<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Bongodarpan -</title>
	<atom:link href="https://sukanyadigital.com/category/bongodarpan/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sat, 11 Jul 2026 07:11:46 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.3.3</generator>

<image>
	<url>https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2020/07/cropped-sukanya-magazine-50x50.jpg</url>
	<title>Bongodarpan -</title>
	<link>https://sukanyadigital.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>মাহেশের রথযাত্রা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Jul 2026 07:11:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10937</guid>

					<description><![CDATA[<p>বাংলার প্রায় ৬৩০ বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/">মাহেশের রথযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>যে রথের দড়িতে টান দিয়েছেন সাধক, জমিদার, সাধারণ মানুষ-আর সময় নিজেই।</p>



<p>বাংলায় রথ মানেই অনেকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ। বর্ষার আকাশ, মাটির গন্ধ, মেলার কোলাহল আর হাজার হাজার মানুষের &#8220;জয় জগন্নাথ&#8221; ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। কিন্তু মাহেশের রথযাত্রা শুধুই একটি ধর্মীয় উৎসব নয়-এটি বাংলার প্রায় ৬৩০ বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।</p>



<p>অনেকেই জানেন না, ওড়িশার পুরীর পর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথযাত্রা এবং বাংলার প্রাচীনতম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এই মাহেশেই। এর সূচনা ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে বলে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত।</p>



<p>মাহেশের রথযাত্রার জন্মকাহিনি ইতিহাস আর লোকবিশ্বাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।</p>



<p>প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বৈষ্ণব সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে গিয়ে শ্রীজগন্নাথদেবের সেবা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তিনি সেই সুযোগ পাননি। গভীর দুঃখে তিনি গঙ্গার তীরে ফিরে আসেন।সেই সময় এক রাতে তিনি স্বপ্নে জগন্নাথদেবের দর্শন পান।</p>



<p>ভগবান তাঁকে নির্দেশ দেন- &#8220;পুরীতে নয়, গঙ্গার তীরে মাহেশে আমার প্রতিষ্ঠা করো। সেখানেই আমি পূজিত হতে চাই।&#8221;</p>



<p>পরদিন ভোরে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী গঙ্গার জলে ভেসে আসা একটি পবিত্র নিমকাঠ পান। সেই কাঠ দিয়েই নির্মিত হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ।এই কাহিনি আজও মাহেশের মানুষের বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>



<p>আবার অন্য একটি প্রচলিত কাহিনী হল&nbsp; চতুর্দশ শতাব্দীতে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী তীর্থযাত্রায়&nbsp; পুরীতে এসে মনস্থির করলেন তিনি নিজের হাতে রেঁধে প্রভু জগন্নাথকে ভোগ খাওয়াবেন কিন্তু মন্দিরের পান্ডাদের আপত্তিতে সেই ভোগ খাওয়ানো হলো না।আশাহত ধ্রুবানন্দ আমরণ অনশনে বসায় ভক্তের ভক্তিতে প্রভু জগন্নাথ তাঁকে আদেশ করলেন যে বঙ্গদেশে মাহেশে&nbsp; ফিরে যেতে উনি দারুব্রহ্ম পাঠিয়ে দেবেন সেই কাঠে ওনার, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি গড়ে পুজো করতে।কথিত আছে ৬২১বছর&nbsp; আগের সেই বিগ্রহ আজও পূজিত হচ্ছে ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারীর পর তাঁর শিষ্য কমলাকর পিপলাই, যিনি বৈষ্ণব পরম্পরায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, মাহেশে জগন্নাথের পূজা ও রথযাত্রাকে সুসংগঠিত করেন। অনেক ঐতিহাসিক সূত্র তাঁকেই মাহেশের রথযাত্রার প্রাতিষ্ঠানিক রূপদাতা হিসেবে উল্লেখ করে।</p>



<p>শ্রীচৈতন্যের পদধূলিতে &#8216;নব নীলাচল&#8217;</p>



<p>মাহেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলির একটি জড়িয়ে আছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-র সঙ্গে।কথিত আছে, পুরী যাওয়ার পথে তিনি মাহেশে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন করেন। সেই দর্শনে তিনি এতটাই ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন যে দীর্ঘ সময় সমাধিস্থ অবস্থায় ছিলেন।এরপর থেকেই মাহেশকে অনেকে বলতে শুরু করেন &#8220;নব নীলাচল&#8221;অর্থাৎ, বাংলার পুরী।</p>



<p>মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ও রথযাত্রার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শেওড়াফুলির রাজপরিবার।রাজা মনোহর রায় মন্দির নির্মাণ ও বিস্তীর্ণ জমি দান করেন। পরে বিভিন্ন জমিদার ও ধনী পরিবার রথ, মন্দির ও উৎসবের রক্ষণাবেক্ষণে অর্থসাহায্য করেন।১৮৫৫ সালে ধনাঢ্য দাতা নয়নচাঁদ মল্লিক মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র নিমাইচরণ মল্লিক কাজ সম্পূর্ণ করেন এবং পূজার আয়োজন নতুনভাবে শুরু হয়।</p>



<p>রবীন্দ্রনাথও লিখেছেন মাহেশের রথ নিয়ে।বাংলা সাহিত্যে মাহেশের রথযাত্রার বিশেষ স্থান রয়েছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প রথের রশি-তে রথের দড়িকে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের মিলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন। যদিও গল্পটি সরাসরি মাহেশকে কেন্দ্র করে নয়, তবু বাংলার রথসংস্কৃতির পটভূমিতে মাহেশের ঐতিহ্য সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।</p>



<p>বর্তমান লোহার রথ—এক প্রকৌশল বিস্ময়।আজ যে বিশাল রথটি দেখা যায়, সেটি কিন্তু প্রথম রথ নয়।১৮৮৫ সালে তৎকালীন খ্যাতনামা প্রকৌশল সংস্থা মার্টিন বার্ন&nbsp;&nbsp; এই রথটি নির্মাণ করে।</p>



<p>রথটির বৈশিষ্ট্য- প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা,ওজন প্রায় ১২৫ টন,১২টি বিশাল লোহার চাকা</p>



<p>নবরত্ন মন্দিরের আদলে নির্মিত,সামনের অংশে তামার ঘোড়া ও রাজহাঁসের অলংকরণ।দুটি বিশাল ম্যানিলা দড়ি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে টান দেন।</p>



<p>ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্থায়ী লোহার রথ হিসেবে এটি পরিচিত।</p>



<p>মাহেশে জগন্নাথদেব রথে চড়ে যান গুন্ডিচা বাড়ি, যাকে স্থানীয়ভাবে অনেকে &#8220;মাসির বাড়ি&#8221; বলেন। কয়েক দিন সেখানে অবস্থানের পর উল্টো রথে আবার মূল মন্দিরে ফিরে আসেন। এই যাত্রাকে ভক্তরা ঈশ্বরের &#8220;ঘর থেকে ঘরে&#8221; যাওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেন।</p>



<p>প্রযুক্তির যুগেও মাহেশের রথযাত্রার আবেদন কমেনি। প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ মানুষ এই উৎসবে যোগ দেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, মেলা, পারিবারিক স্মৃতি এবং বাংলার নিজস্ব উৎসব-পরম্পরার টানই তাঁদের বারবার এখানে ফিরিয়ে আনে।</p>



<p>শেষকথা</p>



<p>মাহেশের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, বৈষ্ণব ভক্তি, লোকসংস্কৃতি, স্থাপত্য, প্রকৌশল এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উত্তরাধিকার। ছয় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই রথের দড়িতে একসঙ্গে হাত রেখেছেন রাজা ও প্রজা, সাধু ও সাধারণ মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধ। সেই দড়ি যেন আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়-ঐতিহ্য তখনই বেঁচে থাকে, যখন একটি সমাজ তাকে ভালোবাসে, বহন করে এবং আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/">মাহেশের রথযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/mahesh-rathayatra/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অন্য বিশ্বকাপ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 Jul 2026 07:07:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[world cup football]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10932</guid>

					<description><![CDATA[<p>ট্রফির বাইরে আরও কিছু গল্প।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/">অন্য বিশ্বকাপ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ট্রফির বাইরে আরও কিছু গল্প, যা ২০২৬ বিশ্বকাপকে করে তুলেছে অন্যরকম।</p>



<p>বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু মেসি, এমবাপে, বেলিংহ্যাম বা ভিনিসিয়ুসদের গোল? শুধু কে চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই হিসেব? একেবারেই নয়। প্রতি বিশ্বকাপেই সমান্তরালভাবে জন্ম নেয় আর-একটি বিশ্বকাপ &#8211; ছোট দেশের স্বপ্ন, অচেনা ফুটবলারের উত্থান, অবিশ্বাস্য রূপকথা আর এমন সব মুহূর্ত, যা পরিসংখ্যানের বাইরেও বছরের পর বছর মনে থেকে যায়।</p>



<p>২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। ৪৮ দলের এই প্রথম বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর পাশাপাশি আলো কেড়েছে এমন কয়েকটি দেশ, যাদের নাম হয়তো অনেক ফুটবলপ্রেমীও আগে খুব একটা শোনেননি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই ‘অন্য বিশ্বকাপ’-এর কিছু গল্প।</p>



<p>প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৩০)</p>



<p>প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে। আজকের মতো দীর্ঘ ও কঠিন বাছাইপর্ব তখন ছিল না। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দেশ। কারণ, ইউরোপের বেশিরভাগ দলই সেই সময় আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে জাহাজে দীর্ঘ সফর করে উরুগুয়ে যেতে অনিচ্ছুক ছিল।ফাইনালে আয়োজক উরুগুয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে। তবে সেই ম্যাচের একটি মজার ঘটনা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্মরণীয়। দুই দলই নিজেদের দেশের বল দিয়ে খেলার দাবি জানায়। শেষ পর্যন্ত আপসের পথ বের হয়—প্রথমার্ধে খেলা হয় আর্জেন্টিনার বল দিয়ে, আর দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে! এই অভিনব সমাধানই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় উপাখ্যান হয়ে রয়েছে।</p>



<p>আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে&nbsp; এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫ লক্ষ, অথচ প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ড্র করে নক-আউটে পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াইয়ে আটকে রেখে বিদায় নেয়। বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞরা একে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথাগুলির একটি বলছেন।</p>



<p>কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার বয়স ৪০। আধুনিক ফুটবলে যেখানে অনেকেই এই বয়সে অবসর নেন, সেখানে তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই প্রশংসিত হয় যে ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসি নিজে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।এবং পরম আশ্চর্যের কথা ওদের এই বিশ্বকাপ টিম তৈরি হয়েছে লিঙ্কড ইনের পোস্টের মাধ্যমে যেখানে উৎসাহী প্লেয়ারদের খোঁজ করা হয়েছিল।</p>



<p>কেপ ভার্দে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর রাজধানী প্রাইয়ার রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে। বিমানবন্দর থেকে শহরজুড়ে বিজয়মিছিল হয়, যদিও দলটি ট্রফি জেতেনি। কারণ, ছোট্ট দেশের কাছে বিশ্বমঞ্চে সম্মানের সঙ্গে লড়াই করাটাই ছিল প্রকৃত জয়। স্বাধীনতা দিবসের আবহে সেই উদ্‌যাপন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।</p>



<p>&nbsp;কুরাসাও বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বিশ্বকাপ-খেলুড়ে দেশ। ক্যারিবিয়ান&nbsp; দ্বীপ কুরাসাও-এর জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষের কিছু বেশি। অথচ তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছে। আয়তন ও জনসংখ্যা-দুই দিক থেকেই বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশ এখন কুরাসাও। কয়েক বছর আগেও এই দেশের অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপের ছোট লিগে খেলতেন। আজ তারা বিশ্বমঞ্চে।</p>



<p>২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলছে চারটি দেশ &#8211; কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। এই চার দেশের জন্য বিশ্বকাপে ওঠাই যেন ট্রফি জয়ের সমান আনন্দ। বিশ্বকাপের বিস্তার যে নতুন ফুটবল শক্তিকে সামনে এনে দিয়েছে, তারই প্রমাণ এই চার দেশ।</p>



<p>এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে ৪৮টি দল। নতুন ফরম্যাটে নক-আউটে ওঠার সুযোগও বেড়েছে। ফলে আফ্রিকা, এশিয়া ও কনকাকাফ অঞ্চলের বহু দেশ প্রথমবার বিশ্বকাপের স্বাদ পেল। সমালোচনা থাকলেও এই পরিবর্তন যে বিশ্ব ফুটবলে নতুন গল্প লিখছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।</p>



<p>ইতালি নেই, কিন্তু নতুনরা আছে।চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডন ও উজবেকিস্তানের মতো নতুন দেশ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে। ফুটবলের শক্তির ভারসাম্য যে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে, এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।</p>



<p>বিশ্বকাপে এবার সাপ নিয়েও কম আলোচনা হয়নি!</p>



<p>এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফুটবলের পাশাপাশি অদ্ভুতভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে সাপের গল্প। সবকিছুর শুরু সুইজারল্যান্ড শিবির থেকে। ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের অনুশীলন কেন্দ্রে নাকি প্রচুর সাপ রয়েছে—এমন একটি গল্প তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েছিল। পরে জানা যায়, এটি ছিল সুইস সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে করা তাদের এক মজার ‘ইনসাইড জোক’। তবে যে সান দিয়েগো জিউইশ অ্যাকাডেমি নিজেদের অনুশীলন মাঠ সুইস দলের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল, তারা এই মজায় মোটেই খুশি হয়নি।</p>



<p>অন্যদিকে জার্মানি শিবিরে কিন্তু সত্যিই দেখা মিলেছিল একটি বিষধর সাপের। উত্তর ক্যারোলিনায় দলের অনুশীলন কেন্দ্রে সেই সাপ দেখা যাওয়ার কথা জানান অধিনায়ক যোশুয়া কিমিখ। তাঁর কথায়, &#8220;গতকাল আমরা একটি সাপ দেখেছিলাম। পরে আমাদের জানানো হয়, সেটি বিষধর। যদি কামড়ায়, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে। হয়তো মারা যাবেন না, কিন্তু বিষয়টি যথেষ্ট বিপজ্জনক।&#8221;</p>



<p>শুধু স্টেডিয়াম নয়, উৎসব এখন শহরের অলিগলিতেও</p>



<p>বিশ্বকাপের সাফল্য শুধু স্টেডিয়ামের দর্শকসংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না; তার আসল স্পন্দন ধরা পড়ে শহরের রাস্তায়। আর এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর রাস্তাঘাট যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ। যে শহরগুলোর ব্যস্ত রাস্তা সাধারণত যানজট, কর্মব্যস্ততা আর তাড়াহুড়োর জন্য পরিচিত, বিশ্বকাপের আবহে সেগুলিই রূপ নিয়েছে রঙিন, প্রাণবন্ত উৎসবের মেলায়।জার্সি গায়ে হাজার হাজার সমর্থক, বিভিন্ন দেশের পতাকা, গান, নাচ আর উচ্ছ্বাসে শহরের অলিগলি যেন এক বিশাল কার্নিভালে পরিণত হয়েছে। ফিফার সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার আগেই তিন আয়োজক দেশের ফ্যান ফেস্টিভ্যালগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ২০ লক্ষ (২ মিলিয়ন)-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের বাইরে এই জনসমুদ্রই যেন প্রমাণ করে বিশ্বকাপ আসলে শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি বিশ্বের নানা সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলা।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/">অন্য বিশ্বকাপ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/world-cup-football-anecdotes/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 12:05:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10685</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু শহরেই নয়, এই পরিবর্তন এখন শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলেও দৃশ্যমান।</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/">শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাঙালি পরিবারে শাশুড়ি-বৌমা সম্পর্ক ছিল ক্ষমতার এক নিঃশব্দ লড়াইয়ের নাম। বিয়ের পর নতুন বৌয়ের কাছে শ্বশুরবাড়ি মানেই ছিল এক অচেনা পৃথিবী-যেখানে নিজের মতামতের জায়গা খুব কম, আর মানিয়ে নেওয়ার চাপ ছিল অসীম। পণপ্রথা এই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলত। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে এখনও প্রতিবছর প্রায় ৬,০০০–৭,০০০ পণ-সংক্রান্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়, দেখায় সমস্যাটি আজও কতটা গভীরে প্রোথিত।</p>



<p>সেকালে সংসারের নিয়ন্ত্রণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে শাশুড়ির হাতে থাকত। নতুন বৌয়ের শিক্ষা, রুচি বা ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব না দিয়ে তাকে “এই বাড়ির নিয়মে” গড়ে তোলার প্রবণতা ছিল প্রবল। রান্নাঘর ছিল সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু-যেখানে ভুল মানেই অপমান, আর প্রতিবাদ মানেই “অশিক্ষা”র তকমা। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক চাপ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এমনকি শারীরিক নির্যাতনও এই সম্পর্কের অংশ হয়ে উঠত।</p>



<p>তবে এই দ্বন্দ্বের পেছনে শুধু কঠোরতা নয়, ছিল সামাজিক কাঠামোর প্রভাবও। বহু শাশুড়ি নিজের জীবনে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, ফলে সেটাই হয়ে উঠেছিল “স্বাভাবিক”। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা যারা শিক্ষিত, অনেক ক্ষেত্রে কর্মজীবী ,তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান নিয়ে বেশি সচেতন। এই দুই প্রজন্মের মানসিকতার সংঘর্ষেই তৈরি হত দূরত্ব, এখনও হয়।</p>



<p>টেলিকম চাকরিজীবী নিমিশা কদম বিয়ে করেছিল প্রসূন কদমকে । বিয়ের আগে বেশ কিছুবার নিমিশা হবু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁদের শ্বশুর শাশুড়ি এ বাকিদের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা আর স্নেহ ভালোবাসা পেয়ে আগামী বিবাহিত জীবন সুখের আর&nbsp; শান্তির হবে ভেবে আনন্দিত ছিল কিন্তু বিয়ের ৩মাস যেতে না যেতেই শুনতে হল ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরা যাবেনা শুধু ভারতীয় পোশাক পরতে&nbsp; হবে নিমিশা রান্না করতে ভালোবাসে কিন্তু শুনতে হল রান্না করা যাবে না , ফলস্বরূপ তাদের আলাদা বাড়ি নিতে হয়। শাদি ডট কমের রিসার্চ পোলের তথ্য অনুযায়ী এখন ৬৪.১% বিয়ে করার প্রাথমিক শর্ত তারা আলাদা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি হিসেবে থাকবেন।</p>



<p>কিন্তু গত এক-দুই দশকে অন্য একটা ছবিটা কিছুটা অন্তত বদলাতে শুরু করেছে। যৌথ পরিবারের বদলে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির বৃদ্ধি, নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা, এবং শিক্ষার প্রসার ,সব মিলিয়ে সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে। এখন অনেক পরিবারেই শাশুড়ি-বৌমা সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সহযোগিতার জায়গায় দাঁড়িয়েছে।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় নিপুণভাবে এক ছবি এঁকেছিলেন নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্প অবলম্বনে মহানগর &nbsp;ছবিতে যেখানে পুত্রবধূ আরতির চাকরি করা প্রথমে দুজনকে বেরোনোর আগে একসঙ্গে খেতে দেওয়ার সময় উনুনের সামনে চোখের জল মোছা আর পরে কাজে বেরোবার আগে দৃশ্য যেখানে আরতি বলছে &#8216;মাছের&nbsp; দরকার নেই মা &#8216; আর কড়াই থেকে মাছের মাথা তুলে বেড়ে দিতে দিতে &#8216;এই তো হয়ে গেছে মা &#8216; দৃশ্য এক অন্য শাশুড়ি বৌমার কথা বলে ।</p>



<p>শুধু শহরেই নয়, এই পরিবর্তন এখন শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলেও দৃশ্যমান। অর্থনৈতিকভাবে নিম্নবিত্ত পরিবারেও কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং পারস্পরিক নির্ভরতা, সম্পর্ককে অনেক বেশি বাস্তব ও সহযোগিতামূলক করে তুলছে। একসঙ্গে বাজার করা, সন্তান লালনপালনে সাহায্য করা, এমনকি ছোটখাটো ঘুরতে যাওয়া সবই এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন ছবি।</p>



<p>তবে এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে সমস্যা পুরোপুরি মিটে যায়নি। এখনও পণপ্রথা, মানসিক নির্যাতন বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের খবর নিয়মিত সামনে আসে। সমাজের একাংশে এখনও পুরনো মানসিকতা দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে।</p>



<p>তবুও আশার কথা হল এই সম্পর্কের ভাষা বদলাচ্ছে। আজকের শাশুড়ি বুঝতে শিখছেন, নতুন বৌ শুধু একজন “দায়িত্ব” নয়, সে-ও একজন স্বপ্ন ও আবেগ নিয়ে আসা মানুষ। আর বৌমারাও বুঝছেন, শাশুড়ি শুধুই কর্তৃত্বের প্রতীক নন, তিনিও একজন অভিজ্ঞ, সংগ্রামী নারী।</p>



<p>সেকালের শাসন আর একালের বন্ধুত্ব ,এই দুইয়ের মাঝখানে তৈরি হচ্ছে এক নতুন সেতু। যেখানে শাশুড়ি-বৌমা আর প্রতিদ্বন্দ্বী নন, বরং সহযাত্রী। এই পরিবর্তন শুধু একটি সম্পর্কের নয়, বরং একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনের দিশা দেখাচ্ছে।</p>



<figure class="wp-block-image size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://sukanyadigital.com/wp-content/uploads/2026/05/ChatGPT-Image-May-6-2026-06_18_33-PM-1024x768.png" alt="" class="wp-image-10688" style="aspect-ratio:1.3333333333333333;width:521px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">শাশুড়ি ও জা&#8217; এর সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে জুন চক্রবর্তী</figcaption></figure>



<p>মধ্যবয়সী জুন চক্রবর্তীর কথায় ,&#8217; আমি যে ৯০ এর দশকে&nbsp; বৌমা হয়ে এসেছি সেই সময়ে উত্তর কলকাতার&nbsp; বনেদি&nbsp; বাঙালি বাড়ির অনুশাসন ছিল। স্বাভাবিক ভাবে মনে ভয় আর সংকোচও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমার শাশুড়ি মা আমাদের দুই পুত্রবধূর বন্ধুর মতো। আমাদের বললাম কারণ আমার একটি ছোট জা ও আছে। আমরা একসঙ্গে সিনেমা, নাটক&nbsp; দেখা , শপিং করা&nbsp;ছাড়াও এখন মাঝে মাঝে আমরা একসঙ্গে ডে আউটিং এও বেরিয়ে পড়ি । গল্প হাসি ঠাট্টা মান অভিমান আগের থেকে অনেক সহজ &#8211; সাবলীল হয়ে গেছে । তবে এখন দেখছি এই প্রজন্মে&nbsp; আমার বেশ কিছু বন্ধু যারা এখন শাশুড়ি হচ্ছেন তারা&nbsp; তাদের বৌমাদের সঙ্গে প্রথম থেকেই বেশ আন্তরিক এখানে উল্লেখ করা দরকার প্রায় কেউই একসঙ্গে থাকেন না। তাই বোধহয়&nbsp; সেই আগেকার ভীতি, রীতিনীতির অন্তরাল অদৃশ্য হয়ে সম্পর্ক বেশ সহজ হয়ে গেছে যদিও এখনও কিছু ব্যতিক্রম রয়ে গেছে কিন্তু সেটা সব ক্ষেত্রেই থেকে থাকে ।&#8217;</p>



<p>গড়িয়া নিবাসী কেয়া দত্তর কথায়,&#8217; আমার পরিবারে অভাব ছিল একটি মেয়ের। ছেলের বিয়ে দেবার পর সে অভাব মিটল , বাড়িতে এল আমাদের বৌমা। সংসারটি এতদিনে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল বাড়ির আবহাওয়া জমজমাট হয়ে উঠল হাসি গল্প আড্ডায়। বৌমা ভারী মিশুকে, অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যকে আপন করে নিতে পারার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে এবং অল্প দিনের মধ্যে আমাদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠল। ওকে শাড়ি পরতে, রান্না করতে শিখিয়েছি কিন্তু এখন ও আমায় রান্নায় ১০ গোল দিয়ে দেবে এত ভালো রান্নার হাত ওর। এতদিন ছেলের পোশাক কিনেছি , এখন মনের সাধ মিটিয়ে শাড়ি আর অন্যান্য ড্রেস কিনতে ভালো লাগে আর এই ভালোবাসার টানেই এখন আমাদের সম্পর্ক শাশুড়ি বৌমা থেকে মা মেয়ের সম্পর্কে এসে দাঁড়িয়েছে। শাড়ি -গয়না থেকে রণবীর-দীপিকা থেকে সব বিষয় নিয়ে আর পিএনপিসিতে আমাদের দারুণ আড্ডা জমি ওঠে। আসল কথা হল সংসারে শাশুড়ি &#8211; বৌমার অবস্থান এমনই যে একজন আগে আসে আর অন্যজন পরে এই সহজ কথাটা মাথায় রাখলে সম্পর্কও সহজ হয়ে যায়।‘</p>



<p>ওনার কানাডা নিবাসী পুত্রবধূ&nbsp; জানালেন ,&#8217; আমার সাথে আমার শাশুড়িমার সম্পর্কটা খুব সহজ ও সরল।আমি কলকাতার বাইরের মেয়ে পড়াশোনার বেশির ভাগই হোস্টেলে তাই বিয়ের পর একটা বাড়ির পরিবেশ পেয়েছিলাম।প্রথম থেকেই এম শাশুড়ি মা নিজের ছেলের থেকে আমায় কোনো অংশে আলাদা করে দেখেন নি, মাংসের বড় পিস্ থেকে কিছু কিনে দেওয়া সবেতেই সমান করে দেখেছেন আমাদের দুজনকে কোনো ক্ষেত্রে পক্ষপাত হলে সেটা আমার পক্ষে গেছে।মা আমাদের সম্পর্ক ভালো করার জন্য সময় দিয়েছে আর কোনো কিছু চাপিয়ে&nbsp; দেয়নি, একেবারে প্রথম থেকেই বাড়ির সবকিছু সিদ্ধান্তে আমার মতামত কে গুরুত্ব দেওয়া আর যেটা সবচেয়ে ভালো যে নিঃস্বার্থ ভাবে নিজের স্বচ্ছন্দ আর ভবিষ্যতের কথা না ভেবে আমাদের ভবিষ্যতের আর বিকাশের কথাকে গুরুত্ব দিয়েছে ।আমার মনে হয় শাশুড়ি বৌমার সম্পর্ক খুব পারস্পরিক আর উনি আমার অভ্যাস মানসিকতা জেনে বুঝে সেই মতো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জল -মাটি দিয়েছেন এবং নিজের গতিতে সম্পর্কে উন্নতি হতে দিয়েছেন তাই এখন এতো দূরে আমি মার উপস্থিতি রান্না বিভিন্ন বিষয়ে যার মধ্যে ফ্যাশন ও আছে আর আড্ডা মিস করি। আমাদের এত মধুর সম্পর্কের সিক্রেট হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া আর সন্মান।‘&nbsp;</p>



<p>এই&nbsp; প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন&nbsp; অভিনেত্রী&nbsp;&nbsp; ও সব্যসাচী চক্রবর্তী গৃহিনী মিঠু চক্রবর্তী তার দুই পুত্র গৌরব ও অর্জুন কে স্পষ্ট বলেছিলেন যে বিয়ে করে আলাদা থাকতে হবে আর উনি মনে করেন যে দুজনের বিয়ের পর এত ভালো সম্পর্ক থাকার এটা একটা বড় কারণ। অবশ্যই তার মানে এটা নয় সবাইকে তাই করতে হবে তবে এই মনোভাব আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সবার কাজের সময়ের, আসা যাওয়া, সপ্তাহান্তের অবকাশের ধরণ পাল্টে যাওয়ার কারণে।</p>



<p>“শাশুড়ি-বউমা” সম্পর্ককে ঘিরে বাংলা পরিবারে যে চিরাচরিত টানাপোড়েন, কটাক্ষ বা নীরব ক্ষমতার রাজনীতি একসময় প্রায় স্বাভাবিক বলেই মেনে নেওয়া হত, আজ তার অনেকটাই বদলাচ্ছে। এক ছাদের নীচে দুই প্রজন্মের দুই নারীর সম্পর্ক এখন অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার। সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে মানসিক সমর্থন—অনেক শাশুড়ি আজ বউমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন মায়ের মতো, আবার বহু বউমাও শাশুড়ির বার্ধক্য, একাকিত্ব ও অনুভূতিকে বুঝতে শিখছেন নতুন চোখে।</p>



<p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ।” সেই বিশ্বাসের জায়গাটাই হয়তো নতুন করে তৈরি হচ্ছে এই সম্পর্কের ভিতরে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের কথায়ও উঠে আসে একটি সুস্থ পরিবার গড়ে ওঠে তখনই, যখন ক্ষমতার লড়াই নয়, গুরুত্ব পায় সহানুভূতি ও কথোপকথন।</p>



<p>তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে “নতুন স্বাভাবিক” বলে ধরে নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। সমাজের নানা স্তরে এখনও শাশুড়ি ও বউমা—উভয়ের উপরেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। কোথাও বউমা অত্যাচারের শিকার, কোথাও আবার অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার শিকার প্রবীণ শাশুড়ি। তাই সম্পর্কের এই সুন্দর পরিবর্তনকে উদযাপন করার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পরিবারের ভিতরে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা।</p>



<p>কারণ, “সহযাত্রা” শুধুই একসঙ্গে থাকা নয়, বরং  একে অপরকে জায়গা দেওয়ার শিল্প। আর সেই শিক্ষাই হয়তো আগামী দিনে পরিবারের সবচেয়ে বড় আশার আলো।</p>



<p><em>আংশিক তথ্যসূত্র &#8211; শ্রেয়সী সেন</em></p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/">শাশুড়ি-বৌমা: সংঘাত থেকে সহযাত্রা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/mother-in-law-daughter-in-law-relationship-evolution/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 11:43:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10679</guid>

					<description><![CDATA[<p>গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপ ...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/">গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মে মাস মানেই তীব্র গরম, স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ির কাজের চাপের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বাইরে কাজ করা হোক বা ঘর সামলানো ,এই সময়টায় নারীর দায়িত্ব যেন দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানীরা একে বলেন “ডাবল বার্ডেন” বা দ্বৈত দায়—একদিকে পেশাগত কাজ, অন্যদিকে ঘর ও পরিবারের দায়িত্ব।</p>



<p>ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যার কাজে। একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গড়ে ভারতীয় নারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৯২ মিনিট এই ধরনের কাজ করেন, যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি।</p>



<p>গবেষক নেহা ব্যাস তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, “নারীরা একই সঙ্গে বেতনভুক্ত ও অবৈতনিক কাজের ভার বহন করেন, যা তাদের কাজের পরিবেশকে কঠিন করে তোলে।”</p>



<p>গ্রীষ্মের ছুটির সময় এই চাপ আরও বাড়ে। বাচ্চারা সারাদিন বাড়িতে থাকায় তাদের খাওয়ানো, সময় কাটানো, পড়াশোনা করানো—সবকিছুই মায়ের উপর এসে পড়ে। কর্মজীবী নারীদের ক্ষেত্রে অফিসের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে ফিরে আবার “দ্বিতীয় শিফট” শুরু হয়, যা মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।</p>



<p>মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিচ্ছেন, যা এই সময়টাকে কিছুটা সহজ করতে পারে।</p>



<p>১) দায়িত্ব ভাগ করে নিন -মনোবিজ্ঞানী ড. অনন্যা সেনের মতে, “পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সব দায়িত্ব একা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে।”স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই চাপ অনেকটাই কমাতে পারে।</p>



<p>২) রুটিন তৈরি করুন -শিশু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাচ্চাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দৈনিক রুটিন তৈরি করলে মা ও সন্তানের দুজনেরই সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। খেলা, পড়াশোনা ও বিশ্রামের সময় আলাদা করে দিলে অযথা চাপ কমে।</p>



<p>৩) ‘মি-টাইম’ জরুরি- কাউন্সেলরদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। বই পড়া, গান শোনা বা হালকা ব্যায়াম ,যে কোনো কিছুই হতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমে এবং কাজের শক্তি ফিরে আসে।</p>



<p>৪) পারফেকশন নয়, প্রাধান্য দিন প্রয়োজনকে &#8211; বিশেষজ্ঞরা বলেন, সব কিছু নিখুঁত করতে যাওয়ার চাপ নিজেকেই ক্লান্ত করে তোলে। প্রয়োজনীয় কাজগুলো আগে করুন, বাকিগুলো পরে করলেও চলবে—এই মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।</p>



<p>৫) সাহায্য চাইতে দ্বিধা নয় &#8211; অনেক নারী সাহায্য চাইতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে গৃহকর্মীর সাহায্য নেওয়া বা পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভর করা একেবারেই স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়।</p>



<p>৬) বাচ্চাদের স্বনির্ভর করে তুলুন &#8211; ছোট ছোট কাজ যেমন নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা বা জল খাওয়া—এই অভ্যাসগুলো বাচ্চাদের শেখালে মায়ের কাজ কিছুটা কমে এবং শিশুরাও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।</p>



<p>সমাজের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। গৃহস্থালির কাজকে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই “নারীর দায়িত্ব” হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পরিবারে সমান দায়িত্ববণ্টন এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই পারে এই চাপ কমাতে।</p>



<p>শেষ কথা, মে মাসের গরম যেমন সাময়িক, তেমনই এই বাড়তি চাপও সামলানো সম্ভব ,যদি সচেতন পরিকল্পনা, সহযোগিতা এবং নিজের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। নারীর এই অদৃশ্য পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে সহায়তা করা এটাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/">গরমে ঘরে -বাইরে সামলে রাখার টিপস</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/working-women-tips-to-handle-work-front-and-family-in-summer-time/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 13 May 2026 07:48:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=4279</guid>

					<description><![CDATA[<p>'আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের গান শিক্ষিতদের গান।'...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/">রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সুধীর চক্রবর্তী</p>



<p>&#8216;প্রথম থেকে শেষ অবধি যে বিশেষত্বটা রবীন্দ্রনাথের সব রচনার মধ্যে একটা ঐক্য স্থাপন করেছে,সেটা হলো এর বাঙালিত্ব।তবে বাংলা রাগসঙ্গীত,কীর্তন,রামপ্রসাদী,লোকসঙ্গীত বা নিধুবাবুর টপ্পায় যে বাঙালি ভাব,এটা সেভাবে নয়।এটা হলো রবীন্দ্রনাথের একান্ত নিজস্ব একটি বিশেষ শ্রেণীর বাঙালিয়ানার সাঙ্গীতিক প্রকাশ।রবীন্দ্রনাথের রুচি,তাঁর সংস্কার,তাঁর পরিবেশ,শিক্ষা-দীক্ষা,শিল্পবোধ,সাহিত্যবোধ-অর্থাৎ&nbsp; তাঁর পুরো চরিত্রটাই এই গানে প্রতিফলিত।এটাও লক্ষণীয় যে গানই তাঁর একমাত্র সৃষ্টি যার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে কাব্য-উপন্যাসের তুলনায় বিবর্তনের মাত্রাটা এখানে অনেক কম।&#8217;</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত সম্বন্ধে ভাবগ্রাহী অথচ বিতর্কযোগ্য এই মন্তব্য করেছিলেন সত্যজিৎ রায়।এখানে বাঙালিত্ব বলতে ঠিক কী বোঝায় টা স্পষ্ট করে বোঝানোর দায় নেননি তিনি,তবে ইঙ্গিত রেখে গেছেন।গড়পড়তা বাঙালি যে ভাবাবেগ ও রুচিবোধের দ্বারা চালিত হয়ে এসেছে,তার বিনোদনে ও শিল্পে যে শিথিল ও জনপ্রিয় উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ তা অনুমোদন করেন নি।সেইজন্য রুচিদুষ্ট কবিওয়ালাদের গান এবং মার্গসংগীতের নামে ওস্তাদি ও তানবাজিকে তিনি নিন্দা করেছেন।</p>



<p>সত্যজিৎ রায় তাঁর জীবন গঠনে ও শিল্পরুচির অনন্য বিন্যাসে রবীন্দ্রমানসের অনিবারণীয় ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পেরিয়ে এসেছেন কিন্তু কদাচ এড়িয়ে যান নি।রবীন্দ্রসংগীতের স্বচ্ছ ও সাবলীল ভূমিকা যে পরিবারে এতটা অনর্গলিত সেই পরিবারের জাতক সত্যজিৎ রবীন্দ্রসংগীতের গহন মগ্ন ঐশ্বর্য ও বৈচিত্র লাভ করেছিলেন ব্যাপক বিস্তারে ও মনের গভীরে।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত সম্পর্কে সত্যজিতের প্রথম বক্তব্য:</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীতের একটা স্বকীয় বৈশিষ্ট আছে যেটা আগে কোনো ভারতীয় গানে ছিল না।&#8230;মার্গসংগীতেই হোক বা লোকসংগীতেই হোক,ভারতবর্ষে চিরকালই যে জিনিসটার ওপর জোর দিয়ে আসা হয়েছে সেটা হল গানের জাত।কীর্তনকে কেউ ভুল করেও খেয়ালের মতো গায়না,বা বাউলের সঙ্গে পাখোয়াজ বাজিয়ে তাকে ধ্রুপদের আসনে বসানোর চেষ্টা করেনা।এক গানের গাইবার রীতি অন্য গানে প্রয়োগ করা হয় না,কারণ তাদের জাত আলাদা।</p>



<p>সত্যজিৎ এরপর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে,প্রচলিত নিয়মে রবীন্দ্রসংগীতের জাত বলে বোধহয় কিছু নেই কেননা তিনি জাতের কথা ভাবেন নি।তাঁর লক্ষ্য ছিল অন্য ধরণের।এক-একটি বিশেষ ভাবকে বিশেষ কথা বিশেষ সুর-ছন্দে প্রকাশ করার দিকে ছিল তাঁর সাংগীতিক সৃজনস্বভাবের প্রবণতা।</p>



<p>সাক্ষাৎকারে সত্যজিতের ভাষ্য:</p>



<p>১) রবীন্দ্রনাথের গানে আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি তার কথার মেজাজ সুরের মেজাজ রাগাশ্রিত হলেও সেখানে আর একটু সহজ করে নেওয়া,মোলায়েম করে নেওয়া&#8230;অর্থাৎ আলাদা করে চিনে নেওয়ার মতো।Composer কে চিনে নেওয়ার মতো।&nbsp;</p>



<p>২)রবীন্দ্রনাথের পরিবেশ তো নিধুবাবুর পরিবেশ নয়।&#8230;তাঁর পরিবেশ ছিল অনেক মার্জিত।সেটা ঠাকুরবাড়ির পরিবেশ অর্থাৎ যে সমাজে তিনি মানুষ তার যে একটা ছাপ রয়েছে তা আরও একটু মার্জিত।&#8230;সেটার সঙ্গে নিধুবাবুর টপ্পার মিল নেই।&#8230;সেটা -শ্রেণী অর্থাৎ সোশ্যাল ক্লাস।সেই গানের কথা ও সুর শুনলেই বোঝা যাবে যে নিধুবাবু ও রবীন্দ্রনাথ এক সামাজিক স্তর থেকে আসেন নি।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সত্যজিৎ রায় তাঁর প্রবন্ধে ও সাক্ষাৎকারে গীতস্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সূত্রে কয়েকটি প্রশ্ন রেখেছেন।প্রথমে তাঁর কয়েকটি সিদ্ধান্ত লক্ষ্য করা যেতে পারে।যেমন:</p>



<p>১)তিনি গলা সাধেন নি,বা সাধলেও তাঁর ইস্কুলে পড়ার মতোই সে সাধনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছিল।&#8230;তাঁর গলার &#8216;কাজ&#8217; খুব বেশি ছিল না।অন্তত যে কাজে খেয়ালের তান হয় তা তো নয়ই।</p>



<p>২)রবীন্দ্রনাথের চরিত্রের একটি বিশেষত্ব বেশ লক্ষ্য করা যায় যে,তাঁর সহজাত ক্ষমতার বাইরে কোনো কিছু শিখে আয়ত্ত করে তাঁর চিরকালই একটা আপত্তি ছিল।তাঁর শিক্ষায়তনের বিরুদ্ধে আপত্তিটা অ্যাকাডেমিক সব কিছুর বিরুদ্ধেই ছিল।তাঁর শিল্পবোধ ছিল সহজাত,ইন্সটিন্কটিভ।</p>



<p>৩)সংগীতের বেলা রবীন্দ্রনাথ অ্যাকাডেমিক&nbsp; পদ্ধতির অনেক কিছু গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।তান জিনিসটা বাদ দিয়েছিলেন তার একটা কারণ বোধহয় এই যে সেটা তাঁর আয়ত্ত ছিল না।তবে রাগসঙ্গীতের প্রতি তাঁর ঋণ কম নয়।খাম্বাজ,বেহাগ,পিলু,কাফি,ভৈরবী,ইমন,দেশ,পূরবী ইত্যাদি বহু রাগ রাগিনী; ত্রিতাল,দাদরা,খেমটা,কাহারবা কাওয়ালি তেওড়া প্রভৃতি তাল ;গানের আস্থায়ী অন্তরার ভাগ-এ সবই তাঁর অনেক গানেই অবিকৃতভাবে পাওয়া যায়।বোধহয় ঠাকুরবাড়ির সাংগীতিক আবহাওয়া ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের পিয়ানোতে রাগোচ্ছ্বাস তাঁর প্রথম দিকের রচনাকে প্রভাবিত করেছিল।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতর একটা&nbsp; দিক নিয়ে সত্যজিৎ বেশ সমালোচনাপ্রবণ,সেটা তাঁর লোকসংগীতের সুর সংযোজন সম্পর্কে।সত্যজিৎ রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি প্রথমে উদ্ধৃত করেছেন,যাতে বলা হয়েছে: &#8216;অধিকাংশ আধুনিক বাউলের গানের অমূল্যতা চলে গেছে,তা চলতি হাটের সস্তা দামের জিনিস হয়ে পথে বিকোচ্ছে।&#8217;খাঁটি পল্লিসংগীতে তাঁর আস্থা এবং তার সুর ও চালের প্রতি অন্তরের টান রবীন্দ্রনাথের সংগীতজীবনে প্রবলভাবে ছিল।১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি বাংলা লোকসংগীত ভেঙে বহু গান রচনা করেন,যার সুর অবিকল রাখা আছে।এমন চারখানা গান সত্যজিৎ তার চলচ্চিত্রে কণ্ঠে ও যন্ত্রে ব্যবহার করেছেন।কণ্ঠে আছে ;বিধির বাঁধন কাটবে তুমি'(&#8216;রবীন্দ্রনাথ&#8217; ও &#8216;ঘরে বাইরে&#8217;) &#8216;আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে'(&#8216;রবীন্দ্রনাথ&#8217;)।বাঁশিতে আছে &#8216;আমার সোনার বাংলা (&#8216;অপুর সংসার&#8217;)।যন্ত্রে আছে &#8216;গ্রামছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ'(&#8216;অরণ্যের দিনরাত্রি&#8217;)।</p>



<p>সুভাষ চৌধুরী তাঁর সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ রায়কে প্রশ্ন তুলেছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানে যখন একটা স্পষ্ট সোশ্যাল ক্লাসের পার্থক্য রয়েছে,প্রসঙ্গত এই প্রশ্ন এসে পড়ে যে রবীন্দ্রসংগীত আম জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে কি?দীর্ঘদিন ধরে রবীন্দ্রসংগীত শহরকেন্দ্রিক হয়ে রইল তার কারণ ও কি ঐ সোশ্যাল ক্লাস? সত্যজিৎ জবাবে বলেছেন:সেটা ঐ কারণেই।কোনো দিনই হবে না।সমাজ যদি কোনোদিন এক হয়ে যায় তবে হবে।সেইজন্য আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের গান শিক্ষিতদের গান।&#8230;যাকে বলে নিজের করে নেওয়া,যা নিজের মনে করে গাওয়া.সেটা শিক্ষিত বাঙালির পক্ষে প্রযোজ্য।</p>



<p>সত্যজিতের এই বিশ্বাস তার চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।তার সংগীত পরিচালনায় যে ছবিগুলো হয়েছে তার মধ্যে যে চরিত্র রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছে তাদের সোশ্যাল ক্লাস উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্ত।</p>



<p>যেমন মণিমালিকা (&#8216;মণিহারা&#8217;),অমল ও চারু (&#8216;চারুলতা&#8217;),সন্দীপ (&#8216;ঘরে বাইরে&#8217;),মনমোহন ও অনিলা (&#8216;আগন্তুক&#8217;),লাবণ্য (&#8216;কাঞ্চনজঙ্ঘা&#8217;),মায়া (&#8216;গণশত্রু&#8217;),তপতি (&#8216;শাখাপ্রশাখা&#8217;),করুণা (&#8216;কাপুরুষ&#8217;), লক্ষ্য করার এটাও বিষয় যে রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনে রচিত সংগীত সম্বন্ধে সত্যজিৎ রায়ের বেশ দুর্বলতা আছে।বিলিতি সুরভাঙ্গা রবীন্দ্রগীতি ব্যবহারে তার ঝোঁক প্রবল।</p>



<p>সত্যজিৎ তার পছন্দের কিছু রবীন্দ্রসংগীত &#8216;এক্ষণ&#8217; পত্রিকার প্রবন্ধে বেছে দিয়েছেন ভবিষ্যৎ শ্রোতাদের জন্য-</p>



<p>অন্ধজনে দেহ আলো&nbsp;&#8211; ১২৯২</p>



<p>বাজিল কাহার বীণা&nbsp;&#8211; ১৩০১</p>



<p>আছে দুঃখ আছে মৃত্যু &#8211; ১৩০৯</p>



<p>তুমি কেমন করে গান কর&nbsp;&#8211; ১৩১৬</p>



<p>বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি &#8211; ১৩১৭</p>



<p>মোর বীণা ওঠে কোন সুরে &#8211; ১৩২৬</p>



<p>মম চিত্তে নীতি নৃত্যে &#8211; ১৩২৭</p>



<p>যদি তারে নাই চিনি গো &#8211; ১৩২৯</p>



<p>না যেয়ো না যেয়ো না &#8211; ১৩২৯</p>



<p>অনেক দিনের শূন্যতা মোর &#8211; ১৩৩৪</p>



<p>বেদনা কী ভাষায় রে &#8211; ১৩৩৭</p>



<p>এবারে পাঠকদের কৌতূহলপ্রদ যে তালিকা প্রণয়ন করছি তাতে আছে চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ-ব্যবহৃত রবীন্দ্রগীতির (কালানুক্রমিক)সম্পূর্ণ সূচি।কণ্ঠে বা যন্ত্রে এই গানগুলি তিনি কোন না কোনোভাবে তাঁর চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছেন.সম্পূর্ণ বা খণ্ডিত রূপে।প্রথমে কণ্ঠ সংগীত:</p>



<style type="text/css">
.rabi-ray-table table td{
padding: 5px 2px;
}
</style>
<figure class="wp-block-table rabi-ray-table aligncenter"><table style="font-size:90%;"><tbody><tr><td><strong>গানের প্রথম পংক্তি</strong></td><td><strong>ছবির নাম</strong></td><td><strong>গান রচনার সাল</strong></td><td><strong>সম্পূর্ণ বা অংশ</strong></td></tr><tr><td>রিমঝিম ঘন ঘন রে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৮৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>কালী কালী বলো রে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৮৮</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে</td><td>চারুলতা</td><td>১২৮৯</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>এ পরবাসে রবে কে</td><td>কাঞ্চনজঙ্ঘা</td><td>১২৯১</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>মরি লো মরি আমায় বাঁশিতে</td><td>শাখা প্রশাখা</td><td>১২৯১</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>অন্ধজনে দেহ আলো</td><td>আগন্তুক</td><td>১২৯২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>তবু মনে রেখো</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১২৯৪</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>বাজিল কাহার বীণা</td><td>আগন্তুক</td><td>১৩০১</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>আমি চিনি গো চিনি</td><td>চারুলতা</td><td>১৩০২</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>বিধির বাঁধন কাটবে তুমি</td><td>রবীন্দ্রনাথ/ঘরে বাইরে</td><td>১৩১২</td><td>অংশ/সম্পূর্ণ<br></td></tr><tr><td>আজি বাংলাদেশের হৃদয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩১২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ঘরেতে ভ্রমর এলো</td><td>অরণ্যের দিন রাত্রি</td><td>১৩১৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>এখনও গেল না আঁধার</td><td>গণশত্রু</td><td>১৩২৬</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>জয় হোক নব অরুণোদয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩২৮</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ছায়া ঘনাইছে বনে বনে</td><td>জন অরণ্য</td><td>১৩৩০<br></td><td>অংশ</td></tr><tr><td>এ পথে আমি যে</td><td>কাপুরুষ</td><td>১৩৩২</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>আমার মুক্তি আলোয় আলোয়</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৩৩</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>বাজে করুন সুরে</td><td>মণিহারা</td><td>১৩৩৭</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>হৃদয় মন্দ্রিল ডমরু গুরু গুরু</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৪০</td><td>সম্পূর্ণ</td></tr><tr><td>অর্জুন তুমি অর্জুন</td><td>কাপুরুষ</td><td>১৩৪৩</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>মাটি তোদের ডাক দিয়েছে</td><td>মহানগর</td><td>১৩৪৫</td><td>অংশ</td></tr><tr><td>ঐ মহামানব আসে</td><td>রবীন্দ্রনাথ</td><td>১৩৪৮</td><td>অংশ</td></tr></tbody></table></figure>



<p>বাঁশি বা অন্য কোন নেপথ্য যন্ত্রে রবীন্দ্রনাথের যেসব গান আবহ সংগীত রূপে সত্যজিৎ রায় ব্যবহার করেছেন তার উল্লেখ এবার করা যাক/&#8217;যদি তারে নাই চিনি গো&#8217; এবং &#8216;আমার সোনার বাংলা&#8217;-র সুর ব্যবহৃত হয়েছে &#8216;অপুর সংসার&#8217;ছবিতে,&#8217;ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে&#8217; ব্যবহৃত &#8216;দেবী&#8217;-তে,&#8217;পোস্ট মাস্টার&#8217;-এ &#8216;আমার মন মানে না&#8217;,&#8217;চারুলতা&#8217;য় &#8216;মম চিত্তে নিতি নৃত্যে&#8217;,&#8217;অরণ্যের দিনরাত্রি&#8217;তে &#8216;গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ&#8217; (&#8216;অশনি সংকেত&#8217; ছবিতেও) এবং &#8216;ঘরে বাইরে&#8217;-তে &#8216;একী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ&#8217;/প্রসঙ্গত উদ্ধৃতি যোগ্য চিদানন্দ দাসগুপ্ত-র মন্তব্য:The melodies have a life of their own…and echo feelings which for Bengali audiences,cannot be totally divorced from the meaning of the words associated with them. (The Cinema of Satyajit Ray .pp84)</p>



<p>রবীন্দ্রগীতির টুকরো একটা দুটো পংক্তি সত্যজিৎ কখনো ব্যবহার করেছেন এমন পরিকল্পিত কুশলতায় তাঁর কোন দৃশ্যপটে,যা তাঁর আগে আমরা দেখিনি।&#8217;জন অরণ্য&#8217;-তে এক অন্তঃক্ষোভময় মুহূর্তে রেডিওতে শোনা যায় &#8216;ছায়া ঘনাইছে বনে বনে&#8217;। &#8216;গণশত্রু&#8217;-তে ডঃ অশোক গুপ্ত আর তাঁর ভাই চেয়ারম্যান নিশীথ গুপ্তের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের মাঝখানে,দেব মাহাত্ম্য ও মানবিক শুভবুদ্ধির সঙ্কটজনক দ্বন্দ্বে ডঃ গুপ্তর স্ত্রী মায়া বুঝি আপন মনেই গেয়ে ওঠে দুঃখের গান:&#8217;এখনো গেল না আঁধার/এখনো রহিল বাধা&#8217;।তাঁর অন্তঃসত্ত্বাতেও তো তেমন করে আঁধার ঘোচেনি,কাটেনি বাধার বলয়,তাই এই গান যথার্থ।</p>



<p>&nbsp;সত্যজিতের চলচ্চিত্রে পূর্ণ বা অংশত আরোপিত নানা রবীন্দ্রসংগীতের আলোচনার সমাপ্তিরেখা আপাতত এখানে টেনে আমরা ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে পারি।সতর্ক পাঠক প্রশ্ন তুলবেন তাঁর ছবির সব কটি রবীন্দ্রগীতির পর্যালোচনা তো হল না।হল না,তার কারণ বাকি অনালোচিত গানগুলি বুঝতে হবে আরেক বিন্যাস ও ব্যাপ্তিতে।</p>



<p>নির্বাচিত অংশ -বাংলা ফিল্মের গান ও সত্যজিৎ রায় -সুধীর চক্রবর্তী-প্রতিক্ষণ পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড। &nbsp;</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/">রবীন্দ্রসঙ্গীত ও সত্যজিৎ রায়</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%80%e0%a6%a4-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a7%8e/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>একলা মা</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 12 May 2026 15:33:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<category><![CDATA[single mom]]></category>
		<category><![CDATA[single mothers]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=7706</guid>

					<description><![CDATA[<p>কেমন আছেন আজকের একলা মায়েরা ?কেমন থাকেন একলা মায়েরা ?</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/">একলা মা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘I have a great career, and I have my daughter. So what I don&#8217;t have is not as important to me as what I do have.&#8221;- Padma Lakhsmi.</p>



<p>কেমন আছেন আজকের একলা মায়েরা ?কেমন থাকেন একলা মায়েরা ?এই ব্যস্ত,সদা পরিবির্তনশীল সমাজে কেমন করে দিনযাপন করেন এই একলা মায়েরা ? তাদের জীবন যুদ্ধ আর আরো ভালো থাকতে</p>



<p>এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয় যে বুঝতে অসুবিধে হবে বিষয়টা সাধারণ পরিবার সন্তান সন্ততির তুলনায় বেশ কঠিন,শারীরিক এবং মানসিক চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার উত্তরণ।সর্বজয়া এবং অপুর জীবনযুদ্ধ এখনও শুধু প্রাসঙ্গিক নয় এর সঙ্গে নারী স্বাধীনতার বিকাশ আর দর্পের বিষয় স্বেচ্ছায় সিঙ্গল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত।</p>



<p><strong>একলা</strong><strong> </strong><strong>মায়েদের</strong><strong> </strong><strong>প্রধান</strong><strong> </strong><strong>চ্যালেঞ্জ</strong> :</p>



<p><strong>১</strong><strong>) </strong><strong>ওয়ার্ক</strong><strong> </strong><strong>লাইফ</strong><strong> </strong><strong>ব্যালেন্সের</strong><strong> </strong><strong>ভারসাম্য</strong> : অন্যান্য ক্ষেত্রে তুলনায় অনেক বেশি জরুরি।একদিকে উপার্জনের জন্য কাজ এবং সময় আর অন্যদিকে বাচ্চাকে দেখভাল,খাওয়া পরা,পড়াশুনো এবং তার মনোরঞ্জনের জন্য খেলাধুলো,বেড়ানো ইত্যাদির ক্ষেত্রে সঠিক ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স করে চলা।</p>



<p><strong>২</strong><strong>) </strong><strong>মানসিক</strong><strong> </strong><strong>সংগ্রাম</strong> : যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং সমাজের তথাকথিত ঠিক করে দেওয়া প্রচলিত নিয়মের বাইরে সেহেতু নিজের এবং বিশেষ করে বাচ্চার বেড়ে ওঠার সময়কার একাকিত্ব,তার অন্য বন্ধুদের বাবা মায়ের একসঙ্গে থাকার বিপ্রতীপে সে আর তার মা , বাচ্চার কাছে এই বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মমতা ,ভালোবাসা দিয়ে ঘিরে তার বেড়ে ওঠাকে সহজ এবং আনন্দময় করে তোলা এবং নিজেকে ভালো রাখা খুব জরুরি।&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৩</strong><strong>)</strong><strong>স্ট্রং</strong><strong> </strong><strong>সাপোর্ট</strong><strong> </strong><strong>সিস্টেম</strong> : একলা মায়েদের একটা শক্তিশালী ,কাজের ,ইতিবাচক মানসিকতার টিম রাখতেই হবে।সেটা বন্ধু,মা,বাবা,ন্যানি,অন্য আত্মীয়,বন্ধুর সাহায্য দরকার এটা মেনে নেওয়া।এটা কোনো জেদের বিষয় নয় বা দুর্বলতার কারণে নয় এই সদর্থক মানসিকতা নিজের এবং বাচ্চার জন্য জরুরি।একলা মা স্বস্তিকা মুখার্জি জানিয়েছেন মেয়ে অন্বেষাকে স্কুলে ভর্তির বিড়ম্বনা,সব বোরো স্কুলে লেখা যে বাবা -মা কে একসঙ্গে আসতে হবে তাই পরে বাবা সন্তু মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে করে নিয়ে যেতেও অনেক ক্ষেত্রে বাধা,আচ্ছা পরের বার আসুন শোনা স্বস্তিকা যখন জানতে পারেন যে জলপাইগুড়ির একলা মা আশা দেবনাথ ও তার একাদশ শ্রেণীর মেয়ের জীবনে বিপদ আসে যখন আশার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্দ্বিধায় আসার পাশে দাঁড়িয়েছেন আর এক একলা মা।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৪</strong><strong>) </strong><strong>একলা</strong><strong> </strong><strong>মা</strong><strong> </strong><strong>হওয়া</strong><strong> :</strong> ইলিনা বণিক ,অনিন্দিতা সর্বাধিকারী স্ব ইচ্ছায় একলা মা হয়েছেন এবং বেশ ভালো আছেন।আজকের পৃথিবীতে আত্মনির্ভর,,স্বাধীনচেতা মেয়েদের জীবনে সন্তান উৎপাদনের জন্য কোনো পুরুষের শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। এই&nbsp; বিষয় সুপ্রিম কোর্টে দৃষ্টান্তমূলক এবং যুগান্তকারী রায়ে বলা হয়েছে অভিভাবকত্বের প্রশ্নে শিশুর কল্যাণের দিকটাই বড়।এই রায়ের ফলে স্কুলের ফর্মে বাবার নাম লেখা বাধ্যতামূলক নয়।অমরাবতী কলকাতার প্রথম সিঙ্গেল মাদার।মা চিত্রশিল্পী ইলিনা বণিক।কয়েকবছর আগে এইভাবে অগ্নিস্নাতর জন্ম দিয়েছেন চিত্র পরিচালক অনিন্দিতা সর্বাধিকারী।একাকী মা শব্দটি সমাজের অভিধানে ঢুকে পড়েছে।&nbsp; &nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>৫</strong><strong>) </strong><strong>নিজেকে</strong><strong> </strong><strong>ভালোবাসো</strong><strong>,</strong><strong>তুমি</strong><strong> </strong><strong>এবার</strong> : গানের পংক্তিটি জীবনে ধারণ করতে হবে,অর্থাৎ শুধু উপার্জন আর সন্তান মানুষ করতে গিয়ে নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভালো লাগাকে অবহেলা করা একদম চলবে না ।&nbsp;</p>



<p>বিভিন্ন সামাজিক স্তরে,ক্ষেত্রে ,অবস্থায় এই একলা মায়েদের জীবনযুদ্ধ এবং বাধা,বিঘ্ন,সামাজিক অন্যায্য অপমান,সমালোচনার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে চলা একলা মায়েদের পাশে এই সমাজ আরো স্নেহ,সহমর্মিতা,ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখলে আমাদের পৃথিবী আরো সহনশীল সুন্দর হয়ে উঠবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>পদ্মা লক্ষী,নীনা গুপ্তা,স্বস্তিকা মুখার্জির বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজেরদের জীবন কথা এবং মনোবিদ গায়ত্রী রাওয়ের পরামর্শ।                   </p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/">একলা মা</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/how-to-overcome-challenges-and-barriers-faced-by-single-mothers/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>পাজি ছুঁচো</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-by-sanjib-chattopadhyay-2/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-by-sanjib-chattopadhyay-2/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:50:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Galpo]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10593</guid>

					<description><![CDATA[<p>সরু সুরে চিক্ চিক্ শব্দ করে জানান দেয়, আছি, আছি, তুমিও আছ আমিও আছি, সপরিবারে আছি।...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-by-sanjib-chattopadhyay-2/">পাজি ছুঁচো</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়</strong></p>



<p>অতীতে যখন আমার উচ্চতা মাত্র কয়েক ফুট, তখন থেকেই শুনে আসছি আমি একটি পাজি ছুঁচো। ছুঁচো আমার কাছে আজও তেমন পরিচিত প্রাণী নয়। আশে পাশে ঘুরে বেড়ায়। সরু সুরে চিক্ চিক্ শব্দ করে জানান দেয়, আছি, আছি, তুমিও আছ আমিও আছি, সপরিবারে আছি। আছি এবং থাকবো। অভাবেও থাকবো, স্বভাবেও থাকবো। ইঁদুরের মতো অতটা অত্যাচারী নই। তবে কি. আমরা একটু ভিজে ভিজে, থলথলে প্রাণী। ইঁদুরের মতো শুকনো, খড়খড়ে নই, থ্যাসকা আমাদের শরীরের গন্ধ। তোমাদের ভালো লাগে না। এই বার বলো, তোমরাও কি খুব সুগন্ধী? বোধ হয় না। শরীরে বহু রকমের ফ্যাস-ফোঁস প্রয়োগ করো। আহা রে! সুগন্ধী মানব আমার।যত দুষ্কর্মের নায়ক।</p>



<p>যৌথ পরিবার ভাঙলে কেন?</p>



<p>টেকনিক্যাল অসুবিধা। ‘কাকাবাবু প্রবলেম’।</p>



<p>সে আবার কি?</p>



<p>তাঁরা দুই ভাই &#8211; বাবা আর কাকা। দুই মহিলা একজন আমার মা, অন্যজন আমার কাকিমা।</p>



<p>বাঃ, &#8216;ভালোই তো, বেশ ছিমছাম। পেল্লায় একটা বাড়ি, দশ কাঠা জমি। আম, জাম, কাঁঠাল, মাঝারি মাপের একটা পুকুর, রুই, কাৎলা । আহা, আহা, বেজায় সুখ, তা&#8217; এমন চচ্চড়ি হয়ে গেল কি করে?</p>



<p>নাট, বল্টু সব লুজ হয়ে গেল, টাইট দেবার লোক নেই, শুরু হল ফাইট। ফাইট করতে,করতে ফাইটাররা সব ওপরে, প্যাভেলিয়ানে। পরবর্তী ইনিংসের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে। সিলিং ফ্যানে মানুষ ঝোলে আদালতে। গয়া পিসি কবে মরে পগার পারে, মামলা এখনো ঝুলছে। উত্তরাধিকার সূত্রে মামলা লাভ।</p>



<p>প্রপার্টিটা কোথায়?</p>



<p>বলতে পারবো না,তবে দলিলের পাউডার খাপে ভরা আছে।</p>



<p>ভাই, সেকালের চেয়ে একাল অনেক, অনেক ভালো- যে যার সে তার। এর সুন্দর একটা ইংরেজি আছে, ‘হিজ হিজ, হুজ হুজ’।সেই কলেজ জীবন থেকে শুনে আসছি বেঁচে থাকার এই স্তোত্রটি ।</p>



<p>সুউন্নত এই ডিজিট্যাল সভ্যতা ক্রমশ এক ভয়াবহ নিঃসঙ্গতার দিকে চলেছে।সেদিন সুন্দর এক অভিজ্ঞতা হল। মস্ত এক বিবাহ অনুষ্ঠান। বিবাহ তো অতীতের মতো নিজেদের বাড়িতে হয় না। তাছাড়া বাড়ি কোথায়, সবই তো ফ্ল্যাট। সুতরাং বিয়ে বাড়ি ভাড়া করতে হয়। সেও ভারি মজার। বহুতল বিবাহ বাড়ি। একই সঙ্গে তিনটি বিবাহ, প্রথম তলে একটি, ব্যানার ঝুলছে শ্যামল ওয়েডস শ্যামলী। দ্বিতীয় তলে কিঙ্কর ওয়েডস কাকলী, ইত্যাদি। উপহার হাতে যাঁরা আসছেন, নির্দেশ, হুটোপাটি করবেন না । উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাবেন না । নিমন্ত্রন পত্রটি/ বাক্সটিসঙ্গে রাখুন। অতিরিক্ত সাবধানতার কারনে, সঙ্গে রাখুন আধার কার্ড, প্যান কার্ড। পূর্বের এক অনুষ্ঠানে, পাত্র ও পাত্রীপক্ষের হাতাহাতি মারামারিতে আমাদের প্রভূত ক্ষতি হওয়ায় আমরা বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করে দুজন বাউন্সার রেখেছি। তাদের বুকে চিহ্নে আঁটা আছে পাত্র-পাত্রী। </p>



<p>লড়াইয়ের স্থান এই ভবনের পশ্চাতে নির্দিষ্ট আছে। আছে একটি অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার ও ফার্স্টএডের ব্যবস্থা। প্রবেশ দ্বারে আছে মেটাল ডিটেক্টার। পূর্বের এক বিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা &#8211; রিভলভারধারী এক যুবক বিবাহস্থলে প্রবেশ করে দাবি করেছিল, আমি তিন বছর ধরে রিহার্সাল দিচ্ছি বরের ভূমিকায়, কোথা থেকে এই ছুঁচোটা বরের পিঁড়িতে বসে পড়ল। তারপর আগেয়া, বলে গান ধরল ষাঁড়ের গলায়, তারপর নাচতে লাগল, হাম সুইসাইড করেগা, তারপর ধপাস, নড়েও না, চড়েও না। হঠাৎ পাত্রী উঠে দাঁড়াল, সেকি নৃত্য তার &#8211; প্রেম করেছি, বেশ করেছি, করবোই তো!</p>



<p>ঝিরি,ঝিরি আলোর ঝালর মোড়া আলো-আঁধারি উদ্যান। এদিকে ওদিকে,সেদিকে বসে আছে সারি,সারি মোবাইল। সকলেই কথা বলছে দূরের অদৃশ্য কারো সঙ্গে।কথা, অজস্র কথা। এত কথাও জমে আছে এই ছোট ছোট খোলে। পাশে, অদূরে বসে থাকা কারো সঙ্গে কেউ কথা বলছে না। হাতের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে লেগে আছে নীলে আলো। বিরাট একটা জলের ট্যাঙ্ক বাহকের মাখায়, সঙ্গে ঝিলিক মারা পোশাক, হৃষ্টপুষ্ট, শাঁসালো এক ব্যক্তি। সবাই হাঁ হয়ে গেছে &#8211; এ আবার কী?</p>



<p>‘হাঁ ভাই। অ্যায়সা কুছ দিতে হোবে যা কাজে আসে। চিত্তবাবু বাড়ি বানাচ্ছে, এক ট্যাঙ্কিতো জরুর লাগে গা। হাম ডিলার হায় না!’</p>



<p>পায়ের ওপর দিয়ে ‘ট্যাক’ শব্দ করে কি একটা চলে গেল— ‘ছুছুন্দর’।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-by-sanjib-chattopadhyay-2/">পাজি ছুঁচো</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/bengali-short-story-by-sanjib-chattopadhyay-2/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এসো হে বৈশাখ</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:37:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Rochona]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10588</guid>

					<description><![CDATA[<p>শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা.....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>নৃসিংহ</strong><strong> </strong><strong>প্রসাদ</strong><strong> </strong><strong>ভাদুড়ী</strong><strong></strong></p>



<p>বাংলার নতুন বৎসর আসলে একেবারেই মোগলাই ব্যাপার। এখনকার দিনের পয়লা বৈশাখে বাঙালির যে বর্ষারম্ভ হয় ,তা আমাদের আত্মীকৃত, সাধারণীকৃত সংস্করণ। অথচ বাঙালির ঘরে আমাদের হিন্দু ভাবনায় যা হতে পারত ,তাও আমাদের ঘটেনি।কেননা তা সম্ভবই ছিল না । আসলে জৈন &#8211; বৌদ্ধ কিংবা মুসলমান-খ্রিস্টানের আগে থেকেই সনাতন ব্রাহ্মণ্য সংস্কার যেটা বঙ্গদেশে চালু ছিল ,সেখানে তো পরিবর্তন হয়েছে বার বার। অর্থাৎ কিনা ,অতি- প্রাচীন ভারতবর্ষে তিথি- নক্ষত্রের যোগ নিয়ে অনেক ভাবনা থাকলেও বর্ষারম্ভ নিয়ে একটা শক্তপোক্ত মত গড়ে ওঠেনি কিছু । পন্ডিতেরা বৈদিকদের ঋতু &#8211;সনাথ ,আশা- আকাঙ্খা -আশীর্বাদ ব্যাপারটাকে একটা চিহ্ন হিসেবে ধরে বলেছেন যে ,আর্যরা অতিশীতল দেশ ছেড়ে ভারতবর্ষে ঢোকার পরও পুরোনো অভ্যেস বদলাতে পারেনি বলে &#8216;একশো শীত &#8216; বেঁচে থাকার আশা করতেন ,অথবা একশো শীত বেঁচে থাকার আশীর্বাদও করতেন। ঋগ্বেদে রুদ্রদেবতার কাছে একটি মন্ত্রে ঋষি বলছেন &#8211; আমরা যেন তোমার দেওয়া ওষধি লাভ করে একশো হিম ( শীতকাল ) বেঁচে থাকি &#8211; শতং হিমা অশীয় ভেষজেভিঃ।বেদের পংক্তিতে শতং হিম মানে একশো বছর।পন্ডিতেরা বলেছিলেন সেকালে ভারী শীতের দেশ থেকে এসে আর্যদের এই শতবার্ষিকী জীবন পরিকল্পনার কারণ সম্ভবত আর্যরা বছর গণনা করতেন শীতকাল থেকে।</p>



<p>আবার যখন যুধিষ্ঠির জিজ্ঞেস করলেন কোন মাসের উপবাসে ফল হয় সবচেয়ে বেশি তখন ভীষ্ম পিতামহ উপবাসের তালিকা আরম্ভ করলেন অগ্রহায়ণ মাস থেকে ।কেননা সেকালে বর্ষারম্ভের মাস এটাই আর নামের মধ্যেই সেই মিল দেওয়া আছে,কারণ বৎসরের অগ্রে যে প্রথম মাস সেই অগ্রহায়ণ ।ভগবতগীতার আর এক টীকাকার বেঙ্কটনাথ বলেছেন বৎসরের এই প্রথম মাসের অধিষ্ঠাত দেবতা হলেন কেশব তাই &#8216;প্রথমস্য কেশবস্য মাসত্বাং&#8230; বর্ষ গৰ্ভধান ..কালত্বাৎ।</p>



<p>সন্দেহের আর দ্বিতীয় কারণ থাকে না যে, শুধু বঙ্গদেশ নয়,সমস্ত ভারতবর্ষেই এই অঘ্রাণ মাসটাই বর্ষারম্ভের প্রতীক ছিল।সেখান থেকে আমরা যে কেমন করে টি এস এলিয়টের&nbsp; ক্রুুয়েলেস্ট মান্থ এপ্রিলে&nbsp; বর্ষবরণ আরম্ভ করলাম তার সৌজন্য সহায়তায় আছেন মহামতি আকবর,মুঘল সম্রাট আকবর।এমনিতে হৃদয়বান মানুষ হলেও কী করবেন ,রাজকোষে অর্থ না থাকলে ,রাজকর&nbsp; জমা না হলে তিনি প্রশাসন চালাবেন কী করে ?রাজকোষে অর্থ জমা পড়ার সবচেয়ে অসুবিধে দাঁড়াল ক্যালেন্ডার।আকবরের অনেক আগে থেকেই বঙ্গদেশে প্রশাসন চলছিল হিজরি সন অনুযায়ী ।কিন্তু হিজরি সন</p>



<p>চান্দ্রমাস অনুযায়ী চলে বলে বাংলার মতো কৃষিপ্রধান দেশের ফসলি সন প্রতিবছর হিজরি সনের সঙ্গে শুধুমাত্র মেলে না বলেই মিলত না।ফলে কৃষকদের সমূহ অসুবিধে আরম্ভ হল ! কারণ ফসল বস্তুটাই যাদের রাজকর হিসেবে দিতে হয় ,তারা চান্দ্রমাসের গতিতে এক এক সময়ে রাজকর দেবে কী করে !ফসল ওঠার নির্দিষ্ট সময়েই যদি অবস্থা বুঝে রাজকর দেওয়া সম্ভব হয় ,তবেই কৃষকদের সুবিধে ।</p>



<p>মহামতি আকবর আমির ফতেউল্লা শিবাজি নামে এক বিদ্বান পন্ডিতকে ভার দিলেন হিজরি চাঁদ এবং ভারতীয় ফসলি সনের সূর্যকে একত্র মেলাতে।শিবাজির পরিশ্রম কম হয়নি -হিজরির চান্দ্রায়ণী গতি আর হিন্দুদের সূর্যসিদ্ধান্ত অনেক মিলিয়ে তিনি নিজের সমকাল বাদ দিয়ে বাদশাহ আকবরের সিংহাসন বসার অভিষেক -বর্ষ থেকে একটা শতাব্দী সূচনা করার চেষ্টা করলেন।কেননা যখন বঙ্গাব্দ প্রচলনের এই চেষ্টা চলছে তখন আকবরের রাজত্বকালের ২৮ বছর চলে গিয়েছে ,তাঁর সমসাময়িক হিজরি সন তখন ৯১৮।শিবাজি তখন আকবরের সিংহাসন লাভের বছর ধরে হিজরি সনের ৯৬৩ সনে বঙ্গাব্দ চালু করে দিলেন।বঙ্গাব্দ বৃদ্ধ হয়েই জন্মাল।</p>



<p>তাই এটা বরং মেনে নেওয়া ভাল যে বঙ্গাব্দের সূচনায় বাঙালির কোনও কারিগরি নেই কিংবা নেই পরম্পরা চালিত কোনও ভাগবত সন্দর্ভ।যা আছে ,তা হল চরম জাতীয় সংহতির প্রমাণ ।তবে বাংলার একটা পৃথক সত্তা অবশ্যই তৈরি হয়েছে &#8211; আমাদের নিজস্ব বর্ষ গণনার পদ্ধতি আছে ,যা সারা ভারতবর্ষ মেনে নিয়েছে ।জাতীয় সংহতির এই আব্দিক পূরণ বঙ্গাব্দের বৈশিষ্ট বলেই আমাদের দেবতা গণেশ।গণেশ তাঁর হস্তীমূখের মৃদু হাসিটি নিয়ে নেমে এসেছেন আমাদের হালখাতায় ; কালীঘাটে মহাকালী দন্তবিকশিত আশীর্বাদ করছেন আমাদের, বাঙালির পয়লা বৈশাখ উৎসবের গতিতে বসে পড়েছে শুধু কৃষকদের কল্যাণে ,তাদের ফসলি সনের পূর্ববাহিকতায়,এই নতুন বঙ্গাব্দে তাই কৃষকদের প্রতিই আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকুক। এমন কোনও দেশ আছে এই পৃথিবীতে যেখানে একটা নতুন ক্যালেন্ডার তৈরি&nbsp; হয়েছে শুধু কৃষকদের প্রয়োজনে।</p>



<p>রবীন্দ্রসংগীত, নলেন গুড় কিংবা বিয়ের ধুতির মধ্যে যদিও বাঙালির বাঙালিত্ব প্রমান করার দায় থাকে কিছু পয়লা বৈশাখের নববর্ষে সেই দায় আছে বলে মনে হয় না!আমাদের এই বঙ্গদেশে বঙ্গাব্দের ইতিহাস জানেন এমন মানুষের সংখ্যা পাঁচ শতাংশও নয়।যে অসংখ্য মানুষ এখন আছে, যাঁদের শিয়ালদহ স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় বঙ্গাব্দের বর্তমান সংখ্যা জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারবেন না।এমনকী আমাকেও কারণান্তর বশত বঙ্গাব্দের সংখ্যা স্মরণ করতে হয় মাঝেমধ্যে, কিন্তু হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলে আমি থতমত খাব।তার কারণ অনভ্যাস।এমনকী বর্ষশেষের আলোয় রাঙা এই চৈত্র মাসে কোনও আধুনিক আধুনিক প্রেমিক- প্রেমিকার&nbsp; চোখে &#8216;সর্বনাশ &#8216; পর্যন্ত ধরা পড়ে না । আর যে ছেলেটা সদ্য -রাবীন্দ্রিক রোমাঞ্চে চোখ ঢুলু ঢুলু করে -&#8216;বর্ষশেষের আলোয় রাঙা &#8216; উচ্চারণ করেছিল এবং নিপুণভাবে লক্ষ্য করেছিল অভি- দন্ডায়মান তরুণীর চোখ দুটিতে প্রেমময়ী দীর্ঘছায়া ঘনিয়ে আসে কিনা -তরুণী উত্তর দিয়েছিল &#8211; কী সব চৈত্র &#8211; ফৈত্র বলছিস আর তোর সর্বনাশটাই&nbsp; বা কী করলাম আমি ?দ্যাখ এইসব কবিতা- ফবিতা নিয়ে একদম আমাকে &#8216;হেকল&#8217; করার চেষ্টা করিস না ।এই মর্মান্তিক &#8216;সেমান্টিক &#8216; বিপর্য্যাস শুনেই আমি বুঝেছিলাম &#8211; আর বাংলা ক্যালেন্ডার থাকার কোনও মানেই হয় না।</p>



<p>অথচ দেখুন প্রতি বছর বঙ্গাব্দ আসে আমরা বর্ষবরণ করি যথাসাধ্য যথামতি।এমনকী সকাল এবং সন্ধ্যায় মহোৎসাহ দেখা যায় এক বিশেষ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে &#8211; যারা আমাদের অন্ন- ব্যঞ্জন বেশ- বাসের ব্যবস্থা করেন ।সকালে তাদের গুন্ঠিত ধুতিতে জাবদা খাতা আর সিদ্ধিদাতা গণেশের মূর্তি নিয়ে কালীমন্দিরে যেতে দেখি কেননা বঙ্গদেশে পুজোর প্রথমাংশ সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এদেশ গণেশ চতুর্থীর দেশ নয়, আমরা মাথা বিকিয়ে আছি জগন্মাতার কাছে আর ভোলানাথ শঙ্করের কাছে &#8211; মাতা মে পার্বতী দেবী পিতা দেবো মহেশ্বরঃ।আমরা ধামায় করে সিদ্ধিদাতা গণেশকে নিয়ে জনক -জননীর আদর খাইয়ে আনি কালিমাতার থানে তারপর জাবদা&nbsp; খাতায় হিসাব আরম্ভ করি শুভলাভ লিখে।&nbsp; &nbsp;&nbsp;</p>



<p>তবে এটা মানতে হবে যে বাঙালি আর বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা তফাৎ আছে বই কি!বাঙালি বলতে তার ভৌগোলিক সংস্থানটুকুর সঙ্গে তার নদ-নদী জল-হওয়া ধুতি-চাদর মৌরলা-ইলিশ শাক-শুক্তোর পাত আর নদী -জলের কাদামাখা মাখো মাখো আবেগ -এসব ঠিক আছে ।কিন্তু বাঙালিয়ানার মধ্যে একটা দেখনদারী আছে এগজিবিশনিজম আছে, বাঙালিত্বের একটা বাহ্য আরোপন আছে ।সময় বুঝে ধুতি পাঞ্জাবি পরা নির্দিষ্ট দিনে বড় রেস্তোরাঁয় শাক-শুক্তোর খালি গিলে আহা-উহু করা এবং সাময়িক রবীন্দ্রসংগীত -এসব আমার কাছে কোনও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় এমনকী অশ্রদ্ধেয় কোথাও কিছু নয়। কী করবে বাঙালি ঠাকুমা-দিদিমারা নেই চলার মধ্যে সময় নেই, অকারণে আনন্দ নেই কী করবে বাঙালি? ফলত নতুন বছরটাও কিন্তু বাঙালিয়ানার একটা অন্যতম দিন হয়ে উঠেছে ।এটা ভেবে আনন্দ পাওয়ায় ভাল যে আজকে যে দিনটা পালিত হতে হতে ইতিহাস হয়ে উঠেছে সেখানে যদি উৎসমুখে বাঙালির কোনও আত্মচিহ্ন না-ও থাকে তাহলেও পালন-পোষণের মাহাত্ম্য এতটাই যে তা বাঙালির ইতিহাস তৈরি করে দেয়।</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/">এসো হে বৈশাখ</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/the-history-of-bengali-poyla-baishakh-origin-by-nrisingha-prasad-bhaduri/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>অনসূয়াদির আমবাগান</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/anusuadir-ambagan-short-story-by-harsha-dutta/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/anusuadir-ambagan-short-story-by-harsha-dutta/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:16:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Galpo]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10583</guid>

					<description><![CDATA[<p>আপনি আমের গাছ যে-মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেই মাটিকে সম্মান জানাতে এসেছেন।...</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/anusuadir-ambagan-short-story-by-harsha-dutta/">অনসূয়াদির আমবাগান</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>হর্ষ দত্ত</strong><strong></strong></p>



<p> </p>



<p>গৌড় এক্সপ্রেস শিয়ালদহ থেকে ঠিক রাত ১০টা ৫ মিনিটে ছেড়েছে। মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছবে সকাল ৬টা থেকে ৬-১৫মিনিটে। স্লিপার ক্লাসের যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ট্রেন ছাড়ার কিছু পরেই শুয়ে পড়েন। কেউ কেউ সঙ্গে করে নিয়ে আসা ডিনার সেরে নেন। মনুজেন্দ্র বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া করেই বেরিয়েছে। এই নিয়ে ও মালদায় আসছে দ্বিতীয়বার। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাশ্বতী দেবীর ওপর দুদিন ব্যাপী সেমিনারে যোগ দিতে যাচ্ছে।</p>



<p>এসি টু-টিয়ারে লোয়ার বার্থ পেয়েছে মনুজেন্দ্র। ওর উলটো দিকে বসে আছেন কালচে ট্রাউজার ও আকাশি নীল রঙের ফুল শার্ট পরা এক নিপাট বয়স্ক ভদ্রলোক। মুখে কোনও বিরক্তি বা বিষাদ লেগে নেই। বরং প্রসন্ন। । ট্রেন চলতে শুরু করার পর একঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ঠায় বসে না থেকে, শুয়ে পড়ার মতো পিঠটা একটু ঠেকিয়ে নিলে ভাল লাগত। মনুজেন্দ্র ভাবল।</p>



<p>— আপনি কি এখন বিছানা করবেন ? তা হলে আমি করিডোরে দাঁড়াই&#8230;। বিনয়ী স্বরে কথা বলতে বলতে মানুষটি উঠে পড়লেন।</p>



<p>সামান্য হলেও, ভেতরে ভেতরে চমকে গেল মনুজেন্দ্র। ভদ্রলোক ওর মনের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারলেন কী করে ! বিস্ময় সামলে নিয়ে মনুজেন্দ্র বলল, না&#8230;না, আমি এত তাড়াতাড়ি ঘুমোই না।&#8230;বাড়িতে শুতে শুতে বারোটা পেরিয়ে যায়।</p>



<p>&#8212;তা হলে তো আপনি আমারই মতো বিছানা-কাতর নন। অতএব দিব্যি গল্প করতে করতে যেতে পারি। ভদ্রলোক স্মিত হাসলেন, মালদায় যাচ্ছেন নিশ্চয়ই ?</p>



<p>&#8212;আজ্ঞে হ্যাঁ। মনুজেন্দ্র নড়েচড়ে বসল।</p>



<p>আলতো ভঙ্গিতে বার্থে বসে ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন, মালদায় কি এই প্রথমবার ?</p>



<p>&#8212;না, এটা সেকেন্ড টাইম। গৌড়বঙ্গ ইউনিভার্সিটিতে একটা সেমিনারে যোগ দিতে এসেছি।</p>



<p>ভদ্রলোক হাসি ছড়িয়ে বললেন, ওরে বাবা, আপনি তাহলে নিশ্চয়ই অধ্যাপক ! ওইসব সেমিনার-লেকচার&#8230;বুঝেশুনে আপনার সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি মশাই রেলে কেরানির চাকরি করতাম। সাত-সতেরো জায়গা ঘুরে কয়লাঘাটা থেকে যথাসময়ে রিটায়ারমেন্ট। হাঃ, হাঃ, তারপর থেকে বয়স হু হু করে বাড়ছে। মালদা টাউনে বাড়ি করেছি। আমার নাম লোকেশ নিয়োগী।&#8230;তা, আপনার নামটা জানা হল না।</p>



<p>&#8212; মনুজেন্দ্র ভৌমিক। আপনি ঠিকই ধরেছেন, আমি মফস্বলের একটি কলেজে অধ্যাপনা করি।</p>



<p>&#8212;বাঃ, খুব ভাল।&#8230;টাউন থেকে গৌড়বঙ্গ ইউনিভারসিটি খানিক আউটস্কার্টে। জায়গাটার নাম মোকদুমপুর। ইউনিভারসিটির পাশ দিয়ে চলে গেছে ন্যাশনাল হাইওয়ে থার্টি ফোর। আচ্ছা, প্রথমবার এসে মালদা জেলার আশপাশটা ঘুরে দেখেছিলেন ?</p>



<p>সেবার ওর হাতে তত সময় ছিল না। তবু তারই মধ্যে যেটুকু দেখেছে মনুজেন্দ্র তা বলল, হুসেন শাহী গৌড়, পান্ডুয়ার আদিনা মসজিদ আর মহেদিপুর বর্ডার দেখেছিলাম।</p>



<p>আনন্দের সঙ্গে নিয়োগীবাবু বললেন, বেশ, বেশ। আপনি তো ক্রিম জায়গাগুলোই দেখে নিয়েছেন। তবে আরও ঘুরে দেখার জায়গা আছে, অধ্যাপক ভৌমিক। এবার না হয় যাবেন।</p>



<p>একটু দ্বিধা ও মৃদু অস্বস্তি নিয়ে মনুজেন্দ্র বলল, আসলে মালদার সঙ্গে আম অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে গেছে। বলতে লজ্জা করছে, তবু বলি, অনন্য স্বাদের এত বিচিত্র আমের ফলন যে-জমিতে হয়, সেই ভূমির মাটি একমুঠো নিয়ে যেতে চাই।</p>



<p>লোকেশ অবাক চোখে, মনুজেন্দ্রর দিকে সোজা তাকিয়ে গাঢ় স্বরে বললেন, এই না হলে অধ্যাপক ! আমরা আমটি খেয়ে পরিতৃপ্তির ঢেকুর তুলি। আর আপনি আমের গাছ যে-মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেই মাটিকে সম্মান জানাতে এসেছেন। আমি ভাবতেই পারছি না। বিশ্বাস করুন, আমার জীবনে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা।</p>



<p><strong>দুই</strong><strong></strong></p>



<p>অবিরাম চলছে এক্সপ্রেস ট্রেন। ওদের দুজনের তো বটেই, সম্ভবত কম্পার্টমেন্টের অন্য যাত্রীদেরও গন্তব্য মালদা টাউন। একলা ট্রেনভ্রমণে বা ফ্লাইটে মনুজেন্দ্র চুপচাপই থাকে। পাশের যাত্রীর সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলে না। কিন্তু এই লোকটির সঙ্গে কোনও এক অজানা সহজ পথে আলাপ হয়ে গেল ! ভালই লাগছে। <strong></strong></p>



<p>কুণ্ঠিত স্বরে নীরবতা ভাঙল মনুজেন্দ্র, লোকেশবাবু, আমি কয়েকটা বড়সড় আমবাগান দেখতে চাই।</p>



<p>ভাবনার অতল থেকে সহসা উঠে এসে, দুঃখী মানুষের মতো শব্দহীন মলিন হাসলেন নিয়োগীবাবু, মালদা শহরে তেমন বাগান আর নেই। কলকাতার মতো এখানেও ফ্ল্যাট কালচার সব গ্রাস করে নিয়েছে। আপনারা পুকুরহারা, আমরা বাগানহারা। তবে গ্রামীণ এলাকার আমবাগানগুলো উপার্জনের স্বার্থে, মালিক ও চাষিরা হাতে হাত বেঁধে বাঁচিয়ে রেখেছে। হিমসাগর, ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ প্রভৃতি আম এখানকার মানুষের কাছে শুধু ফল নয়, মাল্টিপারপাস ইন্ডাস্ট্রি। একজন রিটায়ার্ড পার্সন হিসেবে যেটুকু বুঝি। আমি কিছু ভুল বলছি না তো ?</p>



<p>&#8212; ভুল বলার কোনও প্রশ্নই নেই। মনুজেন্দ্র হাত তুলে লোকেশকে আশ্বস্ত করল।</p>



<p>&#8212;বাঙালি বহু ধরনের চেনা-অচেনা আম খায়। তবে নানা কিসিমের আমের মধ্যে&nbsp; হিমসাগর আর ল্যাংড়া বাঙালির অর্ধেক ভালবাসা ছিনিয়ে নিয়েছে। দুটো আমই চোঁচহীন। শাঁসে ভরপুর, আঁটি ছোট। আহা, দুটোরই কী স্বাদ ! আবার ইয়া বড় বড় গাছপাকা ফজলি একটা খেলেই পেট ভরে যায়। তাই না ! &nbsp;</p>



<p>&#8212;ঠিকই বলেছেন। মনুজেন্দ্র বলল, এই জেলার একজন অধিবাসী হিসেবে এটা আপনার বাস্তব জ্ঞান, অনুভব, উপলব্ধি।&#8230;সেমিনার থেকে সময় বের করে নিয়ে গ্রামের দিকেই যাব। মনে রেখেছি, গতবার পান্ডুয়া যাওয়ার পথে, চলন্ত গাড়ি থেকে কয়েকটা পাঁচিল ঘেরা আমবাগান দেখেছিলাম।&#8230;কিন্তু এমনভাবে আর নয়, আমি এবার হেঁটে-ঘুরে আমসাম্রাজ্য দেখতে চাই।</p>



<p>দারুণ খুশি হলেন লোকেশ। স্যার সম্বোধন করে বললেন, আপনি গড্ডলিকা স্রোতের বাইরে থাকা তেমনই মানুষ, যাঁদের সান্নিধ্যে এলে জীবনের মানেটাই যেন বদলে যায়। স্যার, আমি আপনাকে কোনও উপদেশ দিচ্ছি না। কেবল একটা প্রস্তাব। বলব ?</p>



<p>মনুজেন্দ্র অবাক, কেন বলবেন না ! বলুন&#8230;</p>



<p>ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে একটু ভেবে, নিয়োগীবাবু খবর দেওয়ার মতো করে জানালেন, &nbsp;আমবাগান দেখতে যাওয়ার সময় আপনার সঙ্গে কোনও গাইড থাকবেন। আমার একটা অনুরোধ, যেই থাকুন, তাকে বলবেন, আমি অনসূয়াদির আমবাগানটা একবার দেখতে যাব। অপূর্ব বাগান। আড়ে-বহরে বিরাট। সত্যিই দেখবার মতো। পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে লোকে বলত, হিমসাগরি বিশ বিঘে। তারপর নাম পালটে হল প্রসাদবাবুর ম্যাঙ্গো ফরেস্ট। এখন লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে তিন নম্বর পরিচয়—অনুসূয়াদির আমবাগান।</p>



<p>স্বল্প ভুরু কুঁচকে মনুজেন্দ্র বলল, অনুসূয়া শব্দটা ভুল। হবে অনসূয়া। &nbsp;</p>



<p>&#8212;কিন্তু ভুলটাই এখানে দিব্যি চলছে। হাত জোড় করে ফিকে হাসলেন লোকেশ।</p>



<p>&#8212;জায়গাটা মালদা টাউন থেকে কতদূর ?</p>



<p>যেন চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন এমনভাবে ভদ্রলোক বললেন, খুব বেশিদূর নয়। মহানন্দা নদীর ব্রিজ পেরিয়ে পান্ডুয়ার দিকে কয়েক কিলোমিটার গেলে রামকেলি গ্রাম। নামটা আপনি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন।</p>



<p>জোরে অথচ নীরবে মাথা নাড়ল মনুজেন্দ্র। তারপর যেন সুদূর অতীতে চলে গিয়ে মগ্ন স্বরে বলল, &nbsp;রামকেলি বৈষ্ণবদের কাছে অন্যতম মহান তীর্থ। ষোড়শ শতকের শুরুতে ধর্মভাবনার চিরপথিক মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব বৃন্দাবন যাওয়ার পথে, এই গ্রামে কিছু দিন ছিলেন। এখানেই তিনি পেয়েছিলেন আজীবনের সহচর রূপ ও সনাতনকে।</p>



<p>মনুজেন্দ্রর পায়ে হাত ছোঁয়ানর মতো আনত হয়ে নিয়োগীবাবু বললেন, এসব ইতিহাস আপনি সব জানেন। ভাগ্যিস আমি বলিনি !</p>



<p>মৃদু বিরক্ত হল মনুজেন্দ্র, শুনুন লোকেশবাবু, আমি সবজান্তা মাস্টার নই।&#8230;আপনি যখন এত গুরুত্ব দিয়ে বলছেন, তখন আমবাগানটা যেভাবে হোক দেখতে যাবই।</p>



<p>&#8212;আমার সৌভাগ্য স্যার। তবে এত বড় বাগান ঘুরে দেখতে সময় লাগবে। &nbsp;বাগানের মালকিন অনুসূয়া মালাকার ওখানেই থাকেন। আমি আর কিছু বলছি না। বাকিটা আপনি &nbsp;বুঝে নেবেন।</p>



<p><strong>তিন</strong><strong></strong></p>



<p>দ্বিতীয় দিন সকাল সাতটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত, একাধিক আমবাগান ঘুরে দেখার জন্যে মাননীয় উপাচার্য ডক্টর ভট্টাচার্য, মনুজেন্দ্রকে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ওর সঙ্গে আছে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এগজামিনেশন) প্রদীপ্ত আচার্য। ভদ্রলোক আলাপচারি নয়। কম কথার মানুষ। মনুজেন্দ্রর চেয়ে বয়সে ছোট। তবে কথা কম বললেও সুভদ্র, অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সচেতন। শুরু থেকেই ড্রাইভারের পাশে বসছে। শহর থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত বাগানগুলোর সামনে, গাড়ি থামিয়ে কেয়ারটেকার বা মালিদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকেছে। তিনটে বাগান ইতিমধ্যে মনুজেন্দ্রকে দেখানো হয়ে গেছে। এগুলো বড় আকারের নয়। শাখা-প্রশাখায় ঝুলন্ত আমের ঘনত্ব কম, বৈচিত্র মামুলি।</p>



<p>‘আম্রকানন’ নামে একটা মাঝারি বাগান দেখে, মনুজেন্দ্রর মুখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে প্রদীপ্ত বলল, সাবার্ব থেকে বেরিয়ে এবার আপনাকে পুরোপুরি গ্রামের দিকে নিয়ে যাব।&#8230;বুঝতে পারছি, এইসব পড়তি বাগান দেখে আপনি খুশি হচ্ছেন না। ঠিক আছে, মহানন্দা পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার গেলেই গ্রামাঞ্চলের শুরু। হাইওয়ের দুপাশে গ্রাম, গ্রামের ভেতরে বাগানের পর বাগান। গাছে গাছে যেন আমের মেলা বসেছে ! খুব ভাল লাগবে।</p>



<p>মনুজেন্দ্র মিষ্টি হাসল, তার মানে আপনি বলতে চাইছেন, গ্রামের দিকে গেলে বিস্ময় ও আনন্দ&#8212;দুটোতেই ভেসে যাব।</p>



<p>&#8212;তা বলতে পারেন। প্রদীপ্তর মুখে হাসির আভাস, গৌড়বঙ্গের ইতিহাসের চেয়ে, আমের অমর ঐতিহ্যে মালদাবাসী অনেক বেশি গর্বিত।</p>



<p>&#8212;ভাই, আমি শুনেছি রামকেলিতে নাকি একটা বিশ বিঘে জমি জুড়ে একটা আমবাগান আছে ? মনুজেন্দ্র ঔৎসুক্য চেপে রেখে সহজভাবে জানতে চাইল।</p>



<p>মুহূর্তে পাংশু বর্ণ হয়ে গেল প্রদীপ্তর মুখ, আপনি কি অনসূয়াদির আমবাগানের কথা বলছেন ?</p>



<p>&#8212; হ্যাঁ, হ্যাঁ, কিন্তু আপনি এমন বিচলিত হচ্ছেন কেন ! মনুজেন্দ্র বেশ অবাক হয়ে গেল। ওর মনে পড়ল, লোকেশ নিয়োগী এই বিশাল বাগানের অস্তিত্ব ও অবস্থিতির কথা জানিয়েও মন্তব্য করেছিলেন, &nbsp;‘আমি আর কিছু বলছি না। বাকিটা আপনি বুঝে নেবেন।‘ ভদ্রলোক কোনও কারণে বিষয়টার ইতি টেনে দিয়েছিলেন মাঝপথে। আমবাগানটি নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রারের আচরণও অস্বাভাবিক।</p>



<p>প্রদীপ্ত নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, না স্যার, আমি বিচলিত হইনি। আসলে ওই বাগানটার মহিলা মালিক লোকজনের সঙ্গে ভীষণ খারাপ ব্যবহার করেন। বাগানের নিজস্ব চাষি ও মালিদের ছাড়া কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেন না।&#8230;আপনাকে একটা অনুরোধ করছি, বাগান দেখার পারমিশনটা যদি আপনি নিজে করে নেন&#8230;</p>



<p>চোখ সরু করে মনুজেন্দ্র জিজ্ঞেস করল, অনুমতি কে দেবেন ?</p>



<p>&#8212;যাঁর বাগান অর্থাৎ অনসূয়া ম্যাডামই দেবেন। এখানে চাকরিতে জয়েন করার পর, আমি বাগানটার কথা লোকের মুখে শুনে একবার দেখতে এসেছিলাম। আমার পরিচয় জানানো সত্ত্বেও মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। এমন দুর্ব্য়বহার উনি অনেকের সঙ্গে করেছেন। প্লিজ স্যার, আমি বাগানের ভেতরে যাব না।</p>



<p>চিন্তিত মুখে মনুজেন্দ্র জানতে চাইল, অনসূয়া দেবী কোথায় থাকেন ? ওঁর বাড়ি&#8230;</p>



<p>প্রদীপ্ত শুকনো মুখে উত্তর দিল, অন্যদের কাছ থেকে শুনেছি, বাগানের ডান দিকে একটা ইট দিয়ে তৈরি রাস্তা আছে। ওই পথ ধরে মিনিট পনেরো গেলেই দেখতে পাবেন, পুরনো ধাঁচের উঁচু একতলা বাড়ি। বাড়ির চারপাশে গাছের ঘনত্ব অনেক বেশি। অনেকটা বনের মতো। উনি ওখানে একা থাকেন। বিয়ে-থা করেননি। ওঁর রিলেটিভ কেউ মালদায় আছেন কিনা, তা জানি না।</p>



<p>একটা আমবাগানকে ঘিরে এত রহস্য কেন ? মসৃণ, দুরন্ত হাইওয়ের দিকে অপলকে চোখ রেখে মনুজেন্দ্র ভাবতে চেষ্টা করল। স্পষ্ট উত্তর পেল না। গম্ভীর গলায় প্রদীপ্তকে নির্দেশ দিল, বিশ বিঘেতে চলুন।</p>



<p><strong>চার</strong><strong></strong></p>



<p>ভারি কাঠের তৈরি বিরাট দুটো দরজা। ওপর দিকে শেকল ও তালা দিয়ে বাঁধা। একটা পাল্লা সরাতেই দরজায় যে-লম্বা ফাঁক হল, তাতে একজন মানুষ স্বচ্ছন্দে আড়াআড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। মনুজেন্দ্র ফোকর দিয়ে দেখল, কোনও দ্বাররক্ষী নেই। মালি, চাষি কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। শুধু দেখতে পাচ্ছে, বাগান জুড়ে রোদ্দুর আর ছায়ার কাটাকুটি। আমের সুগন্ধ। নিবিড় পল্লবের আড়াল থেকে একটু থেমে থেমে কোকিল ডাকছে। ভেসে আসছে অন্য পাখির শিস। একেবারেই জনমানব শূন্য। তবু ও গলা চড়িয়ে হেঁকে উঠল, কেউ আছেন ? কেউ কি আছেন ? আমি একটু ভেতরে যেতে চাই। হ্যালো&#8230;</p>



<p>কয়েক মিনিট কেটে গেল। তেমনই এক কঠিন শূন্যতা। মুখ ঘুরিয়ে মনুজেন্দ্র দেখল, নিঃস্পৃহ মুখে শুকনো কাঠের মতো বসে আছে প্রদীপ্ত। ওর দিকে হাত নেড়ে, দরজার ফাঁক দিয়ে মনুজেন্দ্র বাগানে প্রবেশ করল। কাউকে দেখতে না পেয়ে ঘুরতে শুরু করল এধার-ওধার। কী আর হবে ! ট্রেসপাসার্সের তকমা লাগিয়ে মালিক দুচার কথা শোনাবেন। আম-চোর অপবাদ দিয়ে অপমানও করতে পারেন অযথা। এর বেশি কিছু তো নয়।</p>



<p>আরও দূরে, বাগানের উত্তর দিক থেকে কয়েকজন পুরুষ ও মহিলার কথাবার্তার ক্ষীণ শব্দ ভেসে এল। একবর্ণও বুঝতে পারল না মনুজেন্দ্র। বরং ভাবল অনসূয়ার সঙ্গে দেখা হওয়া বা দেখা করা জরুরি নয়। যখন কেউ বারণ করছে না, তখন ও যতটা পারে বাগানটা ঘুরে-ফিরে দেখুক। চলে যাওয়ার সময় অনসূয়ার সঙ্গে আলাপ হলে ভাল। না হলে ওর কিছু করার নেই। ইটরাস্তা থেকে মাটিতে পা রাখল মনুজেন্দ্র।</p>



<p>টইটম্বুর ফলের ভারে অবনত গাছগুলো যেন স্পর্শের আকাঙ্ক্ষায় মৃদু হাওয়ায় দুলছে। বাগানের মাটিতে কোথাও সবুজের আভাস, কোথাও রুক্ষ মাটি। ঝরা পাতা ঝাঁট দিয়ে তফাতে তফাতে স্তূপ করে রাখা আছে। গাছগুলোর গায়ে লেবেল সাঁটানো : ফজলি-62, হিমসাগর-184, ল্যাংড়া-37 ইত্যাদি। সম্ভবত কত সংখ্যক গাছ, এই নাম্বারিং তারই ইঙ্গিত। মনুজেন্দ্র হাঁটছে কখনও এদিকে, কখনও ওদিকে। ওর মন বলছে, &nbsp;গাছ মানুষকে নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে যতটা ভালবাসে, মানুষের প্রয়োজনে-উপার্জনে পাশে দাঁড়ায়, তার এককণা প্রতিদান ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ বৃক্ষজগৎ, মানুষের কাছ থেকে পায় না। কিছু তরু-প্রেমিক &nbsp;মানুষ&nbsp; পৃথিবীতে আছেন এই পর্যন্ত, কিন্তু তাঁরা হাতে গোনা কয়েকজন।</p>



<p>গাছ থেকে একটা আধপাকা আমপাতা, মনুজেন্দ্রর ডান কাঁধ ছুঁয়ে খসে পড়ল মাটিতে। পাতাটা তুলতে গিয়ে ও থমকে গেল। চাঁপা রঙের শাড়ি পরা, মাথা ভরতি ববকাট পাকা চুল, দেহ নাতিদীর্ঘ, মুখ কোমল অথচ আধুনিকতার আভা&#8212; এমন এক শ্রীময়ী নারী ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এই মুহূর্তে ঠিক কী করা উচিত, কী করবে মনুজেন্দ্র তা ভাবতে ভাবতেই মহিলা বললেন, ভাইসচ্যান্সেলার আমাকে সকালে ফোন করে আপনার কথা বললেন। অধ্যাপক ভৌমিক, কেমন দেখছেন বাগানটা ? আপনার প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে তো ! আপনাকে কেউ যাতে বিরক্ত না করে, তাই গেটকিপার, মালি, চাষিদের উত্তর দিকে পাঠিয়ে দিয়েছি।&#8230;</p>



<p>&#8212;অপূর্ব ! একসঙ্গে এত আম কখনও দেখিনি। মনুজেন্দ্র আবেগে আর কিছু বলতে পারল না।</p>



<p>&#8212; আপনি আনন্দিত জেনে আমার খুব ভাল লাগছে। এই বাগান আমার প্রপিতামহ করেছিলেন। ঠাকুরদার আমলে খানিকটা নষ্ট ও বেহাত হয়ে যায়। তারপর আমার বাবা স্বর্গীয় প্রসাদরঞ্জন মালাকার অমানুষিক পরিশ্রম করে তাঁর সাধের বাগানকে ফিরিয়ে আনেন। এখন আমার দেখভালের পালা চলছে। গাছেরা যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেছি। তাই বাগান দেখতে বা বেড়াতে আসা পাবলিকদের অ্যালাও করি না। তবে ফিরিয়েও দিতে পারি না কিছু কিছু অনুরোধ।</p>



<p>&#8212;আপনি একাই সব দেখাশোনা করেন ! &nbsp;&nbsp;</p>



<p>অনসূয়া স্মিত হাসলেন, না, না। আমচাষিরা সাহায্য করে। তা ছাড়া গাছপালারা ভীষণ স্বয়ংসম্পূর্ণ। ওরা বীজ থেকে জন্ম নিয়ে নিজের শক্তিতে বড় হয়ে ওঠে। শুধু জল, সার, প্রশ্রয় ও ভালবাসা আশা করে। আর একটু শুশ্রূষা।</p>



<p>সামান্য থেমে গাছগুলোর দিকে হাত দেখিয়ে জানালেন, এত আম সিজন ছাড়া থাকে না।&nbsp; পঞ্চাশ ভাগ পুষ্ট হলে, ব্যবসায়ীরা কাঁচা আম পেড়ে নিয়ে চলে যান। তারপর যে-পদ্ধতিতে তাঁরা আম পাকাবার ব্যবস্থা করেন, আমি তার ঘোরতর বিরোধী। কিন্তু বাগান পরিচর্যার জন্যে টাকা তো দরকার&#8230;। বাদবাকি গাছপাকা আমগুলো স্থানীয় এক অনাথ আশ্রমে আর রামকেলির বৈষ্ণব সাধুদের আখড়ায় পাঠিয়ে দিই।&#8230;চলুন, আমার আবাসে। চা খেতে খেতে কথা বলা যাবে। এক ঝুড়ি আম দেব। নিয়ে যাবেন।&#8230; একটু হাঁটতে হবে কিন্তু ! ছায়ায় ছায়ায় আসুন।</p>



<p>মোবাইলে কাউকে নির্দেশ দিতে দিতে অনসূয়ার পদক্ষেপ একটু দ্রুত । ওর পেছনে মুগ্ধ বিস্ময়ে আসছে মনুজেন্দ্র।</p>



<p>ইংরেজ আমলের বাংলো বাড়ির চতুষ্কোণ বারান্দায়, বেতের চেয়ারে চা নিয়ে ওরা বসেছে। মনুজেন্দ্র&nbsp; ইতস্তত করে সেই পুরনো প্রশ্নটাই ঘুরিয়ে করল,&nbsp; এই বড়িতে কি আপনি একা থাকেন ?</p>



<p>শান্ত স্বরে, স্থির চোখে অনসূয়া বললেন, হ্যাঁ।&#8230; একা, একাকী, একাকিত্ব, নির্জনতা শব্দগুলো হয়তো আপনার খুব প্রিয়। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, কেউ কি একা ? আমি বিশ্বাস করি, কোনও-না-কোনও বন্ধন মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বন্ধন মাটির নিচে থাকা শেকড়ের মতো। একা শব্দটা আমাদের বিলাপ অথবা বিলাস&#8230;। কেননা একা এবং নির্জনতা&#8212;দুটোকেই ঘিরে আছে অনন্ত প্রকৃতি। ফলে কোনও প্রাণীই প্রকৃতির বাইরে নেই। তাই নিজেকে একা কখনও ভাবি&nbsp; না। বাগানের প্রতিটা গাছ আমার স্বজন। ওরা আমার নিকট আত্মীয়।</p>



<p>অদূরে অনতি উচ্চ ধুপ করে আওয়াজ হল। অনসূয়া ঘাড় ঘুরিয়ে বললেন, একটা ভারি শরীরের পাকা ফজলি, গাছের আশ্রয় ছেড়ে মাটির কাছে ফিরে এসেছে। আগামী বছর আবার গাছের কোলে, বন্ধনের টানে ফিরে যাবে।</p>



<p>কথার মাঝখানে প্রদীপ্তর ফোন এল। অনসূয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি করে, মনুজেন্দ্র ফোন ধরতেই, প্রদীপ্তর অতিনম্র স্বর, সরি স্যার, দেরি হয়ে যাচ্ছে&#8230;।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অনসূয়াকে অবাক করে দিয়ে মনুজেন্দ্র বলল, এবার আমাকে যেতে হবে। আম নয়, আপনার এই বন্ধনভূমির একমুঠো শুদ্ধ মাটি, সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চাই।</p>



<p>  </p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/anusuadir-ambagan-short-story-by-harsha-dutta/">অনসূয়াদির আমবাগান</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/anusuadir-ambagan-short-story-by-harsha-dutta/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বুড়ো আশুতোষ আর নিঃসঙ্গ চৈত্র</title>
		<link>https://sukanyadigital.com/story-by-sayantan-thakur/</link>
					<comments>https://sukanyadigital.com/story-by-sayantan-thakur/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Sukanya Admin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Apr 2026 13:08:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Bongodarpan]]></category>
		<category><![CDATA[Featurerd]]></category>
		<category><![CDATA[Galpo]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://sukanyadigital.com/?p=10577</guid>

					<description><![CDATA[<p>পায়ের নীচে ঘেঁটু ফুলের জোসনা, প্রফুল্ল আকন্দ ফুটে থাকে রুখা দুপুরের গর্ভে, অদূরে দিগন্তবিথারি....</p>
<p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/story-by-sayantan-thakur/">বুড়ো আশুতোষ আর নিঃসঙ্গ চৈত্র</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>সায়ন্তন ঠাকুর</strong></p>



<p>আশুতোষের বয়সের গাছ-পাথর নাই, মাথার জটা ধুলামলিন পিঙ্গল, পরনের বাঘছালও জৌলুসহীন তবে কণ্ঠে সেই কবেকার নীল রঙ কিন্তু এখনও লেগে রয়েছে! মোটাসোটা দেবতাটি ফাল্গুন-চৈতের হাহাকারাচ্ছন্ন দ্বিপ্রহরে একা একা চড়কতলার মাঠে প্রাচীন ছায়াময় অশ্বত্থ তলায় বসে থাকেন, লাল শালু মোড়ানো হাতের কল্কেয় মাঝে মাঝে দু-একটি টান দেন আর ভুরুক ভুরুক গাঁজার ধোঁয়া মিশে যায় বৈরিগি বাতাসে।&nbsp; পায়ের নীচে ঘেঁটু ফুলের জোসনা, প্রফুল্ল আকন্দ ফুটে থাকে রুখা দুপুরের গর্ভে, অদূরে দিগন্তবিথারি ভুলোর বালুচর থেকে যখন ভেসে আসে হট্টিটি পাখির ডাক ঠিক তখনই দু-একটি বেখেয়ালি শুকনো অশ্বথ পাতা খসে পড়ে আশুতোষের মাথায়, জটার বামদিকে একফালি চাঁদের কোণে আটকে থাকে সেই জীর্ণ বসনসম পাতা, যেন কোনও সেকেলে অলঙ্কার।&nbsp; তবে কে কার অলঙ্কার তা আর স্পষ্ট বোঝা যায় না, আশুতোষের অলঙ্কার এই উদাসী চৈত্র, বিগতযৌবনা হলদে পাতা নাকি উল্টোটিই সত্য? কে জানে!</p>



<p>সত্য অত সহজে বোঝা না গেলেও বুড়ো দেবতার সঙ্গে অনেকদিন আগে ছেলেবেলায় একবার আমার দেখা হয়েছিল, সে এক আশ্চর্য ঘটনা! আসুন, আজ আপনাদের সেই গপ্পো শোনাই, ঠিক গল্প নয় আবার আঁকাড়া বাস্তবও তো বলা চলে না।&nbsp; ওই ধরুন কল্পনা আর বাস্তবের মাঝামাঝি এক অপরূপ দোদুল্যমান ভূখণ্ডে আমাদের দেখা হয়েছিল—ঈষৎ অস্পষ্ট, সামান্য কাঁপুনে, যেন স্পর্শ করলেই ওই ঘটনার রেণু আকাশে বাতাসে গোটা ফাটা শিমুল তুলোর মতন ভেসে যাবে।</p>



<p>যাকগে, ওসব ভাবের কথা থাক, তার চেয়ে বরং গল্পটা বলি!</p>



<p>রাঢ়দেশে চৈত্র মাসের একটা আলগা চটক আছে, ভালো করে ঠাহর না করলে অবশ্য বোঝা যায় না।&nbsp; পালামৌর বনপাহাড়ের সঙ্গে কিছু মিল আছে আবার অনেকটা ফারাকও স্পষ্ট।&nbsp; বেলা দ্বিতীয় প্রহর গড়াতে না গড়াতেই রোদ্দুর রক্তচক্ষু হয়ে ওঠে, বাউলানি ধুলাপথ, দূরে আকাশ-মাটির সীমানার কাছে জ্বরো রুগীর মতন কাঁপতে থাকা দিকচক্রবাল রেখা, ঝুঁটি বাঁধা বোষ্টুমী তালগাছ, আগুনে পলাশ, অনাদরের ঘেঁটু ফুলের ঝোপ, ধুলামলিন আকন্দ আর ফল-পাতা শূন্য শিমুল আকাশে হাড় জিরজিরে স্মৃতি-ডালপালা মেলে বসে থাকে।&nbsp; ইশারাবাহী এক ক্ষ্যাপা বাতাস মাঝে মাঝে ছুটে আসে কোন্‌ জাদুভুবন থেকে, তখন পাক ওঠে লাল ধুলা, খসে পড়ে পলাশ, শুকনো পাতা ভেসে যায় কারোর অলঙ্ঘনীয় নির্দেশে, কে এক বিচিত্র জাদুকরী তার সাপি খুলে ভুবনডাঙায় ছড়িয়ে দেন দু-মুঠি অকারণ মনখারাপ, সংসার-আলগা মানুষের মনে সেই মুহূর্তে ডাক দিয়ে যায় এক চিরকালীন আগল-ভাঙা কিশোর, কানে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে, ‘অনেক বেলা হল হে মনপবন, এবার গুবগুবিখান হাতে তুলে নাও, পলাতকা ছায়া আঁধারে হারিয়ে যাওয়ার আগেই চলো আমরা দুজনে পালাই!’</p>



<p>আর তখনই দুপাশে আদিগন্ত মাঠে খরার পান্না সবুজ লকলকে ধান এই রুখা রূপভুবনে কী এক অপূর্ব বৈপরীত্য যে সৃষ্টি করে, ঠিক যেন আমাদের জীবন—বেহিসাবী রাগ, অল্প অভিমান, ঝগড়া, বাদ-বিসম্বাদ আবার চকিত চুম্বন, আলগোছে তুলে নেওয়া প্রেম ও অপ্রেম সব নিয়েই যেমন সে চিরকালের চালচিত্র রচনা করে, এও কতকটা তাই!</p>



<p>তো এইরকম বেলা-বয়ে-যাওয়া দিনে আমি প্রায় ভুলোর চরের দিকে একা একা চলে যেতাম।&nbsp; কেন যেতাম এখন সে-কথা আর মনে পড়ে না কিন্তু যাওয়ার ঘটনাটি এখনও দিব্যি ঠাহর হয়।&nbsp; ভুলোর চরের একটা ছোট্ট আখ্যান আছে, এইবেলা সেটিও বলে নিই, নাহলে পরে আবার ভুলে যাব।&nbsp; আপনি হয়তো বলবেন, ‘আরে, এ যে গল্পের ভেতর আবার গল্প, ও ঠাকুরমশাই, এরকম করে চললে যে আর কোথাও পৌঁছানো হবে না আমাদের! যাহোক বেভুলো উড়নচণ্ডে লোক বটে আপনি!’</p>



<p>আমি সেক্ষেত্রে মুচকি হেসে বলব, ‘এই তো ভালো! কিছুটা আমি বলব, তারপর পথ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বাকি গল্পের ফুঁপি ধরে আপনি এগিয়ে যাবেন, কিছুক্ষণ পর অন্য কেউ, এভাবেই তো আখ্যান বয়ে যায় কাল থেকে কালান্তরে!’</p>



<p>একসময় ময়ূরাক্ষী এই অঞ্চলে বেশ গতিশীলা ছিল, তারপর কীসের খেয়ালে যেন সে পথ ভুলে চলে গেল আরও পশ্চিমে, পড়ে রইল স্মৃতির মতন শূন্যগর্ভ নদীখাত।&nbsp; রইল একটি ক্ষীনতনু ধারা, তিরিতিরি জল, বর্ষায় যৌবনবতী হয় বটে কিন্তু তার বারোমাস্যা বড়োই করুণ, শুষ্ক।&nbsp; নদী মুখ ফিরিয়ে চলে যাওয়ায়, ঠিক প্রথম প্রেমিকা ফিরে যাওয়ার পর যেমন হৃদয়ে তৈরি হয় এক অনুনমেয় ক্ষত, অবিকল সেরকম ওইখানে তৈরি হল গত শতাব্দীর বিধবার থানের মতন এক ধু ধু বালুচর, এপার ওপার দেখা যায় না তার, দুপুরে রোদ্দুর গাঢ় হলে তেতে আগুন হয়ে ওঠে চর আবার দিন ফুরোলে চৈতি রাতে অলীক কুয়াশায় ভরে ওঠে চারপাশ।&nbsp; নিঝুম জনহীন চরে মাঝে মাঝে ভেসে আসে শিবাদলের ডাক, রাতচরা পাখির কান্না ভেঙে দেয় নৈঃশব্দের মগ্না আঁচল, বয়ে যায় শিমশিম বাতাস, কান পাতলে শোনা যায় কে যেন বলছে, ‘আরও এগিও না বাপু, ফিরে যাও, নাহলে তোমার ঘর-সংসার-হাল-বলদ-ছেলেপুলে-পরিবার-জমিজিরেত-ভদ্রাসন সব রসাতলে যাবে!’</p>



<p>তবে চৈতি জোসনায় ভুলোর চর অন্যরকম, এই রূপ-জগতের সঙ্গে তখন তার আর জলচল নাই।&nbsp; মূর্ছিত কৌমুদী হাওয়া-বাতাসে মিশিয়ে দেয় অলীক ভুবনের রুহ্‌ আতর, তখন কেঁদে কেঁদে একাকী ঘুরে মরে ওই নিঃসঙ্গ বাতাস।&nbsp; তার বিস্রস্ত আঁচল লুটোয় বন্ধনহীন জ্যোৎস্নায়, দুচোখে লেগে যায় মায়া জগতের রেণু, কাউকে যেন খুঁজে বেড়ায় সে, অনেক জন্ম আগে যার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কিন্তু মিলন হয় নাই বলে বিরহী বাতাস আজও মুক্তি পায়নি।&nbsp; এই দিগরের লোকজন ওই হাওয়া-বাতাসকে যমের মতন ডরায়, তারা বলে, দিনের বেলা যেমন তেমন ভুলোর চর কিন্তু জোসনা রাতে ওইপানে চোখ তুলে একপলক তাকালেও নাকি অন্ধ হয়ে যায় মানুষ, ডাইনি চাঁদ তার রক্তে অবিরাম বাজিয়ে চলে সন্ন্যাসের ঝুমঝুমি।&nbsp; চন্দ্রাহত সেইসব মানুষই নাকি চড়কের সন্নিসি হয় একমাসের জন্য, আর যাদের অসুখ আরও তীব্র তারা ঘর ছেড়ে চিরকালের জন্য পালায়, কেউ কখনও তাদের কোথাও খুঁজে পায় না।&nbsp; গাঁয়ের বুড়ো মানুষরা, যাদের তিন মাথা এক হয়েছে, তারা আরও বলে, বহুকাল আগে এক সোমত্থ মেয়ে নাকি ওই ভুলোর চরে গায়ে আগুন দিয়ে মরেছিল, সেদিন ছিল চৈত্র পূর্ণিমা, ভরা চাঁদের রাতে হব্যবাহর বূহ্য বলয়ের মতন ঘিরে ধরেছিল তাকে, যুবতি পাক খেয়ে ছুটে বেড়াচ্ছিল বালুচরে, প্রচণ্ড আর্তচিৎকারে জেগে উঠে বাতাসে মিশে যাচ্ছিল কেশবতী কন্যার চুল-মাংস পোড়ার কটু গন্ধ, মন পোড়ার সুবাসও হয়তো মিশে ছিল! কে জানে! জগত-চোখ দিয়ে মন তো আর দেখা যায় না!</p>



<p>কেন মরেছিল তা নিয়ে কেচ্ছা কম রটেনি কিছু, ওই যা হয়, কাঁচা বয়সে বিয়ের আগে পোয়াতি, আমাদের গাঁ-দেশে বলে সর্বনাশিনীর মন মজেছিল আনজনে! হাঃ, তারা সব অন্ধ লোক, পিরিত দেখতে পায় না, জানে না, সর্বনাশী পিরিত ওইভাবেই দেশ-লোকাচার-কুলাচার-মান-অপমান-নিন্দা-স্তুতি সব ভাসিয়ে জোয়ারের টানে ভাসিয়ে নিয়ে যায় চিরকালের নারী ও পুরুষকে, বারংবার, ওই প্রবল টানের কোনও দেশ-কাল-জাতি নাই, সে এমনই, নিষ্ঠুর ও সোহাগী যুগপৎ, তাই বোধহয় অপ্রতিম!</p>



<p>তবে ওই ঘটনার পর থেকেই নাকি প্রতি শুক্লপক্ষের রাতে বালুচরে ঊর্দ্ধলোক থেকে নেমে আসেন জ্যোৎস্নার দেবী, ফিনফিনে নরম ত্বক, বসনহীন নিরাভরন দেহে দীঘল চোখের মতন দুটি শ্বেতস্তন, মোম গোলানো এলোচুল চরাচরে বিছিয়ে দিয়ে মানুষের নাম ধরে ডেকে বেড়ান, যাদের নাম ধরে ডাকেন তারা যদি ভুলেও ওদিকপানে যায় তাহলে আর ঘরে ফেরে না।&nbsp; ডেকে ভুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেই বোধহয় বিস্তীর্ণ চরের নাম হয়েছে ভুলোর চর।</p>



<p>আরও শোনা যায়, ওই মেয়ের নাগর তারপর নাকি মরেছিল গলায় দড়ি দিয়ে, ভুলোর চরের পুবে যে অতিকায় অশ্বত্থ গাছ আছে তার একটি পুরাতন ডালে…হ্যাঁ, আপনার অনুমান যথার্থ, এই হল সেই অশ্বত্থ যার তলায় নিঝুম চৈতি দ্বিপ্রহরে বসে থাকেন আমাদের দেবতা আশুতোষ, যাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল বিস্মৃত কৈশোরে!</p>



<p>সেদিনও বেলা একটু গড়াতেই ওইরকম বেপথু বাতাস বইতে শুরু করল আর আমিও গামছায় ফুলো ফুলো আউশ চালের মুড়ি, দুটি শশা আর একখানি পাকা বেল বেঁধে নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়লাম।&nbsp; ফেরার ঠিকানা নাই, সাঁঝ ঘনিয়ে আসার আগে ফিরলেই হবে! বড়ো দিঘির পাশ দিয়ে রাস্তা, তারপর রেললাইন পার হয়ে কলুদের মাঠ, একাকিনী পথ, বামহাতে বিশ্বাসদের বাঁশবাগান, পথের দুপাশে ঘেঁটু ফুলের ঝোপ, চোরকাঁটা, নয়নতারা ফুল, লজ্জাবতী লতা…আরও কয়েক পা হাঁটলে চড়কতলার মাঠ, ভুলোর চর চোখে ভেসে উঠবে।</p>



<p>এই পথে সন্ধ্যায় থোকা থোকা জোনাক জ্বলে, ভুলি নাই, কিছুই ভুলি নাই, এখনও সব স্পষ্ট মনে আছে।&nbsp;</p>



<p>ইচ্ছা ছিল অশ্বত্থ তলার ছায়ায় বসে মুড়ি-শশা খাব আর অলস চেয়ে থাকব সেই কুহকিনী চরার দিকে, কেন কে জানে ওইরকম কাঁচা বয়সে ভুলোর চর আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকত! সেই ডাক অবশ্য আজও মুছে যায়নি।&nbsp;</p>



<p>তা মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক, চিরদিনের নিয়ম!</p>



<p>চড়কতলায় পৌঁছে দেখি বুড়ো অশ্বত্থের ছায়ায় আশুতোষ বসে রয়েছেন, মাথায় ভাঙা চাঁদ, পরনে মলিন বাঘছাল, সারা দেহে ছাই, গলায় আবার নীল রঙ! ডম্বরুটি পাশে রাখা, ত্রিশূল কিন্তু নাই।&nbsp; আমার দিকে চেয়ে মিটিমিটি হেসে গাঁজা খাওয়া ভাঙা গলায় বললেন, ‘বিড়ি দ্যা না একখান, বাপজান!’</p>



<p>আমি তো কথা শুনে একগাল মাছি! বললাম, ‘বিড়ি খাইনা আমি!’</p>



<p>‘সে কী অলুক্কুনে কতা রে বাপ, বিড়ি খাসনে তো চলে কী করে তোর!’</p>



<p>শুধোলাম, ‘তুমি কে বলো দেখি? এত খতেন কীসের তোমার?’</p>



<p>তারপর কত কথা, কত কথা! ছায়া দীর্ঘ হল, অপরাহ্নের রেণু আর বাতাস জড়িয়ে মড়িয়ে একাকার হয়ে গেল কখন যেন, আমাদের কথাগুলিও ডানা মেলে উড়ে গেল ভুলোর চরের পানে, সে-সব কথা জমিয়ে রাখলে আজ আপনাদের শোনাতে পারতাম।&nbsp; কিন্তু আমার দ্বারা যে সঞ্চয় হয় না, যত্র আয়, তত্র ব্যয়, কী করব বলুন, কথায় বলে, অভ্যেস যায় না ম’লে!</p>



<p>তবে এটুকু মনে আছে, পাকা বেলটি আশুতোষের হাতে তুলে দিয়েছিলাম, ভারি তৃপ্তি করে খেয়েছিলেন, দেখেই বোঝা যাচ্ছিল খুবই খিদে পেয়েছিল!</p>



<p>খেতে খেতে গলায় আলগোছে হাত বুলিয়ে কেমন যেন করুণ গলায় বললেন, ‘দ্যাক, এই অং মাকলি গা কুটকুট করে!’</p>



<p>ছেলেমানুষি সুরে শুধোলাম, ‘তা গলায় মাখো কেন রঙ?’</p>



<p>প্রসন্ন মুখে বুড়ো দেবতা বললেন, ‘না মাকলি চলবে! কত বচ্চরের অব্যাস! সেই কবে বিষ খাইচেলাম তার ট্যালা সামলাও একন!’, কথা শেষ করেই গুনগুন করে গান ধরলেন, ‘চিড়নে চুড়িয়া চুল, খোঁপায় দিয়া, হা রে, চম্পা ফুল, ফুলের গন্ধে কেড়ে লেয় প্রাণের যুবতির কুল! সুন্দরী তুই তো বড় রূপসী,আমি একটু হইছি বুড়া, তাতে তোর ক্ষেতি কি?’</p>



<p>ওই একবারই মাত্র দেখা হয়েছিল, তারপর আর কখনও সাক্ষাত হয়নিকো!</p>



<p>গতকাল বাড়ি ফেরার সময় দেখলাম বড়ো রাস্তার ধারে দুজন লোক শালু পেতে পয়সা ভিক্ষা করছে।&nbsp; পরনে লাল কাপড়, খালি গা, কপালে খড়িমাটির তিলক, সুর টেনে টেনে বলছে, ‘দুদিন এলি এই ভবে, দুদিন পরে যেতে হবে,খামারবাড়ি খামারজমি, সময় হলে যাবে ছাড়ি!’</p>



<p>বুঝলাম চড়কের সন্নিসি, অবাকও হলাম একটু, এই ইলিকঝিলিক শহরে এরা এখনও বেঁচে আছে! চোখের পলকে মধুমাসের বাতাসে ভর করে ছুটে এল রাম বাগদি!</p>



<p>সখী সাজবে এবার রাম বাগদি।&nbsp; সস্তার জরিপাড় শাড়ি, পরচুলো, কানে ঝুটো সোনার মাকড়ি,পায়ে মল,নীল রঙ সারা মুখে। আরেকজন কেউ পরবে মিথ্যে বাঘছাল, প্লাস্টিকের চাঁদ লাগাবে পরচুলো জটায়, হাতে টিন কাটা ত্রিশূল, গলায় বৈঁচি ফুলের মালিকা।&nbsp; নীল পুজোর রাতে বিয়ে হবে ওদের—শিব আর লীলাবতী, বাসর জাগবে সন্নিসির দল,কচি বেতের নলা দিয়ে শোল মাছ রাঁধা হবে, যতেক ভূত পেত্নীর সেদিন নেমতন্ন।</p>



<p>পোড়া অশ্বত্থ তলার মাঠে পরদিন চড়কের মেলা, নাগরদোলা আসবে, হরেক মাল—যা নেবে সব দশ টাকা, দশ টাকা! গণপতি জাদুকর খেলা দেখাবে খালি হাতে, দড়ির খেলা, শূন্য কলস থেকে জল ঢালার খেলা, তারপর চড়ক গাছে চড়ে পিঠে বর্শা গেঁথে বোঁ বোঁ করে পাক খাবে জোয়ান সন্নিসিরা।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আরও রাতে সন্নিসির দল কাঁচা আতুড়ে ছেলের লাশ তুলে এনে শুরু করবে মরা খেলা।&nbsp; বাঁশের ডগায় দেহ পুঁতে ডম্বরুর তালে তালে নাচাবে রাতভর, বৈরিগি বাতাসে ধুনির আগুন লকলক করে জেগে উঠবে তখন—রাঢ়দেশকে সাক্ষী রেখে শুরু হবে মড়াখেলার প্রাচীন গুহ্য উৎসব।</p>



<p>এমনই তো ছিল আমাদের বঙ্গদেশ, কোথা থেকে কী যেন সব হয়ে গেল! ভিনদেশির ইশারায় নির্বাপিত হল তুলসীতলার শ্রীদীপ, লোকাচার-দেশাচার মুছে আমার শ্যামলী বাংলায় কারা যেন বাতাসে মহাভুজঙ্গের তীব্র শিস তুলে ছুটে এল, তাদের মুখে ‘হর হর মহাদেও’ ধ্বনি।&nbsp; আমাদের সদাপ্রসন্ন, ঈষৎ পৃথুল, আলাভোলা, গৌরীকে অভাবে রাখা, গাঁজা খেয়ে শ্মশান-মশানে পড়ে থাকা আশুতোষ তো এমন ছিলেন না!</p>



<p>রাস্তার কোলাহলে সহসা ভেঙে গেল চটকা!</p>



<p>চারপাশে গাঢ় বিকেল, দু এক টুকরো মেঘ সূর্যকে আড়াল করে ছিন্ন মায়াতন্তু রচনা করেছে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম অনেকক্ষণ।&nbsp; কেমন যেন অবাস্তব ওই দুজন সন্নিসি—আকন্দের ঝোপ নাই, ঘেঁটু ফুল নাই, বৈঁচি বেলগাছ রায়চৌধুরীদের শ্যামদিঘি কিছুই নাই।&nbsp; ধুলোমাখা অতিকায় শহরের রাজপথে গাজনের গান গাইছে তারা, কে চেনে এখানে ওদের ? কেই বা দেবে দুটো পয়সা ?</p>



<p>চোখ বন্ধ করে পুনরায় ফিরে গেলাম আমার চেনা বাংলায়…শ্যামদিঘির ঘাট পার হয়ে সেই অকালমৃতা যুবতির মন-পাল্কি ভুলোর চরে আহত অভিমানের মতো পাখা মেলে ছুটে চলেছে, দুপাশে অপরাহ্নের বসতবাটি, সাদা আঁশের মতো শেষ বেলার আলো গড়িয়ে পড়ছে যেন কোথা থেকে, চৈত্রপবন গৃহদাহের সুবাসে আমোদিত…ওই আখ্যান ডাকছে এবার আমাদের, বেলা পড়ে এল হে বাজনদার, চলো রওনা দিই!</p><p>The post <a href="https://sukanyadigital.com/story-by-sayantan-thakur/">বুড়ো আশুতোষ আর নিঃসঙ্গ চৈত্র</a> first appeared on <a href="https://sukanyadigital.com"></a>.</p>]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://sukanyadigital.com/story-by-sayantan-thakur/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
