<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Satyajit Ray -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/tag/satyajit-ray/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Thu, 18 Sep 2025 05:35:46 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Satyajit Ray -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উত্তম কেন সর্বোত্তম</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Sep 2025 05:35:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9375</guid>

					<description><![CDATA[<p>'উত্তমের মতো কেউ নেই, উত্তমের মতো কেউ হবেও না।; - সত্যজিৎ রায়</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/">উত্তম কেন সর্বোত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কমলেন্দু সরকার</p>



<p>দেখার সুযোগ পেলেই উত্তমকুমারের কয়েকটি ছবি কখনওই ছাড়ি না। যেমন, &#8216;অমানুষ&#8217;, &#8216;সপ্তপদী&#8217;, &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;, &#8216;নায়ক&#8217;, &#8216;বনপলাশীর পদাবলি&#8217; ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুদিন আগেই দেখছিলাম পরিচালক শক্তি সামন্ত-এর &#8216;অমানুষ&#8217; (১৯৭৪)। ছবিটি দেখছি আর অবাক হচ্ছিলাম! ছবিটি &nbsp;আউট অ্যান্ড আউট কমার্শিয়াল ফিল্ম, কিন্তু উত্তমকুমারের অভিনয়! &nbsp;জাস্ট &nbsp;ভাবা যায় না! বিশেষ করে কয়েকটি জায়গায়।</p>



<p>বাজারে অমর সিং পিছনে পড়ে লেখার। লেখা হলেন মধুসূদন চৌধুরীর প্রেমিকা। ওঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সেই সম্পর্কে আপাতত স্থগিত। অমর সিংকে উপযুক্ত শিক্ষা দেন মধু। প্রচণ্ড মারামারি পর নৌকায় এসে দাঁড়ান। আঙুলে থাকা আংটির দিকে তাকান মধু। মুখে তাঁর স্মিত হাসি। সেই হাসি ভাললাগার ইঙ্গিত করে। এই হাসির ইঙ্গিত কিন্তু দর্শককে বুঝতে দেন না মধু অর্থাৎ উত্তমকুমার। হাসি লেগেই থাকে ঈষৎ খোলা মুখের ঠোঁটের ডগায়। এই হাসির কারণটি পাওয়া যায় পরে।</p>



<p>একদিন একটি আংটি লেখা অর্থাৎ শর্মিলা ঠাকুর পরিয়ে দেন মধুকে। সেইসময় মধুসূদন চৌধুরী আর লেখার সম্পর্ক প্রেমের৷ তারপর লেখা বলেন, &#8220;আমি যখন থাকব না তখন আমাকে মনে করিয়ে দেবে।&#8221;</p>



<p>সত্যিই তো, বেঁচে থেকেও লেখা নেই মধুর বর্তমান যাপনচিত্রে। উত্তমকুমারের মুখে সেই হাসি, যে-হাসি দর্শক দেখেন অমর সিংয়ের সঙ্গে মারপিটের পর ফাঁকা নৌকায়৷ নৌকার সেই হাসি, যখন তিনি মধু, পরিচিতি গুন্ডা। আর লেখার আংটি পরিয়ে দেওয়ার সময় সেই হাসি, যখন তিনি জমিদার ভাইপো মধুসূদন চৌধুরী। দু&#8217;টি হাসিই সুন্দর এবং অদ্ভুতভাবে মিল আছে। গুন্ডা হোক বা জমিদার ভাইপো, দুই ঘটনার মূলে আছেন লেখা, যিনি মধুর প্রেমিকা৷ ওই জায়গাটা কলুষিত করতে চান না মধু। তাই দু&#8217;টি ঘটনার দু&#8217;টি হাসির ভিতর চমৎকার মিল থাকে। দু&#8217;টি দৃশ্যর ভিন্ন ভিন্ন সময় শুটিং  হয়েছে। কিন্তু উত্তমকুমার অপূর্ব  সিনক্রোনাইজড  করেছেন৷ খুব ভালভাবে লক্ষ করলে হাসির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। খুব বড় মাপের অভিনেতা না হলে এটা হয় না।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="670" height="399" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush.png" alt="" class="wp-image-9377" style="aspect-ratio:1.6791979949874687;width:517px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush.png 670w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Keno-Amanush-300x179.png 300w" sizes="(max-width: 670px) 100vw, 670px" /></figure>



<p>দারোগাবাবুর কাছে চাবুক খাওয়ার পর যখন ডাক্তারবাবুর কাছে নিয়ে যান মধুর দুই শাগরেদ তখন মধু আপত্তি করেন৷ এই ডাক্তারবাবু লেখার দাদা। মধুর কোনও আপত্তি শোনেন না ডাক্তারবাবু। বলেন, &#8220;মধু, তোমাকে সবাই ভুল বুঝলেও, আমি কিন্তু ভুল বুঝি না তোমাকে।&#8221; এই সময় উত্তমকুমার মুখটি সামান্য ঘুরিয়ে বলছেন, &#8220;সত্যি বলছেন!&#8221; ডাক্তারবাবুর প্রতি মধুর বিস্ময়, অবিশ্বাস থেকে বিশ্বাসে উত্তরণ, সবটাই উত্তমকুমার ধরেন তাঁর মুখের ভাবপ্রকাশে এবং দৃষ্টিতে। এবং সেই এক্সপ্রেশন তিনি&nbsp; হোল্ড করেন বেশ কয়েক সেকেন্ড! ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই শটটি যাঁরা অভিনয় করেন তাঁদের কাছে শিক্ষণীয়। এরপর ডাক্তারবাবু চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর লেখা এসে দরজায় দাঁড়ান। উত্তমকুমার লেখার দিকে পিছন ফিরে৷ তিনি লেখা অর্থাৎ শর্মিলার মুখের ভাবপ্রকাশ দেখতে পান না৷ কিন্তু লেখা যখন&nbsp; বলেন, &#8220;দোষ করলেই শাস্তি পেতে হবে। তাই শাস্তি পেয়েছে।&#8221; তৎক্ষণাৎ উত্তমকুমার ডাক্তারবাবুর চিকিৎসা না-নিয়ে জামাটি পরে বেরিয়ে যান ডাক্তারখানা থেকে৷ এই যে লেখা তাকে প্রথম থেকেই ভুল বুঝছে, তার বিরুদ্ধাচারণ করেন মধু। এবং বলেন, &#8220;সুন্দরবনের জন্তুজানোয়ারেরা এইভাবেই বেঁচে থাকে৷ তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।&#8221; এই সংলাপ ডাক্তারবাবুর উদ্দেশে নয়, লেখার বিরুদ্ধে। সেটা কিন্তু বোঝা যায় উত্তমকুমারের অভিনয়ে। এই মুহূর্তে উত্তমকুমারের মুখের ভাবপ্রকাশ একেবারে অনবদ্য! আসলে মহিম হালদারের ষড়যন্ত্রের কারণে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বহারা মধু। গুন্ডামি তাঁর পেশা নয়, অন্যায় করতেও নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গুন্ডামি৷ একজন জাত গুন্ডা, পাকেচক্রে পড়ে আর একজন শিক্ষিত ভদ্রলোক গুন্ডা, দুটোর বিস্তর ফারাক। একজন নৃশংস, অন্যজনের মধ্যে ভদ্রতা, ভালবাসা ইত্যাদি সব থাকে। তার গুন্ডামি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ধরনের গুন্ডা চরিত্রে অভিনয় করার সময় ভীষণভাবে সচেতন থাকতে হয় অভিনেতাকে। তাই &#8216;অমানুষ&#8217; ছবিতে উত্তমকুমার অভিনীত মধু চরিত্রটি তিনি মেপে নিয়েছিলেন তাঁর মতো করে। সম্ভবত পরিচালক শক্তি সামন্ত অভিনয়ের ব্যাপারে কোনওরকম মাথা গলাননি। উত্তমকুমার অভিনয়ে এতটুকু এদিক ওদিক করেননি।</p>



<p>&#8216;অমানুষ&#8217; কে? মধু না মহিম? মধু বিপিনবাবুর কারণসুধা পান করুক বা মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে সময় কাটাক, এই জীবনটা তাঁর আরোপিত। তাঁর সামাজিক পরিচিতিটা ভিন্ন। এটা মধু বিলক্ষণ জানেন। তাই তো মন্দিরে পুজোর দিন পুরোহিতের সঙ্গে বিবাদ করেন, প্রতিবাদ করেন। তাই মাঝেমধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ে জমিদার মধুসূদন চৌধুরী। মধুর চরিত্রের ভিতরের নির্যাসটুকু টেনে নিয়েছিলেন উত্তম। তাই তাঁর অভিনয়ে নানারকম &nbsp;শেডস পাওয়া যায় পুরো ছবিতে। এ-প্রসঙ্গে মধু-মাতন (প্রেমা নারায়ণ) মুখোমুখি মাতনের ঘরে। মাতন খবরদারি করার চেষ্টা করে। তারপর মাতন গান ধরে &#8216;না, না, অমন করে দাগা দিয়ে চলে যেয়ো না&#8217; সঙ্গে হিল্লোলিত নৃত্য! দর্শক দৃশ্যটি দেখতে দেখতে হয়তো অন্যকিছু আশা করেন। কিন্তু মধু কিন্তু বেশি এগোন না। কারণ, তাঁর আসল শ্রেণি চরিত্র সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল মধুসূদন চৌধুরী অর্থাৎ মধু। তিনি জানেন মাতন তাঁর প্রজা।</p>



<p>আরও একটি দৃশ্যে উত্তমকুমার লা-জবাব। যখন থানার দারোগাবাবু পুলিশ পাঠিয়ে মধুকে ডেকে নিয়ে যান। থানায় ঢুকে দারোগাবাবুর হাতে চাবুক তুলে&nbsp; দিয়ে মধু বলেন, &#8220;মারুন।&#8221; তারপর দারোগাবাবুর কথার পিঠে মধু যখন বলছেন, &#8220;নাটক করছেন,&nbsp; নাকি বিবেকের দংশন?&#8221; অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতাকে গুনে দশ-দশটা গোল দিলেন উত্তমকুমার! এরপর ফ্ল্যাশব্যাক। মধুর অতীত জীবন। এই পর্যায়ে একাধিকবার উত্তমকুমার-উৎপল দত্ত মুখোমুখি৷ সেইসব দৃশ্যে উত্তমকুমারের বেশি সংলাপ নেই। শুধুমাত্র চোখের অভিনয় করে গেছেন তিনি। উৎপল দত্তের মতো বাঘা অভিনেতাও সমীহ করেছেন উত্তমের অভিনয়!</p>



<p>&#8216;অমানুষ&#8217; ছবিতে উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যে-অভিনয় করে গেলেন তা শিক্ষণীয়। তার কারণ একেবারে অন্যধারার অভিনয়। শক্তি সামন্ত যেহেতু বলিউডে হিন্দি ছবিই&nbsp; করেছেন কেবলমাত্র। তাই হয়তো তিনি চাইতেই পারেন ছবির প্রধান চরিত্র মধুর ভিতর বলিউডের ঘরানার অভিনয়। মধুর চরিত্রটিও একেবারে বলিউডি ঘরানার। পরিচালক মধুর অর্থাৎ উত্তমকুমারের কাছে কেমন অভিনয় চেয়েছিলেন জানি না, জানার কথাও নয়। কিন্তু উত্তমকুমার করলেন কি, না-বলিউড, না-টলিউড, কোনও ঘরানার অভিনয় করলেন না, তাঁর অভিনয়ে সৃষ্টি করলেন অন্য ঘরানা। সেটি একবারেই উত্তমকুমারের নিজস্ব। উত্তমকুমার যে মধুর চরিত্রের কাছাকাছি বা আদলে বা কাছাকাছি কোনও চরিত্র করেননি, তা নয়, করেছেন। ঠিক এর আগের বছর করছেন &#8216;বনপলাশীর পদাবলী'(১৯৭৩) ছবিতে উত্তমকুমার উদাস-এর চরিত্র।</p>



<p>যাইহোক, সেইসময় পরিচালক শক্তি সামন্তের সহকারী ছিলেন প্রভাত রায়। &#8216;অমানুষ&#8217; ছবির সংলাপও লিখেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে প্রভাত রায় বাংলা সিনেমার প্রথম সারির পরিচালক। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, &#8216;অমানুষ&#8217; করার সময় উত্তমকুমারকে পরিচালক বলে দিয়েছিলেন কীভাবে, কেমনভাবে অভিনয় করতে হবে? প্রভাত রায় জানালেন, &#8220;একেবারেই নয়। প্রয়োজনই হয়নি উত্তমকুমারকে কীভাবে অভিনয় করতে হবে এসব নির্দেশের। পরিচালক শক্তি সামন্ত শুধুমাত্র মুভমেন্ট গুলো বলে দিতেন। আর কিচ্ছু নয়। উত্তমকুমার তাঁর নিজের মতো অভিনয় করতেন।&#8221;</p>



<p>&#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র উদাস উত্তম অভিনীত আর একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র। এই ছবির তিনি পরিচালকও বটে। উদাস চরিত্রে উত্তমকুমারের অভিনয় বিশ্লেষণের আগে অন্য একটি কথা বলে নিই। &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; উপন্যাসের লেখক রমাপদ চৌধুরী। তাঁর কাছেই শোনা। রমাপদ চৌধুরী একদিন চা-সিগারেট খেতে খেতে বলছিলেন, &#8220;একদিন উত্তমকুমার এলেন। বললেন, &#8216;আপনার &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; উপন্যাসটি নিয়ে ছবি করতে চাই। ছবির জন্য গল্পের স্বত্ব কিনতে চাই।&#8217; আমি তো অবাক! বলে কী! বললাম, এত টাকা লাগবে। এককথায় রাজি। ছবির জন্য উপন্যাসের স্বত্ব কিনলেন। টাকাও দিলেন। তারপর বহুদিন পর আবার এলেন উত্তমকুমার। বললেন, &#8216;ছবি শেষ। এবার রিলিজ করব। আপনাকে আসতেই হবে।&#8217; &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে চলে গেলেন। আমি এই ভেবে ছবি দেখতে গেলাম, ও আবার কেমন করবে! কিন্তু ছবি দেখার পর আমার ধারণা একেবারেই বদলে গেল। ভাবলাম, কোনটা বেশি ভাল? আমার লেখা &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; নাকি উত্তমকুমারের &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;!&#8221;</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="433" height="326" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi.png" alt="" class="wp-image-9380" style="aspect-ratio:1.3282208588957056;width:524px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi.png 433w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Dekhuk-Banpalashi-300x226.png 300w" sizes="(max-width: 433px) 100vw, 433px" /></figure>



<p>এই হলেন উত্তমকুমার। আমারও সামান্য অভিজ্ঞতা আছে &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217; নিয়ে৷ এই ছবির আউটডোর শুটিং হয়েছিল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। ওখানে থাকতেন চণ্ডীমাতা ফিল্মসের মালিক সত্যরঞ্জন সাধুখাঁ। ওইসময় আমি যুবক। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গেছিলাম জগৎবল্লভপুর। দু&#8217;চার দিন ছিলাম। ওই গ্রামের একজন এসে বললেন, &#8220;কাছেই &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র শুটিং চলছে। উত্তম, সুপ্রিয়া ছাড়াও অনেকেই এসেছেন।&#8221; আমরা সবাই বললাম, তাহলে যাওয়া যাক। আমরা যেদিন গেছিলাম সেদিন শুটিং চলছিল, &#8216;দেখুক পাড়াপড়শিতে কেমন মাছ গেঁথেছ বড়শিতে&#8217;। সুপ্রিয়া দেবী ছোট একটা পুকুরে সাঁতরাচ্ছেন আর উত্তমকুমারের হাতেধরা ছিপের বঁড়শি সুপ্রিয়ার ব্লাউজে আঁটকে আছে। আর উত্তমকুমার গাইছেন, &#8216;দেখুক পাড়াপড়শিতে&#8230;&#8217;। শুটিং শুরু হওয়ার আগে উত্তমকুমার ক্যামেরায় চোখ রাখলেন, দেখলেন। তারপর যাঁকে যা দায়িত্ব দেওয়ার তা দিলেন। উনি শট দেওয়ার জন্য তৈরি। হঠাৎই চেঁচিয়ে উঠলেন। দূরে যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শুটিং এলাকার ভিতর কেউ যেন প্রবেশ করেন। উত্তমকুমার শট দেবেন বলে মুড নিয়ে তৈরি। ঠিক সেইসময় তাঁর চোখে পড়ে এক গ্রামবাসী প্রায় ঢুকে পড়েছেন। সঙ্গেসঙ্গে &#8220;কাট&#8221; বলে ধমকে ওঠেন ওদিকে দায়িত্বে থাকা লোকটির ওপর। বুঝলাম, কী সাংঘাতিক দৃষ্টি উত্তমকুমারের! চেঁচামেচি করার পরমুহূর্তেই আবার তৎক্ষণাৎ তৈরি শট দেবেন বলে। সেই এক মুড , এক ভাবপ্রকাশ। এখন ভাবি, এ মস্ত অভিনেতা না হলে সম্ভব নয়।</p>



<p>বনপলাশীর উদাস কৃষক পরিবারের একজন। তিনি নিজেকে চাষি বললে সম্মানিত বোধ করেন। সেটা জানা যায়, বাস ড্রাইভার দশরথের সঙ্গে কথোপকথনে। দশরথ তাঁকে বলেন, &#8220;আরে জমি তো বছরে দু&#8217;বার বাচ্চা দেয়। আর এই গাড়ি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পয়সা দেয়।&#8221; উদাসের বহুদিনের মনের ইচ্ছেকে নাড়া দেন বাস ড্রাইভার দশরথ। আমতা আমতা করে উদাস বলেন, &#8220;আমার বহুদিনের মনের ইচ্ছে ড্রাইভারি শিখব।&#8221; উদাসের ইচ্ছা পূরণ করবেন দশরথ। কিন্তু তার মধ্যে একটা শর্ত থাকে দশরথের মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। উদাস শ্রেণিচ্যুত হলেন। চাষি থেকে বাস ড্রাইভার। পুরো ব্যাপারটায় উত্তমকুমারের অভিনয়, শরীরী অভিনয় এবং তার প্রকাশ অসাধারণ।</p>



<p>যখন দশরথ হঠাৎই বলে ওঠেন, &#8220;হবেক।&#8221; উদাস খুশিতে ডগমগ! ভাবেন ড্রাইভারি হবে। উদাস বলেন, &#8220;কী হবেক!&#8221; দশরথ বলেন, &#8220;বিয়ে হবেক।&#8221; উদাস অর্থাৎ উত্তমকুমার totally fused. খুশি খুশি ভাব থেকে হঠাৎই নিভে যাওয়া, অভাবনীয় অভিনয় উত্তমের। তারপর দশরথ যখন বলেন, &#8220;লক্ষমণিকে বিয়ে করো। হবেক।&#8221; আবার খুশিতে ফিরে আসা, এমন অভিনয় বোধহয় খুব বড় মাপের অভিনেতাদের দ্বারাই সম্ভব।</p>



<p>চাষি থেকে বাস ড্রাইভার, উদাসের এই পুরো ঘটনাটাতে ভালমানুষি ভাব, দশরথের কাছে আত্মসমর্পণ, সবমিলিয়ে অসাধারণ অভিনয় উত্তমকুমারের। যেহেতু উত্তমকুমার &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র পরিচালক তাই কখনও তিনি অহেতুক উদাসকে প্রাধান্য দেননি ছবিতে। কিন্তু ছবির শেষমুহূর্ত উদাস, পদ্ম আর ডাক্তারের ওপর নির্ভর করে। লক্ষ্মী আত্মহত্যা করার পর থেকেই পদ্মর প্রতি বেশি অনুরক্ত হয়ে পড়েন উদাস। কিন্তু পদ্ম দূরে সরে থাকতে চান উদাসের থেকে। একটি রাতের অন্ধকারের দৃশ্য রয়েছে যেখানে বোঝা যায় উদাস শারীরিকভাবে চাইছেন পদ্মকে। পদ্ম নারাজ। শুধুমাত্র সংলাপের ওপর অভিনয়। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের কণ্ঠ অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পাশাপাশি পদ্মের ভূমিকায় সুপ্রিয়া দেবীও ভীষণ ভাল। উত্তমের অভিনয়কে সাপোর্ট&nbsp; দিয়ে গেলেন পুরো দৃশ্যটিতে৷ যার জন্য উত্তমকুমার তাঁর অভিনয় অমন উচ্চতায় নিয়ে যান!</p>



<p>পদ্মর কাছে প্রত্যাখ্যাত উদাস হয়ে ওঠেন ভয়ংকর৷ এই উত্তমকুমারের অভিনয়ে বেশ রকমফের দেখা যায়। পদ্মকে খুন করার পর তাঁকে পাঁজাকোলা করে উদাস ছোটেন গ্রামের পথে। হঠাৎ দেখা ডাক্তারবাবুর সঙ্গে৷ উদাস বলেন, &#8220;আপনি তো ডাক্তার। কত মানুষকে বাঁচিয়েছেন। আমার পদ্মকে বাঁচিয়ে দিন না ডাক্তারবাবু।&#8221; উদাসের ভিতর এই গভীর আকুতি, ভুল করে পদ্মকে খুন করা ইত্যাদি সংলাপের ভিতর দিয়ে নানারকমফের পাওয়া যায়। তার কারণ দৃশ্যটি অন্ধকারে৷ এখানে অভিনীত চরিত্রগুলোকে হয়তো&nbsp; দর্শক সেইভাবে দেখতে পাবেন না। তাই সংলাপের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের বুঝিয়ে দিতে হবে। দৃশ্যটি কেন এবং কিসের জন্য। এখানেও উত্তমকুমারের কণ্ঠাভিনয় এবং শরীরী ভাবপ্রকাশ অসাধারণ।</p>



<p>এই পর্যায়ে উত্তমকুমার লাখো অভিনয়ের একটি করে মেরে বেরিয়ে গেলেন। সেটি আদালত-দৃশ্যে। কোর্ট রুমে উদাসের বিচার চলছে। তাঁর ফাঁসির আদেশ শুনিয়ে দিয়েছেন বিচারক। উদাসের বিচারে মন নেই। উত্তমকুমার জাস্ট &nbsp;একটা লুক দিলেন। তাঁর চাউনিতে মনে হল পদ্মকে খুঁজছেন উদাস। কিংবা তাঁর ফাঁসিতে মৃত্যু হলে পদ্মের কাছে পৌঁছতে পারবেন হয়তো। তারপর উদাসের বাবা যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছেন উদাসের ফাঁসির আদেশ শুনে। সেইসময় উদাস বা উত্তমকুমারের ফিরে আসেন আদালতের বিচারকক্ষে। সেইসময় লুকটি &nbsp;অদ্ভুতভাবে চেঞ্জ করেন। অভিনেতা উত্তমকুমার তাঁর জাত চিনিয়েছিলেন &#8216;বনপলাশীর পদাবলী&#8217;র শেষ দৃশ্যে &nbsp;জাস্ট ছোট্ট একটি মোচড়ে!</p>



<p>এই দু&#8217;টি ছবির চরিত্রের সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিল নেই পরিচালক অজয় কর-এর &#8216;সপ্তপদী&#8217;র কৃষ্ণেন্দুর। পঞ্চাশের দশকের পর উত্তমকুমার তাঁর অভিনয় স্টাইলের অনেকটাই পরিবর্তন করেছিলেন। বিশেষ করে, সুচিত্রা সেনের বিপরীতে তিনি থাকলে। যদিও ষাটের দশকে মাত্র চারটি ছবি করেছেন  উত্তম-সুচিত্রার জুটি। সপ্তপদী ছাড়া বিপাশা, গৃহদাহ আর কমললতা। পঞ্চাশের দশকে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ছবিতে উত্তমকুমার অনেকটাই ছেড়ে খেলতেন। সেই খেলা তাঁর সহ অভিনেত্রীকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই হয়তো হবে। ষাটের দশকে &#8216;সপ্তপদী&#8217; করার সময় ওঁদের দু&#8217;জনের ভিতর কিছু-একটা কারণে সাময়িক বিরোধের কথা শোনা যায়। যে-কারণে কিছুদিন &#8216;সপ্তপদী&#8217;র শুটিং বন্ধ থাকে। এই ছবিটি ছিল উত্তমকুমারের নিজস্ব প্রযোজনা। তারপর থেকেই এই জুটির উত্তম তাঁর অভিনয়ের স্টাইল এবং প্যাটার্ন এর পরিবর্তন করেছিলেন! &#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে সুচিত্রা সেন যেমন এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি, উত্তমও তেমনই। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। ফলে হয়েছিল কি, সবমিলিয়ে একটা ভাল বাংলা ছবি পেলেন বাংলা সিনেমার দর্শকেরা।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="752" height="522" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi.png" alt="" class="wp-image-9382" style="aspect-ratio:1.4406130268199233;width:527px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/uttam-saptapadi-300x208.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /></figure>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে উত্তমকুমারের রকমারি অভিনয় দেখতে পান দর্শকেরা। এবং প্রতিটিই বেশ কুশলী অভিনয়। যেমন, &#8216;এবার কালী তোমায় খাব, মুণ্ডমালা চিবিয়ে খাব&#8217;। এক্কেবারে হস্টেল জীবনে যেমন হয় ঠিক তেমনই। ঢোল কাঁধে উত্তমের গায়নভঙ্গি এবং শরীরী অভিনয়ের সঙ্গে চোখমুখের ভাবপ্রকাশ অসাধারণ। বিশেষ করে, রিনা ব্রাউনকে দেখিয়ে কৃষ্ণেন্দুর নিজের মাথায় নারকেল ভাঙা, পুরো দৃশ্যটি tease করার সঙ্গে কৌতুকাভিনয়ের মিশেল, বাংলা সিনেমার অভিনয়ে ব্যতিক্রমী দৃশ্য তৈরি করলেন উত্তমকুমার।</p>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217; ছবিতে কয়েকটি দৃশ্যে রয়েছে উত্তমকুমারের দৃষ্টান্তমূলক অভিনয়! ছবির যেখান থেকে ফ্ল্যাশব্যাক শুরু। ছবির শুরুতেই পরিচালক অজয় কর বলে দিলেন ছবির ঘটনা ১৯৪৩-এর। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। একদিন রাতের ঘটনা। একটি মিলিটারি জিপ হাসপাতালে নিয়ে আসে মদ খেয়ে বেহুঁশ এক মহিলাকে। সেই মহিলাকে দেখতে যান কৃষ্ণেন্দু। তিনি তখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে ক্রিশ্চান। সবাই তাঁকে বলেন, &#8220;বাবা সাহেব।&#8221; হাসপাতালে উপস্থিত মহিলাকে দেখতে এসে জলের ঝাপটা দেন। দু&#8217;চারবার&nbsp; ঝাপটা মারার পর মেয়েটিকে বাঁহাতে তুলে ধরেন। বোঝা যায় ডাক্তারের পূর্বপরিচিত। দর্শক একাধিকবার দেখার বা গল্প শোনা-পড়ার কারণে জানেন মহিলাটি রিনা ব্রাউন। কৃষ্ণেন্দুর পূর্বপরিচিত। যাইহোক, প্রেমিকা রিনা ব্রাউনকে দেখে হতচকিত কৃষ্ণেন্দু। ডানহাতে জল থেকেই যায়। হাতের বিগ ক্লোজআপে বোঝা যায়, কিংকর্তব্যবিমূঢ় কৃষ্ণেন্দুর বা ডাক্তারবাবার জল সমেত হাত থমকে যায়। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের মুখের ভাবপ্রকাশ আর হাতের থমকে যাওয়া একইভাবে, একই স্কেলে অভিনয় করে! বিস্মিত হতে হয় অভিনেতার অভিনয় ক্ষমতায়!</p>



<p>এরপরই শুরু হয় ফ্ল্যাশব্যাক। কৃষ্ণেন্দু বা উত্তমকুমার আর রিনা ব্রাউন বা সুচিত্রা সেনের টক্কর। সেই খেলার মাঠ। যেখান থেকে উত্তম-সুচিত্রার লড়ালড়ি।</p>



<p>রিনা যখন সুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে কাছে এসে বলেন, &#8220;হসপিটালকে টাকা দিতে গেলাম নিল না। ডক্টর আপনাকে কিন্তু নিতে হবে। ডক্টর&#8230;। আমার কাছে মাত্র চল্লিশ টাকা আছে।&#8221; কৃষ্ণেন্দু বসেছিলেন। উঠলেন। ঘরে রাখা আয়নায় রিনা দেখতে পান কৃষ্ণেন্দুকে। তারপর সুচিত্রা-উত্তমের ক্লোজআপ শট। নির্লিপ্ত কৃষ্ণেন্দু। মুখোমুখি রিনা-কৃষ্ণেন্দু। উত্তমকুমারের অভিব্যক্তি সবকিছু হারিয়ে ফিরে পাওয়া। just হালকা হাসি বা হাসবার ক্ষীণ চেষ্টা। রিনা বেরিয়ে যান। কৃষ্ণেন্দু আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসেন বাইরে। লক্ষ করেন রিনার নির্গমন। আলো-আঁধারিতে কৃষ্ণেন্দু দাঁড়িয়ে। মুখে আবার হারিয়ে ফেলার ভাবপ্রকাশ। পুরো সিকোয়েন্সটি অনবদ্য।</p>



<p>&#8216;সপ্তপদী&#8217;র সেরা দৃশ্য &#8216;ওথেলো&#8217;র অংশবিশেষ। উত্তমকুমার অভিনয়ের ব্যাপারে ছিলেন ভীষণই খুঁতখুঁতে। &#8216;ওথেলো&#8217;র এই পুরো সিকোয়েন্সটি নিয়ে তিনি কোনওরকম আপোস করতে চাননি। তিনি পরামর্শ নিয়েছিলেন উৎপল দত্তের। শোনা যায়, উত্তমকুমার রাত জেগে নাকি নিজে নিজেই রিহার্সাল করতেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার উৎপল দত্ত সংলাপ বলছেন আর ঠোঁট নাড়ছেন উত্তমকুমার। অন্যের সংলাপের সঙ্গে ঠোঁট নাড়িয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা কম কথা নয়! খুব কঠিন কাজ। উত্তমকুমার অত্যন্ত সুচারুভাবে করেছিলেন কাজটি। কখনওই মনে হয় না সংলাপ অন্যের আর অভিনয় উত্তমের। গানে ঠোঁট নাড়ানো আর সংলাপে ঠোঁট নাড়ানোর মধ্যে বিস্তর ফারাক। সংলাপের সঙ্গে শুধু ঠোঁট নাড়ানো নয়, সংলাপের ভাবপ্রকাশ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে এই কঠিন কাজটি অনায়াসেই করে গেছেন উত্তমকুমার। সুচিত্রা সেনও সমানভাবে &nbsp;সাপোর্ট &nbsp;দেন তাঁর সহ আভিনেতাকে।</p>



<p>পঞ্চাশের দশকে উত্তম-সুচিত্রা জুটির ২২টি ছবির বাইরে অন্যরকম সিনেমা উত্তম-সুচিত্রার &#8216;সপ্তপদী&#8217;। তবে এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় দু&#8217;বছর আগে যাত্রিক-এর তৈরি &#8216;চাওয়া পাওয়া&#8217; ছবিতে।</p>



<p>&#8216;আমি যখন &#8216;নায়ক&#8217; করতে যাই তখন সত্যজিৎবাবু বলেছিলেন&#8212; ওহে উত্তমকুমার? আমি বললাম, হ্যাঁ, বলুন স্যার। &#8212;না প্রথম সিনটা একটু ছবিবিক ঢঙে অভিনয় করতে হবে।</p>



<p>ছবিবিক ঢঙে আমি কি অভিনয় করব? ছবিদা ছবিদার মতো অভিনয় করতেন, আমি আমার মতো করব।</p>



<p>না, ওই যে টাইম অ্যান্ড পজ-এর ব্যাপারটা আছে না, ওইটে একটু করতে হবে&#8230;&#8217;।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="751" height="454" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak.png" alt="" class="wp-image-9385" style="aspect-ratio:1.6541850220264318;width:565px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak.png 751w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-nayak-300x181.png 300w" sizes="(max-width: 751px) 100vw, 751px" /></figure>



<p>&#8216;নায়ক&#8217;-এর প্রথম দৃশ্যটি টাইটেল কার্ড শেষ ক্লোজআপে বিখ্যাত সেই &#8216;ইউ&#8217; ছাঁট, মাথায় চিরুনি চালাচ্ছেন উত্তমকুমার। পরিচালক উত্তমকুমাররের মুখ দেখালেন বেশ কিছুটা পর। &#8216;ইউ&#8217; ছাঁটের অর্থ মানুষটি উত্তম ছাড়া অন্য কেউ নন। দিল্লিতে পুরস্কার নিতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলেছে বাংলা ছবির মহানায়ক অরিন্দম মুখার্জির। এমন সময় প্রবেশ বন্ধু কাম সেক্রেটারি জ্যোতির। এক প্রযোজকও আসেন নতুন ছবির চুক্তিপত্রে সই করাতে৷ ওঁদের দু&#8217;জনের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে অরিন্দম কথাবার্তা চালিয়ে যান। এবং ব্রেকফাস্ট&nbsp; সারেন। টেবিলে বসে থাকা প্রযোজককেও এক পেয়ালা চা দিতেও ভোলেন না। বেরোবার জন্য তৈরি এমন সময় ফোন এলে জ্যোতি ধরেন, বলেন &#8220;নায়িকা।&#8221; ফোনের ওপ্রান্তে থাকা নায়িকার সঙ্গে কথা বলেন অরিন্দম। সত্যজিৎ রায় উত্তমকুমারকে ধরেন বিগ ক্লোজআপে। রোদচশমা পরা অরিন্দমের মুখ। ঠোঁটে কিং সাইজ সিগারেট। এই সিগারেটই তফাত করে দেয় সাধারণের সঙ্গে অরিন্দমের। এইসময় অরিন্দম অত্যন্ত &nbsp;পার্সোনাল। কাটা কাটা কথা বলেন তাঁর নায়িকার সঙ্গে। অরিন্দম এবং নায়িকার সম্পর্ক এতটাই ব্যক্তিগত যে, নায়িকা স্টেশনে আসতে চাইলে বারণ করেন অরিন্দম।</p>



<p>পুরো সিকোয়েন্সটিতে উত্তমকুমারের অসাধারণ সাবলীল সহজ অভিনয়। তাঁর জ্যোতির সঙ্গে কথা চালানো এবং একইসঙ্গে প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলার মধ্যে দু&#8217;রকম উত্তমকুমারকে তুলে ধরেন পরিচালক। একটি উত্তমকুমারের মধ্যে মধ্যবিত্তসুলভ ব্যাপার লক্ষ করা যায়, যে-শ্রেণি থেকে তিনি উঠে এসেছেন। আর একটি উত্তমকুমারের ভিতর পুরোপুরি এক প্রোফেশনাল ম্যাটনি আইডল ফুটে ওঠে। দুটো প্রোফাইলে তিনি অত্যন্ত সফল। পরে যোগ হয় নায়িকার সঙ্গে ফোনে কথা বলা personal উত্তমকুমার ওরফে অরিন্দম। উত্তমকুমার &#8216;আমার অভিনয়ের মুক্তি&#8217; প্রবন্ধে লিখেছেন, &#8216;&#8230; অরিন্দম আর উত্তমকুমার সম্পর্কে দুস্তর ব্যবধান কখনই থাকত না। অরিন্দমের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে ভাবতে গিয়ে বিসদৃশ মনে হয়নি। মনে হয়নি আমরা ভিন্ন ভিন্ন আনন্দ আর ব্যর্থতার গ্লানি জড়িয়ে রেখেছি শরীরে। মনে হয়েছে অরিন্দমের সুখ আমার সুখ, অরিন্দমের দুঃখ আমার দুঃখ। অরিন্দমের জটিলতায় আমিও ভাবিত। অরিন্দমের সরলতায় কখন আমিও মুগ্ধ&#8217; (নায়কের কলমে, সপ্তর্ষি)।</p>



<p>গোটা ছবিতেই উত্তমকুমার অতুলনীয়, পার্টিকুলার কোনও দৃশ্যে নয়। তবে একটি দৃশ্যের অবতারণা না-করলে অসমাপ্ত থেকে যায়। সেটি হল, অরিন্দমের&nbsp; নাটকের গুরু প্রয়াত শঙ্করদার দাহ করার দৃশ্যে। অরিন্দম আর জ্যোতি বসে। ওদিকে চিতার আগুনের লেলিহান শিখায় আলো-আঁধারি শ্মশান। অরিন্দম কনফেস&nbsp; করছেন। সবশেষে অরিন্দম যখন জ্যোতিকে বলেন, &#8220;তুই পরজন্মে বিশ্বাস করিস?&#8221; জ্যোতি উত্তর দেন, &#8220;কার?&#8221; অরিন্দম, &#8220;মানুষের।&#8221; জ্যোতি, &#8220;জ্যোতি বাড়ুজ্যে তো আর জ্যোতি বাড়ুজ্যে হয়ে জন্মাচ্ছে না। বুঝব কী করে! সকলেই তো আর জাতিস্মর হয় না।&#8221; অরিন্দম, &#8220;শঙ্করদা মাস্ট বি রং, মাস্ট বি রং.&#8221; তারপর বলেন, &#8220;সত্যযুগ হলে ভয় পেতাম।&#8221; জ্যোতি, &#8220;কার।&#8221; অরিন্দম, &#8220;শঙ্করদার অভিশাপের।&#8221; আধপোড়া সিগারেট ছুড়ে দেন চিতার দিকে। তার আগেই জ্যোতি বলেছেন, নায়ক হলে কমপক্ষে ছবিপিছু কত টাকা পারিশ্রমিক হতে পারে। বোঝা যায়, শঙ্করদা অতীত হয়ে যান&nbsp; অরিন্দমের কাছে। জ্যোতির কথামতো সিনেমার নায়কের হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিতে রাজি। আধপোড়া সিগারেট ছোড়া এবং মুখের অভিব্যক্তিতে বুঝিয়ে দেন উত্তমকুমার। শ্মশানযাত্রী অরিন্দমের মুখ থেকে ক্যামেরা চলে যায় দিল্লিতে পুরস্কার নিতে যাওয়া ম্যাটনি আইডল অরিন্দম মুখার্জির মুখে। যেখানে তিনি ট্রেনে বসে নিজের নায়ক হয়ে ওঠার কাহিনি শোনাচ্ছেন সাংবাদিক অদিতি সেনগুপ্তকে। শ্মশানে শঙ্করদারকে নিজের জীবনে অতীত করে দেওয়ার দৃষ্টির সঙ্গে অদিতিকে জীবনকাহিনির শোনানোর অভিব্যক্তি একচুল এদিক ওদিক হয় না উত্তমকুমারের!</p>



<p>সত্যজিৎ রায় উত্তমকুমার সম্পর্কে স্মৃতিচারণায়  বলেছিলেন, &#8216;&#8230; অনেকের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, কাজ করে আনন্দও পেয়েছি কিন্তু উত্তমের মতো কেউ নেই, উত্তমের মতো কেউ হবেও না।&#8217; &#8216;নায়ক&#8217; সম্পর্কে সত্যজিৎ রায় বলছেন, &#8216;নায়ক&#8217; আমি লিখলাম উত্তমকুমারের কথা ভেবেই, কারণ সেখানে এমন একজন অভিনেতার কথা বলা হয়েছে যে স্টার হিসাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছে। (উত্তমকে নেওয়ার কারণ হল আমি যদি উত্তমকে ছাড়া অন্য কাউকে নিই তখন লোকের মধ্যে ধারণা হবে যে এই অভিনেতা এতদিন ধরে অভিনয় করছেন কিন্তু তিনি তো স্টার হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনে সফল হতে পারেননি।) এক্ষেত্রে উত্তম ছাড়া আর কাউকে এই ভূমিকায় জনগণ গ্রহণ করবে না ফলে উত্তমের কথাটা প্রথমে মনে হয় এবং তারপর তার সঙ্গে কাজ করে আমার সেই উপলব্ধি হল। তাঁকে চিত্রনাট্য পড়ালাম, তাঁকে বললাম, সে পার্ট-টা পছন্দ করল। (উত্তমকুমার, সত্যজিৎ রায়, প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ)।</p>



<p>&#8216;নায়ক&#8217; করার পর ৪০ নম্বর ছবি &#8216;যদুবংশ&#8217;। অর্থাৎ মাঝে ৩৯টি ছবি করে ফেলেছেন উত্তমকুমার। &#8216;নায়ক&#8217;-এর পরিচালক সত্যজিৎ রায় আর &#8216;যদুবংশ&#8217;-এর পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী৷ এতগুলো ছবির মাঝে অন্যরকম অভিনয় করার সুযোগ পান উত্তমকুমার মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমায়। সেইসব ছবিতে উত্তমকুমার তাঁর মতো করে অভিনয় করার সুযোগ পান। আসলে হয়েছিলটা কি, &#8216;নায়ক&#8217; করার পর থেকেই উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়ের খোলনলচে বদলে ফেলেন। তিনি &#8216;নায়ক&#8217; করার সুবাদে সত্যজিৎ রায়ের অনেক কাছাকাছি আসেন। সম্ভবত তিনি সত্যজিৎ রায়ের কথা বলা, চলাফেরা,&nbsp; সবকিছুই লক্ষ করেন। পাশাপাশি ভাল ছবি, ভাল অভিনয় করার খিদেটাও বাড়ে তাঁর। যদিও উত্তম লিখছেন, &#8216;জতুগৃহ&#8217; সর্বসম্মত ভালো ছবি। আকাঙ্ক্ষা আরও এক ধাপ উঁচুতে উঠল। মনে হল এমন ভালো ছবি আরও করি। সবাই বলে, আমি গতানুগতিক ছবি করি। কিন্তু &#8216;জতুগৃহ&#8217; এক্সপেরিমেন্টাল&#8217; (জবানবন্দি, উত্তমকুমার চট্টোপাধ্যায়, নায়কের কলমে, সপ্তর্ষি)। &#8216;নায়ক&#8217;-এর দু&#8217;বছর আগে ১৯৬৪-তে পরিচালক তপন সিংহের ছবি &#8216;জতুগৃহ&#8217;। ঠিক এর মাসখানেক আগে পরিচালক বিনু বর্ধন-এর &#8216;বিভাস&#8217; করেছেন উত্তমকুমার। এটিও ছিল একেবারে অন্যধরনের ছবি। যে-ছবি একেবারে বাণিজ্যিক বাংলা ছবি নয়।</p>



<p>&#8216;যদুবংশ&#8217; করার সময় পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী চমৎকারভাবে ব্যবহার করেছিলেন ম্যাটনি আইডল উত্তমকুমারকে। অথবা একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলেন তাঁকে। হয়তো সেইকারণেই&nbsp; উত্তমকুমারকে বহু ক্লোজআপে রাখেন পরিচালক৷ কখনও ক্লোজআপ, কখনও বিগ ক্লোজআপ।</p>



<p>ছবির মূলকেন্দ্রে চার ভবঘুরে যুবক। তারাই মূলত ছবির মূল চরিত্র। চার যুবক কোনও গুণের অধিকারী নন। তারা পরিবার, সমাজের চোখে অবহেলিত, বখাটে। চার বখাটে, উচ্ছনে যাওয়া যুবক&#8211; অভয়, সূর্য, কৃপাময় আর বুললি। এঁরা নেশা করেন, সবকিছুর ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন আর কারণে-অকারণে রেগে যান। চার যুবকের সঙ্গে রয়েছেন গণাদা। গণপতি বা গণনাথ।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="752" height="615" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada.png" alt="" class="wp-image-9388" style="aspect-ratio:1.2227642276422763;width:520px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada.png 752w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-Jadubangsho-Ganada-300x245.png 300w" sizes="(max-width: 752px) 100vw, 752px" /></figure>



<p>এই গণাদা যতটুকু জানা যায়&#8211; তিনি রেলের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ব্যবসার অবস্থা ভাল নয়। ইতিমধ্যে তিনি সূর্যের কাছ থেকে একটি সোনার পঞ্চপ্রদীপ কেনেন। সূর্য অনেকগুলো টাকা পাবেন গণাদার কাছ থেকে। এই নিয়ে চার যুবক আর গণাদার ভিতর ঝামেলা। এমনকী, গণাদার বাড়ি গিয়ে তাঁকে মারতে ছাড়ে না চার যুবক। এর আগে গণাদার অফিসেও একপ্রস্ত ঝামেলা ইত্যাদি হয়ে গেছে সূর্য, অভয়, কৃপাময় আর বুললির। আলটিমেটলি&nbsp; ছবিতে দেখা যাচ্ছে ওই চার যুবক নয়, গণাদাই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে। উত্তমকুমারের অভিনয়ই তাঁকে নিয়ে যায় ছবির প্রধান চরিত্রে। এবং এর অন্য একটি কারণও আছে। সেই কারণ, গণাদার সঙ্গে চার যুবকের ঝামেলার দু&#8217;টি দীর্ঘ সিকোয়েন্স আছে। একটি, গণাদার অফিসে, অন্যটি তাঁর বাড়িতে। দ্বিতীয় সিকোয়েন্স অনেকটাই দীর্ঘ। ওই দৃশ্যেই গণাদা চার যুবক দ্বারা অত্যাচারিত হন। তাঁকে মারধরও করেন যুবকেরা। এই দুই দীর্ঘ সিকোয়েন্সে কেবলমাত্র উত্তমকুমারে ক্লোজআপ আর বিগ ক্লোজআপ ব্যবহার করেন পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী। বিশেষ করে, গণাদার বাড়িতে যখন তাঁকে মারধর করছেন চার যুবক, তখন উত্তমকুমারকে ক্লোজআপেই দেখান পরিচালক। উত্তমকুমারের অভিনয় অতুলনীয়। উত্তমকুমার তাঁর অভিনয়ে জাদু দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। বিশেষ করে, নয়নার সঙ্গে কথা শেষ। উত্তমকুমারের মুখের বিগ ক্লোজআপ। আলো-আঁধারিতে পর্দাজোড়া উত্তমের মুখ। সেই মুখ মূক নয়, অবশ্যই অভিব্যক্তিতে। কোনও সংলাপ নেই, মিউজিক নেই। কিন্তু কিছু বলতে চাইছেন গণাদা, আসলে উত্তমকুমার। দর্শককে বুঝতে দেন না গণাদা। ধারণা করা যায়, একজন বয়স্ক মানুষের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চার যুবকের কোনও সমবেদনা নেই, ভদ্রতাবোধ নেই। তাহলে গণাদা কী ভাবছিলেন এই পৃথিবী তাঁর মতো মানুষের কাছে আর বাসযোগ্য নেই! হতে পারে। তাই চার যুবকের একজনের কাছে শোনা যায় গণাদার মৃত্যুসংবাদ। তিনি আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।</p>



<p>উত্তমকুমারের ক্লোজআপ অভিনয় বারবার চমকে দেয় &#8216;যদুবংশ&#8217;-এ। বিশেষ করে, বিড়ি মুখে যখন তিনি ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন চার যুবককে। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি যেন বলে, এরা কোন প্রজন্মকে প্রতিনিধিত্ব করছে! এদের মধ্যে কী সামান্যতম ভদ্রতাবোধ নেই। এরা কী শালীনতার ধার ধারে না! উত্তমের সংলাপহীন মুখের ভাবপ্রকাশ, শরীরী অভিনয় লা-জবাব। &#8216;যদুবংশ&#8217; দেখলে বোঝা যায়, উত্তমকুমার এমন একজন অভিনেতা যাঁর মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল অভিনয় করে। তাঁর মাথা এবং সহজাত প্রবৃত্তি একসঙ্গে অভিনয় করে। নিশ্চয়ই করে নইলে এমন সম্ভব নয়! ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মেক-আপহীন, অগ্ল্যামারীয় উত্তমকুমারের দুর্দান্ত অভিনয় উত্তমের অভিনয়জীবনের সেরা অভিনয়। সেই কারণে মনে করি, &#8216;যদুবংশ&#8217; উত্তম অভিনীত সেরা ছবির একটি।</p>



<p><a>&#8216;</a>যদুবংশ&#8217;-এ গণাদার চরিত্রটি যদি না থাকত, তাহলে কি হতে পারত? সত্তরের চারটি বেকার ভবঘুরে যুবকের ছবি হতে পারত। কিন্তু উত্তমকুমার অভিনীত &#8216;যদুবংশ&#8217; হয়ে গেল তাঁরই ছবি। গণাদাই মুখ্য চরিত্রে দাঁড়িয়ে যান। বাকি চার যুবক গণাদার চারপাশে উপগ্রহ হয়ে ঘোরেন। ক্লান্ত, অবসন্ন, অপমানিত গণনাথকে বাস্তব এবং মুখ্য করে তোলেন উত্তমকুমার তাঁর অসামান্য অভিনয়ে। এর আগে উত্তমকুমারকে কখনওই দেখা যায়নি গণনাথের মতো চরিত্রে। গণনাথের চরিত্রে মহানায়কোচিত মুদ্রাদোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি, যায়ও না। ভীষণভাবে সাবলীল, স্বাভাবিক উত্তমকুমার। চার যুবক গণাদার খুবই স্নেহের। কিন্তু তাঁদের হাতেই অপমানিত, ভর্ৎসিত গণাদা। তাঁর বিহ্বল দৃষ্টিতে অসহায়তা, অপমানের যন্ত্রণা। এই দৃশ্যে উত্তমকুমারের চোখের দৃষ্টি আর শরীরী অভিনয় চমৎকার synchronised করে অভিনয়ের চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছে দেন নিজেকে। উত্তমকুমারের অভিনয় শুধু বাক মুগ্ধ করে না, স্তব্ধ করে দেয় দর্শকদের!</p>



<p>উত্তমকুমারের অভিনয়জীবনে আরও একটি ব্যতিক্রমী ছবি &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;। সত্যজিৎ রায় লিখছেন, &#8216;নায়ক&#8217;-এর পর &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছবিতে উত্তমের সঙ্গে কাজ করেও একই তৃপ্তি পেয়েছি৷ &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছিল নায়িকা-বর্জিত ছবি, ফলে বলা যেতে পারে উত্তমের পক্ষে আরও বড় ব্যতিক্রম&#8217;। (অস্তমিত নক্ষত্র, সত্যজিৎ রায়, প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ)।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="556" height="306" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana.png" alt="" class="wp-image-9391" style="aspect-ratio:1.8169934640522876;width:525px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana.png 556w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2025/09/Uttam-chiriakhana-300x165.png 300w" sizes="(max-width: 556px) 100vw, 556px" /></figure>



<p>&#8216;চিড়িয়াখানা&#8217;য় ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় উত্তমকুমার। ধুতি বা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত গোয়েন্দা। যদিও লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও &#8216;গোয়েন্দা&#8217; শব্দটি ব্যবহার করেননি। লেখক বলতেন ব্যোমকেশ বক্সী হল একজন সত্যান্বেষী, অর্থাৎ যিনি সত্যের সন্ধান করেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী একজন নিপাট বাঙালি ভদ্রলোক। ধুতি-পাঞ্জাবি, পাজামা-পাঞ্জাবি পরতেন, কখনওসখনও শার্ট-প্যান্ট। তাঁর মগজাস্ত্র ব্যবহার করতেন বেশি। &#8216;চিড়িয়াখানা&#8217; ছবিতে ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রে বাঙালিয়ানা থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি উত্তমকুমার। ছবির শুরু থেকে শেষ উত্তমকুমারকে ব্যোমকেশ বক্সী ছাড়া কিছুই মনে হয় না। এবং একভাবে অভিনয় করে যান। খুনিকে ধরার জন্য গোলাপ কলোনির সকলকে ডেকে যখন কথাবার্তা বলছেন তখন উত্তেজিত ব্যোমকেশ বক্সীর উত্তেজনাকে প্রকাশ করছেন উত্তমকুমার শুধুমাত্র কপালের ভাঁজে আর কথার ভঙ্গিতে। অমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে উত্তমকুমারের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গোটা ছবিতেই একইভাবে সংযত অভিনয় করে গেছেন তিনি।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় &#8216;অস্তমিত নক্ষত্র&#8217;-এ লিখছেন, &#8216;এটা&nbsp; বলতে পারি যে&#8212; উত্তমের সঙ্গে কাজ করে যে তৃপ্তি পেয়েছিলাম, তেমন তৃপ্তি আমার এই পঁচিশ বছরের ফিল্ম জীবনে খুব বেশি পাইনি। উত্তম ছিল যাকে বলে খাঁটি প্রোফেশনাল। রোজকার সংলাপ সে সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করে কাজে নামত। তার অভিনয় ক্ষমতা ছিল সহজাত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর দখল ছিল ষোলো আনা। ফলে স্বভাবতই তার অভিনয়ে একটা লালিত্য এসে পড়ত। রোজই দিনের শুরুতে সেদিনকার বিশেষ কাজগুলি সম্পর্কে একটা প্রাথমিক আলোচনার পর আমাকে নির্দেশ দিতে হত সামান্যই। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, নিছক নির্দেশের বাইরেও সে মাঝে মাঝে কিছু সূক্ষ্ম ডিটেল তার অভিনয়ে যোগ করত যেগুলি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব অবদান। এই অলংকরণ কখনই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পড়ত না; এটা সব সময়ই হত আমার পক্ষে একটা অপ্রত্যাশিত উপরি প্রাপ্তি৷ বড় অভিনেতার একটা বড় পরিচয় এইখানেই&#8217;। (প্রবন্ধ সংগ্রহ, সত্যজিৎ রায়, আনন্দ)</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/">উত্তম কেন সর্বোত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/why-uttam-kumar-is-the-greatest-in-bengali-cinema-article-by-kamalendu-sarkar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সত্যজিতের চোখে উত্তম</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 04 Jul 2025 05:19:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Binodan]]></category>
		<category><![CDATA[Celebrities]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<category><![CDATA[Uttam Kumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=9082</guid>

					<description><![CDATA[<p>“উত্তম একজন বর্ন অ্যাকটর। আমি একে বলি 'পুরো শিল্পী'।”</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/">সত্যজিতের চোখে উত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>উত্তমকুমারকে নিয়ে যতই লেখা হোক না কেন, যেন কিছুই যথেষ্ট নয়। রূপালি পর্দার রোমান্সের সম্রাট, বাংলা সিনেমার মহানায়ক, একজন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য,উত্তমকুমার একাধারে অনুভব, এক বিস্ময়, এক অমরতা। তবে উত্তমকুমারকে যিনি সম্পূর্ণভাবে একজন অভিনেতা হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, তিনি হলেন চলচ্চিত্রের জাদুকর সত্যজিৎ রায়। একজন কিংবদন্তির চোখে আরেক কিংবদন্তির যে মূল্যায়ন, তা আজও সিনেমা-ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায় হয়ে আছে।<br>১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখলেও উত্তমকুমারকে দর্শক মনে রেখেছে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’,&#8217;সবার উপরে&#8217;,‘হারানো সুর’,‘সপ্তপদী’,&#8217;চৌরঙ্গী&#8217;,&#8217;বাঘবন্দী&#8217;,&#8217;যদুবংশ&#8217;,&#8217;সন্ন্যাসী রাজা&#8217;,&#8217;<br>‘নায়ক’এর মতো অগণিত ছবির জন্য। ষাট ও সত্তরের দশকে উত্তম-সুচিত্রার যুগলবন্দি বাংলা সিনেমার এক অনন্য স্বর্ণযুগ গড়ে তোলে। কিন্তু শুধুই রোমান্টিক নায়ক বললে উত্তমকুমারের প্রতি অবিচার করা হবে।<br>সত্যজিৎ রায় উত্তমকে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা রূপে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নায়ক’ (১৯৬৬) ছবির মাধ্যমে। সেখানে একজন সফল, কিন্তু অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত সিনেমা তারকার মনের দ্বন্দ্বকে উত্তম যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা বিশ্ব-সিনেমার ইতিহাসেও বিরল।<br>সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন:“নায়ক চিত্রনাট্যটা লেখার সময় আমার মনে ছিল শুধু একজন-উত্তম। আমি জানতাম, এই চরিত্রে ও ছাড়া কেউ পারবে না।”<br>‘নায়ক’-এ উত্তমকুমার অভিনয় করেন অভিজিৎ রায়ের চরিত্রে—এক সুপারস্টার, যার বাইরের গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে আছে চাপা অপরাধবোধ, অনুতাপ, অহংকার ও অতৃপ্তি। ট্রেনে এক সাংবাদিক তরুণীর সঙ্গে আলাপ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে অভিজিতের ভেতরের মানুষটা।<br>সত্যজিৎ রায়ের ভাষায়-“আমি উত্তমকে দেখেছি চরিত্রের গভীরে ঢুকে পড়তে। আমার চিত্রনাট্য পড়ে ও রিহার্সাল ছাড়াই অনেক দৃশ্য একবারেই নিখুঁত করে তুলেছে।”<br>উত্তমকুমারের শরীরী ভাষা, সংলাপের ওঠাপড়া, চোখের ভাষা—এইসব মিলিয়ে এক অভিনয়ের স্টাইল তৈরি করেছিলেন তিনি।বিখ্যাত অভিনেতা ও শিক্ষক সন্তোষ সিংহের কাছে থেকে ৫৬ রকম মুখের এক্সপ্রেশন শিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলতেন,“উত্তমের সবচেয়ে বড় গুণ, ও কখনও অতিরিক্ত করে না। ওর মধ্যে একটা ভারসাম্য আছে, যেটা একমাত্র প্রকৃত শিল্পীর মধ্যেই থাকে।”<br>‘নায়ক’-এর একটি দৃশ্য—যেখানে উত্তম বিছানায় শুয়ে ছেলেবেলার অপমানের কথা মনে করছে, মুখে কোনো সংলাপ নেই, কেবল চোখে অভিব্যক্তি,সেই দৃশ্য আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি পাঠ্যদৃষ্টান্ত।<br>সত্যজিৎ কখনোই বাণিজ্যিক অভিনেতাদের অভিনয়গুণ নিয়ে সরল প্রশংসা করতেন না। কিন্তু উত্তমের বেলায় তাঁর অবস্থান ছিল আলাদা।“উত্তমের মধ্যে একটা স্নিগ্ধতা আছে, একটা আত্মবিশ্বাস আছে, আবার একটা ভাঙাচোরা মানুষও আছে। এই বৈপরীত্যটাই অভিনয়ে তাকে অনন্য করে তোলে।”<br>তিনি বারবার বলেছেন, উত্তম শুধু নায়ক ছিলেন না,তিনি ছিলেন একজন &#8216;থিঙ্কিং অ্যাক্টর&#8217; ‘thinking , মানে যার অভিনয়ের পেছনে ছিল উপলব্ধি, বিশ্লেষণ এবং চরিত্রমনের ভেতরে ঢোকার ক্ষমতা।<br>সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ মুক্তি পায় বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে বিদেশি সমালোচকরাও উত্তমের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন। ইউরোপিয়ান পত্রপত্রিকায় লেখা হয়, &#8220;অ্যান অ্যাকটর অফ সুপ্রিম স্যাটেলিটি অ্যান্ড গ্রেস।&#8221;<br>সত্যজিৎ বলেছিলেন,“ওই ছবিতে উত্তম যেভাবে অন্তর্মুখী যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তুলেছে, তা যে কোনও আন্তর্জাতিক স্তরের অভিনেতার সঙ্গেই তুলনীয়।”<br>যদিও উত্তমকুমার অনেক আগেই সুপারস্টার হয়ে উঠেছিলেন, সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরেই তিনি হয়ে ওঠেন “মহানায়ক”,শুধু বাংলার নয়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অন্যতম উচ্চতা।<br>সত্যজিৎ বলেছিলেন, “উত্তমকে নিয়ে আমি আরও ছবি করতে চেয়েছিলাম। ওর মধ্যে বিশাল সম্ভাবনা ছিল। আফসোস, সময় পেলাম না।”<br>উত্তমকুমার ছিলেন স্টারডমের প্রতীক। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এক নিখুঁত অভিনেতা একজন “পুরো মানুষ”। তাঁদের একসঙ্গে কাজ শুধু সিনেমাকে নয়, দর্শকদের মনকেও সমৃদ্ধ করেছে।আজ উত্তম নেই, সত্যজিৎও চলে গেছেন। কিন্তু &#8216;নায়ক&#8217; ছবির সেই ট্রেনের কামরায় অভিজিৎ রায়ের মুখোমুখি সত্য উন্মোচনের মুহূর্ত আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।<br>কারণ উত্তম শুধু অভিনয় করতেন না, তিনি বেঁচে থাকতেন তার চরিত্রের মধ্যে। আর সত্যজিৎ রায় সেই সত্যিকারের উত্তমকুমারকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/">সত্যজিতের চোখে উত্তম</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/satyajit-rays-evaluation-of-uttam-kumar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ফেলুদার পাঠশালা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/the-world-of-feluda/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/the-world-of-feluda/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 06 May 2024 09:32:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Feluda]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7403</guid>

					<description><![CDATA[<p>ফেলুদার গল্প উপন্যাসের  সিগনেচার ট্রেড মার্কগুলোতে আলো ফেলার চেষ্টা।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-world-of-feluda/">ফেলুদার পাঠশালা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সুমন্ত্র মিত্র</p>



<p>ফেলুদার পৃথিবীতে আপনাকে স্বাগত। গত ৫০ বছর ধরে আবহমান এই অধমের মতন আপামর&nbsp;ফেলুদা প্রেমীদের জন্য অকিঞ্চিৎকর নিবেদন।</p>



<p>১৯৬৫ -১৯৯৭ এই ৩২ বছরে ৩৫টি সম্পূর্ণ ও ৪টি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত। যাত্রা শুরু ১৯৬৫ সালে সন্দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক &#8216;ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি &#8216; থেকে।</p>



<p>এখানে আমরা ফেলুদার গল্প উপন্যাসের যে সিগনেচার ট্রেড মার্ক সেখানে একটু আলো ফেলার চেষ্টা করছি। একজন ফেলুদা ভক্ত হয়ে জানার আর বোঝার&nbsp; চেষ্টা করছি কী সেই অনুপান যার &nbsp;অমোঘ আকর্ষণে&nbsp; প্রজন্মের পর প্রজন্ম আট থেকে আশি বিমুগ্ধ হয়ে ফেলুদার গল্প পড়ে চলেছে।</p>



<p>প্রথমত ফেলুদার গল্প উপন্যাসের ভাষা।সেটা স্রষ্টার অমোঘ লেখনীতে ঝরঝরে,স্বাদু গদ্য,একবার ধরলে ছাড়া যায়না যা সত্যজিত রায় &nbsp;একটি ইংরেজি দৈনিকের ক্যাচ লাইন তৈরি করেছলেন সেই unputdownable, &nbsp;এমন এক আশ্চর্য পৃথিবীতে নিয়ে যান। সেখানে অ্যাডভেঞ্চার আছে ,রহস্য আছে,হাস্যরস আছে,দেশবিদেশ ভ্রমণের মজা আছে আর সেটা যে ভাষায় বলা হয়েছে সেইটাই আসল।সেটা না হলে প্রায় অর্ধ শতাব্দী অতিক্রান্ত শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে এমন মনোরম আনন্দ দিতে পারতো না।নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছিলেন,&#8217;এত সাহিত্যচর্চা,লেখালেখি করার পর যখন পড়ি ‘’লোকটার গায়ের রং একেবারে সদ্য কালি বুরুশ করা নতুন জুতোর মতন চকচকে &#8216;(সোনার কেল্লা’)’’ এই আশ্চর্য উপমাতে মোহিত হয়ে যেতে হয়।‘&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>দ্বিতীয়ত ফেলুদার ব্যক্তিত্ব,আন্তর্জাতিক বাঙালিয়ানা,নানান বিষয়ে গভীর পড়াশোনা (শুধু সমগ্র ফেলুদা উপন্যাসগুলোতে ফেলুদা যা বই পড়ছে সেটা পড়লেও একজন সাধারণ মানুষ অনেক সমৃদ্ধ হবেন এবং হয়েওছেন।এর সঙ্গে ফেলুদা ,তোপসে ,লালমোহনবাবুর নিজেদের ,মক্কেলদের,যে কোনো রহস্যের তদন্তে নেমে যাকে বলে জেরা আরও অন্যান্য কথোপকথনের মধ্যে যে মূল সুর সেটা হল আভিজাত্য,মার্জিত রুচি আর শিক্ষার পরিচয় যাতে আচ্ছন্ন হতেই হয় পাঠককে।</p>



<p>তৃতীয়ত&nbsp; ফেলুদার কোল্ট পয়েন্ট .৩২ রিভলভার থাকা সত্ত্বেও মগজাস্ত্রর&nbsp; (&#8216;যেটা মাঝে মাঝে ঘ্যাচাং করে মানুষের মনের ভেতরে ঢুকে পড়ে মানুষের সব মনের কথা জেনে নেয়&#8217;) শানিত ব্যবহার।মানে ফিজিক্যাল গোয়েন্দার চেয়েও বেশি সেরিব্রাল গোয়েন্দা।</p>



<p>চতুর্থত সমস্ত ফেলুদা গল্প উপন্যাসের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু বৈশিষ্ট অথবা সাদৃশ্য আছে। যেমন:</p>



<p>১) ফেলুদার মক্কেলরা বেশিরভাগই ধনী,শুধু কৈলাস চৌধুরী, মণিমোহন সমাদ্দার, সোনার কেল্লার সুধীরবাবু ছাড়া।আর এই মক্কেলদের একটি করে সেক্রেটারি আছেন যারা গল্পের অন্যতম মুখ্য চরিত্র ,তাদের মধ্যে কেউ ভিলেন,কেউ ভিলেনকে সাহায্য করে ,কেউ নিজেই ভিলেনের হাতে মারা পড়ে। যেমন রজত বোস (হত্যাপুরী), তড়িৎ সেনগুপ্ত (রয়েল বেঙ্গল রহস্য)।</p>



<p>২) বেশ কিছু গল্পে ( বাদশাহী আংটি,জাহাঙ্গীরের স্বর্ণমুদ্রা, ,গোঁসাইপুর সরগরম) ফেলুদা নিজে আগে থেকে মূল্যবান জিনিস সরিয়ে রেখেছিল বা রহস্যোদ্ঘাটনের সময় সামনে এসেছে।</p>



<p>৩) বাবার সঙ্গে ছেলের দূরত্ব, মনোমালিন্য,অসদ্ভাব।(ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির রাজেনবাবু ,গ্যাংটকে গন্ডগোলে শেলভাঙ্কার ও পুত্র বীরেন্দ্র ,গোঁসাইপুর সরগরমে শ্যামলাল মল্লিক ও পুত্র জীবনলাল, হত্যাপুরীতে দূর্গাগতি (ডিজি ) সেন ও পুত্র মহিম সেন,ছিন্নমস্তার অভিশাপে মহেশ চৌধুরী ও পুত্র অরুণ,টিনটোরেটোর যীশুতে নবকুমারের পুত্র নন্দ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৪) লালমোহনবাবুর বন্ধু গড়পাড়ের এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশনের ভূগোল আর ইতিহাসের শিক্ষক বৈকুণ্ঠনাথ মল্লিকের কবিতা যা ফেলুদার গল্পে একটি অবিচ্ছেদ্য জনপ্রিয় আকর্ষণ। শুধু এই কবিতার মনোরম শ্লেষ নিয়ে একটি আলাদা নিবন্ধ লেখা যায়। ‘এক পায়ে খাড়া থাকি একা বালুচরে’,অয়ি কাঞ্চন জঙ্ঘে’। এখানে উল্লেখ্য প্রতিবছর এই এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশনে সাড়ম্বরে সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন পালিত হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৫) তোপসে আর লালমোহনবাবুর স্বপ্নের বর্ণনা ফেলুদা গল্প উপন্যাসের অন্যতম আশ্চর্য আকর্ষণ।পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা গল্প উপন্যাসে ঘটনা সম্বলিত দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর,তদন্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে হাস্যরসে ভরা এই স্বপ্নসৃষ্টি&nbsp; এক অসাধারণ&nbsp; অনুপম,অনন্য সৃষ্টি।কিছু অতুলনীয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করছি-</p>



<p>তোপসের স্বপ্ন &#8211; &#8216;&#8230;একটা প্রকান্ড ঘরে একটা প্রকান্ড লোহার দরজা,আর তাতে একটি প্রকান্ড বড় ফুটো। ফুটোটা এতো বড়ো যে তার মধ্যে দিয়ে অনায়াসে উলটো দিকে চলে যাওয়া যায়,কিন্তু তা না করে আমি,ফেলুদা আর মণিমোহনবাবু তিনজনে একসঙ্গে একটা প্রকান্ড চাবিকে আঁকড়ে ধরে সেটাকে ফুটোটার মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করছি আর সুরজিৎ দাশগুপ্ত একটা আলখাল্লা পরে তিড়িং&nbsp; বিড়িং লাফাচ্ছেন আর সুর করে বলছেন ,&#8217;এইট টু নাইন ওয়ান -এইট টু নাইন ওয়ান-এইট টু নাইন ওয়ান।'(সমাদ্দারের চাবি )।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>লালমোহনবাবুর স্বপ্ন -&#8216; একদন ডাকাতকে হিপনোটাইজ করে কেল্লার মধ্যে নিয়ে যাচ্ছি ,সেখানে সুড়ঙ্গের মধ্যে আন্ডারগ্রাউন্ডে বসে একটা উট জিবেগজা খাচ্ছে&#8230; (সোনার কেল্লা)।&#8217;এক জায়গায় ডজন খানেক বাঁদর বিক্রি হচ্ছে,আর একটা লোক ডুগডুগি বাজিয়ে বলছে রেনেসাঁস কা সুবাসিত বান্দর &#8211;&nbsp; রেনেসাঁস কা সুবাসিত বান্দর &#8211; দো দো ডলার&#8230;'( টিনটোরেটোর যীশু )।</p>



<p>৬) হয়তো মূলত কিশোর কিশোরীদের জন্য লেখা বলে গল্পের মাঝে চরিত্রদের পাঠকের মনে রাখতে সুবিধের জন্য ফেলুদা তোপসেকে পরীক্ষা করছে এমন করে প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি যা বিখ্যাত নীল খাতা খুলে লেখা।ফেলুদার কথায় সেটা দায়সারা হলে চলবে না।</p>



<p>&#8221;&#8230;এখন যারা গ্যাংটকে আছে তার মধ্যে বল।&#8217;এক শশধর বাবু। পদবি ?&#8221;দত্ত&#8217;,&#8217;তোর মুন্ডু&#8217;.&#8217;সরি –বোস।&#8221;কেন এসেছেন এখানে ?&#8217;,&#8217;ওই যে বললেন কী&nbsp; সুগন্ধী গাছের ব্যাপার&#8217;।&#8217;অত দায়সারাভাবে বললে চলবে না। &#8216;&#8230;( গ্যাংটকে গন্ডগোল)।&nbsp;</p>



<p>৭)সংকেত।রবীন্দ্রনাথের গুপ্তধনের &#8216;তেঁতুল বটের কোলে,দক্ষিণে যাও চলে&#8217;র পর সম্ভবত বাঙালির&nbsp; সবচেয়ে জনপ্রিয় সংকেত, &#8216;মুড়ো হয় বুড়ো গাছ,হাত গোন ভাত পাঁচ দিক পাও ঠিক ঠিক জবাবে,ফাল্গুন তাল জোড় দুই মাঝে ভুইঁ ফোঁড়,সন্ধানে ধন্দায় নবাবে'(রয়েল বেঙ্গল রহস্য)।এরই সঙ্গে &#8216;ত্রিনয়ন ও ত্রিনয়ন একটু জিরো'(ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা)।এই সব আশ্চর্য রোমাঞ্চকর সংকেত সৃষ্টি তাঁর অসাধারণ, অদ্বিতীয় প্রতিভার স্বাক্ষর।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৮) এবং সিধুজ্যাঠা। সিদ্ধেশ্বর বোস।ফেলুদার বাবা জয়কৃষ্ণ মিত্রর গ্রাম তুতো দাদা তাই জ্যাঠা। শার্লক হোমসের &nbsp;মাইক্রফ্ট হোমসের মতো। বন্ধু রাধাপ্রসাদ গুপ্তের লেখা থেকে জানা যায় নির্মলচন্দ্র কুমারের আদলে সিধু জ্যাঠাকে সৃষ্টি করেছিলেন সত্যজিৎ।&#8217;নির্মল কুমারের &nbsp;ঘরের চারদিকের দেওয়াল জুড়ে ছাদ অবধি ছিল খালি বই আর বই। সেই ঘরের এক কোণার তক্তপোশে একটা হাতাওয়ালা গেঞ্জি আর ধুতি পরে শান্ত চেহারায় শিবের মতন বসে থাকতেন তিনি।&#8217; ঠিক তেমন আমাদের সিধু জ্যাঠা &nbsp;সর্দার শংকর রোডে থাকেন।উনি অনেক কিছু করলে অনেকেরই পসার থাকতোনা তাই উনি মনের জানলা দরজা খুলে রেখে কাগজের কাটিং সমৃদ্ধ খাতার ভলিউম আর লাইব্রেরি সদৃশ বই নিয়ে থাকেন আর ফেলুদার প্রয়োজন পড়লে সাহায্য করেন।</p>



<p>৯) ফেলুদার ভিলেনরা ।ফেলুদার ভিলেনদের মধ্যে সবচেয়ে ধুরন্ধর,লালমোহনবাবুর ভাষায় পাঁচটি ভেঙে একটি হওয়া মগনলাল মেঘরাজ ,ইনিই একমাত্র ভিলেন যিনি তিনবার ফেলুদার মুখোমুখি হয়েছেন।জয়বাবা ফেলুনাথ ,যত কান্ড কাঠমান্ডুতে আর গোলাপি মুক্তা রহস্যে।অন্য দুর্ধর্ষ দুশমনরাও শয়তানিতে কম যান না।বিশেষ করে বাদশাহী আংটির বনবিহারী সরকার,গ্যাংটকে গন্ডগোলের শশধর বোস,সোনার কেল্লার অমিয় বর্মন আর অসামান্য ধুরন্ধর মন্দার বোস।পুরো তালিকা দীর্ঘায়িত না করে বলা যেতে পারে এই সব দুর্ধর্ষ প্রখর বুদ্ধির ভয়ঙ্কর অপরাধীদের হাড় হিম করা শয়তানির বিরুদ্ধে ফেলুদার মানসিক আর শারীরিক দুর্দান্ত যুদ্ধজয় বার বার পড়েও পুরোনো হয়না।</p>



<p>এখন সিনেমায় স্পাই ইউনিভার্সের মতো করে কল্পনা করতে ইচ্ছে হয় শহরের এক হোটেলে একসঙ্গে মগনলাল মেঘরাজ,বনবিহারী সরকার ,শশধর বোসেরা একজোট হয়ে ফেলুদাকে আক্রমণ করার,এবারে পুরোপরি হত্যা করার প্ল্যান করছে &#8230;. আর এবারে ফেলুদা তার সর্বশক্তি দিয়ে তার মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে… ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সন্দেশ &#8216;ফেলুদা বিশেষ সংখ্যায় (অগ্রহায়ণ ১৪০২) সংখ্যায় লীলা মজুমদারের &#8216;ফেলুচাঁদ&#8217; প্রবন্ধে লিখেছেন,&#8217;ফেলুদার গল্প যারা পড়েনি ,তারা ঠকেছে। ভালো জিনিস উপভোগ না করতে পাড়ার দুঃখ আর কিছুতে নেই।&#8230;ফেলুদার গল্প উপন্যাসে যে সব অকুস্থলে রহস্য পেকে উঠেছে ,সে সমস্ত জায়গার বর্ণনা নিখুঁত।কোথাও কোনো ইতিহাস -ভূগোল- বিজ্ঞানের এতটুকু ভুল চুক চোখে পড়ে না।সব বয়েসের পাঠকরাই ফেলুচাঁদের পাঠশালায় শেখা যাবতীয় বিদ্যাবুদ্ধি সটাং বই থেকে তুলে,নিজের জীবনে যেমন খুশি কাজে লাগাতে পারে।বরং না লাগালেই ঠকতে হবে।&#8230;&#8217;</p>



<p>&nbsp;সন্দীপ রায়ের &#8216;খসড়া খাতায় ফেলুদা&#8217; লেখায় জেনেছি ফেলুদার গল্পের প্রথম নামকরণ যা পরে বদল করা হয়েছিল।কিছু নমুনা &#8211;</p>



<p>শেয়াল দেবতা রহস্য&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ফেলুদা ও আনুবিস রহস্য/আনুবিস রহস্য</p>



<p>গ্যাংটকে গন্ডগোল&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; গ্যাংটকে ফেলুদা</p>



<p>কৈলাসে কেলেঙ্কারি&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কৈলাস&nbsp; রহস্য</p>



<p>রয়েল বেঙ্গল রহস্য&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;যেখানে বাঘের ভয়</p>



<p>জয় বাবা ফেলুনাথ&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কাশীধামে ফেলুদা</p>



<p>ফেলুদার গল্পে একধরণের মনস্তাত্ত্বিক আর আবেদন আছে যা পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়কাল ধরে বাঙালিকে আকর্ষিত করে রেখেছে,ফেলুদার অনাড়ম্বর যাপন,মার্জিত রুচি,অস্ত্ৰ কম মগজাস্ত্রের প্রয়োগ বেশি, বর্তমান, আন্তর্জাতিক ঘটনা,ইতিহাস সম্পর্কে প্রখর জ্ঞান, আগ্রহ আর অনুসন্ধিৎসা।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ফেলুদা পড়েই আমরা অনেক কিছু জেনেছি তার পুরো তালিকা না দিয়ে কিছু উল্লেখ করছি ,যেমন &#8216;হাড়ের ব্যারামের ডাক্তার অস্টিওপ্যাথ ,অস্টিও আর অস্থি -মিলটা লক্ষ্য করা&#8217; (বাদশাহী আংটি),&nbsp; &#8216;অর্জুনের শাঁখের নাম দেবদত্ত আর যুধিষ্ঠিরের শাঁখের নাম অনন্তবিজয়,'(গোলোকধাম রহস্য)হয় মানে ঘোড়া (রয়েল বেঙ্গল রহস্য),মিশরে গিজার পিরামিড দু&#8217;লক্ষ পাথরের ব্লক আছে ,তেরোশো বছর আগে দাক্ষিণাত্যের একদল কারিগর পাহাড়ের গা কেটে এই (কৈলাস ) মন্দিরটা বের করেছে। (কৈলাসে কেলেঙ্কারি)&#8217;এবং এই জানা শিক্ষকের পড়ানোর,মুখস্থ করা নয় গল্পের ফাঁকে ফাঁকে জুড়ে দেওয়া জ্ঞানার্জন।</p>



<p>সোনার কেল্লা ছবিতে তোপসে খাবার টেবিলে উর্ধশ্বাসে খাবার খেয়ে চলে যাওয়ার পর তোপসের মার চিন্তাব্যাকুল প্রশ্ন ছিল.&#8217;&#8230;ফেলুর কথা তো হচ্ছে না,ও তো পেশাও বেছে নিয়েছে,কিন্তু আমার ছেলের তো পড়াশোনা আছে,ইস্কুল আছে&#8230; &#8216; উত্তরে  তোপসের বাবা বলেছিলেন &#8216;ফেলুর মতন মাস্টার আছে কি সেই স্কুলে ?&#8217;</p>



<p>জয় বাবা ফেলুনাথ।</p>



<p></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-world-of-feluda/">ফেলুদার পাঠশালা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/the-world-of-feluda/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নায়িকা নয় ,অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম: লিলি চক্রবর্তী</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/exclusive-biographical-interview-of-lily-chakraborty/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/exclusive-biographical-interview-of-lily-chakraborty/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 16 Oct 2023 11:03:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Binodan]]></category>
		<category><![CDATA[Celebrities]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Amitabh Bachchan]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali Cinema]]></category>
		<category><![CDATA[Hrishikesh Mukherjee]]></category>
		<category><![CDATA[Lily Chakraborty]]></category>
		<category><![CDATA[Satyajit Ray]]></category>
		<category><![CDATA[Tarun Majumder]]></category>
		<category><![CDATA[Uttamkumar]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=6659</guid>

					<description><![CDATA[<p>৬৩ বছরের স্বর্ণালী সমৃদ্ধ অভিনয় জীবন কথা।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/exclusive-biographical-interview-of-lily-chakraborty/">নায়িকা নয় ,অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম: লিলি চক্রবর্তী</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>কমলেন্দু সরকার</strong></p>



<p>সেসব অনেকদিন আগের কথা। তখন লিলি চক্রবর্তীর বয়স মাত্র ১৮। দেশভাগের আগেই মায়ের হাত ধরে চলে এসেছিলেন কলকাতা। বাবা কেশবনাথ চক্রবর্তী ঢাকার বিক্রমপুরে বিশাল সাবান ব্যবসার সবকিছু ছেড়ে কলকাতা চলে আসেন তার একবছর আগেই। কলকাতা এসে কঠিন লড়াই চলেছিল কেশবনাথের। তাঁর সংসারও ছিল বড়। তিন পুত্র, ছ&#8217;কন্যা নিয়ে তাঁর পরিবার। একদিন লিলিরা কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন মধ্যপ্রদেশ। বড় মামার কাছে। উনি ছিলেন কয়লাখনির সার্ভেয়ার।</p>



<p>এখানেই লিলির অভিনয়ের হাতেখড়ি। লিলি বলছেন,<strong> &#8220;ওখানে মা আমাদের নিয়ে নাটক, নাচ-গান করাতেন। এইসব করতে করতে আমার মধ্যে ঢুকে পড়ে অভিনয়ের বীজ। ওখানে প্রতি মাসে দুটো করে সিনেমা দেখাত। ছোট থেকেই আমার সিনেমা দেখার প্রতি খুব ঝোঁক৷ সিনেমা দেখতাম আর ভাবতাম, আমিও যদি ওইরকমভাবে সিনেমার পর্দায় নেচে-গেয়ে, হেঁটে-চলে বেড়াতে পারতাম, তাহলে বেশ মজা হত। কেমন যেন স্বপ্নের মতো মনে হত! একটা ঘোরের ভেতর চলে যেতাম। হিন্দি ছবি দেখতে দেখতে দেব আনন্দের ফ্যান হয়ে গেলাম।&#8221;</strong></p>



<p>একদিন মধ্যপ্রদেশের পাট চুকিয়ে ফের কলকাতা চলে আসা। সেইসময় লিলিরা থাকতেন উল্টোডাঙায় মুরারীপুকুর রোডে। লিলি চক্রবর্তী তখন কিশোরী। মেজদি নাটক করছেন &#8216;নবনাট্যম&#8217;-এ। গ্রুপের রিহার্সাল হত চোরবাগানের এক বড় বাড়িতে। একদিন মেজদির সঙ্গে লিলি গেলেন রিহার্সালে। সেইসময় চলছিল মাইকেল মধুসূদন দত্তর &#8216;মেঘনাদ বধ কাব্য&#8217;-এর মহড়া। পরিচালক দেবব্রত সুরচৌধুরী। <strong>পরিচালকের হঠাৎই নজর পড়ে লিলির প্রতি। তিনি বললেন, &#8220;খুকি, তুমি একটা পার্ট করে দেবে?&#8221;</strong></p>



<p>খুকি বলাতে বিরক্ত লিলি মুখে কিছু না-বলে ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেন। &#8220;ওই নাটক এক রবিবার সকালে মঞ্চস্থ হল নিউ এম্পায়ারে। সেই আমার প্রথম বড় মঞ্চে অভিনয়!&#8221; ভূমিকা ছোট, মঞ্চ বৃহৎ। কিন্তু ভবিষ্যতের লিলি চক্রবর্তীর জন্য বড় ক্ষেত্র, বড় ভূমিকার ময়দান, প্রস্তুতির মহড়া হল সেই রবিবার সকালে নিউ এম্পায়ারে। টালিগঞ্জের বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মিষ্টি এই অভিনেত্রীর অপেক্ষায় রইল।</p>



<p>শুরু হল লিলির অভিনয়জীবন। এই অভিনয় থেকেই অফিস ক্লাবের নাটকে অভিনয় করার ডাক এলো। সেইসময় বাণিজ্যিক নাটকের পাশাপাশি অফিস ক্লাবের নাটকের একটা জায়গা ছিল কলকাতার সাংস্কৃতিক মহলে। লিলি বাবার কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলেন। বাবা কেশবনাথ বললেন, &#8220;মা বকবে না তো?&#8221; লিলি বললেন, &#8220;দ্যাখো বাবা, মেজদি তো অনেকটাই সাহায্য করছে সংসারে, আমিও যদি কিছুটা করতে পারি। পড়াশোনা বাড়িতে করব। আমাদের অবস্থা তেমন ভাল নয়। বাবা সবকিছু ছেড়ে প্রায় কপর্দকহীন অবস্থায় কলকাতা এসেছেন। এ-শহরে এসে তেমন কিছু করতে পারেননি। হয়তো সেইকারণে, বাবা আর &#8216;না&#8217; করেননি।</p>



<p>সেইসময় প্রায় সব অফিস ক্লাবেরই নাটক হত। সবগুলোই নামীদামি অফিস। অনেকসময় নাটকের পরিচালক হতেন নামী কোনও পেশাদারি নাট্য পরিচালক। আবার অনেকসময় দেখা যেত অফিসেরই কাউকে পরিচালকের ভূমিকায়। যাক গে সেসব কথা। মোদ্দা কথা হল <strong>লিলি চক্রবর্তী হয়ে উঠেছিলেন অফিস ক্লাব নাটকের নিয়মিত অভিনেত্রী। সেইসময় নাটক পিছু লিলি চক্রবর্তী নিতেন ৫০ টাকা। সেইসময় ৫০ টাকাটা নেহাত মন্দ ছিল না। অনেক টাকা। ৫০ টাকার সঙ্গে পাওয়া যেত গাড়িভাড়াও।</strong></p>



<p>&#8220;একদিন হয়েছে কি, পার্ক স্ট্রিটের এক অফিস ক্লাবের নাটকের রিহার্সালে গেছি। সেই নাটকের পরিচালক ছিলেন কুনাল মুখোপাধ্যায়। তিনি সিনেমা পরিচালক কনক মুখোপাধ্যায়ের ভাই৷ হঠাৎই তিনি দুম করে বললেন, &#8216;বুড়ি তুই সিনেমায় অভিনয় করবি?&#8217; বললাম, করব। তখন কুনালদা বললেন, &#8216;তাহলে তুই আগামী কালই চলে যাবি রাধা স্টুডিয়োতে। দাদার সঙ্গে দেখা করে বলবি আমার কথা। আর আমি দাদাকে বলে রাখব তুই যাবি।&#8217; বললাম, ঠিক আছে। সঙ্গেসঙ্গে আমার মনে পড়ল সেই ভদ্রলোকের ভবিষ্যদ্বাণী, &#8216;দেখবে, বড় হয়ে তুমি অভিনেত্রী হবে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী হবে। তখন আমরা বড় মামার কাছে মধ্যপ্রদেশ থাকতাম।&#8221; লিলি জানালেন তাঁর অভিনেত্রী হওয়ার গোড়ার কথা, ১৯৫৮-র কথা। রাধা স্টুডিয়োয় পৌঁছে লিলি চক্রবর্তী বিস্ফারিত চোখে দেখেন শুটিং করছেন&#8211; ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, কমল মিত্র, জহর রায়-এর মতো বাঘা বাঘা অভিনেতা। &#8220;আমি বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে সটান কনক মুখোপাধ্যায়কে বললাম, আমি লিলি চক্রবর্তী। কুনালদার কথামতো এসেছি। উনি আর কিছু বলার সুযোগ না-দিয়ে বললেন, &#8216;শুটিং কিন্তু আজই করতে হবে। পারবে তো। এঁদের সঙ্গে অভিনয় করতে হবে!&#8217; তখন আমার কাছে কে ভানু, কে জহর, কে কমল মিত্র! আমি বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে বললাম, পারব। এমনকী স্টুডিয়োর পরিবেশ, সেট দেখেও কিছুই মনে হয়নি! সটান বলে দিলাম, হ্যাঁ। তারপর মেক-আপ নিলাম মেক-আপম্যানের কাছে। সপাটে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলাম ওঁদের সঙ্গে। <strong>আজ ৮২ বছর বয়সেও কোনও কাজ করতে ঘাবড়াই না, ভয়ও পাই না। একইরকম আছি। </strong>সেদিন সকলেই তারিফ করেছিলেন আমার অভিনয়ের! ওঁরা বলেছিলেন, &#8216;একেবারে আনকোরা নতুন মেয়েটি কী অভিনয়টা না করে গেল!&#8217; আমার ভূমিকা ছিল এক টাইপিস্টের।&#8221;</p>



<p>লিলি চক্রবর্তী অভিনীত প্রথম ছবির নাম ছিল &#8216;ভানু পেল লটারি&#8217;। পরদিন ছিল পার্ক স্ট্রিটের সেই অফিস ক্লাবের নাটকের রিহার্সাল। নাটকের মহড়ায় ঢুকতে গিয়েই পরিচালক কুনাল মুখোপাধ্যায়ের উড়ে আসা একটি কথায় হোঁচট খেলাম, &#8220;লিলি, তুমি কাল কি করেছ?&#8217; আমি চমকে উঠলাম! সেটের সবাই তো বললেন, &#8216;দারুণ হয়েছে।&#8217; শেষমেশ রহস্য না করে কুনাল মুখোপাধ্যায় বললেন, &#8216;না না, অত চমকে ওঠার&nbsp; কারণ নেই কোনও। দাদা বললেন, &#8216;লিলি, দারুণ অভিনয় করেছেন। যদি আগে পেতাম তাহলে ওকেই ছবির নায়িকা করতাম। ওর মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। খুব ভাল অভিনেত্রী।&#8217; এবার আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম!&#8217;</p>



<p>আবার নতুন আর একটি ছবির খবর এলো লিলির কাছে। তার মাঝে ঘটে গেছে এক ভয়ংকর ঘটনা। সত্যজিৎ রায় সেইসময় &#8216;অপুর সংসার&#8217; করবেন ঠিক করেছেন। &#8221; একদিন ভানু ঘোষ আমাদের বাড়ি এলেন। ভানুবাবু বললেন, &#8216;আপনাকে মানিকদা, মানে সত্যজিৎ রায় একবার দেখা করতে বলেছেন।&#8217; আমি তো অবাক হয়ে ভানু ঘোষের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না! উনি চলে যাওয়ার পরও ঘোর কাটেনি আমার। তা যাইহোক, বাবার সঙ্গে একদিন <strong>সত্যজিৎ রায়ের লেক টেম্পল রোডের বাড়িতে গেলাম। ঘরে ঢুকে দেখি উনি কয়েকজন লোকের সঙ্গে কথা বলছেন। আমাদের বসতে বললেন। ওঁদের সঙ্গে কথা শেষ হওয়ার পর সত্যজিৎ রায় আমাকে বললেন, &#8216;আমি &#8216;অপুর সংসার&#8217; ছবিটা করব। তোমাকে অপর্ণার চরিত্রে কেমন লাগে, তা দেখার জন্য ডেকেছি।&#8217;</strong></p>



<p>এইসব কথার হওয়ার পর উনি আর বউদি (বিজয়া রায়) আমাকে সাজিয়ে দিলেন। সাজগোজ করতে বেশ কিছুক্ষণ লেগেছিল। সত্যজিৎ রায় আমাকে দেখে খুব খুশি। উনি বললেন, &#8216;তোমাকে দেখে নিলাম। ঠিক আছে। তবে একজনকে আমি নির্বাচন করে রেখেছি। তার একটু অসুবিধা আছে বলেছে। সে যদি না করে, তাহলে তুমি অপর্ণার রোলটা করবে। নাহলে, সেই করবে। তুমি বাদ পড়লে কিছু মনে কোরো না।&#8217; আমি বললাম, না, না, মনে করব কেন। ঠিক আছে। তারপর তো সকলেরই জানা শর্মিলা ঠাকুর করলেন। শর্মিলা না করলে আমিই হতাম &#8216;অপুর সংসার&#8217;-এর অপর্ণা। তবে পরবর্তী সময়ে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে কাজ করেছি। &#8216;জন অরণ্য&#8217; (১৯৭৫) আর &#8216;শাখা প্রশাখা&#8217;য় (১৯৯০)।&#8221;</p>



<p>এটি লিলি চক্রবর্তীর কাছে প্রথম ছবির অফার ছিল না। তার আগে ছবি তো তিনি করেছেন। আবার সেই অফিস ক্লাবের রিহার্সাল। লিলি চক্রবর্তী নাটকের মহড়া দিচ্ছেন, এমন সময় প্রবেশ ক্যামেরাম্যান অনিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনিল এবং লিলি পরস্পরের পরিচিত। তিনি লিলি চক্রবর্তীকে বললেন, &#8216;অভি ভট্টাচার্য একটা ছবি করবেন। পরিচালক পিনাকী মুখোপাধ্যায়। ওঁরা একজন নতুন মেয়ে খুঁজছেন। ওঁদের তোমার কথা বলেছি। ওঁরা বলেছেন তোমাকে একবার দেখা করতে।&#8221;</p>



<p>লিলি চক্রবর্তী গেলেন একদিন। ছবির নাম &#8216;মধ্যরাতের তারা&#8217;। &#8220;পরিচালক পিনাকী মুখোপাধ্যায় বললেন আমাকে, <strong>&#8216;তোমাকে অভিনয় করতে হবে ছবি বিশ্বাসের বড় মেয়ের ভূমিকায়। পারবে তো?&#8217; বললাম, পারব। বাড়িতে ফিরে সেই কথা সবাইকে জানালাম। সকলেরই এক কথা, &#8216;তুই কী পারবি ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে অভিনয় করতে! উনি বিশাল বড় অভিনেতা। জানিস?&#8217; আমি তো তেমনভাবে জানতাম না। তবে ভয়ও ছিল না। পরে জেনেছিলাম উনি কত বড় শিল্পী ছিলেন। প্রথমদিনের শুটিংয়ে চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যা আজও স্মরণে আছে।</strong> শুটিং করছিলাম একটি দৃশ্যের। পরিচালক বললেন, &#8216;ও কে।&#8217; কিন্তু ছবি বিশ্বাস বললেন, &#8216;না হয়নি। আরও একটা শট নাও। ছবি বিশ্বাসের ওপর কথা বলার সাহস কারওরই ছিল না। পরিচালক বললেন, &#8216;ঠিক আছে।&#8217; আমি তো ভয় পেয়ে গেছি। ভয়টা ভাঙিয়ে দিলেন ছবি বিশ্বাসই। বললেন, &#8216;লিলি তো নতুন। ও লাইট ঠিকমতো নিতে পারেনি।&#8217; তারপর উনি আমাকে বুঝিয়ে দেন কীভাবে আলো নিতে হয়, নিতে হবে। ছবি বিশ্বাসের কথামতো শট নেওয়া হল। ওঁর কথা অমান্য করার মতো কেউ ছিলেন না তখন।&#8221;</p>



<p>পরে লিলি চক্রবর্তীকে শ্যামবাজারের পেশাদারি মঞ্চে নিয়ে আসেন ছবি বিশ্বাসই। নাটকের নাম &#8216;শ্রেয়সী&#8217;। এরই মাঝে লিলি চক্রবর্তীর জীবনে আসেন এক পুরুষ। হঠাৎই বিয়ে করেন লিলি। &#8220;এক ভদ্রলোক একদিন আমাদের বাড়ি এলেন। তাঁর নাম অজিত ঘোষ। ব্যবসা করেন। তিনি ছবি করবেন। নায়িকা আমি। এইসূত্রে তিনি যাতায়াত করতেন বাড়িতে। একসময় বাড়ির সকলের সঙ্গে মিশে গেলেন। কিছুদিন পর সবাইকে চমকে দিয়ে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বাবা &#8216;না&#8217; করেননি। বললেন, &#8216;ছেলেটা ভাল। আপত্তি কোথায়?&#8217; আমাদের বিয়েটা হল, ছবিটি হল না। এই বিয়ে ছিল আমার জীবনের আশীর্বাদ। আমাকে খুবই সাহায্য করেছে সারাজীবন ধরে।&#8221;</p>



<p>আবার ফিরে আসি লিলি চক্রবর্তীর নাটকের অভিনয়জীবনে। স্টার থিয়েটারে ৩০০ টাকা মাসমাইনেতে ঢুকলেন লিলি চক্রবর্তী। পরে বেড়ে ৬০০ টাকা হয়। &#8216;শ্রেয়সী&#8217; নাটকেও লিলির বাবার ভূমিকায় ছবি বিশ্বাস। ছিলেন সব বাঘা বাঘা শিল্পী&#8212; তুলসী চক্রবর্তী, কমল মিত্র, শৈলেন মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপকুমার, সুখেন দাশ প্রমুখ। &#8220;আমাকে কেউ বুঝতেই দেননি আমি মঞ্চে একেবারেই আনকোরা। &#8216;শ্রেয়সী&#8217; করে আমার প্রচুর নাম হল। বহু ছবির অফারও পেলাম। ওঁদের জন্যই আজ আমি এখানে পৌঁছেছি।&#8221;</p>



<p>নাটক করতে করতেই সুযোগ এল পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ছবি &#8216;আহবান&#8217;-এ। এই ছবিতে ছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়। লিলি চক্রবর্তী ছিলেন দ্বিতীয় নায়িকা। এরপর পরিচালক বিভূতি চক্রবর্তীর &#8216;শেষ চিহ্ন&#8217;। &#8220;শুটিং করছিলাম নিউ থিয়েটার্স-দু&#8217;নম্বরে। এখানে তপন সিংহের অফিস ছিল। একদিন শুটিং করছি, উনি ডেকে পাঠালেন। সামান্য হলেও বিস্মিত হই। গেলাম ওঁর অফিসে।<strong> তপনদা আমাকে বসবার ইঙ্গিত দিয়ে বললেন, &#8216;আমি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের &#8216;হাঁসুলি বাঁকের উপকথা&#8217; নিয়ে ছবি করছি। আপনাকে নসুবালার চরিত্রে ভেবেছি। </strong>করবেন? আউটডোর হবে বীরভূমে। পারবেন?&#8217; তপন সিংহের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে৷ &#8216;শ্রেয়সী&#8217; তখন রীতিমতো জমে গেছে। কোনও ছুটি পাওয়া যাবে না। বীরভূমে আউটডোর ছিল প্রথম দফায় সাতদিন, পরের দফায় আরও পনেরো দিন। &#8216;শ্রেয়সী&#8217; নাটকে আমার ভূমিকায় একজনকে তৈরি করে চলে গেলাম আউটডোরে। সাতদিন বাদে ফিরে দেখি, আমাকে উকিলের চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমি চারটে শো করতে পারিনি তাই আমাকে দিতে হবে চারহাজার টাকা ক্ষতিপূরণ। এত টাকা কোথায় পাব! শরণাপন্ন হলাম ছবি বিশ্বাসের। ওঁকে ব্যাপারটা সব খুলে বলি। তারপর ছবি বিশ্বাস পুরো ব্যাপারটি সামলে ছিলেন। এরপর থেকে ছুটি নিয়ে আরও কোনওরকম ঝামেলা ছিল না। চাইলেই পাওয়া যেত।</p>



<p>আউটডোর শুটিংয়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা লিলি চক্রবর্তীর। &#8220;একবার পরিচালক বলাই সেনের &#8216;কেদার রাজা&#8217;র আউটডোর ছিল হরিদ্বার হয়ে দেবপ্রয়াগে। ওখানে গিয়ে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। শেষমেশ কোনওরকমে জায়গা পাওয়া গেল। ঠিক হল মেয়েরা ঘরে থাকবে। আর ছেলেরা ছাদে। হঠাৎ সকলের খেয়াল পড়ল ছায়া দেবী নেই।&nbsp; তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই দুশ্চিন্তায়। চারিদিকে খোঁজাখুঁজি চলছে ছায়া দেবীর! হঠাৎই আবিষ্কার করা গেল তাঁকে। দেখা গেল, উনি স্থানীয় একজনকে ম্যানেজ করে তাঁর বাড়ি থেকে গেছেন।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="510" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/deya-neya-lily-1024x510.jpg" alt="" class="wp-image-6662" style="aspect-ratio:2.007843137254902;width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/deya-neya-lily-1024x510.jpg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/deya-neya-lily-300x149.jpg 300w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/deya-neya-lily-scaled.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/deya-neya-lily-1536x765.jpg 1536w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি -&#8216;দেয়া নেয়া&#8217; </figcaption></figure>



<p><strong>একদিন &#8216;কেদার রাজা&#8217;র শুটিং করছিলাম টেকনিশিয়ান দুইয়ে। ঠিক আমাদের পাশের ফ্লোরে শুটিং করছিলেন উত্তমকুমার। হঠাৎই দুজনেই মুখোমুখি। উত্তমদা বললেন, &#8216;কোন দোকানের চাল খাও বউঠান? এখনও চেহারাটা একইরকম রেখেছ!&#8217;</strong> &#8216;দেয়ানেয়া&#8217;র সময় থেকে আমাকে বউঠান বলে ডাকতেন উত্তমদা। &#8216;দেয়ানেয়া&#8217; আর &#8216;কেদার রাজা&#8217;র মাঝে চার বছর কেটে গেছে। এই &#8216;দেয়ানেয়া&#8217;র সেটেরই ঘটনা। আমি, বুড়োদা (তরুণকুমার) আর উত্তমদা বসে বসে মুড়ি খাব, এই দৃশ্যটির শুটিং হবে।</p>



<p>আমরা বসে বসে গল্প করছি। কখন যে আমরা ছবির দৃশ্যে ঢুকে পড়েছি বুঝতে পারিনি! খেয়াল হতেই উত্তমদাকে বললাম, আমরা কি রিহার্সাল দিচ্ছি। উত্তমদা বললেন, &#8216;হ্যাঁ&#8217;, বউঠান। এইভাবে ন্যাচারাল অভিনয় করতে হবে। তা হলেই ভাল লাগবে।&#8217; উনি কাজ ছাড়া অন্যকিছুই ভাবতে পারতেন না। অভিনয়ের প্রতি ওইরকম ভালবাসা আর নিবেদিত প্রাণ কারওর মধ্যে দেখিনি।</p>



<p>শুটিং করতে করতে মজাও করতেন উত্তমদা। একটা মজার ঘটনা ঘটে পরিচালক পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের&nbsp;<strong> &#8216;ভোলা ময়রা&#8217;র সেটে। উত্তমদার সঙ্গে আমার একটা অন্তরঙ্গ দৃশ্য ছিল। উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। সেটের মধ্যেই উত্তমদা বিড়বিড় করে বলছেন, &#8216;সারা জীবন এইভাবে অভিনয় করিনি। এবার কী হয়।&#8217; আমি ছাড়া আর কেউ শুনতে পাচ্ছে না। আমাকে চেপে ধরলেন। আমি বললাম, বেণুদি কিন্তু বসে আছেন। বলে দেব।</strong> উত্তমদা বললেন, &#8216;থাকুক বেণু। এবার কী করো দেখি।&#8217; আমি বেণুদিকে বললাম, দেখছ তো বেণুদি উত্তমদা কেমন করছেন। বেণুদি জানতেন, উত্তমদা ওরকম মজা করেন। তখন কাজ করে মজা ছিল অনেক বেশি।&#8221;</p>



<p>ষাটের দশক ছিল লিলি চক্রবর্তীর অভিনয়জীবনের উত্তরণ, আর সত্তরের দশক সোনার দশক। সত্তরের দশকে তিনি বাংলা ছবির গণ্ডি টালিগঞ্জ ছাড়িয়ে মলয়ালম ছবির জন্য চেন্নাই, হিন্দি ছবির জন্য মুম্বই যাত্রাও করেন। চেন্নাইয়ে আরও ছবি করার অফার থাকলেও তাঁকে চলে আসতে হয় পারিবারিক কারণ। কলকাতা ফিরে আবার সিনেমার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট, প্রথম বসন্ত, মহাকবি কৃত্তিবাস, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ইত্যাদি ছবি করেন। এ-থেকে বোঝা যায়, লিলি চক্রবর্তীর বরাবরই একটা জায়গা ছিল বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।<strong> &#8216;ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট&#8217; ছবিটি করার সময় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভীষণ ভাল একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে লিলির। সে-কথা নিজেই বলেছেন লিলি চক্রবর্তী। &#8220;এই ছবিটি করতে করতে দারুণ একটা সম্পর্ক গড়ে উঠল ভানুদার সঙ্গে।</strong> যদিও এর আগে ভানুদার সঙ্গে ছবি করেছিলাম। আমাকে উনি খুবই ভালবাসতেন। শেষে সম্পর্কটা খুব সুন্দর একটা জায়গায় দাঁড়ায়। আমার সঙ্গে দেখা হলেই গাল বাড়িয়ে দিতেন। তার অর্থ একটা চুমু দিতে হবে। তাঁর গালে হালকা করে একটা চুমু দিতে হত। কী সুন্দর দিনগুলো ছিল! মানুষগুলোও ছিলেন ঠিক তেমনই!&#8221;</p>



<p>অশান্ত সত্তরের দশক। টালিগঞ্জে কাজ কমল। লিলি চক্রবর্তী পাড়ি দিলেন মুম্বই। হিন্দি ছবির সাম্রাজ্যে। এর আগেও বার কয়েক ঘুরে এসেছিলেন। প্রথমবার ১৯৬৫। ছবি &#8216;অগ্নিসংস্কার&#8217;-এর রিমেক &#8216;আনহোনি&#8217;। এই ছবির বিপরীতে ছিলেন দাদামণি অশোককুমার আর প্রদীপকুমার। দিন সাত শুটিংয়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। ছবিটি শেষ আর হল না। করলেন পৌরাণিক ছবি &#8216;সম্পূর্ণ বিষ্ণু পুরাণ&#8217;।</p>



<p>সত্তরের দশকে টালিগঞ্জে কাজ কমলে লিলি চক্রবর্তী মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেন। ফ্ল্যাট নিলেন জুহুর আনন্দনগরে। সঙ্গে স্বামী অজিত ঘোষ। ফ্ল্যাটের উল্টো দিকে অজন্তা প্যালেস হোটেল। <strong>ওই হোটেলে এসে উঠলেন পরিচালক তরুণ মজুমদার। তিনি একদিন ডাকলেন লিলি চক্রবর্তীকে। বললেন, &#8216;আমি &#8216;ফুলেশ্বরী&#8217; করছি তোমাকে একটা চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। চলে এসো। মুকুল দত্তও আসবেন। উনি গান লিখবেন। তোমাকে আর ওঁকে একসঙ্গে চিত্রনাট্যও পড়িয়ে দেব।&#8217;</strong></p>



<p>&#8220;চলে গেলাম। মুকুল দত্তের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন তনুদা। মুকুল দত্ত বললেন, &#8216;আপনি এখানে এসেছেন বলেননি!&#8217; আমি অবাক! কাকে বলব! আমি তো এখানে কাউকে চিনি না। মুকুল দত্ত বললেন, &#8216;ঠিক আছে। আপনাকে আমি খবর দিয়ে দেব।&#8217; এরপর কেটে গেল দিন তিন-চার। সপ্তাহখানেক পর মুকুলদা গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন বাড়িতে। উনি থাকতেন খার-এ। মুকুলদার স্ত্রী চাঁদ উসমানি। তিনিই দরজা খুললেন। উনি হিন্দি ছবির নামী অভিনেত্রী। পঞ্চাশের দশক থেকে হিন্দি ছবিতে কাজ করছেন। মুকুলদা বললেন, &#8216;এসো, ভিতরে এসো। দ্যাখো, গুলজার একটি নতুন মেয়ে খুঁজছেন। তুমি করবে?&#8217; আমার তো না-করার কিছু নেই। হিন্দি ছবিতে কাজ করব বলেই তো মুম্বই এসেছি। এরপর সঙ্গেসঙ্গে ফোন করলেন গুলজারজিকে।</p>



<p>গুলজারজি কিছুক্ষণ পর গাড়ি পাঠিয়ে দেন। আমরা গেলাম গুলজারজির বাড়ি। একটা ঘরে বসলাম। ঘরে&nbsp; ঢালাও বিছানা পাতা। একটু পর গুলজারজি ঘরে ঢুকলেন। বললেন, &#8216;দেয়ানেয়া&#8217; দেখেছি। ভাল লেগেছে। আপনার ছবি আছে?&#8217; উনি পরিষ্কার বাংলায় কথা বলছিলেন। ওঠার সময় বললেন, &#8216;আপনার হিন্দি কেমন আসে, সেটাই তো জানা হল না!&#8217; এরপর কিছুটা হিন্দিতে কথা হল। হাসতে হাসতে উনি বললেন, &#8216;আরে আপনি তো জয়াজির (বচ্চন) মতো হিন্দি বলেন!&#8217; বললাম, আমিও তো জয়াজির মতো মধ্যপ্রদেশে বড় হয়েছি।&#8221;</p>



<p>এর দিন পনেরো পর গুলজারের লোক এসে লিলি চক্রবর্তীর ব্লাউজের মাপ, শাড়ি পছন্দ করতে আসেন।লিলি চক্রবর্তী বললেন, &#8220;কি শাড়ি পরব না-পরব, সে তো পরিচালক বলবেন, ঠিক করবেন। যাইহোক, ছবির শুটিং শুরু হল। ছবির নাম &#8216;অচানক&#8217;। নায়ক বিনোদ খান্না। উনি আমাকে খুব সাহায্য করেন। গুলজারজির কথা তো একেবারেই ভিন্ন। ওঁর মতো পরিচালক, ভদ্রলোক খুব কম আছে। আমার কখনওই মনে হয়নি আমি নতুন। কিংবা বলা ভাল আমাকে ওঁরা মনে করতে দেননি! একটা অদ্ভুত ব্যাপার হল, আমার সঙ্গে কোনও চুক্তিই হয়নি, তাই টাকাও পাইনি! কাউকে কিছু বলতেও পারিনি!&#8221;</p>



<p>একদিন দাদারে রূপতারা স্টুডিয়োতে শুটিং করছেন লিলি চক্রবর্তী। সেইসময় একজন বললেন, &#8216;ম্যাডাম, আপনাকে সিপ্পিস্যর ডাকছেন। <strong>&#8220;দেখি, ঢাউস একটা গাড়িতে সিপ্পিজি এসেছেন। হাসতে হাসতে বললেন, &#8216;কি লিলি, তোমার টাকাপয়সার দরকার নেই? ছবি করলে টাকা নিলে না! কত দিতে হবে?&#8217; আমি কী বলব! আপনি যা দেবেন, নেব। সিপ্পিজি বললেন, &#8216;তুমি খুব বুদ্ধিমতী। আমার দিকে বলটা ঠেলে দিলে। ঠিক আছে।&#8217; আমার চেকটা উনি লিখেই এনেছিলেন। আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, &#8216;ঠিক আছে তো?&#8217; চেকের অঙ্ক দেখে মনে মনে বলি, ভাবতেই পারিনি এত টাকা পাব। </strong>বাংলা ছবিতে তো এত টাকা জীবনে চোখেই দেখিনি!</p>



<p><strong>এরপর যে-কথাটি বললেন সিপ্পিজি তার জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুতি ছিল না আমার। বললেন, &#8216;বাঙালি খানা বানাতে পারো?&#8217; বললাম, সব বাঙালি মেয়েই রান্না করতে পারে। &#8216;তাহলে তুমি একদিন আমাদের বাড়িতে এসো। আমার স্ত্রীর বাঙালি খাবার খুব পছন্দ, ভালওবাসে। বিশেষ করে, ইলিশ মাছ।&#8217; দেওয়ালির দিন সিপ্পিজি আমার বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে দেন। ওঁর বাড়িতে গিয়ে দেখি বিশাল সাইজের একটা ইলিশ আর ইয়া বড় বড় গলদা চিংড়ি কিনে রেখেছেন। ইলিশ পাতুরি আর গলদা চিংড়ির মালাইকারি বানালাম। বাড়ির সবাই চেটেপুটে খেলেন। সিপ্পিজির স্ত্রী বেজায় খুশি। </strong>বাড়ি ফেরার সময় আমার হাতে উপহার তুলে দেন মিষ্টি আর অত্যন্ত একটা দামি শাড়ি। আমি মজা করে বললাম, এগুলো কি রান্নার জন্য। সিপ্পিজি আর ভাবিজি ভীষণ লজ্জা পেলেন। বললেন, &#8216;আমার বাড়িতে আমার মেয়ে এসেছে তাকে কী খালি হাতে ফেরানো যায় না ফেরাতে আছে।&#8217; সত্যিই এরপর ওঁদের বাড়ির মেয়ে হয়ে উঠি।</p>



<p>পরে এর ফল পাই। ফ্ল্যাট নিয়ে বাড়িওয়ালার সঙ্গে গণ্ডগোল হচ্ছিল। তাই আমি আগে থেকেই দু&#8217;কামরার একটা ফ্ল্যাট দেখে রেখেছিলাম জুহুতেই সুজাতা অ্যাপার্টমেন্টে। দাম ৩৫০০০ হাজার টাকা। সেইসময় এটা অনেকটাই। পাব কোথায়! একদিন কপাল ঠুকে সিপ্পিজিকে ফোন করলাম। পুরো ঘটনাটা জানিয়ে বলি, যদি টাকাটা ধার দিতেন। সঙ্গেসঙ্গে উনি বললেন, &#8216;ধার কি বলছ! তুমি টাকাটা নিয়ে যাও। আমার পরের ছবি &#8216;চুপকে চুপকে&#8217;-তে কাজ করবে তার অগ্রিম দিলাম।&#8217; এমনটা আমার কাছে ছিল কল্পনাতীত!</p>



<p>ফ্ল্যাট কিনলাম। শুরু হল &#8216;ফুলেশ্বরী&#8217;র কাজ। তখন প্রায় নিত্যযাত্রী ছিলাম মুম্বই-কলকাতা, কলকাতা-মুম্বইয়ের। &#8216;ফুলেশ্বরী&#8217; ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল, হয়েছিল দর্শক-ধন্য। লিলি চক্রবর্তীর অভিনয়ের প্রচণ্ড সুখ্যাতি হয়। &#8220;তনুদা বলেছিলেন, &#8216;তোর পুরস্কার কেউ আটকাতে পারবে না। এর আগেও &#8216;হাঁসুলি বাঁকের উপকথা&#8217; আর &#8216;কাচ কাটা হিরে&#8217; ছবিতেও অভিনয়ের প্রশংসা হয়। শুনেছিলাম পুরস্কার পাওয়ার কথা। না, পাইনি।&#8221;</p>



<p>হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের &#8216;চুপকে চুপকে&#8217; ছবি করেও বিস্তর খ্যাতি হয় লিলি চক্রবর্তীর। &#8216;আলাপ&#8217; করেও। &#8216;আলাপ&#8217;-এ ছবির অনেকটা অংশ জুড়েই ছিলেন অমিতাভ বচ্চন-লিলি চক্রবর্তী। এবং ছবি শেষ হওয়ার পর হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন লিলি চক্রবর্তীকে, &#8216;আলাপ&#8217; রিলিজ হলে দেখবে তোমার বাড়ির সামনে লাইন লেগে যাবে।&#8217; পরিচালকের এই ভবিষ্যদ্বাণী খুব একটা ভুল ছিল না লিলি চক্রবর্তীর অভিনয়জীবনে। &#8216;আলাপ&#8217; করতে করতেই কলকাতা এসে করেছিলেন পরিচালক পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের &#8216;ভোলা ময়রা&#8217;। এই ছবিটি করার জন্য বিশেষ অনুরোধ ছিল &#8216;উত্তমকুমারের।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="591" height="259" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Chupke-chupke-1.png" alt="" class="wp-image-6665" style="aspect-ratio:2.281853281853282;width:458px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Chupke-chupke-1.png 591w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Chupke-chupke-1-300x131.png 300w" sizes="(max-width: 591px) 100vw, 591px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- &#8216;চুপকে চুপকে&#8217;</figcaption></figure>



<p><strong>&#8220;আলাপ&#8217; করার বছর দুই আগে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে করি &#8216;চুপকে চুপকে&#8217;। তা &#8216;আলাপ&#8217;-এর প্রথম দিন হৃষীদা বললেন, &#8216;তোমার মেক-আপ হয়ে গেলে আমাকে একবার দেখিয়ে নিয়ো।&#8217; তা আমি হৃষীদাকে মেক-আপ দেখাতে যাচ্ছি, দেখি হৃষীদা একজনের সঙ্গে বসে দাবা খেলছেন। আর অমিতাভ বচ্চন দাঁড়িয়ে কোনও একজনের সঙ্গে কথা বলছেন। আমি ভাবলাম, &#8216;চুপকে চুপকে&#8217; করেছি দু&#8217; বছর হয়ে গেল উনি কী আর চিনতে পারবেন! তা আমি পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি। অমিতাভ বচ্চন আওয়াজ দিলেন, &#8216;কী লিলিজি একসঙ্গে ছবি করলাম, ক&#8217;দিন টানা শুটিংও করলাম, আর এখন পাত্তা না দিয়ে কথা না বলে চলে যাচ্ছেন! না হয়, আপনি ভাল অভিনেত্রী, তা বলে কী কথা বলতে নেই! এমনকী &#8216;হ্যালো&#8217;ও বলতে নেই!&#8217;</strong> আমি ভাবতেও পারিনি অমিতাভ বচ্চনের মতো অতবড় একজন অভিনেতা এমনভাবে বলবেন! আমি লজ্জায় কোনওরকমে বলি, আমি দেখলাম আপনি একজনের সঙ্গে কথা বলছেন তাই আর&#8230;। আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অমিতাভ বললেন, &#8216;তাতে কী হয়েছে! একটু কি কথা বলতে পারতাম না।&#8217; এরপর খুব ভাল সম্পর্ক হয়ে গেল। ওঁর সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা খুব ভাল। মুম্বাইয়ের সকলেই ভীষণই প্রোফেশনাল। কাজের বাইরে কেউই খুব বেশি কথা বলেন না। তবে, অমিতাভ বচ্চন সেটে খুবই সাহায্য করেন সহশিল্পীদের। আমাকেও করেছেন। তাছাড়া ভীষণই ভদ্র।&#8221;</p>



<p>একদিন শুটিং করে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে ফিরেছেন লিলি। দ্যাখেন তাঁর টেবিলে দু&#8217;টি চিঠি। একটি বাড়ির, অন্যটি সত্যজিৎ রায়ের।<strong> &#8220;প্রথমে সত্যজিৎ রায়ের চিঠি খুললাম। উনি লিখেছেন, &#8216;আমি তোমার &#8216;ফুলেশ্বরী&#8217; দেখেছি। খুব ভাল লেগেছে। আমি শঙ্করের &#8216;জন অরণ্য&#8217; নিয়ে ছবি করব। কমলা বউদির চরিত্রটা তুমি করবে। </strong>ওখানকার অ্যাসাইনমেন্ট কী আছে আমাকে জানাও&#8217;। আমার সারা শরীরে শিহরন খেলে গেল! বাসু ভট্টাচার্যকে ফোন করে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ির ঠিকানা নিলাম। আমি তাঁকে চিঠিতে লিখলাম, আমার যত কাজই থাকুক আপনার ছবি করছিই।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="295" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Jana-Aranya-thr.jpg" alt="" class="wp-image-6666" style="aspect-ratio:1.3559322033898304;width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Jana-Aranya-thr.jpg 400w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Jana-Aranya-thr-300x221.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- &#8216;জন অরণ্য&#8217; </figcaption></figure>



<p>সত্যজিৎ রায়ের প্রোডাকশন থেকে ফ্লাইটের দুটো টিকিট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে ফোন করেছিলাম&nbsp; অনিল চৌধুরী এসে আমাকে বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।&#8221;</p>



<p>মুম্বই ছেড়ে আবার কলকাতা ফেরা। এবার যত না ছবি করার অফার এলো, তার চেয়ে বেশি এলো নাটকের। তার কারণ, &#8220;কলকাতা আসতেই জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, বীরু মুখোপাধ্যায়, হরিদাস সান্যালেরা বললেন, &#8216;তুমি কলকাতা থেকে যাও। নাটক করো। ভাল নাটক হলে, হিট হলে বহু পরিবার বেঁচে যাবে।&#8217; একসময় নাটকই তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। নাটকের পোকা বহুদিন ধরেই ছিল আমার মাথায়। মাধবীদি (মুখোপাধ্যায়) তখন কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের &#8216;না&#8217; করছিলেন। তিনি শারীরিক কারণে ছুটি নেওয়াতে ওঁর চরিত্রটা আমি করেছিলাম। তারপর আবার মুম্বই ফিরে যাব যাব ভাবছি, ঠিক সেইসময় জহর রায় এসে বললেন, &#8216;রঙমহল&#8217;-এ আমি &#8216;অপরিচিত&#8217; করছি, করবে?&#8217; করলাম। এমন সময় একদিন মুম্বই থেকে সিপ্পিজি ফোন করলেন একদিন, &#8216;আমার ছেলে রাজ প্রথম ছবি করছে &#8216;ইনকার&#8217;। করবে?&#8217; করলাম &#8216;ইনকার&#8217;। আমি অভিনয় করেছিলাম শ্রীরাম লাগুর স্ত্রীর ভূমিকায়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="262" height="192" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/inkaar-lily.jpg" alt="" class="wp-image-6667"/><figcaption class="wp-element-caption">ছবি- &#8216;ইনকার&#8217;</figcaption></figure>



<p>সিপ্পিদের ছবি করে আবার কলকাতা ফিরলেন লিলি। &#8221; এবারের নাটক &#8216;রাজদ্রোহী&#8217;। এবার বুঝতে পারছি বয়স হচ্ছে, মোটা হচ্ছি। ছবির কাজ কমতির দিকে, নাটকের কাজ আসছে। এরই মধ্যে ছবি করলাম উত্তমদার সঙ্গে &#8216;দুই পুরুষ&#8217;। প্রভাত রায়ের প্রথম ছবি &#8216;প্রতিদান&#8217;ও করি। নাটক আর ছবির কাজ একইসঙ্গে চলছে। &#8216;সুখের ঠিকানা&#8217; নাটকটি করছিলাম তখন। সেদিন ছিল ১৫ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবস। ছুটির দিন নাটকের থাকত ডাবল শো। রাত তখন দশটা, ফোনটা বেজে বেজে কেটে গেল। আবার এলো। ফোন তুলতেই উল্টো দিক থেকে একজন বললেন, &#8216;নির্মাল্য আচার্য বলছি। আপনার সঙ্গে মানিকবাবু কথা বলবেন।&#8217; আমি তো রীতিমতো অবাক! এত রাতে সত্যজিৎ রায়ের ফোন! ভেসে এলো সত্যজিৎ রায়ের সেই ভারী কণ্ঠ, &#8216;লিলি, অনেকদিন তোমাকে দেখিনি। তোমাকে একটু দেখতে চাই। কবে আসবে?&#8217;</p>



<p>তারপর একদিন ছেঁড়া তার-এ নাটকের রিহার্সাল শেষে চলে গেলাম বিশপ লেফ্রয় রোডে সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি। দরজা খুলে দিয়ে বললেন, &#8216;আরে, এসো এসো। ঘরে এসে বসলাম। সেদিন তিনি একাই ছিলেন ঘরে। &#8216;তুমি নাকি মোটা হয়ে গেছ?&#8217; বললাম, কতদিন পর দেখছেন বলুন তো। সেই &#8216;জন অরণ্য&#8217;র সময়। তারপর পনেরোটা বছর কেটে গেছে। মানিকদা বললেন, &#8216;হা ভগবান, সময়টা কেমন কেটে যায়! তুমি একটু বোসো। বউদি তোমাকে দেখবে। বাবু &#8216;গুপী বাঘা ফিরে এলো&#8217; করছে, সেখানে গেছে। তুমি একটু রোগা হতে পারবে? ছবি শুরু হতে এখনও চার মাস বাকি আছে। পারবে না?&#8217; আমি কিছু বলার আগেই উনি বললেন, &#8216;চা খাবে?&#8217; বলেই নিজে চলে গেলেন বাড়ির ভিতরে। কাজের লোককে চা নিয়ে আসার কথা বলতে। কিছুক্ষণ পর বউদি (বিজয়া রায়) এলেন। বসলেন। বললেন, &#8216;সেদিন টিভিতে &#8216;গোরা&#8217; দেখছিলাম একটু মোটা লাগছিল৷ আজকে তো দেখছি ঠিকই আছ।&#8217; মানিকদা বললেন, &#8216;এরকম থাকলেও চলবে। তবুও দেখো যদি একটু রোগা হতে পারো। আচ্ছা, তোমার নিটিং আসে। মানে, সোয়েটার বুনতে পারো?&#8217; আমি খুব ভাল পারি না। তবে জানি। তাই ঘাড় নেড়ে দিয়েছিলাম। বেরোবো বলে উঠলাম। উনিও এলেন। দরজা খুলে দিলেন। বললেন, &#8216;এক দিন অচানক&#8217;-এ তোমাকে মোটা লাগল। এখন তো মোটা লাগছে না। ঠিক আছে এরকম থাকলেও চলবে। আর একদিন এসো।&#8217; এরপর অনেককিছু খাওয়া ছাড়লাম রোগা হওয়ার জন্য। শুটিং শুরু হল &#8216;শাখা প্রশাখা&#8217;র। উত্তরবঙ্গের সুকনার জঙ্গলে টানা পঁচিশ দিনের শুটিং। মানিকদার এতদিন আউটডোরে কাজ করা আমার সারা অভিনয়জীবনের একটা অভিজ্ঞতা।</p>



<p><strong>ছবির চেয়ে নাটকের কাজ বাড়ল লিলি চক্রবর্তীর। &#8216;বিলকিস বেগম&#8217; দারুণ জনপ্রিয় হল। হাজারেরও রজনী পার হল নাটকের। আরও কত নাটক&#8212; নাম জীবন, খোকা গুন্ডা, মানিকচাঁদ, বৈশাখী ঝড়, ন্যায়মূর্তি ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সিরিয়ালেও। এখনও নিয়মিত সিরিয়াল করে চলেছেন লিলি চক্রবর্তী। এইসময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক &#8216;নিম ফুলের মধু&#8217;র দত্ত পরিবারের কর্ত্রীর&nbsp; ভূমিকায় লিলিকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। লিলি চক্রবর্তীর প্রথম ধারাবাহিক &#8216;হালকা হাসি চোখের জল&#8217;। </strong>তিনি মনে করেন ধারাবাহিকে তাঁর সেরা চরিত্র এবং অভিনয় &#8220;একক দশক শতক&#8217;-এর পদ্মরানি। রেড লাইট এলাকার এক মাসির ভূমিকা। ছিল পদ্মরানিকে বিড়ি খেতে হবে। খেয়েছিলাম চরিত্রের প্রয়োজনে। যদিও আমি সিগারেট-বিড়ির গন্ধ সহ্য করতে পারি না। মনপ্রাণ ঢেলে কাজ করেছিলাম। এরকম চরিত্র ছবিতেও করিনি। কেউ আমাকে দেয়ওনি পদ্মরানির মতো চরিত্র।&#8221;</p>



<p>টলিউড, বলিউড মিলিয়ে কয়েক শো ছবিতে কাজ করেছেন লিলি চক্রবর্তী। বেশকিছু ছবিতে নায়িকাও ছিলেন। তিনি অসম্ভব জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এখনও তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট। লিলির অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য সিনেমাপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। মুম্বইতে হিন্দি ছবির জগতেও পরিচালক-সহ সিনেমার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের কাছেই তাঁর অভিনয় এবং সৌন্দর্যের খ্যাতি ছিল। সকলেই তাঁকে পছন্দ করতেন। বাংলা ছবিতে প্রথম সারির একাধিক নায়িকার থেকেও তিনি ছিলেন সুন্দরী, তারিফ হয়েছিল তাঁর অভিনয় দক্ষতার। তবুও লিলি চক্রবর্তী নায়িকাদের সেই জায়গাটা পাননি। তবে অভিনয় ক্ষমতা, দক্ষতা কথা কেউই অস্বীকার করেন না&nbsp; সিনেমার লোকজন তো বটেই, দর্শকেরাও খুবই পছন্দ করেন লিলি চক্রবর্তীকে। আজও তিনি দর্শকের চোখে&nbsp; ভাল অভিনেত্রী।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="498" height="290" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Lily-Chakrabarty-1.jpg" alt="" class="wp-image-6669" style="aspect-ratio:1.717241379310345;width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Lily-Chakrabarty-1.jpg 498w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2023/10/Lily-Chakrabarty-1-300x175.jpg 300w" sizes="(max-width: 498px) 100vw, 498px" /></figure>



<p>নায়িকা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিজেকে গ্রুম করতে হয়। গ্ল্যামারাস করে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে হয়। মনে হয়, সেসব দিকে কোনওদিনই মন দেননি। শুধু অভিনয়ই করে গেছেন।<strong> &#8220;আমি তো নায়িকা হতে চাইনি, চেয়েছিলাম অভিনেত্রী হতে, হয়েছি। দর্শকদের খুশি করেছি। তাঁরা আনন্দ পেয়েছেন আমার অভিনয়ে, আজও পান। আমার একান্ত ইচ্ছা, আমি চাই যেদিন মারা যাব সেদিনও যেন অভিনয় করে বাড়ি ফিরি। সবচেয়ে বড় পুণ্যের কাজ হবে, যদি অভিনয় করতে করতে মারা যাই।&#8221;</strong></p>



<p>বিরাশি বছরেরও বেশি বয়সেও লিলি চক্রবর্তী ভীষণভাবে আধুনিক। তাই <strong>ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও দেখা গেছে লিলি চক্রবর্তীকে। &#8216;কন্যাকুমারী&#8217; এবং প্রদীপ সরকারের &#8216;অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ&#8217;-এ।</strong> দু&#8217;টি ছবিও কয়েক মাস আগে মুক্তি পায় একটি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের &#8216;অর্ধাঙ্গিনী&#8217; আর মৈনাক ভৌমিকের &#8216;চিনি টু&#8217;। আরও কয়েকটি আছে মুক্তির অপেক্ষায়। কথা চলছে কয়েকটি নতুন ছবির। ৮২ বছরেরও বেশি বয়সে এখনও সচল লিলি চক্রবর্তী। সিনেমা, সিরিয়াল সবরকম মাধ্যমেই তিনি সমানভাবে, সমানতালে সক্রিয়। তাই প্রায় প্রতিদিনই উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটে চলেছেন লিলি চক্রবর্তী।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/exclusive-biographical-interview-of-lily-chakraborty/">নায়িকা নয় ,অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম: লিলি চক্রবর্তী</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/exclusive-biographical-interview-of-lily-chakraborty/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
