<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Uttam Kumar -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/tag/uttam-kumar/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Thu, 18 Sep 2025 05:35:46 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Uttam Kumar -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উত্তম কেন সর্বোত্তম</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Sep 2025 05:35:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9375</guid>

					<description><![CDATA[<p>'উত্তমের মতো কেউ নেই, উত্তমের মতো কেউ হবেও না।; - সত্যজিৎ রায়</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/">উত্তম কেন সর্বোত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কমলেন্দু সরকার</p>



<p>দেখার সুযোগ পেলেই উত্তমকুমারের কয়েকটি ছবি কখনওই ছাড়ি না। যেমন, &#8216;অমানুষ&#8217;, &#8216;সপ্তপদী&#8217;, &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;, &#8216;নায়ক&#8217;, &#8216;বনপলাশীর পদাবলি&#8217; ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুদিন আগেই দেখছিলাম পরিচালক শক্তি সামন্ত-এর &#8216;অমানুষ&#8217; (১৯৭৪)। ছবিটি দেখছি আর অবাক হচ্ছিলাম! ছবিটি &nbsp;আউট অ্যান্ড আউট কমার্শিয়াল ফিল্ম, কিন্তু উত্তমকুমারের অভিনয়! &nbsp;জাস্ট &nbsp;ভাবা যায় না! বিশেষ করে কয়েকটি জায়গায়।</p>



<p>বাজারে অমর সিং পিছনে পড়ে লেখার। লেখা হলেন মধুসূদন চৌধুরীর প্রেমিকা। ওঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সেই সম্পর্কে আপাতত স্থগিত। অমর সিংকে উপযুক্ত শিক্ষা দেন মধু। প্রচণ্ড মারামারি পর নৌকায় এসে দাঁড়ান। আঙুলে থাকা আংটির দিকে তাকান মধু। মুখে তাঁর স্মিত হাসি। সেই হাসি ভাললাগার ইঙ্গিত করে। এই হাসির ইঙ্গিত কিন্তু দর্শককে বুঝতে দেন না মধু অর্থাৎ উত্তমকুমার। হাসি লেগেই থাকে ঈষৎ খোলা মুখের ঠোঁটের ডগায়। এই হাসির কারণটি পাওয়া যায় পরে।</p>



<p>একদিন একটি আংটি লেখা অর্থাৎ শর্মিলা ঠাকুর পরিয়ে দেন মধুকে। সেইসময় মধুসূদন চৌধুরী আর লেখার সম্পর্ক প্রেমের৷ তারপর লেখা বলেন, &#8220;আমি যখন থাকব না তখন আমাকে মনে করিয়ে দেবে।&#8221;</p>



<p>সত্যিই তো, বেঁচে থেকেও লেখা নেই মধুর বর্তমান যাপনচিত্রে। উত্তমকুমারের মুখে সেই হাসি, যে-হাসি দর্শক দেখেন অমর সিংয়ের সঙ্গে মারপিটের পর ফাঁকা নৌকায়৷ নৌকার সেই হাসি, যখন তিনি মধু, পরিচিতি গুন্ডা। আর লেখার আংটি পরিয়ে দেওয়ার সময় সেই হাসি, যখন তিনি জমিদার ভাইপো মধুসূদন চৌধুরী। দু&#8217;টি হাসিই সুন্দর এবং অদ্ভুতভাবে মিল আছে। গুন্ডা হোক বা জমিদার ভাইপো, দুই ঘটনার মূলে আছেন লেখা, যিনি মধুর প্রেমিকা৷ ওই জায়গাটা কলুষিত করতে চান না মধু। তাই দু&#8217;টি ঘটনার দু&#8217;টি হাসির ভিতর চমৎকার মিল থাকে। দু&#8217;টি দৃশ্যর ভিন্ন ভিন্ন সময় শুটিং  হয়েছে। কিন্তু উত্তমকুমার অপূর্ব  সিনক্রোনাইজড  করেছেন৷ খুব ভালভাবে লক্ষ করলে হাসির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। খুব বড় মাপের অভিনেতা না হলে এটা হয় না।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="670" height="399" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush.png" alt="" class="wp-image-9377" style="aspect-ratio:1.6791979949874687;width:517px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush.png 670w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush-300x179.png 300w" sizes="(max-width: 670px) 100vw, 670px" /></figure>



<p>দারোগাবাবুর কাছে চাবুক খাওয়ার পর যখন ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে যান মধুর দুই শাগরেদ তখন মধু আপত্তি করেন৷ এই ডাক্তারবাবু লেখার দাদা। মধুর কোনও আপত্তি শোনেন না ডাক্তারবাবু। বলেন, &#8220;মধু, তোমাকে সবাই ভুল বুঝলেও, আমি কিন্তু ভুল বুঝি না তোমাকে।&#8221; এই সময় উত্তমকুমার মুখটি সামান্য ঘুরিয়ে বলছেন, &#8220;সত্যি বলছেন!&#8221; ডাক্তারবাবুর প্রতি মধুর বিস্ময়, অবিশ্বাস থেকে বিশ্বাসে উত্তরণ, সবটাই উত্তমকুমার ধরেন তাঁর মুখের ভাবপ্রকাশে এবং দৃষ্টিতে। এবং সেই এক্সপ্রেশন তিনি&nbsp; হোল্ড করেন বেশ কয়েক সেকেন্ড! ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই শটটি যাঁরা অভিনয় করেন তাঁদের কাছে শিক্ষণীয়। এরপর ডাক্তারবাবু চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর লেখা এসে দরজায় দাঁড়ান। উত্তমকুমার লেখার দিকে পিছন ফিরে৷ তিনি লেখা অর্থাৎ শর্মিলার মুখের ভাবপ্রকাশ দেখতে পান না৷ কিন্তু লেখা যখন&nbsp; বলেন, &#8220;দোষ করলেই শাস্তি পেতে হবে। তাই শাস্তি পেয়েছে।&#8221; তৎক্ষণাৎ উত্তমকুমার ডাক্তারবাবুর চিকিৎসা না-নিয়ে জামাটি পরে বেরিয়ে যান ডাক্তারখানা থেকে৷ এই যে লেখা তাকে প্রথম থেকেই ভুল বুঝছে, তার বিরুদ্ধাচারণ করেন মধু। এবং বলেন, &#8220;সুন্দরবনের জন্তুজানোয়ারেরা এইভাবেই বেঁচে থাকে৷ তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।&#8221; এই সংলাপ ডাক্তারবাবুর উদ্দেশে নয়, লেখার বিরুদ্ধে। সেটা কিন্তু বোঝা যায় উত্তমকুমারের অভিনয়ে। এই মুহূর্তে উত্তমকুমারের মুখের ভাবপ্রকাশ একেবারে অনবদ্য! আসলে মহিম হালদারের ষড়যন্ত্রের কারণে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বহারা মধু। গুন্ডামি তাঁর পেশা নয়, অন্যায় করতেও নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গুন্ডামি৷ একজন জাত গুন্ডা, পাকেচক্রে পড়ে আর একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক গুন্ডা, দুটোর বিস্তর ফারাক। একজন নৃশংস, অন্যজনের মধ্যে ভদ্রতা, ভালবাসা ইত্যাদি সব থাকে। তার গুন্ডামি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ধরনের গুন্ডা চরিত্রে অভিনয় করার সময় ভীষণভাবে সচেতন থাকতে হয় অভিনেতাকে। তাই &#8216;অমানুষ&#8217; ছবিতে উত্তমকুমার অভিনীত মধু চরিত্রটি তিনি মেপে নিয়েছিলেন তাঁর মতো করে। সম্ভবত পরিচালক শক্তি সামন্ত অভিনয়ের ব্যাপারে কোনওরকম মাথা গলাননি। উত্তমকুমার অভিনয়ে এতটুকু এদিক ওদিক করেননি।</p>



<p>&#8216;অমানুষ&#8217; কে? মধু না মহিম? মধু বিপিনবাবুর কারণসুধা পান করুক বা মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে সময় কাটাক, এই জীবনটা তাঁর আরোপিত। তাঁর সামাজিক পরিচিতিটা ভিন্ন। এটা মধু বিলক্ষণ জানেন। তাই তো মন্দিরে পুজোর দিন পুরোহিতের সঙ্গে বিবাদ করেন, প্রতিবাদ করেন। তাই মাঝেমধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ে জমিদার মধুসূদন চৌধুরী। মধুর চরিত্রের ভিতরের নির্যাসটুকু টেনে নিয়েছিলেন উত্তম। তাই তাঁর অভিনয়ে নানারকম &nbsp;শেডস পাওয়া যায় পুরো ছবিতে। এ-প্রসঙ্গে মধু-মাতন (প্রেমা নারায়ণ) মুখোমুখি মাতনের ঘরে। মাতন খবরদারি করার চেষ্টা করে। তারপর মাতন গান ধরে &#8216;না, না, অমন করে দাগা দিয়ে চলে যেয়ো না&#8217; সঙ্গে হিল্লোলিত নৃত্য! দর্শক দৃশ্যটি দেখতে দেখতে হয়তো অন্যকিছু আশা করেন। কিন্তু মধু কিন্তু বেশি এগোন না। কারণ, তাঁর আসল শ্রেণি চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল মধুসূদন চৌধুরী অর্থাৎ মধু। তিনি জানেন মাতন তাঁর প্রজা।</p>



<p>আরও একটি দৃশ্যে উত্তমকুমার লা-জবাব। যখন থানার দারোগাবাবু পুলিশ পাঠিয়ে মধুকে ডেকে নিয়ে যান। থানায় ঢুকে দারোগাবাবুর হাতে চাবুক তুলে&nbsp; দিয়ে মধু বলেন, &#8220;মারুন।&#8221; তারপর দারোগাবাবুর কথার পিঠে মধু যখন বলছেন, &#8220;নাটক করছেন,&nbsp; নাকি বিবেকের দংশন?&#8221; অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতাকে গুনে দশ-দশটা গোল দিলেন উত্তমকুমার! এরপর ফ্ল্যাশব্যাক। মধুর অতীত জীবন। এই পর্যায়ে একাধিকবার উত্তমকুমার-উৎপল দত্ত মুখোমুখি৷ সেইসব দৃশ্যে উত্তমকুমারের বেশি সংলাপ নেই। শুধুমাত্র চোখের অভিনয় করে গেছেন তিনি। উৎপল দত্তের মতো বাঘা অভিনেতাও সমীহ করেছেন উত্তমের অভিনয়!</p>



<p>&#8216;অমানুষ&#8217; ছবিতে উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যে-অভিনয় করে গেলেন তা শিক্ষণীয়। তার কারণ একেবারে অন্যধারার অভিনয়। শক্তি সামন্ত যেহেতু বলিউডে হিন্দি ছবিই&nbsp; করেছেন কেবলমাত্র। তাই হয়তো তিনি চাইতেই পারেন ছবির প্রধান চরিত্র মধুর ভিতর বলিউডের ঘরানার অভিনয়। মধুর চরিত্রটিও একেবারে বলিউডি ঘরানার। পরিচালক মধুর অর্থাৎ উত্তমকুমারের কাছে কেমন অভিনয় চেয়েছিলেন জানি না, জানার কথাও নয়। কিন্তু উত্তমকুমার করলেন কি, না-বলিউড, না-টলিউড, কোনও ঘরানার অভিনয় করলেন না, তাঁর অভিনয়ে সৃষ্টি করলেন অন্য ঘরানা। সেটি একবারেই উত্তমকুমারের নিজস্ব। উত্তমকুমার যে মধুর চরিত্রের কাছাকাছি বা আদলে বা কাছাকাছি কোনও চরিত্র করেননি, তা নয়, করেছেন। ঠিক এর আগের বছর করছেন &#8216;বনপলাশীর পদাবলী'(১৯৭৩) ছবিতে উত্তমকুমার উদাস-এর চরিত্র।</p>



<p>যাইহোক, সেইসময় পরিচালক শক্তি সামন্তের সহকারী ছিলেন প্রভাত রায়। &#8216;অমানুষ&#8217; ছবির সংলাপও লিখেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে প্রভাত রায় বাংলা সিনেমার প্রথম সারির পরিচালক। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, &#8216;অমানুষ&#8217; করার সময় উত্তমকুমারকে পরিচালক বলে দিয়েছিলেন কীভাবে, কেমনভাবে অভিনয় করতে হবে? প্রভাত রায় জানালেন, &#8220;একেবারেই নয়। প্রয়োজনই হয়নি উত্তমকুমারকে কীভাবে অভিনয় করতে হবে এসব নির্দেশের। পরিচালক শক্তি সামন্ত শুধুমাত্র মুভমেন্ট গুলো বলে দিতেন। আর কিচ্ছু নয়। উত্তমকুমার তাঁর নিজের মতো অভিনয় করতেন।&#8221;</p>



<p>&#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র উদাস উত্তম অভিনীত আর একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র। এই ছবির তিনি পরিচালকও বটে। উদাস চরিত্রে উত্তমকুমারের অভিনয় বিশ্লেষণের আগে অন্য একটি কথা বলে নিই। &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; উপন্যাসের লেখক রমাপদ চৌধুরী। তাঁর কাছেই শোনা। রমাপদ চৌধুরী একদিন চা-সিগারেট খেতে খেতে বলছিলেন, &#8220;একদিন উত্তমকুমার এলেন। বললেন, &#8216;আপনার &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; উপন্যাসটি নিয়ে ছবি করতে চাই। ছবির জন্য গল্পের স্বত্ব কিনতে চাই।&#8217; আমি তো অবাক! বলে কী! বললাম, এত টাকা লাগবে। এককথায় রাজি। ছবির জন্য উপন্যাসের স্বত্ব কিনলেন। টাকাও দিলেন। তারপর বহুদিন পর আবার এলেন উত্তমকুমার। বললেন, &#8216;ছবি শেষ। এবার রিলিজ করব। আপনাকে আসতেই হবে।&#8217; &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে চলে গেলেন। আমি এই ভেবে ছবি দেখতে গেলাম, ও আবার কেমন করবে! কিন্তু ছবি দেখার পর আমার ধারণা একেবারেই বদলে গেল। ভাবলাম, কোনটা বেশি ভাল? আমার লেখা &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; নাকি উত্তমকুমারের &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;!&#8221;</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="433" height="326" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi.png" alt="" class="wp-image-9380" style="aspect-ratio:1.3282208588957056;width:524px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi.png 433w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi-300x226.png 300w" sizes="(max-width: 433px) 100vw, 433px" /></figure>



<p>এই হলেন উত্তমকুমার। আমারও সামান্য অভিজ্ঞতা আছে &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; নিয়ে৷ এই ছবির আউটডোর শুটিং হয়েছিল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। ওখানে থাকতেন চণ্ডীমাতা ফিল্মসের মালিক সত্যরঞ্জন সাধুখাঁ। ওইসময় আমি যুবক। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গেছিলাম জগৎবল্লভপুর। দু&#8217;চার দিন ছিলাম। ওই গ্রামের একজন এসে বললেন, &#8220;কাছেই &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র শুটিং চলছে। উত্তম, সুপ্রিয়া ছাড়াও অনেকেই এসেছেন।&#8221; আমরা সবাই বললাম, তাহলে যাওয়া যাক। আমরা যেদিন গেছিলাম সেদিন শুটিং চলছিল, &#8216;দেখুক পাড়াপড়শিতে কেমন মাছ গেঁথেছ বড়শিতে&#8217;। সুপ্রিয়া দেবী ছোট একটা পুকুরে সাঁতরাচ্ছেন আর উত্তমকুমারের হাতেধরা ছিপের বঁড়শি সুপ্রিয়ার ব্লাউজে আঁটকে আছে। আর উত্তমকুমার গাইছেন, &#8216;দেখুক পাড়াপড়শিতে&#8230;&#8217;। শুটিং শুরু হওয়ার আগে উত্তমকুমার ক্যামেরায় চোখ রাখলেন, দেখলেন। তারপর যাঁকে যা দায়িত্ব দেওয়ার তা দিলেন। উনি শট দেওয়ার জন্য তৈরি। হঠাৎই চেঁচিয়ে উঠলেন। দূরে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শুটিং এলাকার ভিতর কেউ যেন প্রবেশ করেন। উত্তমকুমার শট দেবেন বলে মুড নিয়ে তৈরি। ঠিক সেইসময় তাঁর চোখে পড়ে এক গ্রামবাসী প্রায় ঢুকে পড়েছেন। সঙ্গেসঙ্গে &#8220;কাট&#8221; বলে ধমকে ওঠেন ওদিকে দায়িত্বে থাকা লোকটির ওপর। বুঝলাম, কী সাংঘাতিক দৃষ্টি উত্তমকুমারের! চেঁচামেচি করার পরমুহূর্তেই আবার তৎক্ষণাৎ তৈরি শট দেবেন বলে। সেই এক মুড , এক ভাবপ্রকাশ। এখন ভাবি, এ মস্ত অভিনেতা না হলে সম্ভব নয়।</p>



<p>বনপলাশীর উদাস কৃষক পরিবারের একজন। তিনি নিজেকে চাষি বললে সম্মানিত বোধ করেন। সেটা জানা যায়, বাস ড্রাইভার দশরথের সঙ্গে কথোপকথনে। দশরথ তাঁকে বলেন, &#8220;আরে জমি তো বছরে দু&#8217;বার বাচ্চা দেয়। আর এই গাড়ি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পয়সা দেয়।&#8221; উদাসের বহুদিনের মনের ইচ্ছেকে নাড়া দেন বাস ড্রাইভার দশরথ। আমতা আমতা করে উদাস বলেন, &#8220;আমার বহুদিনের মনের ইচ্ছে ড্রাইভারি শিখব।&#8221; উদাসের ইচ্ছা পূরণ করবেন দশরথ। কিন্তু তার মধ্যে একটা শর্ত থাকে দশরথের মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। উদাস শ্রেণিচ্যুত হলেন। চাষি থেকে বাস ড্রাইভার। পুরো ব্যাপারটায় উত্তমকুমারের অভিনয়, শরীরী অভিনয় এবং তার প্রকাশ অসাধারণ।</p>



<p>যখন দশরথ হঠাৎই বলে ওঠেন, &#8220;হবেক।&#8221; উদাস খুশিতে ডগমগ! ভাবেন ড্রাইভারি হবে। উদাস বলেন, &#8220;কী হবেক!&#8221; দশরথ বলেন, &#8220;বিয়ে হবেক।&#8221; উদাস অর্থাৎ উত্তমকুমার totally fused. খুশি খুশি ভাব থেকে হঠাৎই নিভে যাওয়া, অভাবনীয় অভিনয় উত্তমের। তারপর দশরথ যখন বলেন, &#8220;লক্ষমণিকে বিয়ে করো। হবেক।&#8221; আবার খুশিতে ফিরে আসা, এমন অভিনয় বোধহয় খুব বড় মাপের অভিনেতাদের দ্বারাই সম্ভব।</p>



<p>চাষি থেকে বাস ড্রাইভার, উদাসের এই পুরো ঘটনাটাতে ভালমানুষি ভাব, দশরথের কাছে আত্মসমর্পণ, সবমিলিয়ে অসাধারণ অভিনয় উত্তমকুমারের। যেহেতু উত্তমকুমার &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র পরিচালক তাই কখনও তিনি অহেতুক উদাসকে প্রাধান্য দেননি ছবিতে। কিন্তু ছবির শেষমুহূর্ত উদাস, পদ্ম আর ডাক্তারের ওপর নির্ভর করে। লক্ষ্মী আত্মহত্যা করার পর থেকেই পদ্মর প্রতি বেশি অনুরক্ত হয়ে পড়েন উদাস। কিন্তু পদ্ম দূরে সরে থাকতে চান উদাসের থেকে। একটি রাতের অন্ধকারের দৃশ্য রয়েছে যেখানে বোঝা যায় উদাস শারীরিকভাবে চাইছেন পদ্মকে। পদ্ম নারাজ। শুধুমাত্র সংলাপের ওপর অভিনয়। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের কণ্ঠ অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি পদ্মের ভূমিকায় সুপ্রিয়া দেবীও ভীষণ ভাল। উত্তমের অভিনয়কে সাপোর্ট&nbsp; দিয়ে গেলেন পুরো দৃশ্যটিতে৷ যার জন্য উত্তমকুমার তাঁর অভিনয় অমন উচ্চতায় নিয়ে যান!</p>



<p>পদ্মর কাছে প্রত্যাখ্যাত উদাস হয়ে ওঠেন ভয়ংকর৷ এই উত্তমকুমারের অভিনয়ে বেশ রকমফের দেখা যায়। পদ্মকে খুন করার পর তাঁকে পাঁজাকোলা করে উদাস ছোটেন গ্রামের পথে। হঠাৎ দেখা ডাক্তারবাবুর সঙ্গে৷ উদাস বলেন, &#8220;আপনি তো ডাক্তার। কত মানুষকে বাঁচিয়েছেন। আমার পদ্মকে বাঁচিয়ে দিন না ডাক্তারবাবু।&#8221; উদাসের ভিতর এই গভীর আকুতি, ভুল করে পদ্মকে খুন করা ইত্যাদি সংলাপের ভিতর দিয়ে নানারকমফের পাওয়া যায়। তার কারণ দৃশ্যটি অন্ধকারে৷ এখানে অভিনীত চরিত্রগুলোকে হয়তো&nbsp; দর্শক সেইভাবে দেখতে পাবেন না। তাই সংলাপের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের বুঝিয়ে দিতে হবে। দৃশ্যটি কেন এবং কিসের জন্য। এখানেও উত্তমকুমারের কণ্ঠাভিনয় এবং শরীরী ভাবপ্রকাশ অসাধারণ।</p>



<p>এই পর্যায়ে উত্তমকুমার লাখো অভিনয়ের একটি করে মেরে বেরিয়ে গেলেন। সেটি আদালত-দৃশ্যে। কোর্ট রুমে উদাসের বিচার চলছে। তাঁর ফাঁসির আদেশ শুনিয়ে দিয়েছেন বিচারক। উদাসের বিচারে মন নেই। উত্তমকুমার জাস্ট &nbsp;একটা লুক দিলেন। তাঁর চাউনিতে মনে হল পদ্মকে খুঁজছেন উদাস। কিংবা তাঁর ফাঁসিতে মৃত্যু হলে পদ্মের কাছে পৌঁছতে পারবেন হয়তো। তারপর উদাসের বাবা যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন উদাসের ফাঁসির আদেশ শুনে। সেইসময় উদাস বা উত্তমকুমারের ফিরে আসেন আদালতের বিচারকক্ষে। সেইসময় লুকটি &nbsp;অদ্ভুতভাবে চেঞ্জ করেন। অভিনেতা উত্তমকুমার তাঁর জাত চিনিয়েছিলেন &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র শেষ দৃশ্যে &nbsp;জাস্ট ছোট্ট একটি মোচড়ে!</p>



<p>এই দু&#8217;টি ছবির চরিত্রের সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিল নেই পরিচালক অজয় কর-এর &#8216;সপ্তপদী&#8217;র কৃষ্ণেন্দুর। পঞ্চাশের দশকের পর উত্তমকুমার তাঁর অভিনয় স্টাইলের অনেকটাই পরিবর্তন করেছিলেন। বিশেষ করে, সুচিত্রা সেনের বিপরীতে তিনি থাকলে। যদিও ষাটের দশকে মাত্র চারটি ছবি করেছেন  উত্তম-সুচিত্রার জুটি। সপ্তপদী ছাড়া বিপাশা, গৃহদাহ আর কমললতা। পঞ্চাশের দশকে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ছবিতে উত্তমকুমার অনেকটাই ছেড়ে খেলতেন। সেই খেলা তাঁর সহ অভিনেত্রীকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই হয়তো হবে। ষাটের দশকে &#8216;সপ্তপদী&#8217; করার সময় ওঁদের দু&#8217;জনের ভিতর কিছু-একটা কারণে সাময়িক বিরোধের কথা শোনা যায়। যে-কারণে কিছুদিন &#8216;সপ্তপদী&#8217;র শুটিং বন্ধ থাকে। এই ছবিটি ছিল উত্তমকুমারের নিজস্ব প্রযোজনা। তারপর থেকেই এই জুটির উত্তম তাঁর অভিনয়ের স্টাইল এবং প্যাটার্ন এর পরিবর্তন করেছিলেন! &#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে সুচিত্রা সেন যেমন এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি, উত্তমও তেমনই। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। ফলে হয়েছিল কি, সবমিলিয়ে একটা ভাল বাংলা ছবি পেলেন বাংলা সিনেমার দর্শকেরা।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="752" height="522" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi.png" alt="" class="wp-image-9382" style="aspect-ratio:1.4406130268199233;width:527px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi-300x208.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /></figure>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে উত্তমকুমারের রকমারি অভিনয় দেখতে পান দর্শকেরা। এবং প্রতিটিই বেশ কুশলী অভিনয়। যেমন, &#8216;এবার কালী তোমায় খাব, মুণ্ডমালা চিবিয়ে খাব&#8217;। এক্কেবারে হস্টেল জীবনে যেমন হয় ঠিক তেমনই। ঢোল কাঁধে উত্তমের গায়নভঙ্গি এবং শরীরী অভিনয়ের সঙ্গে চোখমুখের ভাবপ্রকাশ অসাধারণ। বিশেষ করে, রিনা ব্রাউনকে দেখিয়ে কৃষ্ণেন্দুর নিজের মাথায় নারকেল ভাঙা, পুরো দৃশ্যটি tease করার সঙ্গে কৌতুকাভিনয়ের মিশেল, বাংলা সিনেমার অভিনয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য তৈরি করলেন উত্তমকুমার।</p>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে কয়েকটি দৃশ্যে রয়েছে উত্তমকুমারের দৃষ্টান্তমূলক অভিনয়! ছবির যেখান থেকে ফ্ল্যাশব্যাক শুরু। ছবির শুরুতেই পরিচালক অজয় কর বলে দিলেন ছবির ঘটনা ১৯৪৩-এর। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। একদিন রাতের ঘটনা। একটি মিলিটারি জিপ হাসপাতালে নিয়ে আসে মদ খেয়ে বেহুঁশ এক মহিলাকে। সেই মহিলাকে দেখতে যান কৃষ্ণেন্দু। তিনি তখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে ক্রিশ্চান। সবাই তাঁকে বলেন, &#8220;বাবা সাহেব।&#8221; হাসপাতালে উপস্থিত মহিলাকে দেখতে এসে জলের ঝাপটা দেন। দু&#8217;চারবার&nbsp; ঝাপটা মারার পর মেয়েটিকে বাঁহাতে তুলে ধরেন। বোঝা যায় ডাক্তারের পূর্বপরিচিত। দর্শক একাধিকবার দেখার বা গল্প শোনা-পড়ার কারণে জানেন মহিলাটি রিনা ব্রাউন। কৃষ্ণেন্দুর পূর্বপরিচিত। যাইহোক, প্রেমিকা রিনা ব্রাউনকে দেখে হতচকিত কৃষ্ণেন্দু। ডানহাতে জল থেকেই যায়। হাতের বিগ ক্লোজআপে বোঝা যায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ় কৃষ্ণেন্দুর বা ডাক্তারবাবার জল সমেত হাত থমকে যায়। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের মুখের ভাবপ্রকাশ আর হাতের থমকে যাওয়া একইভাবে, একই স্কেলে অভিনয় করে! বিস্মিত হতে হয় অভিনেতার অভিনয় ক্ষমতায়!</p>



<p>এরপরই শুরু হয় ফ্ল্যাশব্যাক। কৃষ্ণেন্দু বা উত্তমকুমার আর রিনা ব্রাউন বা সুচিত্রা সেনের টক্কর। সেই খেলার মাঠ। যেখান থেকে উত্তম-সুচিত্রার লড়ালড়ি।</p>



<p>রিনা যখন সুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে কাছে এসে বলেন, &#8220;হসপিটালকে টাকা দিতে গেলাম নিল না। ডক্টর আপনাকে কিন্তু নিতে হবে। ডক্টর&#8230;। আমার কাছে মাত্র চল্লিশ টাকা আছে।&#8221; কৃষ্ণেন্দু বসেছিলেন। উঠলেন। ঘরে রাখা আয়নায় রিনা দেখতে পান কৃষ্ণেন্দুকে। তারপর সুচিত্রা-উত্তমের ক্লোজআপ শট। নির্লিপ্ত কৃষ্ণেন্দু। মুখোমুখি রিনা-কৃষ্ণেন্দু। উত্তমকুমারের অভিব্যক্তি সবকিছু হারিয়ে ফিরে পাওয়া। just হালকা হাসি বা হাসবার ক্ষীণ চেষ্টা। রিনা বেরিয়ে যান। কৃষ্ণেন্দু আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসেন বাইরে। লক্ষ করেন রিনার নির্গমন। আলো-আঁধারিতে কৃষ্ণেন্দু দাঁড়িয়ে। মুখে আবার হারিয়ে ফেলার ভাবপ্রকাশ। পুরো সিকোয়েন্সটি অনবদ্য।</p>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217;র সেরা দৃশ্য &#8216;ওথেলো&#8217;র অংশবিশেষ। উত্তমকুমার অভিনয়ের ব্যাপারে ছিলেন ভীষণই খুঁতখুঁতে। &#8216;ওথেলো&#8217;র এই পুরো সিকোয়েন্সটি নিয়ে তিনি কোনওরকম আপোস করতে চাননি। তিনি পরামর্শ নিয়েছিলেন উৎপল দত্তের। শোনা যায়, উত্তমকুমার রাত জেগে নাকি নিজে নিজেই রিহার্সাল করতেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার উৎপল দত্ত সংলাপ বলছেন আর ঠোঁট নাড়ছেন উত্তমকুমার। অন্যের সংলাপের সঙ্গে ঠোঁট নাড়িয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা কম কথা নয়! খুব কঠিন কাজ। উত্তমকুমার অত্যন্ত সুচারুভাবে করেছিলেন কাজটি। কখনওই মনে হয় না সংলাপ অন্যের আর অভিনয় উত্তমের। গানে ঠোঁট নাড়ানো আর সংলাপে ঠোঁট নাড়ানোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। সংলাপের সঙ্গে শুধু ঠোঁট নাড়ানো নয়, সংলাপের ভাবপ্রকাশ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে এই কঠিন কাজটি অনায়াসেই করে গেছেন উত্তমকুমার। সুচিত্রা সেনও সমানভাবে &nbsp;সাপোর্ট &nbsp;দেন তাঁর সহ আভিনেতাকে।</p>



<p>পঞ্চাশের দশকে উত্তম-সুচিত্রা জুটির ২২টি ছবির বাইরে অন্যরকম সিনেমা উত্তম-সুচিত্রার &#8216;সপ্তপদী&#8217;। তবে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় দু&#8217;বছর আগে যাত্রিক-এর তৈরি &#8216;চাওয়া পাওয়া&#8217; ছবিতে।</p>



<p>&#8216;আমি যখন &#8216;নায়ক&#8217; করতে যাই তখন সত্যজিৎবাবু বলেছিলেন&#8212; ওহে উত্তমকুমার? আমি বললাম, হ্যাঁ, বলুন স্যার। &#8212;না প্রথম সিনটা একটু ছবিবিক ঢঙে অভিনয় করতে হবে।</p>



<p>ছবিবিক ঢঙে আমি কি অভিনয় করব? ছবিদা ছবিদার মতো অভিনয় করতেন, আমি আমার মতো করব।</p>



<p>না, ওই যে টাইম অ্যান্ড পজ-এর ব্যাপারটা আছে না, ওইটে একটু করতে হবে&#8230;&#8217;।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="751" height="454" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak.png" alt="" class="wp-image-9385" style="aspect-ratio:1.6541850220264318;width:565px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak.png 751w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak-300x181.png 300w" sizes="(max-width: 751px) 100vw, 751px" /></figure>



<p>&#8216;নায়ক&#8217;-এর প্রথম দৃশ্যটি টাইটেল কার্ড শেষ ক্লোজআপে বিখ্যাত সেই &#8216;ইউ&#8217; ছাঁট, মাথায় চিরুনি চালাচ্ছেন উত্তমকুমার। পরিচালক উত্তমকুমাররের মুখ দেখালেন বেশ কিছুটা পর। &#8216;ইউ&#8217; ছাঁটের অর্থ মানুষটি উত্তম ছাড়া অন্য কেউ নন। দিল্লিতে পুরস্কার নিতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলেছে বাংলা ছবির মহানায়ক অরিন্দম মুখার্জির। এমন সময় প্রবেশ বন্ধু কাম সেক্রেটারি জ্যোতির। এক প্রযোজকও আসেন নতুন ছবির চুক্তিপত্রে সই করাতে৷ ওঁদের দু&#8217;জনের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে অরিন্দম কথাবার্তা চালিয়ে যান। এবং ব্রেকফাস্ট&nbsp; সারেন। টেবিলে বসে থাকা প্রযোজককেও এক পেয়ালা চা দিতেও ভোলেন না। বেরোবার জন্য তৈরি এমন সময় ফোন এলে জ্যোতি ধরেন, বলেন &#8220;নায়িকা।&#8221; ফোনের ওপ্রান্তে থাকা নায়িকার সঙ্গে কথা বলেন অরিন্দম। সত্যজিৎ রায় উত্তমকুমারকে ধরেন বিগ ক্লোজআপে। রোদচশমা পরা অরিন্দমের মুখ। ঠোঁটে কিং সাইজ সিগারেট। এই সিগারেটই তফাত করে দেয় সাধারণের সঙ্গে অরিন্দমের। এইসময় অরিন্দম অত্যন্ত &nbsp;পার্সোনাল। কাটা কাটা কথা বলেন তাঁর নায়িকার সঙ্গে। অরিন্দম এবং নায়িকার সম্পর্ক এতটাই ব্যক্তিগত যে, নায়িকা স্টেশনে আসতে চাইলে বারণ করেন অরিন্দম।</p>



<p>পুরো সিকোয়েন্সটিতে উত্তমকুমারের অসাধারণ সাবলীল সহজ অভিনয়। তাঁর জ্যোতির সঙ্গে কথা চালানো এবং একইসঙ্গে প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে দু&#8217;রকম উত্তমকুমারকে তুলে ধরেন পরিচালক। একটি উত্তমকুমারের মধ্যে মধ্যবিত্তসুলভ ব্যাপার লক্ষ করা যায়, যে-শ্রেণি থেকে তিনি উঠে এসেছেন। আর একটি উত্তমকুমারের ভিতর পুরোপুরি এক প্রোফেশনাল ম্যাটনি আইডল ফুটে ওঠে। দুটো প্রোফাইলে তিনি অত্যন্ত সফল। পরে যোগ হয় নায়িকার সঙ্গে ফোনে কথা বলা personal উত্তমকুমার ওরফে অরিন্দম। উত্তমকুমার &#8216;আমার অভিনয়ের মুক্তি&#8217; প্রবন্ধে লিখেছেন, &#8216;&#8230; অরিন্দম আর উত্তমকুমার সম্পর্কে দুস্তর ব্যবধান কখনই থাকত না। অরিন্দমের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে ভাবতে গিয়ে বিসদৃশ মনে হয়নি। মনে হয়নি আমরা ভিন্ন ভিন্ন আনন্দ আর ব্যর্থতার গ্লানি জড়িয়ে রেখেছি শরীরে। মনে হয়েছে অরিন্দমের সুখ আমার সুখ, অরিন্দমের দুঃখ আমার দুঃখ। অরিন্দমের জটিলতায় আমিও ভাবিত। অরিন্দমের সরলতায় কখন আমিও মুগ্ধ&#8217; (নায়কের কলমে, সপ্তর্ষি)।</p>



<p>গোটা ছবিতেই উত্তমকুমার অতুলনীয়, পার্টিকুলার কোনও দৃশ্যে নয়। তবে একটি দৃশ্যের অবতারণা না-করলে অসমাপ্ত থেকে যায়। সেটি হল, অরিন্দমের&nbsp; নাটকের গুরু প্রয়াত শঙ্করদার দাহ করার দৃশ্যে। অরিন্দম আর জ্যোতি বসে। ওদিকে চিতার আগুনের লেলিহান শিখায় আলো-আঁধারি শ্মশান। অরিন্দম কনফেস&nbsp; করছেন। সবশেষে অরিন্দম যখন জ্যোতিকে বলেন, &#8220;তুই পরজন্মে বিশ্বাস করিস?&#8221; জ্যোতি উত্তর দেন, &#8220;কার?&#8221; অরিন্দম, &#8220;মানুষের।&#8221; জ্যোতি, &#8220;জ্যোতি বাড়ুজ্যে তো আর জ্যোতি বাড়ুজ্যে হয়ে জন্মাচ্ছে না। বুঝব কী করে! সকলেই তো আর জাতিস্মর হয় না।&#8221; অরিন্দম, &#8220;শঙ্করদা মাস্ট বি রং, মাস্ট বি রং.&#8221; তারপর বলেন, &#8220;সত্যযুগ হলে ভয় পেতাম।&#8221; জ্যোতি, &#8220;কার।&#8221; অরিন্দম, &#8220;শঙ্করদার অভিশাপের।&#8221; আধপোড়া সিগারেট ছুড়ে দেন চিতার দিকে। তার আগেই জ্যোতি বলেছেন, নায়ক হলে কমপক্ষে ছবিপিছু কত টাকা পারিশ্রমিক হতে পারে। বোঝা যায়, শঙ্করদা অতীত হয়ে যান&nbsp; অরিন্দমের কাছে। জ্যোতির কথামতো সিনেমার নায়কের হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে রাজি। আধপোড়া সিগারেট ছোড়া এবং মুখের অভিব্যক্তিতে বুঝিয়ে দেন উত্তমকুমার। শ্মশানযাত্রী অরিন্দমের মুখ থেকে ক্যামেরা চলে যায় দিল্লিতে পুরস্কার নিতে যাওয়া ম্যাটনি আইডল অরিন্দম মুখার্জির মুখে। যেখানে তিনি ট্রেনে বসে নিজের নায়ক হয়ে ওঠার কাহিনি শোনাচ্ছেন সাংবাদিক অদিতি সেনগুপ্তকে। শ্মশানে শঙ্করদারকে নিজের জীবনে অতীত করে দেওয়ার দৃষ্টির সঙ্গে অদিতিকে জীবনকাহিনির শোনানোর অভিব্যক্তি একচুল এদিক ওদিক হয় না উত্তমকুমারের!</p>



<p>সত্যজিৎ রায় উত্তমকুমার সম্পর্কে স্মৃতিচারণায়  বলেছিলেন, &#8216;&#8230; অনেকের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, কাজ করে আনন্দও পেয়েছি কিন্তু উত্তমের মতো কেউ নেই, উত্তমের মতো কেউ হবেও না।&#8217; &#8216;নায়ক&#8217; সম্পর্কে সত্যজিৎ রায় বলছেন, &#8216;নায়ক&#8217; আমি লিখলাম উত্তমকুমারের কথা ভেবেই, কারণ সেখানে এমন একজন অভিনেতার কথা বলা হয়েছে যে স্টার হিসাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছে। (উত্তমকে নেওয়ার কারণ হল আমি যদি উত্তমকে ছাড়া অন্য কাউকে নিই তখন লোকের মধ্যে ধারণা হবে যে এই অভিনেতা এতদিন ধরে অভিনয় করছেন কিন্তু তিনি তো স্টার হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে পারেননি।) এক্ষেত্রে উত্তম ছাড়া আর কাউকে এই ভূমিকায় জনগণ গ্রহণ করবে না ফলে উত্তমের কথাটা প্রথমে মনে হয় এবং তারপর তার সঙ্গে কাজ করে আমার সেই উপলব্ধি হল। তাঁকে চিত্রনাট্য পড়ালাম, তাঁকে বললাম, সে পার্ট-টা পছন্দ করল। (উত্তমকুমার, সত্যজিৎ রায়, প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ)।</p>



<p>&#8216;নায়ক&#8217; করার পর ৪০ নম্বর ছবি &#8216;যদুবংশ&#8217;। অর্থাৎ মাঝে ৩৯টি ছবি করে ফেলেছেন উত্তমকুমার। &#8216;নায়ক&#8217;-এর পরিচালক সত্যজিৎ রায় আর &#8216;যদুবংশ&#8217;-এর পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী৷ এতগুলো ছবির মাঝে অন্যরকম অভিনয় করার সুযোগ পান উত্তমকুমার মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমায়। সেইসব ছবিতে উত্তমকুমার তাঁর মতো করে অভিনয় করার সুযোগ পান। আসলে হয়েছিলটা কি, &#8216;নায়ক&#8217; করার পর থেকেই উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়ের খোলনলচে বদলে ফেলেন। তিনি &#8216;নায়ক&#8217; করার সুবাদে সত্যজিৎ রায়ের অনেক কাছাকাছি আসেন। সম্ভবত তিনি সত্যজিৎ রায়ের কথা বলা, চলাফেরা,&nbsp; সবকিছুই লক্ষ করেন। পাশাপাশি ভাল ছবি, ভাল অভিনয় করার খিদেটাও বাড়ে তাঁর। যদিও উত্তম লিখছেন, &#8216;জতুগৃহ&#8217; সর্বসম্মত ভালো ছবি। আকাঙ্ক্ষা আরও এক ধাপ উঁচুতে উঠল। মনে হল এমন ভালো ছবি আরও করি। সবাই বলে, আমি গতানুগতিক ছবি করি। কিন্তু &#8216;জতুগৃহ&#8217; এক্সপেরিমেন্টাল&#8217; (জবানবন্দি, উত্তমকুমার চট্টোপাধ্যায়, নায়কের কলমে, সপ্তর্ষি)। &#8216;নায়ক&#8217;-এর দু&#8217;বছর আগে ১৯৬৪-তে পরিচালক তপন সিংহের ছবি &#8216;জতুগৃহ&#8217;। ঠিক এর মাসখানেক আগে পরিচালক বিনু বর্ধন-এর &#8216;বিভাস&#8217; করেছেন উত্তমকুমার। এটিও ছিল একেবারে অন্যধরনের ছবি। যে-ছবি একেবারে বাণিজ্যিক বাংলা ছবি নয়।</p>



<p>&#8216;যদুবংশ&#8217; করার সময় পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছিলেন ম্যাটনি আইডল উত্তমকুমারকে। অথবা একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁকে। হয়তো সেইকারণেই&nbsp; উত্তমকুমারকে বহু ক্লোজআপে রাখেন পরিচালক৷ কখনও ক্লোজআপ, কখনও বিগ ক্লোজআপ।</p>



<p>ছবির মূলকেন্দ্রে চার ভবঘুরে যুবক। তারাই মূলত ছবির মূল চরিত্র। চার যুবক কোনও গুণের অধিকারী নন। তারা পরিবার, সমাজের চোখে অবহেলিত, বখাটে। চার বখাটে, উচ্ছনে যাওয়া যুবক&#8211; অভয়, সূর্য, কৃপাময় আর বুললি। এঁরা নেশা করেন, সবকিছুর ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন আর কারণে-অকারণে রেগে যান। চার যুবকের সঙ্গে রয়েছেন গণাদা। গণপতি বা গণনাথ।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="752" height="615" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada.png" alt="" class="wp-image-9388" style="aspect-ratio:1.2227642276422763;width:520px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada-300x245.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /></figure>



<p>এই গণাদা যতটুকু জানা যায়&#8211; তিনি রেলের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ব্যবসার অবস্থা ভাল নয়। ইতিমধ্যে তিনি সূর্যের কাছ থেকে একটি সোনার পঞ্চপ্রদীপ কেনেন। সূর্য অনেকগুলো টাকা পাবেন গণাদার কাছ থেকে। এই নিয়ে চার যুবক আর গণাদার ভিতর ঝামেলা। এমনকী, গণাদার বাড়ি গিয়ে তাঁকে মারতে ছাড়ে না চার যুবক। এর আগে গণাদার অফিসেও একপ্রস্ত ঝামেলা ইত্যাদি হয়ে গেছে সূর্য, অভয়, কৃপাময় আর বুললির। আলটিমেটলি&nbsp; ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওই চার যুবক নয়, গণাদাই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে। উত্তমকুমারের অভিনয়ই তাঁকে নিয়ে যায় ছবির প্রধান চরিত্রে। এবং এর অন্য একটি কারণও আছে। সেই কারণ, গণাদার সঙ্গে চার যুবকের ঝামেলার দু&#8217;টি দীর্ঘ সিকোয়েন্স আছে। একটি, গণাদার অফিসে, অন্যটি তাঁর বাড়িতে। দ্বিতীয় সিকোয়েন্স অনেকটাই দীর্ঘ। ওই দৃশ্যেই গণাদা চার যুবক দ্বারা অত্যাচারিত হন। তাঁকে মারধরও করেন যুবকেরা। এই দুই দীর্ঘ সিকোয়েন্সে কেবলমাত্র উত্তমকুমারে ক্লোজআপ আর বিগ ক্লোজআপ ব্যবহার করেন পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী। বিশেষ করে, গণাদার বাড়িতে যখন তাঁকে মারধর করছেন চার যুবক, তখন উত্তমকুমারকে ক্লোজআপেই দেখান পরিচালক। উত্তমকুমারের অভিনয় অতুলনীয়। উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়ে জাদু দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বিশেষ করে, নয়নার সঙ্গে কথা শেষ। উত্তমকুমারের মুখের বিগ ক্লোজআপ। আলো-আঁধারিতে পর্দাজোড়া উত্তমের মুখ। সেই মুখ মূক নয়, অবশ্যই অভিব্যক্তিতে। কোনও সংলাপ নেই, মিউজিক নেই। কিন্তু কিছু বলতে চাইছেন গণাদা, আসলে উত্তমকুমার। দর্শককে বুঝতে দেন না গণাদা। ধারণা করা যায়, একজন বয়স্ক মানুষের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চার যুবকের কোনও সমবেদনা নেই, ভদ্রতাবোধ নেই। তাহলে গণাদা কী ভাবছিলেন এই পৃথিবী তাঁর মতো মানুষের কাছে আর বাসযোগ্য নেই! হতে পারে। তাই চার যুবকের একজনের কাছে শোনা যায় গণাদার মৃত্যুসংবাদ। তিনি আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।</p>



<p>উত্তমকুমারের ক্লোজআপ অভিনয় বারবার চমকে দেয় &#8216;যদুবংশ&#8217;-এ। বিশেষ করে, বিড়ি মুখে যখন তিনি ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন চার যুবককে। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি যেন বলে, এরা কোন প্রজন্মকে প্রতিনিধিত্ব করছে! এদের মধ্যে কী সামান্যতম ভদ্রতাবোধ নেই। এরা কী শালীনতার ধার ধারে না! উত্তমের সংলাপহীন মুখের ভাবপ্রকাশ, শরীরী অভিনয় লা-জবাব। &#8216;যদুবংশ&#8217; দেখলে বোঝা যায়, উত্তমকুমার এমন একজন অভিনেতা যাঁর মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল অভিনয় করে। তাঁর মাথা এবং সহজাত প্রবৃত্তি একসঙ্গে অভিনয় করে। নিশ্চয়ই করে নইলে এমন সম্ভব নয়! ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মেক-আপহীন, অগ্ল্যামারীয় উত্তমকুমারের দুর্দান্ত অভিনয় উত্তমের অভিনয়জীবনের সেরা অভিনয়। সেই কারণে মনে করি, &#8216;যদুবংশ&#8217; উত্তম অভিনীত সেরা ছবির একটি।</p>



<p><a>&#8216;</a>যদুবংশ&#8217;-এ গণাদার চরিত্রটি যদি না থাকত, তাহলে কি হতে পারত? সত্তরের চারটি বেকার ভবঘুরে যুবকের ছবি হতে পারত। কিন্তু উত্তমকুমার অভিনীত &#8216;যদুবংশ&#8217; হয়ে গেল তাঁরই ছবি। গণাদাই মুখ্য চরিত্রে দাঁড়িয়ে যান। বাকি চার যুবক গণাদার চারপাশে উপগ্রহ হয়ে ঘোরেন। ক্লান্ত, অবসন্ন, অপমানিত গণনাথকে বাস্তব এবং মুখ্য করে তোলেন উত্তমকুমার তাঁর অসামান্য অভিনয়ে। এর আগে উত্তমকুমারকে কখনওই দেখা যায়নি গণনাথের মতো চরিত্রে। গণনাথের চরিত্রে মহানায়কোচিত মুদ্রাদোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি, যায়ও না। ভীষণভাবে সাবলীল, স্বাভাবিক উত্তমকুমার। চার যুবক গণাদার খুবই স্নেহের। কিন্তু তাঁদের হাতেই অপমানিত, ভর্ৎসিত গণাদা। তাঁর বিহ্বল দৃষ্টিতে অসহায়তা, অপমানের যন্ত্রণা। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের চোখের দৃষ্টি আর শরীরী অভিনয় চমৎকার synchronised করে অভিনয়ের চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দেন নিজেকে। উত্তমকুমারের অভিনয় শুধু বাক মুগ্ধ করে না, স্তব্ধ করে দেয় দর্শকদের!</p>



<p>উত্তমকুমারের অভিনয়জীবনে আরও একটি ব্যতিক্রমী ছবি &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;। সত্যজিৎ রায় লিখছেন, &#8216;নায়ক&#8217;-এর পর &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছবিতে উত্তমের সঙ্গে কাজ করেও একই তৃপ্তি পেয়েছি৷ &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছিল নায়িকা-বর্জিত ছবি, ফলে বলা যেতে পারে উত্তমের পক্ষে আরও বড় ব্যতিক্রম&#8217;। (অস্তমিত নক্ষত্র, সত্যজিৎ রায়, প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ)।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="556" height="306" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana.png" alt="" class="wp-image-9391" style="aspect-ratio:1.8169934640522876;width:525px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana.png 556w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana-300x165.png 300w" sizes="(max-width: 556px) 100vw, 556px" /></figure>



<p>&#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;য় ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় উত্তমকুমার। ধুতি বা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত গোয়েন্দা। যদিও লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও &#8216;গোয়েন্দা&#8217; শব্দটি ব্যবহার করেননি। লেখক বলতেন ব্যোমকেশ বক্সী হল একজন সত্যান্বেষী, অর্থাৎ যিনি সত্যের সন্ধান করেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী একজন নিপাট বাঙালি ভদ্রলোক। ধুতি-পাঞ্জাবি, পাজামা-পাঞ্জাবি পরতেন, কখনওসখনও শার্ট-প্যান্ট। তাঁর মগজাস্ত্র ব্যবহার করতেন বেশি। &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছবিতে ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রে বাঙালিয়ানা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি উত্তমকুমার। ছবির শুরু থেকে শেষ উত্তমকুমারকে ব্যোমকেশ বক্সী ছাড়া কিছুই মনে হয় না। এবং একভাবে অভিনয় করে যান। খুনিকে ধরার জন্য গোলাপ কলোনির সকলকে ডেকে যখন কথাবার্তা বলছেন তখন উত্তেজিত ব্যোমকেশ বক্সীর উত্তেজনাকে প্রকাশ করছেন উত্তমকুমার শুধুমাত্র কপালের ভাঁজে আর কথার ভঙ্গিতে। অমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে উত্তমকুমারের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গোটা ছবিতেই একইভাবে সংযত অভিনয় করে গেছেন তিনি।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় &#8216;অস্তমিত নক্ষত্র&#8217;-এ লিখছেন, &#8216;এটা&nbsp; বলতে পারি যে&#8212; উত্তমের সঙ্গে কাজ করে যে তৃপ্তি পেয়েছিলাম, তেমন তৃপ্তি আমার এই পঁচিশ বছরের ফিল্ম জীবনে খুব বেশি পাইনি। উত্তম ছিল যাকে বলে খাঁটি প্রোফেশনাল। রোজকার সংলাপ সে সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করে কাজে নামত। তার অভিনয় ক্ষমতা ছিল সহজাত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর দখল ছিল ষোলো আনা। ফলে স্বভাবতই তার অভিনয়ে একটা লালিত্য এসে পড়ত। রোজই দিনের শুরুতে সেদিনকার বিশেষ কাজগুলি সম্পর্কে একটা প্রাথমিক আলোচনার পর আমাকে নির্দেশ দিতে হত সামান্যই। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, নিছক নির্দেশের বাইরেও সে মাঝে মাঝে কিছু সূক্ষ্ম ডিটেল তার অভিনয়ে যোগ করত যেগুলি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব অবদান। এই অলংকরণ কখনই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ত না; এটা সব সময়ই হত আমার পক্ষে একটা অপ্রত্যাশিত উপরি প্রাপ্তি৷ বড় অভিনেতার একটা বড় পরিচয় এইখানেই&#8217;। (প্রবন্ধ সংগ্রহ, সত্যজিৎ রায়, আনন্দ)</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/">উত্তম কেন সর্বোত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সত্যজিতের চোখে উত্তম</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Jul 2025 05:19:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Binodan]]></category>
		<category><![CDATA[Celebrities]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9082</guid>

					<description><![CDATA[<p>“উত্তম একজন বর্ন অ্যাকটর। আমি একে বলি 'পুরো শিল্পী'।”</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/">সত্যজিতের চোখে উত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>উত্তমকুমারকে নিয়ে যতই লেখা হোক না কেন, যেন কিছুই যথেষ্ট নয়। রূপালি পর্দার রোমান্সের সম্রাট, বাংলা সিনেমার মহানায়ক, একজন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য,উত্তমকুমার একাধারে অনুভব, এক বিস্ময়, এক অমরতা। তবে উত্তমকুমারকে যিনি সম্পূর্ণভাবে একজন অভিনেতা হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, তিনি হলেন চলচ্চিত্রের জাদুকর সত্যজিৎ রায়। একজন কিংবদন্তির চোখে আরেক কিংবদন্তির যে মূল্যায়ন, তা আজও সিনেমা-ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায় হয়ে আছে।<br>১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখলেও উত্তমকুমারকে দর্শক মনে রেখেছে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’,&#8217;সবার উপরে&#8217;,‘হারানো সুর’,‘সপ্তপদী’,&#8217;চৌরঙ্গী&#8217;,&#8217;বাঘবন্দী&#8217;,&#8217;যদুবংশ&#8217;,&#8217;সন্ন্যাসী রাজা&#8217;,&#8217;<br>‘নায়ক’এর মতো অগণিত ছবির জন্য। ষাট ও সত্তরের দশকে উত্তম-সুচিত্রার যুগলবন্দি বাংলা সিনেমার এক অনন্য স্বর্ণযুগ গড়ে তোলে। কিন্তু শুধুই রোমান্টিক নায়ক বললে উত্তমকুমারের প্রতি অবিচার করা হবে।<br>সত্যজিৎ রায় উত্তমকে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা রূপে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নায়ক’ (১৯৬৬) ছবির মাধ্যমে। সেখানে একজন সফল, কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত সিনেমা তারকার মনের দ্বন্দ্বকে উত্তম যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা বিশ্ব-সিনেমার ইতিহাসেও বিরল।<br>সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন:“নায়ক চিত্রনাট্যটা লেখার সময় আমার মনে ছিল শুধু একজন-উত্তম। আমি জানতাম, এই চরিত্রে ও ছাড়া কেউ পারবে না।”<br>‘নায়ক’-এ উত্তমকুমার অভিনয় করেন অভিজিৎ রায়ের চরিত্রে—এক সুপারস্টার, যার বাইরের গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাপা অপরাধবোধ, অনুতাপ, অহংকার ও অতৃপ্তি। ট্রেনে এক সাংবাদিক তরুণীর সঙ্গে আলাপ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে অভিজিতের ভেতরের মানুষটা।<br>সত্যজিৎ রায়ের ভাষায়-“আমি উত্তমকে দেখেছি চরিত্রের গভীরে ঢুকে পড়তে। আমার চিত্রনাট্য পড়ে ও রিহার্সাল ছাড়াই অনেক দৃশ্য একবারেই নিখুঁত করে তুলেছে।”<br>উত্তমকুমারের শরীরী ভাষা, সংলাপের ওঠাপড়া, চোখের ভাষা—এইসব মিলিয়ে এক অভিনয়ের স্টাইল তৈরি করেছিলেন তিনি।বিখ্যাত অভিনেতা ও শিক্ষক সন্তোষ সিংহের কাছে থেকে ৫৬ রকম মুখের এক্সপ্রেশন শিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলতেন,“উত্তমের সবচেয়ে বড় গুণ, ও কখনও অতিরিক্ত করে না। ওর মধ্যে একটা ভারসাম্য আছে, যেটা একমাত্র প্রকৃত শিল্পীর মধ্যেই থাকে।”<br>‘নায়ক’-এর একটি দৃশ্য—যেখানে উত্তম বিছানায় শুয়ে ছেলেবেলার অপমানের কথা মনে করছে, মুখে কোনো সংলাপ নেই, কেবল চোখে অভিব্যক্তি,সেই দৃশ্য আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি পাঠ্যদৃষ্টান্ত।<br>সত্যজিৎ কখনোই বাণিজ্যিক অভিনেতাদের অভিনয়গুণ নিয়ে সরল প্রশংসা করতেন না। কিন্তু উত্তমের বেলায় তাঁর অবস্থান ছিল আলাদা।“উত্তমের মধ্যে একটা স্নিগ্ধতা আছে, একটা আত্মবিশ্বাস আছে, আবার একটা ভাঙাচোরা মানুষও আছে। এই বৈপরীত্যটাই অভিনয়ে তাকে অনন্য করে তোলে।”<br>তিনি বারবার বলেছেন, উত্তম শুধু নায়ক ছিলেন না,তিনি ছিলেন একজন &#8216;থিঙ্কিং অ্যাক্টর&#8217; ‘thinking , মানে যার অভিনয়ের পেছনে ছিল উপলব্ধি, বিশ্লেষণ এবং চরিত্রমনের ভেতরে ঢোকার ক্ষমতা।<br>সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ মুক্তি পায় বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে বিদেশি সমালোচকরাও উত্তমের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন। ইউরোপিয়ান পত্রপত্রিকায় লেখা হয়, &#8220;অ্যান অ্যাকটর অফ সুপ্রিম স্যাটেলিটি অ্যান্ড গ্রেস।&#8221;<br>সত্যজিৎ বলেছিলেন,“ওই ছবিতে উত্তম যেভাবে অন্তর্মুখী যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তুলেছে, তা যে কোনও আন্তর্জাতিক স্তরের অভিনেতার সঙ্গেই তুলনীয়।”<br>যদিও উত্তমকুমার অনেক আগেই সুপারস্টার হয়ে উঠেছিলেন, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরেই তিনি হয়ে ওঠেন “মহানায়ক”,শুধু বাংলার নয়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অন্যতম উচ্চতা।<br>সত্যজিৎ বলেছিলেন, “উত্তমকে নিয়ে আমি আরও ছবি করতে চেয়েছিলাম। ওর মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা ছিল। আফসোস, সময় পেলাম না।”<br>উত্তমকুমার ছিলেন স্টারডমের প্রতীক। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এক নিখুঁত অভিনেতা একজন “পুরো মানুষ”। তাঁদের একসঙ্গে কাজ শুধু সিনেমাকে নয়, দর্শকদের মনকেও সমৃদ্ধ করেছে।আজ উত্তম নেই, সত্যজিৎও চলে গেছেন। কিন্তু &#8216;নায়ক&#8217; ছবির সেই ট্রেনের কামরায় অভিজিৎ রায়ের মুখোমুখি সত্য উন্মোচনের মুহূর্ত আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।<br>কারণ উত্তম শুধু অভিনয় করতেন না, তিনি বেঁচে থাকতেন তার চরিত্রের মধ্যে। আর সত্যজিৎ রায় সেই সত্যিকারের উত্তমকুমারকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/">সত্যজিতের চোখে উত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সুবীর সেনের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/subir-sen-unpublished-interview-by-kamalendu-sarkar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/subir-sen-unpublished-interview-by-kamalendu-sarkar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 Sep 2024 06:13:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Guru Dutt]]></category>
		<category><![CDATA[Hemanta Mukhopadhyay]]></category>
		<category><![CDATA[HMV]]></category>
		<category><![CDATA[Kanika Bandopadhyay]]></category>
		<category><![CDATA[Lata Mangeshkar]]></category>
		<category><![CDATA[Salil Chowdhury]]></category>
		<category><![CDATA[Shammi Kapoor]]></category>
		<category><![CDATA[Shankar Jaikishen]]></category>
		<category><![CDATA[Subir Sen]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7835</guid>

					<description><![CDATA[<p>আশ্চর্য অজানা না বলা কথার সঙ্গে ওনার চিরকালীন গান।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/subir-sen-unpublished-interview-by-kamalendu-sarkar/">সুবীর সেনের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কমলেন্দু সরকার</strong></p>



<p>সুবীর সেন বেঁচে থাকলে ৯০ পেরোতেন। এখনও&nbsp; তিনি আছেন বাঙালির মনে, তাঁর গানে। সুবীর সেনের এই সাক্ষাৎকারটি অপ্রকাশিত ছিল। আজ থেকে বছর কুড়ি তো বটেই, আরও বেশি হতে পারে সুবীর সেনের বাড়িতে বহুদিন আড্ডা দিতে দিতে অনেক কথা বলেছিলেন শিল্পী। যার মধ্যে বহু প্রসঙ্গ সুবীর সেন লিখতে বারণ করেছিলেন, বিতর্ক এড়াতে।</p>



<p>আমি প্রথম শুনেছিলাম সুবীর সেনের গান, &#8216;সারাদিন তোমায় ভেবে হল না আমার কোনও কাজ/হল না তোমাকে পাওয়া, দিন যে বৃথাই গেল আজ&#8230;&#8217;। সময়টা সত্তরের দশক। উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতা এবং মফসসল-সহ গ্রামগঞ্জ। সারা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্নরকম। অন্যরকম ভাবনাচিন্তা মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে, যুবক-যুবতীরা অন্যরকম কিছু ভাবছেন। ঠিক এমন সময়ই সুবীর সেনের গানটি শুনি গ্রামোফোন রেকর্ডে।মুগ্ধ নয়, আপ্লুত হই। কতবার শুনেছি আর ভেবেছি এমন রোম্যান্টিক গান আগে কখনও শুনিনি!</p>



<p>এর তিন-চার দশক পর সুবীর সেনকে এ-কথা বলতেই উনি বললেন, &#8220;হ্যাঁ, এই গানটি অল টাইম রোম্যান্টিক গান। আমি গেয়েছিলাম ১৯৬৭। ঠিক তার আগের জিম রিভিস গেয়েছিলেন, I hear the distant drum far away. এক যোদ্ধা যুদ্ধে যাওয়ার আগে তার প্রেমিকা বলছেন, &#8216;তুমি একবার বলো তুমি আমার, আমাকে বিয়ে করো।&#8217; যোদ্ধাটির বলার কারণ, সে ধরে নিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আর ফিরবে না। সব যোদ্ধাই তাই ভাবেন। জিম রিভস-এর এই গানটি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় গানটি লেখেন এবং সুর করেন। পরে আমাকে বলেন।&#8221;একইসঙ্গে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ন্যাট কিং কোল-এর &#8216;মোনালিসা&#8217;র আদলে সৃষ্টি করলেন সুবীর সেনের জন্য &#8216;মোনালিসা&#8217;।&nbsp;এই গানটি গাওয়ার জন্য সুবীর সেনের কণ্ঠটিই চাইছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও গানটি শুনলে মনে হয়, ঠিক কণ্ঠটি ব্যবহার করেছিলেন গীতিকার-সুরকার।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="320" height="232" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-shankar-jaikishan.jpg" alt="" class="wp-image-7847" style="aspect-ratio:1.3793103448275863;width:391px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-shankar-jaikishan.jpg 320w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-shankar-jaikishan-300x218.jpg 300w" sizes="(max-width: 320px) 100vw, 320px" /><figcaption class="wp-element-caption">শঙ্কর-জয়কিষণের সঙ্গে সুবীর সেন</figcaption></figure>



<p>এ-প্রসঙ্গে মনে পড়ছে, জিম রিভস-এর গাওয়া &#8216;My Lips Are Sealed&#8217; গানটি শঙ্কর-জয়কিষাণ চমৎকার ব্যবহার করেছিলেন &#8216;আজিব দস্তাঁ হ্যায় ইয়ে&#8217; গানটিতে। &#8220;একেবারে ঠিক। লতা মঙ্গেশকর গেয়েওছিলেন অসাধারণ। শঙ্কর-জয়কিষাণ অপূর্ব সুর করেন। আজও বারবার শুনতে ইচ্ছে করে!&#8221; বলেছিলেন সুবীর সেন।</p>



<p><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-vivid-red-color">আরও পড়ুন :</mark></p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/durga-puja-darpan-tradition-article-by-nrisingha-prasad-bhaduri/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Hridi-Darpone-Nrisingha-article-thr.jpg" />হৃদি দর্পণে</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Featurerd, Rochona, Uncategorized</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/durga-puja-release-songs-nostalgia-and-sweet-memories-by-silajit-majumder/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/pujor-gan-tran-thr.jpg" />পুজোর গান,গানের পুজো</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Featurerd, Rochona</div></li></ul></div>



<p><strong>আপনাকে তো মুম্বইয়ে প্রতিষ্ঠা দেন শঙ্কর-জয়কিষাণই? &#8220;হ্যাঁ, ১৯৫৮ সাল, আমার প্রথম মুম্বই যাত্রা। আমাকে নিয়ে গেছিলেন সাংবাদিক সরোজ সেনগুপ্ত। ওঁর সঙ্গে একদিন গেলাম মহালক্ষ্মী স্টুডিওয়। সেখানে গুরু দত্তেরও অফিস ছিল। হঠাৎ সরোজদা আমাকে বললেন, &#8216;তুই একটু বোস। আমি শঙ্করের সঙ্গে দেখা করে আসছি। উনি ওপরেই থাকেন।&#8217; </strong>পাঠক নিশ্চয়ই বুঝেছেন, শঙ্কর অর্থাৎ শঙ্কর-জয়কিষাণের শঙ্কর। তখন আমি বললাম, &#8220;চুপ করে বসে থেকে কী করব! আমিও যাব। উনি বললেন, &#8216;চল কিন্তু গান নিয়ে কোনও কথা বলবি না।&#8217; এই কথা বলার পিছনে একটি কারণ ছিল, <strong>এর আগে কলকাতায় গুরু দত্তের সঙ্গে কথা হয়েছিল। উনি আমাকে বলেছিলেন, &#8216;তুমি আমার ছবিতে গান গাইবে। তবে একটা শর্ত, তার আগে অন্য কারওর সুরে বা ছবিতে গান গাইতে পারবে না।&#8217;</strong> এই কারণেই বম্বে এসে গুরু দত্তের সঙ্গে দেখা করতে আসা। তাছাড়া গুরু দত্ত আমাকে বম্বে আসতে বলেছিলেন। তিনি তখন &#8216;পিয়াসা&#8217; করছিলেন। অফিসে ছিলেন না গুরু দত্ত। আমি সরোজদার সঙ্গে গেলাম। সরোজদাকে দেখে উনি খুব আপ্যায়ন করলেন। আমি চুপচাপ বসে রইলাম। উনি তখন &#8216;বসন্ত বাহার&#8217; ছবির সুর করছিলেন। শঙ্করজি একলাই ছিলেন। একটা গানের সুর শুনে আচমকা মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, এটা তো হাম্বির।</p>



<p>শঙ্করজি আমাকে বললেন, &#8216;তুমি গানবাজনা করো?&#8217; বললাম, ওই আর কী।</p>



<p>উনি তখন বললেন, &#8216;আমার পাশে এসে বোসো। তুমি আমাকে রবীন্দ্রসংগীত শোনাও।&#8217; গাইলাম &#8216;চক্ষে আমার তৃষ্ণা। দেখলাম উনি একটা টেপরেকর্ডার আনলেন। বললেন, &#8216;আবার গাও।&#8217;রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার পর বললেন, &#8216;হিন্দি গান জানো?&#8217; সুধীন দাশগুপ্তর সুরে কয়েকটি হিন্দি গান তুলেছিলাম। গজল &#8216;তমান্না ও হ্যায় জো না&#8230;&#8217;আর &#8216;হোঁটো জাম লে&#8230;&#8217; গাইলাম।</p>



<p>হঠাৎই উঠে গেলেন শঙ্করজি। ওঁর সহকারীকে বললেন, &#8216;এখনই প্রিন্সকে ডাকো।&#8217; প্রিন্স হলেন জয়কিষাণ। কিছুক্ষণ পর এলেন তিনি। শঙ্কর টেপ শোনাতে চাইলে জয়কিষাণজি আমার কণ্ঠে গান শুনতে চাইলেন। আবার সব গানগুলো গাইলাম।</p>



<p>এরপর তিনি তাঁর সহকারীকে নির্দেশ দিলেন &#8216;স্ক্রিন&#8217; সিনেমা সাপ্তাহিকের ফোটোগ্রাফারকে ডাকার জন্য। তাঁকে কিছু নির্দেশ দিলে ওই ফোটোগ্রাফার আমার বেশকয়েকটি ছবি তুললেন। তারপর সহকারী এসে একটি কাগজে সই করতে বলেন, &#8216;তুমি এখানে সই করো।&#8217; আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কী!</p>



<p><strong>শঙ্করজি বললেন, &#8216;তোমাকে আমরা এক্সক্লুসিভ রাখছি। আমরাই তোমাকে হিন্দি ছবির গানে ইন্ট্রোডিউস করব। তার আগে তুমি কোথাও গাইবে না।&#8217; তারপর ওঁদের সহকারী আমাকে নগদ একহাজার টাকা দিলেন। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম! এরপর সরোজদাকে বললেন শঙ্করজি, &#8216;সুবীরকে নিয়ে তুমি আগামী কালই চলে যাও। আর সুবীর তুমি ভাল করে হিন্দি-উর্দু শেখো। তুমি অনেকদূর যাবে।&#8217;</strong></p>



<p>আমি তো কলকাতা ফিরে ভাবলাম, এসব কথার কথা। কিছুই হবে না! হঠাৎ একদিন সকালে আমার বাড়িতে সরোজদা এসে হাজির। হাতে একটা স্ক্রিন। বললেন, &#8216;দ্যাখ, তোর ছবি কি লেখা হয়েছে!&#8217; দেখি, স্ক্রিন লিখছে, &#8216;শঙ্কর-জয়কিষাণ এমন এক গায়ককে ইন্ট্রোডিউস  করছে, যে-কণ্ঠ এর আগে বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কোনওদিন শোনেনি&#8217;।</p>



<p>এই খবর প্রকাশের কয়েকদিন পর একটি চিঠি এল। চিঠিতে লেখা &#8216;পরিচালক অমিয় চক্রবর্তীর &#8216;কাঠপুতলি&#8217; ছবিতে তোমাকে গাইতে হবে&#8217;। সেইসময় মুম্বইয়ে অমিয় চক্রবর্তী বিশাল একটা নাম। তাঁর ছবিতে গাইব, ভাবতেই পারি না! বলরাজ সাহনির লিপে গাইলাম, &#8216;মঞ্জিল ওহি হ্যায় প্যারকে&#8217;।&#8221;</p>



<p><strong>প্রথম গানেই আসমুদ্রহিমাচল জানল গায়ক সুবীর সেনের নাম। প্রথম গানই হিট। সেইসময় &#8216;বিনাকা গীতমালা&#8217;র রেটিংয়ে ছিল এক নম্বরে। সম্ভবত ওইসময় এমন সম্মান কেউই পাননি।</strong> এই নিয়ে খুব গর্ব ছিল সুবীর সেনের। তিনি বলতেন, &#8220;একদিন তালাত মামুদ সকালবেলা আমার বাড়িতে এলেন ওঁর ফিয়াট গাড়িতে। এসেই আমার হাত দুটো চেপে ধরে বললেন, &#8216;আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। তুমি আমার রেকর্ড ভেঙে দিলে। আমার দ্বিতীয় গান হিট ছিল। আমি ছাড়া দুই-তিনেও কেউ ছিলেন না।&#8221; আরও অনেককিছু বলেছিলেন সেসব আর বললাম না। অযথা তর্ক হতে পারে। তালাতদা আমাকে নানাভাবে খুব সাহায্য করেছিলেন বিপদআপদে। সেই তালাতদার সঙ্গে সম্পর্কটা ঠিক রইল না&#8221;।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="721" height="436" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-Geeta-Dutt-thr.jpg" alt="" class="wp-image-7849" style="aspect-ratio:1.6536697247706422;width:395px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-Geeta-Dutt-thr.jpg 721w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/09/Subir-Sen-Geeta-Dutt-thr-300x181.jpg 300w" sizes="(max-width: 721px) 100vw, 721px" /><figcaption class="wp-element-caption">গীতা দত্ত ও সুবীর সেন</figcaption></figure>



<p>কেন? &#8220;ঘটনাটিতে আমার কোনও দোষ ছিল না। মধুবালা প্রোডাকশনের &#8216;মহেলো কে খোয়াব&#8217; ছবির গান রেকর্ডিং আগেই হয়ে গেছিল। রফি, তালাতদা, গীতাদি (দত্ত) গেয়েছিলেন। একদিন হঠাৎই আমাকে ডাকলেন মধুবালা। যেতেই আমাকে বললেন, &#8216;সুবীরদা এই গানটি আপনি গান তো। গানটি ছিল আশা ভোঁসলের সঙ্গে &#8216;আগর তুম বুরা না মানো&#8217;। তালাতদা কোথাও থেকে শুনেছিলেন। একদিন আমার বাড়িতে এলেন। আমাকে বললেন, &#8216;তুমি যে-গানটি গেয়েছ, সেই গানের রেকর্ডিং আমাকে দিয়ে আগেই করানো হয়েছে।&#8217; আমি তো হতবাক! আমি বললাম, তালাতদা আমাকে সুরকার তো কিছু বলেননি!&#8221;</p>



<p>সুবীর সেনের বাবা ছিলেন অসমের চা-বাগানের ডাক্তার। সুবীর সেনের ছোট থেকেই ছিল গানবাজনার প্রতি ঝোঁক। তাই স্কুলে পড়তে পড়তেই জ্ঞানদায়িনী সংগীত মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন গান শেখার জন্য। এই স্কুলটি ছিল লখনউয়ের মরিস কলেজের একমাত্র শাখা। জ্ঞানদায়িনী থেকে যখন সুবীর তৃতীয় বর্ষ পাশ করেন, তখন তিনি ক্লাস টেনের ছাত্র। প্রতি বছর পরীক্ষা নিতে আসতেন বিখ্যাত গায়ক রতনজনকরজি। সুবীর সেনের গান শুনে মুগ্ধ রতনজনকরজি।</p>



<p>১৯৫১, অসম থেকে সুবীর সেন চলে এলেন কলকাতা। গুয়াহাটি ইউনিভার্সিটির ম্যাট্রিকুলেট সুবীরকে তখন পেয়ে বসেছে গানের নেশা। তিনি যোগাযোগ করলেন চিন্ময় লাহিড়ির সঙ্গে। &#8220;চিন্ময় লাহিড়িকে গান শোনালাম। আমার গান শুনে উনি অবাক! আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, &#8216;তুই কার কাছে গান শিখেছিস? সত্যি করে বল।&#8217; আমি প্রথমে ওঁকে বলেছিলাম, আমি কারওর কাছে গান শিখিনি। সেদিন আমাকে সত্যি কথাটা বলতে হল। তারপর অসমের গোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলতে, উনি চমকে উঠলেন! বললেন, &#8216;তুই গানের ভগবানের কাছে গান শিখে এসেছিস! তোকে আমি কিছু শেখাতে পারব না।&nbsp; তুই এখানে আসবি। কোনও টাকাপয়সা দিতে হবে না,&#8217; বললেন সুবীর সেন।</p>



<p>চিন্ময় লাহিড়ির পর আর কারওর কাছে যাননি? &#8220;গিয়েছিলাম। অনুপম ঘটকের কাছে। ভীষণ রাশভারী লোক ছিলেন। আমাকে দু&#8217;চার কথা বলে বসতে বললেন। আমি একটা জায়গা নিয়ে বসলাম। হঠাৎ চেঁচিয়ে ডাকলেন ওঁর দেখাশোনা যিনি করতেন এবং তবলাও বাজাতেন, তাঁকে। বললেন, &#8216;দ্যাখ, কোথায় বসেছে!&#8217; আমি ভাবলাম, বুঝি ভুল করে অন্যকারওর জায়গায় বসে পড়েছি। লজ্জা পেয়ে, দু:খ প্রকাশ করে উঠতে তখন উনি বললেন, &#8216;আরে, তোমাকে উঠতে বলিনি। তুমি ওখানেই বোসো। তুমি জানো,<strong> ঠিক ওইখানেই প্রথম দিন এ-বাড়িতে এসে কে বসেছিলেন?&#8217; আমি বললাম, সে আমি কি করে জানব! &#8216;তাহলে শোনো কে এল সায়গল, তারপর হেমন্ত মুখুজ্জে (মুখোপাধ্যায়), আজ তুমি। তাই তোমার গান না-শুনেই বলছি, তুমি অনেক বড় জায়গায় পৌঁছবে। তুমি আমার কাছে আসবে। কোনও টাকাকড়ি দিতে হবে না।&#8217;</strong></p>



<p>অনুপম ঘটক কতবড় মাপের সংগীত পরিচালক ছিলেন তা নৌশাদের এক সাক্ষাৎকারে শুনে বুঝেছিলাম। আর ভেবে অবাক হয়েছিলাম, আমি কার কাছে গান শিখেছিলাম! একটা সময় হিন্দি ছবি হত লাহোরে। তখন বম্বেতে হত না। লাহোরে অনুপম ঘটক ছিলেন সেরা সংগীত পরিচালক। নৌশাদের মতো সংগীত পরিচালক বলছেন, &#8216;আমি তখন লাহোরে সহকারী সংগীত পরিচালকের কাজ করি। তখন দেখেছি, কাজ করেছি সংগীতের এক ভগবানের সঙ্গে। তাঁর নাম অনুপম ঘটক।&#8217; ভাবো &#8216;সংগীতের ভগবান&#8217; কথাটি কে বলছেন, নৌশাদ! সেই অনুপমদা আমাকে বলতেন, &#8216;তুই ফোনেটিক ব্যালেন্স জানিস।&#8217;</p>



<p>সেদিন শুনিয়েছিলাম শচীন গুপ্তের গাওয়া &#8216;সারা রাত জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ&#8217;। অনুপমদার সুর আর গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। উনি তো খুবই প্রশংসা করলেন। বললেন, &#8216;তোর কণ্ঠটি চমৎকার। যেদিন খুশি আসবি।&#8217; কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য। ১৯৫৬-তে প্রয়াত হন। উনি আমাকে বারবার একটা কথাই বলতেন, &#8216;তুই ব্যারিটোন ভয়েসে প্র&#x200d;্যাকটিস চালিয়ে যাবি।&#8217; ষাটের দশকে আমার একের পর এক গান হিট। সিনেমার গান গাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলা বেসিক গান গাওয়া চলল। ফলে, তৈরি হয়েছিল গানের একটা জগৎও।&#8221;</p>



<p><strong>ষাটের দশক থেকে কথাটি খুব চালু ছিল, এখনও অনেকেই বলেন, সুবীর সেনের সঙ্গে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না। উনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে ভীষণ হিংসা করতেন? কথাটা শুনেই একটি লম্বা দিলখোলা হাসি দিলেন সুবীর সেন।</strong> বললেন তাঁর সঙ্গে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সখ্য এবং সম্পর্কের কথা। &#8220;দেখো, হেমন্তদার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপই থাকত বা হিংসা করতাম তাহলে কি অনুপমদার বাড়ির ঘটনাটা জাহির করে বলতাম! আসলে সেইসময় আমার সঙ্গে হেমন্তদার লড়াই লাগিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতেন। কারা এবং কেন&nbsp; এসব রটিয়েছিলেন, আমি জানি কিন্তু বলব না। এসব নিয়ে আলোচনা বা প্রসঙ্গ না-তোলাই ভাল। এসব অপ্রাসঙ্গিক। বরং তার চেয়ে হেমন্তদা আমাকে, আমি হেমন্তদাকে কী চোখে বা কোন দৃষ্টিতে দেখতাম, সেসব বলাই ভাল, পাশাপাশি দুজনের মধ্যে শ্রদ্ধা, ভালবাসা কেমন ছিল তা পাওয়া যাবে। হেমন্তাদার স্ত্রী বেলা বউদিওর সঙ্গেও চমৎকার সম্পর্ক ছিল। উনি আমাকে বলেছিলেন, &#8216;আমি তো তোমার গানের ভক্ত। আমাদের বাড়িতে তোমার গানই সারাক্ষণ চলে।&#8217; আরে আমি তো কেরিয়ারের শুরুতে হেমন্তদার গানই&nbsp; গাইতাম।&#8221; বলেই সুবীর সেন হারমোনিয়ামটি টেনে নিয়ে পরপর কয়েকটি গান শোনালেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের।যদিও সুবীর সেনের সেই কণ্ঠটি আর ছিল না তবুও বেশ লাগল। সন্ধ্যাটিও জমে উঠল বেশ!</p>



<p>&#8220;আরে বাবা, আমি তো হেমন্তদার গান গেয়ে বড় হয়েছি। হেমন্তদার ছিল ভগবানদত্ত গলা! &#8216;শাপমোচন&#8217;-এর গানগুলো ভাবতে পারো! কে গাইবে অমন গান! আমার তো আজও ভাল লাগে। আমি তো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে গানও গেয়েছি। হিন্দি ছবিতে সুরকার হিসেবে ওঁর শেষ ছবি ছিল &#8216;হাম ভি ইনসান হ্যায়&#8217;। হেমন্তদার স্মৃতিসৌধ তৈরি করার জন্য &#8216;শ্রদ্ধাঞ্জলি&#8217; ক্যাসেট প্রকাশ পায়৷ বহু শিল্পীই গেয়েছিলেন। আমিও দুটি গান গেয়েছিলাম। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে হিংসে করতেন সুবীর সেন, এসব কথা যারা রটায় তারা কোনও একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করে।&#8221;</p>



<p>আবার পিছনে ফিরি।<strong> সুরকার-গীতিকার সুধীন দাশগুপ্তর আপনার প্রথম গানের রেকর্ড &#8216;এই উজ্জ্বল দিন&#8217; আর &#8216;স্বর্ণঝরা সূর্যরঙে&#8217; তো প্রকাশিত হয় ১৯৫৬-য়। এবং বেরোনোর সঙ্গেসঙ্গেই তো হিট করেছিল।</strong> তা আপনার কাছে সুযোগ কীভাবে এল? মিনিটখানেকের নীরবতা ঘর জুড়ে। হয়তো তিনি ফিরে গেছিলেন ৫০ বছর আগে। হয়তো স্মৃতির অতলে ফিরেছিলেন। হয়তো নয়, সুবীর সেনের চোখে ভেসে উঠেছিল মেট্রো সিনেমার প্রেক্ষাগৃহে। নীরবতা ভঙ্গ হল। সুবীর সেন পৌঁছে গেলেন পঞ্চাশের দশকে কোনও একদিন। বললেন, &#8220;এইসময় এইচএমভি একটা গানের প্রতিযোগিতা করে&#8212; কেরেজু। আমি নাম দিয়েছিলাম। ১৪০০ ছেলে-মেয়ে নাম দিয়েছিল। আমি তো ধরেই নিয়েছি, আমার কোনও চান্স নেই। তা দেখলাম একদিন, চূড়ান্ত নির্বাচনে আমার নামটি আছে। সঙ্গে নির্মল প্রামাণিক আর একটি মেয়ে। তার নামটি মনে নেই। মেট্রো সিনেমাহল-এ ফাইনাল৷ আমার তো হারমোনিয়াম, তবলচি কিছুই নেই। ওরা গান গেয়ে ফাটিয়ে দিয়ে গেল! আমি হারমোনিয়াম ধার করলাম। এইচএমভি-র মাইনে করা একজন তবলিয়া ছিলেন প্রেম সুখ। তাঁকে বললাম, আমার সঙ্গে একটু বাজিয়ে দেবেন? তা উনি রাজি হয়ে গেলেন। আমি গাইলাম, &#8216;সারা রাত জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ&#8217;৷ গান শেষ হওয়ার পর সারা হল হাততালিতে ফেটে পড়ল। <strong>এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমভি-র পি কে সেন আর মেট্রোর ম্যানেজার হাফেজি। ওঁরা তো গান শুনে অবাক! আমার সঙ্গে এইচএমভি তিনবছরের চুক্তি করল। যেটা ইতিহাস ওই কোম্পানিতে! কেননা, তখন এইচএমিভি-তে নিয়ম ছিল যত বড় শিল্পী হন না কেন, তাঁর প্রথম গান হিট করলে, তবেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি করা হত। আমার ক্ষেত্রে হল ব্যতিক্রম।&#8221;</strong></p>



<p>এরপর আর ফিরে তাকালেন না বাংলা গানের স্বর্ণকণ্ঠের অধিকারী সুবীর সেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র-সহ বাংলা গানের স্বর্ণযুগের গায়কদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের জায়গা করে নিলেন তিনি। তৈরি করলেন একেবারে নিজস্ব ঘরানা। দারুণ জনপ্রিয় উঠলেন বাংলা গানের শ্রোতাদের মধ্যে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পর এমন রোম্যান্টিক কণ্ঠ আর নেই। এমনকী, বহু গানপ্রেমী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে পছন্দ করতেন সুবীর সেনকে।</p>



<p>অসাধারণ সব গান গাইলেন তিনি। <strong>যেসব গান আজও অনেকেই গুনগুন করেন&#8212; &#8216;এত সুর আর এত গান&#8217;, &#8216;পাগল হাওয়া&#8217;, &#8216;সারাদিন তোমায় ভেবে&#8217;, &#8216;মোনালিসা, তুমি কে বলো না&#8217;, &#8216;রাত হল নিঝুম&#8217;, &#8216;দূর দিগন্তে ঢেকে আছে মেঘে&#8217;, &#8216;যার আলো নিভে গেছে&#8217;, &#8216;ধরণীর পথে পথে ধুলি হয়ে রয়ে যাব এই কামনা&#8217; ইত্যাদি ইত্যাদি। এবার তাঁকে টানল ভারতীয় সিনেমার মক্কা মুম্বই৷ </strong>&#8220;মুম্বইয়ের প্রসঙ্গে আগেই বলেছি, কীভাবে যাওয়া, যোগাযোগ এসব। আমার হিন্দি গান শুনে ভাল লেগেছিল শঙ্কর-জয়কিষাণের। গেয়েছিলাম, সুধীন দাশগুপ্তের সুরে &#8216;হোঁটে নে জাম লে লে&#8217;। বলে রাখি, সুধীনদার হাতে তেমন কাজ না-থাকলে উনি বসে বসে হিন্দি গানের সুর করতেন। যাইহোক, চুক্তি সই করিয়ে অ্যাডভান্সের টাকা হাতে দিয়েই শঙ্কর বললেন, &#8216;তুমি মুম্বই ছেড়ে কলকাতা চলে যাও।&#8217; আমি তো সরোজদার মুখের দিকে তাকাচ্ছি। উনি বললেন, &#8216;গুরু দত্তের কথা ভুলে যা।&#8217; একটা ট্যাক্সি নিয়ে আমরা ফিরে, হোটেলে একটা ভাল ঘর নিলাম। কারণ, টাকা ছিল না বলে হোটেলের রান্নাঘরের পাশে যাইহোক করে থাকতাম। হাতে যখন কড়কড়ে অতগুলো টাকা তখন আর খামোখা কষ্ট করতে যাব কেন!&#8221;</p>



<p>এবার কলকাতা ফিরে মুম্বই চলে গেলেন সুবীর। শঙ্কর-জয়কিষাণের সুরে &#8216;কাঠপুতলি&#8217; (১৯৫৭)-র &#8216;মঞ্জিল ওহি হ্যায় প্যার কি রাহি&#8217;। বলরাজ সাহানির লিপে সুবীর সেনের গাওয়া পুরুষ কণ্ঠে একমাত্র গান। মুকেশ-এর একটি গান ছিল লতার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে। বাকি সব লতার। সুবীর সেনকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন সুরকার শঙ্কর-জয়কিষাণ। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে একাদিক্রমে বহুকাল বেজেছিল&nbsp; গানটি &#8216;বিনাকা গীতমালা&#8217;য়। পরবর্তী সময়ে &#8216;বিনাকা হিট প্যারেড&#8217;-এ এই গানটি জায়গাও পায়। এক গানেই বলিউডের হিন্দি ছবির গানের দুনিয়া মাত করে দিয়েছিলেন সুবীর সেন।</p>



<p><strong>আপনি তো কলকাতাতেও বা বাংলা গানেও বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তাহলে বাংলা বা কলকাতা ছেড়ে মুম্বই গেলেন কেন? &#8220;দ্যাখো, মুম্বই বা বলিউডের ছবিতে গান গাইলে সারা ভারত কেন, বিদেশেও লোক চেনে। শুধুমাত্র বাংলায় গান গাইলে বর্ধমানের পর আর কেউ চিনত না,&#8221; সাফ জানিয়েছিলেন সুবীর সেন।</strong></p>



<p>&#8216;ছোটি বহেন&#8217;-এ শঙ্কর-জয়কিষাণের সুরে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে &#8216;ম্যায় রঙ্গিলা প্যার কা রাহি&#8217;ও তো সুপারহিট গান ছিল? সুবীর সেনের কণ্ঠে একটা গর্বের রেশ ছিল, &#8220;শুধু সুপারহিট নয়, এই গানটি গেয়ে মেহমুদ নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন। তার আগে ছোটখাটো দৃশ্যে অভিনয় করতেন তিনি। এই গানটা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গেল যে, মেহমুদের ভাগ্য ফিরিয়ে দিয়েছিল হিন্দি সিনেমায়।&#8221; আচ্ছা এই ডুয়েট গান থেকেই নাকি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে একটি ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল আপনার। &#8220;আমার সঙ্গে &#8216;কাঠপুতলি&#8217; ছবিতে গান গাওয়া থেকেই পরিচয়। <strong>&#8216;ছোটি বহেন&#8217;-এর এই গানটি হিট হওয়ার পর থেকেই লতার সঙ্গে একটা ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়।&#8221; </strong>সেটা নাকি&#8230;। আমাকে থামিয়ে দিয়ে সুবীর সেন বললেন, &#8220;এখন ওসব থাক। পরে কোনওদিন ওই প্রসঙ্গে কথা হবে।&#8221;</p>



<p>এইরকম আর কোনও ঘটনার কথা বা প্রসঙ্গ মনে পড়ে? &#8220;শাম্মি কাপুরের &#8216;বয়ফ্রেন্ড&#8217; (১৯৬১) ছবিতে &#8216;দেখো না যাও এ জানে মন&#8217; দারুণ হিট করে। সেইসময় রফির গান ছাড়া অন্য কারওর গানে লিপ দিতেন না শাম্মি কাপুর। আমি একেবারে শাম্মীর মতো করেই গেয়েছিলাম। শঙ্কর-জয়কিষাণ খুব খুশি হয়েছিলেন, শাম্মীও। ওই ছবিতে রফির একাধিক গান ছিল কিন্তু আমার গানটি পছন্দ ছিল ছবির সুরকার, নায়ক ছাড়াও শ্রোতাদেরও। <strong>এই ছবির পর থেকেই শাম্মী কাপুরের সঙ্গে প্রচণ্ড বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সেই সম্পর্ক এমন জায়গায় পৌঁছল যে, উনি রেসের মাঠে গেলেই আমাকে নিয়ে যেতেন। আমারও রেস খেলতে ভাল লাগত। যেতাম শাম্মির সঙ্গে। একবার তো আমি পঞ্চাশহাজার টাকা হেরে গেলাম রেসে, সেদিনই শাম্মী কাপুর হেরেছিলেন আশিহাজার টাকা।&#8221;</strong></p>



<p>শঙ্কর-জয়কিষাণ ছাড়াও একাধিক সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। অভিজ্ঞতা কেমন? &#8220;মদনমোহন, লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল, কল্যাণজি-আনন্দজি, বসন্ত দেশাই, হেমন্তকুমার (মুখোপাধ্যায়)-এর মতো প্রথম সারির সুরকারদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। পাশাপাশি দেব আনন্দ, দিলীপকুমার, রাজেন্দ্রকুমার প্রমুখ নায়কদের লিপে গান গেয়েছি৷ বলরাজ সাহনি, শাম্মি কাপুর আর মেহমুদ-এর কথা আগেই বলেছি, বললেন সুবীর সেন।</p>



<p>আচ্ছা আপনি যে কিছুক্ষণ আগে বললেন পঞ্চাশহাজার টাকা রেসের মাঠে হেরেছিলেন, ষাটের দশকে ওই টাকার পরিমাণ তো অনেকটাই, গায়ে লাগেনি। খুব ঠান্ডা গলায় উত্তর দেন সুবীর সেন, &#8220;আমি তো বললাম, রেস খেলতে পছন্দ করতাম। জেনে-বুঝেই তো রেসের মাঠে যেতাম। আর তাছাড়া সেইসময় দু&#8217;হাতে রোজগার করেছি। বিদেশে অনুষ্ঠান করতে যেতাম।&#8221;</p>



<p>তা <strong>বিদেশের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল? &#8220;এককথায় দারুণ। আমি যখন যেতাম চার-পাঁচ মাসের জন্য যেতাম। সত্তর দশকের প্রায় শেষে বিলেতে গিয়ে তো ন&#8217;মাস ছিলাম। গানের জন্য আমার বিদেশযাত্রা শুরু ষাট দশকের প্রায় শুরুতেই। আমার আগে গিয়েছিলেন তালাত মামুদ। মহম্মদ রফি শুধু নাইরোবি গিয়ে ফিরে আসেন। আমি চার মাস ছিলাম। কেনিয়া, উগান্ডাও গেছিলাম। সর্বত্র অনুষ্ঠান করেছিলাম। দক্ষিণ আমেরিকা, কানাডা ইত্যাদি দেশেও অনুষ্ঠান করেছি। কুয়েত, মরিশাসও গেছিলাম। মরিশাস থেকে ফেরার পর কলকাতায় রাজভবনে ওই দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়। উপস্থিত সকলের সামনে উনি আমাকে বলেছিলেন, মিস্টার সেন তো আমাদের দেশে গান গেয়ে মাতিয়ে এসেছেন।</strong> সব জায়গাতেই বাঙালি শ্রোতা তো পেয়েইছি, দেখেছি যাঁরা বাংলা বোঝেন না, তাঁদেরও গান ভাল লাগেছে, অ্যাপ্রিশিয়েট করছেন। আসলে, গানের তো কোনও ভাষা নেই। গানের ভাষা গানই। এখানে একটা কথা বলে রাখি, আমার আগে কোনও ভারতীয় গায়ক কুয়েতে অনুষ্ঠান করতে যাননি।&#8221;</p>



<p>আপনার গানের জগতে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি হল। এবার একটু অভিনয়জীবনে প্রবেশ করতে পারি তো? সুবীর সেন বললেন, &#8220;আর বোলো না। উত্তমকুমারের জন্য সিনেমায় অভিনয় করা। তার আগে ১৯৫৮-৫৯-এ হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় একটি চিত্রনাট্য লিখেছিলেন আমাকে ভেবেই। সে কথা আমাকে বলেনও। কিন্তু আমি বলেছিলাম সিনেমায় অভিনয় করা নিয়ে মায়ের আপত্তি আছে। আমাকে দিয়ে মা বলিয়ে নিয়েছিলেন, সিনেমায় অভিনয় করা যাবে না। এর বহু পরে অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে ছবিটি করেন &#8216;অভিমান&#8217;৷ আমাকে সিনেমায় অভিনয় করানোর জন্য সলিল চৌধুরীও খুব বলতেন। উনি বলতেন, &#8216;কেন অভিনয় করবি না!&#8217; আমি ওই একই কথা বলতাম, মায়ের কাছে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কোনওদিন সিনেমায় অভিনয় করব না। পরে অবশ্য আর বলতেন না।&#8221;</p>



<p>কলকাতার বিভিন্ন জলসায় আপনার অংশগ্রহণ নাকি একটা প্রেমিক প্রেমিক ভাবমূর্তি তৈরি করেছিল? বিশেষ করে আপনার সুপুরুষ চেহারা নাকি মহিলারা খুব পছন্দ করতেন। আপনার ওই প্রেমিক ইমেজ উত্তমকুমারকেও নাকি টেনেছিল? এবার সুবীর সেন কিছুটা হলেও লজ্জিত হলেন, &#8220;কিছুটা ঠিক৷ মহিলারা পছন্দ করতেন। বহু চিঠিও পেতাম। যাইহোক, <strong>আমি কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে এলেই উত্তমকুমার তাঁর গাড়ির চালক ন্যাপাকে পাঠাতেন। যেতাম উত্তমকুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে। উনি বলতেন, &#8216;তোমার চেহারা, হাসি খুব সুন্দর! তুমি অভিনয় করছ না কেন! তুমি সিনেমায় অভিনয় করো।</strong>&#8216; এটা &#8216;উত্তমকুমারের শুধুমাত্র কথার কথা ছিল না। উনি আমার কথা পরিচালক সলিল দত্তকেও জানান। একদিন হঠাৎ আমার বাড়ি এসে হাজির সলিলবাবু! উনি কোনও কথা বলার সুযোগই আমাকে দিলেন না। <strong>বললেন, আমার পরের ছবি &#8216;মোমের আলো&#8217;-তে আপনি নায়ক এর উত্তমকুমার ডাক্তার।&#8217; আমি বললাম, অভিনয়ের আমি &#8216;অ&#8217; জানি না। দর্শক ধরে পেটাবে! এরপর তো&#8230;।&#8221;</strong></p>



<p>কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সুবীর সেন বললেন, &#8220;উত্তমকুমার আমাকে বলেছিলেন, &#8216;তুমি একবার সিনেমা করো, দেখবে লাইন পড়ে যাবে।&#8217; &#8216;উত্তমকুমারের কথা মিলে গেছিল। লাইন পড়ে গেছিল। আমি ছবি করতে আর রাজি হইনি। ভেবেছিলাম, অভিনয়টা আমার জন্য নয়। তাই আর রাজি হইনি। বিভূতি লাহা আমার অভিনয় পছন্দ করেছিলেন। এরপর বসু ভট্টাচার্যর &#8216;অনুভব&#8217; ছবিতে সঞ্জীবকুমারের গায়ক-বন্ধুর অভিনয় করেছিলাম। সঞ্জীবকুমার কারওর কাছ থেকে কোট-প্যান্টস এনে আমাকে পরিয়েছিলেন। আমি হিন্দি ছবি &#8216;অনুভব&#8217;-এ পুরো একটা রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছিলাম বাংলায়। গানটি ছিল, &#8216;সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে&#8217;। সঞ্জীবকুমার ছিল আমার গানের এক বড় ভক্ত। ওই জোর করে আমাকে&nbsp; &#8216;অনুভব&#8217; ছবিতে ঢুকিয়েছিলেন।&#8221;</p>



<p>আপনি তো রবীন্দ্রসংগীত আগেও গেয়েছিলেন? আলাদা করে শিখেছিলেন? সুবীর সেন বললেন,&nbsp; &#8220;একেবারেই নয়। আমি কোনওদিন কোনও ইনস্টিটিউশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত শিখিনি। আমি গান গাইবার যেটুকু ট্রেনিং পেয়েছি তা মূলত আধুনিক গানের। আমরা কেমন একটা ধারণা ছিল রবীন্দ্রসংগীত গাইবার আলাদা স্টাইল আছে! আমি এটা কোনওদিনই মানতে পারিনি। রবীন্দ্রসংগীত আজও আমার কাছে শেষকথা। যখনই সুযোগ এসেছে তখনই রেকর্ড করেছি রবীন্দ্রসংগীতের, গেয়েওছি। <strong>এখনও কানে বাজে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাগুলো, &#8216;সুবীর সবকিছু ছেড়ে রবীন্দ্রসংগীতে একটু মন দাও। তোমার মতো কণ্ঠ রবীন্দ্রসংগীতে দুর্লভ।&#8217; এ-প্রসঙ্গে মনে পড়ে জর্জদার (দেবব্রত বিশ্বাস) কথা। উনিও আমার গান পছন্দ করতেন, তাঁর ভাল লাগত। অসাধারণ এক মানুষ ছিলেন তিনি। যেমন শিক্ষাদীক্ষা, তেমনই মানসিক দৃঢ়তা! জর্জদার বিশাল এক মোটর সাইকেল ছিল। পিছনে একটা হারমোনিয়াম থাকত। খালি থাকলেই আমাকে তুলে নিতেন।</strong> মাঝেমধ্যেই ওঁর ত্রিকোণ পার্কের ছোট্ট ঘরটিতে যেতাম। গান শুনতে চাইতেন, শোনাতাম। উনিও শোনাতেন। জর্জদার একটা প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত ছিল &#8216;তুমি যে আমারে চাও&#8217;। ওই গানটি রেকর্ড করে জর্জদাকে দিয়ে এলাম। এর কিছুদিন পর ওঁর বাড়িতে ঢুকতেই থমকে গেলাম, দেখি গানের প্রথম লাইনটি শুনেই পিন তুলে নিচ্ছেন। আবার শুনছেন! কয়েক মুহূর্ত অপেক্ষা করে দরজায় দাঁড়াতেই বন্ধ করে দেন। ঘরে ঢুকতেই বললেন, &#8216;কী ভাল গেয়েছিস! আমি এই গানটি আর গামু না।&#8221;</p>



<p>নিজের কথা বলতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না সুবীর সেন। ধরিয়ে দিলে বলতেন। যেমন, গায়কজীবনে প্রচুর প্রেমের গান গেয়েছিলেন। কিন্তু প্রেমের কথা বললেই তিনি লজ্জা পেতেন। এড়িয়ে যেতেন। জিজ্ঞেস করলাম আপনি কিন্তু ভাল সুরকার, গীতিকার পেয়েছিলেন। যেমন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন। বিশেষ করে, সলিল চৌধুরীর মতো একজনকে পেয়েছিলেন আপনারা দুজনই। <strong>বাংলা গানের জগতে হেমন্ত-সলিল যেমন মোড় ঘোরানো একটি জুটি, ঠিক তেমনই জুটি সুবীর-সলিল! কীসব গান হয়েছে আপনাদের জুটির! যেমন&#8212; &#8216;ধরণীর পথে পথে&#8217;, &#8216;পাগল হাওয়া&#8217;, &#8216;কোনও ভাল কবিতার&#8217;, &#8216;আমার জীবন তরণী ঢেউয়ে টলমল&#8217;&#8230;। </strong>মুখের কথা কেড়ে সুবীর সেন বললেন, &#8220;শুরু থেকেই গানের কথা আমার পছন্দ না হলে কখনওই গাইতাম না। এ-প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা বলি, এইচএমভি-র সঙ্গে আমার চুক্তি হল। প্রথম গান রেকর্ডিং হবে। সুধীন দাশগুপ্তর বাড়ি গেলাম একদিন। উনি আমাকে একটা গান দিলেন, &#8216;নীল আকাশের ওই কোলে, কান্নাহাসির ঢেউ তোলে&#8217;। আমি সটান সুধীনদাকে বললাম, এই গানটিতে কিছু নেই। উনি শুনে অবাক! বললেন, &#8216;আর একটা গান আছে। কিন্তু তুমি কি গাইতে পারবে!&#8217; বিস্ময় প্রকাশ করে দিলেন,<strong> &#8216;ওই উজ্জ্বল দিন ডাকে স্বপ্ন রঙিন&#8217;। আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম। বললাম, এই গানটিই আমি গাইব। সুধীনদা বললেন, &#8216;ঠিক আছে তাহলে গাও দেখি।&#8217; গাইলাম। শুনে উনি বললেন, &#8216;না, তুমি পারবে। তোমাকে দিয়ে হবে।&#8217; আমার স্বভাব বলো, জেদ বলো শেষপর্যন্ত বজায় রেখে গেছি। একচুলও সরি আসিনি।&#8221;</strong></p>



<figure class="wp-block-embed is-type-video is-provider-youtube wp-block-embed-youtube wp-embed-aspect-4-3 wp-has-aspect-ratio"><div class="wp-block-embed__wrapper">
<iframe title="Oi Ujjal Din" width="640" height="480" src="https://www.youtube.com/embed/KqWOHLzPys0?feature=oembed" frameborder="0" allow="accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share" referrerpolicy="strict-origin-when-cross-origin" allowfullscreen></iframe>
</div></figure>



<p>সলিল চৌধুরীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের রসায়নের পিছনে কী লুকিয়ে! &#8220;না না, লুকনোটুকনোর কিছু নেই। সলিলদার সঙ্গে যখন আলাপ তখন আমার কয়েকটি গান হিট হয়ে গেছে। সলিলদার কয়্যারে আমি মাঝেমধ্যে গান গাইতাম। বা গলা মেলাতাম। সলিলদার কাছে যাতায়াতের কোনও এক ফাঁকে আমাদের দুজনের ভেতর সম্পর্কটাও জমাট বেঁধে যায়। মুম্বইয়ে ওঁর বাড়িতে সারারাত কেটে গেছে সলিলদার সঙ্গে গানের আলোচনায়। এই সময়টা আমার সংগীতজীবন অনেকটাই সমৃদ্ধ হয়। কীসব সুর করেছিলেন গানে! অন্য ডাইমেনশন! আমাকে একটা গান দিয়ে বললেন, &#8216;এই গানটা তুই গাইবি, তোকেই গাইতে হবে। তুই পারবি।&#8217; গানটির প্যাটার্ন ছিল বেশ কঠিন। অসাধারণ সুর! অপূর্ব অ্যারেঞ্জমেন্ট! গানটি ছিল, &#8216;কোনো ভাল কবিতার দুটো পংক্তি দাও/আমি তাকে ডানা করে পাখি হয়ে শূন্যে উড়ে যাব&#8217;। গাইলাম। আমাকে বললেন, &#8216;বলেছিলাম না, তুই পারবি। খুব ভাল গেয়েছিস।&#8217; একদিন একটি গান সলিলদা আমাকে দিয়ে গাওয়ালেন। তারপর বললেন, &#8216;ফোক গাইবি?&#8217; বললাম, গাইতে পারি কিন্তু কোনওদিন তো গাইনি। তখন উনি বললেন, &#8216;এই তো গাইলি। এটাই তো ফোক। তুই কি মনে করিস গলা বিকৃত না-করলে ফোক গাওয়া যায় না। তুই তোর মতো করে গেয়েছিস, গাইবিও তাই।&#8217; গানটি ছিল &#8216;আমার জীবন তরণী ঢেউয়ে টলমল করে সংশয় সাগরে&#8217;। যেমন লেখা তেমনই সুর! আমার পরম পাওয়া!&#8221; সলিল চৌধুরীর গান নিয়ে বলতে বলতে উনি হারিয়ে গেছিলেন পুরনো দিনে। সম্বিত ফিরল আমার কথায়।</p>



<p>সুবীর সেনকে বললাম, অনেক কথা তো হল, আবার একটু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। যেখানে আপনি অনেকটাই জায়গা জুড়ে আছেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির সঙ্গেই আপনার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল নাকি? সুবীর সেন নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে সামান্য হলেও লজ্জিত হতেন। &#8220;হ্যাঁ, সম্পর্ক তৈরি মানে, <strong>হেমন্তদার মা আমার গান ভীষণই পছন্দ করতেন। উনি বলেছিলেন, &#8216;আমার বাড়িতে একজন বড় গায়ক থাকতেও সারাক্ষণ তোমার গানই বাজে।&#8217;</strong> আমার এখনও মনে আছে, আমার একটি অনুষ্ঠানে মাসিমা অর্থাৎ হেমন্তদার মা এসেছিলেন। আমি সেদিন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কয়েকটি গান গেয়েওছিলাম।অনুষ্ঠানের শেষে উনি বললেন, &#8216;তোমার গলায় ছেলের গান শুনে মনজুড়িয়ে গেল! একদিন বাড়িতে এসো।&#8217; আমাকে উনি আশীর্বাদ করেছিলেন। তারপর যেদিন হেমন্তদার বাড়ি গেলাম, সেদিন ভূরিভোজ করিয়ে&nbsp; ছেড়েছিলেন। এসব আমার গানের জীবনে পাথেয়।&#8221;</p>



<p>আপনি মুম্বই ছেড়ে কলকাতা চলে এলেন কেন? সুবীর সেনের মনে হয়তো মুম্বইযাপনের দিনগুলোর স্মৃতি উসকে দিলাম কিংবা উসকে উঠল। কিছুটা সময় নিয়ে বললেন, &#8220;মুম্বইয়ে অত সাফল্যের পর হেরে গিয়ে আমি কলকাতা ফিরিনি। কলকাতা আসবার আগেও গান গেয়েছিলাম। সেসব গানও ছিল হিট। হলটা কি, জয়কিষাণ প্রয়াত হওয়ার পর একদিন শঙ্কর আমাকে ডেকে বললেন, &#8216;সুবীরবাবু আমি আর কোনও কাজ করব না। একসময় তুমি এত ভাল গান, হিট গান গেয়েছ, এখন কার সুরে কী গান গাইবে!&#8217; অন্যদিকে মা অসুস্থ। সবমিলিয়ে কী করব, ভেবে হিমশিম খাচ্ছিলাম। যাইহোক, মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে আসতে হল কলকাতা।&#8221;</p>



<figure class="wp-block-embed is-type-video is-provider-youtube wp-block-embed-youtube wp-embed-aspect-16-9 wp-has-aspect-ratio"><div class="wp-block-embed__wrapper">
<iframe title="Eto Sur Aar Eto Gaan | All Time Greats Subir Sen | Subir Sen | Sudhin Dasgupta | Audio" width="640" height="360" src="https://www.youtube.com/embed/Mwp-ULGjP8c?feature=oembed" frameborder="0" allow="accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share" referrerpolicy="strict-origin-when-cross-origin" allowfullscreen></iframe>
</div></figure>



<p>হয়তো রাতের খাওয়ার সময় হয়ে এসেছিল সুবীর সেনের। তাই পাততাড়ি গুটিয়ে সুবীর সেনকে শেষ কথাটি বললাম, ঈশ্বর আপনাকে সুস্থ রাখুন, আপনার কণ্ঠ সচল রাখুন, দীর্ঘজীবী হন। কিন্তু শেষদিন পর্যন্ত শ্রোতাদের আপনি কোন গানটি শোনাতে চান বা আপনি নিজে শুনতে চাইবেন? হারমোনিয়ামটি কিঞ্চিৎ নিজের দিকে টেনে নেন সুবীর সেন। ধরলেন, &#8216;এত সুর আর এত গান যদি কোনওদিন থেমে যায়/সেই দিন তুমিও তো ওগো জানি ভুলে যাবে যে আমায়&#8217;। না, কেউ ভোলেননি সুবীর সেনের গান। রাত্রি তখন প্রায় দশটা, সুবীর সেনের পণ্ডিতিয়া প্লেসের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছি তখনও ভেসে আসছে নাকি শ্রবণেন্দ্রিয়ে লেগে রয়েছে &#8216;এত সুর আর এত গান&#8217;। হঠাৎই ওপর দিকে দৃষ্টি যেতেই দেখি,&nbsp; আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারাটি জ্বলজ্বল করছে ঠিক পণ্ডিতিয়া প্লেসের ওই বাড়ির আকাশজুড়ে!</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/subir-sen-unpublished-interview-by-kamalendu-sarkar/">সুবীর সেনের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/subir-sen-unpublished-interview-by-kamalendu-sarkar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উত্তম কুমার ফিল্ম ফেষ্টিভ্যাল</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/uttam-kumar-film-festival/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/uttam-kumar-film-festival/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Jul 2024 11:28:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Binodan]]></category>
		<category><![CDATA[Celebrities]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7627</guid>

					<description><![CDATA[<p>আগামী ২৪ শে জুলাই থেকে ৭ই অগাস্ট।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/uttam-kumar-film-festival/">উত্তম কুমার ফিল্ম ফেষ্টিভ্যাল</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাঙালি জনমানসে উত্তমকুমারের অমোঘ আকর্ষণ&nbsp; এমনি যে চলে যাওয়ার ৪৫ বছর পরেও তাঁকে নিয়ে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হয়।শিল্পী সংসদ আয়োজিত উত্তম কুমার চলচ্চিত্র উৎসব হতে চলেছে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে ওনার প্রয়াণ দিবস আগামী ২৪ শে জুলাই থেকে ৭ই অগাস্ট।</p>



<p>দুপুর ৩টে ও ৬টায় নন্দন ১,২ ও ৩ প্রেক্ষাগৃহে যে চিরকালীন সুপারহিট ছবি গুলি দেখানো হবে :</p>



<p>সাড়ে ৭৪,সবার উপরে,মৌচাক ,মন নিয়ে, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি,সদানন্দের মেলা,রাই কমল,সাথীহারা,চৌরঙ্গী,সূর্যতোরণ,উত্তরায়ণ,অন্ধ অতীত,জীবন তৃষ্ণা,পৃথিবী আমারে চায়,রাজকুমারী,কখনো মেঘ,অবাক পৃথিবী,শুন বরনারী,প্রিয় বান্ধবী,পুত্রবধূ,রাজকন্যা,যদি জানতেম,অভয়ের বিয়ে,শেষ অঙ্ক,শ্যামলী,উপহার,জীবন মৃত্যু, একটি রাত, সেই চোখ,থানা থেকে আসছি ।</p>



<p>উত্তম কুমারের এই ছবিগুলো বহুবার ছোট পর্দায়,ইউ টিউব আর ওটিটিতে দেখা যাওয়ার সুযোগ হলেও বড় পর্দায় নিরিবিচ্ছিন্ন ছবি দেখার আনন্দ আর আমেজের তৃপ্তির তুলনীয় অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না।আর একটি বিষয় হল এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে উত্তমকুমারের ছবি বড় পর্দায় দেখার,নিজেদের নস্টালজিয়া,এই ছবিগুলি হলে দেখার সুখস্মৃতি সর্বোপরি ১৬দিন ধরে নন্দনে উত্তম কুমারের চিরকালীন মহিমা প্রত্যক্ষ করার এই সুযোগ ছাড়া উচিত হবে না।</p>



<p>কবে কখন কোন ছবি তার তালিকা রইল :         </p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="768" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/07/WhatsApp-Image-2024-07-01-at-12.02.15-PM-1.jpeg" alt="" class="wp-image-7628" style="aspect-ratio:1.3333333333333333;width:521px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/07/WhatsApp-Image-2024-07-01-at-12.02.15-PM-1.jpeg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/07/WhatsApp-Image-2024-07-01-at-12.02.15-PM-1-300x225.jpeg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/07/WhatsApp-Image-2024-07-01-at-12.02.15-PM-1-768x576.jpeg 768w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></figure><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/uttam-kumar-film-festival/">উত্তম কুমার ফিল্ম ফেষ্টিভ্যাল</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/uttam-kumar-film-festival/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শুভ মহরৎ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Apr 2023 10:13:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Amitabh Bachchan]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali Cinema Pyla Baishakh Mohurat]]></category>
		<category><![CDATA[Chabi Biswas]]></category>
		<category><![CDATA[Pahari Sanyal]]></category>
		<category><![CDATA[Soumitra Chattopadhyay]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=5811</guid>

					<description><![CDATA[<p>নববর্ষের দিন স্টুডিয়ো পাড়ায় পুরনো দিনের অজানা গল্প।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/">শুভ মহরৎ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কমলেন্দু সরকার</p>



<p>মুম্বইয়ের মেহবুব স্টুডিয়ো। সময়টা সাতের দশকের শেষদিক। মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুর পূর্বের কথা। হিন্দি ছবির নামীদামি প্রযোজক-পরিচালক মনমোহন দেশাই ভাবলেন তারকাখচিত একটা ছবি করলে কেমন হয়! নিজেই নিজেকে উত্তর করলেন, বেশ হবে। নিজের অফিসে বসে ঠিকও করলেন, ছবিতে কারা থাকবেন। ছবির নাম &#8216;দেশপ্রেমী&#8217;। ছবির দুই প্রধান চরিত্রে থাকবেন বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন, আর থাকবেন টলিউডের মহানায়ক উত্তমকুমার। ফোনে ধরলেন উত্তমকুমারকে। রাজি মহানায়কও। টলিউডের শাহেনশা তো রাজিই।</p>



<p>পরিচালক শক্তি সামন্তর &#8216;অমানুষ&#8217; হিন্দি ভার্সান সারা দেশে বক্স-অফিসে ব্যাপকভাবে সফল। উত্তমকুমারের&nbsp; সঙ্গে চুক্তিপত্রে সইসাবুদও হল মনমোহন দেশাইয়ের।&nbsp;</p>



<p>পরিচালক মনমোহন দেশাইয়ের খুব ইচ্ছে হল, ছবির মহরত অনুষ্ঠানটি হোক ধুমধাম করে। সেইমতো ছবির পরিচালক মহানায়ক আর শাহেনশাকে তাঁর মনের ইচ্ছা জানালেন। তিনি নাকি বলেছিলেন, যে-ছবিতে উত্তমকুমার ও অমিতাভ বচ্চন একসঙ্গে কাজ করবেন, সেই ছবির মহরত তো বড় করে হওয়াই কাম্য। উত্তমকুমাররের মনে পড়ল, তাঁর কাজের জায়গা টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ায় বাংলা নববর্ষের দিন নতুন ছবির মহরতের কথা।যদিও উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়জীবনে খুব বেশি যাননি ছবির মহরতে। বাংলা নববর্ষের দিন পয়লা বৈশাখ টালিগঞ্জের প্রতিটি স্টুডিয়োই ব্যস্ত থাকত নতুন ছবির মহরতে।সাংবাদিক, অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজকের ভিড় হয়তো পছন্দ করতেন না তিনি। মহরতে না গেলে কী হবে, সব খবরই রাখতেন উত্তমকুমার।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-scaled.jpg" alt="" class="wp-image-5863" width="301" height="414" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-scaled.jpg 559w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-218x300.jpg 218w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-320x440.jpg 320w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-640x880.jpg 640w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/04/thumbnail-360x495.jpg 360w" sizes="(max-width: 301px) 100vw, 301px" /><figcaption>ছবি- পিন্টারেস্ট</figcaption></figure>



<p>উত্তমকুমার কলকাতা থেকে উড়ে গেলেন মুম্বই। যতদূর জানা যায়, দিনটি নাকি পয়লা বৈশাখই ছিল। বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন থাক বা না-থাক, তবে তারকার আলোর ঝলকানিতে উজ্জ্বল ছিল সেদিন মুম্বইয়ের মেহবুব স্টুডিয়ো! শোনা যায়, <strong>অমিতাভ বচ্চন নাকি বলেছিলেন, &#8220;উত্তমদা, আপনার নিউ আলিপুরের বাড়ির পাশে কলকাতায় চাকরি করার সময় কিছুদিন ছিলাম। আপনাকে দেখতাম।&#8221;</strong></p>



<p>সেদিন কথায় কথায় জমে জমাট বেঁধেছিল মেহবুব স্টুডিয়োয় &#8216;দেশপ্রেমী&#8217; ছবির মহরত অনুষ্ঠান। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর ১৯৮২-র বাংলা নববর্ষের একসপ্তাহ পর। ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বাংলা নববর্ষে বাংলা ছবির মহরত এবং মুক্তি ছিল প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশকদের মূল লক্ষ্য। নববর্ষের দিন মহরত ঘিরে পুরনো দিনের কত গল্প, কত ঘটনা ঘোরে টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ার আনাচকানাচে!</p>



<p>টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ায় বাংলা নতুন বছরের প্রথম&nbsp; দিন এবং অক্ষয়তৃতীয়ায় বাংলা সিনেমার মহরত কবে শুরু হল, এই শুরুর ইতিহাসের কথা কেউই তেমনভাবে বলতে পারেন না। বলতে পারেননি বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র সাংবাদিক নির্মল ধরও। উনি বললেন, &#8220;ইদানীং তো আর ঘটা করে মহরতের অনুষ্ঠান দেখি না। হয়ও কিনা জানি না। স্টুডিয়ো&nbsp; পাড়ায় মহরতের অনুষ্ঠান দেখে আসছি সেই ষাটের দশকের শুরু থেকেই। উত্তমকুমার-সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে খোশ গল্প করতে দেখেছি পরিচালক সলিল দত্তের &#8216;স্ত্রী&#8217; ছবির মহরতে। সে ছিল এলাহি ব্যাপার। সেইসময় এই দুই নায়ককে ঘিরেই বাংলা ছবির দর্শকদের ছিল উন্মাদনা।&#8221;</p>



<p><strong>মহরতের দিন হাজির ছিল ছবির হাতিটিও</strong></p>



<p>আর এক চলচ্চিত্র সাংবাদিক এবং লেখক চণ্ডী মুখোপাধ্যায় হাজির ছিলেন তপন সিংহের ছবি &#8216;সফেদ হাতি&#8217;র মহরতে। তিনি বললেন, &#8220;সেদিন মহরত হয়ে যাওয়ার পর পাত-পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল স্টুডিয়োতে। নেমন্তন্নবাড়ির মতো ম্যারাপ বাঁধা হয়েছিল স্টুডিয়োজুড়ে। সবচেয়ে মজার মহরতের দিন হাজির ছিল ছবির হাতিটিও। তাকে ঘিরে সবাইয়েরই ছিল বেশ কৌতূহল। বেশ মজায় কেটেছিল। আর একটা নববর্ষের দিন মহরতের কথা মনে আছে। সেটি হল পরিচালক প্রভাত রায়ের &#8216;প্রতিবাদ&#8217;। <strong>দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর সন্ধেবেলা ছিল ককটেল। অঢেল আয়োজন। তখন পার্টি শুরু হত সন্ধে সাতটায়। শেষ সার্ভ হত রাত দশটায়। এর কোনও অন্যথা হত না। </strong>এখন এসব শুনলে মনে হবে রূপকথার গল্প।&#8221;</p>



<p><em><strong>&#8216;ধুলোমাখা রসগোল্লাগুলো পরের ব্যাচে&nbsp; বালুসাই বলে চালিয়ে দে, কেউ টের পাবে না।</strong>&#8216;</em></p>



<p>চণ্ডী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পাত-পেড়ে খাওয়াদাওয়ার কথা হতে হতেই মনে পড়ে পুরনো দিনের সব মজার কথা। সেবার বাংলা নববর্ষের দিন ছবির মহরত উপলক্ষে ইন্দ্রপুরীতে জমিয়ে দুপুরের ভূরিভোজ চলছে। সেইসময় স্টুডিয়োর ক্যান্টিনই বরাত পেত দুপুরের খাওয়াদাওয়ার। ভূরিভোজনের তখন শেষপর্যায়। পাতে তখন পড়ছিল দই, সন্দেশ আর রসগোল্লা। <strong>পরিবেশনকারী যে-ছেলেটির হাতে ছিল রসগোল্লার বালতি তার পায়ে তার জড়াতেই ছেলেটি&nbsp; একেবারে ভূপতিতমোহন অর্থাৎ চিৎপটাং! বালতির রসগোল্লাগুলো মাটিতে পড়ে টেনিস বল! উপস্থিত ছিলেন জহর রায়। উনি বললেন, &#8220;ভয় পাস না মোটেও। ধুলোমাখা রসগোল্লাগুলো পরের ব্যাচে&nbsp; বালুসাই বলে চালিয়ে দে, কেউ টের পাবে না।&#8221; </strong>জহর রায়ের কথা বলার ভঙ্গিতে হাসির রোল ছড়িয়ে পড়ে ইন্দ্রপুরীর চত্বরে। খেতে বসা কেউ কেউ বিষমও খেলেন।</p>



<p><strong><em>ছবি বিশ্বাস হাসতে হাসতে পাহাড়ী সান্যালকে বলেন, &#8220;না, রে, ওসব কিছু নয়। আমি চিরকাল জমিদার হয়ে থাকলাম। তুই সেই নায়েব হয়েই রইলি।&#8221;</em></strong></p>



<p>ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ি সান্যালের মধ্যে ছিল ভীষণ ভাল সম্পর্ক। দু&#8217;জনের ভিতর সবসময়ই লেগে থাকত খুনসুটি। পাহাড়ী সান্যাল বাংলা সিনেমায় এসেছিলেন ছবি বিশ্বাসের বছরতিনেক আগে। কিন্তু বয়সে ছবি বিশ্বাস ছিলেন ছ&#8217;বছরের বড় পাহাড়ী সান্যালের চেয়ে। এই ফারাক কোনওদিন বাধা হয়ে দাঁড়ানি ওঁদের দু&#8217;জনের বন্ধুত্বের সম্পর্কে। একদিন ছবি বিশ্বাস বললেন, &#8220;পাহাড়ী জানিস, তোর সঙ্গে আমার অনেক তফাত।&#8221; পাহাড়ী সান্যাল তখন বলেন, &#8220;সে তো বটেই। তুমি লম্বা আমি বেঁটে। তুমি আমার থেকে ভাল অভিনেতা।&#8221; ছবি বিশ্বাস হাসতে হাসতে বলেন, &#8220;না, রে, ওসব কিছু নয়। আমি চিরকাল জমিদার হয়ে থাকলাম। তুই সেই নায়েব হয়েই রইলি।&#8221;</p>



<p>পাহাড়ী সান্যালের প্রথম ছবি নিউ থিয়েটার্সের &#8216;মীরাবাই&#8217; (১৯৩৩)। পরিচালক দেবকী বসু। আর ছবি বিশ্বাসের প্রথম ছবি ছিল কালী ফিল্মসের &#8216;অন্নপূর্ণার মন্দির&#8217; (১৯৩৬)। পরিচালক তিনকড়ি চক্রবর্তী। ছবি বিশ্বাস আর পাহাড়ী সান্যালের একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল একবার পয়লা বৈশাখের মহরতে। সেদিন ছিল ছবি বিশ্বাসের প্রথম ছবির প্রযোজকের নতুন ছবির মহরত। গল্পটি শুনেছিলাম কনিষ্ঠ সাংবাদিক গুঞ্জন ঘোষের কাছে&#8211; <strong>পঞ্চাশের দশকে কোনও একটা ছবির মহরত অনুষ্ঠানে কালী ফিল্মস স্টুডিতে ভূরিভোজ হচ্ছে। তখনকার তাবড় শিল্পীরা সব হাজির। ছবি বিশ্বাস আম খেতে ভালবাসতেন খুব। কানাঘুষো শোনা গেল প্রযোজক ল্যাংড়া আমের ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে পাহাড়ি সান্যালের পছন্দের খাবার ছানার ডালনা। তিনিও খবর নিয়ে জেনেছেন তাঁর প্রিয় পদটি আছে দুপুরের মেনুতে। কিন্তু খেতে বসে দেখা গেল দুটোর কোনও পদটিই নেই। ছবি বিশ্বাসকে লক্ষ করে পাহাড়ী সান্যাল বললেন, ‘টাকায় টাকা বাড়ে, গরমে বাড়ে ঘাম,&nbsp; প্রোডিউসার এত কিপটে, পাতে দেয়নি আম!’ ছবি বিশ্বাসও সঙ্গেসঙ্গে বললেন, ‘হায়রে ছানার পাই না দেখা, কোথায় গেলি তুই?, তোর অভাবে ভরলো না পেট, হাত-পা তুলে শুই!’ </strong>এইরকম মজার সম্পর্ক ছিল ওঁদের দু&#8217;জনের ভিতর। আর মজাও হত সেকালের পয়লা বৈশাখের মহরতে।</p>



<p>বাংলা ছবির সিনিয়র প্রচারবিদ উত্তম বসু বহুদিন সাক্ষী ছিলেন টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ার নববর্ষের মহরতে। তিনি বললেন, &#8220;সেইসময় একসঙ্গে পাঁচ-সাতটা ছবির মহরত হত। মহরত হওয়া সব ছবিই যে বাস্তবে রূপায়িত তা নয়। <strong>রাঙাদা (দিলীপ রায়) একটি ছবির মহরত করলেন পয়লা বৈশাখ। ছবিটিতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেদিন উত্তমকুমারও এসেছিলেন। উনি ছবিটিতে ছিলেন না</strong>। যেহেতু দিলীপ রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব ভাল ছিল তাই ওঁর আমন্ত্রণে হাজির ছিলেন মহরতে। এ-ছবিটি পরে হয়নি। ওই মহরতেই শুধু হয়েছিল। ঠিক এমনই হয়েছিল পরিচালক প্রভাত রায়ের &#8216;প্রহার&#8217; ছবির ক্ষেত্রে। ছবিটিতে ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেদিন এলাহি আয়োজন। পুরো স্টুডিয়ো চত্বর ছিল নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। কিন্তু শুরুতেই শেষ।&#8221;</p>



<p>মহরতের দিন কেউ কেউ স্টুডিয়োতেই পুজো করে মহরত করতেন। বেশিরভাগই প্রযোজক-পরিচালকই কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর বা অন্যকোনও কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে সেই প্রসাদীফুল ক্যামেরায় ঠেকাতেন আবার অনেক প্রথম শট নিয়ে প্রসাদীফুল ক্ল্যাপস্টিকে ঠেকাতেন। টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ার প্রযোজক-পরিচালকেরা পুজো দিতেন কালীঘাটে বা দক্ষিণের কোনও জাগ্রত কালীমন্দিরে, উত্তরের অরোরা, আড়িয়াদহ-দক্ষিণেশ্বরের ইস্টার্ন টকিজ, সিঁথির মোড়ের এমপি স্টুডিয়োর পুজো দেওয়া হত দক্ষিণেশ্বরে কিংবা বাগবাজারের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে। কেউ কেউ আবার মহরত অনুষ্ঠান করতেন না, করেনওনি। যেমন, বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায় কোনও ছবিরই মহরত করেননি। &#8220;মৃণাল সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, গৌতম ঘোষও কোনও ছবির মহরত করেননি,&#8221; বললেন বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র সাংবাদিক স্বপনকুমার ঘোষ।</p>



<p>একসময় টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়া পয়লা বৈশাখের দিন গমগম করত সেকথাও বললেন, স্বপনকুমার ঘোষ, &#8220;উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ, কে আসতেন না মহরত অনুষ্ঠানে! আমি দেখেছি নিউ থিয়েটার্সের তিন জায়গায় তিনটি ছবির মহরত একসঙ্গে হচ্ছে! আমি শুধু সুচিত্রা সেনকে কোনওদিন দেখিনি পয়লা বৈশাখের মহরতে। তাছাড়া সবাইকে দেখতাম পয়লা বৈশাখের মহরতে। যাঁদের ছবি তাঁরা তো আসতেনই। এছাড়াও আমন্ত্রিতরাও আসতেন। কখনওসখনও প্যান্ডেল বেঁধে পাত-পেড়ে খাওয়াদাওয়া হত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সকলকে খাওয়ার প্যাকেট দেওয়া হত। আরও একটা কথা বলে রাখি, মহরত হওয়া মানেই কিন্তু ছবি হবে এমন কোনও ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল না। বহু ছবিরই মহরত হয়েছে কিন্তু ছবি হয়নি।&#8221; এমনটা হয়েছিল উত্তমকুমারের ক্ষেত্রেও। উত্তমকুমার-মালা সিনহা ছবির জুটি। মহরতের সকালে জানা গেল চিত্রনাট্যকার এখনও রেডিওই করতে পারেননি চিত্রনাট্য। ওদিকে পরিচালকের রক্তচাপ বেড়ে হাই। তিনি হাতজোড় করে বলছেন, ‘আমার ছবির কি হবে? আপনি অন্তত কয়েকপাতার একটা চিত্রনাট্য লিখে দিন। নইলে&#8230;’</p>



<p>চিত্রনাট্যকার দন্ত বিগলিত করে যা বললেন, এমন চিত্রনাট্য বাপের জন্মে শুনেছেন কিনা পরিচালক তা তাঁর জানা ছিল না! তবে মহরতের দিন দুয়েক শুটিংয়ের পর এই বন্ধ হয় ছবি।</p>



<p>স্বপনকুমার ঘোষ বলেন, <strong>&#8220;মহরতের শট অনেকসময়&nbsp; ছবিতে থাকত না।&#8221;</strong></p>



<p>ঢাকঢোল পিটিয়ে মহরত হত কিন্তু ছবি&#8230;, না, হত না। কারওর কারওর শুনেছিলাম, টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ায় কোনও পরিচালকের পরিচিতিই হয়েছিল মহরতের পরিচালক। আসলে এঁরা ছিলেন খদ্দের ধরার দলে। গ্রামগঞ্জে কিংবা মফসসলের অনেকেই প্রভূত ধনী ছিলেন। তাঁদের ব্যামো হল সিনেমায় মুখ দেখাবেন। তাঁদের টোপ দিয়ে মহরতে আনা হত। ওই মহরতেই শুটিং শুরু, সেখানেই শেষ।&nbsp; যদিও এগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মহরতের দিন আনন্দের বন্যা বয়ে যেত স্টুডিয়োপাড়ায়। ফুল দিয়ে সাজানো হত। সানাই বাজত। টেকনিশিয়ানরা আসতেন নতুন জামা-কাপড় পরে। একসময় টালিগঞ্জ স্টুডিয়োপাড়ায় নিত্য যাতায়াত ছিল বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির সাহিত্যিকদের। সেই তালিকায়&nbsp; ছিলেন&#8212;<strong> নজরুল ইসলাম, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক ভট্টাচার্য প্রমুখর</strong>। এঁদের অনেকেই ছিলেন সে-যুগের নামী পরিচালক। তাঁরা ছিলেন একাধিক হিট ছবির পরিচালক।</p>



<p>আশির দশকেও দেখা গেছিল আর ডি বর্মন, মিঠুন চক্রবর্তী প্রমুখকেও। দু&#8217;জনেই একই স্টুডিয়োয় এসেছেন। এ-প্রসঙ্গে জনপ্রিয় <strong>পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী বললেন, &#8220;আগে মহরতের দিনগুলো ছিল&#8211; পয়লা বৈশাখ, অক্ষয় তৃতীয়া, রথযাত্রা আর মহালয়া। আমি নিজেই &#8216;মহান&#8217; ছবির মহরত করেছিলাম রথযাত্রার দিন। </strong>তবে পয়লা বৈশাখ আর মহালয়ার দিন মহরত হত সবচেয়ে বেশি। কত বড় বড় লোক আসতেন। চা, কফি, শরবত, ডাবের জল দিয়ে শুরু হত আপ্যায়ন। দুপুরে লাঞ্চ। প্রচুর খাওয়াদাওয়া হত। অনেকেই বড় বড় হোটেলে পার্টি দিত। যাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হত তাঁদের প্রায় সকলেই আসতেন। এত মধুর সম্পর্ক ছিল। একবার পয়লা বৈশাখে নিউ থিয়েটার্সে প্রভাতদা (রায়)-র ছবি করতে এলেন মিঠুন চক্রবর্তী। যদিও&nbsp; পরে সে-ছবি আর হয়নি। অঞ্জনদা (চৌধুরী)-র ছবিতে ক্ল্যাপস্টিক দিলেন আর ডি বর্মন। স্টুডিয়োর বাইরে বিশাল ভিড়। ভিতরের অবস্থাও গমগমে। শেষে এমন অবস্থা হল যে, পাঁচিল ভেঙে পড়ল নিউ থিয়েটার্স স্টুডিয়োর!&#8221;</p>



<p>সিনেমা সাংবাদিকতার সূত্রে জেনেছিলাম, <strong>একবার পয়লা বৈশাখে মহরতের দিন মনকষাকষি হয় পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী আর রঞ্জিত মল্লিকের মধ্যে</strong>। সেই &#8216;শত্রু&#8217; থেকে দু&#8217;জনের জুটি বাংলা ছবিকে দিয়েছিল প্রভূত আর্থিক সাফল্য। ছবিতে নামীদামি নায়ক-নায়িকা থাকলেও রঞ্জিত মল্লিকের ভূমিকা থাকত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার নববর্ষের দিন মহরতে রঞ্জিত মল্লিক স্টুডিয়োতে ঢুকতে গিয়ে খেলেন হোঁচট। আক্ষরিক অর্থে নয়। তিনি দেখলেন, ছবির নায়ককে হাইলাইট  করেই বড় বড় কাটআউট লাগানো হয়েছে। তিনি কোথায়! স্টুডিয়ো পাড়ায় ভদ্রলোক অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে রঞ্জিত মল্লিকের। তিনি কিচ্ছু বললেন না মুখে। একজন সিনিয়র অভিনেতা হিসেবে খারাপ লাগল। তিনি অঞ্জন চৌধুরীকে জানালেন, এ-ছবি তিনি করতে পারবেন না। আর ভবিষ্যতে তাঁকে নিয়ে ছবি করার ইচ্ছা থাকলে চিত্রনাট্য আগে তাঁকে পড়াতে হবে। পছন্দ হলে করবেন, নইলে নয়।</p>



<p>দীর্ঘ সম্পর্কে ফাটল যেমন ধরেছিল, তেমনই সম্পর্কের রসিকতায় ভেসে যেত স্টুডিয়োর মেক-আপরুম। ঘটনাটি দীর্ঘদিন আগে শোনা। পঞ্চাশ দশকের একেবারে শেষে। স্থান- ক্যালকাটা মুভিটোন স্টুডিয়ো। সেইসময় ক্যলকাটা মুভিটোন ছিল ব্যস্ত স্টুডিয়ো। প্রচুর ছবির শুটিং হত। পয়লা বৈশাখের দিন ছবির মহরত। পরিচালক সুশীল মজুমদার। ছবির নাম &#8216;অগ্নি সম্ভবা&#8217; (১৯৫৯)। ছবির মহরত শট হবে। স্টুডিয়োর মেক-আপরুমে মেক-আপ নিতে নিতে গল্প করছিলেন <strong>শ্যাম লাহা আর কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ফ্লোর থেকে বারবার ডাক আসছে। শ্যাম লাহা প্রায় তৈরি। গোঁফটা লাগানো বাকি। তিনি খুঁজছিলেন মেক-আপম্যানকে। ধারেকাছে ছিলেন না তিনি। এমন সময় কালী বান্যার্জি বললেন, &#8220;দাদা, অত দুঃশ্চিন্তা করছ কেন? তোমার বিশাল কিংসাইজ দুটো ভুরুর একটা কেটে ঠোঁটের ওপর সেঁটে নাও।&#8221;</strong></p>



<p>শ্যাম লাহা বললেন, &#8220;সে না হয় করলাম, কিন্তু কাটা&nbsp; ভুরুটার কী হবে!&#8221;</p>



<p>কালী ব্যানার্জি তৎক্ষণাৎ বললেন, &#8220;ইলেকট্রিশিয়ান ডেকে ওই জায়গায় ব্ল্যাকটেপ সেঁটে দাও!&#8221;</p>



<p>সেইসময় টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ায় একটা কথা খুব চালু ছিল, বাংলা বছরের শুরুর দিন ছবির মহরত&nbsp; করলে সিনেমা দেবীর আশীর্বাদে মা দুর্গা পুজোর আগে পরে বা দেবীপক্ষে ছবি ঠিক রিলিজ করিয়ে দেবে। তাই <strong>প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশকদের শ্লোগানই ছিল —‘পয়লা বৈশাখে মহরত, দেবীপক্ষে রিলিজ।’ </strong>পরিচালক সুশীল মজুমদারের &#8216;অগ্নি সম্ভবা&#8217; মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৯-এর দুর্গাপুজোর কয়েকদিন আগেই।</p>



<p>&#8220;নব্বইয়ের শুরুতেই পয়লা বৈশাখে খুব ধুমধাম করে ‘নবাব’ ছবিটির মহরত করেছিলাম। সেইসময় মহরতের একটা আলাদা ব্যাপার ছিল। একটা বনেদিয়ানা ছিল। সেই বনেদিয়ানাটাই আজকে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে গেছে। মনে হয়,&nbsp; প্রযোজকদেরও মহরতের জন্য খরচের মানসিকতাও আর নেই। সেইসময় এই সংস্কৃতিটা ছিল বাংলা সিনেমার বাঙালিয়ানার অন্যতম এক অংশ। তাই মহরত চলতেই থাকত,&#8221; বললেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী।</p>



<p><strong>বাংলা ছবির বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তীও একই কথা বললেন, &#8220;আমি তখন বহু ছবিতে কাজ করতাম। মহরতও হত একাধিক ছবির। তাই সব জায়গাতেই যেতে হত। কোনও ছবিতে মহরত শট হত শুধু আমাকে নিয়ে। কোনওটাই একটা বাচ্চার সঙ্গে। আবার আমি হয়তো ছবিতে নেই, কিন্তু মহরতে একবার ঘুরে আসতাম আমার শট হয়ে যাওয়ার পর। সকলের সঙ্গে দেখা হত। একটা অন্যরকম মজা ছিল, আনন্দ ছিল। যেখানেই যেতাম সেখানেই মিষ্টির প্যাকেট দিত। আর যে-ছবির আমি মহরত শট দিতাম, তারা মিষ্টির প্যাকেট তো বটেই, লাঞ্চ প্যাকেটও দিত।</strong> <strong>বাঙালিয়ানা ছিল সবকিছুর মধ্যে। বাঙালি সংস্কৃতি ছিল। এখন তো এসব কিছু নেই। সেইসময় পয়লা বৈশাখের দিন আনন্দ ছিল। </strong>পুরুষেরা ধুতি-পাঞ্জাবি, মহিলারা শাড়ি পরতেন। পুরোপুরি বাঙালিয়ানা থাকত মহরতে।&#8221;</p>



<p>একদা বাংলা সিনেমার সুপারস্টার চিরঞ্জিত-এর কাছে মহরতটা ছিল একটা ফ্যান্টাসির  মতো। তিনি বললেন, &#8220;আমি যখনই ছবির মহরত করতাম তখনই একটা ফ্যান্টাসির   জগতে ঢুকে পড়তাম। পুরো ছবিটা আমার চোখের সামনে ভাসত। সে আমার নিজের ডিরেকশনের ছবি হোক বা অন্যের। আমারা&nbsp; মহরতের দিন খুব মজা করতাম।&#8221;</p>



<p>চিরঞ্জিতের প্রথম ছবি &#8216;মর্যাদা&#8217;র মহরত শটে ক্ল্যাপস্টিক দিয়েছিলেন পরিচালক প্রভাত রায়। এ-প্রসঙ্গে <strong>চিরঞ্জিত বললেন, &#8220;প্রভাতদাকে আমি গুরু মানতাম। তাই গুরুকে প্রণাম করে মহরতের দিন যাত্রা শুরু করলাম</strong>। সবমিলিয়ে মহরতের দিন আমার খুব ভাল লাগত। নিজের ছবি হলে তো যেতেই হত। অন্য কেউ আমন্ত্রণ জানালেও যেতাম মহরতে। তবে পরে কোনও কারণে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম।&#8221; টালিগঞ্জ স্টুডিয়ো পাড়ায় বাংলা সিনেমার সেইসব সোনার দিন আর নেই পয়লা বৈশাখের দিন! সময়ের সঙ্গে অনেককিছুই হারিয়ে গেছে স্টুডিয়ো পাড়া থেকে। সেকালের সাবেক পয়লা বৈশাখের মহরতও উধাও। স্টুডিয়ো পাড়ার সেই রীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদি&nbsp; এখন শুধুই স্মৃতিচারণের ভূমি। পুরনো দিনের অভিনেতা, অভিনেত্রী, পরিচালক, টেকনিশিয়ান,&nbsp; প্রযোজক, পরিবেশকদের কাছে রয়েছে শুধুই পয়লা বৈশাখের স্মৃতিরোমন্থন।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/">শুভ মহরৎ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%ad-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b0%e0%a7%8e/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
