানো হত সারারাত। সেসব দিন অস্তাচলে।</p>



<p>এখন তো বাংলা নববর্ষের কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা যায় ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন। কোন হোটেল-রেস্তরাঁয় কী কী বাঙালি খাবার মিলবে। কোনও কোনও হোটেল-রেস্তরাঁ আবার খাওয়ার তালিকার সঙ্গে খাবার পরিবেশনকারী পুরুষদের ধুতি-পাঞ্জাবি আর বাংলার শাড়ি পরা মহিলাদের ছবি দেন। এখন তো আবার অর্ডার দিলেই বাড়ি বসেই খাবার পাওয়া যায় পছন্দমাফিক।</p>



<p>বাল্যকালে মজা ছিল বাংলা নববর্ষের দিন সন্ধেবেলা। চৈত্র মাসের শেষের দিকে পাতলা কাগজের একটি গোলাপি খাম আসত বাড়িতে। সোনার দোকানের হালখাতার আমন্ত্রণ। লালকালিতে লেখা, তার ওপর অভ্র বা সোনালি গুঁড়ো ছড়ানো আমন্ত্রণপত্র। একাধিক আমন্ত্রণপত্র। পয়লা বৈশাখের সকালেই ঠিক হয়ে যেত কে কোনটাই যাবে। সবাই চাইত বড় দোকানে যেতে।</p>



<p>হালখাতার পুজো হত সাতসকালে। অনেকেই দোকানপাটে পুজোর ঝামেলা না-করে কালী মন্দিরে সেরে নিতেন। পুজো বলতে লাল খেরোর খাতা আর লক্ষ্মী-গণেশ পুজো। পুজোর শেষে দোকানে ফিরে পুরনো মূর্তি বিসর্জন দিয়ে নতুন অধিষ্ঠিত করা। আর সন্ধ্যা হলেই মালিক ছোট্ট একটি ডেস্কের ওপর লাল হালখাতাটি খুলে আগাম দেওয়া অর্থের পরিমাণ লিপিবদ্ধ করে, পুরনো খাতার বাকি অর্থ নিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতেন।</p>



<p>আর অন্যদিকে সন্ধে হলেই সেজেগুজে বাড়ির বড়রা রওনা হতেন হালখাতা সারতে। বাড়ির কর্তার পরনে চওড়া পাড়ের ধুতি আর গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবি। ধুতির কোঁচা থাকত পাঞ্জাবির পকেটে। আর বুক পকেটে কড়কড়ে একটা বড় নোট। বাইরে থেকে দেখা যেত। আর সঙ্গে গিন্নির পরনে ঢাকাই শাড়ি। সঙ্গে বাড়ির ছোট বাচ্চাটি। দোকানে ঢুকলেই কর্মচারীটি গোলাপজল ছিটিয়ে দিতেন। তারপর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হত শরবত। টাকা পাওয়ার পর ধরিয়ে দেওয়া হত একবাক্স মিষ্টি আর ক্যালেন্ডার। বাচ্চাটির কাজই ছিল মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করা। বাড়ি ফিরে হিসেব হত কতগুলো পাওয়া গেছে! কেননা হালখাতার আমন্ত্রণ থাকত সোনার দোকান থেকে মুদির দোকান। পয়লা বৈশাখের হালখাতার দিনগুলো ছিল একেবারে ভিন্নরকম। এখনও আছে তবে প্রযুক্তির ব্যবহার চলে এসেছে। আমন্ত্রণপত্রও আর আসে না। চলে আসে হোয়াটসঅ্যাপে। টাকার আদানপ্রদানও হয় অনলাইনে।</p>



<p>বাঙালির পয়লা বৈশাখের হাওয়া লেগেছিল টালিগঞ্জে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। সে যে কবে লেগেছিল কেউই বলতে পারে না। তবে সে হালখাতা নয়, ছিল বাংলা সিনেমার মহরত। পয়লা বৈশাখে মহরতের দিন টালিগঞ্জের প্রতিটি স্টুডিয়ো সেজে উঠত ফুলে ফুলে! সবাই নতুন পোশাক পরে স্টুডিয়োয় আসতেন। প্রযোজক পরিচালকেরা কালীমন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসতেন। সেই প্রসাদী-ফুল ক্যামেরায় ঠেকিয়ে নতুন ছবির মহরত শট নেওয়া হত। এমনকী উত্তমকুমারকেও দেখা গেছে মহরত শটের সূচনায় ক্লাপস্টিক দিতে। সেসব দিন ছিল ষোলোআনা বাঙালির।</p>



<p>কোনও কোনও স্টুডিয়োতে দেখা যেত প্যান্ডেল বেঁধে খাওয়াতে। সেই অনুষ্ঠানে সকলের অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো। একবার পয়লা বৈশাখ মহরতের দিন খাওয়ার টেবিলে মুখোমুখি দুই কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি সান্যাল। টেবিল চেয়ার ছিল সেকালের বিয়েবাড়ির মতো। লম্বা লম্বা টেবিল আর ফোল্ডিং কাঠের চেয়ার। ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি সান্যাল, দুজনের মধ্যে ছিল ঠাট্টা মজার সম্পর্ক। ঘটনাটি কী ঘটেছিল সেদিন: ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি&nbsp; সান্যালের একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল একবার পয়লা বৈশাখের মহরতে। সেদিন ছিল ছবি বিশ্বাসের প্রথম ছবির প্রযোজকের নতুন ছবির মহরত। চল্লিশের দশকে কোনও একটা ছবির মহরত অনুষ্ঠানে কালী ফিল্মস স্টুডিয়োতে ভূরিভোজ হচ্ছে। কালী ফিল্মসের স্টুডিয়ো বলতে এখন যেটি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো বলে পরিচিত। যাইহোক, ওই মহরত অনুষ্ঠানে বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি শিল্পীরা সবাই হাজির। ছবি বিশ্বাস আম খেতে ভালবাসতেন খুব। কানাঘুষো শোনা গেল প্রযোজক ল্যাংড়া আমের ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে পাহাড়ি সান্যালের পছন্দের খাবার ছিল ছানার ডালনা। তিনিও খবর নিয়ে জেনেছেন তাঁর প্রিয় পদটি আছে দুপুরের মেনুতে। কিন্তু খেতে বসে দেখা গেল দুটোর কোনও পদটিই নেই। ছবি বিশ্বাসকে লক্ষ করে পাহাড়ি&nbsp; সান্যাল বললেন, ‘টাকায় টাকা বাড়ে, গরমে বাড়ে ঘাম,&nbsp; প্রোডিউসার এত কিপটে, পাতে দেয়নি আম!’ ছবি বিশ্বাসও সঙ্গেসঙ্গে বললেন, ‘হায়রে ছানার পাই না দেখা, কোথায় গেলি তুই?, তোর অভাবে ভরলো না পেট, হাত-পা তুলে শুই!’ এইরকম মজার সম্পর্ক ছিল ওঁদের দু&#8217;জনের ভিতর। আর কত কত মজা হত সেকালের পয়লা বৈশাখের মহরতে। এক পরিচালক খুব হতাশ হয়ে বললেন, টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়ার পয়লা বৈশাখে বাঙালির বনেদিয়ানাটাই হারিয়ে গেল!</p>



<p>শুধু স্টুডিয়োপাড়ায় নয়, পয়লা বৈশাখের সেই মজা, আনন্দ, বাঙালিয়ানার গন্ধ কোথাও আর তেমনভাবে পাওয়া যায় না!</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/">গাজন থেকে হালখাতা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেয়েদের দিন</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 07:41:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[international women's day]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10421</guid>

					<description><![CDATA[<p>নারীদের সংগ্রাম, নারীদের প্রত্যয়, নারীদের প্রগতি।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/">মেয়েদের দিন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি দিনের উদযাপন নয় বরং আত্মসমীক্ষা,মেয়েদের আগেকার এবং এখনকার জীবনে আলো ফেলার দিন।পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের আপন অধিকার অর্জন দুরহ ,দুঃসাধ্য হলেও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের দুর্দমনীয় সংগ্রামের পথ চলায় এসেছে বাধা এবং সেই বাধা কাটিয়ে সাফল্যের কাহিনী।আজ আমরা আলো ফেলব এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক খবরে।</p>



<p>আসুন পরিচয় করিয়ে দিই শাহীন মালিকের সঙ্গে।শাহীন একজন অ্যাসিড অ্যাটাকে আক্রান্ত মৃত্যুঞ্জয়ী এবং প্রতিবন্ধী আন্দোলনকারী মহিলা।শাহীন সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দাখিল করেছে এই অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েদের জন্য,যেখানে রুমানের জন্যও ন্যায়বিচার চাইছে,রুমানের স্বামী রুমানকে&nbsp; ভয়ঙ্কর অত্যাচার করে অ্যাসিড খেতে বাধ্য করায় রুমানের কণ্ঠনালী নষ্ট হওয়ায় প্রচুর চিকিৎসার পরেও ২৮ বছরের রুমানের ওজন মাত্র ২১ কেজি।শাহীনের জানিয়েছেন,&#8217; অ্যাসিড জোর করে খাওয়ানো হয়েছে এমন আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিকৃতি শরীরের ভেতরে হয়, তাই তা চোখে পড়ে না। কিন্তু তাঁদের জীবন ভীষণ কষ্টকর হয়ে ওঠে, কারণ অসংখ্য অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও তাঁদের শ্বাস নিতে, কথা বলতে এবং খাবার গিলতে মারাত্মক অসুবিধা হয়।&#8217;</p>



<p>৪২ বছর বয়সী শাহীন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যাসিড আক্রমণের শিকার মানুষদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে চলেছেন। একজন আক্রান্ত হিসেবে নিজের যে কঠিন লড়াইগুলো তিনি পেরিয়ে এসেছেন, সেখান থেকেই অন্যদের সাহায্য করার এই অদম্য সংকল্পের জন্ম হয়েছে।</p>



<p>২০০৯ সালে উত্তর হরিয়ানায় নিজের কর্মস্থলের বাইরে তাঁর ওপর অ্যাসিড হামলা হয়। তখন মালিকের বয়স ছিল কুড়ির কোঠায় এবং তিনি একজন ছাত্র-পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতেন। এই হামলার পর তিনি ২৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।</p>



<p>১৬ বছর ধরে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য। তবে গত ডিসেম্বর একটি ট্রায়াল কোর্ট তাঁদের খালাস দিলে মালিক ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন। তবু তিনি পরাজিত নন ,রায়ের বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।আমাদের প্রার্থনা আর শুভেচ্ছা শাহীনের সঙ্গে আছে।</p>



<p>২০২৫ সালে ন্যাসকম ফাউন্ডেশন আর এইচএসবিসি ৪০০০ এর বেশি নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ব্যবসার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে।যার ফলে গ্রমাঞ্চলের মহিলারা এখন অনলাইনে তাদের সামগ্রী বিক্রি করতে পারছেন,কিউ আর কোডে পেমেন্ট পাচ্ছেন,সমাজ মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি কোরতে পারছেন।এখানে উল্লেখযোগ্য পশ্চিমবঙ্গে এমএসএমই রেজিস্ট্রেশনের সূত্র অনুযায়ী&nbsp; ৬২% মাইক্রো উদ্যোগ এখন নারী নেতৃত্বাধীন।</p>



<p>সূত্র অনুযায়ী জনপ্রিয় লক্ষীর ভান্ডারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক নারীর হাতে টাকা আসার সুবাদে মেয়েদের পড়াশোনা চলছে,স্বাস্থ্যব্যয় হচ্ছে,কেউ কেউ ছোট ব্যবসাও শুরু করছেন।অর্থনীতিবিদরা বলেন যে পরিবারে নারী নগদ অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেন, সেখানে পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তিনটিই বাড়ে।</p>



<p>&nbsp;গত বছরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারতের থিম ছিল &#8211; বিকশিত ভারত নারী শক্তি।এই উদ্যোগে</p>



<p>মহিলা বিজ্ঞানী,উদ্যোক্তা,পুলিশ,কৃষক,স্টার্ট-আপ লিডারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ &#8216;চেঞ্জ দ্যা সোচ- কন্যাকুমারী -কাশ্মীর&#8217; ভারতের ২০টির বেশি শহরে নারীদের,সঞ্চয়,বিনিয়োগ,বিমা,অবসর পরিকল্পনা শিখিয়েছে।এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি কারণ</p>



<p>ভারতে ৭৫% নারী আজও নিজের নামে বিনিয়োগ করেন না।এই কর্মসূচি সেই মানসিক দেয়াল ভাঙছে।</p>



<p>&nbsp;তথ্যসূত্র -বিবিসি উওমেন,ন্যাসকম ফাউন্ডেশন,ভারতের নারী শিশু উন্নয়ন মন্ত্ৰক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, অর্থ ও নারী উন্নয়ন দপ্তর।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/">মেয়েদের দিন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উপার্জনেও পরাধীন</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 07:30:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<category><![CDATA[women's rights]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10416</guid>

					<description><![CDATA[<p>উদয়াস্ত পরিশ্রমের টাকা নিজের ইচ্ছেমতো খরচের স্বাধীনতা নেই।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গত শতাব্দীর তুলনায় এখন অনেক বেশি নারী উপার্জনশীল এবং এই বিষয়টি নারী স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।কিন্তু দেখা গেছে যে সেই উপার্জিত অর্থের ওপর সেই নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং উদয়াস্ত পরিশ্রম করার পরেও সেই ঘাম রক্ত ঝরানো অর্থ বাধ্য হয়ে নিজের স্বামী বা পরিবারের জন্য নিয়মমাফিক দিয়ে দিতে হয়। কাজ করে আয় করা অনেক নারী আজ ঘরে বাইরে উভয় জায়গায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র আয় করা কি মানে তার স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা পাওয়া? অর্থ উপার্জনের পরও সেই টাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক মেয়ের হাতেই নেই।</p>



<p>মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের ১৩টি ফোকাস গ্রূপের মহিলাদের নিয়ে স্টেইনার্ট ২০২৩&nbsp; সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০,০০০+ শ্রমজীবী নারীর মধ্যে প্রায় ৯০% সদস্য তাদের আয়ের বড় অংশ ঘর-সংসারে সরাসরি খরচ করেন। তাও হয়েছিল, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের খরচ ও অন্যান্য জরুরি খরচে।কিন্তু প্রায় ৬৭% নীচের ক্ষেত্রেও তারা নিজেই আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বরং স্বামী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যের অনুমতি বা সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেন।এই বাস্তবতা শুধু অনুভূতিই নয়, গবেষণাও বারংবারই প্রমাণ করেছে&nbsp; নারীর উপার্জন থাকলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত-ক্ষমতা তার নিজের হাতে থাকা খুব কমই ঘটে।ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে -৫ রিপোর্টে প্রকাশ সার্ভেতে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে ৪৪% মহিলা যারা তাদের উপার্জন থেকে যা সঞ্চয় করেছেন তাতে তাদের অধিকার নেই।অল্পশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে ৫০% মহিলাদের নিজস্ব উপার্জনের ওপর কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>এই অসাম্য,অন্যায় অবিচারের পাশে অনুল্লেখিত থাকে বিয়ের সময় মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে দেওয়া গয়না শ্বশুরবাড়িতে কেড়ে নেওয়া অথবা বাধ্য হয়ে মেয়েদের দিয়ে দেওয়ার কথা।</p>



<p>জীবন থেকেই গল্প ।বাংলা গল্প উপন্যাসে মেয়েদের বিয়ের সময় নিজের গয়না শ্বশুরবাড়ি, স্বামী,শাশুড়ির হাতে নিদারুণ লাঞ্ছনার কথা আমাদের অজানা নয়।রবীন্দ্রনাথের &#8216;দেনা পাওনা&#8217; গল্পে উনি তুলে ধরেছেন পণ প্রথার কুফল ও বাঙালি জীবনের বিষময় বেদনার রুদ্ধ ইতিহাসকে।সমাজ সংসারের নির্মমতায় যৌতুকের দায়ে নিরুপমার মৃত্যুর কথা।হৈমন্তী গল্পে হৈমন্তীর বয়স নিয়ে শাশুড়ির ভর্ৎসনায় হৈমন্তীর সুতীক্ষ্ণ প্রতিবাদ ,&#8217;আমার বাবা তো কখনোই মিথ্যা বলেন না ।&#8217;এই একটি মাত্র বাক্যের মধ্যে দিয়ে সুশিক্ষা,রুচিবোধ ও স্নিগ্ধ মনোভাবসম্পন্ন হৈমন্তীর প্রতিবাদী সত্তা প্রকাশ পায়।</p>



<p>শরৎচন্দ্রের গল্প-উপন্যাসে রক্ষণশীল সমাজে নারীদের ওপর চলা চরম অন্যায়, অবমাননা ও শোষণের চিত্র ফুটে ওঠে। বিধবা নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, সতীত্বের কঠোর মাপকাঠি এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট নারীদের কথা তিনি সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন। তাঁর নারী চরিত্ররা প্রায়শই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে প্রতিবাদী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। &#8216;নারীর মূল্য&#8217; প্রবন্ধে বলেছেন ,&#8217;মণি-মাণিক্য মহামূল্য বস্তু, কেন না, তাহা দুষ্প্রাপ্য। এই হিসাবে নারীর মূল্য বেশী নয়, কারণ, সংসারে ইনি দুষ্প্রাপ্য নহেন। জল জিনিসটা নিত্য-প্রয়োজনীয়, অথচ ইহার দাম নাই। কিন্তু যদি কখন ঐটির একান্ত অভাব হয়, তখন রাজাধিরাজও বোধ করি একফোঁটার জন্য মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্নটি খুলিয়া দিতে ইতস্ততঃ করেন না। তেমনি—ঈশ্বর না করুন, যদি কোনদিন সংসারে নারী বিরল হইয়া উঠেন, সেই দিনই ইঁহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে আজ নহে। আজ ইনি সুলভ।&#8217;</p>



<p>সাম্প্রতিক গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, যা ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা পরিচালিত এক অভিনব গবেষণা-ভারতের নাগরিক আচরণ, জননিরাপত্তা, লিঙ্গ-মানসিকতা, বৈচিত্র্য ও বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এই সমীক্ষা দেশের নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।</p>



<p>সারা দেশ থেকে ৯,০০০-এরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬৯% মানুষ মনে করেন নারীরা তাঁদের উপার্জিত অর্থ নিজেরাই পরিচালনা করতে সক্ষম হওয়া উচিত। তবে উদ্বেগজনকভাবে ৩১% মানুষের বিশ্বাস, আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের পরিবারের অনুমতি প্রয়োজন। আঞ্চলিক বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো, কেরালাতে ৯১% মানুষ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন, অথচ ওড়িশাতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৭%-এ।</p>



<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি,নারী অর্থ উপার্জন করলেই যে সেই অর্থ ব্যয়ের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তা নয়। সমীক্ষার এই পরস্পরবিরোধী তথ্য সমাজের এক গভীর দ্বন্দ্বকে সামনে আনে—নারীদের কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হলেও, অনেকের ধারণা তাঁদের উপার্জন পরিবারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত। গভীরভাবে প্রোথিত লিঙ্গ-ধারণা, সামাজিক প্রত্যাশা, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ভূমিকা এবং পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা নারীদের আর্থিক স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। ফলে পরিবারে আর্থিক অবদান রাখার পরও অনেক নারী প্রকৃত অর্থে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল অবস্থাতেই থেকে যান।&nbsp;</p>



<p>পরম পরিতাপের বিষয় আগেকার কঠোর সামাজিক অনুশাসনে মেয়েদেরকে পর্দানশীন এবং অশিক্ষিত করে রাখা হওয়ার সময় থেকে আজকের পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে মেয়েদের আত্মমর্যাদা এবং আত্মউপার্জনের পথ খুলে গিয়েও সেই বাড়ির ও বাইরের যুদ্ধ সামলানোর পরেও যদি মেয়েদের নিজের উপার্জিত অর্থ নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে প্রকৃত নারী স্বাধীনতা,নারীশক্তির উন্মীল প্রকাশ হয় না। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তথ্যসূত্র- স্টেইনার্ট সমীক্ষা ২০২৩,ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ ডাটা সার্ভে (NHFS -5 ),ওয়র্ক রিলেটেড ডিসিশন মেকিং ,ম্যারেড উওমেন ইন্ডিয়া-দ্য ইকোনোমিক অ্যান্ড লেবার রিলেশনস রিভিউ), গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, ইন্ডিয়া টুডে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একা মেয়ের ভ্যালেন্টাইন ডে</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/single-women-in-valentine-day/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/single-women-in-valentine-day/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 12 Feb 2026 08:39:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10285</guid>

					<description><![CDATA[<p>এই উচ্ছ্বাসের আড়ালেই বহু নারী থাকেন, যাঁরা একা,কেউ নিজের ইচ্ছায়, কেউ পরিস্থিতির কারণে।....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/single-women-in-valentine-day/">একা মেয়ের ভ্যালেন্টাইন ডে</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফেব্রুয়ারির বাতাসে যখন লাল গোলাপের গন্ধ, চকোলেট আর প্রেমের প্রতিশ্রুতির ছোঁয়া ভাসে, তখন শহর জুড়ে এক বিষাদময়&nbsp; চাপ তৈরি হয়,ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই প্রেমিক বা প্রেমিকা থাকতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভরা থাকে যুগলের ছবি, রেস্টুরেন্টে ক্যান্ডেললাইট ডিনার, আর চারপাশে ভালোবাসার প্রদর্শন। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের আড়ালেই বহু নারী থাকেন, যাঁরা একা,কেউ নিজের ইচ্ছায়, কেউ পরিস্থিতির কারণে। তাঁদের জন্য ভ্যালেন্টাইনস ডে অনেক সময় হয়ে ওঠে আত্মপ্রশ্নের দিন,“আমি কি একা বলেই কম সম্পূর্ণ?”</p>



<p>আসলে একা থাকা কোনো অভাব নয়, বরং অনেক নারীর কাছে এটি এক ধরনের স্বাধীনতা। নিজের সময়, নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের স্বপ্ন এই তিনটি জিনিস একাকী নারীর জীবনে অনেক বেশি স্পষ্ট। কর্মজীবন, সৃষ্টিশীলতা, ভ্রমণ বা নিজের যত্নে সময় দেওয়ার সুযোগ আসে তখনই, যখন ভালোবাসার দায়িত্ব একা নিজের ওপর থাকে। তবুও সমাজের চোখে সিঙ্গল নারী মানেই যেন কিছু “মিসিং”একটি অসম্পূর্ণ গল্প।</p>



<p>ভ্যালেন্টাইনস ডে সেই সামাজিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বন্ধুদের দম্পতি হয়ে রেস্তোরাঁয় যাওয়ার ছবি দেখে অনেক মেয়ের মন খারাপ হয়। কেউ কেউ নিজেকে দোষ দিতে শুরু করেন“আমি কি যথেষ্ট ভালো নই?” অথচ এই প্রশ্নটাই ভুল। সম্পর্কের মধ্যে না থাকলেই যে একজন মানুষের মূল্য কমে যায়, তা তো নয়। ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর রূপ আসলে নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক।</p>



<p><strong>ভ্যালেন্টাইনস ডেতে সোশ্যাল মিডিয়া দেখে মন খারাপ? মনোবিদের পরামর্শ</strong></p>



<p>ভ্যালেন্টাইনস ডে এলেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ছবি, সারপ্রাইজ গিফট, রোমান্টিক রিল ও “পারফেক্ট কাপল” গল্পে। এই সময়ে অনেক একা মেয়ের মন অজান্তেই ভারী হয়ে ওঠে। নিজের জীবনকে অন্যের সাজানো সুখের সঙ্গে তুলনা করে মনে হতে পারে“আমি কি পিছিয়ে পড়েছি?” হার্ভার্ড প্রশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও লেখক ডঃ শ্রীনি পিল্লাই এই প্রবণতাকে বলেন “কম্প্যারিজন ট্র্যাপ ”। তাঁর মতে, আমরা আমাদের বাস্তব জীবনকে তুলনা করি অন্যদের সাজানো সেরা মুহূর্তের সঙ্গে যা মানসিক চাপ ও একাকীত্ব বাড়ায়।বিশ্বখ্যাত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও বই&nbsp; মে বি ইউ শুড টক টু সামওয়ান লেখিকা ডঃ লরি গটিলেব ব্যাখ্যা করেছেন, সম্পর্ক না থাকা মানেই জীবনে কিছু ভুল হচ্ছে এই ধারণা সমাজ তৈরি করে দেয়, বিশেষ করে ভ্যালেন্টাইনসের মতো দিনে।</p>



<p><strong>মনোবিদদের</strong><strong> </strong><strong>পরামর্শ</strong><strong></strong></p>



<p>ডিজিটাল সীমা তৈরি করুন এই সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমালে মন অনেক হালকা থাকে।</p>



<p>&nbsp;নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করবেন না। মন খারাপ হওয়া দুর্বলতা নয় বরং নিজের আবেগকে বোঝার প্রথম ধাপ।</p>



<p>নিজেকে কেন্দ্র করে দিনটি কাটান-নিজের জন্য ভালো খাবার, একা সিনেমা, নিজের যত্ন এসব আত্মসম্মানের অংশ।</p>



<p>সম্পর্ক = সুখ এই ধারণা ভাঙুন।অনেক মানুষ সম্পর্কের মধ্যেও একা ও অসুখী থাকে। সিঙ্গল থাকা মানেই একা নয়।</p>



<p>একজন একা মেয়ে যখন নিজের শরীর, মনের যত্ন নেন, নিজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেন, তখন তিনি এক নতুন ধরনের প্রেমে বাঁচেন,সেল্ফ লাভ। সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে তাকানো, নিজের শরীরকে সম্মান করা, নিজের সাফল্যে গর্ব করা ,এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই সত্যিকারের ভালোবাসার প্রমাণ।</p>



<p>ভ্যালেন্টাইনস ডে তাই সিঙ্গল নারীর কাছে হতাশার দিন হওয়া উচিত নয়; বরং এটি হতে পারে আত্মসম্মানের উৎসব। এই দিনটিতে নিজেকে একটি ফুল কিনে দেওয়া, পছন্দের বই পড়া, একা সিনেমা দেখা বা নিজের জন্য সুন্দর একটি খাবার রান্না করা,এসবও তো ভালোবাসার প্রকাশ। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে ভালোবাসা মানে অন্য কেউ, কিন্তু আমরা ভুলে গেছি নিজের কাছেও আমরা একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।</p>



<p>আরও একটি সত্য আছে,সব প্রেমের গল্প রোমান্টিক নয়। অনেক নারী আছেন, যাঁরা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন মানসিক আঘাত নিয়ে। তাঁদের জন্য একা থাকা কোনো শূন্যতা নয়, বরং একটি নিরাময়ের সময়। ভ্যালেন্টাইনস ডে তাঁদের মনে পুরনো ক্ষত খুলে দিতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসা আবার নতুনভাবে শুরু করা যায়, এইবার নিজের থেকে।</p>



<p>ভ্যালেন্টাইনস ডে আসুক আর যাক, সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক ,একজন নারীর জীবন তার নিজেরই গল্প। সিঙ্গল থাকা মানে একা থাকা নয়; মানে নিজের সঙ্গে একটি গভীর, শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলা।</p>



<p>আর যদি এবারে এতস্বত্বেও একা লাগে তাহলে মনে করতে হবে যে এই ভ্যালেন্টাইন ডে তে একা থাকা মানেই আগামী ভ্যালেন্টাইনেও একা থাকতে হবে সেটা তো নাও হতে পারে।</p>



<p>এই ফেব্রুয়ারিতে, গোলাপের পাশে দাঁড়িয়ে একটুখানি আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে বলুন,“আমি যথেষ্ট। আমি সম্পূর্ণ। আমি নিজের ভালোবাসার যোগ্য।”</p>



<p>তুমিই নিজের জন্য যথেষ্ট। কাউকে কিছু প্রমাণ করার দরকার নেই।”- মায়া অ্যান্জেলিউ</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/single-women-in-valentine-day/">একা মেয়ের ভ্যালেন্টাইন ডে</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/single-women-in-valentine-day/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/work-life-balance-tips-by-wellness-experts/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/work-life-balance-tips-by-wellness-experts/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 08 Jan 2026 10:26:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10076</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু পেশাগত সফলতা নয়, মানসিক সুস্থতা, পারিবারিক সম্পর্কের ভারসাম্য।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/work-life-balance-tips-by-wellness-experts/">ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও ব্যাস্ত  সমাজে কর্মরতা নারীর জীবনে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পেশাগত সফলতা নয়, মানসিক সুস্থতা, পারিবারিক সম্পর্কের গভীরতা এবং সন্তানের বিকাশ,এসবকেই নিয়েই আসল জীবনের মান গঠিত হয়। বিশেষত যখন একজন নারী মায়ের জীবনে পেশাগত চাপ, ডেডলাইন এবং পরিবার-সন্তানকে সময় দেওয়া এই সব দায়িত্ব একসাথে সামলাতে হয় তখন প্রয়োজন হয় সচেতন পরিকল্পনা এবং মানসিক শক্তি।</p>



<p>১) পেশাগত কাজ ও ব্যক্তিজীবনের চাপ: বাস্তব চ্যালেঞ্জ</p>



<p>একজন প্রফেশনাল উওম্যান প্রায় প্রতিদিনই ডেডলাইন, সার্কুলার মিটিং, ইমেইল, অফিস,টার্গেট ,ডেডলাইন কমিটমেন্ট এসবের চাপ প্রতিদিন এবং প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। একই সঙ্গে সন্তানের হোমওয়ার্ক, পরিবারের খাবার, ঘর-সংসার, আবেগ সহানুভূতি,এসব দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়। এই দ্বৈত চাপ কখনও কখনও মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ এবং&nbsp; হতাশা সৃষ্টি করে।</p>



<p>বিশ্বখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ব্রেনো ব্রাউন&nbsp; বলেন, “ ইমোশনাল ওয়েলনেস বজায় রাখতে হলে নিজেকে জানা ও এবং নিজের সীমা নির্ধারণ করতে শিখতে হবে&nbsp; এবং এর একটা লক্ষণরেখা টানা উচিত ।“এই সীমা&nbsp; তৈরি করার মধ্যেই রয়েছে জীবনের ভারসাম্য রক্ষার প্রথম ধাপ।</p>



<p>২) মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব</p>



<p>মানসিক সুস্থতা বলতে শুধু দুশ্চিন্তা কম থাকাকে বোঝানো হয় না,বরং অভ্যন্তরীণ শান্তি, আত্ম-সম্মান, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেকে সময় দেয়ার সামর্থ্যকেই বোঝায়আন্তর্জাতিক প্রসিদ্ধ ওয়েলনেস এক্সপার্ট। &nbsp;দীপক চোপড়া&nbsp; বলেন, “মাইন্ডফুলনেস বা সচেতনভাবে বর্তমান মুহূর্তে থাকা আমাদের মানসিক চাপ কমায় এবং সৃজনশীলতা বাড়ায়।” প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে খুব সহায়ক।“</p>



<p>৩) টাইম ম্যানেজমেন্ট : ডেডলাইন ও পরিবার-সন্তানের জন্য সময়</p>



<p>কর্মক্ষেত্রে ডেডলাইন মানেই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজনীয় কাজগুলিকে সঠিকভাবে সাজানো। টাইম ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট ডেভিড অ্যালেন &nbsp;গেটিং থিংস ডান প্রসেস&nbsp; আত্মস্থ করতে উপদেশ দেন, যেখানে সব কাজকে ছোট-ছোট ধাপে ভাগ করে সময় বরাদ্দ করা হয়। এর মাধ্যমে কাজের চাপ কমে এবং সময়ও যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়।</p>



<p>প্রতিদিনের একটি রুটিন তৈরি করা -যেমন:</p>



<p>সকালে ৩০ মিনিট শুধু নিজেকে (মেডিটেশন/ব্যায়াম/ডায়রি)</p>



<p>কাজের সময় ব্লক করে প্রদত্ত সময় ধরে কাজ</p>



<p>সন্ধ্যায় ১-২ ঘন্টা কেবল পরিবার-সন্তানের সাথে</p>



<p>এই রুটিন মেনে চললে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে সুসমন্বয় সহজ হয়।</p>



<p>৪) পরিবার ও সন্তানের সাথে মূল্যবান সময়</p>



<p>পরিবারকে সময় দেওয়া মানে শুধু শারীরিকভাবে সেখানে থাকা নয়—মনোযোগ, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। সন্তানের স্কুল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, পরিবারের খাবারের সময়ে সকলে একসাথে থাকা—এসব ছোট অভ্যাসই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। ফ্যামিলি থেরাপিস্ট স্নেহা ঘোষ&nbsp; বলেন, পেরেন্টাল প্রেজেন্স মানে ইমোশনাল প্রেজেন্স &nbsp;প্রয়োজন—এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।”</p>



<p>৫. জরুরি টিপস: সুষম জীবন গঠনে অভ্যাস ও প্রবণতা</p>



<p>সীমা ঠিক করুন: অফিসের পর ইমেইল চেক কমান, ব্যক্তিগত সময়কে অক্ষুণ্ণ রাখুন।</p>



<p>ডিজিটাল ডিটক্স করুন: রাতে ফোন/ট্যাব কম ব্যবহার করুন—ঘুম ও মানসিক শান্তি বাড়ে।</p>



<p>শারীরিক সুস্থতা: নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম—এইগুলো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।</p>



<p>সহযোগিতা নিন: সংসার বা অফিসের কাজে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিন—এতে বোঝাপড়া বেড়ে যায়।</p>



<p>নিজের জন্য সময়: প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেকে কিছু বিশেষ সময় দিন—একটি বই পড়া, সংগীত শোনা বা ছোট-খাটো ভ্রমণ।</p>



<p>৬) সফল নারীর উদাহরণ: অনুপ্রেরণা</p>



<p>বিশ্বজুড়ে বহু নারী সফলভাবে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনকে সমন্বয় করে চলেছেন। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা বা চিকিৎসা পেশার মানুষেরা সকলেই বলেন—এটি সম্ভব, যদি পরিকল্পিতভাবে সময় ব্যবস্থাপনা, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন ও পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রতিদিন মূল্য দেওয়া হয়।</p>



<p>শেষ কথা</p>



<p>আজকের কর্মজীবী নারীর হাতে রয়েছে অসংখ্য দায়িত্ব,কেরিয়ার গঠন, পরিবার-সন্তান, মানসিক স্বস্তি। কিন্তু সত্যিকারের ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স তখনই গড়ে ওঠে যখন আপনি নিজের মূল্য বুঝে নিজেকে সময় দেবেন, ডেডলাইনকে পরিকল্পনামূলকভাবে মোকাবিলা করবেন এবং পরিবারের সঙ্গে মানসিক উপস্থিতি বজায় রাখবেন। বাস্তবে এই সামঞ্জস্য গড়ে তুলতে সময় লাগবে, কিন্তু প্রতিদিনই একটু একটু করে এই অভ্যাসগুলো স্থাপন করলে আপনার জীবন হবে সুস্থ, সুন্দর ও পরিপূর্ণ।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/work-life-balance-tips-by-wellness-experts/">ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/work-life-balance-tips-by-wellness-experts/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একা মেয়ের বেড়ানো</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/solo-women-travellers/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/solo-women-travellers/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 15 Dec 2025 08:26:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9923</guid>

					<description><![CDATA[<p>সামাজিক বিধি নিষেধ ,নিরাপত্তা ভয়কে জয় করে দুর্নিবার সাহস আর উদ্যম।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/solo-women-travellers/">একা মেয়ের বেড়ানো</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কলকাতার ব্যস্ত ট্র্যাফিক থেকে শুরু করে সুদূর পাহাড়ের নির্জন রাস্তা, আজকাল অনেক মেয়েই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন একা। &#8216;একা মেয়ের বেড়ানো&#8217; শব্দটি এখনও&nbsp; সমাজে সমাদৃত নয়,বরং বাড়ির বিধিনিষেধ কাটানোই একটা চ্যালেঞ্জ এর ওপর সংবাদ ও সমাজমাধ্যমে নিয়মিত মেয়েদের ওপর ঘটে চলা অন্যায় অত্যাচার সুরক্ষিত থাকার সংকটের মধ্যেও এইসবের মধ্যেও এখন অনেক মেয়ে দুর্নিবার সাহস আর উদ্যমে এক বেড়াতে যাচ্ছেন সেটা সাবধানী রক্ষণশীলদের কাছে আশ্চর্যের আর আতঙ্কের হলেও এই মেয়েদের কাছে বিস্ময়ের কারণ নয়, বরং সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। অনেকেই ভাবেন, একা পথ চলা মানেই বুঝি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, কিন্তু একটি একা মেয়ে,একটি সাহসী আত্মপ্রত্যয়ী মেয়ে এই বিপদসংকূল পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবীতে&nbsp; জানেন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথচলা হলো বিপদ আর ভয়,অনিশ্চিয়তাকে&nbsp; জয় করে&nbsp; নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক সুযোগ। নিজের ইচ্ছেমতো গন্তব্য বাছা, অচেনা সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানা আর নিজের ভেতরের শক্তিকে চিনে নেওয়ার সেই অ্যাডভেঞ্চার। এই সংখ্যায়, আমরা কথা বলব সেই সব স্বাধীনচেতা মেয়েদের সঙ্গে, যারা ভয়কে জয় করে বেরিয়ে পড়েছেন মুক্তির খোঁজে। পড়ুন, কীভাবে একা বেড়ানো শুধু ভ্রমণ নয়, হয়ে উঠছে জীবনযাপনের এক নতুন দর্শন।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="700" height="466" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/cheryl-mukherjee-eka-meyer-berano-1.jpg-thr.jpg" alt="" class="wp-image-9926" style="aspect-ratio:1.502145922746781;width:552px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/cheryl-mukherjee-eka-meyer-berano-1.jpg-thr.jpg 700w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/cheryl-mukherjee-eka-meyer-berano-1.jpg-thr-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 700px) 100vw, 700px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- হোমগ্রোন ডট কো ডট ইন</figcaption></figure>



<p><strong>চেরিল মুখার্জি &#8211; অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি স্নাতক</strong></p>



<p>ভ্রমণ মূলত ব্যক্তিগত এক অভিজ্ঞতা,এটা কোনও সামাজিক বাঁধা বা নিয়মে আটকে থাকা উচিত নয়।</p>



<p>আমি প্রথমবার একা ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম উনিশ বছর বয়সে। যে জায়গায় যেতে চাই, সে বিষয়ে যথেষ্ট খোঁজখবর না নেওয়া পর্যন্ত আমি বাবা-মাকে কিছুই বলিনি। কিন্তু বাঙালি হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ ছিল সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প আর আমার পরিচিত বাস্তবতার বাইরে এক অন্যরকম নস্ট্যালজিয়ার জায়গা। আমি কখনও কলকাতায় বড় হইনি, তবু একেবারে ‘স্টেরিওটাইপিক্যাল’ বাঙালি সন্তানের মতোই রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখে, সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা দেখে, ছড়া-গানের সঙ্গে গুনগুন করেই বড় হয়েছি।ডাক্তারি পরিবার থেকে এসেছি, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই মাপা হয় যুক্তি-তর্ক, লাভ-ক্ষতির খাতায়। তাই বাড়িতে প্রতিদিনই ছোট ছোট আলোচনা চলত, ধীরে ধীরে মানসিক প্রস্তুতি করে নেওয়ার জন্য, যাতে বিষয়টা কেউই ধাক্কা হিসেবে না নেয়। আমি ছেলে হলেও একইরকম করতাম।</p>



<p>এর আগে আমি শুধুই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরেছি আর সেগুলো ছিল ছোট্ট ছোট্ট ট্রিপ, সমস্ত আরাম-আয়েশ হাতের মুঠোয়। আমার একা ভ্রমণ তার সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতা। দু’মাস পর্যন্ত লম্বা চলতে পারে, প্রয়োজনমতো সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর আর সস্তা খাবার, কোনও কড়াকড়ি সফরসূচি নয়; খরচ বাঁচাতে বেশি হাঁটি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করি, নিজের কাপড় নিজেই ধোওয়ার জন্য সাবান নিয়ে চলি। আর সবচেয়ে বড় কথা কারও সঙ্গে পরিকল্পনা মিলছে কি না, সেটা ভাবতে হয় না। পরিবার-নির্ভর ভ্রমণ থেকে একা ভ্রমণে যাওয়ার পর আমার জন্য সবকিছুই বদলে গিয়েছিল।</p>



<p><strong>আপনি কি পুরুষ ভ্রমণকারীদের মতো সমান সুযোগ পেয়েছেন?</strong></p>



<p>অনেক সময় মনে হয়েছে যেশুধু আমি একা নারী ভ্রমণকারী বলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। অনেক জায়গায় অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস নারী অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশি খরচসাপেক্ষ, কারণ “ওদের বেশি সাহায্য” বা “বেশি নজরদারি” লাগে। অনেক ধর্মীয় স্থানে নারী হিসেবে আমার প্রবেশাধিকার ছিল না। ট্রাভেল এজেন্টরা নারীদের একা ভ্রমণের ঝুঁকি লিখিতভাবে নিতে চায় না। একা নারী ভ্রমণকারীদের জন্য সময়সীমা, হোস্টেলে রিপোর্ট করার নিয়ম,সবকিছুই বেশি কঠোর; নানারকম অনুমতি ও কাগজপত্রের ঝামেলা তো আছেই। এ তো কেবল কয়েকটি উদাহরণ। পুরুষদের এসব নিয়ে ভাবতে হয় না। কিন্তু বৃহত্তর সমস্যাটি হলো,নারী একা ভ্রমণের প্রতি সামাজিক ট্যাবু, যেসব বিষয় নিয়ে পুরুষদের টিকিট কাটার আগেই ভাবতে হয় না।</p>



<p>আমি উপদেশ দিতে পারদর্শী নই, কিন্তু একজন নারী হিসেবে বলতে পারি একা ভ্রমণ একজনকে যেমন সচেতন করে তোলে, তেমনই শক্তিশালীও করে। নিজের দুর্বলতা আর শক্তির দিকগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে জানা যায়। কেউ ভালোবাসার অপেক্ষায় না থেকে নিজেকে ভালোবাসতে শেখা যায়। আর এখানেই পুরো পার্থক্যটা তৈরি হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="752" height="702" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/jhumka-bando-eka-meye.png" alt="" class="wp-image-9929" style="aspect-ratio:1.0712250712250713;width:521px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/jhumka-bando-eka-meye.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/jhumka-bando-eka-meye-300x280.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি-ট্র্যাভেলস্কেপ ডট ইন</figcaption></figure>



<p><strong>ঝুমকা বন্দোপাধ্যায় ,পঞ্চাশোর্ধ।২০১৫ থেকে একা বেড়ান</strong></p>



<p>&nbsp;ঝুমকা বন্দোপাধ্যায়ের বেড়াতে ভালো লাগে,কিশোর বয়েসে বাবার সঙ্গে কিছু জায়গায় বেড়িয়েছিলেন কিন্তু তার পর বেশ দীর্ঘদিন আর বেড়াতে যেতে পারেন নি,এখন যখন ওনার নিজের কোথায় সামাজিক পারিবারিক দায়িত্ব অনেক কমে যাওয়ার ফলে বেড়ানোর তাগিদ আবার অনুভব করেন।প্রথমে ভেবেছিলেন কোনো ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গে বেড়াবেন কিন্তু বেশ কিছুবার সেই প্রয়াস&nbsp; কার্যকরী হয়নি আর মধ্যবিত্ত ঝুমকার কাছে ভালো ট্র্যাভেল এজেন্সির খরচও বেশ বেশি লাগে উনি ঠিক করেন যে একা বেড়াতে যাবেন।প্রথমবারের একা উত্তরাখন্ড বেড়াতে যাওয়ার আগে মনে একরাশ দ্বন্দ্ব,উদ্বেগ আশংকা ছিল কিন্তু বেড়িয়ে আসার পর ওপর আনন্দ ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠেন ,তার পর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি।</p>



<p>&nbsp;উনি জানিয়েছেন, &#8216;এখন আমি নিজেই আমার ট্যুর প্ল্যান ঠিক করি, বাজেট, সময়, সফরের মেয়াদ,সবকিছুই আমার পছন্দ ও সুবিধামতো। হিমালয়ের অন্তর্লীন অঞ্চলে ঘুরতে আমার অত্যন্ত ভালো লাগে, যেসব স্থানে অধিকাংশ মানুষ খুব একটা যাতায়াত করে না।</p>



<p>আমি যেহেতু বেশ পরিণত বয়সে ভ্রমণ শুরু করেছি এবং বহুদিন ধরেই আমার বাকেট লিস্টে অসংখ্য জায়গার নাম ছিল, তাই গন্তব্য নির্ধারণ করতে আমার কোনও অসুবিধা হয় না।</p>



<p>আমার পক্ষে ঘন ঘন ছোট ছোট ট্রিপ করা কঠিন। তাই আমি সাধারণত একবারে কয়েকটি জায়গা মিলিয়েই ঘুরি। যেমন, যখন কল্পেশ্বর ও তুঙ্গনাথ গিয়েছিলাম, তখনই ভ্রমণসূচিতে দেউরিয়া তাল ও কার্তিক স্বামী মন্দিরও যুক্ত করেছিলাম।একাই ভ্রমণ করলে যাতায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে মনে রাখতে হবে যেসব স্থানে স্থানীয় মানুষের নিজস্ব গাড়ি নেই, সেখানেও তাঁদের জন্য সবসময়ই কোনও না কোনও ধরনের গণপরিবহন চলাচল করে।</p>



<p>ভ্রমণের পথে হয়তো ‘খুব বিদগ্ধ, রুচিশীল’ সহযাত্রী নাও পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আন্তরিক ও সাহায্য করতে ইচ্ছুক কয়েকজন মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।আমার প্রথম দুই-তিনটি ভ্রমণে কলকাতা থেকেই সরকারি ট্যুরিস্ট লজে থাকার জায়গা বুক করতাম। কিন্তু পরে বুঝলাম, এটি বেশ ঝামেলাপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, এই লজগুলি স্থানীয় বাস বা জিপস্ট্যান্ড থেকে বেশ দূরে থাকে।এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে না পারলে অগ্রিম টাকার ক্ষতির চাপও থাকে। তাই এখন আমি স্পট বুকিংই করি। বাস বা জিপস্ট্যান্ডের কাছাকাছি থাকা আমার বেশি পছন্দ।</p>



<p>অল্প-অল্প দরকষাকষি করতেও শিখেছি, কারণ আমি বেশিরভাগ সময়ই পর্যটন মরসুম শুরুর আগের বা পরের সময়ে ভ্রমণ করি। মরসুমে চাহিদা বেশি থাকায় ছাড় পাওয়া সত্যিই কঠিন।</p>



<p>অনেকের কাছেই শুনেছি, ভ্রমণে গেলে খাবার নিয়ে তাঁদের নানা রকম সমস্যা হয়। কিন্তু আমার বিশেষ কোনও খাবারের বাছবিচার নেই,শুধু ঠিকমতো রান্না করা ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিবেশন হলেই আমি নিশ্চিন্তে খেতে পারি।নিরামিষ যেমন খাই, তেমনই আমিষও। স্থানীয় রান্না চেখে দেখতেও আমার খুব ভালো লাগে। ব্যাকআপ খাবার হিসেবে আমি সবসময় কয়েক প্যাকেট বাদাম-চিক্কি রাখি। বাদাম খুব পুষ্টিকর এবং গুড় শরীরে তৎক্ষণাৎ শক্তি জোগায়।</p>



<p>যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন আমি ভ্রমণ চালিয়ে যেতে চাই,তবে সে অনুযায়ী পরিকল্পনাও করতে হবে। এখন আমি সাধারণত ১০–১২ দিনের ভ্রমণসূচি তৈরি করি, যাতে একবারে কয়েকটি জায়গা দেখা যায়। বয়স আরও বাড়লে এবং আগের মতো চলাফেরা করতে না পারলে, তখন এক জায়গায় গিয়ে সেখানকার প্রকৃতি উপভোগ করেই সময় কাটাব।‘</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="700" height="509" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Swati-Jain-eka-meye.png" alt="" class="wp-image-9932" style="aspect-ratio:1.37524557956778;width:556px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Swati-Jain-eka-meye.png 700w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Swati-Jain-eka-meye-300x218.png 300w" sizes="(max-width: 700px) 100vw, 700px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- ট্র্যাভেলট্রায়াঙ্গেল ডট কম</figcaption></figure>



<p><strong>স্বাতী জৈন</strong></p>



<p>ভারতের ২০টি রাজ্য, ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং প্রায় ১৩০টি শহর একা ব্যাকপ্যাক করে ঘুরে বেড়ানোর পর স্বাতী জৈনের ভ্রমণযাত্রা বারবার ভেঙে দিয়েছে এই ধারণা যে ভারত নারীদের জন্য অনিরাপদ। দুর্গম কোনও দূরবর্তী গ্রাম হোক বা নারীদের জন্য ‘অসুরক্ষিত’ বলে চিহ্নিত কোনও শহরসব জায়গায় স্বাতী নিজের সাহস, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তায় ভেঙে ফেলেছেন সব ধরনের পূর্বধারণা।</p>



<p>স্বাতীর বিশ্বাস, ছত্তিশগড়ের অন্তর্গত বাস্তার অঞ্চলে ৯৬ ঘণ্টা কাটিয়ে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরই তিনি প্রথমবার প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলেন। সেখানে কেউ তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি, স্পর্শ পর্যন্ত করেনি, এমনকি অস্বাভাবিকভাবে তাকিয়েও দেখেনি।হাটবাজারে মহুয়া বিক্রি করা সেই ‘বিন্দাস’ মহিলাকে, দক্ষিণে দন্তেশ্বরী মন্দিরের সিঁড়িতে ফুল বেচা বৃদ্ধাকে, আর এক আদিবাসী শিকারিকে কাছ থেকে দেখে তিনি অনুভব করেছিলেন শহুরে দৃষ্টিভঙ্গি যে ভাবে তাঁদের বিচার করে, তাতে কোনও এক জায়গায় ভয়াবহ ভুল থেকে যাচ্ছে।</p>



<p>ভ্রমণের জন্য সঞ্চয় ভেঙে ফেলা কখনই তাঁর কাছে বিকল্প ছিল না—এ ব্যাপারে স্বাতী শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিলেন। তাই চলতে চলতেই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথমে তিনি পিআর কনসালট্যান্ট হিসেবে ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেন, কিন্তু দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে কাজ সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল।</p>



<p>এরপর তিনি নিজের অভিযানের অর্থ জোগাড়ের জন্য অন্য পথ বেছে নেন—খোলেন নিজের ব্লগ buoyantfeet.com, শুরু করেন ব্র্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা, আর ফ্রিল্যান্স ট্রাভেল রাইটার হিসেবেও কাজ করতে থাকেন!</p>



<p>তবে প্রথম পদক্ষেপটাই সাধারণত সবচেয়ে দুঃসাহসিক হয়, আর সেটিই দাবি করে সর্বোচ্চ সাহস। স্বাভাবিকভাবেই স্বাতীকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল বহু চ্যালেঞ্জ আর তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল স্বয়ং তিনি নিজেই। নিজের মনকে যখন তিনি পথচলার অনুমতি দিতে রাজি করাতে পেরেছিলেন, তখনই যথেষ্ট প্রেরণা পেয়েছিলেন পরিবারের মতো ঐতিহ্যনিষ্ঠ মানুষদেরও বোঝাতে।</p>



<p>তবে এতেই পথ সহজ হয়ে যায়নি। তাঁর সামনে সবচেয়ে ঘনঘন যে চ্যালেঞ্জটি এসেছে, তা হলো পরিবারের উদ্বেগ সামলানো এবং সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে লড়াই করা। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, কেউ যদি সত্যিই মন-প্রাণ দিয়ে কোনও স্বপ্নের পিছনে ছুটতে চায়, তবে পরিস্থিতি নিজে থেকেই অনুকূল হয়ে ওঠে যেমন আজ তাঁর পরিবারই সমর্থন করছে তাঁর নিয়মিত, কঠোর ভ্রমণ-জীবনকে।</p>



<p>তিনজন নারী,যাঁরা সব ঝুঁকি নিয়েছেন, ভেঙেছেন একা ভ্রমণ নিয়ে সমাজের সব বিধিনিষেধ প্রচলিত সাবধানবাণী। নিজেদের স্বপ্নকে শুধু পূরণই করেননি, বরং সেই পথচলা তাঁদের জীবনকে করেছে আরও সমৃদ্ধ, আরও গভীর। তাঁদের সাহস, দৃঢ়তা ও মুক্তির অন্বেষা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা জোগাবে সেই সব নারীকে, যাঁরা এক বেড়াতে যাওয়ার&nbsp; প্রথম পা নেওয়ার ইচ্ছেতে উন্মুখ হয়ে আছেন।</p>



<p>তথ্যসূত্র -হোমগ্রোন ডট কো ডট ইন,ট্র্যাভেলস্কেপ ডট ইন,ট্র্যাভেলট্রায়াঙ্গেল ডট কম।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/solo-women-travellers/">একা মেয়ের বেড়ানো</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/solo-women-travellers/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নরম গরম ধরম</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/dharmendra-obituary/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/dharmendra-obituary/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 15 Dec 2025 07:13:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[dharmendra]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9904</guid>

					<description><![CDATA[<p>'ওঁর ভদ্রতা ছিল স্বাভাবিক,পরিশীলিত'-শর্মিলা ঠাকুর।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/dharmendra-obituary/">নরম গরম ধরম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ভারতের অন্যতম কিংবদন্তি বর্ষীয়ান অভিনেতা <a>ধর্মেন্দ্র</a> গত ২৪শে নভেম্বর&nbsp; ৮৯ বছর বয়সে , ৮ই ডিসেম্বর নিজের আসন্ন&nbsp; ৯০তম জন্মদিনের কিছুদিন আগে চলে গেলেন।ভারতীয় সিনেমা জগতে এই মহাপ্রয়াণ ইন্দ্রপতন সম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাঁর প্রয়াণ “ভারতীয় সিনেমার এক যুগের অবসান”।</p>



<p>ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম মহীরুহ ধর্মেন্দ্র নিজেকে প্রায়শই “একজন সাধারণ মানুষ” বলে পরিচয় দিতে দীর্ঘ ৭০ বছর অমন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আর আশ্চর্য সুন্দর অভিনয় দক্ষতা স্বত্তেও মাটিতে পা রাখা অসম্ভব মার্জিত ধর্মেন্দ্র ছিলেন লক্ষ-কোটি ভক্তের অফুরন্ত ভালোবাসা ও আনুগত্যের মালিক যে ভালোবাসা কোনও প্রচেষ্টায় নয়,স্বভাবজাত মাধুর্যে তিনি অর্জন করেছিলেন।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="576" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-1-1.jpgna_-1024x576.jpg" alt="" class="wp-image-9908" style="aspect-ratio:1.7777777777777777;width:526px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-1-1.jpgna_-1024x576.jpg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-1-1.jpgna_-300x169.jpg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-1-1.jpgna_-768x432.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-1-1.jpgna_.jpg 1280w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- নববর্ষা</figcaption></figure>



<p>&nbsp;সাত দশকের কর্মজীবনে ৩০০–র বেশি ছবিতে অভিনয় করে কয়েক প্রজন্মের দর্শকদের তিনি মুগ্ধ করেছেন।তাঁকে ঘিরে অসংখ্য গানের জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া, আর হেমা মালিনীর সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ে একসময় ছিল সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম।“বলিউডের অরিজিনাল হি-ম্যান” কিংবা “গরম ধরম”এইসব উপাধিতে ভূষিত ধর্মেন্দ্র বহু আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন “দুনিয়ার সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষদের একজন”হিসেবে।</p>



<p>বলিউড তারকারাও তাঁর ব্যক্তিত্বের সামনে নতজানু। মাধুরী দিক্ষিত বলেছিলেন তিনি “পর্দায় দেখা সবচেয়ে সুদর্শন মানুষদের একজন”; সলমান খান তাঁকে বলেছেন “সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ”; জয়া বচ্চন তাঁকে তুলনা করেছেন “গ্রীক গড”-এর সঙ্গে।ধর্মেন্দ্র অবশ্য এসব প্রশংসায় খানিক লজ্জাই পেতেন। বলতেন, “এ সবই প্রকৃতি, আমার বাবা-মা আর আমার জিনের দান।”</p>



<p>১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার নসরালি গ্রামে মধ্যবিত্ত জাট-শিখ পরিবারে জন্ম তাঁর। স্কুলশিক্ষক বাবা তাঁর নাম রেখেছিলেন ধর্ম সিং দেওল।২০১৮ সালে বিবিসি হিন্দিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাবা পড়াশোনাতে জোর দিতেন, কিন্তু তিনি ছোটবেলাতেই সিনেমার প্রেমে পড়ে যান। উনি বলেছিলেন “নবম শ্রেণিতে প্রথম সিনেমা দেখি আর থমকে যাই। মনে হলো,এ কোন স্বর্গ, যেখানে এত সুন্দর মানুষ থাকে? মনে হলো ওরা আমার, আমিও ওদেরই।”</p>



<p>পরিবারে সিনেমায় আভিনেতা হওয়ার ইচ্ছের কথা জানাতেই প্রবল আপত্তি ওঠে।ওনার কথায়,“মা বললেন, ‘তুই বড় ছেলে, সংসারের দায়িত্ব আছে।’ খুব মন খারাপ হয়েছিল। পরে ফিল্মফেয়ারের ‘অল ইন্ডিয়া ট্যালেন্ট কনটেস্ট’-এর কথা শুনে মা মজা করে বললেন, ‘ঠিক আছে, পাঠিয়ে দে আবেদনটা।‘ভাবিনি নির্বাচিত হব।”কিন্তু ভাগ্য সেখানেই পথ দেখায়-ধর্মেন্দ্র প্রতিযোগিতায় জিতে বোম্বে (বর্তমান মুম্বই) চলে আসেন। বাকিটা ইতিহাস।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="550" height="392" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/bandini.webp" alt="" class="wp-image-9910" style="aspect-ratio:1.403061224489796;width:515px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/bandini.webp 550w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/bandini-300x214.webp 300w" sizes="(max-width: 550px) 100vw, 550px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- আর্ট হাউস সিনেমা</figcaption></figure>



<p>১৯৬০ সালে দিল ভি তেরা, হুম ভি তেরে দিয়ে শুরু। পরের তিন দশক তিনি প্রায় রাজত্ব করেছেন বলিউডে,বছরে বহু হিট ছবি উপহার দিয়ে।বিমল রায়ের বন্দিনী (১৯৬৩) তাঁকে প্রথম বড় পরিচিতি দেয়,এক বন্দি নারীর প্রতি আকৃষ্ট চিকিৎসকের চরিত্রে তাঁর ‘নরম অথচ নীরব’ অভিনয় দর্শক-সমালোচককে মুগ্ধ করে।এর পরই রোম্যান্টিক নায়কের রূপে উত্থান,নূতন, মীনা কুমারী, মালা সিনহা, সায়রা বানুর মতো তারকাদের সঙ্গে একের পর এক সাফল্য।১৯৬৬ সালে ফুল ঔর পত্থর–এ প্রথম অ্যাকশন-অবতারে দেখা যায় তাঁকে। তবে ১৯৭১-এর ব্লকবাস্টার মেরা গাঁও মেরা দেশ–ই তাঁকে পাকাপাকিভাবে অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। চওড়া বুক, সুঠাম দেহ,বেশিরভাগ অ্যাকশন দৃশ্য তিনি নিজেই করতেন, ঝুঁকি নিয়েই।রোম্যান্স ও অ্যাকশনের বাইরেও থ্রিলার, কমেডি,সব ধারাতেই তাঁর সুনিপুণ দক্ষতা লক্ষণীয়। চুপকে চুপকে–তে  তাঁর নিখুঁত কমিক টাইমিং আজও সমালোচকদের প্রিয় উদাহরণ।কিন্তু তাঁর সেরা অনস্ক্রিন জুটি নিঃসন্দেহে হেমা মালিনী। ১৯৬৫ সালে এক প্রিমিয়ারে প্রথম দেখা। হেমা মালিনী পরে তাঁর জীবনীতে লিখেছিলেন,সেদিনই তিনি শুনেছিলেন ধর্মেন্দ্র শশী কপূরকে পাঞ্জাবিতে বলছেন, “কুড়ি বড়ি চঙ্গি হ্যায়”-মেয়েটি বেশ সুন্দর।</p>



<p>অভিনেতা-প্রযোজক ধর্মেন্দ্র রাজনীতিতেও পা রেখেছিলেন,২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত রাজস্থানের বিকানির থেকে বিজেপির সাংসদ। তবে সংসদে উপস্থিতি কম থাকায় সমালোচিত হন। পরে এক টিভি অনুষ্ঠানে স্বীকারও করেন“রাজনীতি নরম মানুষের জায়গা নয়, শক্ত চামড়ার লোকের জন্য।”</p>



<p>জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি কাজ করে গেছেন,ছেলে সানি ও ববি দেওলের সঙ্গে অভিনয়, রিয়ালিটি শো বিচার, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের সঙ্গে আলাপচারিতা,সবই সমানে চলছিল।সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন,ওনার খামারবাড়িতে প্রকৃতির মাঝে দিনযাপনের মধুর স্মৃতি এখনও সতেজ।ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের  পর সম্ভবত সবচেয়ে মর্মস্পর্শী স্মৃতিমেদুর শ্রদ্ধাঞ্জলি শর্মিলা ঠাকুরের।হিন্দু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর লেকের কিছু অংশ &#8211;</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="752" height="530" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-sharmila.png" alt="" class="wp-image-9914" style="aspect-ratio:1.4188679245283018;width:523px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-sharmila.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-sharmila-300x211.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- স্ক্রিনগ্র্যাব</figcaption></figure>



<p>“ধর্মেন্দ্রর হাসিটা মনে পড়লে আজও মনটা আলোয় ভরে ওঠে”,নীরব অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন শর্মিলা। তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা বহু ছবির স্মৃতি যেন শর্মিলার কথায় এক নরম আলো হয়ে ফুটে উঠছিল।“ওঁর সঙ্গে কাজ করতে গেলে কখনও মনে হয়নি আমি এক সুপারস্টারের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। তাঁর আচরণে এক অদ্ভুত কোমলতা ছিল,’টেনশন’শব্দটা যেন ওঁকে স্পর্শ করত না।”</p>



<p>‘এক মুসাফির এক হসিনা–র রাতের শুটিং, ‘অন্যায় অর ইনসাফ’-এর কঠিন অ্যাকশন দৃশ্য,শর্মিলার স্মৃতির খাতা থেকে যেন একের পর এক দৃশ্য বেরিয়ে এল।“ধরমজি সহ-অভিনেতা হিসেবেও তেমনই ছিলেন,মেকআপ রুম থেকে সেট পর্যন্ত সবার নাম ধরে খোঁজ-খবর নিতেন। ওঁর ভদ্রতা ছিল স্বাভাবিক, পরিশীলিত।“আমার দেখা সবচেয়ে অকপট, নিরহংকার নায়ক ছিলেন ধর্মেন্দ্র। পর্দায় কঠিন মানুষ, কিন্তু ভিতরে ছিলেন এক আশ্চর্য নরম মানুষ।”</p>



<p> আজকের প্রজন্ম ধর্মেন্দ্রর থেকে দুটি জিনিস শেখার মতো,বিনয়,এবং পরিশ্রমের প্রতি অপরিমেয় শ্রদ্ধা।“এমন মানুষ চিরকাল থাকে। তাঁদের চলে যাওয়া মানে কেবল শারীরিক অনুপস্থিতি; উপস্থিতি থেকে যায় গল্পে, ছবিতে, মানুষে।একবার মেরে হামদম মেরে দোস্ত ছবির শুটিং ,এদিকে পরের দিন আমার কলকাতায় যাওয়ার কথা কারণ টাইগারের শুধু টেস্ট খেলা নয় ,ঐদিন আবার ওর জন্মদিন থাকায় আমি ধরমজিকে অনুরোধ করেছিলাম যদি দয়া করে উনি সারারাত শুটিং করেন তবে আমি পরের দিন সকাল ৭টার কলকাতা ফ্লাইট ধরতে পারব,কতটা মহানুভব হলে স্টারডমের শীর্ষে থাকা অতবড় একজন অভিনেতা সারা রাত আমার সুবিধের জন্য শুটিং করেছিলেন যা আমি জীবনে ভুলবোনা।&#8221; </p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="620" height="450" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-amitabh-sholay.jpg" alt="" class="wp-image-9912" style="aspect-ratio:1.3777777777777778;width:522px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-amitabh-sholay.jpg 620w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/dharmendra-amitabh-sholay-300x218.jpg 300w" sizes="(max-width: 620px) 100vw, 620px" /></figure>



<p>‘শোলে’তে জয়ের পাশে বীরুর দৃঢ়তা আজও কিংবদন্তি। অমিতাভ লিখলেন,“ওঁর মতো সময়নিষ্ঠ, সংযত ও নিষ্ঠাবান নায়ক বলিউডে হাতে-গোনা।ধরমজি  শক্তির প্রতীক ছিলেন, কিন্তু সেই শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল সরলতা,যা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিত।”</p>



<p>হেমা মালিনী: “ওঁর ভালোবাসা, ওঁর স্নেহ—আমাকে আজও আগলে রাখে।ধরমজি &nbsp;ছিলেন আমার জীবনের নীরব শক্তি। পরিবারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অবিচল।তিনি জানান, ধর্মেন্দ্রর হাসি, গদ্যভঙ্গি, সহজ আচরণ—সব কিছুই তাঁকে আজও গভীরভাবে স্পর্শ করে।</p>



<p>সানি ও ববি দেওল লিখেছেন—“বাবা আমাদের শিখিয়েছেন, শক্তি মানে দয়া; খ্যাতি মানে নম্রতা; আর সফলতা মানে পরিশ্রম।”</p>



<p>জিতেন্দ্র বলেছেন,“ধর্মেন্দ্র এমন বন্ধু ছিলেন, যাঁর কাছে যেকোনও সময়ে পৌঁছোনো যেত। ওঁর মতো বড় মনের মানুষ কম দেখি।”</p>



<p>রেখার মতে,“অভিনয়ের বাইরেও তাঁর রসবোধ ও আন্তরিকতা তাঁকে আলাদা পরিচয় দিয়েছিল।”</p>



<p>শাহরুখ খান: ‘ধরমজি সেই মানুষ, যাঁকে দেখে আমরা বড় হয়েছি। ভদ্রতা শেখার প্রথম পাঠ তিনি।”</p>



<p>বাংলার সঙ্গে এক নীরব প্রেম</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="689" height="552" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Dharmendra-suchitra-Mamta.png" alt="" class="wp-image-9916" style="aspect-ratio:1.2481884057971016;width:522px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Dharmendra-suchitra-Mamta.png 689w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/12/Dharmendra-suchitra-Mamta-300x240.png 300w" sizes="(max-width: 689px) 100vw, 689px" /><figcaption class="wp-element-caption">মমতা ছবির দৃশ্য</figcaption></figure>



<p>ধর্মেন্দ্রর প্রতি কলকাতার এবং বাংলার মানুষের আকর্ষণ ছিল অন্যরকম। বাঙালি দর্শক, যারা সাধারণত সংবেদনশীল এবং &#8216;ভদ্রলোক&#8217; চরিত্র পছন্দ করেন, তাঁরা ধর্মেন্দ্রর রোমান্টিক এবং সংযত চরিত্রগুলি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর চেহারায় পৌরুষ থাকলেও, সেই পৌরুষের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত মাধুর্য। কলকাতার প্রেক্ষাগৃহগুলিতে চুপকে চুপকে বা শিকার (১৯৬৮)-এর মতো ছবিগুলি যে বিপুল সাফল্য পেয়েছিল, তা থেকেই বোঝা যায় তাঁর আবেদন। টোটা রায়চৌধুরী রকি অউর রানী ছবির শুটিং চলাকালীন ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে সাক্ষাতে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলে উনি বাধা দিয়ে বলেন কখনো কারুর পায়ে হাত দেবে না,হাতজোড় করে নমস্কার করবে।বাঙালি জেনে বলেছিলেন আমাকে তো বাঙালিরাই অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দিল,হৃষিদা ,বিমল রায়,আমার এতো সুন্দরী বাঙালি নায়িকারা। মমতা ছবিতে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে অভিনয় করার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন যা বাংলা ছবি &#8216;উত্তর ফাল্গুনী&#8217;-র হিন্দি রিমেক ছিল।</p>



<p><strong>ধর্মেন্দ্রর লিপে আমাদের পছন্দের ১০টি সেরা গান &#8211;</strong></p>



<figure class="wp-block-embed is-type-video is-provider-youtube wp-block-embed-youtube wp-embed-aspect-16-9 wp-has-aspect-ratio"><div class="wp-block-embed__wrapper">
<iframe title="Yeh Dosti Hum Nahi Todenge | Sholay(1975)| Amitabh Bachchan | Dharmendra | Evergreen Friendship Song" width="640" height="360" src="https://www.youtube.com/embed/1T8G_d5o5Gs?feature=oembed" frameborder="0" allow="accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share" referrerpolicy="strict-origin-when-cross-origin" allowfullscreen></iframe>
</div></figure>



<p>ইয়ে দোস্তি &#8211; শোলে</p>



<p>হুই শাম উন্কা খয়াল আয়া -মেরে হামদম মেরে দোস্ত</p>



<p>ইয়া দিল কি শুনো &#8211; অনুপমা</p>



<figure class="wp-block-embed is-type-video is-provider-youtube wp-block-embed-youtube wp-embed-aspect-16-9 wp-has-aspect-ratio"><div class="wp-block-embed__wrapper">
<iframe title="Blackmail - Pal Pal Dil Ke Paas Tum Rehti Ho - Kishore Kumar" width="640" height="360" src="https://www.youtube.com/embed/AMuRRXCuy-4?start=5&#038;feature=oembed" frameborder="0" allow="accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share" referrerpolicy="strict-origin-when-cross-origin" allowfullscreen></iframe>
</div></figure>



<p>পল পল দিল কে পাস &#8211; ব্ল্যাকমেল</p>



<p>রহে না রহে হাম -মমতা</p>



<p>গর তুম ভুলে না দেনা &#8211; ইয়াকিন</p>



<p>হাম বেওয়াফা &#8211; শালিমার&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আজ মৌসম বড়া বেইমান &#8211; লোফার&nbsp;</p>



<p>ড্রিম গার্ল -ড্রিম গার্ল</p>



<p>তুম পুকারলো -খামোশি&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>তবে ধর্মেন্দ্র সমাজ মাধ্যমে আগেই মারা গিয়েছিলেন,শুধু তৃতীয় শ্রেণীর সমাজ মাধ্যমে লাইক কমেন্ট আর ভিউ বাড়াবার জন্য ওনাকে আগেই মেরে ফেলা হয়েছিল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় বেশ কিছু প্রসিদ্ধ সংবাদ মাধ্যমও এই দুষ্কার্যে সামিল ছিল। </p>



<p>ধর্মেন্দ্রর জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়,পাঞ্জাবের ধুলোবালির সরলতা থেকে মুম্বইয়ের আড়ম্বর, প্রেম থেকে সংগ্রাম, অ্যাকশন থেকে কবিতা। তাঁর প্রতিটি চরিত্রে ছিল মানুষের গন্ধ—হাসির, অশ্রুর, বিশ্বাসের।</p>



<p>তাঁর দর্শন, তাঁর সততা, দীর্ঘকাল ধরে একের পর এক ছবিতে অতুলনীয় অসামান্য অভিনয়,তাঁর সবই রয়ে যাবে আগামীর অভিনেতাদের পথ দেখানোর আলো হয়ে।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/dharmendra-obituary/">নরম গরম ধরম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/dharmendra-obituary/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কালীবাড়ি কথা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 17 Oct 2025 11:35:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali Short stories]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=2044</guid>

					<description><![CDATA[<p>কালীঘাট,দক্ষিণেশ্বর,ঠনঠনিয়া,ফিরিঙ্গি,লেক কালীবাড়ির ইতিহাস ফিরে দেখা।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/">কালীবাড়ি কথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কলকাতা শহরের কালীবাড়ির ইতিহাস।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="736" height="552" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Kalighat-Kali-Temple-Kolkata.jpg" alt="" class="wp-image-2045" style="width:209px;height:157px" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Kalighat-Kali-Temple-Kolkata.jpg 736w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Kalighat-Kali-Temple-Kolkata-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 736px) 100vw, 736px" /></figure>



<p><strong>কালীঘাট মন্দির</strong></p>



<p>কবিকিঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর &#8216;চন্ডীমঙ্গল&#8217; কাব্যে কালীঘাটের উল্লেখ আছে-”বালুঘাটা এড়াইল বেনের নন্দন/ কালীঘাটে গিয়া ডিঙ্গা দিল দরশন।” ক্ষেমানন্দের “মনসার ভাসানে” লেখা হয়েছে-” কালীঘাটে কালীবন্ধ বড়াতে বেতাই।”আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরীতে কালীঘাটের উল্লেখ করা হয়েছে “কালীকোটা” নামে।</p>



<p>একান্ন পিঠের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র।পুরাণমতে দক্ষযজ্ঞে সতীর দেহত্যাগের পর ডান পায়ের আঙ্গুল এখানে পড়েছিল।জনশ্রুতি সন্ন্যাসী ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী কষ্টিপাথরে শিলাখন্ডে দেবীর রূপদান করেন।</p>



<p>১৮০৯ সালে বড়িশার সাবর্ণ জমিদার শিবদাস চৌধুরী ও তার পুত্র ও ভ্রাতুস্পুত্রের উদ্যোগে আদিগঙ্গার তীরে বর্তমান মন্দির নির্মিত হয়। বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশৈলীতে মন্দিরের আয়তন ৮ কাঠা।মা কালির মূর্তির জিভ,দাঁত,মুকুট,হাত,মুণ্ডমালা সোনার। মন্দিরের ভেতরে একটি সিন্দুকে সতীর পাথরের অঙ্গ রক্ষিত আছে।</p>



<p>কালীঘাটের বর্তমান মন্দির তৈরি প্রসঙ্গে বহু ইতিহাস ও জনশ্রুতি রয়েছে।কিছু পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞের মতে&nbsp; জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পুন্য তিথিতে&nbsp; কলকাতার কালীঘাট কালীমন্দিরে সতী অংশের প্রতিষ্ঠা হয় একটি পট্টবস্ত্রের ওপর।</p>



<p>মন্ত্রী,ক্রিকেটার,ফিল্মস্টার সেলেবরা তো বটেই ,ভিনরাজ্যে থেকে আশা ভ্রমণার্থীরা ভিড় জমান এই তীর্থস্থানে।কলকাতায় প্রচুর কালীমন্দির থাকার কারণে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে &#8216;কালী কলকাত্তাওয়ালী&#8217; উপাধি।</p>



<p>কালীপুজোর দিন শাস্ত্রমতে কালীপুজো হয় না, ধনলক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। মা দক্ষিণেশ্বরী এই বিশেষ দিনে পূজিতা হন লক্ষ্মীরূপে।শুধু পূজার আয়োজন নয়, ভোগের আয়োজনও করা হয় লক্ষীপূজোর মতো।পীঠমালা তন্ত্রের শ্লোকটি হল:</p>



<p>যুগাদ্যায়ং মহাদেব দক্ষাঙ্গুষ্ঠং পদোমম/নকুলীশঃ কালীপীঠে দক্ষপদাঙ্গুলি সু চ মে/সর্বসিদ্ধিকারী দেবী কালিকা তত্র দেবতা।।</p>



<p>বঙ্গানুবাদ: &#8220;কালীঘাট মহাশক্তিপীঠ। সকল পীঠস্থানের শ্রেষ্ঠ। কালীপীঠের দেবী মহাশক্তিস্বরূপিণী কালী। আর পীঠরক্ষক হলেন ভৈরব নকুলেশ্বর। এখানে পুজো দিলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। কালীঘাটের দেবী কালিকা সর্বসিদ্ধিকারী।&#8221;</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="768" height="453" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Goddess-Kali-Dakshineswar.jpg" alt="" class="wp-image-2046" style="width:210px;height:123px" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Goddess-Kali-Dakshineswar.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Goddess-Kali-Dakshineswar-300x177.jpg 300w" sizes="(max-width: 768px) 100vw, 768px" /></figure>



<p><strong>দক্ষিণেশ্বর মন্দির</strong></p>



<p>শ্রীরামকৃষ্ণ আর দক্ষিণেশ্বর মন্দির একে অপরকে জড়িয়ে আছে।১৮৫৫ সালে ৩১ মে প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিনে এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।মা কালীকে এখানে &#8216;ভবতারিণী&#8217; রূপে পুজো করা হয়।</p>



<p>১৮৪৭ সালে ৪৪ বছরে রানী রাসমণি বিধবা হলে কাশীতে তীর্থযাত্রার আয়োজনকালে মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান।দেবী তাকে বলেন, “কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই। গঙ্গাতীরেই একটি নয়নাভিরাম মন্দিরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা কর। সেই মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েই আমি পূজা গ্রহণ করব।&#8221;আটবছর ধরে সেই সময়ে ৯ লক্ষ টাকায় তৈরী হয় এই মন্দির।</p>



<p>রামকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রধান পুরোহিত হিসেবে ব্রত হন আর তার সঙ্গে আসেন কিশোর শ্রী রামকৃষ্ণ। ১৮৫৭-৫৮ সালে কিশোর রামকৃষ্ণ পরমহংস মন্দিরের পুজোর ভার গ্রহণ করেন। বাকিটা ইতিহাস।শ্রীরামকৃষ্ণ উনিশ শতকের মানুষকে শেখালেন ঈশ্বরকে মানুষের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়।</p>



<p>মন্দির নবরত্ন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।এখানে কালীমন্দির ছাড়াও দ্বাদশ শিব মন্দির আর রাধাকৃষ্ণ মন্দির অবস্থিত।মা ভবতারিণীর কষ্টিপাথরের বিগ্রহ তৈরী করেছিলেন কাটোয়ার দাঁইহাটের নবীন ভাস্কর। ১০০০ রৌপ্য পদ্মের ওপ র শায়িত মহাদেবের ওপর দণ্ডায়মান মা ভবতারিণী। শতাব্দীপ্রাচীন এই নবরত্ন মন্দিরের আকর্ষণ আজও একই রকম রয়ে গিয়েছে।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="225" height="225" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Thanthania-image-3.jpg" alt="" class="wp-image-2047" style="width:209px;height:209px" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Thanthania-image-3.jpg 225w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Thanthania-image-3-150x150.jpg 150w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Thanthania-image-3-50x50.jpg 50w" sizes="(max-width: 225px) 100vw, 225px" /></figure>



<p><strong>ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি</strong></p>



<p>এই অঞ্চলের এমন আশ্চর্য ঠনঠনিয়া নামের পেছনে জনশ্রুতি হল প্রাচীন কালে এই অঞ্চল ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল আর এখানে ভীষণ ডাকাতি হত বলে এই অঞ্চলে একটি ঘন্টা লাগানো হয়েছিল এবং ডাকাতি হলেই সেটা ঠং ঠং আওয়াজ করে বেজে উঠত সেই থেকে এই অঞ্চলের নাম ঠনঠনিয়া।</p>



<p>বিধান সরণিতে কলেজ স্ট্রিটের কাছে ঠনঠনিয়া কালী মন্দির জনশ্রুতি অনুসারে ১৭০৩ সালে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নাম এক তান্ত্রিক মাটি দিয়ে সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি নির্মাণ করেন।১৮০৬ সালে শ্রী ধনী শঙ্কর ঘোষ এখনকার কালীমন্দির আর পুষ্পেস্বর শিবের আটচালা মন্দির নির্মাণ করেন আর পূজার ভার নেন। এখানে প্রতি বছর মায়ের মূর্তির সংস্কার করা হয়।সিদ্ধেশ্বরী মূর্তিটি মাটির আর প্রতিবছর লাল আর কালো রঙে সাজানো হয়।মা কালীর একটা ছোট মূর্তি আছে যা প্রতিবছর পুনঃনির্মাণ করা হয়।বিগ্রহের পাশে শ্রী রামকৃষ্ণের দন্ডায়মান ছবি আছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে এই মন্দিরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। যখন ঠাকুর ঝামাপুকুরে থাকতেন তখন এই মন্দিরে এসে মা কে গান শোনাতেন।পরবর্তীকালে দক্ষিণেশ্বরে থাকাকালীন ও এই মন্দিরে আসতেন আর পুজো দিতেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="576" height="768" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Firingi-Kalibari.jpeg" alt="" class="wp-image-2048" style="width:210px;height:279px" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Firingi-Kalibari.jpeg 576w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/Firingi-Kalibari-225x300.jpeg 225w" sizes="(max-width: 576px) 100vw, 576px" /></figure>



<p><strong>ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি</strong>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>এখানে দেবী &#8220;শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরানি&#8221; নামে পূজিত হন। দীনেশ চন্দ্র সেন লিখিত “হিষ্ট্রি অফ বেঙ্গলি লিটারেচার” থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সে সময় এই মন্দিরের দেখাশোনা করতেন এক অল্প বয়স্ক বিধবা প্রমীলাদেবী। পর্তুগিজ &#8216;ফিরিঙ্গি&#8217; অ্যান্টনি কবিয়াল এই মন্দিরে আশা যাওয়ার কালে ওনার প্রেমে পড়ে প্রণয়াবদ্ধ হন আর তারপর লোকমুখে এই মন্দির &#8216;ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি&#8217; নামে পরিচিত হয়। তবে কিছু ঐতিহাসিকের মতে এই তথ্য সঠিক নয় কারণ এই কালীবাড়ির সঙ্গে&nbsp; অ্যান্টনি কবিয়ালের যোগসূত্রের অকাট্য প্রমাণ নেই।ফিরিঙ্গি কালীবাড়ির সঠিক প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভিন্নমত আছে।মন্দিরের সামনের দেওয়াল ফলকে লেখা আছে, &#8220;ওঁ শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী কালীমাতা ঠাকুরাণী।স্থাপিত ৯০৫ সাল, ফিরিঙ্গী কালী মন্দির&#8221;। এর থেকে অনুমান করা হয়, মন্দিরটি ৯০৫ বঙ্গাব্দে স্থাপিত হয়েছিল।প্রথমে এটি শিব মন্দির ছিল।১৮২০-১৮৮০ পর্যন্ত শ্ৰীমন্ত পন্ডিত এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি চাঁদনী স্থাপত্যে গড়া মন্দির।</p>



<p>মন্দিরের কালীমূর্তিটি মাটির তৈরি। এটি প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা সবসনা ত্রিনয়না মূর্তি। কালীমূর্তি ছাড়াও মন্দিরে আছে শীতলা,মনসা,দুর্গা,শিব ও নারায়ণের মূর্তি।মন্দিরে প্রতি অমাবস্যায় কালীপূজা ও প্রতি পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ পূজা হয়।&nbsp;</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="365" height="138" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/download-2.jpg" alt="" class="wp-image-2049" style="width:203px;height:77px" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/download-2.jpg 365w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/11/download-2-300x113.jpg 300w" sizes="(max-width: 365px) 100vw, 365px" /></figure>



<p><strong>লেক কালীবাড়ি</strong></p>



<p>আগের নাম ছিল &#8216;শ্রী করুণাময়ী কালীমাতা মন্দির&#8217;। সাদার্ন অ্যাভিনিউতে লেকের পাশে বলে &nbsp;লোকমুখে লেক কালীবাড়ি নাম হয়েছে। ১৯৪৯ সালে তন্ত্রসাধক শ্রী হরিপদ চক্রবর্তী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন।মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মূর্তির নাম &#8216;করুণাময়ী কালী&#8217; যিনি দক্ষিণা কালী রূপে পূজিত।সম্প্রতি এখানে দেবী ধূমাবতীর মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>মন্দিরের বয়েস বেশিদিন না হলেও এই কালীবাড়ির বিপুল জনপ্রিয়তা ও কিছু মাহাত্ম্য নিয়ে কিছু জনশ্রুতি আছে তন্ত্রসাধক হরিপদ চক্রবর্তী অধিকাংশ সময়ে সাধন ভজনের মধ্যে থাকতেন ,আশে পাশের লোকজন তাকে গুরুদেব বলত।তার সাধনায় খুশি হয়ে মা কালী তাকে দর্শন দিয়েছিলেন আর উনি মানবজাতির শান্তিকামনার জন্য তন্ত্রসাধনা করে একটি পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করেন যা পাঁচটি নরমুণ্ড দিয়ে তৈরী করা হয়েছিল।কালীমূর্তির পাশে এখনও এই আসন রাখা আছে।</p>



<p>এখানে উল্লেখ্য এই মন্দির কোনও ধনীর আনুকূল্যে নয় ভক্তরাই এই মন্দির চালান।প্রতি শনিবার ১৫ মিনিট অন্তর অঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।পুজোর সময় এখানে সাজ বদল হয় দেবীর। কখনও সোনার,কখনও ফুলের সাজে সেজে ওঠে মায়ের মূর্তি।</p>



<p>তথ্যসূত্র: পশ্চিমবঙ্গের কালী ও কালীক্ষেত্র- দীপ্তিময় রায়, এসেন্সিয়াল হিন্দুইজম অ্যান্ড জার্নাল অফ বৈষ্ণব স্টাডিস -স্টিভেন.জে. রোসেন। হিষ্ট্রি অফ বেঙ্গলি লিটারেচার- দীনেশ চন্দ্র সেন। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>&nbsp;&nbsp;</p>



<p></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/">কালীবাড়ি কথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভাইফোঁটার গল্প জানেন?</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 17 Oct 2025 11:00:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=2064</guid>

					<description><![CDATA[<p>শ্রীকৃষ্ণ-সুভদ্রা,যম-যমুনা,মা লক্ষ্মী- বলিরাজা, নন্দীবর্ধন-অনুসুয়া ,মা কালীর ভাইফোঁটা…</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a8/">ভাইফোঁটার গল্প জানেন?</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>হিন্দু পুরাণমতে নরকাসুর রাক্ষসবধের পর শ্রীকৃষ্ণ বোন সুভদ্রার কাছে গেলে সুভদ্রা তাঁকে মিষ্টি,ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর কপালে টিকা পরিয়ে দেন যা থেকে ভাইফোঁটার শুরু।</p>



<p>পূরাণে আরও আছে সূর্যদেবের দুই পুত্র মনু আর যম।কন্যা যমুনা।বিয়ের আগে ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাদের মঙ্গলকামনা করেছিল যমুনা।সেই থেকে ভাইফোঁটার প্রচলন।</p>



<p>যমের হাত থেকে ভাইদের মঙ্গলকামনায় ফোঁটা দেয় বোনেরা।</p>



<p>‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যম দুয়ারে পড়ল কাঁটা।যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা’।</p>



<p>&#8216;আরও একটি পৌরাণিক কাহিনী আছে ভাইফোঁটা নিয়ে। পাতালে বলিরাজার কাছে বন্দি হন স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু।দেবতারা যখন কোনও উপায়ে তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে পারছেন না তখন নিরুপায় হয়ে তাঁরা মা লক্ষীর শরণাপন্ন হন।মা লক্ষী তখন বলিরাজাকে ভাই ডেকে ভাইফোঁটা দিয়ে উপহার হিসেবে শ্রীবিষ্ণুর মুক্তি চান।</p>



<p>আবার চতুর্দশ শতাব্দীতে দীপোৎসবকল্পের কথা পাওয়া যায়।সর্বানন্দসুরী নামে এক আচার্যের তালপাতার পুঁথি থেকে জানা যায় জৈন ধর্মের মহাপ্রচারক মহাবীরের প্রয়াণের পর তার সঙ্গী <strong>রাজা নন্দীবর্ধন দুঃখে ভেঙে পড়ে আহার নিদ্রা ত্যাগ করেন।</strong> কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে তার বোন অনুসূয়া তাঁকে নিজের বাড়িতে এনে রাজতিলক পরিয়ে খাবার খাইয়ে দেন যা থেকে ভাইফোঁটা প্রথা শুরু হয়।</p>



<p><strong>মা কালীর কাছে ভাইফোঁটা</strong></p>



<p>কাটোয়া থানা বেড়া গ্রামে সাধক রামানন্দ প্রতিষ্ঠিত <strong>সিদ্ধেশ্বরী কালী ভাইফোঁটার দিন ফোঁটা দিয়ে নিরঞ্জিত হওয়ার প্রথা আছে।</strong>তেমনি মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানার ডাঙ্গা পাড়ার <strong>শ্মশান কালীর কাছে সেবাইতরা ফোঁটা নিয়ে তারপর বোনের কাছে ফোঁটা নেন।</strong>মায়ের বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে চন্দন লাগিয়ে বয়ঃজ্যেষ্ঠ সেবাইত মায়ের আঙ্গুল কপালে তিনবার ছুঁয়ে নেন আর মায়ের ডান &nbsp;হাতে ধান দূর্বা দিয়ে মাথায় ফেলে নেন,তারপর মায়ের হাতে পৈতে,পান,সুপারি,মিষ্টি রেখে প্রসাদ হিসেবে নেওয়া হয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>বাংলার বাইরেও সারা দেশ জুড়েই পালন করা হয় ভাইফোঁটা। নেপালে তার নাম ‘ভাইটিকা’, উত্তর ভারতে &nbsp;‘ভাইদুজ’, মৈথেলি আর বিহারে ‘ভারদুতিয়া’ মারাথি,গুজরাটি,কোঙ্কণীতে ‘ভাই বিছিয়া’। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, গোয়ায় চালের গুঁড়ো দিয়ে আলপনা দেওয়া হয়, যাকে চৌকনা, চতুর্কোন, চোকনা বা চুকনা বলা হয়।</p>



<p>দু বছর করোনাকালে ভাইফোঁটা দেওয়া ও নেওয়ায় প্রচুর অসুবিধে ,অনেকে ভার্চুয়াল ফোঁটায় প্রথা সারার ,যাতায়াতেরও অসুবিধে পেরিয়ে এবারে সশরীরে ফোঁটা দেওয়া নেওয়া    গিফ্ট দেওয়া নেওয়া আর মিষ্টিমুখ,খাওয়াদাওয়া চলবে যার মাধুর্য অমলিন ও চিরকালীন। &nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a8/">ভাইফোঁটার গল্প জানেন?</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
