<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Rochona -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/category/bongodarpan/rochona/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sat, 11 Jul 2026 07:11:46 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Rochona -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মাহেশের রথযাত্রা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Jul 2026 07:11:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10937</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাংলার প্রায় ৬৩০ বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/">মাহেশের রথযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>যে রথের দড়িতে টান দিয়েছেন সাধক, জমিদার, সাধারণ মানুষ-আর সময় নিজেই।</p>



<p>বাংলায় রথ মানেই অনেকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ। বর্ষার আকাশ, মাটির গন্ধ, মেলার কোলাহল আর হাজার হাজার মানুষের &#8220;জয় জগন্নাথ&#8221; ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। কিন্তু মাহেশের রথযাত্রা শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়-এটি বাংলার প্রায় ৬৩০ বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।</p>



<p>অনেকেই জানেন না, ওড়িশার পুরীর পর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা এবং বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এই মাহেশেই। এর সূচনা ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে বলে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত।</p>



<p>মাহেশের রথযাত্রার জন্মকাহিনি ইতিহাস আর লোকবিশ্বাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।</p>



<p>প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বৈষ্ণব সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে গিয়ে শ্রীজগন্নাথদেবের সেবা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তিনি সেই সুযোগ পাননি। গভীর দুঃখে তিনি গঙ্গার তীরে ফিরে আসেন।সেই সময় এক রাতে তিনি স্বপ্নে জগন্নাথদেবের দর্শন পান।</p>



<p>ভগবান তাঁকে নির্দেশ দেন- &#8220;পুরীতে নয়, গঙ্গার তীরে মাহেশে আমার প্রতিষ্ঠা করো। সেখানেই আমি পূজিত হতে চাই।&#8221;</p>



<p>পরদিন ভোরে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী গঙ্গার জলে ভেসে আসা একটি পবিত্র নিমকাঠ পান। সেই কাঠ দিয়েই নির্মিত হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ।এই কাহিনি আজও মাহেশের মানুষের বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>



<p>আবার অন্য একটি প্রচলিত কাহিনী হল&nbsp; চতুর্দশ শতাব্দীতে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী তীর্থযাত্রায়&nbsp; পুরীতে এসে মনস্থির করলেন তিনি নিজের হাতে রেঁধে প্রভু জগন্নাথকে ভোগ খাওয়াবেন কিন্তু মন্দিরের পান্ডাদের আপত্তিতে সেই ভোগ খাওয়ানো হলো না।আশাহত ধ্রুবানন্দ আমরণ অনশনে বসায় ভক্তের ভক্তিতে প্রভু জগন্নাথ তাঁকে আদেশ করলেন যে বঙ্গদেশে মাহেশে&nbsp; ফিরে যেতে উনি দারুব্রহ্ম পাঠিয়ে দেবেন সেই কাঠে ওনার, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি গড়ে পুজো করতে।কথিত আছে ৬২১বছর&nbsp; আগের সেই বিগ্রহ আজও পূজিত হচ্ছে ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর পর তাঁর শিষ্য কমলাকর পিপলাই, যিনি বৈষ্ণব পরম্পরায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, মাহেশে জগন্নাথের পূজা ও রথযাত্রাকে সুসংগঠিত করেন। অনেক ঐতিহাসিক সূত্র তাঁকেই মাহেশের রথযাত্রার প্রাতিষ্ঠানিক রূপদাতা হিসেবে উল্লেখ করে।</p>



<p>শ্রীচৈতন্যের পদধূলিতে &#8216;নব নীলাচল&#8217;</p>



<p>মাহেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলির একটি জড়িয়ে আছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-র সঙ্গে।কথিত আছে, পুরী যাওয়ার পথে তিনি মাহেশে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন করেন। সেই দর্শনে তিনি এতটাই ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন যে দীর্ঘ সময় সমাধিস্থ অবস্থায় ছিলেন।এরপর থেকেই মাহেশকে অনেকে বলতে শুরু করেন &#8220;নব নীলাচল&#8221;অর্থাৎ, বাংলার পুরী।</p>



<p>মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শেওড়াফুলির রাজপরিবার।রাজা মনোহর রায় মন্দির নির্মাণ ও বিস্তীর্ণ জমি দান করেন। পরে বিভিন্ন জমিদার ও ধনী পরিবার রথ, মন্দির ও উৎসবের রক্ষণাবেক্ষণে অর্থসাহায্য করেন।১৮৫৫ সালে ধনাঢ্য দাতা নয়নচাঁদ মল্লিক মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র নিমাইচরণ মল্লিক কাজ সম্পূর্ণ করেন এবং পূজার আয়োজন নতুনভাবে শুরু হয়।</p>



<p>রবীন্দ্রনাথও লিখেছেন মাহেশের রথ নিয়ে।বাংলা সাহিত্যে মাহেশের রথযাত্রার বিশেষ স্থান রয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প রথের রশি-তে রথের দড়িকে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের মিলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন। যদিও গল্পটি সরাসরি মাহেশকে কেন্দ্র করে নয়, তবু বাংলার রথসংস্কৃতির পটভূমিতে মাহেশের ঐতিহ্য সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।</p>



<p>বর্তমান লোহার রথ—এক প্রকৌশল বিস্ময়।আজ যে বিশাল রথটি দেখা যায়, সেটি কিন্তু প্রথম রথ নয়।১৮৮৫ সালে তৎকালীন খ্যাতনামা প্রকৌশল সংস্থা মার্টিন বার্ন&nbsp;&nbsp; এই রথটি নির্মাণ করে।</p>



<p>রথটির বৈশিষ্ট্য- প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা,ওজন প্রায় ১২৫ টন,১২টি বিশাল লোহার চাকা</p>



<p>নবরত্ন মন্দিরের আদলে নির্মিত,সামনের অংশে তামার ঘোড়া ও রাজহাঁসের অলংকরণ।দুটি বিশাল ম্যানিলা দড়ি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে টান দেন।</p>



<p>ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্থায়ী লোহার রথ হিসেবে এটি পরিচিত।</p>



<p>মাহেশে জগন্নাথদেব রথে চড়ে যান গুন্ডিচা বাড়ি, যাকে স্থানীয়ভাবে অনেকে &#8220;মাসির বাড়ি&#8221; বলেন। কয়েক দিন সেখানে অবস্থানের পর উল্টো রথে আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই যাত্রাকে ভক্তরা ঈশ্বরের &#8220;ঘর থেকে ঘরে&#8221; যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেন।</p>



<p>প্রযুক্তির যুগেও মাহেশের রথযাত্রার আবেদন কমেনি। প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ মানুষ এই উৎসবে যোগ দেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, মেলা, পারিবারিক স্মৃতি এবং বাংলার নিজস্ব উৎসব-পরম্পরার টানই তাঁদের বারবার এখানে ফিরিয়ে আনে।</p>



<p>শেষকথা</p>



<p>মাহেশের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, বৈষ্ণব ভক্তি, লোকসংস্কৃতি, স্থাপত্য, প্রকৌশল এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উত্তরাধিকার। ছয় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই রথের দড়িতে একসঙ্গে হাত রেখেছেন রাজা ও প্রজা, সাধু ও সাধারণ মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধ। সেই দড়ি যেন আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ঐতিহ্য তখনই বেঁচে থাকে, যখন একটি সমাজ তাকে ভালোবাসে, বহন করে এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/">মাহেশের রথযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অন্য বিশ্বকাপ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Jul 2026 07:07:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[world cup football]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10932</guid>

					<description><![CDATA[<p>ট্রফির বাইরে আরও কিছু গল্প।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/">অন্য বিশ্বকাপ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ট্রফির বাইরে আরও কিছু গল্প, যা ২০২৬ বিশ্বকাপকে করে তুলেছে অন্যরকম।</p>



<p>বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু মেসি, এমবাপে, বেলিংহ্যাম বা ভিনিসিয়ুসদের গোল? শুধু কে চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই হিসেব? একেবারেই নয়। প্রতি বিশ্বকাপেই সমান্তরালভাবে জন্ম নেয় আর-একটি বিশ্বকাপ &#8211; ছোট দেশের স্বপ্ন, অচেনা ফুটবলারের উত্থান, অবিশ্বাস্য রূপকথা আর এমন সব মুহূর্ত, যা পরিসংখ্যানের বাইরেও বছরের পর বছর মনে থেকে যায়।</p>



<p>২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। ৪৮ দলের এই প্রথম বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর পাশাপাশি আলো কেড়েছে এমন কয়েকটি দেশ, যাদের নাম হয়তো অনেক ফুটবলপ্রেমীও আগে খুব একটা শোনেননি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই ‘অন্য বিশ্বকাপ’-এর কিছু গল্প।</p>



<p>প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৩০)</p>



<p>প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। আজকের মতো দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্ব তখন ছিল না। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দেশ। কারণ, ইউরোপের বেশিরভাগ দলই সেই সময় আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে জাহাজে দীর্ঘ সফর করে উরুগুয়ে যেতে অনিচ্ছুক ছিল।ফাইনালে আয়োজক উরুগুয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে। তবে সেই ম্যাচের একটি মজার ঘটনা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয়। দুই দলই নিজেদের দেশের বল দিয়ে খেলার দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত আপসের পথ বের হয়—প্রথমার্ধে খেলা হয় আর্জেন্টিনার বল দিয়ে, আর দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে! এই অভিনব সমাধানই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় উপাখ্যান হয়ে রয়েছে।</p>



<p>আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে&nbsp; এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫ লক্ষ, অথচ প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ড্র করে নক-আউটে পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াইয়ে আটকে রেখে বিদায় নেয়। বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা একে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথাগুলির একটি বলছেন।</p>



<p>কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার বয়স ৪০। আধুনিক ফুটবলে যেখানে অনেকেই এই বয়সে অবসর নেন, সেখানে তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই প্রশংসিত হয় যে ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসি নিজে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।এবং পরম আশ্চর্যের কথা ওদের এই বিশ্বকাপ টিম তৈরি হয়েছে লিঙ্কড ইনের পোস্টের মাধ্যমে যেখানে উৎসাহী প্লেয়ারদের খোঁজ করা হয়েছিল।</p>



<p>কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রাজধানী প্রাইয়ার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে। বিমানবন্দর থেকে শহরজুড়ে বিজয়মিছিল হয়, যদিও দলটি ট্রফি জেতেনি। কারণ, ছোট্ট দেশের কাছে বিশ্বমঞ্চে সম্মানের সঙ্গে লড়াই করাটাই ছিল প্রকৃত জয়। স্বাধীনতা দিবসের আবহে সেই উদ্‌যাপন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।</p>



<p>&nbsp;কুরাসাও বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বিশ্বকাপ-খেলুড়ে দেশ। ক্যারিবিয়ান&nbsp; দ্বীপ কুরাসাও-এর জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষের কিছু বেশি। অথচ তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছে। আয়তন ও জনসংখ্যা-দুই দিক থেকেই বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশ এখন কুরাসাও। কয়েক বছর আগেও এই দেশের অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপের ছোট লিগে খেলতেন। আজ তারা বিশ্বমঞ্চে।</p>



<p>২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলছে চারটি দেশ &#8211; কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। এই চার দেশের জন্য বিশ্বকাপে ওঠাই যেন ট্রফি জয়ের সমান আনন্দ। বিশ্বকাপের বিস্তার যে নতুন ফুটবল শক্তিকে সামনে এনে দিয়েছে, তারই প্রমাণ এই চার দেশ।</p>



<p>এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮টি দল। নতুন ফরম্যাটে নক-আউটে ওঠার সুযোগও বেড়েছে। ফলে আফ্রিকা, এশিয়া ও কনকাকাফ অঞ্চলের বহু দেশ প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাদ পেল। সমালোচনা থাকলেও এই পরিবর্তন যে বিশ্ব ফুটবলে নতুন গল্প লিখছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।</p>



<p>ইতালি নেই, কিন্তু নতুনরা আছে।চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডন ও উজবেকিস্তানের মতো নতুন দেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। ফুটবলের শক্তির ভারসাম্য যে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে, এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।</p>



<p>বিশ্বকাপে এবার সাপ নিয়েও কম আলোচনা হয়নি!</p>



<p>এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফুটবলের পাশাপাশি অদ্ভুতভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে সাপের গল্প। সবকিছুর শুরু সুইজারল্যান্ড শিবির থেকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের অনুশীলন কেন্দ্রে নাকি প্রচুর সাপ রয়েছে—এমন একটি গল্প তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েছিল। পরে জানা যায়, এটি ছিল সুইস সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে করা তাদের এক মজার ‘ইনসাইড জোক’। তবে যে সান দিয়েগো জিউইশ অ্যাকাডেমি নিজেদের অনুশীলন মাঠ সুইস দলের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল, তারা এই মজায় মোটেই খুশি হয়নি।</p>



<p>অন্যদিকে জার্মানি শিবিরে কিন্তু সত্যিই দেখা মিলেছিল একটি বিষধর সাপের। উত্তর ক্যারোলিনায় দলের অনুশীলন কেন্দ্রে সেই সাপ দেখা যাওয়ার কথা জানান অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ। তাঁর কথায়, &#8220;গতকাল আমরা একটি সাপ দেখেছিলাম। পরে আমাদের জানানো হয়, সেটি বিষধর। যদি কামড়ায়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে। হয়তো মারা যাবেন না, কিন্তু বিষয়টি যথেষ্ট বিপজ্জনক।&#8221;</p>



<p>শুধু স্টেডিয়াম নয়, উৎসব এখন শহরের অলিগলিতেও</p>



<p>বিশ্বকাপের সাফল্য শুধু স্টেডিয়ামের দর্শকসংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না; তার আসল স্পন্দন ধরা পড়ে শহরের রাস্তায়। আর এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর রাস্তাঘাট যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ। যে শহরগুলোর ব্যস্ত রাস্তা সাধারণত যানজট, কর্মব্যস্ততা আর তাড়াহুড়োর জন্য পরিচিত, বিশ্বকাপের আবহে সেগুলিই রূপ নিয়েছে রঙিন, প্রাণবন্ত উৎসবের মেলায়।জার্সি গায়ে হাজার হাজার সমর্থক, বিভিন্ন দেশের পতাকা, গান, নাচ আর উচ্ছ্বাসে শহরের অলিগলি যেন এক বিশাল কার্নিভালে পরিণত হয়েছে। ফিফার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার আগেই তিন আয়োজক দেশের ফ্যান ফেস্টিভ্যালগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২০ লক্ষ (২ মিলিয়ন)-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের বাইরে এই জনসমুদ্রই যেন প্রমাণ করে বিশ্বকাপ আসলে শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্বের নানা সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলা।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/">অন্য বিশ্বকাপ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 12:05:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10685</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু শহরেই নয়, এই পরিবর্তন এখন শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলেও দৃশ্যমান।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/">শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাঙালি পরিবারে শাশুড়ি-বৌমা সম্পর্ক ছিল ক্ষমতার এক নিঃশব্দ লড়াইয়ের নাম। বিয়ের পর নতুন বৌয়ের কাছে শ্বশুরবাড়ি মানেই ছিল এক অচেনা পৃথিবী-যেখানে নিজের মতামতের জায়গা খুব কম, আর মানিয়ে নেওয়ার চাপ ছিল অসীম। পণপ্রথা এই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলত। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে এখনও প্রতিবছর প্রায় ৬,০০০–৭,০০০ পণ-সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়, দেখায় সমস্যাটি আজও কতটা গভীরে প্রোথিত।</p>



<p>সেকালে সংসারের নিয়ন্ত্রণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে শাশুড়ির হাতে থাকত। নতুন বৌয়ের শিক্ষা, রুচি বা ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে তাকে “এই বাড়ির নিয়মে” গড়ে তোলার প্রবণতা ছিল প্রবল। রান্নাঘর ছিল সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু-যেখানে ভুল মানেই অপমান, আর প্রতিবাদ মানেই “অশিক্ষা”র তকমা। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক চাপ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এমনকি শারীরিক নির্যাতনও এই সম্পর্কের অংশ হয়ে উঠত।</p>



<p>তবে এই দ্বন্দ্বের পেছনে শুধু কঠোরতা নয়, ছিল সামাজিক কাঠামোর প্রভাবও। বহু শাশুড়ি নিজের জীবনে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, ফলে সেটাই হয়ে উঠেছিল “স্বাভাবিক”। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা যারা শিক্ষিত, অনেক ক্ষেত্রে কর্মজীবী ,তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান নিয়ে বেশি সচেতন। এই দুই প্রজন্মের মানসিকতার সংঘর্ষেই তৈরি হত দূরত্ব, এখনও হয়।</p>



<p>টেলিকম চাকরিজীবী নিমিশা কদম বিয়ে করেছিল প্রসূন কদমকে । বিয়ের আগে বেশ কিছুবার নিমিশা হবু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁদের শ্বশুর শাশুড়ি এ বাকিদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা আর স্নেহ ভালোবাসা পেয়ে আগামী বিবাহিত জীবন সুখের আর&nbsp; শান্তির হবে ভেবে আনন্দিত ছিল কিন্তু বিয়ের ৩মাস যেতে না যেতেই শুনতে হল ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরা যাবেনা শুধু ভারতীয় পোশাক পরতে&nbsp; হবে নিমিশা রান্না করতে ভালোবাসে কিন্তু শুনতে হল রান্না করা যাবে না , ফলস্বরূপ তাদের আলাদা বাড়ি নিতে হয়। শাদি ডট কমের রিসার্চ পোলের তথ্য অনুযায়ী এখন ৬৪.১% বিয়ে করার প্রাথমিক শর্ত তারা আলাদা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি হিসেবে থাকবেন।</p>



<p>কিন্তু গত এক-দুই দশকে অন্য একটা ছবিটা কিছুটা অন্তত বদলাতে শুরু করেছে। যৌথ পরিবারের বদলে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির বৃদ্ধি, নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা, এবং শিক্ষার প্রসার ,সব মিলিয়ে সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। এখন অনেক পরিবারেই শাশুড়ি-বৌমা সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সহযোগিতার জায়গায় দাঁড়িয়েছে।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় নিপুণভাবে এক ছবি এঁকেছিলেন নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্প অবলম্বনে মহানগর &nbsp;ছবিতে যেখানে পুত্রবধূ আরতির চাকরি করা প্রথমে দুজনকে বেরোনোর আগে একসঙ্গে খেতে দেওয়ার সময় উনুনের সামনে চোখের জল মোছা আর পরে কাজে বেরোবার আগে দৃশ্য যেখানে আরতি বলছে &#8216;মাছের&nbsp; দরকার নেই মা &#8216; আর কড়াই থেকে মাছের মাথা তুলে বেড়ে দিতে দিতে &#8216;এই তো হয়ে গেছে মা &#8216; দৃশ্য এক অন্য শাশুড়ি বৌমার কথা বলে ।</p>



<p>শুধু শহরেই নয়, এই পরিবর্তন এখন শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলেও দৃশ্যমান। অর্থনৈতিকভাবে নিম্নবিত্ত পরিবারেও কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং পারস্পরিক নির্ভরতা, সম্পর্ককে অনেক বেশি বাস্তব ও সহযোগিতামূলক করে তুলছে। একসঙ্গে বাজার করা, সন্তান লালনপালনে সাহায্য করা, এমনকি ছোটখাটো ঘুরতে যাওয়া সবই এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ছবি।</p>



<p>তবে এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে সমস্যা পুরোপুরি মিটে যায়নি। এখনও পণপ্রথা, মানসিক নির্যাতন বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের খবর নিয়মিত সামনে আসে। সমাজের একাংশে এখনও পুরনো মানসিকতা দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে।</p>



<p>তবুও আশার কথা হল এই সম্পর্কের ভাষা বদলাচ্ছে। আজকের শাশুড়ি বুঝতে শিখছেন, নতুন বৌ শুধু একজন “দায়িত্ব” নয়, সে-ও একজন স্বপ্ন ও আবেগ নিয়ে আসা মানুষ। আর বৌমারাও বুঝছেন, শাশুড়ি শুধুই কর্তৃত্বের প্রতীক নন, তিনিও একজন অভিজ্ঞ, সংগ্রামী নারী।</p>



<p>সেকালের শাসন আর একালের বন্ধুত্ব ,এই দুইয়ের মাঝখানে তৈরি হচ্ছে এক নতুন সেতু। যেখানে শাশুড়ি-বৌমা আর প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং সহযাত্রী। এই পরিবর্তন শুধু একটি সম্পর্কের নয়, বরং একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনের দিশা দেখাচ্ছে।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/05/ChatGPT-Image-May-6-2026-06_18_33-PM-1024x768.png" alt="" class="wp-image-10688" style="aspect-ratio:1.3333333333333333;width:521px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">শাশুড়ি ও জা&#8217; এর সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে জুন চক্রবর্তী</figcaption></figure>



<p>মধ্যবয়সী জুন চক্রবর্তীর কথায় ,&#8217; আমি যে ৯০ এর দশকে&nbsp; বৌমা হয়ে এসেছি সেই সময়ে উত্তর কলকাতার&nbsp; বনেদি&nbsp; বাঙালি বাড়ির অনুশাসন ছিল। স্বাভাবিক ভাবে মনে ভয় আর সংকোচও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমার শাশুড়ি মা আমাদের দুই পুত্রবধূর বন্ধুর মতো। আমাদের বললাম কারণ আমার একটি ছোট জা ও আছে। আমরা একসঙ্গে সিনেমা, নাটক&nbsp; দেখা , শপিং করা&nbsp;ছাড়াও এখন মাঝে মাঝে আমরা একসঙ্গে ডে আউটিং এও বেরিয়ে পড়ি । গল্প হাসি ঠাট্টা মান অভিমান আগের থেকে অনেক সহজ &#8211; সাবলীল হয়ে গেছে । তবে এখন দেখছি এই প্রজন্মে&nbsp; আমার বেশ কিছু বন্ধু যারা এখন শাশুড়ি হচ্ছেন তারা&nbsp; তাদের বৌমাদের সঙ্গে প্রথম থেকেই বেশ আন্তরিক এখানে উল্লেখ করা দরকার প্রায় কেউই একসঙ্গে থাকেন না। তাই বোধহয়&nbsp; সেই আগেকার ভীতি, রীতিনীতির অন্তরাল অদৃশ্য হয়ে সম্পর্ক বেশ সহজ হয়ে গেছে যদিও এখনও কিছু ব্যতিক্রম রয়ে গেছে কিন্তু সেটা সব ক্ষেত্রেই থেকে থাকে ।&#8217;</p>



<p>গড়িয়া নিবাসী কেয়া দত্তর কথায়,&#8217; আমার পরিবারে অভাব ছিল একটি মেয়ের। ছেলের বিয়ে দেবার পর সে অভাব মিটল , বাড়িতে এল আমাদের বৌমা। সংসারটি এতদিনে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল বাড়ির আবহাওয়া জমজমাট হয়ে উঠল হাসি গল্প আড্ডায়। বৌমা ভারী মিশুকে, অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যকে আপন করে নিতে পারার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে এবং অল্প দিনের মধ্যে আমাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠল। ওকে শাড়ি পরতে, রান্না করতে শিখিয়েছি কিন্তু এখন ও আমায় রান্নায় ১০ গোল দিয়ে দেবে এত ভালো রান্নার হাত ওর। এতদিন ছেলের পোশাক কিনেছি , এখন মনের সাধ মিটিয়ে শাড়ি আর অন্যান্য ড্রেস কিনতে ভালো লাগে আর এই ভালোবাসার টানেই এখন আমাদের সম্পর্ক শাশুড়ি বৌমা থেকে মা মেয়ের সম্পর্কে এসে দাঁড়িয়েছে। শাড়ি -গয়না থেকে রণবীর-দীপিকা থেকে সব বিষয় নিয়ে আর পিএনপিসিতে আমাদের দারুণ আড্ডা জমি ওঠে। আসল কথা হল সংসারে শাশুড়ি &#8211; বৌমার অবস্থান এমনই যে একজন আগে আসে আর অন্যজন পরে এই সহজ কথাটা মাথায় রাখলে সম্পর্কও সহজ হয়ে যায়।‘</p>



<p>ওনার কানাডা নিবাসী পুত্রবধূ&nbsp; জানালেন ,&#8217; আমার সাথে আমার শাশুড়িমার সম্পর্কটা খুব সহজ ও সরল।আমি কলকাতার বাইরের মেয়ে পড়াশোনার বেশির ভাগই হোস্টেলে তাই বিয়ের পর একটা বাড়ির পরিবেশ পেয়েছিলাম।প্রথম থেকেই এম শাশুড়ি মা নিজের ছেলের থেকে আমায় কোনো অংশে আলাদা করে দেখেন নি, মাংসের বড় পিস্ থেকে কিছু কিনে দেওয়া সবেতেই সমান করে দেখেছেন আমাদের দুজনকে কোনো ক্ষেত্রে পক্ষপাত হলে সেটা আমার পক্ষে গেছে।মা আমাদের সম্পর্ক ভালো করার জন্য সময় দিয়েছে আর কোনো কিছু চাপিয়ে&nbsp; দেয়নি, একেবারে প্রথম থেকেই বাড়ির সবকিছু সিদ্ধান্তে আমার মতামত কে গুরুত্ব দেওয়া আর যেটা সবচেয়ে ভালো যে নিঃস্বার্থ ভাবে নিজের স্বচ্ছন্দ আর ভবিষ্যতের কথা না ভেবে আমাদের ভবিষ্যতের আর বিকাশের কথাকে গুরুত্ব দিয়েছে ।আমার মনে হয় শাশুড়ি বৌমার সম্পর্ক খুব পারস্পরিক আর উনি আমার অভ্যাস মানসিকতা জেনে বুঝে সেই মতো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জল -মাটি দিয়েছেন এবং নিজের গতিতে সম্পর্কে উন্নতি হতে দিয়েছেন তাই এখন এতো দূরে আমি মার উপস্থিতি রান্না বিভিন্ন বিষয়ে যার মধ্যে ফ্যাশন ও আছে আর আড্ডা মিস করি। আমাদের এত মধুর সম্পর্কের সিক্রেট হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সন্মান।‘&nbsp;</p>



<p>এই&nbsp; প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন&nbsp; অভিনেত্রী&nbsp;&nbsp; ও সব্যসাচী চক্রবর্তী গৃহিনী মিঠু চক্রবর্তী তার দুই পুত্র গৌরব ও অর্জুন কে স্পষ্ট বলেছিলেন যে বিয়ে করে আলাদা থাকতে হবে আর উনি মনে করেন যে দুজনের বিয়ের পর এত ভালো সম্পর্ক থাকার এটা একটা বড় কারণ। অবশ্যই তার মানে এটা নয় সবাইকে তাই করতে হবে তবে এই মনোভাব আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সবার কাজের সময়ের, আসা যাওয়া, সপ্তাহান্তের অবকাশের ধরণ পাল্টে যাওয়ার কারণে।</p>



<p>“শাশুড়ি-বউমা” সম্পর্ককে ঘিরে বাংলা পরিবারে যে চিরাচরিত টানাপোড়েন, কটাক্ষ বা নীরব ক্ষমতার রাজনীতি একসময় প্রায় স্বাভাবিক বলেই মেনে নেওয়া হত, আজ তার অনেকটাই বদলাচ্ছে। এক ছাদের নীচে দুই প্রজন্মের দুই নারীর সম্পর্ক এখন অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে মানসিক সমর্থন—অনেক শাশুড়ি আজ বউমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন মায়ের মতো, আবার বহু বউমাও শাশুড়ির বার্ধক্য, একাকিত্ব ও অনুভূতিকে বুঝতে শিখছেন নতুন চোখে।</p>



<p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।” সেই বিশ্বাসের জায়গাটাই হয়তো নতুন করে তৈরি হচ্ছে এই সম্পর্কের ভিতরে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের কথায়ও উঠে আসে একটি সুস্থ পরিবার গড়ে ওঠে তখনই, যখন ক্ষমতার লড়াই নয়, গুরুত্ব পায় সহানুভূতি ও কথোপকথন।</p>



<p>তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে “নতুন স্বাভাবিক” বলে ধরে নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। সমাজের নানা স্তরে এখনও শাশুড়ি ও বউমা—উভয়ের উপরেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। কোথাও বউমা অত্যাচারের শিকার, কোথাও আবার অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার শিকার প্রবীণ শাশুড়ি। তাই সম্পর্কের এই সুন্দর পরিবর্তনকে উদযাপন করার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পরিবারের ভিতরে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা।</p>



<p>কারণ, “সহযাত্রা” শুধুই একসঙ্গে থাকা নয়, বরং  একে অপরকে জায়গা দেওয়ার শিল্প। আর সেই শিক্ষাই হয়তো আগামী দিনে পরিবারের সবচেয়ে বড় আশার আলো।</p>



<p><em>আংশিক তথ্যসূত্র &#8211; শ্রেয়সী সেন</em></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/">শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 11:43:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10679</guid>

					<description><![CDATA[<p>গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপ ...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/">গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মে মাস মানেই তীব্র গরম, স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বাইরে কাজ করা হোক বা ঘর সামলানো ,এই সময়টায় নারীর দায়িত্ব যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলেন “ডাবল বার্ডেন” বা দ্বৈত দায়—একদিকে পেশাগত কাজ, অন্যদিকে ঘর ও পরিবারের দায়িত্ব।</p>



<p>ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যার কাজে। একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গড়ে ভারতীয় নারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৯২ মিনিট এই ধরনের কাজ করেন, যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি।</p>



<p>গবেষক নেহা ব্যাস তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, “নারীরা একই সঙ্গে বেতনভুক্ত ও অবৈতনিক কাজের ভার বহন করেন, যা তাদের কাজের পরিবেশকে কঠিন করে তোলে।”</p>



<p>গ্রীষ্মের ছুটির সময় এই চাপ আরও বাড়ে। বাচ্চারা সারাদিন বাড়িতে থাকায় তাদের খাওয়ানো, সময় কাটানো, পড়াশোনা করানো—সবকিছুই মায়ের উপর এসে পড়ে। কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে ফিরে আবার “দ্বিতীয় শিফট” শুরু হয়, যা মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।</p>



<p>মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিচ্ছেন, যা এই সময়টাকে কিছুটা সহজ করতে পারে।</p>



<p>১) দায়িত্ব ভাগ করে নিন -মনোবিজ্ঞানী ড. অনন্যা সেনের মতে, “পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সব দায়িত্ব একা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে।”স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই চাপ অনেকটাই কমাতে পারে।</p>



<p>২) রুটিন তৈরি করুন -শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাচ্চাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দৈনিক রুটিন তৈরি করলে মা ও সন্তানের দুজনেরই সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। খেলা, পড়াশোনা ও বিশ্রামের সময় আলাদা করে দিলে অযথা চাপ কমে।</p>



<p>৩) ‘মি-টাইম’ জরুরি- কাউন্সেলরদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। বই পড়া, গান শোনা বা হালকা ব্যায়াম ,যে কোনো কিছুই হতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের শক্তি ফিরে আসে।</p>



<p>৪) পারফেকশন নয়, প্রাধান্য দিন প্রয়োজনকে &#8211; বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব কিছু নিখুঁত করতে যাওয়ার চাপ নিজেকেই ক্লান্ত করে তোলে। প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে করুন, বাকিগুলো পরে করলেও চলবে—এই মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।</p>



<p>৫) সাহায্য চাইতে দ্বিধা নয় &#8211; অনেক নারী সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে গৃহকর্মীর সাহায্য নেওয়া বা পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভর করা একেবারেই স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।</p>



<p>৬) বাচ্চাদের স্বনির্ভর করে তুলুন &#8211; ছোট ছোট কাজ যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা বা জল খাওয়া—এই অভ্যাসগুলো বাচ্চাদের শেখালে মায়ের কাজ কিছুটা কমে এবং শিশুরাও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।</p>



<p>সমাজের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। গৃহস্থালির কাজকে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই “নারীর দায়িত্ব” হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পরিবারে সমান দায়িত্ববণ্টন এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই পারে এই চাপ কমাতে।</p>



<p>শেষ কথা, মে মাসের গরম যেমন সাময়িক, তেমনই এই বাড়তি চাপও সামলানো সম্ভব ,যদি সচেতন পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। নারীর এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে সহায়তা করা এটাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/">গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 07:48:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=4279</guid>

					<description><![CDATA[<p>'আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের গান শিক্ষিতদের গান।'...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/">রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সুধীর চক্রবর্তী</p>



<p>&#8216;প্রথম থেকে শেষ অবধি যে বিশেষত্বটা রবীন্দ্রনাথের সব রচনার মধ্যে একটা ঐক্য স্থাপন করেছে,সেটা হলো এর বাঙালিত্ব।তবে বাংলা রাগসঙ্গীত,কীর্তন,রামপ্রসাদী,লোকসঙ্গীত বা নিধুবাবুর টপ্পায় যে বাঙালি ভাব,এটা সেভাবে নয়।এটা হলো রবীন্দ্রনাথের একান্ত নিজস্ব একটি বিশেষ শ্রেণীর বাঙালিয়ানার সাঙ্গীতিক প্রকাশ।রবীন্দ্রনাথের রুচি,তাঁর সংস্কার,তাঁর পরিবেশ,শিক্ষা-দীক্ষা,শিল্পবোধ,সাহিত্যবোধ-অর্থাৎ&nbsp; তাঁর পুরো চরিত্রটাই এই গানে প্রতিফলিত।এটাও লক্ষণীয় যে গানই তাঁর একমাত্র সৃষ্টি যার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে কাব্য-উপন্যাসের তুলনায় বিবর্তনের মাত্রাটা এখানে অনেক কম।&#8217;</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত সম্বন্ধে ভাবগ্রাহী অথচ বিতর্কযোগ্য এই মন্তব্য করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।এখানে বাঙালিত্ব বলতে ঠিক কী বোঝায় টা স্পষ্ট করে বোঝানোর দায় নেননি তিনি,তবে ইঙ্গিত রেখে গেছেন।গড়পড়তা বাঙালি যে ভাবাবেগ ও রুচিবোধের দ্বারা চালিত হয়ে এসেছে,তার বিনোদনে ও শিল্পে যে শিথিল ও জনপ্রিয় উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ তা অনুমোদন করেন নি।সেইজন্য রুচিদুষ্ট কবিওয়ালাদের গান এবং মার্গসংগীতের নামে ওস্তাদি ও তানবাজিকে তিনি নিন্দা করেছেন।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবন গঠনে ও শিল্পরুচির অনন্য বিন্যাসে রবীন্দ্রমানসের অনিবারণীয় ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পেরিয়ে এসেছেন কিন্তু কদাচ এড়িয়ে যান নি।রবীন্দ্রসংগীতের স্বচ্ছ ও সাবলীল ভূমিকা যে পরিবারে এতটা অনর্গলিত সেই পরিবারের জাতক সত্যজিৎ রবীন্দ্রসংগীতের গহন মগ্ন ঐশ্বর্য ও বৈচিত্র লাভ করেছিলেন ব্যাপক বিস্তারে ও মনের গভীরে।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত সম্পর্কে সত্যজিতের প্রথম বক্তব্য:</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীতের একটা স্বকীয় বৈশিষ্ট আছে যেটা আগে কোনো ভারতীয় গানে ছিল না।&#8230;মার্গসংগীতেই হোক বা লোকসংগীতেই হোক,ভারতবর্ষে চিরকালই যে জিনিসটার ওপর জোর দিয়ে আসা হয়েছে সেটা হল গানের জাত।কীর্তনকে কেউ ভুল করেও খেয়ালের মতো গায়না,বা বাউলের সঙ্গে পাখোয়াজ বাজিয়ে তাকে ধ্রুপদের আসনে বসানোর চেষ্টা করেনা।এক গানের গাইবার রীতি অন্য গানে প্রয়োগ করা হয় না,কারণ তাদের জাত আলাদা।</p>



<p>সত্যজিৎ এরপর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে,প্রচলিত নিয়মে রবীন্দ্রসংগীতের জাত বলে বোধহয় কিছু নেই কেননা তিনি জাতের কথা ভাবেন নি।তাঁর লক্ষ্য ছিল অন্য ধরণের।এক-একটি বিশেষ ভাবকে বিশেষ কথা বিশেষ সুর-ছন্দে প্রকাশ করার দিকে ছিল তাঁর সাংগীতিক সৃজনস্বভাবের প্রবণতা।</p>



<p>সাক্ষাৎকারে সত্যজিতের ভাষ্য:</p>



<p>১) রবীন্দ্রনাথের গানে আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি তার কথার মেজাজ সুরের মেজাজ রাগাশ্রিত হলেও সেখানে আর একটু সহজ করে নেওয়া,মোলায়েম করে নেওয়া&#8230;অর্থাৎ আলাদা করে চিনে নেওয়ার মতো।Composer কে চিনে নেওয়ার মতো।&nbsp;</p>



<p>২)রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ তো নিধুবাবুর পরিবেশ নয়।&#8230;তাঁর পরিবেশ ছিল অনেক মার্জিত।সেটা ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ অর্থাৎ যে সমাজে তিনি মানুষ তার যে একটা ছাপ রয়েছে তা আরও একটু মার্জিত।&#8230;সেটার সঙ্গে নিধুবাবুর টপ্পার মিল নেই।&#8230;সেটা -শ্রেণী অর্থাৎ সোশ্যাল ক্লাস।সেই গানের কথা ও সুর শুনলেই বোঝা যাবে যে নিধুবাবু ও রবীন্দ্রনাথ এক সামাজিক স্তর থেকে আসেন নি।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সত্যজিৎ রায় তাঁর প্রবন্ধে ও সাক্ষাৎকারে গীতস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সূত্রে কয়েকটি প্রশ্ন রেখেছেন।প্রথমে তাঁর কয়েকটি সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করা যেতে পারে।যেমন:</p>



<p>১)তিনি গলা সাধেন নি,বা সাধলেও তাঁর ইস্কুলে পড়ার মতোই সে সাধনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছিল।&#8230;তাঁর গলার &#8216;কাজ&#8217; খুব বেশি ছিল না।অন্তত যে কাজে খেয়ালের তান হয় তা তো নয়ই।</p>



<p>২)রবীন্দ্রনাথের চরিত্রের একটি বিশেষত্ব বেশ লক্ষ্য করা যায় যে,তাঁর সহজাত ক্ষমতার বাইরে কোনো কিছু শিখে আয়ত্ত করে তাঁর চিরকালই একটা আপত্তি ছিল।তাঁর শিক্ষায়তনের বিরুদ্ধে আপত্তিটা অ্যাকাডেমিক সব কিছুর বিরুদ্ধেই ছিল।তাঁর শিল্পবোধ ছিল সহজাত,ইন্সটিন্কটিভ।</p>



<p>৩)সংগীতের বেলা রবীন্দ্রনাথ অ্যাকাডেমিক&nbsp; পদ্ধতির অনেক কিছু গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।তান জিনিসটা বাদ দিয়েছিলেন তার একটা কারণ বোধহয় এই যে সেটা তাঁর আয়ত্ত ছিল না।তবে রাগসঙ্গীতের প্রতি তাঁর ঋণ কম নয়।খাম্বাজ,বেহাগ,পিলু,কাফি,ভৈরবী,ইমন,দেশ,পূরবী ইত্যাদি বহু রাগ রাগিনী; ত্রিতাল,দাদরা,খেমটা,কাহারবা কাওয়ালি তেওড়া প্রভৃতি তাল ;গানের আস্থায়ী অন্তরার ভাগ-এ সবই তাঁর অনেক গানেই অবিকৃতভাবে পাওয়া যায়।বোধহয় ঠাকুরবাড়ির সাংগীতিক আবহাওয়া ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পিয়ানোতে রাগোচ্ছ্বাস তাঁর প্রথম দিকের রচনাকে প্রভাবিত করেছিল।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতর একটা&nbsp; দিক নিয়ে সত্যজিৎ বেশ সমালোচনাপ্রবণ,সেটা তাঁর লোকসংগীতের সুর সংযোজন সম্পর্কে।সত্যজিৎ রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি প্রথমে উদ্ধৃত করেছেন,যাতে বলা হয়েছে: &#8216;অধিকাংশ আধুনিক বাউলের গানের অমূল্যতা চলে গেছে,তা চলতি হাটের সস্তা দামের জিনিস হয়ে পথে বিকোচ্ছে।&#8217;খাঁটি পল্লিসংগীতে তাঁর আস্থা এবং তার সুর ও চালের প্রতি অন্তরের টান রবীন্দ্রনাথের সংগীতজীবনে প্রবলভাবে ছিল।১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি বাংলা লোকসংগীত ভেঙে বহু গান রচনা করেন,যার সুর অবিকল রাখা আছে।এমন চারখানা গান সত্যজিৎ তার চলচ্চিত্রে কণ্ঠে ও যন্ত্রে ব্যবহার করেছেন।কণ্ঠে আছে ;বিধির বাঁধন কাটবে তুমি'(&#8216;রবীন্দ্রনাথ&#8217; ও &#8216;ঘরে বাইরে&#8217;) &#8216;আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে'(&#8216;রবীন্দ্রনাথ&#8217;)।বাঁশিতে আছে &#8216;আমার সোনার বাংলা (&#8216;অপুর সংসার&#8217;)।যন্ত্রে আছে &#8216;গ্রামছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ'(&#8216;অরণ্যের দিনরাত্রি&#8217;)।</p>



<p>সুভাষ চৌধুরী তাঁর সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ রায়কে প্রশ্ন তুলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানে যখন একটা স্পষ্ট সোশ্যাল ক্লাসের পার্থক্য রয়েছে,প্রসঙ্গত এই প্রশ্ন এসে পড়ে যে রবীন্দ্রসংগীত আম জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে কি?দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রসংগীত শহরকেন্দ্রিক হয়ে রইল তার কারণ ও কি ঐ সোশ্যাল ক্লাস? সত্যজিৎ জবাবে বলেছেন:সেটা ঐ কারণেই।কোনো দিনই হবে না।সমাজ যদি কোনোদিন এক হয়ে যায় তবে হবে।সেইজন্য আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের গান শিক্ষিতদের গান।&#8230;যাকে বলে নিজের করে নেওয়া,যা নিজের মনে করে গাওয়া.সেটা শিক্ষিত বাঙালির পক্ষে প্রযোজ্য।</p>



<p>সত্যজিতের এই বিশ্বাস তার চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।তার সংগীত পরিচালনায় যে ছবিগুলো হয়েছে তার মধ্যে যে চরিত্র রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছে তাদের সোশ্যাল ক্লাস উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্ত।</p>



<p>যেমন মণিমালিকা (&#8216;মণিহারা&#8217;),অমল ও চারু (&#8216;চারুলতা&#8217;),সন্দীপ (&#8216;ঘরে বাইরে&#8217;),মনমোহন ও অনিলা (&#8216;আগন্তুক&#8217;),লাবণ্য (&#8216;কাঞ্চনজঙ্ঘা&#8217;),মায়া (&#8216;গণশত্রু&#8217;),তপতি (&#8216;শাখাপ্রশাখা&#8217;),করুণা (&#8216;কাপুরুষ&#8217;), লক্ষ্য করার এটাও বিষয় যে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনে রচিত সংগীত সম্বন্ধে সত্যজিৎ রায়ের বেশ দুর্বলতা আছে।বিলিতি সুরভাঙ্গা রবীন্দ্রগীতি ব্যবহারে তার ঝোঁক প্রবল।</p>



<p>সত্যজিৎ তার পছন্দের কিছু রবীন্দ্রসংগীত &#8216;এক্ষণ&#8217; পত্রিকার প্রবন্ধে বেছে দিয়েছেন ভবিষ্যৎ শ্রোতাদের জন্য-</p>



<p>অন্ধজনে দেহ আলো&nbsp;&#8211; ১২৯২</p>



<p>বাজিল কাহার বীণা&nbsp;&#8211; ১৩০১</p>



<p>আছে দুঃখ আছে মৃত্যু &#8211; ১৩০৯</p>



<p>তুমি কেমন করে গান কর&nbsp;&#8211; ১৩১৬</p>



<p>বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি &#8211; ১৩১৭</p>



<p>মোর বীণা ওঠে কোন সুরে &#8211; ১৩২৬</p>



<p>মম চিত্তে নীতি নৃত্যে &#8211; ১৩২৭</p>



<p>যদি তারে নাই চিনি গো &#8211; ১৩২৯</p>



<p>না যেয়ো না যেয়ো না &#8211; ১৩২৯</p>



<p>অনেক দিনের শূন্যতা মোর &#8211; ১৩৩৪</p>



<p>বেদনা কী ভাষায় রে &#8211; ১৩৩৭</p>



<p>এবারে পাঠকদের কৌতূহলপ্রদ যে তালিকা প্রণয়ন করছি তাতে আছে চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ-ব্যবহৃত রবীন্দ্রগীতির (কালানুক্রমিক)সম্পূর্ণ সূচি।কণ্ঠে বা যন্ত্রে এই গানগুলি তিনি কোন না কোনোভাবে তাঁর চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছেন.সম্পূর্ণ বা খণ্ডিত রূপে।প্রথমে কণ্ঠ সংগীত:</p>



<style type="text/css">
.rabi-ray-table table td{
padding: 5px 2px;
}
</style>
<figure class="wp-block-table rabi-ray-table aligncenter"><table style="font-size:90%;"><tbody><tr><td><strong>গানের প্রথম পংক্তি</strong></td><td><strong>ছবির নাম</strong></td><td><strong>গান রচনার সাল</strong></td><td><strong>সম্পূর্ণ বা অংশ</strong></td></tr><tr><td>রিমঝিম ঘন ঘন রে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৮৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>কালী কালী বলো রে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৮৮</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে</td><td>চারুলতা</td><td>১২৮৯</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>এ পরবাসে রবে কে</td><td>কাঞ্চনজঙ্ঘা</td><td>১২৯১</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে</td><td>শাখা প্রশাখা</td><td>১২৯১</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>অন্ধজনে দেহ আলো</td><td>আগন্তুক</td><td>১২৯২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>তবু মনে রেখো</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৯৪</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>বাজিল কাহার বীণা</td><td>আগন্তুক</td><td>১৩০১</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>আমি চিনি গো চিনি</td><td>চারুলতা</td><td>১৩০২</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>বিধির বাঁধন কাটবে তুমি</td><td>রবীন্দ্রনাথ/ঘরে বাইরে</td><td>১৩১২</td><td>অংশ/সম্পূর্ণ<br></td></tr><tr><td>আজি বাংলাদেশের হৃদয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩১২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ঘরেতে ভ্রমর এলো</td><td>অরণ্যের দিন রাত্রি</td><td>১৩১৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>এখনও গেল না আঁধার</td><td>গণশত্রু</td><td>১৩২৬</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>জয় হোক নব অরুণোদয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩২৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ছায়া ঘনাইছে বনে বনে</td><td>জন অরণ্য</td><td>১৩৩০<br></td><td>অংশ</td></tr><tr><td>এ পথে আমি যে</td><td>কাপুরুষ</td><td>১৩৩২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>আমার মুক্তি আলোয় আলোয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৩৩</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>বাজে করুন সুরে</td><td>মণিহারা</td><td>১৩৩৭</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>হৃদয় মন্দ্রিল ডমরু গুরু গুরু</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৪০</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>অর্জুন তুমি অর্জুন</td><td>কাপুরুষ</td><td>১৩৪৩</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>মাটি তোদের ডাক দিয়েছে</td><td>মহানগর</td><td>১৩৪৫</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ঐ মহামানব আসে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৪৮</td><td>অংশ</td></tr></tbody></table></figure>



<p>বাঁশি বা অন্য কোন নেপথ্য যন্ত্রে রবীন্দ্রনাথের যেসব গান আবহ সংগীত রূপে সত্যজিৎ রায় ব্যবহার করেছেন তার উল্লেখ এবার করা যাক/&#8217;যদি তারে নাই চিনি গো&#8217; এবং &#8216;আমার সোনার বাংলা&#8217;-র সুর ব্যবহৃত হয়েছে &#8216;অপুর সংসার&#8217;ছবিতে,&#8217;ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে&#8217; ব্যবহৃত &#8216;দেবী&#8217;-তে,&#8217;পোস্ট মাস্টার&#8217;-এ &#8216;আমার মন মানে না&#8217;,&#8217;চারুলতা&#8217;য় &#8216;মম চিত্তে নিতি নৃত্যে&#8217;,&#8217;অরণ্যের দিনরাত্রি&#8217;তে &#8216;গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ&#8217; (&#8216;অশনি সংকেত&#8217; ছবিতেও) এবং &#8216;ঘরে বাইরে&#8217;-তে &#8216;একী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ&#8217;/প্রসঙ্গত উদ্ধৃতি যোগ্য চিদানন্দ দাসগুপ্ত-র মন্তব্য:The melodies have a life of their own…and echo feelings which for Bengali audiences,cannot be totally divorced from the meaning of the words associated with them. (The Cinema of Satyajit Ray .pp84)</p>



<p>রবীন্দ্রগীতির টুকরো একটা দুটো পংক্তি সত্যজিৎ কখনো ব্যবহার করেছেন এমন পরিকল্পিত কুশলতায় তাঁর কোন দৃশ্যপটে,যা তাঁর আগে আমরা দেখিনি।&#8217;জন অরণ্য&#8217;-তে এক অন্তঃক্ষোভময় মুহূর্তে রেডিওতে শোনা যায় &#8216;ছায়া ঘনাইছে বনে বনে&#8217;। &#8216;গণশত্রু&#8217;-তে ডঃ অশোক গুপ্ত আর তাঁর ভাই চেয়ারম্যান নিশীথ গুপ্তের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের মাঝখানে,দেব মাহাত্ম্য ও মানবিক শুভবুদ্ধির সঙ্কটজনক দ্বন্দ্বে ডঃ গুপ্তর স্ত্রী মায়া বুঝি আপন মনেই গেয়ে ওঠে দুঃখের গান:&#8217;এখনো গেল না আঁধার/এখনো রহিল বাধা&#8217;।তাঁর অন্তঃসত্ত্বাতেও তো তেমন করে আঁধার ঘোচেনি,কাটেনি বাধার বলয়,তাই এই গান যথার্থ।</p>



<p>&nbsp;সত্যজিতের চলচ্চিত্রে পূর্ণ বা অংশত আরোপিত নানা রবীন্দ্রসংগীতের আলোচনার সমাপ্তিরেখা আপাতত এখানে টেনে আমরা ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে পারি।সতর্ক পাঠক প্রশ্ন তুলবেন তাঁর ছবির সব কটি রবীন্দ্রগীতির পর্যালোচনা তো হল না।হল না,তার কারণ বাকি অনালোচিত গানগুলি বুঝতে হবে আরেক বিন্যাস ও ব্যাপ্তিতে।</p>



<p>নির্বাচিত অংশ -বাংলা ফিল্মের গান ও সত্যজিৎ রায় -সুধীর চক্রবর্তী-প্রতিক্ষণ পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড। &nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/">রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একলা মা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 12 May 2026 15:33:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[single mom]]></category>
		<category><![CDATA[single mothers]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7706</guid>

					<description><![CDATA[<p>কেমন আছেন আজকের একলা মায়েরা ?কেমন থাকেন একলা মায়েরা ?</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/">একলা মা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘I have a great career, and I have my daughter. So what I don&#8217;t have is not as important to me as what I do have.&#8221;- Padma Lakhsmi.</p>



<p>কেমন আছেন আজকের একলা মায়েরা ?কেমন থাকেন একলা মায়েরা ?এই ব্যস্ত,সদা পরিবির্তনশীল সমাজে কেমন করে দিনযাপন করেন এই একলা মায়েরা ? তাদের জীবন যুদ্ধ আর আরো ভালো থাকতে</p>



<p>এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয় যে বুঝতে অসুবিধে হবে বিষয়টা সাধারণ পরিবার সন্তান সন্ততির তুলনায় বেশ কঠিন,শারীরিক এবং মানসিক চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার উত্তরণ।সর্বজয়া এবং অপুর জীবনযুদ্ধ এখনও শুধু প্রাসঙ্গিক নয় এর সঙ্গে নারী স্বাধীনতার বিকাশ আর দর্পের বিষয় স্বেচ্ছায় সিঙ্গল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত।</p>



<p><strong>একলা</strong><strong> </strong><strong>মায়েদের</strong><strong> </strong><strong>প্রধান</strong><strong> </strong><strong>চ্যালেঞ্জ</strong> :</p>



<p><strong>১</strong><strong>) </strong><strong>ওয়ার্ক</strong><strong> </strong><strong>লাইফ</strong><strong> </strong><strong>ব্যালেন্সের</strong><strong> </strong><strong>ভারসাম্য</strong> : অন্যান্য ক্ষেত্রে তুলনায় অনেক বেশি জরুরি।একদিকে উপার্জনের জন্য কাজ এবং সময় আর অন্যদিকে বাচ্চাকে দেখভাল,খাওয়া পরা,পড়াশুনো এবং তার মনোরঞ্জনের জন্য খেলাধুলো,বেড়ানো ইত্যাদির ক্ষেত্রে সঠিক ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স করে চলা।</p>



<p><strong>২</strong><strong>) </strong><strong>মানসিক</strong><strong> </strong><strong>সংগ্রাম</strong> : যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং সমাজের তথাকথিত ঠিক করে দেওয়া প্রচলিত নিয়মের বাইরে সেহেতু নিজের এবং বিশেষ করে বাচ্চার বেড়ে ওঠার সময়কার একাকিত্ব,তার অন্য বন্ধুদের বাবা মায়ের একসঙ্গে থাকার বিপ্রতীপে সে আর তার মা , বাচ্চার কাছে এই বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মমতা ,ভালোবাসা দিয়ে ঘিরে তার বেড়ে ওঠাকে সহজ এবং আনন্দময় করে তোলা এবং নিজেকে ভালো রাখা খুব জরুরি।&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৩</strong><strong>)</strong><strong>স্ট্রং</strong><strong> </strong><strong>সাপোর্ট</strong><strong> </strong><strong>সিস্টেম</strong> : একলা মায়েদের একটা শক্তিশালী ,কাজের ,ইতিবাচক মানসিকতার টিম রাখতেই হবে।সেটা বন্ধু,মা,বাবা,ন্যানি,অন্য আত্মীয়,বন্ধুর সাহায্য দরকার এটা মেনে নেওয়া।এটা কোনো জেদের বিষয় নয় বা দুর্বলতার কারণে নয় এই সদর্থক মানসিকতা নিজের এবং বাচ্চার জন্য জরুরি।একলা মা স্বস্তিকা মুখার্জি জানিয়েছেন মেয়ে অন্বেষাকে স্কুলে ভর্তির বিড়ম্বনা,সব বোরো স্কুলে লেখা যে বাবা -মা কে একসঙ্গে আসতে হবে তাই পরে বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেও অনেক ক্ষেত্রে বাধা,আচ্ছা পরের বার আসুন শোনা স্বস্তিকা যখন জানতে পারেন যে জলপাইগুড়ির একলা মা আশা দেবনাথ ও তার একাদশ শ্রেণীর মেয়ের জীবনে বিপদ আসে যখন আশার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্দ্বিধায় আসার পাশে দাঁড়িয়েছেন আর এক একলা মা।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৪</strong><strong>) </strong><strong>একলা</strong><strong> </strong><strong>মা</strong><strong> </strong><strong>হওয়া</strong><strong> :</strong> ইলিনা বণিক ,অনিন্দিতা সর্বাধিকারী স্ব ইচ্ছায় একলা মা হয়েছেন এবং বেশ ভালো আছেন।আজকের পৃথিবীতে আত্মনির্ভর,,স্বাধীনচেতা মেয়েদের জীবনে সন্তান উৎপাদনের জন্য কোনো পুরুষের শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এই&nbsp; বিষয় সুপ্রিম কোর্টে দৃষ্টান্তমূলক এবং যুগান্তকারী রায়ে বলা হয়েছে অভিভাবকত্বের প্রশ্নে শিশুর কল্যাণের দিকটাই বড়।এই রায়ের ফলে স্কুলের ফর্মে বাবার নাম লেখা বাধ্যতামূলক নয়।অমরাবতী কলকাতার প্রথম সিঙ্গেল মাদার।মা চিত্রশিল্পী ইলিনা বণিক।কয়েকবছর আগে এইভাবে অগ্নিস্নাতর জন্ম দিয়েছেন চিত্র পরিচালক অনিন্দিতা সর্বাধিকারী।একাকী মা শব্দটি সমাজের অভিধানে ঢুকে পড়েছে।&nbsp; &nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৫</strong><strong>) </strong><strong>নিজেকে</strong><strong> </strong><strong>ভালোবাসো</strong><strong>,</strong><strong>তুমি</strong><strong> </strong><strong>এবার</strong> : গানের পংক্তিটি জীবনে ধারণ করতে হবে,অর্থাৎ শুধু উপার্জন আর সন্তান মানুষ করতে গিয়ে নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভালো লাগাকে অবহেলা করা একদম চলবে না ।&nbsp;</p>



<p>বিভিন্ন সামাজিক স্তরে,ক্ষেত্রে ,অবস্থায় এই একলা মায়েদের জীবনযুদ্ধ এবং বাধা,বিঘ্ন,সামাজিক অন্যায্য অপমান,সমালোচনার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে চলা একলা মায়েদের পাশে এই সমাজ আরো স্নেহ,সহমর্মিতা,ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখলে আমাদের পৃথিবী আরো সহনশীল সুন্দর হয়ে উঠবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>পদ্মা লক্ষী,নীনা গুপ্তা,স্বস্তিকা মুখার্জির বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজেরদের জীবন কথা এবং মনোবিদ গায়ত্রী রাওয়ের পরামর্শ।                   </p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/">একলা মা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এসো হে বৈশাখ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:37:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10588</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা.....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>নৃসিংহ</strong><strong> </strong><strong>প্রসাদ</strong><strong> </strong><strong>ভাদুড়ী</strong><strong></strong></p>



<p>বাংলার নতুন বৎসর আসলে একেবারেই মোগলাই ব্যাপার। এখনকার দিনের পয়লা বৈশাখে বাঙালির যে বর্ষারম্ভ হয় ,তা আমাদের আত্মীকৃত, সাধারণীকৃত সংস্করণ। অথচ বাঙালির ঘরে আমাদের হিন্দু ভাবনায় যা হতে পারত ,তাও আমাদের ঘটেনি।কেননা তা সম্ভবই ছিল না । আসলে জৈন &#8211; বৌদ্ধ কিংবা মুসলমান-খ্রিস্টানের আগে থেকেই সনাতন ব্রাহ্মণ্য সংস্কার যেটা বঙ্গদেশে চালু ছিল ,সেখানে তো পরিবর্তন হয়েছে বার বার। অর্থাৎ কিনা ,অতি- প্রাচীন ভারতবর্ষে তিথি- নক্ষত্রের যোগ নিয়ে অনেক ভাবনা থাকলেও বর্ষারম্ভ নিয়ে একটা শক্তপোক্ত মত গড়ে ওঠেনি কিছু । পন্ডিতেরা বৈদিকদের ঋতু &#8211;সনাথ ,আশা- আকাঙ্খা -আশীর্বাদ ব্যাপারটাকে একটা চিহ্ন হিসেবে ধরে বলেছেন যে ,আর্যরা অতিশীতল দেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে ঢোকার পরও পুরোনো অভ্যেস বদলাতে পারেনি বলে &#8216;একশো শীত &#8216; বেঁচে থাকার আশা করতেন ,অথবা একশো শীত বেঁচে থাকার আশীর্বাদও করতেন। ঋগ্বেদে রুদ্রদেবতার কাছে একটি মন্ত্রে ঋষি বলছেন &#8211; আমরা যেন তোমার দেওয়া ওষধি লাভ করে একশো হিম ( শীতকাল ) বেঁচে থাকি &#8211; শতং হিমা অশীয় ভেষজেভিঃ।বেদের পংক্তিতে শতং হিম মানে একশো বছর।পন্ডিতেরা বলেছিলেন সেকালে ভারী শীতের দেশ থেকে এসে আর্যদের এই শতবার্ষিকী জীবন পরিকল্পনার কারণ সম্ভবত আর্যরা বছর গণনা করতেন শীতকাল থেকে।</p>



<p>আবার যখন যুধিষ্ঠির জিজ্ঞেস করলেন কোন মাসের উপবাসে ফল হয় সবচেয়ে বেশি তখন ভীষ্ম পিতামহ উপবাসের তালিকা আরম্ভ করলেন অগ্রহায়ণ মাস থেকে ।কেননা সেকালে বর্ষারম্ভের মাস এটাই আর নামের মধ্যেই সেই মিল দেওয়া আছে,কারণ বৎসরের অগ্রে যে প্রথম মাস সেই অগ্রহায়ণ ।ভগবতগীতার আর এক টীকাকার বেঙ্কটনাথ বলেছেন বৎসরের এই প্রথম মাসের অধিষ্ঠাত দেবতা হলেন কেশব তাই &#8216;প্রথমস্য কেশবস্য মাসত্বাং&#8230; বর্ষ গৰ্ভধান ..কালত্বাৎ।</p>



<p>সন্দেহের আর দ্বিতীয় কারণ থাকে না যে, শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা যে কেমন করে টি এস এলিয়টের&nbsp; ক্রুুয়েলেস্ট মান্থ এপ্রিলে&nbsp; বর্ষবরণ আরম্ভ করলাম তার সৌজন্য সহায়তায় আছেন মহামতি আকবর,মুঘল সম্রাট আকবর।এমনিতে হৃদয়বান মানুষ হলেও কী করবেন ,রাজকোষে অর্থ না থাকলে ,রাজকর&nbsp; জমা না হলে তিনি প্রশাসন চালাবেন কী করে ?রাজকোষে অর্থ জমা পড়ার সবচেয়ে অসুবিধে দাঁড়াল ক্যালেন্ডার।আকবরের অনেক আগে থেকেই বঙ্গদেশে প্রশাসন চলছিল হিজরি সন অনুযায়ী ।কিন্তু হিজরি সন</p>



<p>চান্দ্রমাস অনুযায়ী চলে বলে বাংলার মতো কৃষিপ্রধান দেশের ফসলি সন প্রতিবছর হিজরি সনের সঙ্গে শুধুমাত্র মেলে না বলেই মিলত না।ফলে কৃষকদের সমূহ অসুবিধে আরম্ভ হল ! কারণ ফসল বস্তুটাই যাদের রাজকর হিসেবে দিতে হয় ,তারা চান্দ্রমাসের গতিতে এক এক সময়ে রাজকর দেবে কী করে !ফসল ওঠার নির্দিষ্ট সময়েই যদি অবস্থা বুঝে রাজকর দেওয়া সম্ভব হয় ,তবেই কৃষকদের সুবিধে ।</p>



<p>মহামতি আকবর আমির ফতেউল্লা শিবাজি নামে এক বিদ্বান পন্ডিতকে ভার দিলেন হিজরি চাঁদ এবং ভারতীয় ফসলি সনের সূর্যকে একত্র মেলাতে।শিবাজির পরিশ্রম কম হয়নি -হিজরির চান্দ্রায়ণী গতি আর হিন্দুদের সূর্যসিদ্ধান্ত অনেক মিলিয়ে তিনি নিজের সমকাল বাদ দিয়ে বাদশাহ আকবরের সিংহাসন বসার অভিষেক -বর্ষ থেকে একটা শতাব্দী সূচনা করার চেষ্টা করলেন।কেননা যখন বঙ্গাব্দ প্রচলনের এই চেষ্টা চলছে তখন আকবরের রাজত্বকালের ২৮ বছর চলে গিয়েছে ,তাঁর সমসাময়িক হিজরি সন তখন ৯১৮।শিবাজি তখন আকবরের সিংহাসন লাভের বছর ধরে হিজরি সনের ৯৬৩ সনে বঙ্গাব্দ চালু করে দিলেন।বঙ্গাব্দ বৃদ্ধ হয়েই জন্মাল।</p>



<p>তাই এটা বরং মেনে নেওয়া ভাল যে বঙ্গাব্দের সূচনায় বাঙালির কোনও কারিগরি নেই কিংবা নেই পরম্পরা চালিত কোনও ভাগবত সন্দর্ভ।যা আছে ,তা হল চরম জাতীয় সংহতির প্রমাণ ।তবে বাংলার একটা পৃথক সত্তা অবশ্যই তৈরি হয়েছে &#8211; আমাদের নিজস্ব বর্ষ গণনার পদ্ধতি আছে ,যা সারা ভারতবর্ষ মেনে নিয়েছে ।জাতীয় সংহতির এই আব্দিক পূরণ বঙ্গাব্দের বৈশিষ্ট বলেই আমাদের দেবতা গণেশ।গণেশ তাঁর হস্তীমূখের মৃদু হাসিটি নিয়ে নেমে এসেছেন আমাদের হালখাতায় ; কালীঘাটে মহাকালী দন্তবিকশিত আশীর্বাদ করছেন আমাদের, বাঙালির পয়লা বৈশাখ উৎসবের গতিতে বসে পড়েছে শুধু কৃষকদের কল্যাণে ,তাদের ফসলি সনের পূর্ববাহিকতায়,এই নতুন বঙ্গাব্দে তাই কৃষকদের প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকুক। এমন কোনও দেশ আছে এই পৃথিবীতে যেখানে একটা নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি&nbsp; হয়েছে শুধু কৃষকদের প্রয়োজনে।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত, নলেন গুড় কিংবা বিয়ের ধুতির মধ্যে যদিও বাঙালির বাঙালিত্ব প্রমান করার দায় থাকে কিছু পয়লা বৈশাখের নববর্ষে সেই দায় আছে বলে মনে হয় না!আমাদের এই বঙ্গদেশে বঙ্গাব্দের ইতিহাস জানেন এমন মানুষের সংখ্যা পাঁচ শতাংশও নয়।যে অসংখ্য মানুষ এখন আছে, যাঁদের শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় বঙ্গাব্দের বর্তমান সংখ্যা জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারবেন না।এমনকী আমাকেও কারণান্তর বশত বঙ্গাব্দের সংখ্যা স্মরণ করতে হয় মাঝেমধ্যে, কিন্তু হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলে আমি থতমত খাব।তার কারণ অনভ্যাস।এমনকী বর্ষশেষের আলোয় রাঙা এই চৈত্র মাসে কোনও আধুনিক আধুনিক প্রেমিক- প্রেমিকার&nbsp; চোখে &#8216;সর্বনাশ &#8216; পর্যন্ত ধরা পড়ে না । আর যে ছেলেটা সদ্য -রাবীন্দ্রিক রোমাঞ্চে চোখ ঢুলু ঢুলু করে -&#8216;বর্ষশেষের আলোয় রাঙা &#8216; উচ্চারণ করেছিল এবং নিপুণভাবে লক্ষ্য করেছিল অভি- দন্ডায়মান তরুণীর চোখ দুটিতে প্রেমময়ী দীর্ঘছায়া ঘনিয়ে আসে কিনা -তরুণী উত্তর দিয়েছিল &#8211; কী সব চৈত্র &#8211; ফৈত্র বলছিস আর তোর সর্বনাশটাই&nbsp; বা কী করলাম আমি ?দ্যাখ এইসব কবিতা- ফবিতা নিয়ে একদম আমাকে &#8216;হেকল&#8217; করার চেষ্টা করিস না ।এই মর্মান্তিক &#8216;সেমান্টিক &#8216; বিপর্য্যাস শুনেই আমি বুঝেছিলাম &#8211; আর বাংলা ক্যালেন্ডার থাকার কোনও মানেই হয় না।</p>



<p>অথচ দেখুন প্রতি বছর বঙ্গাব্দ আসে আমরা বর্ষবরণ করি যথাসাধ্য যথামতি।এমনকী সকাল এবং সন্ধ্যায় মহোৎসাহ দেখা যায় এক বিশেষ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে &#8211; যারা আমাদের অন্ন- ব্যঞ্জন বেশ- বাসের ব্যবস্থা করেন ।সকালে তাদের গুন্ঠিত ধুতিতে জাবদা খাতা আর সিদ্ধিদাতা গণেশের মূর্তি নিয়ে কালীমন্দিরে যেতে দেখি কেননা বঙ্গদেশে পুজোর প্রথমাংশ সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এদেশ গণেশ চতুর্থীর দেশ নয়, আমরা মাথা বিকিয়ে আছি জগন্মাতার কাছে আর ভোলানাথ শঙ্করের কাছে &#8211; মাতা মে পার্বতী দেবী পিতা দেবো মহেশ্বরঃ।আমরা ধামায় করে সিদ্ধিদাতা গণেশকে নিয়ে জনক -জননীর আদর খাইয়ে আনি কালিমাতার থানে তারপর জাবদা&nbsp; খাতায় হিসাব আরম্ভ করি শুভলাভ লিখে।&nbsp; &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তবে এটা মানতে হবে যে বাঙালি আর বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা তফাৎ আছে বই কি!বাঙালি বলতে তার ভৌগোলিক সংস্থানটুকুর সঙ্গে তার নদ-নদী জল-হওয়া ধুতি-চাদর মৌরলা-ইলিশ শাক-শুক্তোর পাত আর নদী -জলের কাদামাখা মাখো মাখো আবেগ -এসব ঠিক আছে ।কিন্তু বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা দেখনদারী আছে এগজিবিশনিজম আছে, বাঙালিত্বের একটা বাহ্য আরোপন আছে ।সময় বুঝে ধুতি পাঞ্জাবি পরা নির্দিষ্ট দিনে বড় রেস্তোরাঁয় শাক-শুক্তোর খালি গিলে আহা-উহু করা এবং সাময়িক রবীন্দ্রসংগীত -এসব আমার কাছে কোনও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় এমনকী অশ্রদ্ধেয় কোথাও কিছু নয়। কী করবে বাঙালি ঠাকুমা-দিদিমারা নেই চলার মধ্যে সময় নেই, অকারণে আনন্দ নেই কী করবে বাঙালি? ফলত নতুন বছরটাও কিন্তু বাঙালিয়ানার একটা অন্যতম দিন হয়ে উঠেছে ।এটা ভেবে আনন্দ পাওয়ায় ভাল যে আজকে যে দিনটা পালিত হতে হতে ইতিহাস হয়ে উঠেছে সেখানে যদি উৎসমুখে বাঙালির কোনও আত্মচিহ্ন না-ও থাকে তাহলেও পালন-পোষণের মাহাত্ম্য এতটাই যে তা বাঙালির ইতিহাস তৈরি করে দেয়।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গাজন থেকে হালখাতা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 08:45:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10570</guid>

					<description><![CDATA[<p>চড়কপুজো কিন্তু বহু প্রাচীন। সেই তুলনায় গাজন কিন্তু নবীন। ধর্মরাজের উৎসব থেকে গাজনের শুরু।..</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/">গাজন থেকে হালখাতা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কমলেন্দু সরকার</strong></p>



<p>চৈত্রের শুরু বাংলা পঞ্জিকায় উৎসবের শেষ। শুরু পাড়ায় হেঁকে চলা &#8216;জয়বাবা তারকনাথের চরণের সেবা লাগে মহাদেব।&#8217; চটে যাওয়া গেরুয়া খেটে ধুতি আর হাতাওয়ালা দাদু গেঞ্জি পরিহিত একদল চৈত্রের সন্ন্যাসী পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে অন্ন-ভিক্ষা করতেন। এখনও হয়তো করেন। বাড়ির গিন্নিমায়েরা খিড়কির দরজা খুলে একবাটি চাল, কিছুটা ডাল, দুটি আলু, একটি কাঁচকলা সন্ন্যাসীদের ঝুলিতে দিতেন। বাল্যকালে দেখতাম ওই সন্ন্যাসীরা টাকা-পয়সা নিতেন না। কারণটা বুঝতাম না! পরে জেনেছিলাম চৈত্রের শুরু থেকে শেষ, এই একমাস ওঁরা কৃচ্ছ্রসাধন করতেন। টাকাপয়সা ছুঁতেন না। দিনশেষে ভিক্ষার চাল, ডাল, আলু, কাঁচকলা- সব একসঙ্গে মাটির মালসায় রান্না করার পর খেতেন। এমনকী রান্নার নুনও ব্যবহার করতেন না, করতেন সৈন্ধব লবণ। তারপর মাটিতে গায়ের উড়নি বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়তেন। এই সময় এঁদের কোনও যৌন উত্তেজনা বা শারীরিক মিলনও ছিল নিষিদ্ধ। এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করার কারণ অনেক স্বামী-স্ত্রীকেও একসঙ্গে সন্ন্যাস নিতেও দেখা যেত, এখনও হয়তো দেখা যেতে পারে! স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী ছাড়াও বহু মহিলাও থাকতেন। সন্ন্যাসীদের মধ্যে প্রান্তিক মানুষের আধিক্য থাকলেও একাধিক ধনী বা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মানুষও থাকতেন, থাকেনও। আসলে চৈত্র-সন্ন্যাস নেওয়ার পিছনে একটা কারণ থাকে৷ সেই কারণ হতে পারে মানসসিদ্ধি অর্থাৎ দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে কিছু চাওয়া বা আশাপূরণ হয়ে যাওয়ার পর মহাদেবের কাছে নিজেকে সমর্পণ করা সন্ন্যাস নিয়ে। এই চৈত্র-সন্ন্যাসীরা হলেন সবাই শিবের চেলা। লোকবিশ্বাস, গাজনের দিন শিবের বিয়ে হয় দেবী হরকালীর সঙ্গে। এই বিয়েতে সন্ন্যাসীরাই হলেন বরযাত্রী। হয়তো যার জন্য তাঁদের মুখে একটিই মন্ত্র&#8212; &#8216;জয়বাবা তারকনাথের চরণের সেবা লাগে মহাদেব।&#8217; এই মন্ত্রের অদ্ভুত একটা সুর। যে-সুরে মিশে থাকে লোকাচার। এই সুর অন্যকোথাও শুনবেন না।</p>



<p>কলকাতার সেকাল থেকেই চলে আসছে চৈত্রসংক্রান্তির গাজন ও চড়ক উৎসব। এই গাজন আর চড়ক উৎসব জড়িয়ে আছে নীলপুজোর অর্থাৎ শিবের সঙ্গে। চড়কপুজোর মাধ্যমে উৎসবের শেষ। উত্তর কলকাতার ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাজার এবং দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে কলকাতার গাজন উৎসব দেখার মতো! এদিন বেরোয় জেলেপাড়ার সঙ। পুরনো কলকাতায় এর কদর ছিল। বহুদিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়। পুরনো উত্তর কলকাতায় বাবু সংস্কৃতিতে গাজন নিয়ে প্রভূত উত্তেজনা উন্মাদনা ছিল। চৈত্র সংক্রান্তির বিকেলে সন্ন্যাসীরা চড়ক গাছে উঠে পিঠে বাণ ফুঁড়ে ঘোরেন! আবার একাধিক সন্ন্যাসী আবার জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে</p>



<p>শহুরে ব্যস্ততার মাঝেও কলকাতার কিছু এলাকায় এই লোকঐতিহ্য আজও সগৌরবে পালিত হয়।</p>



<p>চড়ক বা গাজন উৎসব নিয়ে সবিস্তারে আলোচনায় আসা যাক। ভয়ংকর কষ্টকর জীবন কাটাতে হয় চৈত্রের চড়ক-সন্ন্যাসীদের। আরও ভয়ংকর হয় চৈত্র সংক্রান্তির বিকালে বা সন্ধ্যায়। সারাদিনের পর চড়কের ঝাঁপ হয় মহাদেবের সামনে। দু&#8217;তিনতলা বাড়ি সমান বাঁশের ভারার ওপর থেকে ঝাঁপ দেন সন্ন্যাসীরা। তাঁদের ঝাঁপ দিতে হয় বটি, কাটারি ইত্যাদি ধারালো অস্ত্র কিংবা আগুনের ওপর। আবার অনেকে জ্বলন্ত কোনও কিছুর ওপর দিয়ে হাঁটেন। কোথাও তৈরি হয় দশতলা সমান চড়ক গাছ তার ওপর চড়ক-সন্ন্যাসীরা পিঠে বাণ বিঁধিয়ে বনবন করে ঘোরেন। চড়ক পুজোর আগের দিন চড়ক গাছটিকে পরিষ্কার করা হয়। জলভরা একটি পাত্রে শিবলিঙ্গ রাখা হয়। এই&nbsp; শিবলিঙ্গটির পরিচয় বুড়ো শিব। আজও এই দৃশ্য কলকাতা শহরে দৃশ্যমান ছাতুবাবুর বাজারের চড়কপুজোয়। কলেজ স্কোয়ারের মেলা এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে।</p>



<p>চড়কপুজোর প্রচলন নিয়ে নানারকম কথা শোনা যায়। তবে চড়ক হল মূলত বাংলার এক অন্যতম সেরা লোকউৎসব। চৈত্রসংক্রান্তির দিন দুই বাংলাতেই হয়ে থাকে চড়কপুজো। চৈত্র মাসে শিবভক্তেরা মহাদেবের উপাসনা করে থাকেন। গ্রামগঞ্জে চালু আছে এক লোককথা, বাণরাজা ছিলেন প্রচণ্ড শিবভক্ত। তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ হয় দ্বারকা অধিপতি কৃষ্ণের। যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাণরাজা অমরত্ব লাভের আশায় চৈত্রসংক্রান্তির দিন অনেক লোকজন নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। উৎসবে আত্মহারা বাণরাজা নিজের শরীরের রক্তপাত করেন শিবের উদ্দেশে। এইদিনটির স্মরণে প্রতি বছরই চড়ক উৎসব পালন করা শুরু হয়।</p>



<p>অনেকেই মনে করেন, পাশুপত সম্প্রদায় এই উৎসব পালন করত প্রাচীনকালে। পাশুপত শৈবধর্ম হল প্রাচীনতম প্রধান শৈব হিন্দু বিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি। মনে করা হয়, খ্রিস্টীয় প্রথমশতক থেকেই বিদ্যমান ছিল। আবার অন্য মতে, পনেরো শতকের প্রায় শেষলগ্নে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামে এক রাজা চড়কপুজোর প্রচলন করেন। তবে, চড়কপুজো&nbsp; কোনওমতেইই রাজা, জমিদার, ধনীব্যক্তিদের উৎসব নয়। মনে করা হয়, হিন্দু সমাজের প্রান্তিক মানুষেরাই এটি পালন করেন। সেইকারণে চড়কপুজোয় পুরোহিত বা ব্রাহ্মণদের কোনও ভূমিকা থাকে না।</p>



<p>চড়ক পুজোর কিছু প্রচলিত লোকসংস্কৃতির রীতি আছে, যা পূর্বে একটা ধারণা দিয়েছি। ভয়ংকর সে রীতি। যা রীতিমতো শিহরন জাগায়। কুমিরের পুজো, জ্বলন্ত আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটা, কাঁটা, বর্শার ফলা&nbsp; বা ধারালো কোনও অস্ত্রের ওপর লাফানো, শিবের বিয়ে, অগ্নিনৃত্য বা শবদেহ নিয়ে নৃত্য ইত্যাদি চড়কপুজোর বিশেষ অঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। তবে,&nbsp; বর্তমানে এইসব রীতির অনেকটাই এখন নেই। ইংরেজ আমল থেকেই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।</p>



<p>গ্রামবাংলায় চড়কপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসে থাকে ভূতপ্রেত বা পুনর্জন্ম। চড়কপুজোর সন্ন্যাসীরা মনে করেন, নানাবিধ শারীরিক যন্ত্রণা হল ধর্মের অঙ্গবিশেষ। সবচেয়ে ভয়ংকর হল চড়ক-সন্ন্যাসীরা যখন পিঠে লোহার শলাকা বা বাণ বিঁধিয়ে চড়কগাছের সঙ্গে ঘোরেন! অনেকে আবার পিঠে, হাতে, পায়ে, কানে, জিভে এফোঁড়-ওফোঁড় করে শরীরের লোহার শলাকা গেঁথে ঝাঁপ দেন কিংবা নৃত্য করেন!</p>



<p>চড়কপুজোর বীভৎসতা ১৮৬৫-তে ব্রিটিশ সরকার আইন করে বন্ধ করে দেয়। তবে আজও গ্রামবাংলার বহু জায়গায় এইভাবে চড়ক পুজো পালিত হয়ে থাকে। চড়কপুজো মূলত দেখা যায় বা পালিত হয়&nbsp; কৃষিপ্রধান অঞ্চলে। কলকাতা শহরেও দেখা গেছে এমন চড়কপুজো।</p>



<p>সারা বাংলা জুড়েই পালিত হয় চড়কপুজো। হাওড়া জেলার বালিগ্রামের কল্যাণেশ্বরতলায় বহুকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে চড়কপুজো বা চড়কের ঝাঁপ। কল্যাণেশ্বর শিবমন্দির বহু পুরনো। শোনা যায়, এই মন্দিরে নাকি পুজো করতে আসতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব। এছাড়া কাছেই পঞ্চাননতলায় বাবা পঞ্চাননমন্দিরের সামনে চড়কের ঝাঁপ আজও সাড়ম্বরে পালিত হয়। নদীয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবের গাজন উপলক্ষে মেলা বসে। সেই মেলা শতাধিক বছরের পুরনো। তারকেশ্বর ধামেও গাজনের মেলা বসে। বাঁকুড়ার খামারবেড়ে অঞ্চলে শিবের গাজন এবং মেলা হয়। হুগলির চণ্ডীপুর গ্রাম ছাড়াও আরও বেশকিছু জায়গায়  শিবের গাজন উপলক্ষে চড়কপুজোর মেলা বসে। প্রচুর লোক সমাগমও হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="660" height="443" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM.jpeg" alt="" class="wp-image-10625" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM.jpeg 660w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/WhatsApp-Image-2026-04-13-at-10.13.40-AM-300x200.jpeg 300w" sizes="(max-width: 660px) 100vw, 660px" /><figcaption class="wp-element-caption">বিদেশি শিল্পীর চোখে উনিশ শতকের কলকাতার চড়ক</figcaption></figure>



<p>চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন বাড়ির মহিলারা সংসার এবং সন্তানের মঙ্গলকামনায় পালন করেন নীলষষ্ঠী। এটি বাঙালি গৃহিণীদের ব্রত। নীল বা নীলকণ্ঠ হল শিবের আর এক নাম। কোথাও কোথাও&nbsp; নীলসন্ন্যাসী এবং শিব-দুর্গার সঙ সেজে নীলের মূর্তি নিয়ে গান গাইতে গাইতে তাঁরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘোরেন। গ্রামের মানুষেরা তাঁদের ভিক্ষা দান করেন।</p>



<p>কিছু কিছু জায়গায় চৈত্রসংক্রান্তির দিন চড়কপুজো বা উৎসব হলেও তা চলে বৈশাখ মাসের প্রথম কয়েক দিনও। প্রকাণ্ড একটি গাছের কাণ্ডকে ‘চড়ক গাছ’ বলে অভিহিত করা হয়। চড়ক গাছটি সারাবছর জলে ডোবানো থাকে। চৈত্রসংক্রান্তির দিন গান গেয়ে বাজনা বাজিয়ে শিবের নাম জয়ধ্বনি দিয়ে জল থেকে তোলা হয় গাছটি।। কিছু জায়গায় তোলা হয় আগের দিন। চড়ক গাছ পুজো করে মাটিতে সোজা করে পুঁতে দেওয়া হয়। আগায় বাঁধা হয় কাঠ। গাছটি হল শিবের লিঙ্গের প্রতীক, আর পার্বতীর প্রতীক জমি। অর্থাৎ গাছটি হল শিবের লিঙ্গ, আর জমি হল পার্বতীর যোনি। চড়ক হল শিব-পার্বতীর মিলনের উৎসব। জমির উর্বরতা বৃদ্ধির কামনা নিয়ে কৃষকেরা মাতেন চড়ক উৎসবে। বোঝাই যাচ্ছে, চড়কপুজো হল কৃষিকাজের উন্নয়নের উৎসব।</p>



<p>এ-প্রসঙ্গে লোকসাহিত্য, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, লেখক, গ্রন্থকার স্বপন ঠাকুর বললেন, &#8220;সারাদেশের থেকে বাংলায় দেব-দেবীদের নিয়ে আলাদা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেমন, দেবাদিদেব মহাদেবকে কৃষিকাজের দেবতা হিসেবে মানা হয়। এ আমরা দেখেছি &#8216;শিবায়ণ কাব্য&#8217;-এ। গৌরীকে বিয়ে করে শিব গৃহস্থ হয়েছেন। সন্তানও হয়েছে। তখন গৌরী বললেন, &#8216;তুমি এবার কৃষিকাজ শুরু করো মর্তে।&#8217; তখন শিব বলেন, &#8216;চাষবাস করতে গেলে তো বীজ দরকার। বীজ কোথায় পাওয়া যাবে।&#8217; তখন শিব এবং গৌরীর মধ্যে কামোত্তেজনা দেখা গেল। শিবের বীর্যপাত থেকে ধানের বীজ সৃষ্টি হল। মর্তে শুরু হল ধান চাষ। এই ধানের নাম কামোদ। কাম থেকে সৃষ্টি তাই কামোদ। এই নামের ধান আমরা পেয়েছি।</p>



<p>স্বপন ঠাকুর আরও জানান, &#8220;চড়কপুজো কিন্তু বহু প্রাচীন। সেই তুলনায় গাজন কিন্তু নবীন। ধর্মরাজের উৎসব থেকে গাজনের শুরু।&#8221;</p>



<p>মানুষ তো প্রথম থেকেই চাষবাসের কাজে লাঙল ধরা বা ব্যবহার করতে শেখেনি। সেই প্রাচীনকালে মানুষ যখন থেকে লাঙলের ব্যবহার শিখল তখন চাষের উপযোগী জায়গা বাছাই করে স্থায়ীভাবে বাস করতে শেখে এবং শুরু করে। এবং শিখেছিল বিনিময়প্রথা। চালের বদলে ডাল, ডালের বদলে আনাজপাতি ইত্যাদি ইত্যাদি পেতে লাগে।</p>



<p>দেখা গেল, সবাই মিলে যে যার মতো বিনিময়প্রথা চালাতে গেলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। তাই কোনও একজনকে দায়িত্ব হল। তার কাছে সবাই এসে তাদের চাষের বাড়তি সব দিয়ে যেত বদলে যা প্রয়োজন নিয়ে যেত। এই প্রথা বা system চলতে চলতে দোকান তৈরির ভাবনা মাথায় আসে সেকালের মানুষদের। এর হিসাবপত্র রাখার জন্য খাতা তৈরি হল। হালজাত উৎপাদিত জিনিসপত্রের হিসাব রাখা হত বলে খাতাটিও নাম দেওয়া হয়েছিল &#8216;হালখাতা&#8217;। পুরনো হিসাবপত্রের খাতা বন্ধ করে খোলা হত নতুন খাতা। তাই দিনটি পরিচিত হল হালখাতা নামেই।</p>



<p>পুরনোকালের হালখাতা মাথায় রেখে মুঘল সম্রাট আকবর জমিদারদের বাকি খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান &#8216;পুণ্যাহ&#8217; চালু করেছিলেন পয়লা বৈশাখ। তাই অনেকেই বলেন, পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ চালু করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। আদৌ তা নয়। জমিদারদের ওপর নবাবি কর্তৃত্ব কায়েম রাখতে পয়লা বৈশাখ &#8216;পুণ্যাহ&#8217; প্রথা চালু করেছিলেন নবাব মুর্শিদকুলি খান। সেসব ছিল এলাহি ব্যাপার!</p>



<p>তবে বলে রাখা প্রয়োজন হালখাতার সঙ্গে বাংলা নতুন বছর উদযাপনের কোনও সম্পর্ক নেই।</p>



<p>একসময় ছিল শারদোৎসব নতুন বছর শুরুর উৎসব। দুর্গাপুজোর অষ্টমী- নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোর সময় ছিল বাংলা নতুন বছরের শুরু। এইসময় ১০৮ প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়েই দেবীর কাছে প্রার্থনা জানানো হত নতুন বছর যেন আলোকোজ্জ্বল হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="745" height="561" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw.png" alt="" class="wp-image-10575" style="aspect-ratio:1.3279857397504455;width:525px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw.png 745w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/04/Kamalendu-Halkhata-raw-300x226.png 300w" sizes="(max-width: 745px) 100vw, 745px" /></figure>



<p>এসব আদ্যিকালের কথা। আগেই বলেছি হালখাতা আর বাংলা নববর্ষ পালন এক নয়। বাংলা নতুন বছরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সকলের বাড়িতে যেতেন। মিষ্টিমুখ করতেন। আর একটি চমৎকার ব্যাপার ছিল সেইসময়। শহরে চাকরি করতে যাওয়া বাঙালিবাবুরা চৈত্রসংক্রান্তির দিন অফিসের কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরতেন। গ্রামের বাড়ির সবাই অপেক্ষায় থাকতেন নতুন কিছু পাওয়ার আশায়। মিষ্টি, নতুন বছরের জামাকাপড় তো থাকতই। আর একটি জিনিস থাকত, সেটি হল নতুন পঞ্জিকা। বাড়ির বিধবারা একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা দেখে নিতেন। এছাড়াও কেউ কোনও শুভকাজে যাওয়ার আগে বাড়ি থেকে বেরোবার শুভসময়টি দেখে নিতেন। বিশেষ করে যাঁরা মামলামকদ্দমার জন্য আদালতে যেতেন তাঁরা। এই নতুন পঞ্জিকা পড়া চলত কিন্তু হিন্দু-মুসলমান সবাইয়ের বাড়িতেই। পঞ্জিকা পড়া শেষে মিষ্টিমুখ হত। বহু বাড়িতেই বাড়ির গিন্নিরা মিষ্টি বানাতেন। বহুরকম মিষ্টি বানানো হত সারারাত। সেসব দিন অস্তাচলে।</p>



<p>এখন তো বাংলা নববর্ষের কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখা যায় ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন। কোন হোটেল-রেস্তরাঁয় কী কী বাঙালি খাবার মিলবে। কোনও কোনও হোটেল-রেস্তরাঁ আবার খাওয়ার তালিকার সঙ্গে খাবার পরিবেশনকারী পুরুষদের ধুতি-পাঞ্জাবি আর বাংলার শাড়ি পরা মহিলাদের ছবি দেন। এখন তো আবার অর্ডার দিলেই বাড়ি বসেই খাবার পাওয়া যায় পছন্দমাফিক।</p>



<p>বাল্যকালে মজা ছিল বাংলা নববর্ষের দিন সন্ধেবেলা। চৈত্র মাসের শেষের দিকে পাতলা কাগজের একটি গোলাপি খাম আসত বাড়িতে। সোনার দোকানের হালখাতার আমন্ত্রণ। লালকালিতে লেখা, তার ওপর অভ্র বা সোনালি গুঁড়ো ছড়ানো আমন্ত্রণপত্র। একাধিক আমন্ত্রণপত্র। পয়লা বৈশাখের সকালেই ঠিক হয়ে যেত কে কোনটাই যাবে। সবাই চাইত বড় দোকানে যেতে।</p>



<p>হালখাতার পুজো হত সাতসকালে। অনেকেই দোকানপাটে পুজোর ঝামেলা না-করে কালী মন্দিরে সেরে নিতেন। পুজো বলতে লাল খেরোর খাতা আর লক্ষ্মী-গণেশ পুজো। পুজোর শেষে দোকানে ফিরে পুরনো মূর্তি বিসর্জন দিয়ে নতুন অধিষ্ঠিত করা। আর সন্ধ্যা হলেই মালিক ছোট্ট একটি ডেস্কের ওপর লাল হালখাতাটি খুলে আগাম দেওয়া অর্থের পরিমাণ লিপিবদ্ধ করে, পুরনো খাতার বাকি অর্থ নিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিতেন।</p>



<p>আর অন্যদিকে সন্ধে হলেই সেজেগুজে বাড়ির বড়রা রওনা হতেন হালখাতা সারতে। বাড়ির কর্তার পরনে চওড়া পাড়ের ধুতি আর গিলে করা আদ্দির পাঞ্জাবি। ধুতির কোঁচা থাকত পাঞ্জাবির পকেটে। আর বুক পকেটে কড়কড়ে একটা বড় নোট। বাইরে থেকে দেখা যেত। আর সঙ্গে গিন্নির পরনে ঢাকাই শাড়ি। সঙ্গে বাড়ির ছোট বাচ্চাটি। দোকানে ঢুকলেই কর্মচারীটি গোলাপজল ছিটিয়ে দিতেন। তারপর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হত শরবত। টাকা পাওয়ার পর ধরিয়ে দেওয়া হত একবাক্স মিষ্টি আর ক্যালেন্ডার। বাচ্চাটির কাজই ছিল মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করা। বাড়ি ফিরে হিসেব হত কতগুলো পাওয়া গেছে! কেননা হালখাতার আমন্ত্রণ থাকত সোনার দোকান থেকে মুদির দোকান। পয়লা বৈশাখের হালখাতার দিনগুলো ছিল একেবারে ভিন্নরকম। এখনও আছে তবে প্রযুক্তির ব্যবহার চলে এসেছে। আমন্ত্রণপত্রও আর আসে না। চলে আসে হোয়াটসঅ্যাপে। টাকার আদানপ্রদানও হয় অনলাইনে।</p>



<p>বাঙালির পয়লা বৈশাখের হাওয়া লেগেছিল টালিগঞ্জে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। সে যে কবে লেগেছিল কেউই বলতে পারে না। তবে সে হালখাতা নয়, ছিল বাংলা সিনেমার মহরত। পয়লা বৈশাখে মহরতের দিন টালিগঞ্জের প্রতিটি স্টুডিয়ো সেজে উঠত ফুলে ফুলে! সবাই নতুন পোশাক পরে স্টুডিয়োয় আসতেন। প্রযোজক পরিচালকেরা কালীমন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসতেন। সেই প্রসাদী-ফুল ক্যামেরায় ঠেকিয়ে নতুন ছবির মহরত শট নেওয়া হত। এমনকী উত্তমকুমারকেও দেখা গেছে মহরত শটের সূচনায় ক্লাপস্টিক দিতে। সেসব দিন ছিল ষোলোআনা বাঙালির।</p>



<p>কোনও কোনও স্টুডিয়োতে দেখা যেত প্যান্ডেল বেঁধে খাওয়াতে। সেই অনুষ্ঠানে সকলের অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো। একবার পয়লা বৈশাখ মহরতের দিন খাওয়ার টেবিলে মুখোমুখি দুই কিংবদন্তি অভিনেতা ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি সান্যাল। টেবিল চেয়ার ছিল সেকালের বিয়েবাড়ির মতো। লম্বা লম্বা টেবিল আর ফোল্ডিং কাঠের চেয়ার। ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি সান্যাল, দুজনের মধ্যে ছিল ঠাট্টা মজার সম্পর্ক। ঘটনাটি কী ঘটেছিল সেদিন: ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি&nbsp; সান্যালের একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল একবার পয়লা বৈশাখের মহরতে। সেদিন ছিল ছবি বিশ্বাসের প্রথম ছবির প্রযোজকের নতুন ছবির মহরত। চল্লিশের দশকে কোনও একটা ছবির মহরত অনুষ্ঠানে কালী ফিল্মস স্টুডিয়োতে ভূরিভোজ হচ্ছে। কালী ফিল্মসের স্টুডিয়ো বলতে এখন যেটি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো বলে পরিচিত। যাইহোক, ওই মহরত অনুষ্ঠানে বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি শিল্পীরা সবাই হাজির। ছবি বিশ্বাস আম খেতে ভালবাসতেন খুব। কানাঘুষো শোনা গেল প্রযোজক ল্যাংড়া আমের ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে পাহাড়ি সান্যালের পছন্দের খাবার ছিল ছানার ডালনা। তিনিও খবর নিয়ে জেনেছেন তাঁর প্রিয় পদটি আছে দুপুরের মেনুতে। কিন্তু খেতে বসে দেখা গেল দুটোর কোনও পদটিই নেই। ছবি বিশ্বাসকে লক্ষ করে পাহাড়ি&nbsp; সান্যাল বললেন, ‘টাকায় টাকা বাড়ে, গরমে বাড়ে ঘাম,&nbsp; প্রোডিউসার এত কিপটে, পাতে দেয়নি আম!’ ছবি বিশ্বাসও সঙ্গেসঙ্গে বললেন, ‘হায়রে ছানার পাই না দেখা, কোথায় গেলি তুই?, তোর অভাবে ভরলো না পেট, হাত-পা তুলে শুই!’ এইরকম মজার সম্পর্ক ছিল ওঁদের দু&#8217;জনের ভিতর। আর কত কত মজা হত সেকালের পয়লা বৈশাখের মহরতে। এক পরিচালক খুব হতাশ হয়ে বললেন, টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়ার পয়লা বৈশাখে বাঙালির বনেদিয়ানাটাই হারিয়ে গেল!</p>



<p>শুধু স্টুডিয়োপাড়ায় নয়, পয়লা বৈশাখের সেই মজা, আনন্দ, বাঙালিয়ানার গন্ধ কোথাও আর তেমনভাবে পাওয়া যায় না!</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/">গাজন থেকে হালখাতা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bengali-poyla-baishakh-and-old-traditions-of-gajan-and-halkhata/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মেয়েদের দিন</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 07:41:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[international women's day]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10421</guid>

					<description><![CDATA[<p>নারীদের সংগ্রাম, নারীদের প্রত্যয়, নারীদের প্রগতি।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/">মেয়েদের দিন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু একটি দিনের উদযাপন নয় বরং আত্মসমীক্ষা,মেয়েদের আগেকার এবং এখনকার জীবনে আলো ফেলার দিন।পিতৃতান্ত্রিক সমাজে মেয়েদের আপন অধিকার অর্জন দুরহ ,দুঃসাধ্য হলেও সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের দুর্দমনীয় সংগ্রামের পথ চলায় এসেছে বাধা এবং সেই বাধা কাটিয়ে সাফল্যের কাহিনী।আজ আমরা আলো ফেলব এমন কিছু দৃষ্টান্তমূলক খবরে।</p>



<p>আসুন পরিচয় করিয়ে দিই শাহীন মালিকের সঙ্গে।শাহীন একজন অ্যাসিড অ্যাটাকে আক্রান্ত মৃত্যুঞ্জয়ী এবং প্রতিবন্ধী আন্দোলনকারী মহিলা।শাহীন সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ দাখিল করেছে এই অ্যাসিড আক্রান্ত মেয়েদের জন্য,যেখানে রুমানের জন্যও ন্যায়বিচার চাইছে,রুমানের স্বামী রুমানকে&nbsp; ভয়ঙ্কর অত্যাচার করে অ্যাসিড খেতে বাধ্য করায় রুমানের কণ্ঠনালী নষ্ট হওয়ায় প্রচুর চিকিৎসার পরেও ২৮ বছরের রুমানের ওজন মাত্র ২১ কেজি।শাহীনের জানিয়েছেন,&#8217; অ্যাসিড জোর করে খাওয়ানো হয়েছে এমন আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিকৃতি শরীরের ভেতরে হয়, তাই তা চোখে পড়ে না। কিন্তু তাঁদের জীবন ভীষণ কষ্টকর হয়ে ওঠে, কারণ অসংখ্য অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও তাঁদের শ্বাস নিতে, কথা বলতে এবং খাবার গিলতে মারাত্মক অসুবিধা হয়।&#8217;</p>



<p>৪২ বছর বয়সী শাহীন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অ্যাসিড আক্রমণের শিকার মানুষদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে চলেছেন। একজন আক্রান্ত হিসেবে নিজের যে কঠিন লড়াইগুলো তিনি পেরিয়ে এসেছেন, সেখান থেকেই অন্যদের সাহায্য করার এই অদম্য সংকল্পের জন্ম হয়েছে।</p>



<p>২০০৯ সালে উত্তর হরিয়ানায় নিজের কর্মস্থলের বাইরে তাঁর ওপর অ্যাসিড হামলা হয়। তখন মালিকের বয়স ছিল কুড়ির কোঠায় এবং তিনি একজন ছাত্র-পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতেন। এই হামলার পর তিনি ২৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।</p>



<p>১৬ বছর ধরে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন অপরাধীদের শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য। তবে গত ডিসেম্বর একটি ট্রায়াল কোর্ট তাঁদের খালাস দিলে মালিক ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন। তবু তিনি পরাজিত নন ,রায়ের বিরুদ্ধে তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।আমাদের প্রার্থনা আর শুভেচ্ছা শাহীনের সঙ্গে আছে।</p>



<p>২০২৫ সালে ন্যাসকম ফাউন্ডেশন আর এইচএসবিসি ৪০০০ এর বেশি নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ব্যবসার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে।যার ফলে গ্রমাঞ্চলের মহিলারা এখন অনলাইনে তাদের সামগ্রী বিক্রি করতে পারছেন,কিউ আর কোডে পেমেন্ট পাচ্ছেন,সমাজ মাধ্যমের সাহায্যে নিজেদের ব্র্যান্ড তৈরি কোরতে পারছেন।এখানে উল্লেখযোগ্য পশ্চিমবঙ্গে এমএসএমই রেজিস্ট্রেশনের সূত্র অনুযায়ী&nbsp; ৬২% মাইক্রো উদ্যোগ এখন নারী নেতৃত্বাধীন।</p>



<p>সূত্র অনুযায়ী জনপ্রিয় লক্ষীর ভান্ডারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল সংখ্যক নারীর হাতে টাকা আসার সুবাদে মেয়েদের পড়াশোনা চলছে,স্বাস্থ্যব্যয় হচ্ছে,কেউ কেউ ছোট ব্যবসাও শুরু করছেন।অর্থনীতিবিদরা বলেন যে পরিবারে নারী নগদ অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেন, সেখানে পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা তিনটিই বাড়ে।</p>



<p>&nbsp;গত বছরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভারতের থিম ছিল &#8211; বিকশিত ভারত নারী শক্তি।এই উদ্যোগে</p>



<p>মহিলা বিজ্ঞানী,উদ্যোক্তা,পুলিশ,কৃষক,স্টার্ট-আপ লিডারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ &#8216;চেঞ্জ দ্যা সোচ- কন্যাকুমারী -কাশ্মীর&#8217; ভারতের ২০টির বেশি শহরে নারীদের,সঞ্চয়,বিনিয়োগ,বিমা,অবসর পরিকল্পনা শিখিয়েছে।এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি কারণ</p>



<p>ভারতে ৭৫% নারী আজও নিজের নামে বিনিয়োগ করেন না।এই কর্মসূচি সেই মানসিক দেয়াল ভাঙছে।</p>



<p>&nbsp;তথ্যসূত্র -বিবিসি উওমেন,ন্যাসকম ফাউন্ডেশন,ভারতের নারী শিশু উন্নয়ন মন্ত্ৰক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, অর্থ ও নারী উন্নয়ন দপ্তর।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/">মেয়েদের দিন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/international-womens-day-and-plight-and-powerful-aspects-of-todays-women/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উপার্জনেও পরাধীন</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 07:30:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Women Power]]></category>
		<category><![CDATA[women's rights]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10416</guid>

					<description><![CDATA[<p>উদয়াস্ত পরিশ্রমের টাকা নিজের ইচ্ছেমতো খরচের স্বাধীনতা নেই।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গত শতাব্দীর তুলনায় এখন অনেক বেশি নারী উপার্জনশীল এবং এই বিষয়টি নারী স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।কিন্তু দেখা গেছে যে সেই উপার্জিত অর্থের ওপর সেই নারীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং উদয়াস্ত পরিশ্রম করার পরেও সেই ঘাম রক্ত ঝরানো অর্থ বাধ্য হয়ে নিজের স্বামী বা পরিবারের জন্য নিয়মমাফিক দিয়ে দিতে হয়। কাজ করে আয় করা অনেক নারী আজ ঘরে বাইরে উভয় জায়গায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র আয় করা কি মানে তার স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা পাওয়া? অর্থ উপার্জনের পরও সেই টাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেক মেয়ের হাতেই নেই।</p>



<p>মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের ১৩টি ফোকাস গ্রূপের মহিলাদের নিয়ে স্টেইনার্ট ২০২৩&nbsp; সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১০,০০০+ শ্রমজীবী নারীর মধ্যে প্রায় ৯০% সদস্য তাদের আয়ের বড় অংশ ঘর-সংসারে সরাসরি খরচ করেন। তাও হয়েছিল, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের খরচ ও অন্যান্য জরুরি খরচে।কিন্তু প্রায় ৬৭% নীচের ক্ষেত্রেও তারা নিজেই আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বরং স্বামী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যের অনুমতি বা সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেন।এই বাস্তবতা শুধু অনুভূতিই নয়, গবেষণাও বারংবারই প্রমাণ করেছে&nbsp; নারীর উপার্জন থাকলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত-ক্ষমতা তার নিজের হাতে থাকা খুব কমই ঘটে।ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে -৫ রিপোর্টে প্রকাশ সার্ভেতে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে ৪৪% মহিলা যারা তাদের উপার্জন থেকে যা সঞ্চয় করেছেন তাতে তাদের অধিকার নেই।অল্পশিক্ষিত মহিলাদের মধ্যে ৫০% মহিলাদের নিজস্ব উপার্জনের ওপর কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>যে বাংলাদেশে মাক্রোফাইনান্স সুপ্রসিদ্ধ সেখানেও সমীক্ষায় দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমন হয়েছে যে একবার সেই লোন মেয়েদের হাতে আসার পরেই হাতবদল হয়ে যায় সেখানে আর তার কোনো অধিকার থাকে না।</p>



<p>এই অসাম্য,অন্যায় অবিচারের পাশে অনুল্লেখিত থাকে বিয়ের সময় মেয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে দেওয়া গয়না শ্বশুরবাড়িতে কেড়ে নেওয়া অথবা বাধ্য হয়ে মেয়েদের দিয়ে দেওয়ার কথা।</p>



<p>জীবন থেকেই গল্প ।বাংলা গল্প উপন্যাসে মেয়েদের বিয়ের সময় নিজের গয়না শ্বশুরবাড়ি, স্বামী,শাশুড়ির হাতে নিদারুণ লাঞ্ছনার কথা আমাদের অজানা নয়।রবীন্দ্রনাথের &#8216;দেনা পাওনা&#8217; গল্পে উনি তুলে ধরেছেন পণ প্রথার কুফল ও বাঙালি জীবনের বিষময় বেদনার রুদ্ধ ইতিহাসকে।সমাজ সংসারের নির্মমতায় যৌতুকের দায়ে নিরুপমার মৃত্যুর কথা।হৈমন্তী গল্পে হৈমন্তীর বয়স নিয়ে শাশুড়ির ভর্ৎসনায় হৈমন্তীর সুতীক্ষ্ণ প্রতিবাদ ,&#8217;আমার বাবা তো কখনোই মিথ্যা বলেন না ।&#8217;এই একটি মাত্র বাক্যের মধ্যে দিয়ে সুশিক্ষা,রুচিবোধ ও স্নিগ্ধ মনোভাবসম্পন্ন হৈমন্তীর প্রতিবাদী সত্তা প্রকাশ পায়।</p>



<p>শরৎচন্দ্রের গল্প-উপন্যাসে রক্ষণশীল সমাজে নারীদের ওপর চলা চরম অন্যায়, অবমাননা ও শোষণের চিত্র ফুটে ওঠে। বিধবা নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, সতীত্বের কঠোর মাপকাঠি এবং দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট নারীদের কথা তিনি সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন। তাঁর নারী চরিত্ররা প্রায়শই পিতৃতান্ত্রিক সমাজের শৃঙ্খল ভেঙে প্রতিবাদী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। &#8216;নারীর মূল্য&#8217; প্রবন্ধে বলেছেন ,&#8217;মণি-মাণিক্য মহামূল্য বস্তু, কেন না, তাহা দুষ্প্রাপ্য। এই হিসাবে নারীর মূল্য বেশী নয়, কারণ, সংসারে ইনি দুষ্প্রাপ্য নহেন। জল জিনিসটা নিত্য-প্রয়োজনীয়, অথচ ইহার দাম নাই। কিন্তু যদি কখন ঐটির একান্ত অভাব হয়, তখন রাজাধিরাজও বোধ করি একফোঁটার জন্য মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্নটি খুলিয়া দিতে ইতস্ততঃ করেন না। তেমনি—ঈশ্বর না করুন, যদি কোনদিন সংসারে নারী বিরল হইয়া উঠেন, সেই দিনই ইঁহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে আজ নহে। আজ ইনি সুলভ।&#8217;</p>



<p>সাম্প্রতিক গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, যা ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা পরিচালিত এক অভিনব গবেষণা-ভারতের নাগরিক আচরণ, জননিরাপত্তা, লিঙ্গ-মানসিকতা, বৈচিত্র্য ও বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এই সমীক্ষা দেশের নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।</p>



<p>সারা দেশ থেকে ৯,০০০-এরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬৯% মানুষ মনে করেন নারীরা তাঁদের উপার্জিত অর্থ নিজেরাই পরিচালনা করতে সক্ষম হওয়া উচিত। তবে উদ্বেগজনকভাবে ৩১% মানুষের বিশ্বাস, আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের পরিবারের অনুমতি প্রয়োজন। আঞ্চলিক বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো, কেরালাতে ৯১% মানুষ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন, অথচ ওড়িশাতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৭%-এ।</p>



<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি,নারী অর্থ উপার্জন করলেই যে সেই অর্থ ব্যয়ের ওপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে, তা নয়। সমীক্ষার এই পরস্পরবিরোধী তথ্য সমাজের এক গভীর দ্বন্দ্বকে সামনে আনে—নারীদের কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হলেও, অনেকের ধারণা তাঁদের উপার্জন পরিবারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত। গভীরভাবে প্রোথিত লিঙ্গ-ধারণা, সামাজিক প্রত্যাশা, ঐতিহ্যগত পারিবারিক ভূমিকা এবং পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা নারীদের আর্থিক স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। ফলে পরিবারে আর্থিক অবদান রাখার পরও অনেক নারী প্রকৃত অর্থে অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল অবস্থাতেই থেকে যান।&nbsp;</p>



<p>পরম পরিতাপের বিষয় আগেকার কঠোর সামাজিক অনুশাসনে মেয়েদেরকে পর্দানশীন এবং অশিক্ষিত করে রাখা হওয়ার সময় থেকে আজকের পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে মেয়েদের আত্মমর্যাদা এবং আত্মউপার্জনের পথ খুলে গিয়েও সেই বাড়ির ও বাইরের যুদ্ধ সামলানোর পরেও যদি মেয়েদের নিজের উপার্জিত অর্থ নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করার স্বাধীনতা না থাকে তাহলে প্রকৃত নারী স্বাধীনতা,নারীশক্তির উন্মীল প্রকাশ হয় না। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তথ্যসূত্র- স্টেইনার্ট সমীক্ষা ২০২৩,ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ ডাটা সার্ভে (NHFS -5 ),ওয়র্ক রিলেটেড ডিসিশন মেকিং ,ম্যারেড উওমেন ইন্ডিয়া-দ্য ইকোনোমিক অ্যান্ড লেবার রিলেশনস রিভিউ), গ্রস ডোমেস্টিক বিহেভিয়ার (GDB) সমীক্ষা, ইন্ডিয়া টুডে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/">উপার্জনেও পরাধীন</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/earning-women-can-not-spend-at-her-wish-due-to-societal-pressure/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
