<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Poyla Baishakh -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/tag/poyla-baishakh/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Thu, 17 Apr 2025 07:06:34 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Poyla Baishakh -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>শ্যাম সুন্দর জুয়েলার্সের পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া অফার</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/shyam-sundar-co-jewellers-poyla-baishkah-akshay-tritiya-offer/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/shyam-sundar-co-jewellers-poyla-baishkah-akshay-tritiya-offer/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 17 Apr 2025 07:06:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Fashion]]></category>
		<category><![CDATA[Goynagati]]></category>
		<category><![CDATA[Most Popular]]></category>
		<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>
		<category><![CDATA[akshay tritiya jewellery offer]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[Shyam Sundar Co Jewellers]]></category>
		<category><![CDATA[shyam sundar jewellers]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=8670</guid>

					<description><![CDATA[<p>প্রখ্যাত গয়না নির্মাতা শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স প্রতিবছরের মতন এবারেও নিবেদন করছেন নববর্ষের অফার। ১৫ এপ্রিল</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/shyam-sundar-co-jewellers-poyla-baishkah-akshay-tritiya-offer/">শ্যাম সুন্দর জুয়েলার্সের পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া অফার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রখ্যাত গয়না নির্মাতা শ্যামসুন্দর কোং জুয়েলার্স প্রতিবছরের মতন এবারেও নিবেদন করছেন নববর্ষের অফার। ১৫ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সে উদযাপিত হচ্ছে শুভ পয়লা বৈশাখ ও শুভ অক্ষয় তৃতীয়া অফার।</p>



<p>পৌরাণিক মতে অক্ষয় তৃতীয়া দিনটিকে অত্যন্ত শুভ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই দিনটি পালিত হয়। শাস্ত্র মতে, অক্ষয় তৃতীয়া সুখ প্রদানকারী এবং পাপনাশকারী তিথি। এটি অফুরন্ত সুখ ও সমৃদ্ধির তৃতীয় দিন। মহাভারত অনুসারে, এই দিনে যখন পাণ্ডবরা বনবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীর হাতে অক্ষয় পাত্র তুলে দিয়েছিলেন। এই অক্ষয় পাত্র কখনও খালি হত না। তা সবসময়ই খাবারে পব়িপূর্ণ হয়ে যেত। কিংবদন্তি অনুসারে, এই দিনেই মুনি বেদব্যাস গণেশকে মহাভারত বলতে শুরু করেন আর সেই শুনে গণেশ মহাভারত মহাকাব্য লিখতে শুরু করেন। শোনা যায়, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই রাজা ভগীরথের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে গঙ্গা মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন। আবার এই দিনেই মা অন্নপূর্ণারও জন্ম হয়। এমনকী অক্ষয় তৃতীয়ায় কুবেরের লক্ষ্মীলাভ হওয়ায় এদিন বৈভব ও লক্ষ্মীর পুজো করা হয়। এই সবকিছুই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সেই অনুযায়ী এই দিনটি অত্যন্ত শুভ। অক্ষয় তৃতীয়ায় দেবী লক্ষ্মীর পুজোরও বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই এই দিনে সোনা, রূপা বা কোনও মূল্যবান গয়না কেনাও শুভ বলেই ধরা হয়।</p>



<p>প্রতিবছরের মতো এবারও শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সে শুভ অক্ষয় তৃতীয়া উদযাপন হচ্ছে। এই সময় সমস্ত গ্রাহকদের জন্য থাকছে বিশেষ অফার, সঙ্গে সোনা ও হিরের নতুনত্ব ও অভিনব সম্ভার থেকে নিজেদের পছন্দসই গয়না কিনে এই উৎসব উদযাপনের সুযোগ।</p>



<p>শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সে শুভ অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে যেসকল অফার রয়েছে:</p>



<p>প্রতি কেনাকেটার সঙ্গে নিশ্চিত উপহার</p>



<p>সোনার গয়নায় প্রতি গ্রামে ₹৪১০ ছাড়।</p>



<p>হিরের গয়নার মজুরিতে ১০০% ছাড়।</p>



<p>এছাড়া</p>



<p>মেগা ড্রতে ৩টি স্কুটি।</p>



<p>সব মিলিয়ে অক্ষয় তৃতীয়ায় গ্রাহকদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় উপহারের ডালি সাজিয়ে রাখছে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স। এছাড়া সোনায় সোহাগা (সোনা ও হিরের গয়না কেনাকাটার জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট স্কিম) ও পুরোনো সোনার গয়না দিয়ে নতুন গয়না কেনার সুযোগও থাকছে।</p>



<p>শুভ অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে, প্রেস প্রিভিউ-তে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী- ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ও সংস্থার ডিরেক্টর অর্পিতা এবং রূপক সাহা।</p>



<p>এই প্রতিষ্ঠানের অক্ষয় তৃতীয়া স্পেশাল সোনা ও হিরের গয়না&nbsp; আজ সবার সামনে তুলে ধরা হয়।</p>



<p>ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন ,”শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স সবসময় আমার নিজস্ব স্টোর । আমার এবং আমার মায়ের অধিকাংশ জুয়েলারি এখান থেকেই নেওয়া l আমার মায়ের ট্র্যাডিশনাল জুয়েলারি সাথে শক্তিরূপেনী কালেকশন খুব পছন্দ ছিলো, আর আমার সব সময়ের পছন্দের হলো শ্যাম সুন্দরের নিজের তৈরি এক্সক্লুসিভ আদি-কৃতি, বিষ্ণুপুর এবং সমুদ্র কালেকশন” ।</p>



<p>শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের সমস্ত গ্রাহক বন্ধুদের শুভ নববর্ষ ও অক্ষয় তৃতীয়ার অনেক শুভেচ্ছা জানান প্রখ্যাত অভিনেতা ইন্দ্রনীল, এবং সেই সঙ্গে এই উৎসবকে আরও উজ্জ্বল ও আনন্দময় করারও কামনা করেন ।</p>



<p>শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর ডিরেক্টর রূপক সাহা বলেন-&nbsp; “প্রকৃতির অক্ষয় সম্পদে আমরা সবাই ধনী। অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্য দিনে সবাই মিলে চাইবো আমাদের প্রকৃতি সহ সব সম্পদ অক্ষয় থাকুক। তাহলেই আমাদের জীবনে সত্যিকারের সমৃদ্ধি ও শান্তি আসবে।”</p>



<p>&nbsp;&#8221;আমরা সবাই জানি, সোনা খুবই শুভ ধাতু । তাই এরকম শুভ দিনে সোনা কিনে তার উজ্জ্বল ছটা আমাদের জীবনে, পরিবারে পব়িপূর্ণ করতে সকলেই চাই। এতে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি আসে। এবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় হিরে ও সোনার নতুন নতুন কালেকশনে আমাদের শোরুম ঝলঝল করছে। এছাড়া প্রতিবছরের মতো প্রচুর উপহার ও অফারও থাকছে।&#8217; -জানালেন শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর আরেক ডিরেক্টর অর্পিতা সাহা।</p>



<p>শুভ অক্ষয় তৃতীয়া অফারটি ১৫ এপ্রিল থেকে ৩ মে&nbsp; পর্যন্ত শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের কলকাতার (গড়িয়াহাট, বেহালা ও বারাসত) এবং ২২ এপ্রিল থেকে ৩ মে ত্রিপুরার (আগরতলা, ধর্মনগর ও উদয়পুর) সব কটি শোরুমেই চলবে। সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এই সময় সব শোরুমই পূর্ণ দিবস খোলা থাকবে।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/shyam-sundar-co-jewellers-poyla-baishkah-akshay-tritiya-offer/">শ্যাম সুন্দর জুয়েলার্সের পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়া অফার</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/shyam-sundar-co-jewellers-poyla-baishkah-akshay-tritiya-offer/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাঙালির বৈরিভাব</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 18:07:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Iswar chandra Vidyasagar]]></category>
		<category><![CDATA[Kazi Najrul Isalm]]></category>
		<category><![CDATA[Michael Madhusudan Dutta]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[Rabindranath Tagore]]></category>
		<category><![CDATA[Swami Vivekananda]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7322</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাঙালির আত্মজনে বিশ্বাস নেই। হেয় করাতেই তার আনন্দ। আর তর্ক, সে অভ্যাসও আমরা ছেড়েছি বহুদিন।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/">বাঙালির বৈরিভাব</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>অর্ক দেব </strong><strong></strong></p>



<p>বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। কিন্তু বাঙালির আত্মজনে বিশ্বাস নেই। হেয় করাতেই তার আনন্দ। আর তর্ক, সে অভ্যাসও আমরা ছেড়েছি বহুদিন। সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েই কথা বলি আমরা। ফলে বহুদূর আর যাওয়া হয় না। স্বখাতসলিলে ডুবে-মজে থাকি। আজ যখন ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্রে দেখছি বাঙালিই বাঙালিকে টেনে নামাচ্ছে, ভাবতে চাইছি, এই অবিশ্বাসের শুরুটা কোথায়?</p>



<p>ধরা যাক, মির্জা মহম্মদ সিরাজদৌল্লার কথা। বাঙালি তাঁকে অর্বাচীন,&nbsp;নির্দয়,লোভী উচ্চাকাঙ্খী&nbsp; ভেবে এসছে। এই ইতিহাসের ঠিক-ভুল যাচাইয়ে বাঙালি কখনও মন দেয়নি। পাঠ্যবইয়েও বিষয়টা ধোঁয়াশার মতো হয়ে থাকে। অথচ এই বিষয় সম্পর্কে স্পষ্টধারণা জাতিগত অস্মিতার প্রথম বিন্দু হতে পারত। ঠিক যেমন অস্মিতা শিবাজীকে ঘিরে মারাঠা জাতির গড়ে উঠেছে। কিন্তু তথ্যে আমাদের মন নেই। কেউই এগিয়ে এসে জনতার সামনে তথ্য তুলে ধরেন না৷&nbsp; চেনাজনের মধ্যে কারও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাই না, স্রেফ কিন্তু সিদ্ধান্তের কথা শুনি। যেমন, সিরাজ হঠকারী যুদ্ধোন্মাদ ছিলেন৷ অথচ এক বাঙালি, সুশীল চৌধুরী তাঁর লেখায়(১) তথ্য তুলে দেখিয়েছেন সিরাজ সম্পর্কে এই বক্তব্যগুলির প্রবক্তা যারা তারা সকলেই কোনো না কোনো ভাবে সিরাজকে প্রত্যক্ষ শত্রু মনে করতেন। কাশিমবাজারের ফরাসি কুঠির প্রধান জাঁ ল, সিয়র গ্রন্থটির প্রণেতা গোলাম হোসেন, রিয়াজ উস সালাতিনের লেখক গোলাম হোসেন সালিম বা রিফ্লেকশনস গ্রন্থের লেখক লিউক ক্র&#x200d;্যাফটন- প্রত্যেকে সিরাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ শত্রুতায় জড়িত ছিলেন। গোলাম হোসেন খান বা গোলাম হোসেন সালিমরা ছিলেন ইংরেজ-অনুরক্ত। ক্রাফটন সরাসরি পলাশি ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাহলে তাদের লেখা থেকে ছড়ানো জনশ্রুতিকে আমরা মেনে নিলাম কেন? কেন একজন বাঙালির চেয়ে ব্রিটিশকে এগিয়ে রাখা হলো? কেন আমরা সুশীল চৌধুরীদের লেখা সেভাবে পড়লামই না? উত্তর একটাই, বাঙালি নিজেকে, স্বজাতির কাউকে সেভাবে বিশ্বাস করে না। প্রয়োজনে টেনে নামাতে সে পরের সাহায্য নেয়। যেমনটা হয়েছিল সিরাজের ক্ষেত্রে। এরই উত্তরাধিকার, অবিশ্বাসের গ্লানি, অপমানজর্জর জীবন বইতে হয়েছে মণীষীদের। যে-ই একটু উঠেছে, বাঙালি পিছনে টেনে ধরেছে।</p>



<p>&#8216;মাইকেলের যথেচ্ছ-যতির উর্মিলতা&#8217; বিহ্বল করেছিল বুদ্ধদেব বসুকে। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি ন্যূনতম সম্মান পাননি। ঘরে বাইরে একঘরে হয়েছেন। হিন্দুসমাজ দূরে ঠেলে দিয়েছে, খ্রিস্টীয় সমাজের চোখেও ছিলেন বহিরাগত। এমন দানবিক প্রতিভাধর মানুষ যে দারিদ্র&#x200d; যে সহ্য করেছেন, তা অকল্পনীয়। বিদ্যাসাগর-মহাশয় বাদ দিয়ে প্রায় কেউই এগিয়ে আসেনি। ‘আমার দুর্ভাগ্য এই দেশে জন্মেছি! যদি বিদেশে জন্মাতাম, আমার মতো মানুষকে ওরা মাথায় করে রাখত&#8217;, মাইকেলের এই মনস্তাপের আড়ালে আছে বাঙালির অসূয়া, চোরামার।</p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/bangalir-rasanabilas-thr-scaled.jpg" />&#8216;মজার মিলন&#8217; থেকে &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;- বাঙালির রসনাবিলাস</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bangalir-panjika-article-by-kamalendu-sarkar/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-04-08-at-11.28.45-AM-scaled.jpeg" />বাঙালির পঞ্জিকা, বটতলা এবং পঞ্জিকা পড়া</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>এই চোরামার থেকে বিদ্যাসাগর নিজেও নিস্তার পাননি। ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব&#8217; বইটি সামনে আসতেই অপমানের বন্যা বইতে শুরু করে। সংবাদ প্রভাকরে একের পর এক অশালীন লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। আইন পাশ হতে শুরু হলো&nbsp; তাকে একঘরে করা। ইন্দ্রমিত্র-র লেখা থেকে জানা যায়। খুনের হুমকিও পেতেন বিদ্যাসাগর। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরসিংহ থেকে লেঠেল শ্রীমন্তকে বিদ্যাসাগরের কাছে&nbsp; পাঠিয়েছিলেন। বঙ্গসমাজের অসূয়ায় তিতিবিরক্ত বিদ্যাসাগর জীবনের শেষপর্ব কাটিয়েছেন কার্মাটোরে। নিজের গ্রামে যাননি ১৯ বছর। শুধু কর্তব্যে অবিচল থেকেছেন।</p>



<p>১৮৮৬ তে প্রকাশিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের কড়ি ও কোমল। দু&#8217;বছরের মধ্যে আসরে নামছেন কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ। রাহু ছদ্মনামে তিনি কড়ি ও কোমলের প্যারডি লিখলেন। কড়ি ও কোমলকে অশ্লীল দাগিয়ে দিলেন। সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। লিখেছেন, &#8216;যদি স্পষ্ট করিয়া না লিখিতে পারেন সে আপনার অক্ষমতা।&#8217; চিত্রাঙ্গদার জন্য মুণ্ডপাত করে লিখেছেন, &#8216;একজন যে কোনো ভদ্রসন্তান এরূপ করিলে তাহাকে আমরা একাসনে বসিতে দিতে চাহিতাম না।&#8217; এই দ্বিজেন্দ্রলালের পুত্রের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাক্যালাপ করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এতটুকু অসূয়া দেখাননি কখনও।</p>



<p>১৯১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম গাওয়া হয় জনগণমন। পরদিন এই গান সম্পর্কে ইংলিশম্যান লেখে, &#8220;The proceedings opened with a song of welcome to the King Emperor, specially composed for the occasion by Babu Rabindranath Tagore…&#8221; দেশের একাংশ সেদিন থেকে এ মতের সমর্থক।রবীন্দ্রনাথের কানেও গিয়েছিল সে কথা। ২৯ মার্চ ১৯৩৯ সালে রবীন্দ্রনাথ সুধারাণী দেবীকে দুঃখের সঙ্গে লেখেন, “শাশ্বত মানব-ইতিহাসের যুগযুগধাবিত পথিকদের রথযাত্রায় চিরসারথি বলে আমি চতুর্থ বা পঞ্চম জর্জের স্তব করতে পারি, এরকম অপরিমিত মূঢ়তা আমার সম্বন্ধে যাঁরা সন্দেহ করতে পারেন তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আত্মাবমাননা।”</p>



<p>অবশ্য এর চেয়েও&nbsp; ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে নজরুলের।&nbsp; সমসাময়িক সাহিত্যিক মোহিতলাল মজুমদার তাঁকে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁকে কবিত্বপ্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসুর দু&#8217;টি (২), (৩) লেখায় এসেছে। যথা, নজরুল ইসলাম (১৯৪৪) এবং&nbsp; রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক (১৯৫২)। তাঁর কাব্যজীবন সম্পর্কে বুদ্ধদেব বসুর পর্যবেক্ষণ ছিল:</p>



<p>১. নজরুল চড়া গলার কবি, তাঁর কাব্যে হৈচৈ অত্যন্ত বেশি।&#8230; স্বতঃস্ফূর্তা নজরুলের রচনার প্রধান গুণ এবং প্রধান দোষ।</p>



<p>২. কাঁচা, কড়া, উদ্দাম শক্তি, সেই চিন্তাহীন অনর্গলতা।&#8230; রুচির স্খলন।</p>



<p>৩. জীবনদর্শনের গভীরতা তাঁর কাব্যকে রূপান্তরিত করে না।</p>



<p>&nbsp;&nbsp; ৪.&nbsp; ‘বিদ্রোহী’ কবি, ‘সাম্যবাদী’ কবি কিংবা ‘সর্বহারা’র কবি হিশেবে মহাকাল তাঁকে মনে রাখবে কিনা জানিনে . . .।</p>



<p>৫. নজরুলের কবিতা অসংযত, অসংবৃত, প্রগলভ ; তাতে পরিণতির দিকে প্রবণতা নেই; আগাগোড়াই তিনি প্রতিভাবান বালকের মতো লিখে গেছেন…।</p>



<p>৬. তাঁর কবিতায় যে পরিমাণ উত্তেজনা ছিল সে পরিমাণ পুষ্টি ছিল না…।</p>



<p>বুদ্ধদেবের সিদ্ধান্তই অধিকাংশ বাঙালি মেনে নিয়েছে। নজরুল প্রসঙ্গে নানাসময়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে তাঁর পক্ষে কিছু লোককে পাওয়া যায়। কিন্তু বিশ্বভারতীর স্টোরে যেমন রবীন্দ্রনাথের নানা ক্ষুদ্রকায় বই পাওয়া যায়, তেমন ভাঙার গান, সর্বহারা কাব্যগ্রন্থগুলি আলাদা করে চাইলে কোথায় পাব কি? পাব না। কারণ বাঙালি বুদ্ধদেবের পর্যবেক্ষণ থেকে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়েছে। বুদ্ধদেবের মানসলোকের গঠন, তাতে ইওরোপের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করতে চায়নি, প্রাগাধুনিক কাব্যবীজ, আরবি ফারসির গন্ধে তাঁর মন মজেনি। এত নজরুল গবেষক এসেছেন, গিয়েছেন, স্বাধীনোত্তর দেশে নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নতুন করে প্রকাশের উদ্যম চোখে পড়েনি।কাব্যের যে অভিঘাতকে বুদ্ধদেবরা ছোট করে দেখেছেন, তাৎক্ষণিক শব্দটি ব্যবহার করছেন,&nbsp; সেই অভিঘাতের জন্যেই ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দরবিশ সারা বিশ্বের শরণার্থী মানুষের নয়নের মণি। অথচ একজন স্বাধীনতার জন্য জেলখাটা কবিকে কী হেনস্থাই না হতে হলো আজীবন।&nbsp; কেউ প্রশ্ন করল না, ১৯২২ থেকে ১৯৩১ পাঁচটি বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে নজরুলের। সারা দেশে আর কোন কবির এতগুলি কাব্যগ্রন্থ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে?</p>



<p>শনিবারের চিঠিতে বিদ্রোহীর প্যারোডি প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক সজনীকান্ত দাশ নিজেই ভবকুমার প্রধান ছদ্মনামে এই কাব্যের বিদ্রুপ রচনা করেছেন। মোহিতলাল মজুমদার ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে, নীরদ সি চৌধুরী ‘বলাহক নন্দী’ ছদ্মনামে একের পর এক লেখা লিখেছেন নজরুলকে ছোট করে। নীরব নজরুলের  ছবি দেখে মনে হয় দুঃখ পেতে পেতে দুঃখের সাকার স্বরূপ হয়ে উঠেছেন তিনি। ১৯২৭ সালের শেষের দিকে ইব্রাহিম খাঁকে দেওয়া চিঠিতে নজরুল লেখেন-</p>



<p>&#8220;লোকে বললেও আমি মনে করতে ব্যথা পাই যে, তাঁরা আমার শত্রু। কারণ একদিন তাঁরাই আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আজ যদি তাঁরা সত্যি সত্যিই আমার মৃত্যু কামনা করেন, তবে তা আমার মঙ্গলের জন্যই, এ আমি আমার সকল হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করি। আমি আজও মানুষের প্রতি আস্থা হারাইনি – তাদের হাতের আঘাত যত বড়ো এবং যত বেশিই পাই।&#8221;</p>



<p>কায়স্থ সন্ন্যাসী, এই &#8216;অপরাধে&#8217; আজীবন যে পরিমাণ লাঞ্ছনা বিবেকানন্দকে সহ্য করতে হয়েছে তা-ও কহতব্য নয়। তাকে খুন করতে লোক গিয়েছে বরানগর মঠে। প্রাণে বাঁচিয়েছেন নিরঞ্জন মহারাজ। শিকাগোর সাফল্যে বাঙালি খুশি হবে ভেবেছিলেন বিনেকানন্দ। পরে তাঁকেই লিখতে হয়, &#8220;এক বৎসরের ভিতর ভারত থেকে কেউ আমার জন্য একটা টু শব্দ পর্যন্ত করলো না–আর এখানে সকলে আমার বিপক্ষে।” শিকাগোয় উপস্থিত ছিলেন আরেক বাঙালি, ব্রাক্ষ্ম প্রতাপচন্দ্র মজুমদার। মহেন্দ্রনাথ দত্তের লেখায় পাই, &#8220;প্রতাপচন্দ্র মজুমদার মহাশয় ফিরিয়া আসিয়া বলিতে লাগিলেন, নরেন, সেই ছোঁড়াটা, যে ভ্যাগাবন্ডের মত পথে পথে ঘুরে বেড়াত, সে এক লম্বা জামা পরে মাথায় পাগড়ি বেঁধে চিকাগো পার্লামেন্টে তো গিয়ে হাজির। সে আবার লেকচার করতে উঠলে, আবার বেদান্তর উপর কথা কয়, মায়াবাদ–সে সব অযৌক্তিক কথা, আর পৌত্তলিক ধর্ম সমর্থন করে। এসব জিনিস কি এযুগে আর চলে। যত সব বাজে জিনিস। ছোঁড়া এমনি অসভ্য রমণীদের সম্মুখে বসিয়াই চুরুট টানিতে লাগিল। আর কি লেকচার করে তার মাথামুণ্ডু কিছুই নেই, হাউড়ের মতন যত সব আবোল তাবোল বকে।”</p>



<p>নজরুলের অভিমানী চিঠিটির কথা লিখেছি পূর্বেই। একটি পত্রের কথা লিখে সাঙ্গ করি। বিবেকানন্দ প্রতাপ মজুমদারদের রটনার কথা শুনে লিখছেন, “আমার বুড়ি মা এখনও বেঁচে আছেন, সারাজীবন তিনি অসীম কষ্ট পেয়েছেন, সেসব সত্ত্বেও মানুষ আর ভগবানের সেবায় আমাকে উৎসর্গ করার বেদনা তিনি সহ্য করেছেন। কিন্তু তার সবচেয়ে ভালবাসা যে ছেলেটিকে তিনি দান করেছেন, সে দূরদেশে গিয়ে–কলকাতার মজুমদার যেমন রটাচ্ছে–জঘন্য নোংরা জীবনযাপন করছে, এ সংবাদ তাকে একেবারে শেষ করে দেবে।”</p>



<p>বিবেকানন্দর যদি এই পরিণতি হয়, তবে লাঞ্ছনা&nbsp; থেকে কে বাঁচবে? বাঙালি সহমানুষের সঙ্গে ঈর্ষা, ঘৃণা, ল্যাং মারা, টেনে নামানো বাদে আর কোনো সম্পর্কে কখনও আগ্রহী ছিল কি? যখন দেখি উপরে ওঠার নেশায় এক বাঙালিই অন্য বাঙালিদের হেয় করছে, নেতাজি সুভাষকে তোজোর কুকুর বলা মনে করি। ছোটখাটো অপমান, লাঞ্ছনা, আঘাত, মাড়িয়ে যাওয়া, স্বীকৃতির প্রশ্নে অসূয়া তাই আর গায়ে মাখি না। জানি, বাঙালি মারবেই।</p>



<p>তথ্যঋণ:</p>



<p>১. পলাশির অজানা কাহিনি: সুশীল চৌধুরী, আনন্দ পাবলিশার্স, ২০০৪</p>



<p>&nbsp;&nbsp; ২.&nbsp; বুদ্ধদেব বসু : নজরুল&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ইসলাম, প্রবন্ধসংকলন, দে’জ পাবলিশিং, ১৯৮২</p>



<p>৩. বুদ্ধদেব বসু : রবীন্দ্রনাথ ও উত্তরসাধক, প্রবন্ধসংকলন, দে’জ পাবলিশিং, ১৯৮২</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/">বাঙালির বৈরিভাব</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>&#8216;মজার মিলন&#8217; থেকে &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;- বাঙালির রসনাবিলাস</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 14:51:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[bengali cuisine]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[history of bengali cuisine]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[traditional recipe of bengal]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7304</guid>

					<description><![CDATA[<p>পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্যে রন্ধনশিল্পে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/">‘মজার মিলন’ থেকে ‘ব্রহ্মানন্দ পুরি’- বাঙালির রসনাবিলাস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>দীপঙ্কর দাশগুপ্ত</strong></p>



<p>নিরামিষ পদটির নামই হল, &#8216;মজার মিলন&#8217;। করলা আর কাঁচা আমের অভিনব মিলন মজার হবে না তো কী! খেয়েছেন কখনও? দেখুন না একবার পরখ করে। চাক চাক করে করলা কেটে রাখুন। কাঁচা আম খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করুন। এবারে সর্ষের তেল গরম করে তেজপাতা মেথি ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি সাঁতলে করলা, আম, কাঁচালঙ্কা চেরা আর স্বাদমতো লবণ দিয়ে ঢেকে দিন মাঝারি আঁচে। মাঝে একটু নেড়েচেড়ে দিন। জল মরলে নামিয়ে গরম ভাতে খান। ভাবছেন, এ কী! নববর্ষ উপলক্ষে কোথায় পোলাও-মাংস-কোপ্তা-কালিয়ার গপ্পো হবে, তার বদলে তেতো! </p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="992" height="1024" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-992x1024.jpg" alt="" class="wp-image-7358" style="width:451px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-992x1024.jpg 992w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-291x300.jpg 291w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-768x793.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-1488x1536.jpg 1488w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c-1024x1057.jpg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/2e86490d-e161-458e-a0ce-28414ab56f6c.jpg 1550w" sizes="(max-width: 992px) 100vw, 992px" /><figcaption class="wp-element-caption">মজার মিলন -ছবি -লেখক</figcaption></figure>



<p>তাহলে শুনুন, নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একদিন খেতে বসে তাঁর প্রিয় বিদূষক গোপাল ভাঁড়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, &#8216;গোপাল, প্রথমে কী খাওয়া যায় বল তো।&#8217; সপ্রতিভ গোপালের তাৎক্ষণিক উত্তর ছিল, &#8216;মহারাজ, আগে &#8216;পোড়া&#8217; খান। &#8216;পোড়া&#8217; মুখে সব ভালো লাগবে।&#8217; তেমনই আমরা বলব, তেতো দিয়ে শুরু করুন, তেতো মুখে সব ভালো লাগবে। তার ওপরে তেতোর এই ব্যতিক্রমী পদটি তো আমার নিজের কোন উদ্ভট কল্পনা-প্রসূত নয়, বিস্মৃত এই রন্ধন-প্রণালীর স্রষ্টা খোদ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী। আজ থেকে ১২২ বছর আগে যখন বাংলায় কোন রান্নার বই ছিল না, তখন রবীন্দ্রনাথের ভাইঝি প্রজ্ঞাসুন্দরী শুধু নিজের হাতে রান্না করে প্রিয়জনদের খাওয়ান নি, যত্ন করে প্রতিটি রন্ধন-প্রণালী লিখে রেখে গেছেন সকলের জানার জন্যে। &#8216;আমিষ ও নিরামিষ আহার&#8217; বইটির ভূমিকায় তিনি লিখছেন, &#8216;যেটি আমরা খাই ও আমাদের ভালো লাগে, অল্পব্যয়ে যে সুস্বাদু সামগ্রী প্রস্তুত করি সেটি সকলে কেন জানিবে না?&#8217;&nbsp; বইয়ে সঙ্কলিত প্রণালীগুলির এমন অনেকগুলি পদ তাঁর নিজের উদ্ভাবিত। প্রতিটি পদ নিজে রেঁধে, তবে লেখা। </p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/New-Project-1.jpg" />শাড়ি ব্রতকথা</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Fashion, Featurerd, Saree</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-04-09-at-4.25.44-PM-scaled.jpeg" />বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>যে কোন শাক-সবজি কত বিভিন্ন ভাবে রান্না করা যায়, অতি সাধারণ উপকরণ দিয়েও রান্নায় কতরকম বৈচিত্র্য আনা যায় এবং একটি খাবারকে কিভাবে সুস্বাদু ও রুচিকর করে তোলা যায় তার হদিস পাওয়া যায় পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্যে, পুরনো কালের রান্নার বইপত্র ঘাঁটলে। রন্ধনশিল্পে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা কোন সুষমায় উদ্ভাসিত হয়েছিল তা জানতে এবং বাঙালির রসনাপ্রিয়তার সাক্ষ্য পেতে হলে আমাদের নজর ফেরাতে হয় ঊনবিংশ শতকের শেষ ও বিংশ শতকের গোড়ায়।&nbsp;</p>



<p>এই যুগে দাঁড়িয়ে যথার্থ রসনাবিলাস ধারণা করা শক্ত। এমন প্রশ্নও ওঠে, বাঙালি কি আদৌ ভোজনরসিক? হাল আমলে সর্বত্র বাইরে গিয়ে খাবার অথবা বাইরে থেকে খাবার আনাবার সীমাহীন ঝোঁক। গভীর রাতেও চোখে পড়ে লেবানিজ শওরমা, তিব্বতি মোমো, চাইনিজ কিংবা মোগলাই ও বিরিয়ানির দোকানের সামনে স্যুইগি ও জোম্যাটোর স্কুটারের ভিড়। সপ্তাহান্তে বা উৎসবের মরসুমে আগে থেকে আসন সংরক্ষণ করা না থাকলে ফাইন ডাইনিং রেস্তোঁরায় জায়গা মেলে না। নববর্ষই হোক কি পুজোর দিনগুলি, ভাইফোঁটা বা জামাইষষ্ঠী &#8212; বিভিন্ন রেস্তোঁরায় বিশেষ মেনু ও থালির সমারোহ। হোম শেফদের পপ-আপ থেকেও খাবার আনার চল ক্রমেই বাড়ছে। আর বারোমাস নিজের গৃহের রান্নাঘরটি বেতনভুক রান্নার মাসির হেফাজতে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্বাদ-পূরণের ভার আধুনিক সমাজে কার্যত এখন পুরোটাই আউটসোর্সড। নিজস্ব ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্যে এবং ভালো-মন্দ খাওয়ার বাসনা মেটাতে উপযুক্ত ক্ষেত্রে এখন মূল্য ধরে দেওয়াই রেওয়াজ। কিন্তু &#8216;খাবার সামগ্রীটি অনেক টাকা খরচ করিলেই যে ভালো হয় তাহার কোন অর্থ নেই। কোন জিনিসটা দু&#8217; আনায় যেমনটা হয়, হয়ত সেখানে দু&#8217; টাকা খরচ করিলেও তেমনটা হইবে না। কারণ, খাদ্যপাকের কৌশল জানা না থাকিলে কেবল অর্থব্যয়ে কোন ফলই হয় না,&#8217; লিখেছিলেন প্রজ্ঞাসুন্দরী দেবী। তাঁর এই কথাটির তাৎপর্য এখন যেন আরও প্রাসঙ্গিক।&nbsp; </p>



<p>অতীতে ভোজনরসিকদের পাত আলো করত যে সব মনোহর, সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্য সেই সব জিনিস আজ গেল কোথায়, এই প্রশ্ন ওঠা তো অস্বাভাবিক নয়। দক্ষিণের দোসা-ইডলি, রসম, আপ্পাম বা চেট্টিনাড চিকেন, উত্তর ভারত বা পাঞ্জাবি খানায় তন্দুরি রুটি, বাটার নান, ডাল মাখানি আর চিকেন বাটার মশালা, প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের লিট্টি-চোখা, ঝাড়খন্ডের ধুসকা বা ওড়িশার ডালমা বা পখালা ভাতও যখন নিজস্ব রাজ্যের গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যত্র তো বটেই, এমনকি বহু বিদেশিরও নজর কেড়েছে তখন আমাদের বাঙালি আমিষ ও নিরামিষ রান্নার এত বৈচিত্র্য থাকতেও আমরা কেন তাকে দুনিয়ার সামনে আজও উপযুক্ত মর্যাদায় তুলে ধরতে পারলাম না? বাংলার পরিচিতি কি শুধু মিষ্টি দই আর রসগোল্লাতে সীমাবদ্ধ?&nbsp; &nbsp;</p>



<p>মনে পড়ে যায় নিরামিষ রান্না নিয়ে বুদ্ধদেব বসু কী চমৎকার লিখেছিলেন &#8212; &#8216;আমার ঠাকুমার নিরিমিষ রান্না &#8212; সে আবার এক অন্য জগৎ ..,&nbsp; সেখানকার বাসিন্দারা ভারী বিনয়ী, ছেঁচকি ঘন্ট শাক শুক্তো এই সব অনুজ্জ্বল নামে বিরাজ করে, কুমড়ো-বীচি লাউয়ের খোশার মতো ওঁচা জিনিসও সেখানে সম্মানিত। কিন্তু ওই সব বিজ্ঞাপনহীন সৃষ্টি থেকে যা আস্বাদ বেরিয়ে আসে তা প্যারিসের সেরা রাঁধুনির কল্পনাতীত। যেমন রামধনুর সাতটাকে মিশিয়ে অসংখ্য রঙ বের করে আনেন চিত্রশিল্পীরা, তেমনই মাত্র তিনটে-চারটে মোটা আস্বাদের মধ্যেই জিভের জন্যে বিপুল বৈচিত্র্য রচনা করেন আমার মা-ঠাকুমারা, সেই তাঁদের স্টুডিওতে, যার সরঞ্জাম অত্যন্ত মামুলি।&#8217; তাঁর এই বিবরণে খাদ্য সম্ভারের একটি অনুপম বর্ণময় চিত্রই যে শুধু ফুটে উঠেছে বা আহারের পরিতৃপ্তি প্রকাশ পেয়েছে তা নয়, পারিবারিক জীবনচর্যার স্পষ্ট ছবিও এতে ভারি সুন্দর ধরা পড়েছে। এই আহার নিছকই আটপৌরে হলেও একইসঙ্গে অত্যন্ত পরিশীলিতও বটে। তিনি আবার নিজেই আফশোস করেছিলেন যে বাঙালি রান্নার মস্ত ত্রুটি হল তাকে ব্যবসায় খাটানোর যথার্থ কৌশল রপ্ত হয়নি। তাই ফাইন ডাইনিং রেস্তোঁরা ও এখনও টিঁকে থাকা গুটি কয়েক পাইস হোটেলের অস্তিত্ব সত্ত্বেও &#8216;রান্নায় স্বাদু ও পরিবেশনে সুপ্রসারিত&#8217; মাছের ঝোল-ভাতের তৃপ্তিকর ঘরোয়া মেনুর যথার্থ রেস্তোঁরা আজও সত্যিই দুর্লভ।</p>



<p>সন্দেহের অবকাশ নেই যে, স্বাদের স্বাতন্ত্র্যই খাদ্যের দুনিয়ায় ভালো ও খারাপের মধ্যে সুস্পষ্ট সীমারেখা গড়ে দেয়। ঔপনিবেশিক বঙ্গে খাদ্য সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর স্বাদ ও নান্দনিকতার পরিচয়। সেটি স্থির করে দিত তার আভিজাত্য বোধ ও সাংস্কৃতিক অবস্থান। আবার মধ্যবিত্ত সমাজের সেই স্বাদের স্বকীয়তা অর্জন সম্ভব হয়েছিল নারীর প্রাত্যহিক শ্রমকে স্নেহ ও মমতার প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করে। গৃহস্থের পরিবারে বাড়ির মেয়ে-বউদের রান্নাবান্নায় দৈনন্দিন শ্রমের বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। ঔপনিবেশিক বঙ্গে খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিকতার তাৎপর্য থাকলেও বাঙালি হিন্দু পরিবারের রান্নাঘরের সঙ্গে জড়িত ছিল পবিত্রতার অনুষঙ্গ। পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টি ছাড়াও রান্নার সঙ্গে স্নেহ ও মমত্বের আবেগ জড়িত থাকায় বেতনভুক পাচক ঠাকুরের তুলনায় বাড়ির রান্নায় গৃহিণীর অংশগ্রহণ ছিল আকাঙ্খিত। </p>



<p>নতুন যুগের নারীকে আধুনিক করে তোলার জন্যে শিক্ষার সঙ্গে প্রথাসম্মত রন্ধনশৈলী ও গৃহস্থালির স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। উত্তরপাড়া হিতকারি সভার মতো কিছু বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল রন্ধনশিল্প। ১৮৮৯ সালে মধ্য বাংলা সম্মিলনী রান্নায় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে চালু করেছিল একটি পুরস্কার। আবার রক্ষণশীল হিন্দু আদর্শে বিশ্বাসী মহাকালী পাঠশালা ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কিংবা ভিক্টোরিয়া কলেজের মতো আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ছাত্রীদের রন্ধনশিল্প আয়ত্ত করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিল। স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে রন্ধনবিদ্যা রাখার পাশাপাশি নারীকে আধুনিকতার আলোয় নিয়ে আসার জন্যে সমসাময়িক সময়ে বিভিন্ন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান&nbsp; নির্দেশিকা এবং মহিলা পত্রপত্রিকায় নানারকম রান্নার প্রণালী প্রকাশিত হতে শুরু হল। ঊনবিংশ শতক থেকেই শুরু হল বাংলায় রান্নার বই ছাপাও।</p>



<p>বাড়ির মহিলাদের কী কী শেখা উচিত সে ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছিলেন সেকালের বিখ্যাত লেখক প্রিয়নাথ বসু। চাল-ডাল কোথায় রাখা হবে, বিভিন্ন ঋতুতে আচার, চাটনি, জারক ফল কিভাবে তৈরি করতে হবে, চট করে কিভাবে স্বল্প খরচে খাবার বানাতে হবে, কোন রান্না আগে, কোন রান্না পরে করতে হয় সেটা যেমন মেয়েদের জানতে হবে, তেমনই শিখতে হবে পোলাও, কোপ্তা, কালিয়া, চপ, কাটলেট বানানো। সুস্বাদু ডাল রান্না কিংবা শাক-সবজি, পালা-পার্বণ অনুযায়ী পিঠে-পুলি সবই ভালো করে বানানো এবং সুন্দর করে পরিবেশনের নিয়ম জানতে হবে। অসুস্থদের পথ্য হিসেবে সহজ পাচ্য খাবার এবং বার্লি বা অ্যারারুট জ্বাল দিয়ে শরবত বানানোও জানতে হবে। রান্নার নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ারও অভাব ছিল না। সাংবাদিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক এবং যিনি প্রথম হিন্দুত্ব শব্দটি ব্যবহার করে একটি বই লিখেছিলেন সেই চন্দ্রনাথ বসু যথেষ্ট আলো-বাতাস পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও প্রশস্ত রান্নাঘরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা দীনেশ চন্দ্র সেন রান্না করতে করতে মহিলাদের কাপড়ে হাত মোছার অভ্যাসের সমালোচনা করেছিলেন। খাবার পরিবেশনের সময় উপযুক্ত হাতা ও চামচ রাখার ব্যাপারে মহিলাদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি এও বলেছিলেন, ভাত ও ডাল বসানোর আগে চাল-ডাল যেন খুব ভালো করে ধোওয়া হয়।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="591" height="359" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/rabindranath-eating-thr.jpg" alt="" class="wp-image-7307" style="width:455px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/rabindranath-eating-thr.jpg 591w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/rabindranath-eating-thr-300x182.jpg 300w" sizes="(max-width: 591px) 100vw, 591px" /><figcaption class="wp-element-caption">খাদ্যরত রবীন্দ্রনাথ। ছবি &#8211; ইস্ট ইন্ডিয়া স্টোরি</figcaption></figure>



<p>তবে একথা ভুললেও চলবে না, সেকালের নামজাদা ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের মধ্যেও অনেক বড় বড় পাচক ছিলেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথায় জানা যায়, মহামহোপাধ্যায় রাখালদাস ন্যায়রত্ন ছিলেন এমনই একজন বিখ্যাত ও পটু পাচক। সেই সময় যে পুরুষ লাঠি খেলতে, সাঁতার দিতে, কুস্তি লড়তে বা ঘর গেরস্থালির কোন একটা কাজ ভালোভাবে জানত না তাকে লোকে গোবর গণেশ বলে ঠাট্টা করত। বড় দিগগজ পন্ডিত যেমন এক দিকে পান্ডিত্যের সাগর ছিলেন, তেমনই অন্যদিকে নানা শিল্পকাজে পারদর্শী ছিলেন। হালিশহরের বলরাম বিদ্যাভূষণও ছিলেন এক সুখ্যাত পাচক। কাজেই রন্ধনশিল্পে পুরুষেরাও পিছিয়ে ছিলেন না।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের গোড়ায় সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলার সঙ্গে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রন্ধনশালাতেও সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী নানারকম মিষ্টি বানাতেন। বিখ্যাত ছিল তাঁর মানকচুর জিলিপি, দইয়ের মালপোয়া, পাকা আমের মিঠাই, চিঁড়ের পুলি ইত্যাদি। কবি নিজেও রান্নাঘরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, তবে সব ক্ষেত্রে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। তাঁর দাদা হেমেন্দ্রনাথ ছিলেন বিজ্ঞানী। রান্না সম্পর্কে তিনি নিজে খুবই আগ্রহী ছিলেন। স্ত্রী নীপময়ী দেবী দারুণ রাঁধতেন। কন্যাদের রন্ধনশিল্পে পারদর্শী করে তোলার জন্যে হেমেন্দ্রনাথ সুদক্ষ পাচক রেখে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল, বিজ্ঞানের পাঠ্যবই রচনার পাশাপাশি তিনি একটি রান্নার বই লিখবেন। চাটনি, মোরব্বা, হালুয়া প্রভৃতি বেশ কিছু প্রণালী তিনি লিখে রেখেছিলেন। চিত্রা দেবের লেখা থেকে জানা যায়, ঠাকুরবাড়িতে রোজকার ব্যঞ্জন ছিল &#8216;ডাল-মাছের ঝোল-অম্বল, অম্বল-মাছের ঝোল-ডাল&#8217;। তবে সব মেয়ে-বউই অল্পস্বল্প রান্না শিখতেন। রবীন্দ্রনাথের দিদি সৌদামিনীদের রোজ একটা করে তরকারি রান্না শিখতে হত। তবে রান্নার প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল প্রজ্ঞাসুন্দরীর। &#8216;পুণ্য&#8217; পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পাতায় পাতায় বিভিন্ন আমিষ ও নিরামিষ রান্নার প্রণালী ছাপতে শুরু করেন। গৃহিণীদের জন্যে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় টুকিটাকি পরামর্শ তিনি দিতেন। &#8216;বিনা পেঁয়াজে পেঁয়াজের গন্ধ করা&#8217;র জন্যে আদার রসে হিং ভিজিয়ে রেখে তা নিরামিষ তরকারিতে দিলে পেঁয়াজের গন্ধ হয় কিংবা ডাল-তরকারি সামান্য পোড়া লাগতে শুরু করলে তাতে কয়েকটা আস্ত পান ফেলে দিলে গন্ধ কমে যায় সে আর ক&#8217;জন জানে? তাঁর বিভিন্ন রান্না ছিল অভিনব। রবীন্দ্রনাথের ৫০ তম জন্মদিনে তৈরি করেছিলেন ফুলকপি, দুধ, আমন্ড, কিশমিশ ও জাফরান দিয়ে কবি সংবর্ধনা বরফি। এমনই বেশ কিছু রান্নার সঙ্গে জুড়ে দিতেন প্রিয়জনের নাম। যেমন &#8216;রামমোহন দোলমা পোলাও&#8217;, &#8216;দ্বারকানাথ ফির্নি পোলাও অথবা তাঁর অকালমৃতা মেয়ের নামে &#8216;সুরভি&#8217;। আবার অনেকরকম বিচিত্র পদও তিনি উদ্ভাবন করেছেন &#8212; &#8216;খেজুরের পোলাও&#8217;, &#8216;আপেলি পোলাও&#8217;,&nbsp; &#8216;রসগোল্লার অম্বল&#8217;, &#8216;ঝিঙাপাত পোড়া&#8217;, &#8216;মিছা দই মাছ&#8217;, &#8216;কাঁচা তেঁতুলের সরস্বতী অম্বল&#8217; এমন আরও কত কী! এই সব পদের কথা ভাবলে বোঝা যায়, প্রাত্যহিক খাবার নিয়ে চিন্তা ভাবনা ছিল কতটা গভীর।&nbsp;</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img decoding="async" width="768" height="407" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Galpo-holeo-satyi-pic-still.png" alt="" class="wp-image-7309" style="width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Galpo-holeo-satyi-pic-still.png 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Galpo-holeo-satyi-pic-still-300x159.png 300w" sizes="(max-width: 768px) 100vw, 768px" /><figcaption class="wp-element-caption">তপন সিংহের &#8216;গল্প হলেও সত্যি&#8217; ছবির দৃশ্য</figcaption></figure>



<p>আবার পূর্ব বঙ্গের দিঘাপতিয়ার জমিদার ছিলেন শরৎকুমার রায়। তাঁর বিদুষী পত্নী কিরণলেখা রায় ছিলেন রন্ধন পটিয়সী। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠেছিল তাঁর মার্জিত রুচিবোধ ও অভিজাত দৃষ্টিভঙ্গি। বংশ পরম্পরায় প্রচলিত রান্ধনশৈলী ছাড়াও বরেন্দ্রভূমির ঐতিহ্যবাহী রান্নার পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি করে গেছেন। তার সাক্ষ্য রয়েছে &#8216;বরেন্দ্র রন্ধন&#8217; গ্রন্থে সংকলিত নানা সুখাদ্যের প্রণালীতে। পান্তা বা &#8216;পর্যুষিত অন্ন&#8217; থেকে শুরু করে &#8216;ক্ষুদ্র মাছের পুড়পুড়ি&#8217;, &#8216;রুই মাছের টিকলি ভাজি&#8217;, &#8216;পাঁঠার মেটে ভাজি&#8217;, &#8221;মটন চপ,&#8217; &#8216;খাতাই কাবাব&#8217;, &#8216;খরখরি&#8217; ইত্যাদি অসামান্য সব পদের হদিস রয়েছে বইটিতে। একই সঙ্গে উল্লেখ করতে হয়, পূর্ব বঙ্গের মুক্তাগাছার জমিদার পরিবারের বধূ রেণুকা দেবী চৌধুরানীর &#8216;রকমারি আমিষ রান্না&#8217; ও &#8216;রকমারি নিরামিষ রান্না&#8217; বই দুটির কথা। সাধারণ শাক-সবজি, চাল-ডাল দিয়ে নিরামিষ রান্নার বৈভব কিংবা আমিষ রান্নার যে কী ঐশ্বর্য রয়েছে তা জানতে হলে একালের উৎসাহী খাদ্যরসিকদের এই সব পাকপ্রণালী পরখ করে দেখতেই হবে। নববর্ষের সকালে জলখাবারে &#8216;নারিকেলের মিষ্ট লুচি&#8217; বা &#8216;বিলাতি কুমড়ার লুচি&#8217; যদি খেতে হয় তাহলে দেখতে হবে বিপ্রদাস মুখোপাধ্যায়ের &#8216;মিষ্টান্ন পাক&#8217;। তবে একটা অত্যন্ত লোভনীয় জিনিসের কথা বলি। সেটি হল, &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;। একটু ঝাল-মিষ্টি আলুর দমের সঙ্গে একবার খেলে তা আর ভোলা যাবে না। তৈরি করা কিন্তু মোটেই কঠিন কিছু নয়। ময়দায় লুচির মতো ময়ান দিয়ে একটু বড় লেচি করে রাখুন। একটি কড়াতে সামান্য ঘি দিয়ে পুর ভরার উপযোগী পরিমাণে খোয়াক্ষীর লালচে করে ভাজতে হবে। নামিয়ে ঠান্ডা করে ক্ষীরের সঙ্গে ভালো করে মাখতে হবে গুঁড়ো চিনি, গোলমরিচ গুঁড়ো, জয়িত্রী গুঁড়ো, বড় এলাচ গুঁড়ো। এবারে মশলা মাখা ক্ষীরের পুর ভরে লুচি বা কচুরির মতো ভাজতে হবে। খেয়ে দেখুন, অসাধারণ জিনিস! তেতোর পদের প্রণালী দিয়ে শুরু করেছিলাম। মধুরেণ সমাপয়েৎ করলাম ব্রহ্মানন্দ পুরি দিয়ে।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="768" height="1024" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745-768x1024.jpg" alt="" class="wp-image-7363" style="width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745-768x1024.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745-225x300.jpg 225w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745-1152x1536.jpg 1152w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745-1024x1365.jpg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/a25fc59c-4ffe-4ca3-88ff-c7114a5ee745.jpg 1200w" sizes="(max-width: 768px) 100vw, 768px" /><figcaption class="wp-element-caption">ব্রহ্মানন্দ পুরি &#8211; ছবি -লেখক</figcaption></figure>



<p>রসনাবিলাসের কথা উঠলে স্মরণ করতেই হয় বহু সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের কথা, বাংলার খাদ্য বৈচিত্র্য যাঁদের গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল।&nbsp; রাজা রামমোহন রায়, মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুর, কবি ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত, বিদ্যাসাগর, বিপিন চন্দ্র পাল বা সুকুমার রায় সকলেই ছিলেন ভোজনপ্রিয়। তাঁদের মধ্যে অনেকের পরিপাক শক্তিও ছিল অবিশ্বাস্য। রাজা রামমোহন রায় গোটা একটা পাঁঠার মাংস খেতে পারতেন। পঞ্চাশটি আম, এক কাঁদি নারকেল ও বারো সের দুধ খাওয়া তাঁর কাছে ছিল অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। হিমালয় ভ্রমণে গিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ রোজ ভোরে দশ-বারো সের করে গরুর দুধ খেতেন। প্যারীচরণ সরকারও ছিলেন বিরাট হজম শক্তির অধিকারী। নিমন্ত্রণ বাড়িতে পেট পুরে লুচি মাংস খাওয়ার পর বারাসতে উৎকৃষ্ট ছানাবড়া খাওয়ার প্রতিযোগিতায় এক সের ছানাবড়া খেয়েছিলেন। কথিত আছে, বারাসতে নবকৃষ্ণ মিত্রের বাড়িতে আস্ত পাঁঠা রান্না হলে তার অর্ধেক প্যারীচরণ আর উপস্থিত থাকলে অর্ধেক খেতেন বিদ্যাসাগর। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ভরপেট পোলাও মাংস খাওয়ার শেষে দু&#8217;সের রসগোল্লা খেয়ে ফেলতেন। সেই পরিপাক শক্তি বা রসনাপ্রিয়তা এখন সবই অবশ্য গল্প-কাহিনী।&nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/">‘মজার মিলন’ থেকে ‘ব্রহ্মানন্দ পুরি’- বাঙালির রসনাবিলাস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শাড়ি ব্রতকথা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 13:11:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Fashion]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Saree]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali new year fashion]]></category>
		<category><![CDATA[bengali saree fashion]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[saree style]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7285</guid>

					<description><![CDATA[<p>সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে শাড়ির একটা মেটামরফসিস ঘটেছে।তাহলে এই পয়লা বৈশাখে কীভাবে শাড়ি পরব?</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/">শাড়ি ব্রতকথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সাবর্ণী দাস</strong></p>



<p>পৃথিবীটা ছোট হতে হতে আর বোকা বাক্সের মধ্যে আবদ্ধ নেই, চলে এসেছে মুঠোর মধ্যে, বলাই বাহুল্য মুঠো ফোনের মধ্যে! সারা বিশ্বের সব কিছুই যখন এই হাতের তালুর নাগালে তখন আর চিন্তা কী? সব কিছুর পরিবর্তন, অদলবদল ঘটে যাচ্ছে নিমেষের মধ্যেই। তবে বদল যেটা ঘটেনি সেটা হল বাঙালি মেয়েদের পোশাক পরিকল্পনা সরস্বতী পুজো, পয়লা বৈশাখ এবং পুজোতে শাড়ি পরতেই হবে। কিন্তু এখানে একটা &#8216;ক্যাচ&#8217; আছে। শাড়ি তো পরব, কিন্তু কিভাবে পরব? পয়লা বৈশাখের প্রাকক্কালে আসুন সেটা নিয়েই একটু মক্‌শো করা যাক। এবং সব পুজোর আগে যেমন গণেশ পুজোটা &#8216;কম্পালসারি&#8217;, তেমনই জ্ঞানদানন্দিনী দেবীকে একবার স্মরণ করে নেওয়া যাক সবার আগে।</p>



<p>বাংলাতে তখন ঘোর কলিকাল। ঠাকুরবাড়ির দৌলতে বাংলার ঐতিহ্য, বিশেষ করে মেয়েদের অবস্থান একেবারে নরকের তেলের কড়াইতে ডুবন্ত। পারলে হিদুরা গঙ্গার বুকেই চিরআশ্রয় গ্রহণ করেন! এমতাবস্থায় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের বড়ছেলের বউ দুটি মহাপাপ করে ফেল্লেন (১) বম্বে থেকে পার্শিদের দেখাদেখি শাড়ি ঘুরিয়ে পরলেন আর (২) গা ঢাকা ব্লাউজ পরলেন শাড়ির সঙ্গে। কি ঘেন্না, কি ঘেন্না! একে তো শাড়ি পরল ঘুরিয়ে তাই আবার তার সঙ্গে গা ঢাকা জ্যাকেট? এখনকার মেয়েদের বুঝতে একটু অসুবিধা হলেও সেকালে এটা ছিল পূর্ণ বিপ্লব। যাই হোক গণেশ পুজো শেষ, এবার বাকি কার্যকলাপের দিকে এগোন যাক।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="744" height="1024" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Gyanadanandini-devi-thr-744x1024.jpg" alt="" class="wp-image-7287" style="width:457px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Gyanadanandini-devi-thr-744x1024.jpg 744w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Gyanadanandini-devi-thr-218x300.jpg 218w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Gyanadanandini-devi-thr-768x1057.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/Gyanadanandini-devi-thr-scaled.jpg 558w" sizes="(max-width: 744px) 100vw, 744px" /><figcaption class="wp-element-caption">জ্ঞানদানন্দিনী দেবী</figcaption></figure>



<p>জ্ঞানদানন্দিনী ব্লাউজ পরাতে শেখালেন বটে, প্রগতিশীল কিছু পরিবার ও মহিলারা গ্রহণও করলেন এই পোষাকী পরিবর্তন। কিন্তু &#8216;আম আদমি&#8217;র ঘরে ঢুকতে তা সময় লাগল অনেক। যদিও মেয়েরা স্কুলে যাওয়া শুরু করাতে এবং মহিলারা স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেওয়াতে ব্লাউজের প্রচলন ধীরে হলেও সরগড় হতে শুরু করল। তবে গ্রামে বা মফস্বলে ব্লাউজ বিশেষ পাত্তা পায়নি বহু বছর। এরই সঙ্গে শাড়িও পরা হত বাংলার আটপৌরে স্টাইলেই।</p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-03-28-at-5.36.04-PM-scaled.jpeg" />হিরণ্ময় স্বীকৃতি</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Galpo</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bangalir-panjika-article-by-kamalendu-sarkar/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-04-08-at-11.28.45-AM-scaled.jpeg" />বাঙালির পঞ্জিকা, বটতলা এবং পঞ্জিকা পড়া</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>সময় এগোনর সঙ্গে সঙ্গে চতুর্দিকে সততই পরিবর্তন ঘটে। বিশ্বযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলন, শিক্ষার প্রগতি, বায়স্কোপ ইত্যাদি সব কিছুই প্রভাবিত করল প্রাত্যহিকীতে, পোশাকেও ঘটল বিবর্তন। বহুকালই বাঙালি মেয়েরা আটপৌরে শাড়ি পরার ধরন ছাড়েননি। এখনও তা বলবৎ আছে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে মেয়েরা যেদিন থেকে বাইরে বেরোলেন, তা সে ইস্কুলে পড়তে যেতে হোক বা আন্দোলনের ঝান্ডা ধরতে, শাড়িটা কুঁচি দিয়েই পরতে স্বচ্ছন্দবোধ করতেন। সে সময় বিবাহিতদের মাথায় ঘোমটা দেওয়া এবং অবিবাহিতাদের আঁচল গায়ে দেওয়ার প্রচলন ছিল।</p>



<p>চট করে চলে আসা যাক সিনেমার নায়িকাদের কথায়। পিয়ানোর পাশে দাঁড়িয়ে গান গাওয়ার সময় বা লুকিয়ে গাছের আড়ালে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁরা স্বচ্ছ শিফন পরতে শুরু করলেন। পাশাপাশি দিশি তাঁতের শাড়ি বা মোটা খাদিও প্রবল পরাক্রমে রাজ করত। সঙ্গে &#8216;মডেস্টি&#8217; বজায় রাখা গা ঢাকা ব্লাউজ। এই সময় নিঃশব্দে স্লিভলস ব্লাউজও কোন কানাগলি দিয়ে ঢুকে পড়েছিল যেই। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে ভাল-খারাপ মেয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করত। বোঝাই যাচ্ছে যে মেয়েটি ভিলেন, তাকে দেওয়া হত হাতকাটা ব্লাউজ। লজ্জাবতী, নম্র নায়িকার পরনে তখনও আব্রু মোড়ানো হাতাওয়ালা ব্লাউজ! তবে মেট্রো শহরগুলির শিক্ষিত প্রগতিশীল পরিবারে মেয়েরা কিন্তু সহজেই স্লিভলেস ব্লাউজ পরতেন। সময় টা ৬০-এর দশকের শেষ এবং ৭০ দশকের শুরুর কথা। শোনা গেছিল নকশাল আমলে নাকি এর বিরুদ্ধে একদল মানুষ সোচ্চার ছিলেন। তাঁরা নাকি ধারালো ব্লেড নিয়ে ঘুরতেন। বাসে ট্রামে রাস্তাঘাটে ব্লাউজের হাতা বাড়ন্ত দেখলে ব্লেড চালাতেন। &#8216;ব্লাউজ অ্যাক্টিভিস্ট&#8217;?</p>



<p>যাই হোক শাড়ি এবং ব্লাউজের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিল খুব &#8216;সিম্পল&#8217; এবং অবশ্যই তা বিকশিত হত সেই মানুষগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপর। মিলের লাল পাড় সাদা শাড়ি পরতেন নাকি বালুচরী সেটা তো নির্ধারণ করার কাজ অর্থনীতির। যাই হোক স্লিভলেস ব্লাউজ, শাড়ির সঙ্গে যখন মিলেমিশে গেছে তখন বাংলায় শাড়িও অনেকরকম এসে গেছে। শোনা যায় গৌরী দেবী, উত্তমকুমারের স্ত্রী নাকি সিনেমায় দেখতে যেতেন বেনারসী শাড়ি পরে, অবশ্য, বেনারসী শাড়ি বাঙালি বাড়িতে ঢুকে গেছে বহুকাল আগেই। বাড়ির কর্তারা শিবচতুর্দশীতে কাশী যেতেন শিবের আরাধনা করতে আর ফিরতেন বাড়ির মেয়েদের জন্য বেনারসী শাড়ি নিয়ে। তা সে পুজোয় পরার জন্যই হোক বা বিয়েতে। এই &#8216;প্র্যাকটিস&#8217; ছিল বেশ কিছুকাল আগের। পরে বেনারসিওয়ালাদের দৌলতে বাংলার ঘরে ঘরে বেনারসীর ঝলকানি। বোধহয় একমাত্র বাংলাতেই বিয়ের সময় মেয়েরা নিজস্ব দিশি বুনোটে (আগে বালুচরীর চল ছিল) না সেজে অন্য দেশের শাড়ি পরে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। বেনারসী সব থেকে জনপ্রিয় ছিল এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না কিন্তু এরই সঙ্গে অন্যান্য প্রাদেশিক শাড়িও বাঙালি মেয়েদের প্রিয় হয়ে উঠল। সম্বলপুরী (যার ডাকনাম কটকি), কাঞ্জিভরম, কেরালা কটন বা তেলিয়া বাঙালি মেয়েদের ওয়ার্ডোব এসেনশিয়ালস হয়ে উঠল।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="550" height="558" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sekale-meyeder-school-e-thr.jpg" alt="" class="wp-image-7290" style="width:459px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sekale-meyeder-school-e-thr.jpg 550w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sekale-meyeder-school-e-thr-296x300.jpg 296w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sekale-meyeder-school-e-thr-50x50.jpg 50w" sizes="(max-width: 550px) 100vw, 550px" /><figcaption class="wp-element-caption">সেকালে মেয়েদের ইস্কুলে</figcaption></figure>



<p>ধীরে ধীরে মেয়েদের সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটল, সেই সঙ্গে পোশাকের। শাড়ির প্রতুলতা কমল। সালোয়ার কামিজ, স্কার্ট টপ, জিনস টি শার্ট, স্যুট শার্ট ইত্যাদির প্রভৃতি সনাতনী শাড়ির একাধিপত্যের ভিত দূর্বল করতে শুরু করল। এখন আর কলেজে অধ্যাপিকা হতে গেলে কেবল শাড়ি না পরলেও চলে। মিডিয়াতে তো চিরকালই পোশাকের ব্যাপারে অনেক ছাড় ছিল, এখন অন্যান্য অফিসগুলোতেও রশি আলগা। তবে এই ধরুন চার-পাঁচ বছরে চাকাটা কিন্তু আবার ঘুরতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে শাড়ির একটা মেটামরফসিস ঘটেছে। ব্যাপারটা একটু খোলসা করা যাক।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="485" height="632" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/old-life-mag-bengali-saree-fashion-thr.jpg" alt="" class="wp-image-7292" style="width:456px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/old-life-mag-bengali-saree-fashion-thr.jpg 485w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/old-life-mag-bengali-saree-fashion-thr-230x300.jpg 230w" sizes="(max-width: 485px) 100vw, 485px" /><figcaption class="wp-element-caption">৫০ এর দশক I বিখ্যাত লাইফ ম্যাগাজিনে মেয়েদের ফ্যাশন</figcaption></figure>



<p>সোশ্যাল মিডিয়া, মূলত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আজকাল প্রচুর হাট বসে। এই হাটে শাড়ি আছে এক বড় অংশ জুড়ে। এর জন্য দোকানে যেতে হয় না, গাড়ির তেল খরচ হয় না, বাড়ি বসেই চলে বিকিকিনি। এছাড়াও আছেন স্টাইলিশরা যাঁরা প্রতিনিয়তই শেখাচ্ছেন কেমন শাড়ির সঙ্গে কেমন সাজবেন। ঘটল এখানেই পরিবর্তন। তাঁরা বললেন, কে বলেছে শাড়ির সঙ্গে কেবল ব্লাউজ পরতে হবে? কেন? শার্ট পর, লম্বা কুর্তা পর, বিকিনি পর, এমনকি টি শার্টও পরে ফেল। হোয়াট অ্যান আইডিয়া স্যরজি!! অ্যান আইডিয়া নয়, লক্ষ লক্ষ আইডিয়াজ। ব্লাউজের লক গেটটা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আপন মনের মাধুরী মিশায় আপনি তো মশাই মঙ্গলেও পৌঁছে যেতে পারবেন। এতটাই তীব্র তার তেজ।</p>



<p>আগে শাড়ি কিনে ব্লাউজ ম্যাচ করাতে হত। এখন ব্লাউজ কি ডিজাইন হবে সেটাই মূল ভাবনা, এরপর শাড়ি। একবার যদি কলকাতার (কলকাতার বাইরেও একই ছবি) বিভিন্ন বাজার পরিক্রমা করা যায় তাহলে দোকানে এবং ফুটপাতের দিকে নজর পরলে বুঝতে এক সেকেন্ডও লাগবে না যে ব্লাউজের কী বিপুল জনপ্রিয়তা। এক একটা &#8216;পিস আর আর্ট&#8217; বললেও কোনও ক্ষতি নেই। যাঁরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কোনও দ্বন্দ্বে ভোগেন না তাঁরা তো নিজেরাই ডিজাইন নিয়ে নীরিক্ষা করে ফেলেন।</p>



<p>প্রসঙ্গত আর একটি বিষয় উল্লেখ না করলে লেখাটা অসমাপ্ত মনে হবে। আর সেটি হল শাড়ি পরার ধরন। মাথায় ঘোমটা বা গায়ে কাপড় বহুকাল আগেই তামাদি হয়ে গেছে। অন্তত শহরে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পকেটে আজও অবিশ্যি এর কিছু চল থেকে গেছে কিন্তু ফ্যাশানের প্রেক্ষাপটে তার অস্তিত্ব বিলুপ্ত। এবারে আসা যাক পরার ধরনে। শাড়ির আঁচল যখন কাঁধের উপর দিয়ে নামে তখন মেয়েদের বুকের পুরোটা ঢেকে তবে কাঁধের উপরে উঠত। এটাই ছিল প্রচলিত ধরন। এখন তার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। আঁচল পেটের কাছে এসে কেবল বাঁদিক দিয়ে উপরে ওঠে। তবে সবাই যে এইভাবে পরেন তেমনটা নয়, মূলত নবীনরা এই পরার বিষয়টা আয়ত্তে এনেছেন। প্রচুর বিতর্ক এই নিয়ে। একটু প্রাচীনরা এই স্টাইলকে &#8216;অসভ্যতা&#8217; নামকরণ করেছেন। নবীনরা বলেছেন &#8216;আমার শরীর, আমার শাড়ি, আমার ইচ্ছা&#8217;।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="833" height="1024" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-833x1024.jpg" alt="" class="wp-image-7301" style="width:457px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-833x1024.jpg 833w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-244x300.jpg 244w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-768x945.jpg 768w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-1024x1259.jpg 1024w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brt-katha-inside-pic-thr-scaled.jpg 624w" sizes="(max-width: 833px) 100vw, 833px" /><figcaption class="wp-element-caption">ফ্যাশন এখন</figcaption></figure>



<p>ষাটের দশকের গোড়ায় &#8216;মহানগর&#8217; ছবিতে সত্যজিৎ রায় এক সঙ্গত প্রশ্ন তুলেছিলেন। অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সেক্রেটারি অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিল নায়িকাকে, সিঁথিতে বা কপালে লাল সিঁদূর পরলে দোষ নেই, তবে ঠোঁটে লাল রং লাগালে তা কেন দোষের হবে? ঐতিহ্যের একটা অবস্থান থাকে। সেটা ভাঙার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।</p>



<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="395" height="558" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brata-katha-pic-thr-rev.png" alt="" class="wp-image-7300" style="width:457px;height:auto" srcset="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brata-katha-pic-thr-rev.png 395w, https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/sari-brata-katha-pic-thr-rev-212x300.png 212w" sizes="(max-width: 395px) 100vw, 395px" /></figure>



<p>তাহলে এই পয়লা বৈশাখে কীভাবে শাড়ি পরব? সাদা লিনেন শার্টের সঙ্গে লালপাড় সাদা বেগমপুরী? নাকি অ্যানিমাল প্রিন্টের ক্রপটপের সঙ্গে ইন্ডিগো ডাই করা কোটপাড়। খোলা বাজারে দিল খোলা কোটি কোটি স্টাইল। কেবল অপেক্ষা বেছে নেওয়ার নবীনতম সৃষ্টিশীল ইচ্ছার।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/">শাড়ি ব্রতকথা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/the-journey-and-fashion-of-bengali-saree-by-fashion-designer-sabarni-das/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 12:54:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali culture]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali group theatre]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bibhas Chakraborty]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7262</guid>

					<description><![CDATA[<p>এখনও নাটক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারি।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/">বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বাংলা গ্রুপ থিয়েটারের কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বললেন কমলেন্দু সরকার।</strong></p>



<p>হোয়াটসঅ্যাপে একটা অনুরোধ পাঠালাম&#8211; বিভাসদা, একবার ফোন করা যাবে? কমলেন্দু।</p>



<p>তেমনভাবে অপেক্ষা না-করে সরাসরি ফোনই&nbsp; করলাম। আমার মোবাইল নাম্বার বিভাসদার কাছে ছিলই। উনি বললেন, &#8220;আমিই ফোন করতে যাচ্ছিলাম।&#8221; বললাম, আপনার সঙ্গে একটু কথা বলব, কয়েকটি প্রশ্ন করব। প্রশ্নগুলো আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ করছি। আধঘণ্টা পর বিভাসদার একটা হোয়াটসঅ্যাপ ঢুকল, &#8216;খুব ভালো প্রশ্ন, কবে আসবে, কাল বলি ?&#8217;</p>



<p>আমি আর দেরি করিনি। পরদিন বিকেল পাঁচটায় বিভাস চক্রবর্তীর গলফ গ্রিনের ফ্ল্যাটে হাজির। চিরনবীন বিভাস চক্রবর্তী দরজা খুলে দিয়ে বললেন, &#8220;এসো, এসো। অনেকদিন পর।&#8221;</p>



<p>ফ্ল্যাটে ঢুকেই বাঁহাতে বিভাসদার ঘর। বইয়ের সমুদ্রে বাস। বেশিরভাগটাই নাটকের। অবাক হলাম একটা মানুষ নাটক সম্পর্কে নিজেকে ওয়াকিবহাল রাখার জন্য এখনো কত পড়াশোনা করেন! আপনার বয়স কত হল বিভাসদা? &#8220;৮৭ হল। ১৯৩৭ থেকে ২০২৪, ৬৩+২৪=৮৭-ই হয়।&#8221;</p>



<p>কে বলবে বিভাস চক্রবর্তী ৮৭! আগেও কোনওদিন বোঝা যায়নি। ৮৭-তেও পৌঁছেও বুঝলাম না। এখনও কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হন। যদিও বেশি উত্তেজনা বোধহয় তাঁর কাছে ঠিক নয়। কারণ, ইতিমধ্যে তাঁর হৃদয় সামান্য নাড়া দিয়ে গেছে। যাইহোক, বিভাসদা বললেন, বয়স তাঁর ৮৭। আচ্ছা একজন সৃজনশীল মানুষের কাছে বয়স কোনও ব্যাপার নয়। তবে হৃদয়ের সমস্যা হলে জীবন তো নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। তবুও মানুষটা তো বিভাস চক্রবর্তী, <strong>তাই বলেই ফেললাম, এই বয়সে নতুন কিছু করতে ইচ্ছা জাগে বা হয়? &#8220;আগের মতো স্কেলে কাজ করতে হয়তো আর পারব না, তবে অন্যরকমভাবে করতে পারি। ক্রিয়েটিভ কাজ অল্প শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে হয়তো করতে পারব। নতুন ফর্ম নিয়ে মাঝেমধ্যে ভাবি না, তা নয়, ভাবি। এখন অবশ্য অরগানাইজেশনাল কাজ নিয়েই বেশি ভাবি। এখন তো বহু মানুষ থিয়েটার নিয়ে আছেন, ভাবছেন। সবমিলিয়ে বলতে পারি, অনেক মানুষ নিয়ে যেখানে থিয়েটার দাঁড়িয়ে আছে। বলা যেতেই পারে থিয়েটারের পরিস্থিতি অনুকূল। এমনকী সাধারণ রঙ্গালয় প্রতিষ্ঠা করার কথা ভাবা যেতে পারে। আমার তা যাবেও। আমার ধারণা, লোকে টাকাও দেবে। এবং তা চালানোর পক্ষেও সময় এবং পরিস্থিতি উভয়ই অনুকূল,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী জানালেন।</strong></p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/New-Project.jpg" />বাঙালির বৈরিভাব</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/history-of-bengali-traditional-cuisine-and-culinary-skills-by-dipankar-dasgupta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/bangalir-rasanabilas-thr-scaled.jpg" />&#8216;মজার মিলন&#8217; থেকে &#8216;ব্রহ্মানন্দ পুরি&#8217;- বাঙালির রসনাবিলাস</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li></ul></div>



<p>৮৭ বছরের যুবক বিভাস চক্রবর্তীর ভাবনা এইমুহূর্তে একেবারে থিয়েটার কেন্দ্রিকই। তাই উসখুস করতে করতে প্রশ্নটা করেই ফেললাম। &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217; এবং &#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; নাটকে গ্রুপ থিয়েটারের বিন্যাস মধ্যে দাঁড়িয়ে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার যে বাণিজ্যিক ভাবনা ছিল, আমি কিন্তু বাণিজ্যিককরণের কথা বলছি না একেবারেই। পরবর্তী সময়ে বা কালে আপনার এই ধারা বা ভাবনা নিয়ে অন্য গ্রুপ থিয়েটারগুলো এগোলো না কেন? কারণ কি মনে হয়? বিভাস চক্রবর্তী বললেন, &#8220;গণ্ডগোলের ব্যাপার। সংগঠনের কাঠামোয় যে-নাটক করতাম ভাবনাটাই ছিল আসল। একজন পরিচালকের ভাবনা থাকে আমার নাটকটি নিয়ে পৌঁছতে হবে দর্শকের কাছে। নাটকটি নিয়ে কখনওই বাণিজ্যিক ভাবনা থাকে না। আমি একটা ব্যাপার ভেবেই কাজ করি, করেছি, দর্শকদের&nbsp; নানাভাবে ভাল লাগানোর। পরিচালকের ভাবনা কখনও লেগে যায়, কখনও লাগে না। আগে থেকে বাণিজ্যিক ভাবনা থাকে তা নয় কিন্তু। দর্শকের ভাল লেগেছিল &#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; আর &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217;। আসলে কাজটা জাস্টিস দিয়ে করতে হয়।&#8221;</p>



<p>কথায় পেয়েছিল ওই সন্ধ্যায় বিভাস চক্রবর্তীর। নিজের নাটক তো বটেই, অন্য নাটক নিয়েও কথা হচ্ছিল। তবে সেইসব কথার অনেকটা ছিল না-লেখার কড়ারে। কথার ফাঁকে ছুড়ে দিলাম, আগে যে-যুগান্তকারী পালাবদল ঘটিয়েছিলেন বাংলা গ্রুপ থিয়েটার মঞ্চে, এখনও কি ইচ্ছে জাগে তেমন কিছু করতে? &#8220;অর্থ এবং শরীরে যদি কুলোয় তাহলে চেষ্টা করব। আগেও অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম। যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের &#8216;বিসর্জন&#8217; করেছিলাম। কোনও সেট ছিল না। মঞ্চ ফাঁকা। কেবলমাত্র খালেদদা (চৌধুরী) তিনটি স্ক্রল ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। মন্দিরটা দর্শকাসন। দেবতাকে প্রণাম করা দর্শকদের দিকে তাকিয়ে বা তাঁদেরই উদ্দেশে। কিন্তু নিল না দর্শক। ব্রেখটের&#8217;   গুড পার্সন ইন সেচুয়ান&#8217; নিয়ে করেছিলাম &#8216;সাধু ও শয়তান&#8217;। একজনকে দিয়ে নাটকটা লিখিয়েছিলাম। এ-নাটকটাও সেভাবে চলল না। কেন চলেনি বুঝতে পারিনি তখন। <strong>এখনও নাটক নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে পারি যদি শরীর দেয় আর অর্থ, শরীর আর অর্থ এই দুটোই খুব জরুরি,&#8221; বললেন বিভাসদা।</strong></p>



<p>আবার আর একটি পুরনো নাটক &#8216;জোছনাকুমারী&#8217; প্রসঙ্গে আসি। এই নাটকে যে-খেলা বা ম্যাজিক, দিগন্তকারী ভাবনা এবং প্রয়োগ ছিল, তা কিন্তু দর্শক সেভাবে নেননি, কেন? &#8220;সুনীলদা (গঙ্গোপাধ্যায়)-র লেখায় একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল। একটি মেয়ে তার কোনও দেশ নেই। মেয়েটি না ও বাংলার, না এ বাংলার! সুনীলদারও এমন একটা বেদনা ছিল। নিজের জন্মভূমি ছেড়ে চলে আসার বেদনা। ঋত্বিক ঘটকের যে-বেদনা ছিল। আমিও তো জন্মেছি ওই দেশে। আমার জীবনের সঙ্গে তো জড়িয়ে আছে ওই দেশের মাটি, হাওয়া-বাতাস, জল ইত্যাদি। আমি আমার ওই জায়গা ছেড়ে কেন আসব! এই বেদনা, কষ্ট তো আমারও হয়, আছেও। সুনীলদার লেখার মেয়েটির কষ্ট, বেদনা তো তাই। সে কোন দেশের! আমার মনে হয়, নিজের ভিটে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা, বেদনা, কষ্ট আর সেভাবে কাজ করেনি বাঙালির মনে। সেইসময় ইংরেজদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে বাঙালির একটা জাগরণ ঘটেছিল। ক্রমশ বাঙালির প্রাণের স্পন্দন কমে একটা হেরো জাতে পরিণত হতে চলেছে,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী বেশ উত্তেজিত হয়েছিলেন কথাগুলো বলার সময়।</p>



<p>আচ্ছা, এখন একটা নাটক দেখতে গেলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। একজন সাধারণ দর্শকের কাছে এত টাকা খরচ করা সম্ভব! আমার নিজের পক্ষেও তো সম্ভব নয়। কিছু টিকিট কি ৫০-৬০ টাকা রাখা যায় না? এ-ব্যাপারে বিভাস চক্রবর্তী অনেকটাই টিকিটের দাম বৃদ্ধির পক্ষ নিলেন। বললেন,<strong> &#8220;সেকালে আমরা যখন নান্দীকার থেকে বেরিয়ে এসে &#8216;চাক ভাঙা মধু&#8217; করেছিলাম, তখন খরচ হয়েছিল মাত্র আড়াই হাজার টাকা। এখন একটা নতুন নাটক প্রোডাকশন করতে গেলে কম করে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়।&#8221;</strong> বিভাসদাকে একটু থামিয়ে বললাম, সেইসময় ২৫০০ টাকা কিন্তু খুব কম টাকা ছিল না। এইসময়ে আড়াই না হোক দেড়-দু&#8217;লক্ষ টাকা তো বটেই। বিভাস চক্রবর্তী বললেন, &#8220;আগে আমরা নাটক করতাম নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করতাম। বিকেলে অফিস ছুটির পর বা কাজ-শেষে সবাই মিলে এক জায়গায় মিলিত হয়ে নাটকের রিহার্সাল দিতাম, নাটকের কথা ভাবতাম। এখন যাঁরা নাটক করেন তাঁদের অধিকাংশই তো আর কিছু করেন না। অভিনয়ই তাঁদের রোজগারের মাধ্যম। তাঁদের টাকা দিতেই হবে। ফলে, খরচ অনেক বেড়ে যায়, বেড়ে গেছেও। এখন যেমন একজন নামী অভিনেতাকেও টাকা দিতে হয়, তেমনই পাশাপাশি একজন অনামী অভিনেতাকে টাকা দিতে হয়। আমাদের সেইসময় তো এইব্যাপারটা ছিল না। প্রায় সকলেরই এখন অভিনয়ই পেশা। তবে তোমার কথার প্রসঙ্গে বলি, আমেরিকায় স্কোয়ার ইন দ্যা সার্কেলে দেখেছি, দিনের দিন কাটলে অনেকটাই কম দামে টিকিট পাওয়া যায়, যদি টিকিট থাকে। এমন একটা সিস্টেম চালু করা যেতেই পারে। তবে আমাদের একা করলে তো হবে না সকলকে মিলে করতে হবে।&#8221;</p>



<p>এবার বিভাস চক্রবর্তীর কাছে কিছুটা অন্যরকম প্রশ্ন রাখি। এখন তো বাণিজ্যিক নাটক নেই বললেই চলে, বিক্ষিপ্তভাবে দু&#8217;একটা হয়। তাহলে গ্রুপ থিয়েটার দলগুলো ওই জায়গাটি নিতে পারছে না কেন? এক শ্রেণির দর্শক তো নাটক দেখতে চান। খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিলেন বিভাস চক্রবর্তী, &#8220;আমরা যে-নাটকটা করি তা মাইনরিটির জন্য। বাণিজ্যিক নাটক একটা বিশাল গেম। একেবারে&nbsp;ব্যবসার নিয়মেই ল্যান্ড,লেবার,ক্যাপিটালের প্রয়োজন। যিনি টাকা ইনভেষ্ট করবেন তাঁকে তো মুনাফা করতে হবে নইলে তিনি টাকা ঢালবেন কেন নাটকের পিছনে! সেটা কখনওই একটা দলের পক্ষে সম্ভব নয়।ল্যান্ড,লেবার,ক্যাপিটাল যদি পাওয়া তাহলে হতেই পারে। নিজের কথা বলতে পারি, আমি যদি এসবগুলো পাই তাহলে সেরিব্রাল নাটক করব।&#8221;</p>



<p>ইতিমধ্যে চা এলো। চিনি ছাড়া লিকার চা। চা-পানের ফাঁকে কিছু কথা হল আবার সেই না-লেখার জন্য। চা-পান শেষ হলে, প্রশ্ন রাখি, আমি যদি আপনার <strong>&#8216;মাধব মালঞ্চী কইন্যা&#8217; বা &#8216;শোয়াইক গেল যুদ্ধে&#8217; কে ল্যান্ডমার্ক নাটক ধরি বাংলা গ্রুপ থিয়েটারে, সেখান থেকে কতটা এগিয়েছে? &#8220;এখন কয়েকজন পরিচালক হঠাৎ হঠাৎ ভাল কাজ করছেন৷ ধারাবাহিকভাবে খুব যে ভাল কাজ হচ্ছে তা নয়। আগে শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ পরিচালক সবাই ধারাবাহিক ভাল কাজ করতেন, করেছেন। বলতে পারি, এখন বরং মফসসলে কিছু গ্রুপ ভাল কাজ করছে, ভাল কাজ হচ্ছে। ওরা আগের মতো ভাল কাজ করে। এখানে ভাল অভিনেতা, ভাল পরিচালক আছে কিন্তু কন্সট্রাক্টিভ ভাবে এগোনোর কোনও পথ নেই। এখন তো গ্রুপের সংগঠনটাই নেই,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী জানালেন তাঁর কথা।</strong></p>



<p>এবারের প্রশ্ন ছিল, বর্তমানে কি গ্রুপ থিয়েটারের জনপ্রিয়তা কমেছে? নইলে এখন আর সেইভাবে আর আলোচনা শুনি না কেন! উনি বললেন, &#8220;এখন সেভাবে আর আলোচনা শোনা যায় না ঠিক কথা। কিন্তু কিছু নাটক আসে আলোচনার কেন্দ্রে। গ্রুপ থিয়েটার জনপ্রিয়তা নেই নয়, আছে। যে-নাটকটা করব সেই নাটকটি দর্শকদের তো ভাল লাগাতে হবে। লোকে বা দর্শকেরা টাকা দিতে প্রস্তুতও আছে যদি নাটকটি দর্শকের ভাল লাগে।&#8221;</p>



<p>এই মুহূর্তে কি আরও একবার &#8216;অদ্ভুত আঁধার&#8217; করার কথা ভাবছেন বা ভাববেন? &#8220;অদ্ভুত আঁধার&#8217; নাটকটির আবার করার কথা অনেকেই বলেছেন তখন একটা পলিটিকাল ক্রাইসিস ছিল। এখন এসব নিয়ে ভাববার জায়গা নেই। যদিও প্রচুর সমস্যা, প্রচুর ক্রাইসিস আছে,&#8221; জানালেন বিভাস চক্রবর্তী। এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বহু কথা হয়েছিল বিভাস চক্রবর্তীর সঙ্গে। কিন্তু সেসব কথা লেখা যাচ্ছে না, তাঁর বারণে।</p>



<p><strong>আর ক&#8217;দিন বাদেই বাংলা নববর্ষ। বাংলা নাটকের দর্শকদের কি বার্তা দেবেন? &#8220;এখন তো বাঙালির প্রথাগুলো প্রায় বন্ধ হয়েই গেছে। তবে বাংলা নতুন বছর যদি পালন করেন, তাহলে তিনি বা তাঁরা বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন,&#8221; বিভাস চক্রবর্তী এই বার্তাটি দিলেন প্রতিটি বাঙালিকে।</strong></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/">বাংলা সংস্কৃতির জন্য ভাবুন: বিভাস চক্রবর্তী </a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bibhas-chakraboty-interview-by-kamalendu-sarkar/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>হিরণ্ময় স্বীকৃতি</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 08 Apr 2024 09:04:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Galpo]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali Short stories]]></category>
		<category><![CDATA[Harsha Dutta]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7280</guid>

					<description><![CDATA[<p>কবিতা লিখে আপনি কোনও প্রাইজ পাননি বলে বউদিও খুব দুঃখ পেত। আপনি জানেন ?</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/">হিরণ্ময় স্বীকৃতি</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>হর্ষ দত্ত</p>



<p>ছাদে রাখা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে বুদ্ধপ্রতিম। মনখারাপ হয়ে গেলে মানুষটা চুপচাপ ছাদে চলে আসে। স্ত্রী মিতালি কয়েকদিনের অসুখে নার্সিংহোমে মারা যাওয়ার পর, কঠোরভাবে শোক সামলে নিয়েছিল দাদাবাবু। বিশেষ করে, একমাত্র ছেলে পাপুনদা মায়ের শ্রাদ্ধ-শান্তি শেষ হওয়ার পরপরই, নিজের বউ-মেয়েকে নিয়ে যেদিন হায়দরাবাদে চলে গেল, সেদিন ‘তোমরা ভাল থেকো’ ছা়ড়া দাদাবাবু আর একটা কথাও বলেনি। বাগডোগরা এয়ারপোর্টের দিকে ভাড়া গাড়িটা যেন পাখির মতো উড়ে গেছিল। তারপর, বউদির ছবির সামনে সেদিন দাদাবাবু অনেক রাত্রি পর্যন্ত বসেছিল।</p>



<p>রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ যেন অনেক সাহস সঞ্চয় করে, নম্র স্বরে সাজুনি বুদ্ধপ্রতিমকে ডেকেছে, দাদাবাবু, আপনার খাওয়া-দাওয়ার সময় অনেকক্ষণ পেরিয়ে গেছে।&#8230;এবার কিছু মুখে দিন।</p>



<p>সাজুনি মাঝবয়সি কাজের মহিলা। প্রায় বছর কুড়ি বছর বুদ্ধপ্রতিমের বাড়িতে আছে। এখন ও সুখে-দুঃখে পরিবারেরই একজন। দাদাবাবু চমক ভাঙার মতো বলেছে, হ্যাঁ, খেতে হবে, ঘুমোতে হবে, কাল সকালে উঠতে হবে। কোথাও কিছু থেমে নেই। দে, খেতে দে।</p>



<p>বউদি চলে যাওয়াতে এমনিতেই সাজুনি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছে। দাদাবাবুর মতো সাজুনিও একা হয়ে গেছে। বেদনা বুকের মধ্য়ে নিয়ে ও কাজ করে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু&nbsp; দাদাবাবুকে দেখে ওর কেমন যেন ভয় লাগে। বউদি স্বর্গে চলে যাওয়ার পর মানুষটা পাথরের মতো হয়ে গেছে। এর পেছনে আছে পাপুনদার মস্ত ভূমিকা। শোক-তাপে দগ্ধ বাবার কাছে আরও কয়েকটা দিন থাকলে, কী এমন ক্ষতি হত ? পাপুনদা ঠিক কাজ করেনি।</p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/deprecating-nature-of-bengali-culture-article-by-arka-deb/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/New-Project.jpg" />বাঙালির বৈরিভাব</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Rochona</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-03-30-at-8.31.23-PM-scaled.jpeg" />নিগূঢ় রুকাইয়া</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Galpo</div></li></ul></div>



<p>এ বাড়িতে কাজ করতে এসে বউদির কাছ থেকে সাজুনি জেনেছিল, দাদাবাবু স্কুলে মাস্টারি করে। আর অবসর সময়ে কবিতা লেখে। ওর লেখা অনেকগুলো কবিতার বইও আছে। বাড়িতে দাদাবাবুর সঙ্গে যারা দেখা করতে আসে, তারা সবাই নাকি কবি। সাজুনি ক্লাস সিক্সের পর আর পড়াশোনা করতে পারেনি। গরিবের ঘরে জন্মালে লেখাপড়া শেখার চেয়ে উড়নচণ্ডি হওয়া সহজ। পেট চালানোর জন্যে যা খুশি করা যায়, হওয়া যায়। এ-বাড়ি ও-বাড়ি কাজ করতে করতে মিতাবউদির বাড়িতে ওর পাকাপাকি ঠাঁই হয়ে গেল। যৌবনের দিনগুলোতে খুব সাজত বলে বউদি ওকে সাজুনি নামে ডাকত।</p>



<p>ওর আসল নাম গৌরী। অবিবাহিত মেয়েটিকে, পরিবারেরই একজন বলে মিতা মনে করত। এমনটাও ভেবেছিল, সাজুনির বিয়ে দেবে। কিন্তু মেয়েটি নিজেই রাজি হয়নি। কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, যে আমাকে বিয়ে করবে, সে তো আর চাকরি-বাকরি করা লোক হবে না।&#8230; খুব বেশি হলে হবে ভ্যান রিকশাওয়ালা। আমাকে আবার সেই আধপেটা, জুতোপেটা খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে।&#8230; না, বউদিমণি না, আমি বিয়ে করব না। আমাকে বিদেয় করে দিও না গো। তোমার পায়ে পড়ি।</p>



<p>মিতা এ বিষয়ে আর কোনও চেষ্টা করেনি। সাজুনি আজও আছে। বুদ্ধপ্রতিম অনেক গভীরে অনুভব করে, মেয়েটি আছে বলেই একাকিত্ব পাহাড়প্রমাণ হয়ে যায়নি। কবিতা লেখা আমার মুক্তির জায়গা&#8212;একসময় মানুষটা এমন ভাবনায় মনে মনে গর্ব অনুভব করত । কিন্তু চাকরি সূত্রে পাপুন সপরিবার চলে যাওয়ার পর, বুকের ভেতর আছড়ে পড়েছিল সমুদ্র-কল্লোল। আর মিতার চিরবিদায় ওকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে। যেন মৃত ঝিনুকে ভরে আছে ওর বড় সাধের মুক্তির জায়গা। সাহিত্য-চর্চা জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।</p>



<p>আজ সন্ধের কিছু পরে অনুরাধা, পার্থসারথি ও হিমাংশুবাবু কথা বলতে এসেছিল। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই একই কথা, ‘ আপনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। শোক আপনার হৃদয়ে যে-আলোড়ন তুলেছে, তার পরিমাপ&nbsp; আমরা করতে পারব না। কিন্তু শোকই তো শেষ কথা নয়। জীবন তো আসলে দেওয়া-নেওয়ার খেলা। ‘ কথাগুলোর এই সারমর্ম বুদ্ধপ্রতিমকে ক্রমাগত বিরক্ত করছে। অথচ এদের আসতে বারণ করাও মুশকিল। এই মফস্বলের প্রায় সব কবি এবং কয়েকজন গদ্যলেখক মিলে বছর দুয়েক আগে ‘ উত্তরবঙ্গ সৃষ্টি সঞ্চয়ন ’ নামে যে-মিলন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা করেছিল, এরা তারই সক্রিয় সদস্য। বুদ্ধপ্রতিম এই ক্লাবের অন্য়তম প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি। অতএব ওরা তো ওর কাছে আসবেই। বারণ করা দুরূহ। তবে আজ ওরা জ্ঞান বা সান্ত্বনা দিতে আসেনি। ওরা এসেছিল সংগঠন থেকে একটি কবিতা-পুরস্কার চালু করার প্রস্তাবনা নিয়ে কথা বলতে।&nbsp; কলকাতা-কেন্দ্রিক দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের কবিদের প্রতি কোনও সম্মাননা&nbsp; আসে না, এবছরও যথারীতি আসেনি। তাই ওদের সংগঠনের পুরস্কার আগামী দিনে হয়ে উঠবে একটা চ্যালেঞ্জ।</p>



<p>বুদ্ধপ্রতিম ওদের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছে। পার্থপ্রতিমরা একেবারে ভুল কথা বলেনি। প্রতি বছর ওর ভেতরেও তো সম্মানপ্রাপ্তির আশা জেগে ওঠে। পঞ্চাশ কিংবা পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে কবিতা লেখার পর, আজও বুদ্ধপ্রতিম কবি হয়ে উঠতে পারেনি। হয়তো এখনও মাঝারি মাপের কবি হিসেবে চিহ্নিত। পুরস্কার প্রাপকের তালিকায় ওর নাম দেখতে না-পেয়ে, অনুরাগীরা হা-হুতাশ করে। বুদ্ধপ্রতিম নিজেও ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হয়, বঞ্চনার সীমা সত্যিই ছাড়িয়ে গেছে। নীলকমল নামের ওর অনুরক্ত এক তরুণ কবি, গত কয়েক বছর ধরে জোর দিয়ে বলে, আমার কাছে পাক্কা খবর আছে, এ বছর জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার আপনাকেই দেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। কিন্তু ছেলেটির সংবাদ প্রতিবারই চুপসে গিয়ে গড়াগড়ি খায়।</p>



<p>বুদ্ধপ্রতিমের মন ভেঙে যায় ঠিকই, কিন্তু নীলকমলের ওপর ও রাগ করে না। কলকাতার কোনও সূত্র হয়তো নীলকে মিথ্যে স্বপ্ন দেখায়। যুবকটি প্রত্যাশার ভেলায় ভাসতে থাকে। ঘটনাটা সত্যি সত্যি যদি কখনও ঘটে যায়, তা হলে সারা আলিপুরদুয়ারে নীলকমলের গৌরব ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু সে সম্ভাবনা এতটাই ক্ষীণ যে, ওকে বকুনির চোটে চুপ করিয়ে দেওয়া, কিংবা বছরওয়ারি একই কথা বলতে দেওয়া সমান।</p>



<p>হিমাংশুবাবুকে ভারী গলায় বুদ্ধপ্রতিম বলেছে, সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা খুব সহজ হবে কি ? তা ছাড়া পুরস্কারের অর্থমূল্য কে দেবেন ? কত টাকা ? কার স্মৃতিতে অর্থাৎ নামে এই পুরস্কার চালু হবে&#8212; এই বিষয়ে সবাই একমত নাও হতে পারেন।</p>



<p>মাথা নিচু করে একটু ভেবে হিমাংশুবাবু বলেছেন, আমাদের সদস্যরা অনেক দিক থেকে আলোচনা করে, এমন একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে। আসলে বঞ্চনার কোনও শেষ দেখা যাচ্ছে না, বুদ্ধবাবু।&#8230;স্ত্রী বিয়োগের পর থেকে আপনি সংগঠনে যাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।&#8230;আপনার ওপর তো আর জোর করা চলে না। তাই আমরাই আসি&#8230;আপনাকে বিরক্ত করি।</p>



<p>না,না, আমি বিরক্ত হব কেন ! আপনাদের প্রপোজল নিয়ে আমাকে একটু ভাবতে সময় দিন।</p>



<p>অনুরাধা বলেছিল, বুদ্ধদা, কার স্মৃতিতে এই পুরস্কার হবে জিজ্ঞেস করছিলেন না ! ও পার্থদা, আমি বলব ?</p>



<p>হিমাংশুবাবু ও পার্থসারথি নীরবে সম্মতি দিতেই অনুরাধা বলেছে, প্রায় সত্তর ভাগ সদস্যের অভিমত, কবি বেণু দত্তরায়ের স্মৃতিতে পুরস্কার দেওয়া হোক, বাকিরা শঙ্খ ঘোষের নাম প্রস্তাব করেছে।</p>



<p>মৃদু হেসেছিল বুদ্ধপ্রতিম, তাহলে শুরুতেই নাম নিয়ে মতান্তর। এরপর কাকে পুরস্কার দেওয়া হবে, সে নিয়েও তো বিতর্ক বেধে যাবে।&#8230;আমার কথাগুলো কিন্তু নেগেটিভ অ্যাপ্রোচ নয়। জল কোথায় গড়াতে পারে, সে সম্পর্কে সামান্য কিছু ভাবনা। তোমরাও ভাববে।&#8230;সাজুনি, ও সা&#8211;জু&#8211;নি, এদের চা-জলখাবার কিছু দিলি না !</p>



<p>বাড়ির ভেতর থেকে সাজুনি চেঁচিয়ে বলেছে, এই আনছি, দাদাবাবু।</p>



<p>দু-তিন মিনিটের নীরবতার মধ্যে সাজুনি বড় এক প্লেট সুজির পকৌড়া সেন্টার টেবিলে নামিয়ে দিয়ে গেছিল। তারপর চায়ের কাপ। ওরা কেউ আপ্যায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। কেননা এই সামান্য সৌজন্যে কেউ আপত্তি জানালে&nbsp; বুদ্ধপ্রতিম অত্য়ন্ত ক্ষুণ্ণ হন।&nbsp;</p>



<p>দাদা, আমরা সব দিক নিয়ে আলোচনা করছি। কোথাও যেন ফাঁক, বিরোধিতা বা দলাদলি না থাকে। সংগঠনটির সেক্রেটারি পার্থসারথি বাঁ হাতে চায়ের কাপ ও ডান হাতে পকৌড়া নিয়ে বলেছিল, আপনি এর মধ্যে একদিন আসুন। সবাই থাকব, সকলে আসবে। জানি, ফাউন্ডার-প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে এমন একটা চ্যালেঞ্জিং ম্যাটার নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। তাই ক্ষমা চাইছি।</p>



<p>এ আবার কি ? ক্ষমা চাওয়ার কী হল ! দোষ তো আমারই। ব্যক্তিগত কষ্টকে সংস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি। ঠিক আছে, আমি যাব। এমন একটা উদ্যোগ সার্থক হোক&#8212;আমিও মনে-প্রাণে চাই।&#8230;কবে যাব, আমি তোমাকে ফোনে জানিয়ে দেব।</p>



<p>ওরা চলে যাওয়ার পরে&nbsp; কবি-মানুষের ভেতরটা ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠল। উপেক্ষার বিরুদ্ধে, প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থার বিপক্ষে ‘উত্তরবঙ্গ সৃষ্টি সঞ্চয়ন’ যা করতে চাইছে তা আপাতভাবে বৈপ্লবিক মনে হলেও, আদতে কার্যক্রমের নির্যাস এই&#8212;নিজেকেই নিজে পুরস্কৃত করা। দ্বিতীয়ত, এই পুরস্কার কখনই সরকারি সম্মাননার সমতূল্য হতে পারবে না। উত্তরবঙ্গ যেসব লেখকদের আবাসভূমি, তারা এবার নিজেদের চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছে। ‘ আমরা বঞ্চিত, অবহেলিত ’&#8212;একমাত্র এই কারণে, বিস্তীর্ণ রণাঙ্গন থেকে পিছিয়ে আসা কোনওভাবেই গৌরবজনক নয়। কিন্তু এই কঠিন সত্যটি সদস্যদের বোঝানো মুশকিল। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বর্শার মতো স্রষ্টাদের হৃৎপিণ্ডে গেঁথে গেছে। বুদ্ধপ্রতিম স্বয়ং এই হত্যা-উৎসবের শিকার। তবু একবার&nbsp; ও&nbsp; সকলকে বোঝানোর চেষ্টা করবে।</p>



<p>একটা কবিতা কদিন ধরে মাথায় ঘুরছে । লিখে ফেললেই হয়। নিজের ঘরে গিয়ে টেবিলের মাঝামাঝি রাখা চেয়ারে বসতেই, মিতার ছবির দিকে চোখ চলে গেল। পাপুন জন্মাবার পর তোলা ছবি। মিতার মুখে স্মিত হাসিটি লগ্ন হয়ে আছে। সেই সঙ্গে মা হওয়ার আনন্দ-আভাস। ছবিটির ওপরে নিশ্চয়ই সময়ের ধুলো পড়ে গেছে। চোখের পাতা নামিয়ে বুদ্ধপ্রতিম চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তখনই নীরবে ঘরে ঢুকল সাজুনি। দু’হাতে ও ধরে আছে একটা ছোট ট্রে। হাতির দাঁত দিয়ে কারুকাজ করা এই ট্রে-টা ছিল মিতার বড্ড প্রিয়। সাজুনি এক গেলাস জল আর ট্যাবলেটের স্ট্রিপ নিয়ে এসেছে। নার্ভের ওষুধ। একবার বিনা কারণে বুদ্ধপ্রতিম অজ্ঞান হয়ে গেছিল। তারপর থেকে একাধিক চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ&nbsp; অনুযায়ী নার্ভাস সিস্টেম ঠিক রাখার ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়।</p>



<p>সাজুনি টুলে বসল। কাজের মেয়েটি খানিক উসখুস করছে দেখে বুদ্ধপ্রতিম জিজ্ঞেস করল, কিছু বলবি ?</p>



<p>কবিতা লিখে আপনি কোনও প্রাইজ পাননি বলে বউদিও খুব দুঃখ পেত। আপনি জানেন ?</p>



<p>হ্যাঁ, আমি জানি। আমাকে বলত। অবসন্ন স্বরে কবি উত্তর দিল।</p>



<p>আবার অনেক কিছু আপনাকে বলত না। ম্লান হাসল সাজুনি, যেমন সন্ধের দিকে দোকানে-বাজারে বউদিমণি যখন বেরোত, তখন অনেকে ওর দিকে তাকিয়ে সঙ্গের লোককে গলা নামিয়ে বলত, ওই দেখ, কবি বুদ্ধপ্রতিমবাবুর স্ত্রী। আপনি যে মান্য মানুষ তা নিয়ে বউদির গর্ব হত।</p>



<p>হালকা হাসতে হাসতে কবি বললেন, এসব বাজে কথা। আমি কি বিখ্যাত কেউ ? কবিতা লিখি, কাব্য নিয়ে চর্চা করি আর কিছু বই বেরিয়েছে। এই তো আমার অল্প পরিচয় !</p>



<p>দাদাবাবু গো, আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। বউদি যখন নার্সিংহোমে ভর্তি ছিল, সেই সময়ে আপনাকে একটা জিনিস দেওয়ার জন্য়ে, আমাকে চুপিচুপি বলে গেছিল। বউদি নিজের হাতেই আপনাকে এই বছর দিত। কিন্তু সময়ই পেল না। ভগবানের এমনই অবিচার যে, অমন ভালো মানুষটাকে তুলে&#8230;. ডুকরে উঠল সাজুনি। যেন হঠাৎ মনে পড়েছে, এমনভাবে ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।</p>



<p>বুদ্ধপ্রতিম হতভম্ব। কী এমন জিনিস মিতা ওকে দেওয়ার জন্যে সাজুনির কাছে রেখে গেছে ! আশ্চর্য !</p>



<p>কয়েক মুহূর্ত পরেই সাজুনি ফিরে এল। ওর ডান হাতে মিতার দু‘থাকের প্যাঁচওয়ালা সিঁদুর কৌটো। রুপোর তৈরি। সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে, দ্বিতীয় থাকের প্যাঁচ থেকে ও বের করে আনল পাঁচ টাকা মাপের একটা কয়েন। সাজুনি হাত বাড়িয়ে বলল, এই নিন। বউদিমণি আপনাকে এই প্রাইজটা দিয়ে গেছে। বলে গেছে, মন খারাপ করবেন না। খুব আশা করেছে, আপনি সুন্দর, সুন্দর&nbsp; কবিতা লিখবেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>হাত পেতে কবি যা নিল, তা মহারানি ভিক্টোরিয়ার প্রোফাইলের ছাপ মারা পুরনো গিনি। সোনা খানিকটা বিবর্ণ। মুহূর্তে মুচড়ে উঠল বুদ্ধপ্রতিমের বুকের ভেতরটা। মনে হল, ওর সৃষ্টির এমন নিবিড়, নির্মল, নিঃসংশয় স্বীকৃতি, অন্য সব পুরস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/">হিরণ্ময় স্বীকৃতি</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিগূঢ় রুকাইয়া</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 08 Apr 2024 06:58:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Galpo]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali New Year]]></category>
		<category><![CDATA[Bengali Short stories]]></category>
		<category><![CDATA[Poyla Baishakh]]></category>
		<category><![CDATA[sanmatrananda]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7270</guid>

					<description><![CDATA[<p>সে জানত না, কে তার শিয়রে বসে রাত জাগছে, কপালে জলপটি দিচ্ছে, পথ্য তৈরি করে এনে খাওয়াচ্ছে।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/">নিগূঢ় রুকাইয়া</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সন্মাত্রানন্দ <strong></strong></p>



<p>চাঁদের রাতে বানভাসি হলে সুদূর আকাশ থেকে কজ্জলা নদীটিকে ঘুমিয়ে পড়া রূপসীর অসহায় নাভির মতো দেখায়; মধ্যে স্ফীত,&nbsp; দুপাশে শীর্ণ রেখাকার। বস্তুত, উত্তর থেকে দক্ষিণে নেমে আসতে আসতে সুখচরঘাট অবধি কজ্জলা শীর্ণস্রোতা, কিন্তু তারপর হরিহরপুর আর চন্দনমাটি—এই দুই গাঁয়ের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় নদীটি যেন প্রেমভরে পৃথুলা হয়েছে। আবার চন্দনমাটি ছাড়িয়ে আরও দক্ষিণে যুগলকিশোরের ঘাটের কাছে বাঁক নিয়ে আকার তার তপোক্লিষ্ট সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে। এরপর শুধু ঝিঁঝিডাকা গহন অরণ্যকে দুপাশে রেখে নিরালা বান্ধবীর মতো সে একা একা আরও দক্ষিণে বহে যায়। ঘুমের মধ্যেও তার বহে যাওয়া থামে না। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>এখন অবশ্য জ্যোৎস্নার রাত নয়, এখন আতপ্ত মধ্যাহ্নবেলা। কাজলার স্রোত বেয়ে মাঝনদীতে একটি ডিঙিনৌকা হরিহরপুর থেকে চন্দনমাটির দিকে আসছে। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>ঠিক। কিন্তু আমার মনে হয়, এইভাবে এত দূর থেকে দেখলে গল্পটাই আরম্ভ করা যাচ্ছে না। কারা আছে সেই ডিঙিতে, কেন আসছে তারা এদিকে, কী কথা বলছে তারা পরস্পর, সেসব খুঁটিয়ে দেখা চাই, শোনা চাই। তা না হলে কি আর গল্প গড়ে ওঠে?</p>



<p>অথবা গল্প হয়তো গড়া হয়েই আছে এ মায়াভুবনে। আমার দেখার চোখ নেই, শোনার কান নেই; তাই এই কাজলার চরে বেভুল হয়ে বসে আছি প্রেমহীন, পরিণতিবিহীন।</p>



<p>ডিঙিনৌকাটার কাছাকাছি গেলাম এবার। দুটি মাত্র লোক। একজন ডিঙা বাইছে, তার পরনে মলিন লুঙ্গি, ঊর্ধাঙ্গ অনাবৃত, মুখে আধপাকা দাড়িগোঁফ; রোদে পুড়ে জলে ভিজে গায়ের রং তামাটে হয়েছে। অন্যজন নৌকার অন্যধারে জবুথবু হয়ে বসে আছে, পরনে ধুতি, ঊর্ধ্বাঙ্গে ফতুয়া একখানা, এরও মুখে দাড়িগোঁফ, এলোমেলো চুল মাথায়, উন্মনা দৃষ্টি মেলে জলের দিকে তাকিয়ে বসে আছে সে গৌরবর্ণ। &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>যে-লোকটা ডিঙা বাইছে, ধরে নেওয়া যাক, তার নাম হামিদ শেখ। আর নৌকার অপর প্রান্তে বিমর্ষদৃষ্টি মানুষটার নাম, ধরে নিচ্ছি—ধনঞ্জয় সাহা। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধরে নিচ্ছি নয়, ওগুলোই ওদের আসল নাম। দাঁড় টানতে টানতে হামিদ কাষ্ঠ হাসি হেসে ধনঞ্জয়কে বলল, ‘চন্দনমাটির হাটে যে যাতিছ, ধনঞ্জয়, তেনাকে আজ সেখেনে পাবে, তার কি নিশ্চিত? তিনি তো আর তোমার কাছে ওয়াদা করেননি যে, প্রতি শুক্কুরবার চন্দনমাটির হাটে আসি তিনি তোমার জন্যি বসি থাকবেন!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>জলের দিক থেকে উদাস চোখ না-সরিয়েই একটু পরে ধীরে ধীরে উত্তর দিল ধনঞ্জয়, ‘সে-কথা তুমি ঠিকই বলিচ, হামিদ! তিনি মুসাফির মানুষ, আজ এখেনে তো কাল সেখেনে। তবু যদি তিনি আসেন&#8230; যদি দয়া হয়&#8230; আমার আশা হয়, তিনি আসবেন আজ চন্দনমাটির হাটে।’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>‘ওই আশা করেই তো মল্লে, ধনঞ্জয়। জমিজমা গেল, বাড়িঘর ভাঙি পড়তিছে, রূপ-যৈবন জলাঞ্জলি হল, কত বড় ঘরের ছেল্যা তুমি, দশ বছরে সব শেষ। একজনের জন্যি বসি থেকি থেকি এমন দুরবস্তা করিচ নিজের। এখন আবার আরেকজনের আশায় আশায় নিজেকে পোড়াকাঠ কচ্চ বসি বসি। তোমার বুদ্ধির বলিহারি&#8230; ন্যাও, ন্যাও, বিড়ি ধরাও&#8230; তোমাকে দেখি আমারই বুক জ্বালা করতিছে,’ কথাগুলো বলতে বলতে নদীর হাওয়া থেকে আগুন বাঁচিয়ে নিজে বিড়ি ধরালো হামিদ। তারপর বিড়ির বাণ্ডিল আর দেশলাই ধনঞ্জয়ের দিকে বাতাসে ছুঁড়ে দিল। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>বিড়ি খেতে ইচ্ছে জাগছিল না ধনঞ্জয়ের। তবু বিড়ি না নিলে রাগ করবে হামিদ, এই কথা ভেবে বিড়ির বাণ্ডিল থেকে একটা বিড়ি টেনে বের করে কোনোমতে ধরালো সে। ভল্‌ ভল্‌ করে একমুখ নীলচে ধোঁয়া ছেড়ে এবার গলুইয়ের উপর ঘুরে বসে চন্দনমাটির দিকে আশাভরে চেয়ে রইল। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>দুই তিন টান মেরে হামিদ জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার হইচেটা কী, বলবে না মোকে? শরীল খারাপ?’</p>



<p>‘শরীল ঠিকই আছে, হামিদ ভাই। মনটা বেজায় খারাপ হইচে!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>‘সে তো বুজতেই পাচ্চি, কিন্তু মন খারাপ হল কী কারণে? আবার কে ব্যাতা দিল?’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>হামিদ শেখের কথায় ম্লান হাসল ধনঞ্জয়। বলল, ‘ব্যাতা নয়, ভাই, অশান্তি। তা সেই কতা মুরশিদকেই গিয়ে বলব না হয়। তখন তুমি শুনো।’&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>বিরক্ত হয়ে নদীজলে পোড়া বিড়িটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে হামিদ বেজার স্বরে উত্তর দিল, ‘আমার বয়েই গ্যাচে ওই সব আটভাট শুনতি। চন্দনমাটি থিকে হাট সের&#x200d;্যে আমি বেলা পড়তি না পড়তিই দুয়েকজন হাটফেরতা লোক নৌকায় তুলি হরিহরপুর ফিরি যাব। তুমি ততক্ষণ তোমার মুরশিদের সাদা দাড়ি মেহেন্দি দে রাঙাও বসি বসি। আমি দেখতিও যাবো না, শুনতিও যাবো না। যত্তোসব বে-ফিকির কাজকাম!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>হামিদ শেখ নিতান্তই বিরক্ত হয়েছে দেখে ধনঞ্জয় বলল, ‘আরে চটো ক্যানে, মিঞাভাই? রাতে আমার ঘুম হয় না মোটে আজ কত দিন হল&#8230; তাই যাতিছি মুরশিদের কাছে&#8230;যদি কোনো উপায় করি দ্যান তিনি&#8230;’ &nbsp;</p>



<p>হামিদ মুখ খিঁচিয়ে বলে উঠল, ‘ক্যানে? তোমার মুরশিদ আব্বাস গনি শাহ্‌ কি এখন আবার হেকিমি ধরেচে, নাকি? ওষুদ গিলিয়ে তোমাকে ঘুম পাড়াবে?’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>উত্তরে কিছু বলল না আর ধনঞ্জয়। সেসব কথা হামিদকে বলা অর্থহীন। হামিদ বুঝবে না। এটা ঠিক যে, হামিদ শেখ ধনঞ্জয়কে ভালোবাসে সত্যিই খুব। ছোটোকালের মিতে তার। ধনঞ্জয়ের অনেক কথাই সে জানে, কিন্তু ইদানীং যে-সমস্যা ধনঞ্জয়কে ভিতরে ভিতরে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে, সেই সমস্যার মাথামুণ্ডু হামিদ বুঝবে না বলেই ধনঞ্জয় আর মুখ খুলছে না। তা সে যতই রাগ দেখাক আর যাই করুক। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আরও পড়ুন &#8211;</p>


<div class="rpwwt-widget"><ul class="blog_inner_pg"><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-hiranmoy-swikriti-by-harshsa-dutta/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/WhatsApp-Image-2024-03-28-at-5.36.04-PM-scaled.jpeg" />হিরণ্ময় স্বীকৃতি</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan, Galpo</div></li><li class="prescription"><a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-baishakhi-haoa-by-anindita-patra/"><img width="50" height="50" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2024/04/বৈশাখী-হাওয়া-scaled.jpg" />বৈশাখী হাওয়া</span></a><div class="rpwwt-post-categories">In Bongodarpan</div></li></ul></div>



<p>কিন্তু হামিদের রাগ দীর্ঘস্থায়ী হল না। ক্রমশ যতই ডিঙিনৌকাটি চন্দনমাটির দিকে ভিড়তে লাগল, কজ্জলার স্বচ্ছ জল তীরভূমির মাটি মেখে যতই গেরুনিম হতে লাগল, হামিদের ক্রোধ-পারুষ্য-অভিমান ততই গাঢ়তা হারিয়ে ফিকে হয়ে যেতে লাগল। কেমন একটা নরম পলির গন্ধ গ্রাস করতে লাগল হামিদের মন। গলুইয়ের উপর উঠে দাঁড়িয়ে লগি দিয়ে ঠেলে নৌকাকে তীরবর্তী করছিল হামিদ ধীরে ধীরে; কিছুদূর এইভাবে যাওয়ার পর সহসা ধনঞ্জয়ের দিকে সরে এল সে একবার। ডিঙা টলমল করে উঠল তাতে, কিন্তু সে-টালমাটাল সামলাতে তেমন অসুবিধে হল না তার। ওর মধ্যেই ধনঞ্জয়ের চোখে তীক্ষ্ণ চোখ রেখে বলল হামিদ, ‘রাতে ক্যানে তোমার ঘুম হয় &nbsp;না, আমি কি জানিনি ভাবিছ, ধনঞ্জয়? রুকসানা—সে তো আমারই ভাতিঝি—তার সব খবরই আমি রাখি, সে মেয়াঁ এখন তার নানুবাড়িতে আচে—ওখেন থেকেই তার শাদি হই যাবে। তুমি ও রুকসানার আশা এবার ছাড়ো। এমনিতেই গাঁয়েঘরে তোমাদের দুজনকে নিয়ে অনেক কতা চালাচালি হতিছে বহুদিন হল। তুমি জাতপাত মানোনি, কিন্তু তা বলেই গাঁয়ের লোক কি বেবাক কানাবোবা হই যাবে? তা হয় না, ধনঞ্জয়, তা হয় না। ও আশা তুমি ছাড়ো। রুকসানা এখেনে ফিরি আসবে না আর&#8230;’&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>হামিদের দিকে ভাবলেশহীন দৃষ্টি মেলে কথাগুলো শুনল ধনঞ্জয়। তারপর জলের দিকে চোখ নামিয়ে নিয়ে আপন মনে বলল, ‘আশা তার আমি আর কচ্চি, কে তোমাকে বল্লো, হামিদভাই? আমি জানি, সে আর আসবেনি। খুব কষ্ট হত পেথম পেথম, তারপর মুরশিদ আব্বাস গনি শাহ্‌-কে পেলাম। তিনি আমার এ রোগের নিদানও বলে দিলেন। কিছুদিন শান্তিও পেলাম, কিন্তু আবার&#8230; এবার আর কষ্ট নয়, শুধু কী যে এক অশান্তি&#8230;’</p>



<p>কিন্তু ধনঞ্জয়ের শেষ কথাগুলো আর হামিদ স্পষ্ট শুনতে পেলো না। ততক্ষণে নৌকা চন্দনমাটির দিকের তীরে এসে লেগেছে। ডিঙা সামলে ঘাটে বাঁধতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল হামিদ। শুধু বিড়বিড় করে বলল একবার, ‘দ্যাখো হাটে গে যদি তেনাকে খুঁজে পাও। যে-রোগের যে-ডাক্তার, আমরা আনজন আবাল মানুষ, আমরা আর কী বুঝব এসব&#8230;’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>হামিদ বুঝুক আর না বুঝুক, আমরা অবশ্য এতক্ষণে খানিকটা হলেও বুঝেছি, কারা আসছে নৌকা চেপে চন্দনমাটির দিকে, কেন আসছে, কী উদ্দেশ্যে আসছে। খানিকটা বুঝলেও সবটা বুঝতে পারিনি এখনও। তা কথায় আছে, সবুরে মেওয়া ফলে। সবুর করেই দেখা যাক না হয়। এরই মধ্যে জল ছেড়ে ডাঙায় নেমেছে ওরা দুজন। হাটের দিকেই যাচ্ছে গুটি গুটি। ধনঞ্জয় সামনে, হামিদ শেখ পেছনে। হামিদের সঙ্গে অবশ্য আর দেখা হবে না আমাদের। এর পর সে এ গল্প থেকে বেরিয়ে যাবে।</p>



<p>দুই</p>



<p>কজ্জলার চর ধরে কিছুটা এগোলেই হাটখোলা পড়ে। আজ একে শুক্রবার, তায় বেলা পড়ন্ত। হাট বেশ জমে উঠেছে। ধনঞ্জয় একা একা হাটে ঘুরছিল। তার চোখ দুটো আব্বাস গনি শাহ্‌-কে খুঁজছে। শুরুর দিকটায় ময়রারা মিষ্টির পসরা নিয়ে বসেছে। বড়ো বড়ো লোহার কড়ায় চিনির রসে মুগের জিলিপি ভাজছে। নানারকম মণ্ডা, মিষ্টি, সিঙাড়া, চপ, তেলেভাজার দোকান। সেই সব সুঘ্রাণ খাদ্যদ্রব্যের দোকান পেরিয়ে শাকসবজির বাজার। &nbsp;চারপাশের সাত গ্রাম থেকে ঝাঁকায় করে শাকসবজি নিয়ে এসে ব্যাপারিরা বসেছে অনেকটা জায়গা জুড়ে। তারপর ঘর-গেরস্থালির দোকান সব&#8230;রান্নার সামগ্রী&#8230; ঝাঁঝরি, হাঁড়িকুড়ি, হাতা, বেড়ি, খুন্তি&#8230; তারপর কৃষিসামগ্রী&#8230; গোরুর গাড়ির চাকা, লাঙল, মই, নিড়ানি, খইল, সার&#8230; সেসব পেরিয়ে গোহাট&#8230; বড়ো বড়ো গোরু-বলদের বেচাকানা&#8230; গোবরের গন্ধে আর দরদামের শব্দে তিষ্ঠানো দায়। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আরও কিছুটা পেরিয়ে গেলে মেয়েদের সাজসজ্জা&#8230; ‘রংপরং’ কাচের চুড়ি, ‘খুকুমণি’ তরল আলতা, ‘মনে রেখো’ পাতাটিপ, ‘কাছে এসো’ কাজল, ‘ভুলিয়ো না’ নেলপালিশ, ‘হৃদি সুরভিত’ স্নো-পাউডার, ‘ফিরে দেখো’ রঙিন ফিতের রিল দোকানগুলোর সামনে সব বাহার তুলে নদীর বাতাসে দুলছে। এ দোকানের চারদিকে কমবয়েসি মেয়েদের গলা, হাসিঝিলিৎ&#8230; ওদিকে একবার অন্যমনস্ক চেয়েই মুখ নামিয়ে নিল ধনঞ্জয়, আর চোখ তুলে তাকালোও না ওদিকে। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অবশিষ্ট দিনমান সে হাটে ঘুরে ঘুরে আব্বাস গনিকে খুঁজল। কিন্তু কোথাও দেখতে পেল না তাঁকে। এর আগে বার চারেক চন্দনমাটির হাটে সে এসেছে। প্রতিবারই এই বেলাসমাপ্তির দিকে আব্বাস গনি-র দেখা পেয়েছে। কোথাও দাঁড়িয়ে হয়তো গানবাজনা করছেন, নয়তো ভিড়ের মধ্যে গলা বাড়িয়ে নিজেই রং-তামাশা দেখছেন। কিশোর বালকের মতো সরল কৌতূহলী দৃষ্টি। গলা থেকে ধুলামাখা খালি-পা পর্যন্ত একটা শতচ্ছিন্ন তালিমারা জোব্বা পরা, মাথায় বাসন্তী রঙের পাগড়ি, কালো কুচকুচে দাড়িগোঁফ, গালে গালপাট্টা, মুখের আর কপালের চামড়ায় অজস্র বলিরেখার কাটাকুটি। হাতে একখানা দোতারা; ইচ্ছে হলে বাজান, না-হলে নেই। আব্বাস গনি-র গলাটি সুখশ্রাব্য; গান গাইবার সময়েতে অনেক উপরের গ্রামে উঠে যেতে পারে, আবার খাদে নেমে এসে কালো ভোমরার মতো গুঞ্জরায়। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>আজ কিন্তু সারা দিন সারা হাটে মুরশিদের দেখা মিলল না। অগত্যা ক্লান্ত হয়ে পড়ে ধনঞ্জয় হাটের আঁচল যেখানে ফুরিয়ে এসেছে, সেইখানে নদীচরায় ঝাঁকড়া একটা প্রাচীন তেঁতুলগাছের নীচে এসে বসল। মন তার আরও হতাশ হয়েছে ঠিকই, ভাবছে কী করবে এখন। সেই প্রথম দিনটার কথা মনে পড়ছে খুব হুহু করে, সেই যেদিন আব্বাস গনি-র সঙ্গে প্রথমবার দেখা হয়েছিল এই হাটে এই বৃক্ষটির তলায়। আব্বাস হাঁটু মুড়ে তেঁতুলতলায় বসে চোখ মুদে কী একটা সুর গুনগুন করছিলেন আর টুং টাং করে দোতারা বাজাচ্ছিলেন আনমনে। সে বড়ো কঠিন সময় ছিল ধনঞ্জয়ের, বড়ো কঠিন সময়; আব্বাস গনি না বাঁচালে হয়তো তার মাথাটাই খারাপ হয়ে যেত। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধনঞ্জয় সাহারা হরিহরপুরের পাঁচ পুরুষের বাসিন্দা। এক সময় জমিজমা অনেক ছিল; বিত্তবান, সম্পন্ন পরিবার। তারপরে সাহা-পরিবারের প্রায় সকলেই এক এক করে ভিনগাঁয়ে কিংবা কলকাতায় অথবা আরও কোনো বড়ো শহরে চলে গেল। পড়ে রইল খালি ধনঞ্জয় আর এক বুড়ি পিসি—যিনি শৈশবে মাতৃপিতৃহীন ধনঞ্জয়কে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছিলেন। সরু সরু ইটে গড়া এত বড়ো দোতলা বাড়ি, এই উঁচু পাঁচিল, প্রশস্ত বাগান, ছড়ানো চবুতরা—সব ভেঙে পড়ছে, পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেশিরভাগ ঘরেরই জরাজীর্ণ দশা। দিনমানে শেয়াল ঢুকে পড়ে আর কি! যে-অংশটা ধনঞ্জয়ের ভাগে, সেদিকটার অবস্থাও মোটেই ভালো নয়—তবু কালের গ্রাস থেকে দুখানা ঘর আর একটা হেঁসেল কোনোমতে আলাদা করা গেছে। &nbsp;</p>



<p>তা এই বাড়িতে হামিদদের পরিবার কাজবাজ করে আসছে কয় পুরুষ ধরে কে জানে! হামিদের সঙ্গে শিশুকাল থেকেই ধনঞ্জয়ের বন্ধুত্ব; দুজনেই &nbsp;একসাথে বিদ্যালয়ে পড়ত। হামিদ পড়া ছেড়ে দেয় ক্লাস এইটে উঠে। ধনঞ্জয়েরও পড়াশোনায় তেমন মাথা ছিল না; ক্লাস টেন অবধি সে এগিয়েছিল কোনোমতে। তারপরে ধনঞ্জয় নিজেদের ধানকোটা কলের ব্যবসায় মন দেয়। সেভাবেই চলছিল। তারপর হঠাৎ ম্যানেনজাইটিসের কবলে পড়ল ধনঞ্জয়। ভয়ানক অসুখ, বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম—শহরে নিয়ে যাওয়ার মতন লোকবল নেই, চালকল বন্ধ হয়ে থাকায় পয়সাকড়িও তেমন নেই; গ্রাম্য চিকিৎসা আঁকড়ে পড়ে ছিল মরণের দিন গুণতে গুণতে। বুড়ি পিসি নিজেই নিজেরটা পেরে উঠতেন না কিছু, তা ধনঞ্জয়ের সেবা করবেন কেমনে?&nbsp;&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সবাই ধরে নিয়েছিল, ধনঞ্জয় মরে যাবে। কিন্তু সে বেঁচে উঠল। বেঁচে উঠল শুধু একজনের অক্লান্ত শুশ্রূষায়। সেই একজন—হামিদের ভাইঝি রুকসানা।&nbsp;</p>



<p>সম্পর্কে হামিদের ভাইঝি, কিন্তু তার বয়েস হামিদ কিংবা ধনঞ্জয়েরই কাছাকাছি। জ্বরের ঘোরে পড়ে থাকত ধনঞ্জয় বেঁহুশ হয়ে। সে জানত না, কে তার শিয়রে বসে রাত জাগছে, কপালে জলপটি দিচ্ছে, পথ্য তৈরি করে এনে খাওয়াচ্ছে। ধীরে ধীরে হুঁশ যখন ফিরতে লাগল, ততদিনে রুকসানা যেন ধনঞ্জয়ের রোগশয্যার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। এ বাড়িতেই কাজ করত রুকসানা, কাজেই অপরিচিতা সে একেবারেই নয়, কিন্তু তাকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন বা অবকাশ—কিছুই হয়নি এর আগে। ধীরে ধীরে রুকসানার পরিচর্যায় ভালো হল ধনঞ্জয়; অসাধ্য-সাধন করে রুকসানা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিল যমের মুখ থেকে।</p>



<p>কিন্তু এই মরণের ঘর থেকে ফিরে আসার পথে যেন মুখোমুখি দেখা হল দুজনের, পরস্পর চোখে চোখে তাকিয়ে এ ওর মনের কথা পড়তে পারল, ভালোবাসল। যেমন করে বিকেলের রোদ ভালোবাসে নদীর চর। যেভাবে ডিঙানৌকা ভালোবাসে কজ্জলার স্রোত। ধীরে ধীরে ধনঞ্জয়ের ফিরে আসা জীবনের সঙ্গে কখন যেন অতর্কিতে জড়িয়ে গেল রুকসানা।</p>



<p>রুকসানা পড়ে থাকত ধনঞ্জয়ের ভিটাতেই; তা এ নিয়ে কথা হবে না গ্রামীণ সমাজে? হল। তার উপর আবার এরা হিন্দু, ওরা মুসলমান—এমন সম্পর্ক নিয়ে ছিছিক্কারের কালি ছেটাতে কি আর দ্বিধা করে গ্রাম্য সমাজ? সেসব কথা চাপা দিতেই রুকসানার বাড়ির লোকজন মেয়েকে পাঠিয়ে দিল কলকাতায় তার নানার বাড়িতে। ভোরের শুকতারা রোদ উঠতেই লুকিয়ে গেল। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>এ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছিল, তার সবটাই শুধু বাস্তব জীবনেই নয়, যেকোনো বাস্তবনিষ্ঠ ভালোবাসার গল্পেও হামেশাই ঘটে থাকে। যদি এইটুকুই হত, তাহলে ধনঞ্জয় না হয় কষ্টেসৃষ্টে রুকসানাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করত। তারপরে বিয়ে-থা করত অন্য কোনো মেয়েকে, স্ত্রীসন্তান নিয়ে আর পাঁচজনের মতনই জীবন কাটিয়ে দিত ধনঞ্জয় তারপর। এভাবেই বেশিরভাগ মানুষের জীবন কাটে, এসব নিয়েই মানুষ বাঁচে—তাতে তো কোনো দোষ নেই। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>কিন্তু তা হল না। হল না কেন?</p>



<p>তিন &nbsp;</p>



<p>হল না, কেননা বহু চেষ্টা করেও রুকসানাকে মুছে ফেলতে পারল না ধনঞ্জয় মন থেকে। হয়তো তার মন দুর্বল, কিংবা সে অতিশয় স্মৃতিপ্রবণ। ক্রমাগত তার মনকে অনুপস্থিত রুকসানা যেন অদৃশ্য আকর্ষণে টানতে লাগল।&nbsp; মনে হতে লাগল, রুকসানা যেন এ বাড়িতেই আছে, হয়ত রান্নাঘরে কাজ করছে, এখুনি ডাক দিলে হরিণীর মতো ছুটে আসবে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ধনঞ্জয়ের মনে হত, কার যেন কাজলপরা দুটি চোখ শয্যার শিয়রে নির্নিমেষ দৃষ্টি মেলে তার দিকেই চেয়ে আছে। এ গ্রামে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট লেগেই আছে, কোনো কোনো দিন কারেন্ট না থাকলে, মাথার কাছে &nbsp;টেবিলের উপর জ্বলতে থাকা হ্যারিকেন মাঝরাতে কেরোসিনের অভাবে নিভে যাওয়া মাত্র ধনঞ্জয়ের মনে হত, কে যেন এই মাত্র হ্যারিকেনের পলতে ঘুরিয়ে আলো নিভিয়ে দিল। ধনঞ্জয় বালিসে মাথা রেখে খোলা জানালাটার দিকে তাকাত, মনে হত জানালার রেলিং ধরে অস্পষ্ট অন্ধকারে কে যেন বাইরে থেকে তাকে আকুল দুটি চোখ মেলে দেখছে। জানালার ওপাশে অবিশ্রান্ত বনজঙ্গল চান্দ্রমায়ায় অনিয়ত ছায়ারূপ ধরে স্তব্ধ হয়ে আছে। একটা গুলঞ্চ ফুলের গাছ তার ঊর্ধ্বমুখী আঁকাবাঁকা শাখাপ্রশাখা চাঁদের আকাশে তুলে ধরেছে অপরিপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা-সমুচ্চয়ের মতো। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সেদিক থেকে পাশ ফিরে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে চাদরে মাথা ঢেকে ঘুমোনোর চেষ্টা করত ধনঞ্জয়। হঠাৎ মনে হত তার, কে যেন ঘরের অন্ধকারের মধ্যে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এসব মনের ভুল—এই কথা নিজেকে কতবার বোঝাত ধনঞ্জয়। ঘুমিয়েও পড়ত সে, কিন্তু মাঝরাতে ঘুম ভেঙে চমকে উঠে তার মনে হত, কে যেন তার বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে একই শয্যায় শুয়ে &nbsp;আছে, দুটি কোমল বাহুলতার আতপ্ত বন্ধনে তাকে সর্বাঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে। বিছানা থেকে উঠে পড়ত ধনঞ্জয়, জল খেত ঢক ঢক করে, বিড়ি ধরাত অন্ধকারে। রাত্রি নিশুত; জানালার ওদিকের বনভূমির মাথায় ক্লান্ত চাঁদ হেলে পড়েছে। নিজেকে বলত ধনঞ্জয়—‘এসব আমার মনের ভুল। রুকসানা তো চলে গেছে কতদিন হল। সে তার নানার বাড়িতে কলকাতায় আছে। সেখানেই তার বিয়ে হয়ে যাবে ভালো ঘরে। এখানে এ গাঁয়ে তার না-ফেরাই ভালো আর। এখানে লোকজন বহু কথা কয় তাদের নিয়ে। কলকাতায় সুখে থাক রুকসানা!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>রাত চলে গেলে, দিন এলে, ধানকোটা কলের দোকানঘরে বসে থেকে থেকে সে ভাবত, রুকসানা তো বেঁচে আছে। সে তো মরে গিয়ে ভূত হয়ে যায়নিকো! তাহলে রাত্রিকালে তার এই যে সব অনুভব—এসব কোনো প্রেতচ্ছায়া নয়, এসব তার মনের ভুল। তার অপরিসমাপ্ত প্রেমের, অপরিপূরিত আকাঙ্ক্ষার ফল। এখনই যদি সে বাস ধরে কলকাতা যায়, যদি ফুলবাগানে রুকসানার নানাবাড়িতে যায়, তাহলেই তো ধনঞ্জয় এখনই রক্তমাংসের বাস্তব রুকসানার দেখা পেয়ে যাবে। &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>কিন্তু সে-কথাটা ভাবলেই ভয়ে বুক অসাড়, হিম হয়ে যেত ধনঞ্জয়ের। বাস্তব রুকসানার সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়া যেন কী ভয়ের একটা ব্যাপার! সমাজের কানাকানির ভয় নয় তা একেবারেই। অন্য একপ্রকার ভয়। তার মনে হত, বাস্তব সেই রুকসানা—তার সঙ্গে দেখা হওয়া—সে যে কী আতঙ্কের ব্যাপার হবে! রাতের পর রাত যে-রুকসানাকে সে কল্পনা করে চলেছে, আদর করে চলেছে, আস্বাদ করে চলেছে&#8230; কল্পনা নয় জ্যান্ত&#8230; কল্পনা যে কীভাবে জ্যান্ত হয়&#8230; কেমন করে সে বোঝাবে কাউকে&#8230; সেই কল্পজিয়ন্ত রুকসানাকে যদি সে হারিয়ে ফেলে বাস্তব রক্তমাংসের রুকসানাকে দেখে? তখন কী হবে? বাস্তব রুকসানাকে তো পাবেই না সে কোনোদিন পরিমাপযোগ্য অভিজ্ঞতার ভিতর, তার উপর এই কল্পজিয়ন্ত রুকসানাকেও মনে মনে কাছে পাওয়ার যে-অভিজ্ঞতা, তাকে স্পর্শ করার, তার সঙ্গ-আসঙ্গ, সাধ-অসাধের খেলা—সেও যদি শেষ হয়ে যায়, তবে তখন কী নিয়ে আর বাঁচবে ধনঞ্জয়? &nbsp;</p>



<p>কলকাতায় যেন তার কখনই যাওয়া না হয়! যেন কোনোদিন আর বাস্তবে তার দেখা না হয় রুকসানার সঙ্গে! ধনঞ্জয় মনে মনে বলে। &nbsp;</p>



<p>মনের একটা অংশ বলত, ‘চলো না, চলো না কলকাতা যাবে, রুকসানাকে একবার চোখের দেখা দেখে আসবে। ছুঁতেও পারবে হয়তো!’&nbsp;</p>



<p>মনের আরেকটা অংশ বলত, ‘না-না! যেও না, যেও না কলকাতা শহরে। তাহলে তোমার ঘরে রাতের বেলা রুকসানা আসবে না আর। আর তাকে বুকের মধ্যে পাবে না ঘুমের মধ্যে। তার চোখের পাতায় চুমা দিয়ে ঘুম পাড়াতে পারবে না আর তুমি। এক মুহূর্তের দেখা-শোনার লোভে সারা জীবনের এত তৃপ্তি, এত সুখ, এত অসাধ্য সাধ হারিয়ে ফেলো না তুমি, ধনঞ্জয়!’&nbsp;&nbsp;&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সমস্ত দিন মনের ভিতর এই দ্বিমেরু দ্বৈরথ ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলছিল ধনঞ্জয়কে। যুদ্ধ করতে করতে অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছিল মন। শরীর ক্ষয়ে আসছিল দিনে দিনে। শুধু একটা নির্জন ঘর, নীরস ধানকোটা কলের দোকান, বুড়ি পিসি, বিস্বাদ আহার, কুৎসিত কুৎসাপ্রিয় গ্রামের লোকজন—এই সব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজের কাছে ফিরে এসে রাতে রুকসানাকে গভীরভাবে ভাবত ধনঞ্জয়, কাছে পেত রাত্রিকালে গভীরভাবে&#8230; তবু ভোরের আলো ফুটলেই ফুরিয়ে ফেলত সে নিজেকে। রুকসানাকেও। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধনঞ্জয় বুঝতে পারছিল, সে ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। তার কেউ নেই, যাকে এসব বলবে। রুকসানা ছাড়া আর কেউ কোনোদিন আপন হবেও না তার। রুকসানা এ তার কী করে দিয়ে গেল! শিশিরভেজা ধানক্ষেতের আলে শুয়ে থাকত সে ভোরবেলায়, মনে হত মাঠের সমস্ত কুয়াশা, শিশির, পাতাকুটো, খড়, মাকড়সার জাল তার গায়ের উপর জমে জমে তাকে মাটির নীচে ঘুমের দেশে নিয়ে চলে যাক। এই মানসিক অস্থিরতা থেকে, দ্বন্দ্ব থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে সে একটু ঘুমোবে—যে-ঘুমে স্বপ্নের ফেনাটুকুও নেই, রুকসানাও নেই, এমন এক গভীর নিতল ঘুম। তবু সে ঘুমোতে পারত না। রুকাইয়ার মুখ যেন হাসি-হাসি হয়ে তার মুখের উপর দূরের নীল আকাশের মতন ঝুঁকে পড়ত।&nbsp; &nbsp;</p>



<p>এমনই একটা সময়ে কোনোদিন কী জানি কোন ভাবাবেগে সে চন্দনমাটির হাটে এসে আব্বাস গনি-র দেখা পেয়েছিল এই প্রাচীন তেঁতুলগাছটির তলায়। আব্বাস গনি হাঁটু মুড়ে তেঁতুলতলায় বজ্রাসনে বসে চোখ বুজে কী একটা সুর ভাঁজছিলেন আর অন্যমনস্ক ভঙ্গিমায় দোতারাটা বাজাচ্ছিলেন আপনমনে। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>কিছুক্ষণ পরে দোতারা আর গান থামিয়ে সুরমা-পরা বড়ো বড়ো চোখ খুলে হাসিমুখে ধনঞ্জয়ের দিকে চাইলেন আব্বাস গনি। চেয়েই আছেন, চেয়েই আছেন—সে যেন অতল চোখের চাওয়া। ধনঞ্জয়ের অসোয়াস্তি হচ্ছিল। অবশেষে তিনি মুখ খুললেন। বলে উঠলেন, ‘মাশুকের জন্যে দেওয়ানা হয়েছিস, আশেক! মাশুক তোর থেকে কত দূরে?’</p>



<p>অবাক হয়ে গেছিল ধনঞ্জয়। ইনি তার জীবনের কথা, তার মনের কথা কীভাবে জানলেন? তবে কি আব্বাস ফকিরের কোনো অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা আছে?</p>



<p>যেন ধনঞ্জয়ের মনের কথা বুঝতে পেরেই ঝোড়ো হাওয়ার মতো হো-হো করে হেসে উঠলেন আব্বাস গনি। হাসতে হাসতেই বললেন, ‘আমার কোনো তেলেসমাতি কারবার নাই রে, দোস্ত। যদি থাকত, তাহলে তো তোর মাশুকের নামটাও বলে দিতে পারতাম। বল, কী নাম তোর মাশুকের? সে তোর থেকে কত দূরে?’</p>



<p>ধনঞ্জয় ভয়ে ভয়ে বলেছিল, ‘তার নাম রুকসানা। আমার থেকে অনেক দূরে সে এখন, হুজুর!’</p>



<p>তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বললেন আব্বাস ফকির, ‘ধুর, পাগল! কোথায় সে দূরে? মাশুক কি আশেককে ছেড়ে দূরে থাকতে পারে নাকি? কাছেই সে আছে। তোর গলার শিরা তোর থেকে যতটা কাছে, তার থেকেও বেশি কাছে আছে তোর মাশুক।’</p>



<p>‘কিন্তু হুজুর, আমি তো তা বুঝতে পারছি না।’</p>



<p>আব্বাস গনির দুই চোখ জলে ভরোভরো পুকুর হয়ে উঠল কেন যেন। কীসব চিন্তা করে পাশে পড়ে থাকা ঝোলা থেকে একটা স্ফটিকের মালা বের করে আপনমনে জপ করতে লাগলেন। তাঁর দুই গাল বেয়ে অশ্রুর ধারা নামল। কিছুক্ষণ জপ করার পরে মালাটি ধনঞ্জয়ের হাতে দিয়ে বললেন, ‘এই মালাতে তুই জপ করিস, বেটা! সব বুঝতে পারবি।’</p>



<p>কিন্তু কী জপ করবে ধনঞ্জয়? তার তো কোনো মন্ত্র নেই। &nbsp;</p>



<p>নিচু স্বরে বলল ধনঞ্জয় তখন আব্বাস ফকিরকে, ‘বাবা, তাহলে আমাকে কোনো মূলমন্ত্র দ্যান, যাতে খুদা পহ্‌চান হয়ে যায়!’&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অমনই আবার হা-হা করে হেসে উঠলেন আব্বাস গনি। জোরে জোরে বললেন, ‘খুদা? খুদ-ই খুদা রে বান্দা! কিন্তু সেই খুদা-কে তুই কি দেখেছিস? দেখা যায়? যাকে তুই দেখিসনি, তার নাম তুই জপ করবি কী করে? শোন। তুই এই মালায় তোর মাশুকের নামই জপ করবি।’</p>



<p>‘মাশুকের নাম? মানে রুকসানার নাম?’ নিতান্ত অবিশ্বাসের সুরে প্রশ্ন করল ধনঞ্জয়। মালায় ভগবানের কোনো নাম জপ করা হয়, এমনই তো সে জানত! রুকসানা তো ভগবান নয়, সে তো মানুষ! &nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, রুকসানা-র নাম,’ জোরের সঙ্গে বলে উঠলেন ফকির, ‘যে রুকসানা, সে-ই রুক্মিণী। যে-রুক্মিণী, সে-ই রুক্মিণীনাথ। এসব বড়ো গুহ্য কথা, বাপ। এখন এসব কিছুই তোর দিলদিমাগে সেঁধুবে না। যা বললাম, তাই-ই কর। রুকসানার নাম কর এই মালায়। প্রথম প্রথম গা-হাত-পা আউটাবে, মন উচাটন হবে। কিন্তু খবরদার! জপ ছাড়িসনি। খুব ভালোবেসে তোর মাশুকের নাম করে যা রে! দেখবি, তোর মাশুক তোর ভিতরেই বসে আছে। যা, যা, পালা!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>বলতে বলতে ঝোলা, দোতারা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন আব্বাস গনি। এক মুহূর্ত পরেই তেঁতুলতলা ছেড়ে দ্রুত পায়ে হাটের ভিড়ের মধ্যে মিশে গেছিলেন। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>এর পরেও কয়েকবার তাঁর দেখা পেয়েছিল ধনঞ্জয়। জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে ঠিকমতো জপ করছে কি না। &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধনঞ্জয় আব্বাস গনি-র কথা মেনে চলেছিল। যখনই সময় পায়, তখনই মালাটি নিয়ে যত্ন করে জপ করে। রুকসানার নাম জপত সে। রুকাইয়া, রুকাইয়া, রুকাইয়া&#8230; প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হত। ভাবাবেগ আসত। শরীর জেগে উঠত। মনে পড়ে যেত রুকাইয়ের মুখ, বুক, বাহু, জানু, নাভি। চোখ দিয়ে জল পড়ত অবিরত। তবু ধৈর্য ধরে নিজেকে সংযত করে জপে মন লাগাত ধনঞ্জয়। এইভাবে অনেক দিন চলে গেল। তারপর কেমন করে যেন মন স্থির হয়ে যেতে লাগল একটু একটু। যেন সেই নাম থেকে কী এক অনির্বচনীয় মধুস্বাদ ক্ষরিত হয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগল তার স্নায়ুশিরায়। সেই শান্তিই যেন রুকসানা। অথবা তার মাশুকের কোনো নাম নেই। রূপ নেই। শুধু শান্তি। শ্মশানে চিতা পুড়ে ছাই হয়ে গেলে যে-শান্তি, ঠিক যেন সেই প্রকারের শান্তি।</p>



<p>চার</p>



<p>এভাবেই চলছিল। কিন্তু মুশকিল হয়ে গেল গত বুধবার। দুপুর দেড়টা নাগাদ দোকানঘর বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিল ধনঞ্জয়। পাতকুয়োর ঠান্ডা জলে স্নান সেরে দুটি ডালভাতে পেটের জ্বালা শান্ত করে নিজের ঘরে এসে বসেছিল খাটের উপর। জানালার ওপাশে চারিদিকে ঝিলমিল করছে ভাদ্রের দুপুর। বুড়িপিসিও ঘুমিয়ে পড়েছে বোধহয়&nbsp; নিজের ঘরে। অন্যদিনের মতো হামানদিস্তা ঠোকার শব্দ নেই। ধীরে ধীরে প্রাণ শান্ত হয়ে এলে মালাটি হাতে নিয়ে চোখ বুজে জপ করছিল ধনঞ্জয়। জপ করছিল স্ফটিকমালায় প্রিয়তমা রুকসানার নাম। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ অস্পষ্ট একটা ঠিন্‌ ঠিন্‌ শব্দ শুনতে পেল সে, চোখ মেলে জানালার দিকে তাকাল। দেখল, জানালার ওধারে খঞ্জনী হাতে এক বোস্টমী দাঁড়িয়ে আছে। বোস্টমীর বয়েস হয়েছে, মাথায় পলিত কেশ, শিরা-ওঠা দুখানি বিশীর্ণ হাত।</p>



<p>মালাখানি নামিয়ে রেখে দুমুঠো চাল রান্নাঘর থেকে নিয়ে এসে বোস্টমীর ঝুলিতে দিল ধনঞ্জয়। বোস্টমী দুহাত তুলে আশীর্বাদ করে চলেই যাচ্ছিল। হঠাৎ কী জানি হল তার। ফোকলা দাঁতে হেসে উঠে বোস্টমী বলল, ‘জপ করছ, বাবা? খুব ভালো! ভগবানের নাম জপ করলে কত পুণ্যি হয়।’ &nbsp;</p>



<p>ধনঞ্জয় মনে মনে ভাবল, পুণ্যির জন্যে সে জপ করছে থোড়াই? আর ভগবানের নামও যে সে জপ করছে, তাও তো নয়। সে জপছে রুকসানার নাম। যেমনটা তার মুরশিদ তাকে বলে দিয়েছেন। যাই হোক, বোস্টমীর কথার উত্তর না দিয়ে সে ফিরে আসছিল, কিন্তু তার মধ্যেই বৃদ্ধা বলে উঠল, ‘তা মালাটিকে মাঝে মাঝে চান করান তো, বাবা?’</p>



<p>ধনঞ্জয় অবাক হয়ে গেল। এমন তো কিছু বলেননি মুরশিদ আব্বাস গনি! সে প্রশ্ন করল বোস্টমীকে, ‘চান করাতে হয়, নাকি?’</p>



<p>বোস্টমী বলল, ‘তা আর হবে না? গঙ্গাস্নান করাতে হয় মালাকে মাঝে মাঝে। গঙ্গাতে ডুবিয়ে আনতে হয়। আমাদের কত মনের মলিনতা, কত কামনা-বাসনা, কত সাংসারিক আবিলতা—সেসব মালায় লেগে থাকে যে! ওই জন্যেই তো মধ্যে মধ্যে মালাকে গঙ্গায় ডুবিয়ে শোধন করতে হয়।’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>‘এখেনে গঙ্গা কোতায় পাবো? এখেনে তো কাজলা নদী শুদু!’ ধনঞ্জয় বলল।</p>



<p>‘তা সক্কাল সক্কাল বাস ধরে কলকেতা যান না ক্যানে আজ্ঞে? কলকেতায় গঙ্গা-মা আচেন। সেখেনে গিয়ে মালাকে গঙ্গায় শোধন করি আনতি পারেন।’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>এই বলেই খঞ্জনীতে ঠিন্‌ ঠিন্‌ শব্দ তুলে বোস্টমী চলে গেল দুপুর রোদে। জানালার গরাদ ধরে ধনঞ্জয় বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল একা। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>দুপুরে যা বিহ্বলতা ছিল, সন্ধ্যায় তা ধীরে ধীরে সংশয় হয়ে দাঁড়াল। রাত্রে সেই সংশয় থেকে অশান্ত হয়ে উঠল মন। তবে কি সে কিছু ভুল করছে? মালা শোধন করতে গঙ্গাতীরে কলকাতায় যেতেই হবে তাকে? কই এমন তো কিছু কোনোদিন মুরশিদ বলেননি। কলকাতা? ভাবতেই বুকটা হিম হয়ে এল ধনঞ্জয়ের।</p>



<p>তাছাড়া মালা যদি সে গঙ্গায় ধুতে যায়, তাহলে মালার গায়ে তার মুরশিদ গুরু আব্বাস গণি শাহ্‌-র যে স্পর্শ লেগে আছে, তাও কি ধুয়ে যাবে না? মালাটি তাকে দেবার আগে আব্বাস গনি ওই মালা ধরে জপ করে দিয়েছিলেন যে! তাছাড়া এতদিন ওই মালার প্রত্যেকটি দানায় রুকসানার নাম অজস্রবার জপ করেছে ধনঞ্জয়। মালা গঙ্গায় ডুবিয়ে শোধন করতে গেলে যদি ধুয়ে যায় মালার গা থেকে রুকসানার নাম?</p>



<p>অশান্তি বেড়েই চলছে দিন দিন। আর জপও করতে পারছে না ধনঞ্জয়। আবার রাতে ঘুম নেই। এই ভাবে অশান্তি ভোগ করতে করতে ধনঞ্জয়ের মনে হল, যিনি মালা দিয়েছিলেন, তাঁকেই গিয়ে শুধোই না কেন মালাশুদ্ধির প্রয়োজন আছে কি না?</p>



<p>এই কথা ভেবেই সে আজ হাটে এসেছিল, যদি আব্বাস গনি-র দেখা পায়। কিন্তু কোথায় তিনি? তিনি আজ হাটে আসেননি মোটেই। এলে এতক্ষণে কি দেখা পেত না তাঁর ধনঞ্জয়? &nbsp;</p>



<p>দিন শেষ হয়ে এল। আরও কিছুক্ষণ তেঁতুলতলায় বসে বিফলমনোরথ হয়ে ধনঞ্জয় উঠে দাঁড়াল। মেয়েদের সাজসজ্জার আড্ডা, গোহাট, কৃষিসামগ্রী-রন্ধনসামগ্রীর দোকান, শাকসবজির হাট, মিষ্টি আর তেলেভাজার পসরা&#8230; সব পেরিয়ে পেরিয়ে আসছিল ধনঞ্জয়। চারিদিকে হাট-ভাঙার আয়োজন। কুপীর আলোতে পসারিরা জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>মনটা খারাপ হয়ে গেছে ধনঞ্জয়ের। হাটে এসে মুরশিদকে পেল না। অশান্তিও মিটল না তার, শুধুমুদু আসা হল—বেকার। হতাশ পায়ে পায়ে সে চলে আসছিল খেয়াঘাটের দিকে। নৌকা ধরে হরিহরপুর ফিরে যাবে একমাথা উদ্বেগ নিয়ে। &nbsp;&nbsp;</p>



<p>খেয়াঘাটের দিকে যাওয়ার পথে ঝাঁকড়া একটা নিমগাছ। গাছের তলাটা মুখ-আঁধারি মতো হয়ে আছে। নিমতলার দিকে আরেকটু এগোতেই হঠাৎ আশরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল ধনঞ্জয়। নিমঘাটের বাথানে আচম্বিতে সে চেয়ে দেখল, আব্বাস গনি তাঁর সেই চিরপরিচিত দোতারা আর ঝুলি নিয়ে, সেই চিরচেনা হাসিটি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যেন ধনঞ্জয় এ পথ দিয়ে ফিরবে—একথা জেনেই তিনি অপেক্ষা করছেন। &nbsp;</p>



<p>আনন্দে উদ্বেল হয়ে ধনঞ্জয় কুর্নিশ করল মুরশিদকে। বলল, ‘আপনি আজ হাটে আসিছিলেন? আর আমি আপনাকে কত যে খুঁজছি!’ &nbsp;</p>



<p>আব্বাস গনি হাসিমুখে বললেন, ‘আমি কি শুধু তেঁতুলতলায় বসে থাকার বান্দা রে, আব্বু? আমি যে মানুষরতন দেখে বেড়াই&#8230;’ এই পর্যন্ত বলেই উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাকে খুঁজছিলি ক্যানে, বাপ? কিছু কি মুশকিল হয়েছে তোর আবার?’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধনঞ্জয় উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, হুজুর। মুশকিল বলে মুশকিল! এক বোস্টমী আমাকে বলিছে, মাঝেমধ্যে জপের মালাকে গঙ্গায় নিয়ে গিয়ে ধুতি হবে। আপনি তো বাবা আমাকে এসব কিছুমিছু বলেননি?’</p>



<p>‘ক্যানে? মালাকে গঙ্গায় চুবাতে হবে ক্যানে?’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>‘সেই বোস্টমী বলল, এভাবেই নাকি মালাকে মাঝে মাঝে শোধন করতি হয়। হয় নাকি, বাবা?’</p>



<p>‘এমন তো কোনোদিন শুনিনি রে, বান্দা!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>এই কথা বলে আব্বাস গনি অন্ধকারে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। কী যেন ভাবছেন গভীরভাবে। তারপর কী যেন তাঁর হল। হঠাৎ আপন মনে হেসে উঠে বললেন, ‘তা তুই কলকেতা গিয়ে মালাকে গঙ্গায় চুবাতেই পারিস। তাতে মালার কী ক্ষতিবৃদ্ধি হবে, আমি তা জানি নে। তবে মা গঙ্গা দুনিয়ার কত পাপ নিয়ে, কত পাপ বয়ে বয়ে কলকেতার পাশ দিয়ে সমুদ্দুরে যাচ্ছেন। মালাকে গঙ্গায় ডোবালে&#8230; তুই যে-ভালোবাসা দিয়ে তোর মাশুকের নাম মালায় জপ করিস, সেই ভালোবাসার স্পর্শ পেয়ে গঙ্গা-মা নিশ্চয়ই পবিত্র হয়ে যাবেন!’ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>খেয়াঘাট থেকে নৌকা ধরে কজ্জলার নাভি পেরিয়ে হরিহরপুরে ফিরছিল ধনঞ্জয়। খেয়াঘাট অবধি ধনঞ্জয়কে পৌঁছে দিয়ে কোথায় যেন চলে গেছেন আব্বাস গনি। নদীর উপর জ্যোৎস্না উঠেছে খুব। স্রোতের বুকে চাঁদের কিরণ পড়ে রুপোর পাতের মতন চকচক করছে। নৌকাতে আরও অনেক হাটফেরতা যাত্রী আছে। তারা কথা বলছে পরস্পর। ধনঞ্জয়দের নৌকাখানা স্রোত কেটে এগিয়ে চলেছে হরিহরপুরের দিকে। অপলক চেয়ে আছে ধনঞ্জয় জলের পানে। রুকাইয়ার ভালোবাসার মতন আশ্চর্য রহস্যময়ী জ্যোৎস্নার আলো-অন্ধকারে তার বোবা চোখের জল মিশে গেছে, তাই নৌকার যাত্রীরা কেউ তার কান্না দেখতে পাচ্ছে না।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/">নিগূঢ় রুকাইয়া</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-nigurh-rukaiya-by-sanmatrananda/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
